Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

An Industry in crisis...

বৃটেনে অদক্ষ শ্রমিকের উপর নিষেধাজ্ঞা দেড় হাজার বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ বন্ধ
May 25, 2008 - 12:52pm BDT

ইত্তেফাক: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পর পরই বৃটেনে কারীশিল্প অর্থাৎ রেস্তোরাঁ ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়। একজন বৃটিশ এমপির উদ্যোগে ১৯৪৭ কিংবা ৪৮ সালে লন্ডনে ‘বীর স্বামী’ নামে প্রথম একটি ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁ চালু হয়। বর্তমানে বার হাজারেরও অধিক ’ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁ’ নামে প্রচলিত হলেও এ সমস্ত রেস্তোরাঁর প্রায় ষোলআনা মালিক বাংলাদেশীরা।

রেস্তোরাঁ ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশীরা শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে তাই নয়, বৃটেনের অর্থনীতিতেও বিরাট অবদান রাখছে। প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের টার্নওভারের কারীশিল্প আজ হুমকির মুখে। নতুন অভিবাসন আইন চালু হবার কারণে অদক্ষ কর্মী আর বৃটেনে পাড়ি জমাতে পারবে না। এতদিন এই অদক্ষ কর্মীরাই ছিলেন রেস্তোরাঁ মালিকদের প্রাণশক্তি। রেস্তোরাঁ মালিকরা ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে অদক্ষ শ্রমিক নিজ দেশ থেকে নিয়ে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোতে কাজে লাগাতেন। এতে করে শ্রমিক-মালিক উভয়ই উপকৃত হতেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ অদক্ষ শ্রমিক আনার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় মারাত্মক কর্মী সংকটে ভুগছে বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ মালিকরা। রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারিং এসোসিয়েশন বৃটেন সরকারের নতুন অভিবাসন আইনের বিরোধিতা করে সরকারের সাথে দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন আগে লন্ডনের ট্রাফেল গার্ড স্কয়ারে দশ সহস্রাধিক মানুষের সমাগম ঘটিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। হাউজ অব কমন্সের বেশ কয়েকজন সদস্য এ দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করেই সমাবেশে যোগ দেন। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তে অনড়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাঁর সরকার আর শ্রমিক আনাকে উৎসাহিত করবে না। যদিও বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ মালিকরা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গর্ডন ব্রাউনের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারিং এসোসিয়েশন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ সেলিম দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, গত কয়েক মাসে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসে আরও বহু রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, একেতো কর্মী সংকট তার উপর যখন তখন নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এই সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের গভীর সংকটে ফেলেছে। সরকারের এহেন আচরণে সবাই শুধু হতাশ নয় রীতিমত ক্ষুব্ধ।

এদিকে বৃটেনের নতুন অভিবাসন আইন বাংলাদেশী প্রফেসনালদের জন্য একটি শুভ সংবাদ। এ আইনের আওতায় পয়েন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, একাউন্টটেন্ট, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ প্রফেসনাল বৃটেনে বসবাসের আবেদন জানাতে পারবেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla