Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

র্দুনীতির মহাভারত - পর্ব ১

যদি রাজদণ্ড দাও_ আষাঢ়ে পূর্ণিমা রাতে দিও, দুই নেত্রী অবসর নিলে হাওর দেখাতে নেব

পীর হাবিবুর রহমান : অতিথি প্রতিবেদক: যদি রাজদণ্ড দাও_ আষাঢ়ে পূর্ণিমা রাতে দিও। আর যদি গুলি চালানোর নির্দেশ দাও তাহলে পিঠে নয়, বুকে চালাতে বোলো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সনত্দান আমি। মহাত্দা গান্ধী আমার আত্দার-আত্দীয়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রেমে সেই কোন কৈশোরে পড়েছিলাম আজ আর মনে নেই। চে গুয়েভারার মৃতু্য আমার বাউল মনে বিপ্লবের সুর তুলেছিল।
মৃতু্য জীবনের সবচেয়ে মীমাংসিত সত্য। একদিন তা যদি গ্রহণ করতেই হয় তবে কাপুরুষের মতো দুটি পরিবার, দুটি ব্যর্থ নেতৃত্ব আর তাদের প্রিয়মুখ কিচেন কেবিনেটের দায় নীরবে মেনে নেব কেন? বিধি ভঙ্গ করে যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি করে আবার চাকরি ফিরিয়ে দেয়া যায়_ তবে জাতির এই ক্রানত্দিলগ্নে সংবিধান গেল, সংবিধান গেল বলে চিৎকার কেন? মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য ছাড়াই কেন নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো?
ওয়ান ইলেভেনে মার্শাল ল' জারি হলেও তো একই জনপ্রিয়তা পেত। নেতা-নেত্রীরাও তখন ঘরোয়া বৈঠকে তা চেয়েছিলেন। নির্বাচনি গণতন্ত্র আর সংবিধান লঙ্ঘন করার শাসনের পুনরাবৃত্তি হওয়ার নির্বাচন আমি চাই না। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন এবং রাজনীতি আমি চাই। এর আগে দুই নেত্রী দুই পরিবারের অবসান না হলে রাজনীতিতে দেশ শাসনের নামে অপশাসনই থাকবে।
নতুন জেনারেশন ঘরে বসে আছে। প্রবীণের হাত ধরে তাদের বের করে আনতে হবে। লুটপাট টেন্ডারবাজির তরুণ নেতৃত্ব নয়। সৎ, সৃজনশীল, মেধাবী তরুণদের আজ জায়গা করে দেয়ার সময়।
আমার লেখালেখিতে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা ও সমর্থন পেয়েছি। অনেকের হিংস্র ক্ষোভের আওয়াজও কান পেতে শুনেছি। একনেত্রী নাকি আদালতে বলেই ফেলেছেন, দিন বদলালে মনে রাখবে। তাই মহারানিদের বলেছি, ফিরে এলে আসমান ভাইঙা নেমে আসা জ্যোৎস্না রাতে যেন আমি রাজদণ্ড পাই।
ফার্স্টলেডি রওশন এরশাদের জামদানি শাড়ির বাহার আর ইমেলদা মার্কোসের জুতোর গল্প আমি ভুলে গেছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মহামূল্যবান শাড়ির বহর দেখে। শেখ হাসিনার শাড়িতে তেমন আকর্ষণ নেই। বান্ধবীভাগ্যও তেমন ভালো নয়। ফ্যাশন ডিজাইনারের ভীষণ আকাল সুধা সদনে তাই তাকে দেখলে প্রধানমন্ত্রীর অবয়ব ফোটে না। আটপৌড়ে রমণী মনে হয়। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত হলেও মনোনয়ন বাণিজ্য আর অসুস্থ রাজনীতির সঙ্গে পাল্লা দেয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ নামের রাজনীতির চরিত্র বদলে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ আদর্শবান কর্মী তৈরি করে দলকে বা নিজেকে নবায়ন করতে পারেনি এই সত্য আমি একবার নয়, বারবার, হাজারবার বলব।
দুই নেত্রী যদি জনগণের কাছে তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্বীকার করে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেন আমি অতি সাধারণ সংবাদকর্মী হয়ে আমার সকল উষ্ণ ভালবাসা দিয়ে অভিনন্দন জানাবো। আপনারা বলেছেন, 'ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়' তাই রাজনীতি থেকে বিদায় নিলে আমার চাঁদের শহর সুনামগঞ্জে আমন্ত্রণ জানাবো। জ্যোৎস্না রাতে বজরায় দেখা হাওরের অথৈ জলরাশিতে গানের দল নিয়ে ভেসে বেড়ালে দেখবেন ছোট এই জীবনে ক্ষমতাই বড় নয়। মৃতু্য যেমন সত্য তেমনি ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় সেটাও সত্য। আর অবসর সবার জীবনেই আসে। আপনারা অবসর কবুল করুন। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধে সবাই গেছে। বাঙালি সেনা কর্মকর্তারা রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুই দলে রাজনীতি করতে এসে তাদের কেউ অবহেলা ছাড়া সম্মান পাননি। আওয়ামী লীগ দুই ভালো মন্ত্রীকে পতাকাবিহীন করেছিল। বিএনপি সাবেক সেনাপ্রধানকে একটি মন্ত্রণালয়ও দেয়নি।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla