Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

সরকারী চাকরিতে কোটা এবং ভুতের পেছনদিকে চলা

sagar neel's picture

ভুতের পা নাকি উলটা দিকে থাকে তাই ভুত চলে পেছনের দিকে। আমাদের দেশের সরকারী চাকরিতে শতকরা ৫৫ ভাগ কোটার প্রথা দেখে ভুতের পেছনে চলার কথা মনে পড়ে গেল। সারা পৃথীবি আজ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে প্রতিযোগিতা মুলক ভাবে। মাত্র ৩০ বছর আগে যে মালয়েশিয়া ছিল বাংলাদেশের চেয়েও অনুন্নত আজ সেই মালয়েশিয়া আজ উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লিখিয়েছে। দুরের কোনো দেশের কথা বাদই দিলাম, আমাদের পাশের দেশ ভারত আজ দুই ডিজিটের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈ্তিক পরাশক্তি হিসাবে আত্নপ্রকাশ করতে চাচ্ছে। তাদের এই যে এই উন্নয়ন তা কিন্তু এমনি এমনি হচ্ছেনা। মেধার মুল্যায়নই এসব দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

যেকোনো দেশের উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হচ্ছে দক্ষ ও মেধাবী সিভিল প্রশাসন। আর এই সিভিল প্রশাসন যত বেশী দক্ষ উন্নয়ন তত দ্রুত হবে। যেমন ধরুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একজন বিদেশী বিনিয়োগকারী একটি প্রস্তাব দিল। এখন এই প্রস্তাবটি যত দ্রুত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে ততই লাভ। একটি মেধাবী প্রশাসনের পক্ষেই দ্রুত এই প্রস্তাবটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রস্তাবটির পক্ষে বা বিপক্ষে সুপারিশ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দেরী করা হলে বিনিয়োগকারী হাত ফস্কে যেতে পারে। অথবা চিন্তা করুন বিদেশী দুতাবাসে কর্মরত একজন সরকারী কর্মকর্তার কথা। তিনি যদি দক্ষ ও মেধাবী হন তিনি সহজেই তার মেধা দিয়ে জনশক্তি রপ্তানী বাড়াতে পারবেন। আর দেশের ভিতরে যে লাল ফিতার দৌরাত্ম তাও অনেক কমে যায় দক্ষ ও মেধাবী প্রশাসনের কল্যানে।

তাইতো বিশ্বের সব দেশেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষ ও মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া হয়। কোটার তো কোন প্রশ্নই আসেনা। উন্নত দেশগুলোর সরকার চিন্তা করে ট্যাক্স পেয়ার জনগনের কথা আর জনগনও অনেক সচেতন। তারা সব সময়, লক্ষ্য রাখছে সরকারি চাকরিতে কারা কিভাবে কাজ করছে। কোনো অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়ে তাদের টাক্সের টাকার কোন শ্রাদ্ধ করা হচ্ছে কিনা। আর সরকারও সচেতন থাকে কিভাবে যোগ্য ও মেধাবী জনশক্তি নিয়োগ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এভাবেই একটি দেশ উন্নতির চরম শিখরে পৌছে।

আর আমাদের দেশে হচ্ছে টা কি? সরকারি চাকরির শতকরা ৫৫ ভাগই নেয়া হচ্ছে কোটার মধ্য দিয়ে। এযেন ভুতের মত পেছন দিকে চলা। গত একটি বিসিএস পরীক্ষায় দেখা গেছে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য যেখানে মেধাতালিকার ২৫৪ নাম্বারেই শেষ প্রার্থীর অবস্থান সেখানে কোটার প্রার্থী নেয়া হয়েছে ৭০০০ তম প্রার্থী থেকে। এই যদি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের অবস্থা হয় তাহলে ভাবার বিষয় প্রশাসনে আমরা কি মেধাবী ছাত্রদের পাচ্ছি, নাকি প্রশাসন কে মাথাভারি করা হচ্ছে? তাই আজ কোটা নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। আজকে যদি আমরা সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রদের নিয়োগ দিয়ে একটি মেধাবী ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারি তাহলে তো আমরা দেশকে আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। আর তাতে তো দেশে বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যাবে আর অনেক বেশী বেশী নুতন নুতন কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এবার আসুন দেখি আমাদের দেশে কাদের কোটা দেয়া হচ্ছে আর তার এখন আর প্রয়োজন আছে কিনা। প্রথমে বলি জেলা কোটা যার পরিমান শতকরা ১০ ভাগ। হ্যা একটা সময় ছিল যখন লেখাপড়ার সুযোগ শুধুমাত্র বড় জেলা গুলোতেই ছিল এবং এসব জেলার লোকজনেরা লেখা পড়ায় এগিয়ে ছিল। কিন্তু সেই দিনতো এখন আর নেই। এখন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিটি জেলার লোকজনেরাই সচেতন এবং লেখাপড়ায় এগিয়ে এসেছে। তাই এই জেলা কোটার যৌক্তিকত কতটুকু? তাছাড়া আমাদের দেশে ঘুষ দিলেই যেকোনো মানুষ যেকোনো জেলার বাসিন্দার সার্টিফিকেট জোগাড় করতে পারে। তাহলে এইকোটা এখনতো আর কোনো কাজে আসছেই না বরং দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে। এবার দেখি নারী ও উপজাতি কোটার দিকে যা শতকরা ১০ ও ৫ অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ ভাগ। নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ সরকার পুরুষদের চেয়েও বেশী সুবিধা দিচ্ছে। নারীদের ক্লাস এইট পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি। তাই আজ নারীরা শিক্ষা দিক্ষায় অনেক এগিয়ে। যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই দেখা গেলেই দেখা যায় ছাত্র ছাত্রী সমান সমান , বরং অনেক জায়গায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশী। একই ভাবে উপজাতিরা আজ বাংগালীদের চেয়ে ও অনেক এগিয়ে । উপজাতিদের শিক্ষার হার বাংগালীদের চেয়ে অনেক বেশী। তাই এই দুই কোটার ও মুল্যায়ন করার সময় এসেছে।

আর থাকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য শতকরা ৩০ ভাগ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার এই কোটাটির প্রবর্তন করে। এই কোটাটি নিয়েও ভাবার সময় এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার দেশ স্বাধীন করেছিলেন একটি সুখী সমৃদ্ধশালী ও উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে। আর তাদের লড়াইও ছিল অসমতার বিরুদ্ধে। এই কোটা ব্যাবস্থা একদিকে দেশে মাথাভারী প্রশাসন সৃষ্টি করে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অন্য দিকে মেধাবী ছাত্রদের জন্য এটি একটি অসম ব্যবস্থা। তাই এই কোটা মুক্তিযোদ্ধার চেতনার বিরুদ্ধে। তবে হ্যা, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই গরীব মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হোক।

পরিশেষে এটাই বলতে চাই আজ দেশের স্বার্থেই সরকারী চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কার করতে হবে। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে দক্ষ ও মেধাবী প্রশাসনের বিকল্প নেই। আর এই মেধাবী প্রশাসন গড়ার স্বার্থেই কোটার সংস্কার করতে হবে।

ভাই সাগর নীল

আপনার সাথে এক মত না হয়ে পারলামনা। পাকিস্থানের দুই অংশের বৈষম্য দূর করার আন্দোলনই ছিল বাংলাদেশ নামের দেশটার জন্মের মূল সূত্র। মুক্তিযুদ্ব, মুক্তিযোদ্বা আর তাদের সন্তানদের দিয়ে সমাজে একটা ভেদাভেদ তৈরী করার নাম সহজ রাজনীতি, মুক্তিযুদ্বের প্রতি সন্মান প্রদর্শন নয়।১৫কোটি জনসংখ্যার দেশে শতকরা ৫৫ ভাগ সরকারী চাকরী যদি কোটা দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা হয় তা হলে চাকরীর নামে এমন ভাওতাবাজী না করাই ভাল।

ভাল থাকুন।

ধন্যবাদ

ধন্যবাদ।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla