She forgot about pre 1/11
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা ও তাঁর ছয় মন্ত্রী কাঠগড়ায় ॥ ‘কী এমন ঘটল যে ১/১১ করা হলো?’
প্রথম আলো: গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর মন্ত্রিসভার ছয় সদস্য। গ্রেপ্তার হওয়ার নয় মাস পর বেগম জিয়াকে প্রথম আদালতে হাজির করা হয় নাইকো মামলায়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনকে বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক শাহেদ নুরুদ্দীনের আদালতে হাজির করা হয়। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হওয়ার আগে আদালতে দেওয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিচার একদিন হবেই। কারণ, এ সরকার অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় থেকে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও এ ধরনের তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা সেনাবাহিনী ও জনতার যৌথ প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে গিয়েছিল। বিচারকের অনুমতি নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। সংলাপের ভবিষ্যৎ, নির্বাচন, গণগ্রেপ্তার ও মামলার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন তিনি। এরপর আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জুন ধার্য করেন। বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে বিশেষ কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালতের কাঠগড়ায় আনা হয়। হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি পরে তিনি আদালতে আসেন। কাঠগড়ায় ওঠার সময় হাত নেড়ে আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন খালেদা: আদালতকক্ষে বেগম জিয়া হুইল চেয়ারে বসে থাকা অসুস্থ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কোকোকে প্রয়োজনে বিদেশ পাঠাতে আদালতের কাছে আবেদন জানান। আদালত শেষ হওয়ার আগেই অসুস্থতার কারণে কোকোকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কথা হলো না: আদালতের কাঠগড়ায় একটি কাঠের চেয়ারে বেগম জিয়া এবং লম্বা কাঠের হেলান দেওয়া বেঞ্চে অন্য আসামিরা বসেন। প্রায় এক বছর পর দলের সাবেক মহাসচিব ও সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার সঙ্গে দেখা হলেও কথা বলেননি বেগম জিয়া। বেগম জিয়া সেখানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। এ সময় মান্নান ভুঁইয়া খুব কাছে থাকলেও দলীয় প্রধানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি। কাঠগড়ায় খালেদা: বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় বিচারক শাহেদ নুরুদ্দীন বলেন, ‘একজনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে সবাইকে বলতে দিতে হবে। এটি তো আমি করতে পারি না।’ জবাবে বেগম জিয়া বলেন, ‘সবাই চান। আর আমি বক্তব্য রাখতে পারব না? এখানে যদি কথা বলতে না পারি, তাহলে আসার দরকার কী?’ এ সময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী খালেদা জিয়াকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে বিচারককে উচ্চ স্বরে বলতে থাকেন। বিচারক বলেন, ‘আপনাদের সবার অনুরোধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ মিনিট মামলার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।’ এরপর খালেদা জিয়া বলেন, ‘মাননীয় আদালত, দিন যতই যাচ্ছে সবার কাছে ১/১১ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। কিছু লোকের উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই এ ১/১১ করা হয়েছে।’ বেগম জিয়া প্রশ্ন করেন, ‘কী এমন ঘটল যে ১/১১ করা হলো? ১১ জানুয়ারির পর মামলা ছাড়াই মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, জেলে পোরা হচ্ছে।’ এ সময় তিনি কাঠগড়ার পাশে হুইল চেয়ারে বসা এ মামলার আসামি তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে দেখিয়ে বলেন, ‘আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, আমার ছেলের কী অবস্থা। তেনারা শুধু আমাকে নয়, আমার গোটা পরিবারকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে।’ বেগম জিয়া এখনই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের দাবি করে বলেন, ‘সরকারের ভাবখানা এমন যে ১/১১-এর আগে রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি করেছে। আর একটি সেকশন কিছুই করেনি। এ ধরনের ঢালাও অপবাদ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।’ বিচারককে উদ্দেশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো অনেক দিন চাকরি করছেন। দেখেছেন আমার সময় কী উন্নয়ন হয়েছে! দুর্নীতি যদি করতাম, তাহলে দেশের এত উন্নয়ন কীভাবে হয়? আমার সময় রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট এবং যোগাযোগের কী অভুতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎসহ ব্যাপক প্রসারের কথা যদি বলা হয়, সেটি আমার সময় হয়েছে। কিন্তু আজ দেশের এ কী অবস্থা!’ বেগম জিয়া সংলাপকে একটি সাজানো নাটক অভিহিত করে বলেন, সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলছে, অন্যদিকে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। এ সময় বিচারক শাহেদ নুরুদ্দীন বলেন, ‘এটি মামলাসংশ্লিষ্ট কোনো বক্তব্য নয়। আপনি মামলাসংশ্লিষ্ট বক্তব্য দিন।’ জবাবে বেগম জিয়া বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় মামলা হয়েছে তো। এগুলো মামলার বিষয়।’ এরপর বেগম জিয়া তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এ মামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাকে হেয় করা। আমার পরিবারকে ধ্বংস করা। রাজনীতি থেকে আমাকে দুরে সরিয়ে দেওয়া। আমি ও আমার ছেলে নির্দোষ। আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি।’ তিনি কাঠগড়ায় হাজির করা অন্য আসামিদের দেখিয়ে বলেন, ‘এখানে যাঁরা আছেন, তাঁরাও কোনো অন্যায় করেননি। ওনারাও সবাই নির্দোষ।’ বেগম জিয়া বলেন, ‘বিচারকের স্বাধীনতা নেই। জজ সাহেবরা যে বিবেক দিয়ে রায় দেবেন, তা দিতে পারেন না।’ এ সময় বিচারক বলেন, ‘আপনি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন।’ অন্য আসামিরা: গতকাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাবেক ছয় মন্ত্রী আদালতে হাজির হলেও তাঁরা কোনো বক্তব্য দেননি। এ মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ১৭ জন গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মান্নান ভুঁইয়া, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তিন সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর (অব.) জুলফিকার আলী, শাহাদাত হোসেন, এ এম সানোয়ার হোসেন, চবকের এ কে এম রশীদউদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আবুল কাশেম, সাবেক পরিচালক লুৎফুল কবির, ইসমাইল হোসেন সায়মন, গ্যাটকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ গালিব আহমেদ প্রমুখ। বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাঁদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানসহ সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। শুনানি: শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার নথিপত্রের অনুলিপি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে শুনানির তারিখ দেওয়ার আবেদন জানান। এ সময় আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান মামলার নথিপথ দেখার আবেদন জানিয়ে সময় প্রার্থনা করেন। আরেক আইনজীবী খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনও মামলার সব সত্যায়িত অনুলিপি দ্রুততম সময়ে তাঁদের দেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি আদালতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দেওয়ার আবেদন জানান। অন্য আইনজীবী রেজাউর রহমান এ মামলায় দেওয়া দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানান। বিচারক এক দিনের মধ্যে সব কাগজপত্র আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ জুন মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে তিনি আইনজীবীদের বেগম জিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য আধাঘণ্টা সময় দেন। খোন্দকার দেলোয়ারসহ সাত-আটজন আইনজীবীর সঙ্গে তিনি কথা বলেন। শুনানি চলাকালে বিএনপির নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ আদালতে ঢোকার চেষ্টা করেও সুযোগ পাননি।
June 5, 2008
- Forums:
- Tag this post:
JUST VIEWED
Last viewed:
- Arab Sheiks’ new strategy – Education City in Qatar
- Economy Stupid...
- A Picture speaks...
- Rule of Politics BD style
- Baloon Fiesta
- পলাতক ৬ খুনির মার্জনা নাকচ হলে ফাঁসি কার্যকর হবে
- গ্রেপ্তারের পর সোমবার প্রথম কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছেন খালেদা
- জানার শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই......
- India, oh India....!!!
- শিশু হাসপাতালের লটারি: কারসাজি করে প্রথম পুরস্কারের ৩০ লাখ টাকা পান ডা. জাহিদ
- US alters the Bangladeshi political landscape
- আজন্ম পাপের লীলাভূমিতে
- Some Personal Thoughts
- যে গল্পের শেষ নেই
- Hi guys
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 1 day ago - আমিও
3 weeks 2 days ago - about canada immigration
4 weeks 2 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 4 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 4 days ago - হুম!
5 weeks 8 hours ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 8 hours ago - Its really a great invention.
5 weeks 2 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 19 hours ago - Not fair!
6 weeks 2 days ago





উনি ভূলে গেছেন...
উনি ভূলে যেতে পারেন কিন্তূ দেশের সাধারন মানুষ ভূলে যায়নি ১/১১-এর আগের দিন গুলোর কথা। দুই অসত মহিলার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক লড়াইকে জাতীয়করনের মাধ্যমে দেশ অচল করে দিয়েছিলেন উনারা। জনাবা জিয়া মেমোরি ডিজ-অর্ডার সংক্রান্ত রোগ অলসাইমারে ভূগতে পারেন, কিন্তূ সবাই এ রোগের শিকার নয়। বুড়িগংগার নোংরা পানিতে ২০ বার চুবানো হলে হয়ত ফিরে আসবে স্মৃতি শক্তি।
Begum Zia didn't loose her
Begum Zia didn't loose her memory.Reading her conversation , I just remember one story. One queen from western world came to our country.After seing the poor people, she asked why these people look so hubgry? Then one man answered that these poor people don't have bread (ruti) to eat. Then the queen told , if they don't have bread , then why not they eat cake. Our royal begum's attitude is same as that queen. The difference is that the queen made the comment without any knoledge of proverty and our queen make comments by knowing everything.
Post new comment