Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

র্দুনীতির মহাভারত - পর্ব ৫

এরশাদের জমানায় যারা টাকা কামিয়েছেন, পরে তাদের খালেদা-হাসিনার পাশেও দেখা গেছে। দামি সু্যট-টাই, জুতো পারফিউম ব্যবহার করে সৌখিন প্রেসিডেন্ট এরশাদ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার আমলে কবি শামসুর রাহমান 'উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ' বা পটুয়া কামরুল হাসানের 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' কার্টুন চিত্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে এটি সেদিন নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিল। এরশাদ পতনের পর কামরুল হাসান বেঁচে থাকলে কী করতেন? বিশেষ করে বিএনপি জোটের শাসনামলে সরকার আর হাওয়া ভবনের দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া দুর্নীতির মহোৎসব দেখে কি স্লোগান আর কার্টুন দিতেন আমাদের?
এরশাদের প্রথম উপজেলা নির্বাচন প্রতিরোধ করতে গিয়ে জেল খেটেছি। প্রতিটি মিছিলে থেকেছি। কিন' এরশাদ পতনে দুই দলের অপশাসন লুটপাট দেখে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। নূর হোসেন, বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ জীবন দিয়ে ঠকেছেন। আমরা বেঁচে গিয়ে ঠকেছি। কেউ কেউ পরাজয়ের গ্লানি বহন করে পথ চলেন। দুই নেত্রীর অন্ধ সমর্থকরাও বলবেন না তারা এরশাদের চেয়ে ভালো দেশ শাসন করেছেন। সাড়ে পাঁচশ ব্রিজ, হাজার হাজার মাইল রাসত্দা, মসজিদ, স্কুল নির্মাণ, প্রশাসনিক সংস্কার, উপজেলা ও জেলা পরিষদ করে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। সাধারণ মানুষ তাই বলে ব্রিটিশের আইন, শেখ মুজিবের ভাষণ ও আইয়ুব-এরশাদের উন্নয়ন অতুলনীয়।
কবি মন তার আয়োজন করতো কবিতা সন্ধ্যার। পান্থপথ বিজয় সরণী আর কোনো সরকার দিতে পারল না। টোকাইদের আদর করে পথকলি নাম দিয়ে পুনর্বাসন করতে চেয়েছিলেন এরশাদ। পরের সরকারের আমলে রাসত্দায় টোকাই বেড়েছে। এরশাদ ক্ষমতায় থাকলে ঢাকায় ফ্লাইওভার হতো এক ডজন। আনত্দর্জাতিকমানের রাজধানীতে পরিণত হতো ঢাকা। তার দুর্নীতি তৃণমূল পর্যায়ে ছড়ায়নি।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় বলায় এরশাদ অভিযোগ করেছেন। তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার জেলে থেকে পাঁচটি আসনে জেতার পরও তাকে নির্বাচনের সময় টিভি ভাষণের সুযোগ দেয়া হয়নি। তারপরও আমরা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ, বিচারপতি হাবিবুর রহমানের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বলি।
আমাকে যদি এই মুহূর্তে বলা হয় আমার প্রিয় মুখগুলোর নাম কী? আমি বলবো ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও ড. জহিরের কথা। ব্যক্তিগত জীবনে তারা যেমন সৎ, সংবিধান প্রশ্নে তাদের ভূমিকা সবকিছুর ঊধের্্ব।
এরশাদ পতনের পর প্রায় কুড়িটি মামলার মুখোমুখি হন তিনি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও খালেদা সরকার যে প্রতিহিংসার বশে মামলা দিয়েছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় যখন ক্ষমতার রাজনীতিতে দুই দল তাকে নিয়ে টানাটানি করে। কেউ মুক্তি দেন, কেউবা মামলা থেকে খালাস দেন।
এরশাদ জমানায় তার ভাই জিএম কাদেরকে কেউ চিনত না। দুই নেত্রীর ভাই, আত্দীয়-স্বজন, চাকর-বাকর সবাইকে জনগণের চিনতে বাকি নেই। ৫৪ বছরে ক্ষমতা নিয়ে এরশাদ নয় বছরব্যাপী আন্দোলনের মুখে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, দেশ শাসনে তা বিস্ময়কর। ড. কামাল হোসেনের বাসভবন থেকে ৪২ জন জাতীয় নেতাকে চোখ বেঁধে গ্রেফতার করে অপমান করার অপরাধ তিনি যেমন করেছেন তেমনি আদালতকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে, '৮৮-র বন্যায় নোংরা হাঁটু ও বুকপানিতে নেমে মানুষের মন জয় করেছেন। নদী দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নারীপ্রীতিমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পূজারি হতেন ইতিহাসে তার নাম মাহথির মোহাম্মদের পাশেই থাকতো। এরশাদ ও তার দোসররা যা কামিয়েছেন খালেদা ও তারেকের ছায়ায় থাকা মিসকিনরা এর চেয়ে ঢের বেশি কামিয়েছেন। রক্তপাতহীন অভু্যত্থানে এরশাদ যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন জিয়ার কেবিনেট অথর্ব সাত্তারকে ফেলে এরশাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। অসহায় সাত্তার এরশাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেনাপ্রধানের বুঝতে বাকি থাকে না এটাই ক্ষমতা গ্রহণের সময়।
সিরাজের পতনের সময় যেমন এদেশে বাম্পার ফলন হয়েছিল তেমনি এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের সময় ধানের বাম্পার ফলন হয়। সাত্তার কেবিনেটের মন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম এরশাদকে বলেছিলেন সিরাজের পতনের সময় কৃষকের মুখে হাসি ছিল। কৃষক যখন মনের আনন্দে ধান কাটছিল তখন মানুষ মুখে মুখে বলছিল, সিরাজের পতন হয়েছে। ধান কাটতে কাটতে কৃষকরা বলছিল, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হচ্ছে। ওটা শুনে লাভ নেই। এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে। শুনে এরশাদ হেসেছিলেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla