Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

স্লিপিং উইথ ডেভিল

আবিদ রহমান, মেলবোর্ন থেকে

গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল পাশাপাশি হাঁটে। সম্পূরক হয় একে অপরের। কার্যকর রাষ্ট্রে সংসদে পারস্পরিক ধোলাই শেষে একটেবিলে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ঐক্যবদ্ধ সংলাপে থাকেন। থাকে কার্যকর সংসদ, নির্বাহী পরিষদ বা আমলা এবং দায়িত্বশীল আইন-বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী ‘প্রতিষ্ঠান’। আমাদের গণতন্ত্রে এসবের বালাই নেই।

অন্য গণতন্ত্রে ‘রাজা’ আসে ‘রাজা’ যায়, নেতৃত্বে আসেন নতুন মুখ, ফ্রেশ আইডিয়ার তরুণ। আমাদের গণতন্ত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে একবার এলে যাওয়ার নাম-গন্ধ নেই। যদি যেতে হয়, ‘সাম্রাজ্যের’ চাবিকাঠি থাকে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের নিরঙ্কুশ দখলে। এখানে সংসদ সদস্য মানেই পেশিশক্তিধারী আজ্ঞাবহ। বিচারব্যবস্থা মানেই দলীয় নিয়োগ। এক পার্টনার যখন আইনমন্ত্রী থাকেন, অন্য পার্টনার তখন প্রধান বিচারপতি। কী মিলিত ঐকতান! আর সামান্য ‘পুলিশ’ তো থাকেন সারাক্ষণ বদলি আতঙ্কে। সরকারি কিংবা ক্ষমতাধর কাউকে ধরে কি চাকরিটা খোয়াবেন?

আমাদের গণতন্ত্র মানে ‘অমুক পরিবার’কে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য কৃষকের একমাত্র ছেলে জীবনদান। ‘কদমবুচিদের’ মন্ত্রিসভা! ‘সৎ-গণতন্ত্রীরা’ মন্ত্রিত্ব হারিয়ে সপরিবারে ‘পতাকা’ ধরে কাঁদেন। পিতা-মাতার মৃত্যুতেও এত কান্না আসে না। বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের’ কাজিনরা ভিন্ন বংশীয় পুলিশ প্রতিমন্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন। রাজপথের ‘জ্বালাও-পোড়াও’ আন্দোলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ পুলিশকে তেড়ে আসেন। আইনের ঊর্ধ্বের মানুষের সঙ্গে পাঞ্জা? এই গণতন্ত্রে কেবল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান। চলে অভিযোগ-বিবৃতির পাল্টা-পাল্টি। কেউ ‘স্লো পয়জনিংয়ের শিকার হয়েও কাউকে আইনের শাসনে আনেন না, কেউবা ‘তিরিশ ফুট’ উপর থেকে পড়ে গিয়ে অলৌকিক বেঁচে যান আবার কেউ রাস্তাঘাটে বিশ শতাংশ নির্যাতিতা নারী দেখেন এক বছরে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারে কেউ দেখেন ইসলামের অবমাননা। বাম’রা ‘সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-আধিপত্যবাদের স্লোগানে নীরব সেয়ানা চাঁদাবাজিতে’ মাও সে তুং ও লেনিনের ভুলত্র“টি ধরেন।

এখানে বিরোধী দল ‘পাতানো নির্বাচন’-এর ফলাফল প্রত্যাখ্যানে সংসদে যান না কিন্তু সংসদ ভাতা তোলার খাতিরে মাঝেমধ্যে হাজিরা দেন। এখানে মন্ত্রিসভার ‘ধনী মন্ত্রী’দের বেতনভাতা রাতারাতি দ্বিগুণ। সরকারি নিু আয়ের মহার্ঘ ভাতা ‘তহবিলের অভাবে’ ঝুলে থাকে টানা। এখানে রাজনীতিবিদরা কোনো মামলায় জেলে যাওয়া মাত্রই ‘গুরুতর অসুস্থ’ হয়ে পিজিতে আসেন, জামিনে বিদেশ। কিন্তু মামলার একটা সুরাহা হলেই ‘মৃত্যুপথ যাত্রী’ রাজনীতিবিদরা মুক্তির মালা গলায় দিব্যি হেঁটে যেতে পারেন বহুদূর। এখানে গণতন্ত্র মানেই রাজা রাজা খেলা। পরবাসের ল্যাপটপে ‘স্কাইপে’ দেশ-শাসন।

দিব্যি বলছি, গণতন্ত্র চাই অবিরাম অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহে, মতিঝিল থেকে উত্তরার ৪৫ মিনিট যাত্রায়, স্কুলে ভর্তির নিশ্চয়তায়, ছুটির সন্ধ্যায় নববধূর হাত ধরে নিরাপদে-নির্বিঘেœ হেঁটে যাওয়ায়, খাবার পাতে ডাল-ভাত আর আলুভর্তার মেনুতে। সাধারণ মানুষ আমরা, শুধু চিনি নিজের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পেটের ক্ষুধা, পরনের কাপড়, মাথা গোঁজার ঠাঁই। আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ওরা কারা ‘বসুন্ধরা’ শপিং সেন্টারে ঘণ্টায় লাখ টাকা ভাসায়, গুলশান-বনানীতে ডিনারে মাথাপিছু পাঁচ হাজার বিল হাঁকে।

ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে সরকার ও বিরোধী দল ব্যক্তি উন্নয়ন ছেড়ে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে আসুন। আমরা আমাদের প্রাপ্য চাই। আপনারা না দিলে, উই মে স্লিপ উইথ ডেভিল, কারণ আমাদের পেটে ক্ষুধা, চোখে যানজট, স্বপ্নে বিদ্যুৎবাতি, হাতে বাজারের শূন্য থলি। কোনো বিকল্প নেই।
সূত্রঃ http://www.amadershomoy.com/content/20abid.rahman@ymail.com
e-mail: abid.rahman@ymail.com

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla