রেহাই দিন এসব ভন্ডামি হতে!

হ্যাঁ, শেষ পর্য্যন্ত দেখা হল দুই মহিয়সীর। এবং সেই সেনা বাহিনীর আস্তানায়, যাদের কারণে বছর ধরে দিন কাটাতে হয়েছে বিলাস বহুল জেলখানায়। ‘আপনি কেমন আছেন, আমি ভাল আছি, পার্লামেন্টে আসেন না কেন, না না সাহারা খাতুন লাঠি নিয়ে তৈরী আছেন, হা হা হা’। এ ভাবেই শুরু এবং এ ভাবেই শেষ বহু প্রতীক্ষিত মহামিলন। চারদিক উজ্বল হয়ে উঠল ফ্লাশ লাইটের আলোতে, সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরায় ধরে রাখল ইতিহাসের এই বিরল মুহুর্ত। দুই দলের উজির নাজিরদের চেহারায় ফুটে উঠল সাফল্যের ৩২পাটি হাসি। হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশের চীর বৈরী দুই দলের দুই নেত্রীর দেখা হওয়ার কথা বলছি। প্রতিরক্ষা বাহিনীর বার্ষিক ইফতার পার্টিতে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের এই দুই নেত্রী। চাইলেও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় ছিলনা, তাই হাত মেলানো, কুশল বিনিময়, এবং হাসি হাসি বিদায় পর্ব।
একটা অস্থির সমাজের প্রতি এই কি ছিল তার দুই নেত্রীর কমিটমেন্ট? দেশ সমস্যার মহাসমুদ্রে হাবুডুবু করছে, শ্বাষ নেয়ার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কমে আসছে বিপদজনকভাবে। আলো নেই, গ্যাস নেই, চাকরী নেই, চিকিৎসা নেই, শিক্ষা ব্যবস্থা পংগু প্রায়, রাস্তার চলাচল জমে যাচ্ছে বরফের মত, দ্রব্য মূল্যের পাগলা ঘোড়ায় চড়তে গিয়ে ক্লান্ত জনগণ, আইন শৃংঙ্খলা ভেঙে পরছে তাসের ঘরের মত, চারদিকে র্দুনীতির মহামারি, মানুষ মরছে পাখীর মত - এমন একটা সমাজে বাস করে মানুষ নীরবে নিভৃতে মেনে নিয়েছে দুই নেত্রীর ভাগাভাগির রাজত্ব। সমসাময়িক বিশ্ব ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এই দুই মহিলা বাংলাদেশের মত জটিল আর্থ-সামাজিক দেশে রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করার কতটা যোগ্যতা সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে উনাদের বসিয়েছে সন্মানের শীর্ষ আসনে। সন্দেহ নেই উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানের মধ্যেই নিহিত আছে আমাদের আগামী দিনের বেচে থাকা, প্রজন্মের বিবর্তন এবং বিশ্ব সমাজে নিজদের স্থান করে নেয়ার সম্ভাবনা। এটা কোন গোপন সমীকরন নয় বাংলাদেশের মাথায় ঝুলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধান দুই নেত্রী অথবা দুই দলের এক জন/এক দলের পক্ষে ইহকালেও করা সম্ভব হবেনা। তার জন্যে চাই আর্ন্তদলীয় এবং আন্তনেত্রী বুঝাপরা। এমন বুঝাপরা হতে কত শত মাইল দূরে আমরা? জিনিষটা কি এতই জটিল দেখা করা, কথা বলা? একই শহরে বাস করলেও দুজনের মধ্যে দূরত্ব মনে হবে যোজন যোজন। হয়ত এ দূরত্ব তাদের রাজনৈতিক অস্থিত্বের ষ্ট্রাটেজিক হাতিয়ার, কিন্তূ এর কারণে বলি হচ্ছে একটা জাতির স্বাধীনতার স্বপ্ন, হাজার বছরের ঐতিয্য, কৃষ্টি এবং সাংস্কৃতি।
নেত্রীদ্বয়! দেখা করুন, কথা বলুন এবং একটা জাতিকে বাঁচতে দিন স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা নিয়ে। বছরের একটা দিন ইফতার পার্টিতে দেখা করবেন, মেকি হাসি হাসবেন আর চারদিক উদ্ভাসিত করবেন মহামিলনের ছবিতে, রেহাই দিন এসব ভন্ডামি হতে।
- Forums:
- Tag this post:
JUST VIEWED
Last viewed:
- আমিও জাতিয়তাবাদী হতে চাই...
- বলি হউক তথাকথিত গনতন্ত্র...
- জলিলের জন্যে কাফনের কাপড়...
- শেষ নবাবের প্রত্যাবর্তন
- একজন রহমান সাহেবের গল্প
- একজন আবুল হোসেনের আবুলীয় কাহিনী
- ইহাই তিনাদের আসল চেহারা
- বেরিয়ে আসছে ৭২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ৩১ মামলার আসামী
- যুদ্বাপরাধীদের তালিকা
- কালো রাতের কালো বন্যায়
- নোটের উপর শেখের ছবি, a sign of perfect failure
- কী জবাব আছে বেগম জিয়ার?
- এন্ডিস পর্বতমালার বাঁকে বাঁকে - ১৬তম (শেষ) পর্ব
- ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা
- জংগীবাদের দিনরাত্রি
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 3 days ago - আমিও
3 weeks 4 days ago - about canada immigration
4 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 6 days ago - হুম!
5 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
5 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 2 days ago - Not fair!
6 weeks 4 days ago





Post new comment