Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

অপ্রদর্শিত অর্থ না চুরির ফসল?

অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ না থাকলে পাচার হতে পারে: এফবিসিসিআই

Sun, May 25th, 2008 4:28 pm BdST
ঢাকা, মে ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আগামী বাজেটেও অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই)।

রোববার অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, এ সুযোগ দেওয়া না হলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যেতে পারে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে এফবিসিসিআই নেতারা আগামী বাজেটে দেশের স্বার্থে শিল্পসহ সকল উৎপাদনশীল খাতে 'গ্রীন চ্যানেল প্যাকেজ'-এর আওতায় জরিমানা ছাড়া অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ারও দাবি জানান।

উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার পর এফবিসিসিআই সভাপতি আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, "যদিও অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়া বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সঙ্গে মানায় না। তারপরও আমরা শেষবারের মতো সরকারের কাছে এ দাবি জানাচ্ছি।"

তিনি বলেন, "নতুন বাজেটে এ সুযোগ দেওয়া না হলে অপ্রদর্শিত অর্থ অনাকাক্সিক্ষত ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এমনকি এ অর্থ দেশের বাইরেও চলে যেতে পারে।"

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে অর্থ উপদেষ্টা দ্রুত চলে যাওয়ার কারণে সাংবাদিকরা বৈঠকের বিষয়ে তার কাছ থেকে কিছু জানতে পারেননি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জরিমানা ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা কী বলেছেন- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, "তিনি (অর্থ উপদেষ্টা) স্পষ্ট কিছু বলেননি। জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা (সরকার) ভাবছেন।"

দেশে বর্তমানে অপ্রদর্শিত অর্থের পরিমাণ কত- এ প্রশ্নে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, "এ সংক্রান্ত কোনও সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে শোনা যায়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) প্রায় ৫০ শতাংশ অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে আছে।"

আনিসুল হক আরও বলেন, "আমরা বিদেশে অবস্থিত বিদেশি ব্যাংক থেকে রপ্তানি খাতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য অর্থ উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানিয়েছি। দেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে এ দাবি জানিয়েছি আমরা । তবে এ ক্ষেত্রে অর্থ উপদেষ্টার ইতিবাচক সাড়া পাইনি।"

এ প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ১৪ শতাংশ সুদে শিল্প খাতে ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। আমরা এ হার ১২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিলাম। অথচ আমরা বিদেশের ব্যাংক থেকে ৭ শতাংশের নিচে অর্থ্যাৎ লাইবর রেটের সঙ্গে ১ শতাংশ সুদে (লন্ডন আন্তঃব্যাংক রেটের সঙ্গে ১ শতাংশ যোগ করে) ঋণ নিতে পারি।"

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌলিক কাঁচামাল, মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পণ্যের জন্য যথাক্রমে ৩, ১৫ ও ২৫ শথাংশ শুল্ক স্তর নির্ধারণের প্রস্তাব তারা উপদেষ্টাকে দিয়েছেন।

আর উপদেষ্টা তা বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে আনিসুল হক জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/এমআই/১৬১৮ ঘ.

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla