Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

-A A +A

Grafters are irresistible

দৈনিক ইত্তেফাক হতে

এবার তারা মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক পরিচয়ে

।। জামিউল আহসান সিপু ।।

রাজনৈতিক লেবাসে চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে তারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করত। নির্বাচনের পরে এখন তারা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে। এরকম অন্তত অর্ধশত চাঁদাবাজ গ্রুপ রয়েছে যারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিরকুট দিয়ে বা মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এসব ঘটনা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাব তদন্ত করছে। ডিবি ও র‌্যাব এ ধরনের লেবাস পরিবর্তনকারী অর্ধশত চাঁদাবাজ গ্রুপ চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে গত এক মাসে ৫ চাঁদাবাজ গ্রুপকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, চাঁদাবাজ গ্রুপ যেই হোক তাদের গ্রেফতার করতে র‌্যাবকে কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। চাঁদাবাজদের কোন দল হয় না। এরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাঠে চাঁদাবাজ গ্রুপগুলো দলীয় আশ্রয় পেতে বিভিন্ন দলে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামে। বতর্মানে এই চাঁদাবাজ গ্রুপগুলোই রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়ায় চাঁদাবাজি করছে। র‌্যাবের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, আগে এরা চাঁদাবাজির সময় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করত। এখন স্থানভেদে তারা চাঁদাবাজির সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে মন্ত্রীর নাম পর্যন্ত ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে। ডিবির সহকারী কমিশনার নাসির জানান, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় ডাকাত শহীদের নামে যে টিনএজ গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি করত তারা এখন রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।

সূত্র জানায়, সূত্রাপুরে ডাকাত শহীদের নামে চাঁদাবাজি করা মাসুম গ্রুপ গ্রেফতার হওয়ার পর পিচ্চি কালু গ্রুপ রাজনৈতিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করছে। দক্ষিণখান থানা এলাকার আশকোনা, মেডিক্যাল রোড, রসুলবাগ, হাজী ক্যাম্প এলাকায় মোশারফ, চঞ্চল, নোয়াখাইল্যা মনির ও চিকনা আজাদ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে। এক মাসে র‌্যাব নোয়াখাইল্যা মনিরকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশের কাছে এদের বিরুদ্ধে শতাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ পড়েছে। এরা একসময় চারদলীয় জোট সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করত।

রমনা থানা এলাকার মগবাজার, নিউ ইস্কাটন, বাংলা মোটর, মৌচাক ও মধুবাগ এলাকায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নামে প্রায় ১১ টি গ্রুপ চাঁদাবাজি করছে। এদের নামের তালিকা ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী চাঁদাবাজি করা গ্রুপগুলো হলো মুরাদ, আংগুল কাটা দিদার, ইনফর্মার দেলোয়ার, কালা শাহীন, ফরহাদ, মিন্টু, দেলু, সুমন, মাসুদ, বাবুল ও খালেক। কাফরুলে শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের নামে চাঁদাবাজি হয়। বর্তমানে ঐ এলাকায় শাহীন শিকদার ও ল্যাংড়া মনির নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এই দুই জন চাঁদাবাজ পুলিশ ও র‌্যাবের খাতায় তালিকাভুক্ত। এ ব্যাপারে র‌্যাব-৪ এর এএসপি নাজমুল আলম বলেন, শাহীন শিকদার আত্মগোপনে থেকে তার বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এর আগে এ এলাকায় রাজ্জাক বাহিনী চাঁদাবাজি করলেও কয়েকদিন আগে এ বাহিনীর প্রধান রাজ্জাক র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে। মিরপুর-১ নম্বর সেকশন ও এর আশপাশের এলাকায় গাজী সুমন ও জামিল এবং কল্যাণপুরে সহর আলীর নামে চাঁদাবাজি হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বাবু, কাশেম ও আশিক গ্রুপ ক্ষমতাসীনদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে। এসব চাঁদাবাজ গ্রুপগুলোর কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। এরা যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের দলীয় নাম পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে।

Post new comment

CAPTCHA
Required to prevent spam.
Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla