Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Crime & Punishment, Crossfire

মানবিক অমানবিক এ প্রসংগে আসার আগে আসুন একটু যাচাই করে দেখি ক্রশফায়ারের মত পাথর যুগীয় বিচার ব্যবস্থা কেন আমাদের বিচার ব্যবস্থায় বিনা বাধায় জায়গা করে নিচ্ছে। বলতে অসূবিধা নেই, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যংগারু বিচারকে সমাজের রুট লেভেলে স্বাগত জানানো হচ্ছে ন্যায় বিচারের শেষ ভরসা হিসাবে।

ক্রশফায়ার, যার সহজ বাংলা অনুবাদ আটক আসামীকে বিনা বিচারে গিলোটিনে পাঠানো। বাংলাদেশের শহর গঞ্জে রাস্তার অনেক ছিচকে ছিনতাইকারীকে গনপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলতে দেখা যায়। হত্যাকান্ড বাস্তবায়নকারী এবং এর দর্শকরাও মহা-উল্লাসে এই পৈচাশিকতায় অংশ নেয় এবং উৎযাপন করে মিষ্টি বিতরনের মধ্য দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের honor killing'এর মত এই খুন সমাজে এক ধরনের নীরব সমর্থন আদায় করে নেয় বহুমূখী বাস্তবতার কারনে। আসুন, ব্যপারটার একটু গভীরে প্রবেশ করে জানতে চেষ্টা করি মানুষ হিসাবে আমরা কবে হতে এমন বর্বরতায় নাম লেখাতে শুরু করেছি।

ধরুন, রাস্তায় একজন ছিনতাইকারীকে আটকানো হল। উদাহরনের জন্য ধরে নেই ছিনতাইকারীকে গনপিটুনিতে হত্যা না করে দেয়া হল পুলিশে। স্বভাবতই ছিনতাইয়ের ভিকটিমরা আশা করল অপরাধীকে আইনের আওতায় শাস্তি দিয়ে ভবিষতে এ ধরনের অপরাধের রাস্তা বন্ধ করা হবে। বাস্তবে এমনটা কি ঘটে থাকে সচরাচর? এ বিশ্বাষটুকু আমাদের সমাজে অনুপুস্থিত বলেই সাধারন মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করেনা। এবার আসুন ছিনতাইকারীর পিছু নিয়ে তার গ্রেফাতারাবস্থায় ভাগ্যের একটা ছবি আকি। পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাবে অপরাধীকে, হাজতে ঠেলে দেয়ার আগে হাজতীর পকেট হাতড়ে সবকিছু গলধকরন করবে পুলিশ বাহিনী, যার সিংহভাগ যাবে Officer-In-Command'এর পকেটে। এরপর দৃশ্যে আসবে পুলিশের সোর্স, যার দায়িত্ব হাজতীর আত্মীয়-স্বজন খুজে বের করে তাকে জামিনের ব্যবস্থা করা। এখানেই শুরু হবে নাটকের মূল অংক। এই অংকের নেতা-অভিনেতারা হবেন পুলিশ, ছাত্রনেতা, দলনেতা, পৌরসভার মেম্বার/চেয়ারম্যান, এমপি সহ আরও অনেকে। লেনাদেনায় বুঝাপড়া না হলে আসামীকে হাজত হতে চালান করা হবে জেলে। এবার বিচারের তৃতীয় পর্ব। উকিল, মোক্তার, পেশকার, বিচারক সহ গোটা দশেক পকেট উন্মুখ হয়ে থাকে এ ধরনের চালানের আশায়। মেজিষ্ট্রেট কোর্টে তখনই কেস শুনানির জন্যে উঠে যখন লেনদেনের ব্যাপারে একটা বুঝাপরা হয়। সাধারনত এ ধরনের ছিনতাইকারীরা তাদের পরিবারের সর্বশেষ পয়সাটা খরচ করে ১ম, ২য় এবং ৩য় অংকের সব নেতা, অভিনেতা এবং ভিলেনদের সন্তূষ্ট করে বেরিয়ে আসে আইনের হাত হতে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এর পরের দৃশ্য; বেচারাকে আবারও ফিরে যেতে হয় সেই পুরানো ধান্ধায়। অতীতে যারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল তারাও অবাক হয়না পুরানো মূখকে আগের জায়গায় দেখে। কারন তাদেরও জানা আছে কোন সমীকরন সমাধান শেষে তাকে ফিরতে হয়েছে পুরানো ব্যবসায়। এ ভাবেই শুরু। মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠে যখন এই অপরাধীর দল রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিনাতাই ছাড়াও হাত বাড়ায় চাদাবাজি, খুন, ধর্ষনের মত ঘোরতর অন্যায় কাজে। জমতে থাকে অপরাধীর পাপ, পাশাপাশি বাড়তে থাকে অনেকের আয়-রোজগার। একটা সময় আসে যখন মানুষের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায়, থানা-পুলিশ, আইন-আদালত এবং প্রশাষন সহ সবার উপর হতে বিশ্বাষ উঠে যায়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নাটকের শেষ অংক। এই অধ্যায়ের অভিনেতা শুধু দুই পক্ষ, ছিনতাইকারী নিজে এবং তার শিকার। মুগুরের আঘাতে মাথা থেতলে যায় অনেক অপরাধীর। তার মৃত্যুতে শোক দূরে থাক অনেকে মিষ্টি বিতরন করে উল্লাশ করে।

ছোট এই ছিনতাইকারী হতে দৃশ্যপট যদি আমরা রাষ্ট্রীয় পর্য্যায়ে নিয়ে যাই ফলাফল হবে একই। থানা-পুলিশ হয়ে এবার পকেট ভরবে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের উকিল, মোক্তার, পেশকার আর বিচারকের দল। রাজনীতির অনেক রাঘব বোয়াল অপরাধের এই জটিল সমীকরন হতে হাতড়ে নেয় বিরাট অংকের টাকা। অপরাধীর অপরাধের মাত্রা চলে যায় মাটি হতে আকাশে। ব্যবসা, বানিজ্য হতে শুরু করে সমাজের সবকিছু হয় লন্ডভন্ড। ভিকটিম হয় নীরিহ মানুষ, মা, ভাই-বোন...। এবারে জনগনের বদলে র‌্যাব থেতলে দেয় অপরাধীর মাথা।

পাঠক, অনৈতিক হত্যা সহ সমাজের স্বাভাবিক জীবন লন্ডভন্ড করায় জানিনা আপনারা কাকে দায়ী করবেন, আমার আদালতে আসামী হবে আমাদের অসূস্থ, অক্ষম রাজনীতি এবং এর অসৎ খেলোয়াড়বৃন্ধ।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla