ছাগল প্রকল্পে সাগর চুরি
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্ট : জীবিত ছাগলকে মৃত দেখিয়ে পোস্টমর্টেম

ছাগল না কিনেও কেনা হয়েছে বলে হিসাব দেখানো এবং ভুয়া পোস্টমর্টেম রিপোর্টের মাধ্যমে জীবিত ছাগলকে মৃত বানানোর মতো অবিশ্বাস্য সব অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে সরকারের ছাগল পালন প্রকল্পে। জোট সরকার আমলের বহুল আলোচিত এ প্রকল্পে এরকম গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সুনির্দিষ্টভাবে ৯টি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ৯ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টটি যুগান্তরের হাতে এসেছে। এ প্রসঙ্গে প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক সুনীল কুমার গায়েন যুগান্তরকে বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. আলেক মণ্ডল এবং সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক মামলা দায়ের করায় মামলার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত তারা পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নিতে পারছেন না। তিনি জানান, প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন বকেয়া ঋণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ছাগল পালন প্রকল্পে অবিশ্বাস্য রকম দুর্নীতি হয়েছে। ৫২ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্পের বেশিরভাগ দুর্নীতিবাজদের পকেটে চলে গেছে। তিনি জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগাম কো-অর্ডিনেটর ডা. আলেক মণ্ডল ও সহকারী প্রকৌশলী আলী আকবরকে দায়ী করা হলেও দুর্নীতির ভাগ আরও অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তার পকেটে গেছে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তাদের দায়ী করা যায়নি। এছাড়া টেকনিক্যাল সদস্য না থাকায় তদন্ত কমিটি অবকাঠামো নির্মাণ কাজের দুর্নীতি চিহ্নিত করতে পারেনি। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারি ছাগল খামারের চালান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ মে ১৫০টি এবং ২০ মে আরও ২শ’টি ছাগল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু চালানের মাধ্যমে ২শ’টি ছাগল গ্রহণ করা হয়েছে দেখানো হলেও স্টক রেজিস্টারে এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। এছাড়া রহস্যজনক কারণে ওই বছর আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি। রোগের প্রাদুর্ভাবে ২শ’ ছাগল মারা গেছে বলা হলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২২ মে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আলমগীর হোসেন ৬৫টি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন। কিন্তু আরও ১৩৫টি ছাগল মারা গেছে বলে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখানো হলেও সেখানে কোন তারিখ উল্লেখ নেই। কমিটি মনে করে, তারিখবিহীন মৃত ছাগলের হিসাব ঠিক নয় এবং ২শ’ ছাগল গ্রহণ করার যে চালান দেখানো হয়েছে তাও সঠিক নয়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারি ছাগল খামারে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন চালু হলেও জেনারেটরটি চালু করা হয়নি। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও জেনারেটর কিনে সরকারের অর্থের অপচয় করা হয়। এছাড়া খামারের নিজস্ব জায়গায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও জেনারেটর কক্ষ স্থাপন না করে গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে। খাতা-কলমে চট্টগ্রামের হাটহাজারি ছাগল খামারে হাইপ্রেসার ওয়াটার স্প্রে এবং মাইক্রোসপ সরবরাহ দেখানো হলেও বাস্তবে মূল্যবান এ দুটি যন্ত্রের হদিস মেলেনি।
এছাড়া প্রকল্পের মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে পত্রিকায় কোন বিজ্ঞাপন না দিয়ে সীমিত দরপত্র আহ্বান করে আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতে বেশিরভাগ টাকা আÍসাৎ করা হয়েছে। সীমিতভাবে কিছু দরপত্র দেয়া হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে নামসর্বস্ব পত্রিকায় দেয়া হয়। কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ কেনাকাটার ক্ষেত্রেও একই অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। এছাড়া কম দরে কম্পিউটার কিনে বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। ফটোকপিয়ার মেশিনসহ কিছু ইলেকট্রনিক্স জিনিস কেনার ক্ষেত্রেও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য ধরা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে ছাগল উন্নয়ন কর্মসূচি নাম দিয়ে ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৩-০৪ অর্থবছরে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫২ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্প প্রণয়নে প্রধান উদোক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল সিদ্দিকী। তিনিসহ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা পরোক্ষভাবে প্রকল্পটির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বাড়তি খরচের বহর, কেনাকাটার প্রতিটি স্তর এবং ঋণ বিতরণসহ পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতির কারণে জোট সরকারের আমলেই এ প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে গত বছর ২৫ মার্চ এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কমিটি রিপোর্ট দিতে বিলম্ব করে। গত বছর ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। চট্টগ্রাম ও বরিশালে প্রকল্পের খামারে সংরক্ষিত যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
- Forums:
JUST VIEWED
Last viewed:
- Every Office Has One!
- জেএমবির শীর্ষ নেতা সাইদুর তৃতীয় স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার
- স্ত্রীর নাড়ি ভুঁড়ি ভক্ষণ!
- Beware of Nigerian Scams!!!
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় গামা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা মুক্ত!!!
- Disputed isle in Bay of Bengal disappears into sea
- SSC পরীক্ষার ফলাফল
- পতিতা নিয়ে মারামারি...
- স্লিপিং উইথ ডেভিল
- Egyptian farmers feed their two-headed calf
- সৌদি আরবের মানবতা, ৪ বাংলাদেশীর ফাসি
- এন্ডিস পর্বতমালার বাকে বাকে - ৫ম পর্ব
- Bangla News Reader Caught on Tape
- Personal email from Prersident Barack Obama
- ৩ জাতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট লাইভ...
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 2 days ago - আমিও
3 weeks 3 days ago - about canada immigration
4 weeks 3 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 5 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 5 days ago - হুম!
5 weeks 1 day ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 1 day ago - Its really a great invention.
5 weeks 3 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 1 day ago - Not fair!
6 weeks 3 days ago





Post new comment