Posted Wed, 06/04/2008 - 01:07 by WatchDog
পীর হাবিবুর রহমান রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। জাতীয় ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদার দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এই ফ্রন্ট ভূমিকা রাখবে। প্রবীণ ও তরুণের সমন্বয়ে ফ্রন্ট গঠন হলেও নির্বাচনী মনোনয়নে জনপ্রিয় তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে চলছে নেতায় নেতায় কথাবার্তা। ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব না পাওয়ায় সত, নির্লোভ দেশপ্রেমিকরা এই ফ্রন্টের যৌথ নেতৃত্বে থাকবেন। দুই নেত্রীর ২৭ ও ২৪ বছরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব, দুই দলের শাসনামলের চিত্র, বিশেষ করে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও সংঘাতময় রাজনীতির খতিয়ান, বিএনপি-জামায়াতের ৫ বছরের অভিশপ্ত শাসনামলের নজিরবিহীন দুর্নীতির মহোতসবের খতিয়ান মিলিয়ে ফ্রন্ট এমনভাবে গঠন করতে চায়, যাতে জনমত তাদের পক্ষে থাকে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, সংঘাত, রক্তপাত ও প্রতিহিংসায় দেশ অচল করার রাজনীতির কারণে যে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল তার প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে যেনতেন নির্বাচন করলে দেশ ওয়ান-ইলেভেনের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। ওই পরিস্থিতি কেউ চায় না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের সঙ্গে ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোক্তাদের ধারণা, দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক দু'শ সাংসদ আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। এতে ওইসব আসনে সত, যোগ্য নতুন প্রার্থীদের ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ওইসব আসনে প্রার্থীদের সন্ধানও করা হয়েছে। এই জাতীয় ফ্রন্টে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জাপার সংস্কারপন্থী ছাড়াও দুই জাসদ, বিকল্প ধারা, বাম দল, পিডিবি এবং গণফোরামের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয় সব তরুণ-প্রবীণ প্রার্থীকে ফ্রন্টে টানার চেষ্টা চলছে। সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্ব এই ফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকতে পারেন। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেকেই মনে করেন, পরিবারতন্ত্রের সঙ্গে আপস করে তাদের আর ওই দুটি দলে থাকার সুযোগ নেই। এসব নেতাও ফ্রন্টের উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির একটি বড় অংশ এখন ফ্রন্টমুখী। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন হতে পারে। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকারের সুযোগ নেই। জাসদের হাসানুল হক ইনু জাতীয় সরকারের কথা বারবার বলছেন। সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তনের ধারা ধরে রেখে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়নের চাকা গতিশীল রাখতে জাতীয় ফ্রন্ট বিজয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠন করবে। সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের পর দলীয়করণমুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় যেমন শক্তিশালী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; তেমনি এসব প্রতিষ্ঠান আরও স্বাধীন করতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চায়। নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংসদদের এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে আইন প্রণয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সংসদীয় কমিটিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনা, বর্তমান সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা দানসহ সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিরও পরিবর্তন আনতে চায়। সরকার অস্থিতিশীল না করে বিভিন্ন বিল পাসে স্বাধীনভাবে ভোটদানের সুযোগ রাখতে ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধনীও চায়। প্রস্তাবিত ফ্রন্টের আরও লক্ষ্য হবে একই সঙ্গে প্রশাসন ও রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা। সরকার যাতে দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার করতে না পারে, দুর্নীতির দণ্ডে দণ্ডিতদের মুক্ত করতে না পারে সেজন্য সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি থাকবে হরতাল-অবরোধের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ছাত্র রাজনীতি প্রশ্নে বিতর্কের ফয়সালা করা। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও উন্নয়নে চাঞ্চল্য আনা, কৃষিতে বিপ্লব করার মতো কর্মসূচি গ্রহণ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া। সন্ত্রাস ও আইন-শৃংখলা রক্ষায় নির্বাচন-উত্তর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। ফ্রন্টের উদ্যোক্তারা মনে করেন, ওয়ান-ইলেভেন যদি পরাজিত হয়, তাহলে জনগণ পরাজিত হবে।
- 1142 reads
-
Post new comment