‘বেগম জিয়ার ‘চুরির শাসনামলে’ কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে তারেকের বিরুদ্ধে: লন্ডন ইকনোমিস্টের মন্তব্য

এনা, নিউইয়র্ক থেকে
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে অতীতের রাজনৈতিক ক্লেদের সমাপ্তি হবে না বলে বিদেশী মিডিয়া মন্তব্য করেছে। ২৬ নভেম্বর লন্ডনের প্রভাবশালী ‘দ্য ইকনোমিস্ট’ এ রকম একটি মন্তব্য করেছে। এতে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি’র রাজনীতির শেষ উত্তরাধিকার হতে পারেন। এছাড়া বেগম জিয়ার শাসনামলকে ‘চুরির শাসনামল’ হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান কর্তৃক কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের কথাও রয়েছে ইকনোমিস্টের প্রতিবেদনে।
‘দ্য ট্রায়ালস অব শেখ হাসিনা’ শিরোনামে প্রকাশিত দ্য ইকনোমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ বছরেরও আগে বাংলাদেশী দুই কর্ণেল লন্ডনে পালিয়ে এসেছিল। তারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবকে হত্যায় সহায়তা করেছেন বলে টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন। গত ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ঐ হত্যাকান্ডে ইতিপূর্বে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৫ জনের আপিল নাকচ করে দিয়েছে। এ রায় ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু এ রায়ের প্রশংসা করা যায় এ কারণে যে, এ রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অতীত ক্লেদাক্ততার অবসান ঘটবে এবং রাজনৈতিক নেতারা বর্তমানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন। যদিও প্রতিয়মান হচ্ছে যে দলীয় চাপ অতীতকে জিইয়ে রাখবে।
ইকনোমিস্ট লিখেছে, সরকারী কর্মকর্তারা বলেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে এদের মৃত্যুদন্ড জানুয়ারিতে কার্যকর করা হবে। একই মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আরো ৬ পলাতক আসামীকে খুঁবে বের করে আনার জন্য শেখ মুজিবের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ নিয়েছেন। ইকনোমিস্ট লিখেছে, এ বিচার সম্পন্নের জন্য সময় লাগলো ১৩ বছর। পূর্ববতি বিএনপি সরকারের আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত) এই মামলার কার্যক্রম স্খগিত করা হয়েছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যে সব অঙ্গিকার হাতে রয়েছে তার প্রথমেই এটি ছিল এবং একে সবচেয়ে স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। ইকনোমিস্ট উল্লেখ করেছে, গত সপ্তাহে বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত বাংলাদেশ আধা সামরিক বাহিনীর ৩৫০০ সদস্যের প্রথম গ্রুপের বিচার শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির ঐ বিদ্রোহে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। বিদ্রোহে জড়িত কয়েকজন কখনোই বিচারের সম্মুখীন হবে না। জড়িতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছে বন্দি অবস্খায়।
ইকনোমিস্ট লিখেছে, বর্তমানে যে বিচারের কথা উঠেছে তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্খান নিয়ে যারা মানবতার বিরুদ্ধে
অপরাধ করেছিল তাদের বিচার করা হবে। সে যুদ্ধের শিকার হয় ৩০ লাখ মানুষ। আর ঐ হত্যাকান্ডের জন্যে কোন পাকিস্তানী সামরিক অফিসার অথবা বাংলাদেশী সহযোগীর বিচার হয়নি এখন পর্যন্ত। গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জনকারী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গিকারের অন্যতম প্রধান হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। তবে ঐ যুদ্ধাপরাধী বিচারে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বিদেশী কূটনীতিকরা বিষয়টি যে কথার কথা নয়, তা বিশ্বাস করতে পারছে না। ইকনোমিস্ট লিখেছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামিক রাজনৈতিক দল জামাতে ইসলামের গোটা নেতৃত্বকেই এই বিচারের সম্মুখীন করতে চায় বর্তমান সরকার। অপরদিকে জামাতে ইসলামীরা মনে করছে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিচার খুব শীঘ্রই সম্ভব হবে না। জামাতে ইসলামী তার দলীয় নেতা হিসেবে কয়েক সপ্তাহ আগেই মতিউর রহমান নিজামীকে আরো ৩ বছরের জন্যে নির্বাচিত করেছে। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, অপেক্ষাকৃত তরুণ দলীয় নেতারা জামাতকে ১৯৭১ সালের কলংক থেকে মুক্ত করতে আগ্রহী।
ইকনোমিস্ট লিখেছে, আওয়ামী লীগও গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের মূলনীতিতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। এই ৪ মূলনীতি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র। জামাতের সহায়তায় ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় ছিল সেনাবাহিনী থেকে সৃষ্ট দল-বিএনপি এবং বর্তমানে বিএনপি হচ্ছে প্রধান বিরোধী দল, তারা বাহাত্তরের সংবিধানকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে খুবই ক্ষুব্ধ।
ইকনোমিস্ট তার গভীর পর্যবেক্ষণমূলক এ রিপোর্টে আরো উলেখ করেছে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অবশ্যই ভীত হওয়ার কারণ রয়েছে, যে রাজনৈতিক ডায়নেস্টির তিনি উত্তরাধিকার, তার তিনি শেষ ব্যক্তি হতে পারেন। জাতীয় সংসদে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা ১৯৩ আসন পেয়ে বাংলাদেশে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। আর এখন এ দলটির অস্তিত্ব অনেকটা যেন অসংগত হয়ে গেছে। মাত্র ২৯টি আসন নিয়ে তারেক রহমান যেন এই দলের আশায় পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তারেক রহমানকে খালেদার উত্তরাধিকার ভাবা হচ্ছে। চলতি নভেম্বর মাসে ছিল তারেক রহমানের ৪৫তম জন্মদিন। বিদেশে চিকিৎসাধীন সন্তান তারেক রহমান সুস্খ হয়ে দেশে ফিরুক-তার জন্য দোয়া করেছেন বেগম জিয়া। তারেক রহমানের সমর্থকেরা ঢাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের জন্য। এ উপলক্ষে একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘ওবামা যদি ৪৫ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তারেক কেন পারবেন না?’ ইকনোমিস্ট লিখেছে, কিন্তু তারেকের বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার মায়ের চুরির শাসনামলে ( ক্লেপটোক্র্যাটিক) তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অপরাধের বিচারও আওয়ামী লীগের আরেক সুখকর এজেন্ডা।
http://www.khabor.com/news/prabash/11/prabasher_news_11302009_0000004.htm
- Forums:
- Tag this post:
JUST VIEWED
Last viewed:
- লাদেনের মেয়েকে তেহরান ছাড়ার অনুমতির আহ্বান
- Calling all Bangladeshis...
- Mujib's killers must hang: SC
- দ্যা ডে আফটার
- প্রাথমিকের প্রশ্ন ফাঁস
- ৫০ কমান্ডো ও বিপন্ন স্বাধীনতা!
- ওয়ারিদ আউট (৭০%), ভার্তী ইন, কিছু প্রশ্ন!
- ভবিষৎ টেন্ডারবাজীর আগাম প্রস্তূতি
- রংপুরের চতরা ইউনিয়ন বনাম কোপেনহেগেনের বিশ্ব জলবায়ু সন্মেলন...
- হুমায়ুন আহমেদের নাটক 'হিমু'
- ঈদ মোবারক
- Country Comparison : Electricity - production
- নাঈমুল ইসলাম খান উপাখ্যান
- বিএনপি'র কাউন্সিল, বিচার মানি কিন্তূ তালগাছ আমার!
- নাম বদলের ভরা যৌবনে...
Latest Blogs
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
- একজন বিচারক ও এক রাতে ১ কোটি আয়ের কেচ্ছা!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
3 days 11 hours ago - আমিও
2 weeks 4 days ago - about canada immigration
3 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
3 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
3 weeks 6 days ago - হুম!
4 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
4 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
4 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
5 weeks 2 days ago - Not fair!
5 weeks 4 days ago





বিনপি এবং স্বাধিনতার বিরোধি
বিনপি এবং স্বাধিনতার বিরোধি দল জামায়ত এর বিচার জনগন হাসিনা
সরকার এর কাছ থেকে আশা করে
আশা নিরাশার আশা...
আশাকরা ভাল, তবে ফল পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে!
Post new comment