প্রতিবেদন
'সুস্থ এবং স্থিতিশীল' গণতন্ত্রের সন্ধানে
মোহাম্মদ জমির
বিগত বছর জুড়ে সরকারের সকল কার্যক্রমের প্রধান লৰ্য ছিল সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেৰ এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট সবগুলো ৰেত্রের সংস্কার সাধন। নিচের অনুচ্ছেদগুলোয়, প্রধান উপদেষ্টার সর্বশেষ ভাষণ থেকে উদ্ধৃতির সহায়তা নিয়ে, আমি চেষ্টা করব, আগামি দিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা বিশেস্নষণধর্মী ধারণা প্রদানের।
এ সময়কালে, নির্বাচন কমিশনের মূল ব্যসত্দতা ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নতুন একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা ও পরিচয় পত্র প্রণয়নের কাজে। প্রাপ্ত সংবাদ থেকে প্রকাশ, ভোটার হিসেবে ইতোমধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন সাত কোটিরও বেশি নাগরিক। যদিও এ কার্যক্রমের যৌক্তিতা বিষয়ক অহেতুক প্রশ্ন উত্থাপনের মাধ্যমে (নেসেসিটি ডকট্রিন) চমৎকার এ উদ্যোগটির স্বাভাবিক গতি খর্ব করা হয়েছিল কিছুটা। তবে সৌভাগ্যের কথা, ভ্রম উপলব্ধি করতে খুব বেশি দেরি হয়নি কারো। এবং তা সংশোধনের লৰ্যে এই মুহূর্তে সর্বাঙ্গীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন কতর্ৃপৰ।
পাশাপাশি, দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে শুরম্ন হয়েছে এক অনত্দহীন জেহাদ। দুর্নীতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অনত্দরায় হিসেবে। 'ভবিষ্যতে দুর্নীতির সকল পথ রম্নদ্ধ রাখা'র প্রতিজ্ঞায় 'যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির বর্তমান অশুভ চক্র থেকে বেরিয়ে আসা'র লৰ্যে গৃহীত হয়েছে বিভিন্ন পদৰেপ।
দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে এই জেহাদ শুরম্ন হয়েছিল মূলত এ ভাবনা থেকে যে, এর মাধ্যমে 'গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া'টি 'কালো টাকা, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক প্রভাব, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং প্রচারাভিযানে সীমাহীন ব্যয়'-এর নোংরা খেলা থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে। সরকারের বিশ্বাস, এই সবগুলো পদৰেপ যদি কার্যকর করা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা যে এই দেশে একটি 'যথাযথ টেকসই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া' চালু করতে পারব শুধুমাত্র তাই নয়, বরং 'পূর্বঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান' সম্ভব হবে আমাদের পৰে।
এসব সিদ্ধি হাসিলের লৰ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবর্গের সাথে মতবিনিময়ে বসেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাদের ভাষ্যে, যে কোনভাবেই হোক, সংলাপের এ প্রক্রিয়া কখনই মতবিরোধের উধের্্ব উঠে আসতে সৰম হননি তারা। বিভিন্ন সময়ে অবশ্য অভিযোগ উঠেছে, সংলাপে গুপ্ত এজেন্ডা রয়েছে। এমনও কথা চালু আছে, একটি বিশেষ মহলের চাপে নির্বাচনী আইন এবং বিধি-বিধানসমূহকে নিজেদের স্বার্থমাফিক সংস্কারের লৰ্যে সংলাপ প্রয়াসকে কাটছাঁট করা হয়েছে। ঘটনাপ্রবাহে, জনমত যাচাইয়ের পরিবর্তে, জন্ম নিল বিবাদের এবং শেষ পর্যনত্দ মামলা গিয়ে গড়াল আদালতে। এর ফলে মতবিনিময় কার্যক্রম ব্যাহত হল নিদারম্নণভাবে।
এরপর আমরা উপহার হিসেবে পেলাম বাইশ দিন ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকা এক প্রাক-সংলাপ আলোচনা প্রক্রিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সাপেৰে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নিজেদের প্রতিবেদন দাখিল করলেন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা। এসব প্রতিবেদনে মূল সংলাপে আলোচনার লৰ্যে সম্ভাব্য বিষয়াবলী নির্ধারণসহ একটি প্রসত্দাব অনত্দর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি এতে বলা হয়, ইস্পিত লৰ্য অর্জনে কোন পথ ধরে হাঁটতে হবে, এবং অতিরিক্ত কী কী কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ক পরামর্শ। যেমনটি ভাবা হয়েছিল, উপদেষ্টাদের প্রণীত এ প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল এর গোপনীয়তা। প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বচ্ছতার অনুপস্থিতিতে সংলাপে অংশগ্রহণকারী এবং সংলাপের আয়োজনকারীদের মাঝে জন্ম নিল জল্পনা এবং যোগাযোগহীনতা। এমনকি কোনো কোনো মহল থেকে এমন প্রসত্দাবও পাওয়া গেল যে, এবারকার সংলাপে সশস্ত্র বাহিনীকে অনত্দর্ভুক্ত করা হোক। সৌভাগ্যের কথা, এ ধরনের অতি উৎসাহ বিকশিত হবার আগে কুঁড়িতেই বিলীন হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস এর ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়েছে অনেকটাই এবং গোটা প্রক্রিয়ায় এসেছে একটি নিরপেৰ ভাবমূর্তি।
মাঝামাঝি, সফরকারী বিভিন্ন বিদেশি অতিথি, আবাসিক প্রতিনিধি কিংবা প্রস্থানোদ্যত কূটনীতিকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে আমরা লাভ করেছি অনেক মূল্যবান পরামর্শ। ২০০৮ সালের মধ্যেই, এবং বিশ্বাসযোগ্য করার স্বার্থে জরম্নরি অবস্থা তুলে নিয়ে (এ কথাটি শতভাগ ঠিক) নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ক তাদের বিভিন্ন পরামর্শ সদ্য প্রকাশ্যমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। নেপথ্য কারণ যাই হোক এ কথা সত্য যে, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের মতামতকে বরাবরই গণ্য করা হয় অতি প্রাসঙ্গিক হিসেবে এবং ৰমতার বলয়ে তাদের কথাই সবচেয়ে গুরম্নত্ব সহকারে বিবেচ্য।
নির্বাচন চলছে গোটা দুনিয়া জুড়েই। এতে নতুনত্ব কিছু নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের উদাহরণ শুধুমাত্র দৰিণ এশিয়া নয়, বিরাজ করছে পৃথিবীর বেশিরভাগ অঞ্চলেই। রাষ্ট্রপতিশাসিত যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দিকে এই মুহূর্তে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। প্রতি মুহূর্তে বদলে যাওয়া ঘটনাবলী হালনাগাদ রাখতে ব্যয় হচ্ছে টেলিভিশনের উলেস্নখযোগ্য একটা সময়। যদিও এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ কার্যক্রমের একাত্মমূলক ধারণা। এ ধরনের কার্যক্রমের বদৌলতে নির্বাচনের পর প্রাপ্ত ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায় অনেকখানি। অর্জিত হয় বিশ্বাসযোগ্যতা।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন অবধি বিরাজমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নির্বাচনী কার্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে সামান্যই। সরল বাংলায়, এখন বলা হচ্ছে সমন্বিত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদ' প্রস্তুত করার কথা যাতে আগামীতে 'একটি সুস্থ এবং স্থিতিশীল গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠার পথে যাত্রা শুরম্ন করতে পারি আমরা।
এ ধরনের একটি সিদ্ধানত্দে পেঁৗছানোর পেছনে কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমন একটি ধারণা ক্রমেই সবার মনে জন্ম নিচ্ছে যে জরম্নরি অবস্থার বাসত্দবতার ভেতরেও, প্রধানত নগরভিত্তিক প্রতিনিধিবর্গের সঙ্গে, সীমিত সংলাপ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার, নির্বাচনী বিধিমালায় পরিবর্তন আনয়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই, বহাল থাকছে জরম্নরি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারিকৃত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং উপেৰিত হচ্ছে বৃহত্তর আঙ্গিকে বিষয়টিকে যাচাই করে দেখার প্রবণতা। এর ফলে সংলাপ এবং মতবিনিময় কার্যক্রমে আমাদের পলস্নী এলাকায় বসবাসরত ৭৫ শতাংশ মানুষের অংশগ্রহণের সকল পথ কার্যত হয়ে পড়েছে রম্নদ্ধ। এমন অনেকেই আছেন যারা বলবেন, আমরা পেশাজীবী গ্রম্নপ, সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবর্গের সাথে মতবিনিময় শেষ করেছি। আমার মতে, সর্বাংশে সত্য নয় এ দাবী। চারিত্র্যগতভাবেই, সমসত্দ বিষয়কে ধারণ করা হয়নি এসব সংলাপে। মূল নেতৃবৃন্দের অনুপস্থিতিতে, আমরা কি সত্যিই পেরেছি একটা নু্যনতম সাধারণ মতৈক্যে পেঁৗছুতে? সংস্কারবাদী নেতৃবৃন্দের অধিকাংশেরই 'ডাল মে কুছ ঘাপলা হ্যায়' এবং সাধারণ মানুষের ধারণা, বিভিন্ন অভিযোগের দায় থেকে রেহাই পেতেই এসব নেতৃবৃন্দ আগ বাড়িয়ে সংস্কারের পৰাবলম্বন করছেন।
চলমান সংলাপ হতে পারত, আরো বৃহত্তর এবং বিশেস্নষণধর্মী আঙ্গিকে, তৃণমূল পর্যায়ে। আমাদের গ্রামীণ সমাজকাঠামো, স্কুলশিৰক, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং সুশীল সমাজকর্মীদের উলেস্নখযোগ্য প্রভাব সম্পর্কে সম্ভবত আমরা অনবহিত হয়ে পড়ছি। আমরা সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি নগরকেন্দ্রিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যারা কদাচিত পা রাখে গ্রামে- বছরে উধের্্ব একবার। কতর্ৃপৰ কি মনে করেন যে, নগরভিত্তিক এসব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ এবং চুক্তি সারলেই সংস্কারের দীর্ঘস্থায়ী সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব?
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমি এ প্রশ্নে একমত যে, 'আইনের শাসন, সুস্থ রাজনীতি, কার্যকর সংসদ এবং একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন' প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তার এমত বিশ্বাসও আমি সমর্থন করি যে, বর্তমানের 'প্রতিযোগিতামূলক ও দ্রম্নত অগ্রসরমান' পৃথিবীতে 'হরতাল, অবরোধ এবং সহিংস বিরোধিতা'র মত 'সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক ও নেতিবাচক রাজনীতি বন্ধ' করতে হবে আমাদের। এ পর্যনত্দ সব ঠিকঠাকই আছে।
কিন্তু আমি প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই কয়েকটি প্রসত্দাবনাকে, যেমন 'ৰমতার কাঠামো'তে 'ভারসাম্য' আনয়নের দরকার রয়েছে। বলা হয়েছে, 'স্থিতিশীল ও দায়িত্ববান সরকার পরিচালনার পথে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত ৰমতা' একটি বড় অনত্দরায়। উলেস্নখ করা হয়েছে, 'সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ৰমতা-কাঠামো পুনর্বিন্যাস রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে সৰম হবে।' পরোৰভাবে, এসবের মাধ্যমে এটাই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সংলাপে এসব বিষয় আলোচনার গুরম্নত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাবে।
ঠিক এখানে এসেই আরেকটু খোলামেলা আলোচনার অবকাশ রয়ে যাচ্ছে আমাদের।
কবি ড্রাইডেনের মতো আমিও মনে করি, ত্রম্নটির জন্য কবিতা নয়, দায়ী কবি নিজেই। তাছাড়া, দলগুলোর মানসিক গঠন পরিবর্তনের প্রশ্নটিও উপেৰা করা অসম্ভব। বিগত বছরগুলোয় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বিশেস্নষণ করলে এটা পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে যে, একটি উত্তম গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক সরকার পরিচালনার পথে সবচেয়ে বড় বাধাটি হচ্ছে পারস্পরিক রাজনৈতিক সহমর্মিতার অভাব এবং সংসদকে কার্যকর করে তোলার লৰ্যের প্রতি চূড়ানত্দ অবহেলা। এ সময়কালে, সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর করে ফেলা হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো, গুরম্নত্বপূর্ণ ইসু্যগুলো ইচ্ছেকৃত রেখে দেয়া হয় আলোচ্যসূচির বাইরে- এসবের জন্য কৃতিত্বের(!) প্রধান দাবীদার চরমভাবে দলীয় পৰপাতদুষ্ট স্পিকার। এটা বিগত সরকারের সময় বিশেষভাবে লৰ্যণীয় ছিল। এমনকি, নিকটতম প্রতিবেশি ভারতে সংসদ পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গেও এর রয়েছে চোখে পড়ার মত বৈপরীত্য।
বর্তমান সাংবিধানিক ধারার ৭০(১) অনুচ্ছেদ নিয়েও কথা রয়ে গেছে। এর কারণেই সংসদে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য তার নিজ দলের বিরম্নদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। বিগত বছরগুলোয় এ ধারার সুযোগ নিয়ে সংসদীয় ৰমতার যথেচ্ছ অপব্যবহারের একাধিক নজির রেখেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ ধরনের একটি অগণতান্ত্রিক ধারা বহাল রাখার মাধ্যমে কোন ইসু্যতে দলীয় অবস্থান সঠিক রাখতে একজন সংসদ সদস্যের দলীয় সিদ্ধানত্দের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদের ৰমতা এবং নিজ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সুযোগ অস্বীকার করা হয়েছে ন্যাক্কারজনকভাবে। জার্মানি কিংবা এমনকি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মত সত্যিকার গণতন্ত্র যেখানে কাজ করছে, সেখানে এ ধরনের বিধান নেই।
ৰমতার পুরর্বিন্যাসের অর্থ বিরাজমান সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করা। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদে এসব বিষয় বিবেচিত হতে পারে। এ উদ্দেশে সংসদের প্রত্যেকটি দল থেকে প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি সংসদীয় কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাদের অন্যতম দায়িত্ব হতে পারে বিদ্যমান ৭০(১) অনুচ্ছেদের সংশোধন। নির্বাচনের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও তার দলের সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে একমত হতে পারে। পরবর্তীতে সংসদে তাদের এসব প্রতিবেদন যথারীতি আলোচনা এবং প্রয়োজনে তাতে অন্যান্য সংশোধনীও অনত্দর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
বর্তমান অনত্দবর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের। তারা সেটাই করম্নন। কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজটি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে ছেড়ে দেয়াই হবে উত্তম। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের ৰেত্রে অনেকগুলো জরম্নরি বিষয় বিবেচনা এবং আলোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ ৰেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যাতে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের সময় এগুলো তারা নিজেদের গঠনতন্ত্রে অঙ্গীভূত করে নেয়। একবার এটি করা সম্ভব হলে তখন পরবর্তী কালেও তারা এসব নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। এভাবেই, রাজনৈতিক দলের অভ্যনত্দরেও সূচিত হবে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা। প্রত্যাশা একটাই, এই স্বচ্ছতা যেন হয় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মতই স্বচ্ছ।
ইতোমধ্যে অপেৰাকৃত ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়েছে। যদিও শাদা চোখের অনুমান, নতুন সংসদে এসব দল কোনক্রমেই পনেরটার বেশি আসনে জিততে পারবে না। এ প্রেৰিতে, সংলাপ আয়োজনকারীদের যা নিশ্চিত করতে হবে তা হচ্ছে, সংলাপে বড় দলগুলোর অংশগ্রহণ। অন্যথায়, কোন অবস্থাতেই সার্থক হিসেবে বিবেচ্য হবে না সংলাপ।
[লেখক : সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত]
- Forums:
JUST VIEWED
Last viewed:
- A BNP/AL creation....and
- এমন শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন নেই
- A new day on the horizon
- সোনা রফিক - একজন আওয়ামী সংসদ সদস্য
- Another mother has lost her child
- মার হাতে পুত্র খুন
- Some Personal thoughts ( Reposted from e-mela for test)
- Chinese Treatment
- Interesting time to be in Bangladesh, says new AFP bureau chief
- এস এস এন্টারপ্রাইজ এবং ছহুল-ছয়ফুল মিয়াদের রাজনীতি - WatchDog
- The Sugar-coated Poison
- বিশেষ অনুরোধ!!!
- She forgot about pre 1/11
- Arab Sheiks’ new strategy – Education City in Qatar
- Economy Stupid...
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 1 day ago - আমিও
3 weeks 2 days ago - about canada immigration
4 weeks 2 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 4 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 4 days ago - হুম!
5 weeks 8 hours ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 8 hours ago - Its really a great invention.
5 weeks 2 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 19 hours ago - Not fair!
6 weeks 2 days ago





Post new comment