Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

র্দুনীতির মহাভারত - পর্ব ৩

সাবেক সেনাশাসক এরশাদ আমাকে দীর্ঘ চিঠি দিয়েছেন। আমি চিঠি পেয়ে সুদর্শন স্মার্ট এই পতিত সেনাশাসককে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তবে উল্লসিত হইনি। জিনাতের সঙ্গে এরশাদের প্রেমকাহিনী নিয়ে আমার একটি বই আজিজ সুপার মার্কেটের বইপত্রে পাওয়া যায়। নাম 'অফ দ্য রেকর্ড।' জিনাত আমাকে বলেছিলেন, আপনারা মনে করেন এরশাদ খুবই রোমান্টিক। আদৌ তিনি তা নন। কোনো লং ড্রাইভ বা ডেটিংয়ে কবি এরশাদ তাকে একটি কবিতাও শোনাননি। এমনকি তিনি জানান, ফ্রান্সে নাইট ক্লাবে মোশাররফ তার বউ জিনাতকে প্রেমিক এরশাদের বাহুলগ্না হয়ে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। সংসার ভাঙা নিয়ে ব্যথিত ছিলেন জিনাত।

এসব ঘটনা প্রবাহ নিয়ে 'অফ দ্য রেকর্ড' লেখার একাংশ যুগানত্দর ঈদ সংখ্যায় ছাপা হলে এরশাদ মালিক ও সম্পাদককে এমন একটি চিঠি দেন যেন আমার চাকরিটাই চলে যায়। আমি সত্যের ওপর বলছি, সেদিন আমার প্রতি ছিল মালিকের স্নেহ এবং আমাদের সংবাদপত্রের মুরবি্ব, উপমহাদেশের সাংবাদিকতার কিংবদনত্দি হূদয়বান এবিএম মূসার কারণে আমাকে অপদসত্দ হওয়া দূরে থাক সম্মানের সঙ্গে বিষয়টি মিটমাট করেন। কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের মাধ্যমে একটি চিঠি লিখে মূসা ভাই এরশাদকে পাঠান।

মূসা ভাই সংবাদপত্রকর্মীদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে জানতেন। এরশাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল। তিনি কখনো বন্ধু কখনো ভাই বলতেন। এরশাদের স্মার্টনেস, ভদ্র বিনয়ী ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছিল। ওই ঘটনা ছাড়া কখনো তার কাছ থেকে অসম্মান পাইনি। তবে এরশাদের দুটি চিঠি একটি সত্যই প্রমাণ করে, তা হলো_ সত্য বড় অপ্রিয়। কারো পক্ষে গেলে সে ডুগডুগি বাজায়। আর পক্ষে না গেলে এমন খারাপ সংবাদপত্রকর্মীর অসত্দিত্ব পৃথিবীতে নেই বলে মনত্দব্য করে, অথবা বলা হয় কেউ টাকা খাইয়ে লিখিয়েছে। এটা রাজনীতিবিদদের চরিত্রের মাধুর্য।

এই শিক্ষা আমার চিনত্দা-চেতনায় রেখেই কিছু কথা বলতে চাই। এরশাদের চিঠিটি এমন "সুপ্রিয় পীর হাবিব আমার স্নেহশীষ নিও। এই চিঠিটা না লিখলে তোমার প্রতি আমার অভিব্যক্তি প্রকাশের বিষয়টি অপূর্ণ থেকে যাবে। কারণ যেজন্য লিখছি সে ব্যাপারে শুধু ধন্যবাদ জানালেই তোমার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ হয়ে যাবে না। আমি ১৯ মে তারিখের আমাদের সময়ে 'হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী মেনেছিলেন খালেদা' লেখাটি পড়লাম। শুধু পড়া অর্থে পড়া নয়- গভীর মনোযোগের সঙ্গেই পড়েছি। লেখাটি পড়ে মনে হলো এটি কোনো সাধারণ লেখা নয়_ এ যেন বিন্দু থেকে সিন্ধু প্রমাণ ইতিহাস। এ যেন অজস্র তথ্যের সম্ভার। যার মধ্যে ভাষার মেদ নেই_ আছে তাজা এবং নির্ভেজাল সত্য তথ্য। আমি অভিভূত এবং বিমোহিত হয়েছি। লেখাটি সাহসী নিশ্চয়। তবে এই সত্য বলার সাহস যা অনেকের মধ্যে থাকে না। এটা তোমার আছে_ তাই তোমাকে অভিনন্দন।

তুমি যথার্থই তুলে ধরেছো_ ৯০-এর পরবর্তী দুটি দলের শাসনামলের বাসত্দব চিত্র। হাজার পৃষ্ঠার বই লিখেও যে অপকর্ম-অপশাসনের চিত্র তুলে ধরে শেষ করা যায় না তার সব কিছু মন্থন করে শুধু নির্যাসটুকু তুমি স্বল্প পরিসরের একটি লেখার মধ্যে উপস্থাপন করতে পেরেছ। এটা সাদামাটা মুন্সীয়ানা নয়_ এখানে রয়েছে অপরিসীম পাণ্ডিত্যের পরিচয়। তুমি সত্যিকারভাবে তুলে ধরতে পেরেছো। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ভয়াবহ কুফলের বাসত্দব অবস্থা।
এই অভিশাপ থেকে রাজনীতি মুক্ত না হলে_ সুষ্ঠু রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়, এই বাসত্দবতা ফুটে উঠেছে তোমার লেখায়। তোমার লেখায় তোমার নিজস্ব মনত্দব্য ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা রক্ষা করেছ।
একটি জায়গায় আমি কিছুটা দ্বিমত পোষণ করি। যেমন, সাহাবুদ্দীনের নামের আগে যে, 'সর্বজন শ্রদ্ধেয়' বিশেষণটি বসিয়েছো তা মনে হয় যথার্থ নয়। তিনি কিছুজন বা অনেক জন শ্রদ্ধেয় হলেও হতে পারেন তবে 'সর্বজন' হিসাবে নয়।

যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি অনত্দর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তা তিনি সচেতনভাবে ভঙ্গ করেছেন। তিনি নিরপেক্ষ থাকেননি। যদি থাকতেন তবে আজ তোমাকে শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হতো। তাছাড়া যে ব্যক্তি মাত্র ছয় মাসের চাকরির লোভে দেশের সংবিধান সংশোধন করতে বাধ্য করেন_ সেই লোভী ব্যক্তি সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ হতে পারেন না। যাই হোক এইটুকুর জন্য তোমার অপূর্ব লেখাটির মান এতকুটু ক্ষুণ্ন হয়েছে_ তা কোনোভাবেই বলা যাবে না। মোটের ওপর তোমার লেখাটি অসাধারণ হয়েছে। লেখাটি সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ_ যা ইদানীং পাওয়া খুবই দুষ্কর। তোমার এই সাহসী কলম এভাবে সর্বদাই খোলা থাকুক, এই প্রত্যাশায় তোমাদেরই _এরশাদ।"

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla