রংপুরের চতরা ইউনিয়ন বনাম কোপেনহেগেনের বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলন...

খবরটা অনেকেই হয়ত পড়ে থাকবেন, আজকের দৈনিক ইত্তেফাকে বেরিয়েছে। ঘটনাস্থল রংপুর জেলার পীরগঞ্জের হরিনপুর-কাঞ্চন বাজার রাস্তা। একরাতে এই রাস্তার ২০ হাজার গাছে কেটে ফেলেছে এলাকার প্রভাবশালী মহল এবং ঘটনার সাথে জড়িত ছিল স্থানীয় থানার অফিসার-ইন-কমান্ড (ওসি)। ঘটনাটা এ রকম; উপজেলার চতরা ইউনিয়নে জেলা পরিষদের ঐ রাস্তায় ১৯৯২ সালে দ্যা হাংগার প্রজেক্টের আওতায় রাস্তার দুইপাশে ২৫ হাজার ইউক্যাল্পিটাস গাছ রোপন করা হয়। ৫ হাজার গাছ পৃথিবীর মুখ না দেখলেও ২০ হাজার গাছ তরতর করে বেড়ে উঠে যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হোমড়া চোমড়াদের লুলুপ দৃষ্টি পরে গাছগুলোর উপর। আত্মসাতের প্রেক্ষাপট তৈরীর জন্যে গঠন করে চতারা সমবায় সমিতি এবং এ সমিতির নামে লীজ নেয়ার চেষ্টা করে ঐ রাস্তা। ব্যর্থ হয় তাদের চেষ্টা। আর যায় কোথা! অপমান সইতে না পেরে রাতের আধারে শুরু করে দেয় ধ্বংসলীলা। ১০ট্রাক বোঝাই করে পাচার করা হয় ২০ হাজার গাছ। থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি সাহেব বলেন ইউকেল্পিট্যাস গাছ পরিবেশের জন্যে হুমকি এবং এ গুলো কেটে ফেলা জায়েজ। উপজেলা নির্বাহী অফিসারও গলা মেলান এই তত্ত্বে।
জলবায়ু সর্ম্পকিত কোপেনহেগেন সন্মেলনের রেশ এখনো দূর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সবেমাত্র ফিরলেন এবং সন্মেলনকে সফল হিসাবে বর্ণনা করলেন। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অনেকেই বড় বড় বস্তা নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন উন্নত দেশগুলোর দুয়ারে। দাবী ছিল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরন। আশা কতটা পূরন হয়েছে তা সময়ই বলবে, তবে আমাদের মত দেশগুলোর অসৎ রাজনীতিবিদ্দের হাতে বিনা একাউন্টিবিলিটিতে বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দিলে এর শেষ ঠিকানা কোথা হতে পারে তা আমাদের অজনা নয়। উন্নত দেশগুলোকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারা বাতাসে কার্বন ছড়াচ্ছে এবং এর ফলে উত্তপ্ত হচ্ছে প্রকৃতি। ফলশ্রুতিতে মেরু মহাদেশে গলছে বরফ এবং আমাদের মত দেশগুলো সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বিনা প্রতিরোধে। পৃথিবীর দেশে দেশে আঘাত হানা হরেক রকম প্রাকৃতিক র্দুযোগকেও দায়ী করা হচ্ছে একই কারণে। এগুলোর পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমানেরও কোন কমতি নেই। সবই সত্য বলে মেনে নিলাম। কিন্তূ প্রকৃতিকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্যে আমারা নিজেরা কি করছি? যে নদীকে ঘিরে গড়ে উঠে আমাদের জীবন তাকে গ্রাস করছি হায়েনার মত , বন উজার করছি নির্বিচারে, পশু পাখী নিধন করছি কসাইয়ের মত। সব কিছুই হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে এবং রাজনীতির প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায়। নিজ ঘরে প্রকৃতিকে ধর্ষন করে আমরা বিদেশ যাচ্ছি ক্ষতিপূরনের টাকার আশায়। উন্নত দেশগুলো হয়ত তাদের দেনা শোধের জন্যে ব্যয় করবে কিছু সম্পদ, তার কিয়দংশ হয়ত জমা হবে আমাদের রাজনীতিবিদ্দের পকেটে, কিন্তূ প্রকৃতিকে বাসযোগ্য করে তোলার মিশন হতে আমরা যে শত শত বছর পিছিয়ে আছি তার উলংগ প্রমান রংপুরের চতরা ইউনিয়ন।
- Forums:
- Tag this post:
JUST VIEWED
Last viewed:
- তের বনাম উনচল্লিশ, আমারে বাঁশ দিলে আমিও বাঁশ দিমু
- শিক্ষাঙ্গনে প্রয়োজন আরো বেশি রাজনীতি - মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
- বিদায় হুগো রাফায়েল শ্যাভেজ, বিদায়
- 'যেদিন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন...'
- ডুংশ্রী গ্রামের কাহিনী...
- একজন ওয়াহিদুজ্জামান রুমিজের মৃত্যু...
- অভিনন্দন...
- Join Ami Bangladeshi
- Thristy Monkey
- বাংলা ইউনিকোড
- জেসমিন শামীমা নিঝুম, ২১ শতাব্দীর বাংলাদেশী নারী!!!
- জেনারেল মইন অধ্যায়...
- স্মৃতির মনি কোঠা থেকে তিয়েন আন মেন ম্যাসাকার-১
- মফিজের ১৩ হাজার ও একজন বিভাস চন্দ্রের মৃত্যু...টাকার বস্তা পাহাড় বাইয়্যা যায়!
- এই দুনিয়া মায়ার জালে বান্ধা...বান্ধা রে
Latest Blogs
- 'যেদিন পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন...'
- হ্যালো সেনাবাহিনী, সামনে আসুন।
- 'সাভার হতে নেয়া', যে কাহিনীর শুরু নেই, শেষ নেই
- তামেরলান তাসেরনায়েভ, জওহর তাসেনায়েভ ও চেচেন ইতিহাসের অলিখিত অধ্যায়
- বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন; মিথ, না বাস্তবতা?
- ডেটলাইন বাংলাদেশঃ কালো রাতের কালো বন্যার কালো ইতিহাস
- গগনে গরজে মেঘ
- টু ওম্যান এন্ড ফিউ হাফ-ম্যান...বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাধার এখনই সময়।
- নেলসন ম্যান্ডেলা, আপনি বেঁচে থাকুন। শত নয়, বরং হাজার বছর
- শনিবারের গজব ও সাইদী দর্শনের মিস-চান্স
Recent Comments
- বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রী-এমপি-আমলারা
3 days 6 hours ago - বিসমিল্লাহতেই গলদ...
1 week 2 hours ago - Walmart checks Bangladesh factories; retailer accord elusive
1 week 2 days ago - তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় ৯০% মানুষ
1 week 6 days ago - সাভারে নিহতের সংখ্যা নয়শ’ ছাড়াল
2 weeks 1 day ago - মিরপুরে কারখানায় আগুন, নিহত ৭
2 weeks 1 day ago - সাভার ট্র্যাজেডি, পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশ
2 weeks 1 day ago - যাত্রীদের পণ্য চুরি : বিমানের
2 weeks 3 days ago - Disaster not 'really serious' - Muhith
2 weeks 5 days ago - Owner of collapsed building captured in Bangladesh
3 weeks 4 days ago





ভিক্ষার ঝুলি
আমি পুরান ঢাকার (যদিও বর্তমানে পুরান ঢাকা আর নতুন ঢাকা বলতে কিছুই নেই) বুড়িগঙ্গার তীরের বাসিন্দা ছিলাম। তখন বুড়িগঙ্গার পানি এতো নোংরা ছিলনা। বর্তমানে বুড়িগঙ্গার পানি ভয়াবহভাবে polluted. এর জন্য অবশ্যই আমরা দায়ী।
দেশের নীতির্নিধারকদের এই ব্যাপারে কোন মাথাব্যাথা নেই। দেশের এইসব সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি না দিয়ে জনগনের পয়সা নষ্ট করে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে কোপেনহেগেনে সন্মেলন করতে যান ওনারা!!! বুড়িগঙ্গা আর শীতলক্ষ্যার এই শোচনীয় অবস্থার জন্য কি আমেরিকা-ইওরোপ দায়ী?
রামুতে ১১ হাজার গাছ সাবাড়
সুনীল বড়ুয়া, রামু (কক্সবাজার) | তারিখ: ০৪-০৪-২০১০
কক্সবাজারের রামু উপজেলার বন বিভাগের বাঁকখালী, রাজারকুল, পানেরছড়াসহ পাঁচটি রেঞ্জের অধীনে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনদস্যুরা। গত তিন মাসে এসব বাগান থেকে ১১ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে উপকারভোগীরা দাবি করেছেন।
রামুর সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তামাক পোড়ানোর মৌসুমকে ঘিরে সম্প্রতি গাছ কাটা আশঙ্কাজনক বেড়ে গেছে। বনদস্যুরা আগর, গামারি, আকাশিয়াগাছের ডালপালা, তামাকের চুল্লিও ইটভাটার জন্য সরবরাহ করছেন। আর বড় গাছ, গাছের কাণ্ড, আসবাবপত্রও বিভিন্ন স্থানে পাচার করছেন।
খুনিয়াপালং দারিয়ারদিঘি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সমিতির সভাপতি জহিরুল হক সিকদার জানান, এক মাসে ওই এলাকায় সৃজিত আগর বাগানের বড় বড় এক হাজার গাছ বনদস্যুরা কেটে নিয়ে যান। এসব গাছ ২০০৩-০৪ সালে লাগানো হয়েছিল।
কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেন, দারিয়ারদিঘি বনবিটের কর্মচারী (বোটম্যান) নুরুল আলম ও প্রহরী হামিদুল হক চিহ্নিত বনদস্যুদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাঁদের গাছ কাটায় সহযোগিতা করেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বোটম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘আমার কারণে গাছ কাটা গেলে আমাকে এখান থেকে সরানোর ব্যবস্থা করেন।’
ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা ফখর উদ্দিন বলেন, দারিয়ারদিঘি ও আপাররেজু বিটে কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১২ জন, আছে মাত্র সাত জন। কোনো বিটে যানবাহন নেই। তাই পায়ে হেঁটে সাড়ে তিন হাজার একর বন পাহারা দিতে হয়। বনকর্মীরা এক পাশে গেলে অন্য পাশ থেকে বনদস্যুরা গাছ কেটে নিয়ে যান। নূরুল আলম ও হামিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
বাঁকখালী রেঞ্জের অধীনে উখিয়ারঘোনা এলাকায় সৃজিত সামাজিক বনায়নের কয়েকজন উপকারভোগী জানান, গত তিন মাসে চিহ্নিত বনদস্যুরা ওই এলাকার বড় বড় ৩০০ গাছ কেটে নিয়ে গেছে। উপকারভোগী সিরাজুল হক ও রশিদ আহম্মদ অভিযোগ করেন, মার্চের মাঝামাঝি উখিয়ারঘোনা গুদামকাটা গ্রামের আজিজুল হক ও আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে এক নম্বর প্লট থেকে পাহারাদারদের সামনেই গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাঁকখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা আবদুল হক মোল্লা জানান, এ ব্যাপারে গত তিন মাসে পাঁচটি মামলা হয়েছে। মামলায় আজিজুল হক ও আবদুল কাদেরকেও আসামি করা হয়েছে।
পানেরছড়া রেঞ্জের তুলাবাগান ও পানেরছড়া বিটের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী জাফর আলম জানান, কালারপাড়ার মোহাম্মদ শফি ওরফে কালু মুন্সীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন বনদস্যু প্রায় প্রতিদিনই বাগানে ঢুকে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। ২৬ মার্চ গাছ কাটায় বাধা দিতে গিয়ে তাঁদের হামলায় তিনি ও মোহাম্মদ ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আহত হন।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, পানেরছড়া ও তুলাবাগান বিটে ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত ৪৭৫ হেক্টর জমিতে সামাজিক বনায়ন করা হয়। ৭৭৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে এ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। কয়েকজন উপকারভোগী দাবি করেন, বনদস্যুরা গত তিন মাসে এ বাগানের কমপক্ষে ১০ হাজার গাছ কেটে ফেলেছেন। উপকারভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, গাছ কাটার ওই দলে কালু মুন্সী ছাড়াও তাঁর ভাই জহির আহমদ, কালারপাড়ার হাবিব উল্লাহ, শফি উল্লাহ, জিনেরঘোনার ছৈয়দুল হক, ভাদিতলার আবদুস শুক্কুর, সাহাব মিয়া, দানু মিয়া রয়েছেন।
গাছ কাটার কথা স্বীকার করে পানেরছড়া রেঞ্জের কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, আমাদের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে বন রক্ষা করা যাচ্ছে না। কালু মুন্সী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছাইদুল ইসলাম বলেন, যেখানে ৩০০ লোকবল থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র ১৫০। এ কারণে বিশাল বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Post new comment