Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

গ্রামীণ ব্যাংক: কিছু প্রশ্ন ও প্রকৃত তথ্য

grameen bank bangladesh
সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক, সহযোগী ৫৪টি প্রতিষ্ঠান ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তোলা হচ্ছে নানা প্রশ্ন। এসব নিয়ে ইউনূস সেন্টার থেকে গণমাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাঠানো হয়। ‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে সমালোচকদের কিছু প্রশ্ন ও প্রকৃত তথ্য’ শীর্ষক ওই ব্যাখ্যায় ২৯টি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। পাঠকের চাহিদা ও আগ্রহের কথা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর হুবহু জবাব ছাপানো হলো।

প্রশ্ন: সরকার গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে তদন্ত করতে চাইলে এত বাধা বা সমালোচনা হচ্ছে কেন? নোবেল বিজয়ী বলে তিনি কি তদন্তের ঊর্ধ্বে?

উত্তর: সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত করা হয়, যখন সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সে রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্রামীণ ব্যাংক একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান বলেই সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেছে। প্রতিবছর দুটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অডিট ফার্মও গ্রামীণ ব্যাংক অডিট করে এসেছে। কোনো অডিট টিম কোনো অনিয়ম নিয়ে কোনো দিন প্রশ্ন তোলেনি। তা ছাড়া সরকারপ্রধান সংসদে, সংসদের বাইরে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে গ্রামীণ ব্যাংক ও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বিদ্বেষমূলক বলে মনে হয়েছে অনেকের কাছে। অন্যদিকে সরকারপ্রধানের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ জাগা কি স্বাভাবিক নয়? এই তদন্ত কি তাঁর মন্তব্য দ্বারা প্রভাবিত হবে না? শুধু এ কারণেই বিভিন্ন সুধীজন এই তদন্ত সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য কোনো কারণে নয়।

নোবেল বিজয়ী বলে তিনি তদন্তের ঊর্ধ্বে নন। যাঁরা আপত্তি তুলেছেন, তাঁরা এই তদন্ত বিদ্বেষমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে—এই ধারণা নিয়েই আপত্তি তুলেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা এই মর্মে শপথ গ্রহণ করেন যে, ‘আমি সংবিধানের সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব, এবং ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’ আচরণ নিয়েই সমস্যা, তদন্ত নিয়ে নয়। বাস্তবে এই আচরণ থেকে বিচ্যুত হতে দেখলে তার প্রতিবাদ করা কি সব নাগরিকের কর্তব্য নয়?

প্রশ্ন: সরকারের আইন অনুসারে ৬০ বছর বয়সের পরও অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থেকেছেন। এটা কি বেআইনি কাজ হয়নি? এই অতিরিক্ত সময়ে বেতন-ভাতা গ্রহণও কি বেআইনি নয়?

উত্তর: ১৯৯০ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস পরিবর্তন হয়ে সরকারের মালিকানা ৬০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ এবং ব্যাংকের সদস্যদের মালিকানা ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়। মালিকানা বিন্যাস পরিবর্তন হয়ে সরকারের মালিকানা হ্রাস পাওয়ায় অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বানুমতিদানের অনুরোধ জানিয়ে ১৯৯০ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়, পরে ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাপক ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের বিষয়ে পূর্বানুমোদন দেয়। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংক তার অনুমোদনপত্রে অধ্যাপক ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের বেলায় কোনো বয়সসীমা উল্লেখ করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনপত্রের ধারাবাহিকতায় কোনো বয়সসীমা উল্লেখ না করে তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালকমণ্ডলীর ৫২তম সভায় স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর অবসর গ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে বোর্ডকে অবহিত করেন। পরিচালকমণ্ডলী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে যত দিন পর্যন্ত পরিচালকমণ্ডলী অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেবে, তত দিন পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূস ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহাল থাকবেন।

উল্লিখিত পর্ষদ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে একটি রেগুলেশন তৈরির সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। ওই রেগুলেশনেও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের জন্য কোনো বয়সসীমা আরোপ করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের স্থিতিভিত্তিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি মর্মে আপত্তি উত্থাপন করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর ব্যাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ১৯৯৯ সালের স্থিতিভিত্তিক বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদনের অনিষ্পত্তিকৃত কিছু বিষয়ের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনজন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ২০০১ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ সভায় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদনের কতিপয় অনুচ্ছেদ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং কিছু অনুচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, গ্রামীণ ব্যাংক যাচিত ডকুমেন্টসমূহের কপি সরবরাহ করলে আপত্তিসমূহ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। সে প্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংক ২০০২ সালের ১৬ জানুয়ারি যাচিত ডকুমেন্টসহ পুনঃপরিপালন প্রতিবেদন প্রেরণ করে। পুনঃপরিপালন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারে আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। এ সময় অধ্যাপক ইউনূসের বয়স ছিল ৬১ বছর ছয় মাস। অর্থাৎ তাঁর বয়স এ সময় ৬০ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ বিষয়ে ঘটনা-উত্তর অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা বলেনি। এর ফলে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী কোনো বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রসঙ্গটি আর কখনোই আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনই অধ্যাপক ইউনূসের বয়স ৬০ বছর উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাঁর বয়স নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি।

মোট ১১ বছরে এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আর কোনো প্রশ্ন তোলেনি। ২০১১ সালে প্রশ্ন তোলা হলো। অধ্যাপক ইউনূস আদালতে গেলেন। আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করলেন না এই বিবেচনায় যে, তাঁর প্রতিকার চাওয়ার লুকাস স্ট্যান্ডি (Locus Standi) নেই, অর্থাৎ আবেদন করার যোগ্যতা নেই। তিনি আপিল বিভাগে গেলেন। সেখানেও তাঁর আবেদন একই যুক্তিতে অগ্রাহ্য হলো।

তিনি এরপর পদত্যাগ করলেন। তিনি যে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করলেন, এটা কি তাঁর অপরাধ, নাকি যাঁরা তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাঁদের অপরাধ, নাকি যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতি দিয়ে এই নিয়োগকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে তাদের অপরাধ, এটা স্থির করতে হবে।

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংক কি অত্যন্ত উচ্চ সুদের হারে মহাজনী কায়দায় গরিব মানুষকে শোষণ করে আসছে না?

উত্তর: বাংলাদেশে সরকারি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাসহ যাবতীয় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার সর্বনিম্ন। গ্রামীণ ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার ২০ শতাংশ। এটা সরল সুদ। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে সুদের হার ঠিক করা হয়, যা ফ্লাট পদ্ধতিতে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) দেশের সব ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করেছে ২৭ শতাংশ। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার এই হারের চাইতে ৭ শতাংশ কম।

গ্রামীণ ব্যাংকের গৃহনির্মাণ ঋণের বার্ষিক সুদের হার ৮ শতাংশ। উচ্চশিক্ষা ঋণের সুদের হার, শিক্ষাজীবনে শূন্য শতাংশ (অর্থাৎ সুদ নেই) এবং শিক্ষা সমাপ্তির পর ৫ শতাংশ। ভিক্ষুক সদস্যদের জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদের হার শূন্য শতাংশ (অর্থাৎ সুদ নেই)। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক ঋণের ওপর সর্বনিম্ন সুদ নেয় এবং সঞ্চয়ের ওপর সর্বোচ্চ (সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ) সুদ দেয়।

এসব তথ্য দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিমালা প্রকাশনা ও ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছেও এ তথ্য রয়েছে। তবু অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে কল্পিত বিভিন্ন উচ্চতর সুদের হার গণমাধ্যমে উল্লেখ করে থাকেন, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১১ সালে অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও এই সুদের হার এবং আদায়ের পদ্ধতি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রশ্ন: অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে ওয়েজ আর্নার স্কিমের আয় দেখিয়ে কি কর ফাঁকি দেননি?

উত্তর: অধ্যাপক ইউনূস বিদেশ থেকে প্রতিবছর প্রচুর টাকা আয় করেন। বিদেশ থেকে যেসব খাতে তিনি আয় করেন সেগুলো হলো: ১) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বা সম্মেলনে বক্তৃতা, ২) তাঁর লেখা বিভিন্ন বই, যেগুলো বহু দেশে বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে বিক্রি হচ্ছে, তার স্বত্ব বা রয়্যালটি, ৩) নোবেল পুরস্কারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার। অধ্যাপক ইউনূস অত্যন্ত উচ্চহারের ফির বিনিময়ে বিদেশে বিভিন্ন সম্মেলনে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। অনেক স্থানে তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য শ্রোতাদের অর্থের বিনিময়ে টিকিট কাটতে হয়। তাঁর লেখা কয়েকটি বই বিভিন্ন দেশে ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তাঁর বই নিউইয়র্ক টাইমসের ‘বেস্ট সেলার লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বক্তৃতা, বই ও পুরস্কার থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা তিনি বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়মিত দেশে আনেন। বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিদেশে অর্জিত তাঁর ব্যক্তিগত আয় যদি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনেন এবং প্রতিবছর আয়কর বিবরণীতে তা প্রদর্শন করেন, তাহলে তা আয়কর আইনে করমুক্ত। তাই আইনগতভাবেই তাঁর বৈদেশিক আয় করমুক্ত। তিনি এই আইনের ভিত্তিতেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করে এসেছেন, আয়কর বিভাগ কোনো দিন আপত্তি জানায়নি। তাঁর অন্যান্য সব দেশি ও বিদেশি আয় তিনি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করেন এবং আয়ের ওপর তিনি আয়কর বিভাগ কর্তৃক নিরূপিত আয়কর আইন অনুযায়ী নিয়মিত দিয়ে আসছেন।

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংক তো সরকারের অর্থে চলে। তা ছাড়া, বিদেশ থেকেও গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য শত শত কোটি টাকা আসে। এই টাকা কীভাবে ব্যবহূত হয়েছে, তা দেখা কি সরকারের কর্তব্য নয়?

উত্তর: না, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের অর্থে চলে না। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই চেষ্টা হচ্ছিল যেন ব্যাংকটি কেবল সদস্যদের মালিকানায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকার এটাতে রাজি হয়নি। জন্মকালে (১৯৮৩ সালে) গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ৬০ শতাংশ ছিল। অধ্যাপক ইউনূস ৬০ শতাংশ সরকারি মালিকানায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় মোটেও রাজি ছিলেন না। তাঁকে বোঝানো হলো যে ব্যাংক চালু হয়ে গেলে এটা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। ১৯৮৬ সালে সেটা করা হয়েছিল। ৭৫ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ সংশোধন করে। ড. ইউনূস সরকারের শেয়ারের অংশ টোকেন অংশীদারিত্ব হিসেবে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন, যার ফলে সরকার ২০০৮ সালে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সরকারের শেয়ার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনে এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ বোর্ডের হাতে ন্যস্ত করে। পরে বর্তমান সরকার তা সংসদে পেশ করে আইনে পরিণত না করায় সরকারের শেয়ার পূর্বের মতো ২৫ শতাংশে ফিরে গেছে। চেয়ারম্যান নিয়োগ সরকারের কাছে থেকে গেছে।

সরকার ব্যাংকের জন্মকালে এক কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছিল। এখনো সরকারের মোট শেয়ারের পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক প্রত্যেকে ৩০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছে। ফলে সরকারের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছিল এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। জন্মের পর থেকে সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি আর কোনো টাকা দেয়নি। সরকার তার মূলধনের পরিমাণ না বাড়ানোয় কার্যত সরকারের মালিকানা ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

সরকারের অনুরোধে বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক বিদেশি ঋণ ও অনুদান নিয়েছে। বিদেশি ঋণ ও অনুদান নেওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সময় সময় চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই সব তথ্য বিভিন্ন প্রকাশনায় লিপিবদ্ধ করা আছে। যেসব বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তা চুক্তি মোতাবেক শোধ করে দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধে গ্রামীণ ব্যাংক কোনো সময় এক দিনের জন্যও বিলম্ব করেনি।

১৯৯৫ সালে গ্রামীণ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আর বিদেশি ঋণ বা অনুদান নেবে না। চালু ঋণ/অনুদানগুলো ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত চালু থাকে। এর পর থেকে গ্রামীণ ব্যাংক আজ পর্যন্ত কোনো বিদেশি ঋণ বা অনুদান নেয়নি। সরকারি অনুদান গ্রামীণ ব্যাংক কোনো কালেও নেয়নি।

গ্রামীণ ব্যাংকের মূলধনের প্রধান উৎস সদস্যদের শেয়ার কেনা বাবদ অর্থ। প্রতি শেয়ারের মূল্য ১০০ টাকা। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূলধনের সর্বোচ্চ সীমা ২০০৮ সালের পূর্বে কম ছিল বলে গ্রামীণ ব্যাংক কোনো সদস্যকে একটির বেশি শেয়ার দিতে পারেনি। যদিও সদস্যদের ইচ্ছা তাঁরা বেশি করে শেয়ার কিনবেন। কারণ গ্রামীণ ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফা দিয়ে থাকে।

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংকের যদি শেয়ারহোল্ডার থেকে থাকে, তবে কোনো দিন তাদের লভ্যাংশ দেওয়া হলো না কেন? মুনাফার টাকা কি অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর সঙ্গী-সাথিরা হজম করে ফেলেছেন?

উত্তর: গ্রামীণ ব্যাংক বরাবর শেয়ারহোল্ডারের ডিভিডেন্ড দিয়ে এসেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রত্যেক সদস্য যেকোনো সময় ১০০ টাকা দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শেয়ার কিনতে পারেন। ৮৪ লাখ ঋণগ্রহীতার মধ্যে ৫৫ লাখ ঋণগ্রহীতা এ পর্যন্ত শেয়ার কিনেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ৯৭ শতাংশ মূলধনের মালিক হয়েছেন। সরকার ও সরকারি ব্যাংক এক কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার কিনে ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক।
এ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক সরকারকে এক কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের প্রত্যেককে ৩০ লাখ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৬৩ লাখ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

সদস্যরা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৭৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন (সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন, যেহেতু ২০০৬ সালের পরবর্তী সময়ে যাঁরা শেয়ার কিনেছেন, তাঁরা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মেয়াদে লভ্যাংশ পেয়েছেন)। প্রত্যেক সদস্যের লভ্যাংশ প্রতিবছর তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বাৎসরিক হিসাব অনুমোদন করার সময় বছরের অর্জিত মুনাফা কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুনাফার কী পরিমাণ অংশ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারের মালিকদের কাছে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ লভ্যাংশ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত না থাকায় লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সরকারের দেওয়া শর্ত পূরণের জন্য লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। লভ্যাংশ না দিয়ে সব মুনাফা পুনর্বাসন তহবিলে প্রদানের শর্তে সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি প্রদান করে। এ জন্য বোর্ড লভ্যাংশ প্রদান করতে পারেনি। ২০০৬ সাল থেকে সরকারের এই শর্ত রহিত হওয়ার পর বোর্ড ২০০৬ সালে ১০০ শতাংশ, ২০০৭ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। মুনাফার পরিমাণ কম হলে গ্রামীণ ব্যাংক যাতে একই হারে মুনাফা বণ্টন করে যেতে পারে, সে জন্য ‘মুনাফা সমতা আনয়ন তহবিল’ গঠন করেছে। ২০১০ পর্যন্ত এই তহবিলে ৬৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জমা আছে।

গ্রামীণ ব্যাংকে যেহেতু অধ্যাপক ইউনূস বা তাঁর সহকর্মীদের কোনো শেয়ার নেই, তাই তাঁরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কোনো লভ্যাংশ নিতে পারেন না। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে তাঁরা শুধু বেতন-ভাতা পান। শুধু সেটুকুই তাঁরা নিয়েছেন।

প্রশ্ন: ‘গ্রামীণ’ নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক কারা?

উত্তর: ‘গ্রামীণ’ নামের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কোম্পানি আইনের সেকশন ২৮ দ্বারা গঠিত। এই আইনে গঠিত প্রতিষ্ঠানের কোনো মালিক থাকেন না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে মুনাফা নিতে পারেন না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আইনের ভাষায় ‘নন স্টক কোম্পানী লিমিটেড বাই গ্যারান্টি’ বলা হয়। এতে পরিচালকেরা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেন কিন্তু কোনো মুনাফা গ্রহণ করতে পারেন না।

কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ‘ফর প্রফিট’ কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত। উল্লিখিত কোনো না কোনো নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান এদের মালিক। ফলে এগুলোর মুনাফা নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই যায়। কোনো ব্যক্তির কাছে যেতে পারে না।

প্রশ্ন: যে ৫৪টি ‘গ্রামীণ’ নামধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা ও সুনাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো কি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান নয়?

উত্তর: ‘গ্রামীণ’ নামধারী ৫৪টি প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সূত্র থেকে এই মূলধন এসেছে। অনেকের মূলধন এসেছে দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। কারও এসেছে ঋণ থেকে। কারও এসেছে অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ থেকে। কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কোনো বিনিয়োগ নেয়নি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অর্থের সূত্র কী, সেই টাকা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিরীক্ষাকৃত আর্থিক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে। সেসব প্রতিবেদন প্রতিবছর সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

‘গ্রামীণ’ নামের সুনাম এসেছে অধ্যাপক ইউনূসের উদ্ভাবনীমূলক সৃষ্টির সাফল্য থেকে। গ্রামীণ ব্যাংকের জন্মের আগে থেকেই তিনি ‘গ্রামীণ’ নামটি তাঁর কাজে ব্যবহার করে এসেছেন। জোবরা গ্রামে তিনি কৃষি ব্যাংকের যে শাখা পরিচালনা করেছিলেন, সেটার নাম দিয়েছিলেন ‘পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা’। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে যে প্রকল্প পরিচালনা করেছিলেন, তার নাম দিয়েছিলেন ‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প’। এই গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর নেওয়া সব উদ্যোগের সঙ্গে ‘গ্রামীণ’ নামটি জুড়ে দিয়ে এসেছেন। দেশেও করেছেন, বিদেশেও করেছেন। পৃথিবীর বহু দেশে এই বাংলা শব্দটি অনেকের কাছে খুবই পরিচিত শব্দ এবং এটা অত্যন্ত সম্মানিত শব্দ।

প্রশ্ন: অধ্যাপক ইউনূসসৃষ্ট ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকারী কে? তাঁর অবর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক হবেন কে?

উত্তর: কোনো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের কোনো মালিকানা নেই। তিনি কোথাও একটি শেয়ারেরও মালিক নন। কাজেই তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে চিন্তিত হবারও কিছু নেই। অধ্যাপক ইউনূসসৃষ্ট ৫৪টির অধিকাংশ ‘নট ফর প্রফিট’ প্রতিষ্ঠান, যা কোম্পানি আইনের সেকশন ২৮-এর আওতায় নিবন্ধিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কোনো মালিক থাকেন না। সে জন্য মালিকানার কোনো উত্তরাধিকারের প্রশ্ন আসে না। পরিচালনা পর্ষদ বা সাধারণ পর্ষদে কোনো পদ শূন্য হলে কোম্পানির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে তা পূরণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান অব্যাহত গতিতে চলতে থাকে।

‘গ্রামীণ’ নামের যে কয়েকটি ‘ফর প্রফিট’ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেই কয়েকটির মালিক উল্লিখিত কোনো না কোনো ‘নন-প্রফিট’ প্রতিষ্ঠানের। যেহেতু এই ‘ফর প্রফিট’ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদের অস্তিত্ব নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকছে, সেহেতু কখনো মালিকানায় শূন্যতা সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।

যেহেতু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই প্রচলিত আইনের আওতায় সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের ওপর নজরদারি করার জন্য উপযুক্ত আইনি কর্তৃপক্ষ আছে। এমনকি এগুলোর অবসায়ন করতে হলেও হাইকোর্টের মাধ্যমে করতে হবে।

প্রশ্ন: গ্রামীণফোনের মালিক কে?

উত্তর: ‘গ্রামীণফোনের’ বড় অংশের মালিক হলো ‘টেলিনর’ নামক নরওয়ের একটি টেলিফোন প্রতিষ্ঠান। আবার টেলিনরের বড় অংশের মালিক হলো নরওয়ে সরকার। গ্রামীণফোনের দ্বিতীয় মালিক হলো গ্রামীণ টেলিকম। এটা কোম্পানি আইনে নিবন্ধনকৃত একটি মালিকবিহীন নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান (যার ব্যাখ্যা অন্য একটি উত্তরে দেওয়া হয়েছে)। তৃতীয় মালিক হলো বাংলাদেশের অসংখ্য শেয়ারহোল্ডার, যাঁরা শেয়ারবাজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাঁদের শেয়ার বেচাকেনা করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে গ্রামীণফোনের কোনো শেয়ারের মালিক ছিলেন না এবং এখনো নেই।

প্রশ্ন: গ্রামীণফোনের শেয়ার কেনার জন্য গ্রামীণ টেলিকম এত টাকা কীভাবে সংগ্রহ করেছে?

উত্তর: গ্রামীণফোনে মূলধনে বিনিয়োগের জন্য গ্রামীণ টেলিকম তিনভাবে পুঁজি সংগ্রহ করেছে। অধ্যাপক ইউনূসের ব্যক্তিগত অনুরোধে প্রখ্যাত মার্কিন ধনী ব্যক্তি জর্জ সারোস তাঁর ফাউন্ডেশন থেকে গ্রামীণ টেলিকমকে ১১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেন। সেই অর্থ গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করে। সেই অর্থ গ্রামীণ টেলিকম যথাসময়ে সারোস ফাউন্ডেশনকে পরিশোধ করে দিয়েছে। গ্রামীণ টেলিকম দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে গ্রামীণফোনের মূলধনে বিনিয়োগ করেছে। এ টাকাও যথাসময়ে পরিশোধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ কল্যাণ থেকেও ঋণ নিয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণ কোম্পানি আইনে সৃষ্ট মালিকবিহীন একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রশ্ন: গ্রামীণফোনের লাভের টাকা গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা পান না কেন?

উত্তর: প্রথম পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণফোনের কোনো শেয়ারের মালিক ছিল না। কয়েক বছর আগে গ্রামীণফোন যখন তার শেয়ার বাজারে ছাড়ে, তখন গ্রামীণফোনের কিছু শেয়ার গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের কল্যাণে গঠিত ‘গ্রামীণ ব্যাংক বরোয়ারস ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট’-এর জন্য কেনা হয়। সেই শেয়ারের মুনাফা ‘গ্রামীণ ব্যাংক বরোয়ারস ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট নিয়মিত পেয়েছে।

প্রশ্ন: ‘গ্রামীণ’ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে আদৌ কোনো কর, মূূল্য সংযোজন কর (মূসক) দেয়?

উত্তর: অধ্যাপক ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত সব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর, মূসক দেয়। বার্ষিক নিরীক্ষা হয়। অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো এগুলো সব ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ বোর্ড থেকে অনুমোদন প্রয়োজন, সেসব প্রতিষ্ঠান সেই অনুমোদন নিয়েছে। যেসব বিবরণী (রিটার্ন) রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজকে (আরজেএসসি) দেওয়ার কথা, সেগুলো নিয়মিত দিয়ে আসছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এনজিও ব্যুরো থেকে অনুমোদন দরকার, তারা সেখান থেকে অনুমোদন নিয়েছে। সরকারের নজরদারির বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করে না।

প্রশ্ন: অধ্যাপক ইউনূসের নাকি এত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিদেশে নাকি তাঁর খুব প্রভাব-প্রতিপত্তি, কিন্তু তাঁর কিছুই দেশের কাজে লাগাতে দেখি না। আমেরিকার বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে, পদ্মা সেতুর ব্যাপারে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ‘আকামা’ সমস্যার সমাধানে, তাঁকে তো কোনো দিন তাঁর প্রভাব খাটাতে দেখি না। দেশের কোনো উপকার করতে তিনি এত নারাজ কেন?

উত্তর: একজন নাগরিকের প্রভাব থাকলে তা খাটানোর কাজে সরকারের একটা ভূমিকা দরকার হয়। সরকারের রায় থেকে সেই নাগরিককে এই দায়িত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও দিতে হয়। দুই দিকের সরকারকে বুঝতে হবে যে সেই নাগরিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি সে কথা অন্য দিকের সরকারকে জানাতে পারবেন এবং তাঁরা সেটা বিবেচনা করবেন; নাগরিক শুধু তাঁর প্রভাব খাটিয়ে আলোচনাকে সহজ করে দিচ্ছেন মাত্র। তখন যেকোনো আলোচনা অগ্রসর হতে পারে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান পরিস্থিতি সে রকম নয়। বর্তমান যুগের শক্তিশালী মিডিয়ার কারণে সব দেশের সরকার জেনে গেছে, অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনেকটা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি। তা ছাড়া সেটা তাঁরা চাক্ষুষ করেনও। অধ্যাপক ইউনূসের সম্মানে যখন কোনো একটি দেশে একটি অনুষ্ঠান হয়, সেখানে সে দেশের মন্ত্রীরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা আমন্ত্রিত হন; অনেকে আগ্রহসহকারে উপস্থিত হন। কিন্তু শতভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অনুপস্থিত থাকেন। সবাই জানতে চায়, যে দেশের একজন বিশিষ্ট মানুষের সম্মানে অনুষ্ঠান, সে দেশের রাষ্ট্রদূতের তো সেখানে গৌরবের সঙ্গে উপস্থিত থাকার কথা, অথচ তিনি অনুপস্থিত কেন? অবশ্য কারণ বুঝতে কারও কষ্ট হয় না। তাঁদের ধারণাটি আরও বদ্ধমূল হয় যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

অধ্যাপক ইউনূস একটা সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিন বছর আগে। তার নাম গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস। প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের কোম্পানি সরাসরি এর মাধ্যমে জনশক্তি আমদানির জন্য তাঁর কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কয়েকটি কোম্পানি অগ্রিম চাহিদাও দিয়ে রেখেছিল। সেসব দেশের সরকারও এই উদ্যোগে উৎসাহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত আমাদের সরকারের কাছ থেকে এ কাজ শুরু করার অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই এই কোম্পানির কার্যক্রম কোনো দিন আর শুরু করা যায়নি। অটোমেকানিক, অটো-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য জাপানি একটা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ খোলার ব্যবস্থাও হয়ে গেছে। সে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাও সহজ হবে কি না এখনো বলা মুশকিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য জার্মানির একটা বিখ্যাত কোম্পানি ২০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করার সব প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।

তিন বছর আগে সৌদি রাজপরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রিন্স তালাল বিন আবদুল আজিজ আল সাউদ বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠি লেখেন যে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আরব গালফ ফান্ডের’ বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী সভাটি বাংলাদেশে করতে চান। তাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সংবাদমাধ্যম উপস্থিত থাকবে। তিনি নিজে এবং আরব দেশগুলোর অন্যান্য গণ্যমান্য বক্তি এখানে উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার জন্য তিনি আমন্ত্রণ করেন এবং অনুষ্ঠানের সামগ্রিক অনুষ্ঠানসূচি বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দেন। প্রিন্স তালাল অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু। আরব গলফ ফান্ডের মাধ্যমে তিনি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অনুকরণে ‘মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক’ স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ সরকার থেকে জানানো হয় যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সানন্দে তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, তাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি বক্তৃতা করতে পারবেন না। এই জবাবে প্রিন্স তালাল অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে জানান যে অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান জানানোর জন্যই সমগ্র অনুষ্ঠানটি তিনি বাংলাদেশে করতে চেয়েছিলেন। যদি অধ্যাপক ইউনূস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে না পারেন, তাহলে তিনি বাংলাদেশে এই অনুষ্ঠান করবেন না। তিনি এই অনুষ্ঠান কুয়ালালামপুরে নিয়ে যান। ১ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে প্রিন্স তালাল এবং আরব বিশ্বের অন্য গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সব আতিথেয়তা দেখিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন অতিরিক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নাজিব অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মানিত করেন। প্রধানমন্ত্রী নাজিবের পরিবারের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের অনেক আগের সম্পর্ক। ১৯৯৪ সালে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে ‘তুন আবদুর রাজ্জাক পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাবার স্মৃতিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস নিশ্চয়ই আনন্দিত হবেন, যদি তাঁর কোনো ভূমিকা দেশের কোনো সমস্যা সমাধানে কাজে লাগতে পারে। কিন্তু তাঁকে কাজে লাগাতে হবে তো।

প্রশ্ন: বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের ওপর কি নিপীড়ন করা হচ্ছে না?

উত্তর: গ্রামীণ ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের নীতি নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ক্রমান্বয়ে এর পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেহেতু সদস্যরা নিজেরাই সঞ্চয়ের ব্যাপারে অভ্যস্ত ও আগ্রহী হয়ে গেছেন, সে কারণে পরে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের নিয়ম রহিত করা হয়। সেই সময় থেকে সব সঞ্চয় সম্পূর্ণরূপে ঐচ্ছিক। এখন গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো বাধ্যতামূলক সঞ্চয় নেই। গ্রামীণ ব্যাংক গোড়া থেকেই সঞ্চয়ের ওপর ৮.৫% থেকে ১২% চক্রবৃদ্ধি হারে পর্যন্ত সুদ দেয়। (মাইক্রো ফাইন্যান্স রেগুলেটরি অথরিটি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর জন্য সঞ্চয়ের সর্বনিম্ন সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৬%)। সদস্যরা এর ফলে উৎসাহী হয়ে বেশি টাকা সঞ্চয়ে জমা করেন। যেমন, পেনশন ফান্ডে জমা করার ব্যাপারে তাঁদের খুবই উৎসাহ। কারণ, এ টাকায় ১২% সুদ পাওয়া যায়। তাঁদের জমা টাকা তাড়াতাড়ি বড় হয়। অনেকে এককালীন দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে টাকা জমা রাখেন। সঞ্চয়ের টাকা যখন ইচ্ছা তখন তোলা যায়, জমা দেওয়ার পরদিনই তোলা যায়। বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক সদস্যদের মোট সঞ্চয়ের ব্যালান্স সাত হাজার কোটি টাকা। যেখানে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের কোনো ব্যাপার নেই, সেখানে নিপীড়নের মাধ্যমে সঞ্চয় নেওয়ার কথা ওঠে কী করে?

প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস কি গ্রামীণ ব্যাংককে নানা কৌশলে আয়কর থেকে মুক্ত রাখেননি; এবং সে জন্য ধিক্কৃত হননি?

উত্তর: সরকারের সহযোগিতায় অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের গরিব মহিলাদের স্বার্থে ব্যাংককে ২০১০ সাল পর্যন্ত আয়কর থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছিলেন। অথচ ২০১০-১১ সালে তাঁর এই কাজের জন্য অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। সরকার ২০১০-এর পরে আর ট্যাক্স অবকাশের সুবিধা রাখতে সম্মত হয়নি। ২০১১ সালের মে মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের আবেদন অগ্রাহ্য করে সরকার ১০ কোটি টাকা অগ্রিম আয়কর আদায় করে। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার পর সরকার নতুন করে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংককে কর অবকাশ দিয়েছে। অথচ এ নিয়ে সমালোচনার আর কোনো ঝড় দেখা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন: অধ্যাপক ইউনূসের অবর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক কি আগের চেয়েও ভালোভাবে চলছে না? তাঁর অনুপস্থিতিতে গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ও ঋণগ্রহীতাদের ওপর নির্যাতনও কি কমে যায়নি?

উত্তর: অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনায় যে উদ্ভাবনীমূলক বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন, তার ফলে ব্যাংকের দৈনন্দিন স্বল্পমেয়াদি পরিচালনায় কোনো ধস নামেনি। ধস নামার কথাও নয়। কারণ এখনো গ্রামীণ ব্যাকের সুদের হার, কর্মপদ্ধতি, ঋণ প্রদান, ঋণ আদায়সংক্রান্ত অধ্যাপক ইউনূস-প্রবর্তিত নিয়মাবলি—সবই হুবহু একইভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করা হচ্ছে। যাঁরা বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা করছেন, তাঁরা সবাই তাঁর হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁর সময়ে সুদের হার যা ছিল, বর্তমানেও তাই রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের ওপর নির্যাতন আগেও ছিল না; এখনো নেই। তাই কমার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল লোকের হাতে পড়ে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কিংবা ভুল নীতির জন্য পুরো ব্যবস্থাপনা ধসে পড়তে পারে।

প্রশ্ন: কোনো রকম আইনি ভিত্তি ছাড়া অধ্যাপক ইউনূস কি সামাজিক ব্যবসার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন না?

উত্তর: সামাজিক ব্যবসা ও প্রচলিত ব্যবসার মধ্যে আইনগত কোনো পার্থক্য নেই। ব্যবহারিক পার্থক্য একটাই, তা হলো, প্রচলিত ব্যবসায় মালিক ব্যবসার মুনাফা নিজে গ্রহণ করে, আর সামাজিক ব্যবসায় মালিক ব্যবসার মুনাফা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেন না। মুনাফার টাকা কোম্পানির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ব্যবহূত হয়। এটি মালিকের সিদ্ধান্তের বিষয়। এখানে আইনের কোনো ভূমিকা নেই। সামাজিক ব্যবসার জন্য নতুন করে আইন করার কিছু নেই। প্রচলিত ব্যবসাসংক্রান্ত আইনই এর জন্য যথেষ্ট। সামাজিক ব্যবসার জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সরকার দিক, এটাও অধ্যাপক ইউনূস চান না।

সামাজিক ব্যবসা অধ্যাপক ইউনূসের একটি আইডিয়া। যে কেউ নিজের উদ্যোগে সামাজিক ব্যবসা করতে পারেন। বাংলাদেশে ও বিদেশে অনেকেই সামাজিক ব্যবসা শুরু করেছেন। যেখানে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়াটাকে সম্পূর্ণ পরিহার করা হয়েছে, সেখানে ধোঁকাবাজির প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কোথায়? বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের প্রচলিত আইন মেনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশ্ন: ৬০ বছর পার করে অতিরিক্ত ১১ বছর অবৈধভাবে চাকরি করে মোট কত টাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নিয়ে গেছেন? তার হিসাব জনসমক্ষে তিনি প্রকাশ করছেন না কেন?

উত্তর: ৬০ বছর উত্তীর্ণ হওয়ার পর জুন ২৯, ২০০০ তারিখ থেকে মে ১২, ২০১১ তারিখ পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ১১ বছরে তিনি মোট ৫২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বেতন-ভাতা ইত্যাদি বাবদ পেয়েছেন। এ টাকা থেকে বাড়িভাড়া এবং মূল বেতনের ৭.৫% হিসেবে মেইনটেন্যান্স খরচ কেটে রাখার পর, তিনি নগদ (টেক হোম পে) টাকা পেয়েছেন ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা। তাতে তাঁর মাসিক গড় নগদ বেতনের (টেক হোম পে) পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড চাইলেও অধ্যাপক ইউনূস নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ আঁকড়ে রাখতে চান কেন? তাঁর যে বয়স হয়ে গেছে, এটা কি তিনি বোঝেন না?

উত্তর: অধ্যাপক ইউনূস বহুবার চেষ্টা করেছেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থেকে অবসর নেওয়ার জন্য। কিন্তু বোর্ডের বাধার মুখে তিনি তাতে সফল হননি। সর্বশেষ তিনি কয়েক বছর আগে বর্তমান অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে একটা ব্যক্তিগত চিঠি লেখেন। তাতে তিনি তাঁর পদ থেকে সরে আসার ব্যাপারে তাঁর সহযোগিতা চান। মাননীয় অর্থমন্ত্রী তাতে মৌখিক সম্মতিও দেন। কিন্তু প্রস্তাবিত পথে তিনি অগ্রসর হননি। (চিঠিটি হুবহু কোনো কোনো পত্রিকায় ছাপানোও হয়েছিল)।

অধ্যাপক ইউনূসের আপত্তিটা তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে নয়। তাঁর আপত্তিটা ছিল, যে কারণে তাঁকে সরে যাওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল সেটা নিয়ে। তিনি আদালতকে জানাতে চেয়েছিলেন যে তাঁর ৬০ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে তাঁর পদে বহাল থাকার ব্যাপারে বোর্ডের যে রকম আগ্রহ ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকেরও তাতে তেমন সম্মতি ছিল। এগুলো নথিপত্রেই আছে। তিনি আদালতের কাছে এগুলো দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মহামান্য আদালত তাঁর আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি তো চলে যাওয়ার জন্য উদ্গ্রীবই ছিলেন। কাজেই তাঁর পদে বহাল থাকার জন্য লড়াই করার প্রশ্নই ওঠে না। এটা ছিল প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার একটা উদ্যোগ, যাতে এটা নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি না হয়।

তারিখ: ৩০-০৮-২০১২
সূত্র: ইউনূস সেন্টার / প্রথম আলো
তারিখ: ৩১-০৮-২০১২
সূত্র: ইউনূস সেন্টার / প্রথম আলো

Comments

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্বেগ অমূলক

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের উদ্বেগকে অমূলক আখ্যায়িত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তাঁর মতে, যেসব ধারণা ও তথ্যের ভিত্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
আজ রোববার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দীপু মনি এ মন্তব্য করেন। সিঙ্গাপুরের সফররত পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলফিকলি মাসাগোসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে দীপু মনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশিদের উদ্বেগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে চলার কথা, সেভাবেই চলছে গ্রামীণ ব্যাংক। সরকার আইন ভেঙে কিছু করছে না। গ্রামীণ ব্যাংকের সুবিধাভোগী যাঁদের অধিকাংশ নারী, তাঁদের স্বার্থ যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট। গ্রামীণ ব্যাংক খারাপ তো দূরে থাক, আগে যেভাবে চলেছে তার চেয়ে অনেক ভালো চলছে।
দীপু মনি বলেন, ‘কাজেই গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা অমূলক। কারণ, যে তথ্য ও ধারণার ভিত্তিতে এ উদ্বেগ, তা বস্তুনিষ্ঠ নয়। বিদেশি বন্ধুদের যেসব ধারণা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।’
গ্রামীণ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সরকারকে যে চিঠি দিয়েছে সেটির উত্তর দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে দীপু মনি চিঠির জবাবের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের অধ্যাদেশ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লেখেন। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্স ওই দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারকে একটি ই-মেইল দিয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের চাপ: আগামী নির্বাচনের আগে প্রধান দুই দলের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির জন্য বিদেশি কূটনীতিকেরা কাজ করছেন। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের ওপর বিদেশিদের চাপ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুসৃত পথেই নির্বাচন হবে। অতীতে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদেশিরা সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, কারণ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান সরকারের সাড়ে তিন বছরে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে পাঁচ হাজারের বেশি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই নির্বাচন নিয়ে ভেতরের বা বাইরের কোনো উদ্বেগ থাকার কথা নয়। কোনো রাজনৈতিক কারণে কিংবা দলীয় বিবেচনায় উদ্বেগ থাকলে সেটি ঠিক করতে চাপের জায়গা আছে বলে মনে করি না। হয়তো অনেক সময় বিদেশি বন্ধুরা নির্বাচন নিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তবে বর্তমান সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। কাজেই বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে বাইরের কোনো প্রক্রিয়ার যুক্ত হওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।’

তারিখ: ০২-০৯-২০১২
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-02/news/285984

গ্রামীণ ব্যাংক অন্য কোনোভাবে চালানো ঠিক হবে না

গ্রামীণ ব্যাংক যেভাবে চলছে সেভাবেই এটিকে চলতে দেওয়া উচিত। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এ মত দিয়েছেন। তাঁরা গ্রামীণ ব্যাংকের অধ্যাদেশ সংশোধনীকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষা ও দুর্জন প্রতিরোধ কেন্দ্র ওই অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক এখন যেভাবে চলছে সেভাবেই চলা উচিত। অন্য কোনোভাবে চালানো ঠিক হবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অবৈধ, অগণতান্ত্রিক উপায়ে কার স্বার্থে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছে? কার স্বার্থে কোন উদ্দেশ্যে সরকার এ ব্যাংকটিকে নিজেদের দায়িত্বে নিতে চাইছে? সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, দুর্নীতি যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে চলে গেছে, সেখানে গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো দুর্নীতির ছোঁয়া লাগেনি। তাই তিনি বিশেষায়িত এই ব্যাংকটিকে তাদের নিজেদের মতো করে চলতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান আখ্যা দিয়ে এমাজউদ্দীন বলেন, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যে জর্জরিত এ দেশকে তিনি বিশ্বের কাছে নোবেল বিজয়ীর দেশ হিসেবে পরিচিত করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকই বিশ্বের একমাত্র ব্যাংক, যেটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন দুটি প্রধান সমস্যা—একটি হলো পদ্মা সেতু, অন্যটি গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশটি রাষ্ট্রপতি সই করার আগে সংসদে এটি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক রোজিনা বেগম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি একজন নারী যিনি দেশ পরিচালনা করছেন। এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা নারীরা ব্যাংক পরিচালনা করছি, এটি নিয়ে আপনারও গর্ব হওয়া উচিত। কিন্তু আপনি আমাদের ক্ষমতা খর্ব করছেন, এতে আমরা দুঃখ পাচ্ছি।’

নিজেদের ক্ষমতা পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়ে ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালকদের একজন তাহমিনা বেগম বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে তাঁদের অভাব অনটন দূর হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে তাঁর দুই সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

ভাষাসৈনিক রফিক উল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, কবি আবদুল হাই শিকদার, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নাসিমা বেগম, সালেহা বেগম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সূত্র: প্রথম আলো

গ্রামীণ ব্যাংক দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান

সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ নামধারী কোম্পানিসমূহ ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে নানা বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এসব প্রশ্ন সম্পর্কে গতকাল মঙ্গলবার ইউনূস সেন্টার থেকে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে সমালোচকদের কিছু প্রশ্ন ও প্রকৃত তথ্য’ শীর্ষক এই ব্যাখ্যায় ২৯টি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। কিছু প্রশ্নের উত্তর সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো।

গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে সরকারের তদন্ত সম্পর্কে ব্যাখ্যায় বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান বলেই সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেছে। প্রতিবছর দুটি আন্তর্জাতিক মানের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক নিরীক্ষা করে এসেছে। কোনো নিরীক্ষা দল (অডিট টিম) কোনো অনিয়মের কথা কখনো বলেনি।

গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ড. ইউনূস সরকারি কর্মচারী, এমন ধারণা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যায় বলা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের কোনো সরকার, এমনকি আগের আওয়ামী লীগ সরকারও কোনো দিন এ রকম দাবি করেনি। গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯০ সালের পর থেকে বেসরকারি ব্যাংক হিসেবেই কাজ করে এসেছে। এর ভিত্তিতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংক তার কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে। এতে কেউ আপত্তি করেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বহিঃনিরীক্ষক (এক্সটারনাল অডিটর) বা অন্য কারও কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন আসেনি।

অধ্যাপক ইউনূসের ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলা হয়, ১৯৯০ সালে মালিকানা হ্রাস পাওয়ায় অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনপত্রের ধারাবাহিকতায় কোনো বয়সসীমা উল্লেখ না করে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনই ইউনূসের বয়স ৬০ বছর উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার এ নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ড. ইউনূস যে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করলেন, এটা কি তাঁর অপরাধ, নাকি যাঁরা তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাঁদের অপরাধ, নাকি যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতি দিয়ে এই নিয়োগকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে তাদের অপরাধ—এটা স্থির করতে হবে। এই ১১ বছরে ড. ইউনূস ৫২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বেতন-ভাতা নিয়েছেন। আর বাড়িভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কেটে রাখার পর তিনি নগদ পেয়েছেন ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর প্রভাব খাটিয়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়ে কি রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজ করেননি? সমালোচকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস সেন্টার থেকে বলা হয়, ড. ইউনূসের বিরোধিতা করার তো প্রশ্নই আসে না। অধ্যাপক ইউনূস তাঁর প্রভাব খাটিয়ে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছেন, এ গল্প যাঁরা বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা নেই। যাঁরা এই গল্প প্রচার করেন, তাঁরা এটাকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য বলেন যে তিনি সরাসরি চাপ না দিলেও তাঁর বন্ধু হিলারিকে দিয়ে চাপ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের কঠিন জগৎ দুই বন্ধুর খায়েশের ওপর নির্ভর করে না। ড. ইউনূস যত বড় মাপের লোকই হোন না কেন, তাঁর সঙ্গে পরাক্রমশালী ব্যক্তির সখ্য থাকুক না কেন, তিন বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প তাঁর আবদারের কারণে বন্ধ হয়ে যাবে না।

শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া হয় কি না? নাকি মুনাফার টাকা ড. ইউনূস ও তাঁর সঙ্গীরা হজম করে দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক বরাবর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। গ্রামীণ ব্যাংকে যেহেতু অধ্যাপক ইউনূস বা তাঁর সহকর্মীদের কোনো শেয়ার নেই, তাঁরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কোনো লভ্যাংশ নিতে পারেন না। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে তাঁরা শুধু বেতন-ভাতা পান। শুধু সেটুকুই তাঁরা নিয়েছেন।

গ্রামীণ নামধারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, গ্রামীণ নামের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কোম্পানি আইনের সেকশন ২৮ দ্বারা গঠিত। এ আইনে গঠিত কোম্পানির কোনো মালিক থাকেন না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে মুনাফা নিতে পারেন না। গ্রামীণ নামধারী ৫৪টি কোম্পানিতে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো বিনিয়োগ নেই। আর এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর দেয়, বার্ষিক নিরীক্ষা হয়।

তারিখ: ২৯-০৮-২০১২
সূত্র: প্রথম আলো

বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতি - দাতাদের দিয়ে চাপ দিচ্ছেন ড. ইউনূস

আইনি লড়াইয়ে হেরে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে বৃহত্ শক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নানা চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ৫১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এই চাপ প্রয়োগ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল, যা স্বাধীন দেশের নাগরিকদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশের এই বিশিষ্ট নাগরিকেরা গণমাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া এক বিবৃতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব বলেছেন। খবর বাসসের।
বিশিষ্ট নাগরিকেরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ-প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমান সরকার ও মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী বয়সসীমা অতিক্রম করায় ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সিদ্ধান্তকে আইনানুগ বলে রায় দেন। এতে বিষয়টির একটি আইনি মীমাংসা হয়। অতি সম্প্রতি সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের অধ্যাদেশে তৃতীয়বারের মতো যে সংশোধনী এনেছে, তা নিয়ে যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন।

ওই নাগরিকেরা আরও বলেন, ‘আমরা আরও লক্ষ করছি যে, ড. ইউনূস এক বিবৃতিতে নতুন সরকার এসে এই অধ্যাদেশ পরিবর্তন করে গ্রামীণ ব্যাংককে পুর্বব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করবে বলে দেশবাসী বিশেষ করে তরুণসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমরা জানি, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময় যখন দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, সে সময় ড. ইউনূস একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার বহাল থাকা অবস্থায় তিনি নতুন সরকার বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।’

অতীতের মতো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য বিবৃতিতে আহ্বান জানান তাঁরা ।

বিবৃতিদাতা বিশিষ্ট নাগরিকেরা হলেন, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, গবেষক শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত, অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লেখিকা সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, মুহাম্মদ সামাদ, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।

তারিখ: ২৫-০৮-২০১২
সূত্র: প্রথম আলো

কারা এই বিশিষ্ট (!!!) নাগরিক?

বাংলাদেশের জন্য তাদের অবদান কি? খুব জানতে ইচ্ছা করে...

কোথায় সেই "বিশিষ্ট ৫১ আওয়ামী গৃহপালিত ভৃত্য"?

সোনালি ব্যাংকের লুটের তিন হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা নিয়ে কোনো বিবৃতি তো দিলেন না!
http://www.amibangladeshi.org/news-archive/08-29-2012/1322.html

আজ একটা কালো দিন

সরকার আজ বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১২ গেজেট আকারে প্রকাশ করার পর এ দিনটিকে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জাতির জীবনে এটা একটা কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আমাদের সরকার গরিব মহিলাদের মালিকানায় এবং তাদেরই তত্ত্বাবধানে সুপরিচালিত বিশ্বময় সুপরিচিত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তার মৌলিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাকে অন্য রকম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করল। এ দুঃখ ধারণ করার ক্ষমতা আমার নেই। কী করেছিল গ্রামীণ ব্যাংক, যার জন্য তাকে তার মৌলিকত্ব হারাতে হলো?’

নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সংশোধনীর ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের গৌরবময় ইতিহাসের সমাপ্তি পর্বের সূচনা হলো। এখন থেকে গরিব মহিলাদের মালিকানার ব্যাংকটি সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে পরিচালিত হবে। ইতিহাসে নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না যে এ রকম পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল হয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘৮০ লাখ গরিব মহিলা নিজেদের অর্থে শেয়ার কিনে এটার মালিকানায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ৯৭ শতাংশ মালিকানা তাদের। সরকারের মালিকানা ৩ শতাংশ। নিজেদের পয়সায় পরিচালিত এই ব্যাংক একটা বৃহত্ সমবায়ের মতো। এটা নিজের অর্থে চলে। সরকার বা বিদেশ থেকে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এটা কোনো ঋণ নেয় না, অনুদান নেয় না। তবু কেন বিশ্বব্যাপী বহুলভাবে অনুকরণকৃত এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই প্রতিষ্ঠানকে সরকারের অন্য দশটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলো? যে বোর্ডের কাছে সমস্ত ক্ষমতা আগের মতোই রয়ে গেছে বলা হচ্ছে, সে বোর্ড কিছু জানার আগেই সরকার থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে বোর্ড সদস্যরা যা চাচ্ছেন তা হতে দেওয়া হবে না। কেন হতে দেওয়া হবে না? কারণ ক্ষমতা সরকারের হাতে। সরকার বলছে ‘সিলেকশন কমিটি’ এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা কি বোর্ডের কথা, নাকি সরকারের কথা? এবং তাতে ইউনূস থাকবে না। কারণ কী? কারণ সরকার এটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এটা কি বোর্ডের সিদ্ধান্ত? ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন আকর্ষণীয় অঙ্কের হবে, তা না হলে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওয়া যাবে না। এটা কি বোর্ডের সিদ্ধান্ত? অথচ সরকার বলেই যাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকার আইন সংশোধনের আগেই এত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, আইন সংশোধনের পরে কী হয়, এবার আমাদের দেখার পালা।’

বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আইনে সংশোধনী এনে সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নিয়োগে ভূমিকা রেখে প্রকারান্তরে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার দায়দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিল। দুনিয়ার কোথাও নজির নাই যে বহুজনের ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নিয়োগের ক্ষমতা ৩ শতাংশ মালিকানার অংশীদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধনের ব্যাপারে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর আমি দেশের মানুষের প্রতি আবেদন জানিয়েছিলাম সরকারকে বোঝানোর জন্য, যাতে সরকার এই সংশোধনের পথে অগ্রসর না হয়। দেশের বহু মানুষ বিবৃতির মাধ্যমে, সভা ও মানববন্ধনের মাধ্যমে, গণমাধ্যমে আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে, দলমত নির্বিশেষে দেশের বহু সম্মানিত মহিলা নেত্রী এ ব্যাপারে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। গরিব মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি তাঁদের সকলকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুধু দুঃখ রইল যে সরকার আমাদের কারও কথা শুনল না।’

ড. মুহম্মদ ইউনূস বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি আমার দুঃখ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। গ্রামীণ ব্যাংকের অসংখ্য কর্মী সারা জীবন পরিশ্রম করে একটি স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যাংকটিকে দুনিয়ার অনন্য এক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। আজ এর সমাপ্তি হতে দেখে তারাও তাদের দুঃখ রাখার জায়গা পাচ্ছে না। যে গরিব মালিকেরা তাদের নগদ পয়সা দিয়ে এটার শেয়ার কিনে এটাকে “আমাদের ব্যাংক” হিসেবে জানতে শিখেছিল, গৌরব করতে শিখেছিল, তারা এখন জানবে যে এটা এখনো তাদের ব্যাংক বটে তবে এর ব্যাপারে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন তাদের হাতে নেই। বাড়ি আমার, আমি বাড়িতে থাকি, কিন্তু বাড়ির কাজকর্ম আমার কথায় চলে না।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি আশাবাদী মানুষ। আমি হতাশ হতে চাই না। নিজের মনে আশার ক্ষীণ আলো জাগিয়ে রাখতে চাই। আমি আগের মতো আবারও দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি তাঁরা যেন এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। আমি দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন একদিন গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকদের এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তাদের ফিরিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। গরিব মালিকদের পরিবারের তরুণেরাও যেন এই প্রতিজ্ঞা করে যে তাদের মায়েদের সম্পদ তারা তাদের মায়েদেরকে ফেরত এনে দেবে। তাদের ব্যাংক তাদের কাছে যেন আবার পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে আসে। আশা করি ভবিষ্যতে একদিন দেশে এমন সরকার আসবে, যাদের প্রথম কাজ হবে একটি জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গরিব মহিলাদের এই ব্যাংকটিকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে ব্যাংকের গৌরবময় অগ্রযাত্রাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে দেবে। সেদিন দেশের সকল মানুষ স্বস্তি পাবে, গরিব মহিলাদের মঙ্গলকামী পৃথিবীর সকল মানুষ স্বস্তি পাবে।’

সবশেষে ইউনূস বলেন, ‘আজ দুঃখের দিনে সে রকম একটি সুখের দিনের কথা চিন্তা করা ছাড়া মনকে সান্ত্বনা দেবার আর কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।’

তারিখ: ২৩-০৮-২০১২
সূত্র: প্রথম আলো

শুধু ইউনূসের নয়, সব প্রবাসী-আয়ই করমুক্ত

গ্রামীণ ব্যাংক উল্টো এনবিআরের কাছে পাবে ১০ কোটি টাকা

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ থেকে যে অর্থ আয় করেছেন, তার ওপর কোনো কর দিতে হয়নি। প্রবাসী-আয়ের ওপর করমুক্ত সুবিধা থাকায় তাঁর এ ধরনের আয়ে কর আরোপ করার সুযোগ ছিল না জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। নোবেল বিজয়ের পর যে অর্থ ড. ইউনূস পেয়েছিলেন, তাও এনবিআরের বিশেষ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে করমুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সব আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দিয়েছে এনবিআর। এ কারণে অগ্রিম কর হিসেবে পাওয়া ১০ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে নবিআরকে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী ৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত করদাতা হিসেবে করের আওতায় রাখা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রবাসী-আয়কে করমুক্ত ঘোষণা করে ২০০৪ সালের ১৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৪৪ নং ধারার চার নং উপধারার ক্ষমতাবলে সরকার আবাসিক/অনাবাসিক মর্যাদা নির্বিশেষে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বাংলাদেশের বাহিরে উদ্ভূত প্রচলিত আইনের অধীনে আনীত আয়কে উক্ত অধ্যাদেশের অধীনে প্রদেয় আয়কর হতে অব্যাহতি প্রদান করিল।’

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ড. ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কী পরিমাণ কর অব্যাহতি নিয়েছেন, সেই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে এনবিআর কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রবাসী-আয় করমুক্ত রাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি বিদেশ থেকে কোনো অর্থ আয় করে দেশে আনেন, তাহলে তা করমুক্ত থাকবে। আর একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিদেশ থেকে কর অব্যাহতি নিয়ে অর্থ আনতে আইনগত কোনো বাধা নেই। ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস তাঁর পুরস্কার হিসেবে পাওয়া অর্থ দেশে আনার সময় তা করমুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সে সময় এই বিষয়ে এনবিআরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ২০০৪ সালের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের সূত্রের বরাত দিয়ে নোবেল পুরস্কারের অর্থ করমুক্ত রাখার বিশেষ এসআরও জারি করে এনবিআর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এনবিআরের কাছে করদাতারা সমান মর্যাদা পান। এখানে ব্যক্তির পরিচয় মুখ্য বিষয় নয়। যেকোনো ব্যক্তি বিদেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে অর্থ আনলে তা করমুক্ত সুবিধা থাকবে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসীদের আয় দেশে পাঠালে তা করমুক্ত রাখা আছে। বৈধ উপায়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোকে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেননা, যেকোনো প্রবাসী-আয় অর্থনীতির আয়, দেশের রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করে। তবে প্রবাসী-আয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে।

গ্রামীণ ব্যাংকের আয় করমুক্ত: ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। গত ২১ জুন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শর্ত হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংককে প্রতিবছর নিরীক্ষা হিসাব বিবরণীসহ আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি আয়করমুক্ত থাকার মেয়াদ ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর আগেও গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর আয়কর অব্যাহতি পেত। কর অঞ্চল-৩ এই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিত। কিন্তু সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩০ জুন সেই আয়কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু এরপর সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের আয় করমুক্ত থাকবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। প্রায় এক বছর পর গ্রামীণ ব্যাংক আয়করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না থাকায় ২০১১-১২ করবছরে কর হিসাবে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক। এখন এই অগ্রিম কর গ্রামীণ ব্যাংককে ফেরত দিতে হবে বলে এনবিআরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

সূত্র: প্রথম আলো

অতিরিক্ত সময়ে ইউনূসের নেয়া আর্থিক সুবিধা তদন্তের নির্দেশ

ড. ইউনূসের বয়স ৬০ বছর হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে কী পরিমাণ বেতন ভাতা নিয়েছেন এবং তা বৈধ কিনাÑ তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রায় যে উপার্জন করেছেন তার পরিমাণ কতো, এটা তিনি নিতে পারেন কিনা এবং এ সময় তিনি কোনো কর সুবিধা নিয়েছেন কিনা তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ তরান্বিত করতে গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১২ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব।

মোশাররাফ ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী এমডি পদে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ বয়স ৬০ বছর। কিন্তু ড. মুহম্মদ ইউনূস ৬০ বছরের পরও এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের সময় কী পরিমাণ অর্থ বেতন ভাতা হিসেবে নিয়েছেন এবং তা বৈধ কিনা মন্ত্রিসভা তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বিষয়ে তদন্ত করে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করবে।

ড. ইউনূস এমডি থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্র্রায় যে আয় (ওয়েজ আর্নার) করেছেন সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা জানতে চেয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, এ অর্থের পরিমাণ, বৈধতা ও এতে কর অব্যাহতি বা সুবিধা নিয়ে থাকলে তাও জানতে চেয়েছে মন্ত্রিসভা।

জাতীয় রাজস্ব রোর্ড (এনবিআর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় এ বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে জানাবে বলেও জানান তিনি।

কতোদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করতে হবেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়নি তবে শিগগিরই এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসলেও ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তার এমডি

পদে থাকা নিয়ে প্র্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বছর মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়, তখন তার বয়স প্রায় ৭১ বছর।

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টাকে ‘শান্তি স্থাপন’ বিবেচনা করে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে।

২০১০ এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেয়া বিদেশী অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক ও সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে নানা ‘অসঙ্গতির’ তথ্য উঠে আসে ওই কমিটির প্রতিবেদনে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার চাপের পরও সরকার তাকে গ্রামীণ ব্যাংকে না ফেরানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ব্যাংকের জন্য একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাবও চলতি বছরের শুরুতে খারিজ করে দেয় সরকার।

বর্তমানে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণের ১৪ মাস পর গত ১৬ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গ্রামীণ ব্যাংকের ‘ভবিষ্যৎ নির্ধারণে’ একটি কমিশন গঠন করে।

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও বাধাগুলো খুঁজে বের করা, এই প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ ব্যাংকের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আইনি কাঠামো এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকা- পর্যালোচনা করা, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং কীভাবে এই ব্যাংকে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অধীনে নেয়া যায় সে বিষয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব দেয়া হয় এই কমিশনকে।

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অধ্যাদেশ সংশোধন : গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন প্রসঙ্গে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৪ ধারার দুটি উপধারার তিনটি বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকটিতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জটিলতা দূর করতেই এ সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানান সচিব। এর আগেও এ অধ্যাদেশে দুদফা সংশোধনী আনা হয়েছে।

মোশাররাফ ভূইঞা বলেন, সংশোধনী অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ডের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করবেন। এ প্যানেল থেকে একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। এর আগে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ড একটি সিলেকশন কমিটি গঠন করার বিধান ছিল। সংশোধনীতে ওই বিধানটি বাতিল করা হয়েছে।

সচিব আরো জানান, আগের আইনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে ছিল ‘রুরাল ইকনোমি’ এবং ‘গ্রামীণ ব্যাংকিং বিজনেস’ বিষয়ে অভিজ্ঞতা। সংশোধিত আইনে এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দূর করতে ‘মাইক্রো-ফাইন্যান্সিং’ বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও গতকালের বৈঠকে ‘বাংলাদেশ চিড়িয়াখানা আইন, ২০১২-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে’র সঙ্গে কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক থাকায় আইনটি ফেরত পাঠানো হয়।

আইনটি নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে আরো সংশোধন ও সংযোজন করে নতুন করে আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে বলে জানান সচিব ।

এছাড়াও গত ১৭ থেকে ১৮ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ‘হাইলেভেল থিমেটিক ডিবেট’-এ অংশ নেয়া প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদনও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ওই বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র: ভোরের কাগজ : ০৩/০৮/২০১২

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla