বিদায় শুনিল গুপ্ত
সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তর অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন
বরিশাল, মে ১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক পশু সম্পদমন্ত্রী সুনীল কুমার গুপ্তর অন্তষ্টিক্রিয়া শুক্রবার বিকেলে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর সিহিপাশা গ্রামের পারিবারিক শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সুনীল কুমার গুপ্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৫।
**********দাদা কে বিদায়***********
সূনীল গুপ্তকে আমি ছোটকাল হতে দাদা বলে ডেকে আসছি। এই মানুষটার রাজনৈতিক উত্থান এবং পতন খুব কাছ হতে দেখার সূযোগ হয়েছিল, তাই কিছু স্মৃতি স্মরন করে তাকে বিদায় জানাতে চাই নশ্বর পৃথিবী হতে।
দাদা হুট হাট করে বরিশালের আগৈলঝাড়া হতে লঞ্চে করে ঢাকায় চলে আসতেন, সদরঘাট নেমে সোজা হাটতে শুরু করতেন। গন্তব্য পুরানা পল্টন লাইনের একটা টিনের শেড, এবং এটাই ছিল দাদার ঢাকায় একমাত্র আশ্রয়। দু'রুমের একটা টিনের শেডে দু'টো হিন্দু পরিবারের বাস, ১০/১৫ মানুষের গাদাগাদির মাঝে দাদা কোথা রাত কাটাতেন তা আজও আমার জন্যে বিরাট রহস্য। ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি করতেন এবং সততার যাতাকলে চাপা পরে জীবন যুদ্বে পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন এক রকম বিনা বাধায়। তবু কোনদিন আক্ষেপ করনেনি, আর দশটা পোড় খাওয়া মানুষের জীবন নিয়েই সন্তূষ্ট ছিলেন সূনীল দাদা।
কালামের দোকানে নিয়মিত বাকিতে সদাই করতেন, মূলত সিগারেট। সময়মত পাওনা পরিশোধ করতেন্না বলে কালামের হাংগামায় প্রায়ই দোকানের সামনে ভীড় জমে যেত। মাঝে মধ্যে দু'পায়ে দু ধরনের পারুমা স্যান্ডেল পরে রাস্তায় বেরিয়ে পরতে একটুকু দ্বিধা করতেন্না, জানতে চাইলে হেসে খাটি বরিশালী ভাষায় নিজের অক্ষমতার কথা জানাতেন। জীবন যুদ্বে পরাজিত একজন সৎ মানুষের উপখ্যান এভাবেই হয়ত শেষ হতে পারত, কিন্তূ তা হয়নি।
বরিশালে কি একটা কাজে এক আত্মীয়ের বাসায় সস্ত্রীক উঠেছিলেন কটা দিনের জন্যে। হঠাৎ কে একজন দৌড়ে এসে জানাল লঞ্চঘাটে পুলিশ হন্যে হয়ে দাদাকে খুজে বেড়াচ্ছে। খবরটা শুনতেই পেছনের দরজা খূলে দাদা দিলেন দৌড়। মাওলানা ভাষানীর রাজনীতি করতে গিয়ে অতীতে বহুবার এ ধরনের ম্যরাথনে দৌড়াতে হয়েছে দাদাকে, তাই এ যাত্রায়ও দ্বিধা করলেন্না দৌড়ে সামিল হতে। কিন্তূ এ যাত্রায় পুলিশ অতীতের দাদাকে খুজতে আসেনি, এসেছিল জিয়া মন্ত্রীসভায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রীকে স্বসন্মানে ঢাকায় নিয়ে যেতে। অনেক ঘাটের জল ঘোলা করে শেষ পর্য্যন্ত দাদা হাজির হলেন ঢাকায়। এবং এই যে শুরু তার শেষ ছিল ১২ বছর পর। মন্ত্রীত্বের এই ১২ বছর দাদার সাথে আমার আর দেখা হয়নি।
শুনিল দাদার সাথে নতুন করে পরিচয় ১২ বছর পর। এরশাদ সরকারের পতন হয়েছে সবেমাত্র, এই একনায়কের মন্ত্রীসভার সব সদস্যদের হেস্তনেস্ত করছে মানুষ, সম্পদ জ্বালিয়ে পতনের উল্লাস করছে। দাদার মুখ বিষন্ন, মীরপুরের ৫ তলা বাড়িটা লুট হয়ে গেছে, পল্টন মোড়ে নিজ মালিকানার অফিসটাকেও রেহাই দেয়নি ক্রোধান্বিত জনতা। উনার কোটিপতি ছেলেকে খুজে বেড়াচ্ছে আন্দোলনের সেনাপতিরা। দাদা আবারও ফিরে এলেন পুরানা পল্টন লাইনের সেই পুরানো টিন শেডটায়, পালিয়ে থাকতে হবে কটা দিন। কালামের দোকান হতে আবারও সদাই করলেন, তবে এবার আর বাকিতে নয়, ৫০০টাকার কড়কড়ে নোটে। এতদিন পর আমাকেও চিনতে পারলেন নতুন করে।
বাংলাদেশের সৎ মানুষের সৎ রাজনীতিকে অসৎ গলিতে নিয়ে কিভাবে সমাহিত করা যায় তার জীবন্ত উদাহরন আমাদের শুনিল দাদা। প্রথমে জেনারেল জিয়া এবং পরে এরশাদ, এই দুই জেনারেল দাদার মত শতশত রাজনীতিবিদ্দের নিজদের স্বার্থ হাসিলের বলি বানিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায় যেখান হতে আমরা ৪ বার চ্যম্পিয়ন হতে পেরেছি বিশ্ব র্দুনীতিতে।
মানুষ মরে গেলে সব কিছুর উর্ধ্বে চলে যায়, আমার শুনিল দাদাও আজ সব কিছুর উর্ধ্বে। উনাকে ভাল মানুষ বলে চিনতাম বলেই এই লেখা। যারা এই আদি অকৃতিম দেশপ্রেমিক মানুষটাকে পংকিলতার শেষ সিড়িটুকু বাইতে বাধ্য করেছে ধিক তাদের জন্যে।
- Forums:
- Tag this post:
- sunil gupta,
- bnp,
- jp
JUST VIEWED
Last viewed:
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 3 days ago - আমিও
3 weeks 4 days ago - about canada immigration
4 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 6 days ago - হুম!
5 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
5 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 2 days ago - Not fair!
6 weeks 4 days ago





Post new comment