Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

র্দুনীতির মহাভারত - পর্ব ২

যাই হোক, রাজনীতি ছাড়লে দুই নেত্রীকে হাওর দেখানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছি। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা কথা শুনেছি। হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করতে একটা সময় সারাদেশ ঘুরেছি। ফজরের নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে জীবন শুরু হয়। একবার ঝড় জলোচ্ছ্বাসে তার সঙ্গে কুয়াকাটায় আটকা পড়েছিলাম। ক্ষমতায় এসে মোটেল উদ্বোধনে আমাদের সঙ্গে নেন। একই জায়গা থেকে সূর্যাসত্দ ও সূর্যোদয় দেখেছি সবাই। পর্যটনের চেয়ারম্যান রাশিদুল হক নবা ভাইয়ের আতিথেয়তা চমৎকার ছিল। সেই কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে জ্যোৎস্না রাত কাটানোর স্মৃতি ভুলবার নয়।
সাইফুল আলম বলেছিলেন, সূর্যোদয় দেখার চেয়ে ঘুম উত্তম। তিনি যাননি। আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় মোটেল উদ্বোধনে। ভোরে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় দেখতে যাওয়ার আনন্দ আমার চেয়ে শেখ হাসিনার চোখে-মুখে বেশি ছিল। তবু তার শাসনামল ব্যর্থ। দীর্ঘ ২৭ বছরের রাজনীতিতে ব্যর্থতার দায়ভার তার কাঁধে রয়েছে। পার্থক্য খালেদার মাথায় পুত্র আর সহকর্মীদের সীমাহীন পাপের যে বোঝা সেটি হাসিনার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি।
বিএনপি নামের দলটির জন্ম-ইতিহাসের কারণে তার কাছে আমার চাওয়ার কিছু নেই। আর জনগণের মধ্য থেকে মুজিবের নেতৃত্বে ত্যাগের রাজনীতির পথে উঠে আসা আওয়ামী লীগ যখন হাসিনার নেতৃত্বে ভোগ আর অসুস্থ রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নেমে যায় তখন জনগণের পক্ষের শক্তি দুর্বল হয়। তাই আমি দুই পরিবার দুই নেত্রীর প্রতি অন্ধ আবেগ থেকে মুক্ত হয়ে জীর্ণ পুরনোকে বাদ দিয়ে আধুনিক চিনত্দাধারায় নবায়নের রাজনীতির কথা বলি।
আমি যা লিখছি আর বিভিন্ন টক-শোতে বলছি তা আমার একানত্দ ভাবনার ফসল। আমি কারো কৃতদাস নই। যার সঙ্গে ভালো লাগে তার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করি। না হলে নয়। অতীতেও আমি হাসিনা ও তার দলের নবায়নের জন্য তুলোধুনো করেছি। একবার শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করেছিলাম ঈদের শাড়ি কিনেছেন কি না? হাসিনার জবাব ছিল হূদয়স্পর্শী। কিন' তার কৃতদাসরা জানলো না_ কী কথা, কী রিপোর্ট হলো পড়লো না। তবে তারা আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ওরা এখন রাসত্দার ফকির।
আমাকে অনেকে বলেছেন, দুই নেত্রী ক্ষমতায় ফিরে এলে আমাকে নাকি রাজদণ্ড ভোগ করতে হবে। আমি এসব বাচাল কথাবার্তায় দমবার পাত্র নই। রবীন্দ্রনাথ কৈশোরে আমার ঈর্ষার পুরুষ ছিলেন প্রেমের প্রতীক বলে। এখন আমি তার 'সত্য যে বড় কঠিন' তা গ্রহণ করে অবিচল থাকার সিদ্ধানত্দ নিয়েছি। যদি একা হয়ে যাই তবু যতক্ষণ লেখার সুযোগ পাব আমি লিখে যাব।
কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার দাসখত নেই। কোনো বড় দলের কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে আমার কখনো দহররম-মহররম ছিল না। কোনো নেত্রীর কাছে যাওয়া দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়নি। আমি কর্নেল তাহেরের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবকে সমর্থন করি না। তবে তার সে বাণী 'নিঃশঙ্কচিত্তের চেয়ে জীবনে বড় কিছু নেই' মনের মধ্যে গেঁথেছি। বিত্ত সুখে সুখী নই, আমি চিত্ত সুখে সুখী। মুসলমান বারবার মরে না, কাপুরুষরা বারবার মরে।
কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক লীগের সম্মেলন বানচাল করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তার উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নেমে গিয়ে বিজয়ী হয়নি। দল ও দলের নেত্রীকে ছোট করেছে। এদের নিয়ে আমি আর বলতে চাই না। দুই নেত্রীর শাসনামলের উচ্ছিষ্টজীবীরা তাদের গুণকীর্তন করুক, উচ্ছসিত প্রশংসা করুক। তাদের বিভিন্ন প্রজেক্ট বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দরকার আছে। আমার এসবের নেই। সাংবাদিকতায় এসে যাদের ভালোবেসেছিলাম তাদের দেখেছি কোনো বড় স্বপ্ন নেই। প্রেস মিনিস্টারের পদ নিয়ে গদগদ হয়ে বাইরে যাচ্ছেন তখন তাদের জন্য করুণা না মায়া হয়েছে বুঝতে পারি না।
যাই হোক, দুই নেত্রীর রাজনীতির অবসান, দুই পরিবারের কাছ থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করার কথা আমি লিখেছি বিশ্বাসবোধ থেকে, সাংবিধানিক অধিকার থেকে। এ নিয়ে আমার কোনো ঔদ্ধত্য নেই। অন্ধ জনগণের ভোটে দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার সম্মানের কমতি নেই। তাদের ভক্তরা এতটাই অন্ধ ও তোষামোদে অভ্যসত্দ যে, বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা সইতে পারে, হাসিনার নয়। জিয়ার সমালোচনা সইতে পারে, খালেদার নয়। ১৯ মে ২০০৮-এ আমাদের সময়ে প্রকাশিত লেখাটি পড়ে দলকানারা যেমন ক্ষুব্ধ হয়েছেন আ স ম রবসহ বিবেকবান পাঠকমহল তেমনি টেলিফানে অভিনন্দন, সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন।
পীর হাবিবুর রহমানের লেখা

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla