শিশু হাসপাতালের লটারি: কারসাজি করে প্রথম পুরস্কারের ৩০ লাখ টাকা পান ডা. জাহিদ
বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কারসাজির মাধ্যমে ঢাকা শিশু হাস-পাতালের ২০০৪ সালের লটারির প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন। প্রথম পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ৩০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক তদন্তে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঘোষিত সন্দেহভাজন দুর্নীতিপরায়ণদের তালিকায় ডা. জাহিদের নাম আছে।
দেখা গেছে, ডা. জাহিদের প্রথম পুরস্কার পাওয়ার এই লটারির টিকিটের দাম পরিশোধ করে বিএমএ। ২০০৪ সালে বিএমএ ছিল বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের দখলে। আর ডা. জাহিদ ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাধারণ সম্পাদক।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের নিয়োগ-পদোন্নতি ও আর্থিক অনিয়ম তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালের ২৫ মার্চ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হিসাব) ডা. দিদারুল আলম, উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আতিকুল হক ও মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আকরাম হোসেন। তদন্ত কমিটি সম্প্রতি সচিব বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্র জানায়, এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। লটারির প্রথম পুরস্কার ডা. জাহিদের: ‘ঢাকা শিশু হাসপাতাল লটারী ২০০৪’-এর টিকিট বিক্রি হয়েছিল এক কোটি ৯৬ লাখের কিছু বেশি টাকার। শিশু হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেছেন, ওই সময় বেশ কয়েক লাখ টিকিট বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ড্যাবের নেতারা চিকিৎসকদের কাছে বিক্রির জন্য এই বিপুল পরিমাণ টিকিট সেখানে নিয়ে যান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিএমএ কর্তৃপক্ষ ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকার টিকিট বিক্রি করে এবং তিন লাখ ৭১ হাজার ৫০০টি অবিক্রীত টিকিট শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দেয়।
তদন্ত কমিটি বলছে, লটারির প্রথম পুরস্কার পাওয়া টিকিটের নম্বর ছিল খ ৪৫১৪৮১। বিএমএতে বিক্রির জন্য যে টিকিট নেওয়া হয়েছিল, প্রথম পুরস্কার পাওয়া টিকিটটি তার মধ্যে ছিল। তদন্ত কমিটি বলছে, ‘কাগজপত্র অনুযায়ী দেখা যায়, ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের দাবিদার ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।’
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ডা. জাহিদ ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান; বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)। বিগত জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সাড়ে তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় দুদক এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০০৪ সালের ৬ এপ্রিল বিএমএর ৩৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ টাকা রূপালী ব্যাংক রমনা করপোরেট শাখার একটি চেকের (চেক নম্বর ৮৪৭০৬২৯) মাধ্যমে গ্রহণ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই দিনই সোনালী ব্যাংক চলতি হিসাব নম্বর ৩৩০০/২৮-এ চেকটি জমা দেয়।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, যে টিকিটের বিক্রীত মূল্য হাতে পাওয়া যায়নি, সেই টিকিটের নম্বর লটারিতে সংশ্লিষ্ট করা ও বিজয়ী ঘোষণা করার মধ্যে কারসাজি রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে চেক গ্রহণ করেছে, তার মধ্যেও কারসাজি ছিল।
ব্যাংকে অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা এই তদন্ত কমিটির ছিল না। তাই তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোর জন্য। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একটি সুত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ডা. জাহিদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়; কিন্তু সম্ভব হয়নি।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
- Forums:
JUST VIEWED
Last viewed:
- US alters the Bangladeshi political landscape
- আজন্ম পাপের লীলাভূমিতে
- Some Personal Thoughts
- যে গল্পের শেষ নেই
- Hi guys
- মৌলবাদের দিনরাত্রি - WatchDog
- Join Ami Bangladeshi
- বিএমএ নেতা ডা. জাহিদের ১৩ ও স্ত্রীর ৩ বছর জেল
- জয় হোক তারুন্যের - WatchDog
- আপনি কি মনে করেন পশ্চিমা গনতন্ত্র বাংলাদেশে কার্যকর?
- Earth's Twin
- কালো সূর্য্যের কালো রাতের কালো সন্তানেরা...
- Akbor Ali Khan
- সীমান্তের এপার ওপার - পর্ব ১
- My 7 days in NYC
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 1 day ago - আমিও
3 weeks 2 days ago - about canada immigration
4 weeks 2 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 4 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 4 days ago - হুম!
5 weeks 8 hours ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 8 hours ago - Its really a great invention.
5 weeks 2 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 19 hours ago - Not fair!
6 weeks 2 days ago





reg land of bangladesh
It is heard that several Lac of Suits / Litigations are pending in Different Courts of Bangladesh due to illegal occupation of land ignoring documents and title right by miscreants.
.
The officials of Land Survey Department, Settlement Office and their Subordinate Office are also responsible for most of the litigations as in many cases they prepare records & parcha and other records of land erroneously and willfully in the name of some other people or concern ignoring deed & title right. depriving the actual land owner.
Such type of malpractices of Land Survey Department and Settlement Offices including their subordinate offices at uphajila level are known to all corner. .
It shall continue as the officials of the above organization can not be made responsible for loss and damages of owner of land since the colonial period to till date
Correction of records & parcha at present are very complicated , lengthy matter and expensive one , by this time the illegal occupier changes the faces or position of the lands
Government may consider to take immediate action to abolish system of POSSESSION RIGHT of land without any valid document or title right.
And shall also allow the application TORT LAW in Bangladesh without any delay to established accountability & prevent existing malpractices by officials
TORT LAW also protect poor people becoming more poor due to repression
It will be highly appreciated if you kindly circulate the above in all level for creation of awareness among the people and international community as well as Patriot Political Worker. Leader or Intellectual Group, & Policy Maker of the Country .
The Peoples
Post new comment