Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

রাজনীতির লাশ বনাম লাশের রাজনীতি, হ্যালো প্রধানমন্ত্রী!

জিনিষটা একটু অন্যরকম হলেই বোধহয় ভাল হত। হ্যাঁ, আমি সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলছি। কথা উঠ্‌ছে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের অর্থমন্ত্রীর মৃত্যুতে শেখ হাসিনা শোক প্রকাশে আন্তরিক ছিলেন না। অনেকের দাবি ছিল রহমান সাহেবকে রাষ্ট্রীয় সন্মানে সমাহিত করা হোক, সে দিকেও বর্তমান সরকার কর্নপাত করেনি। ঢাকা হতে সিলেট পর্য্যন্ত লাশ নিতে হয়েছে স্থলপথে, গলে যাওয়ার ভয়ে পথিমধ্যে থামানোর কোন সূযোগ ছিলনা। যদিও মৌলভিবাজার সহ অনেক জায়গায়ই মানুষের ঢল নেমেছিল শেষ বারের মত তাদের প্রিয় মানুষটাকে এক নজড় দেখার জন্যে। অনেকেই বলছেন, একটা হেলিকপ্টার দিয়ে লাশটা সিলেট পাঠানোর ব্যবস্থা করলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ব হয়ে যেত? প্রায়ত এই নেতা রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছেন ক্ষমতাসীন হয়ে, অর্থ মন্ত্রনালয়ের মত শক্তিশালী একটা মন্ত্রনালয় চালিয়েছেন বহু বছর ধরে। বাংলাদেশের আকাশে যে সব হেলিকপ্টার উড়ে বেড়ায় তার অনেকগুলোই এই মানুষটার বরাদ্দে ক্রয় করা।

লাখো মানুষের চোখের পানিতে অবগান করিয়ে দাফন করা হয়েছে জাতীয় এই নেতাকে। হয়ত সময়ের কালচক্রে মানুষ ভূলে যাবে শক্তিশালী এই রাজনীতিবিদের কথা। কিন্তূ মৃত্যুকালীন সময়ে তার সাথে যে ব্যবহার করা হল রাজনৈতিক মহল এটাকে খুব সহজে ভূলে যাবে বলে মনে হয়না। কেন এমনটা হয়? রাজনীতিবিদরা নিজেরাই যদি নিজদের সন্মান দেখাতে না পারেন তাহলে কি ভাবে আশা করেন অন্যদের সন্মান? ক’দিন আগে কার একটা লেখায় যেন পড়েছিলাম (হয়ত সাংবাদিক আতাউস সামাদ) শেখ হাসিনার কাছে যারাই তার কাজের সমালোচক তারাই উনার পিতা-মাতা এবং ভাইদের হত্যাকারী অথবা তাদের সহযোগী। এমন বিচারে প্রায়ত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানও বোধহয় হত্যাকারীর দলে পরেন। রাজনীতিতে এ ধরনের সংকীর্নতা খুবই বিপদজনক, বিশেষকরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সমাজে। শেখ হাসিনা কি পারতেন্‌না ১৫টা মিনিট সময় করে সাইফুর রহমানের লাশটা একবার দেখে আসতে? এমন কি রাজনৈতিক সমীকরন বেহাল হয়ে যেত যদি তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারকে নিজ মুখে শান্তনা দিয়ে আসতেন? একটা হেলিকপ্টার কি এতটাই অপ্রাপ্য ছিল ১২টা বাজেট প্রণয়নকারী এই নেতার জন্যে? উত্তরে হয়ত শেখ হাসিনা কিবরিয়া সাহেবের মৃত্যু টানবেন, আগষ্ট মাসের গ্রেনেড হামলার প্রসংগ তুলে ধরবেন। এগুলোও খন্ডন করার কোন অবকাশ নেই। কিন্তূ কথা হচ্ছে, একজন একটা অন্যায় করলে তাকে কি আরেকটা অন্যায় দিয়ে জবাব দিতে হবে? তাহলে আর প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবির এই চেষ্টা কেন?

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla