Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বিডিআর সুনামী : ভারতের মারণাঘাত|

বিডিআর সুনামী : ভারতের মারণাঘাত|
মমিন ইফতিখারঃ
গত ফেব্রক্তয়ারি মাসে বিডিআরের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সংঘটিত বিদ্রোহ যাতে মহাপরিচালকসহ প্রায় ৬০ জন সেনা অফিসার নিহত হয় তা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি সুনামী। সমগ্র জাতির অজ্ঞাতসারে সংঘটিত সুনামীতে নিহত এবং বিডিআরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডেপুটেশনে নিযুক্ত এসব অফিসারগণ সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। নিহত সেনা অফিসারদের অনেকেরই লাশ গণকবর ও নর্দমা থেকে খুঁড়ে বের করা হয়। একটি ইনস্টিটিউশন হিসেবে সেনাবাহিনীর মধ্যে উদ্ভূত প্রতিশোধ স্পৃহা কোন ব্যক্তির বিরুহ্নে নয়, সামগ্রিকভাবে বাহিনী হিসেবে বিডিআর বাহিনীর বিরুহ্নে। এমনকি কোন যুহ্নক্ষেত্রেও একদিনের যুহ্নে এত বিপুলসংখ্যক সেনা অফিসারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি যা বিডিআর বিদ্রোহে ঘটে গেল। এটা একটা নজীরবিহীন ঘটনা। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমন প্রস্তুতিকল্পে ছটফট করছিল অথচ এর ভিতরেই জঘণ্য অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। জাতির এই কঠিন সংকট রক্তপাতের এই বিপুল মূল্যের প্রেক্ষাপটে উগ্রতাও আবেগতাড়িত প্রতিশোধে উদগ্র ইচ্ছা যুক্তি ও ঠান্ডা মাথায় সিহ্নাশ্চ নেয়ার বিষয়। আবেগের সুউচ্চ চূড়া থেকে জাতি সরে আসতে পারে, অফিসারগণ উত্তেজিত হতে পারে, কিশ্চু নেতৃত্বকে অবশ্যই পরিন্সিতি মোকাবিলায় সতর্ক, প্রজ্ঞাশীল ও সংযমী হতে হবে।
সেনা অফিসারদের কমান্ড, কমান্ডব্যবন্সাপনা, চাকরি জীবনে অন্সিরতা ও অসশ্চোষ বিশেষ করে বেতন-ভাতার বিষয়কে বিদ্রোহের কারণ বলে ধরা হয়, যদিও এই বক্তব্য মোটেই ধর্তব্য নয়। সকল সেনাবাহিনীতেই অসশ্চোষ প্রকাশের নিজহ্ন পহ্নতি থাকে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও এর ব্যতিক্রম নয়। তুচ্ছ ঘটনার খবরও তো বাতাসে ভেসে আসে অথচ এত বড় একটা বিদ্রোহের খবর বাংলাদেশের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলো কিছুই জানলো না। যেভাবে বিদ্রোহ সংঘটিত হলো এবং অপরাধীরা পালিয়ে গেল এতে প্রমাণ হয় ঘটনার সাথে বিদেশী শক্তির যোগাযোগ ছিল। বিডিআর-সেনাবাহিনীর মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী যুহ্ন লাগিয়ে বিডিআর ও সেনাবাহিনীর ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল এই বিদেশী শক্তির। আর এই ভ্রাতৃঘাতী যুহ্নে কোন পক্ষেরই জয় হতো না। বাংলাদেশে একটি জোরালো মত আছে যে, এই সুপরিকল্পিত বিদ্রোহে ভারতের হাত ছিল।এই হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় ভারতীয় গোয়েন্দা সংন্সার সদর দফতর থেকে অতি সূক্ষ্মভাবে। বাংলাদেশের সীমাশ্চরক্ষীকে ধ্বংস ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার জন্য ভারত এই মারণাঘাত করে।কি করে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের উহ্নৃতি দিয়ে ভারতীয় মিডিয়া বিডিআর বিদ্রোহের খবর প্রচার করে অথচ বাংলাদেশের কোন মিডিয়া এই খবর তখনও পায়নি। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশকে ভারতের একটি আশ্রিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখার হ্নপ্নে বিভোর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআর এর দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার ভারতকে বিচলিত করে তুলেছিল। ভারতের অবাস্তব হ্নপ্ন বরং অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দখলদার বিজয়ী বাহিনীর ভূমিকা পালনের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক নির্মাণে ৩ মাসের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত ম্যানচেষ্টার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশী অফিসারগণ ভারতীয় বাহিনীর বিরুহ্নে সুসংগঠিত শিল্পকারখানা লুণ্ঠনের অভিযোগ করেছে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনী শিল্পকারখানা, মেশিনারী ও যম্পাতি সরিয়ে নিয়ে গেছে। লুণ্ঠিত দ্রব্যাদি পাকিস্তানী বলে ভারতীয় বাহিনী তাদের লুণ্ঠনকে ন্যায্য বলে দাবি করে। সুতরাং ভারতীয় বাহিনীর দখলদারিত্ব ন্যায়ভিত্তিক। ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটতরাজ কাজে নিয়োজিত ভারতীয় বাহিনীর নিম্নমানের শৃঙ্কলাবোধ বাংলাদেশের কোন কাজেই আসেনি। ডেইলি টেলিগ্রাফের রিপোর্ট হলো- বাংলাদেশে ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটতরাজের অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩১ জন অফিসার জওয়ানকে কোট মার্শালের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর ভূমিকার এই ছিল চিত্র। বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাহারে ভারত সরকার ও শেখ মুজিব গড়িমসি করতে চাইলে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ও বিশ্বজনমতের চাপে ৭২ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হয়েছে। বাংলাদেশে দখলদার বাহিনী হিসেবে ন্সায়ী উপন্সিতির ভারতীয় হ্নপ্ন ত্বরিত তিরোহিত হয়ে গেল।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রীতির সম্পর্কের অবসান না হলেও বিডিআর ও বিএসএফ বাহিনীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে বরাবরই শত্রক্তভাবাপন্ন হিসেবে অবন্সান করছে। উত্তর-পূর্বের ৪টি গোলযোগপূর্ণ রাজ্যসহ ৫টি রাজ্যের সীমানা ৪৮৯৪ কিলোমিটার সীমাশ্চের পাহারাদার বাংলাদেশের গর্বিত বিডিআর বাহিনী। অাঁকাবাঁকা সীমাশ্চের কলহপূর্ণ সীটমহল, বিডিআর এর ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তার ন্সাপনা নির্মাণ, বিএসএফ-এর সহযোগিতায় সমাসীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ, অহরহ নিরপরাধ নিরীহ সাধারণ মানুষকে গুলী করে হত্যা, বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য বাংলাদেশের অভ্যশ্চরে ফেলে যাওয়া, বাংলাদেশের অভ্যশ্চরে উন্নয়ন কর্মীদের প্রতি গুলীবর্ষণ ইত্যাদি কারণে সৃষ্ট উত্তেজনাই বিডিআর তাদের প্রতিপক্ষকে চোখে চোখে রাখতে বাধ্য করে। যার ফলে বিএসএফের ১ জানুয়ারি ২০০০ সাল থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যশ্চ ৭০০ লোককে হত্যা এবং ৮০০ লোককে যখম/আহত করাই বিএসএফ-এর ট্রিগার আনন্দ। আধিপত্যবাদী ও আক্রমণাত্মক কৌশলের মোকাবিলায় নিজহ্ন সীমাশ্চ রক্ষায় সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বিডিআর বাহিনীর। ২০০১ সালের এপ্রিল ১৮ তারিখে বিডিআরের হাতে ১৬ জন বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু বিডিআরের প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অব্যাহত ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরের মধ্যে এক কার্যকর সুষ্ঠু পরিবেশ ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীকে একসূত্রে আবহ্ন করেছে তাতেই ভারত এই মারণাঘাত হানল। বিডিআর সদর দফতরে এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে সৃষ্ট ঘা শুকাতে বহু সময় লাগবে। সেনাবাহিনীর গর্ব ও চেতনায় যে আঘাত লেগেছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে যৌক্তিক ও সংযত আচরণের মাধ্যমে সে ঘা শুকাবার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে হবে। ভবিষ্যৎ সর্বনাশ প্রতিরোধে বর্তমান ষড়যম্বাস্তবায়নে জড়িতদেরও বস্তুনিষ্ঠভাবে চিহ্নিত করে আমলে আনা প্রয়োজন। সেনা অফিসারদের দুর্নীতি সম্পর্কে বিভ্রাশ্চিকর অপপ্রচার বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ফাটলকে আরও প্রশস্ত করবে।
এত ব্যাপক বিশৃঙ্কলার ঘটনায় দুই মাস বয়সী সরকারকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। বিদ্যমান ক্ষোভকে আরো চাঙ্গা করে সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তার সুযোগে বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী আনার পথ পরিষ্কার করতে চায়। ভারতীয় পররাষ্ট্রমমী ইতোমধ্যে বিডিআর পুনর্গঠনে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে এবং পরিন্সিতি হ্নাভাবিকীকরণে প্রয়োজনীয় সকল অতিরিক্ত সাহায্য প্রদানেরও প্রস্তাব রেখেছে। বিদ্রোহ-উত্তর পরিন্সিতি এই অঞ্চলে কি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতীয় গণমাধ্যমে সে সম্পর্কেও লেখালেখি হচ্ছে। অভ্যশ্চরীণ কোন্দলের পাশাপাশি ভারত কর্তৃক এখানে নতুন সংকট সৃষ্টির ?পায়তারা' ৭১-এর পরিন্সিতি হ্মরণ করিয়ে দেয়।
ইংরেজী থেকে ভাষাশ্চর : ইবরাহিম রহমান, সাংবাদিক কলামিস্ট।

Comments

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla