Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের সাহষী সেনার অলৌকিক কাহিনী

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নজিরবিহীন তথ্য উদঘাটন, সংসদ ক্যাফেটেরিয়া থেকে দেলোয়ারের বাসার বাজার যেত

শেখ মামুনূর রশীদ

অষ্টম সংসদের চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নজিরবিহীন তথ্য উদঘাটন করেছে সংসদীয় তদন্ত কমিটি। জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে বাজার বাবদ তার দুটি বাসার একটির জন্য একদিনেই তিনি:

আড়াই মণ কাটারিভোগ চাল, ৩০ কেজি পোলাওয়ের চাল, ৩০ কেজি আটা, ৩৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি ঘি, ১৫ কেজি মসুর ডাল, সাড়ে ৭ কেজি বুটের ডাল, ১৫ কেজি পেঁয়াজ, সাড়ে ৭ কেজি রসুন, ৭ কেজি আদা, ১৫ কেজি চিনি, ৫ কেজি সুজি, ৭ কেজি চিঁড়া, ৭ কেজি মুড়ি, ৫ কেজি চানাচুর, ৬ কেজি টোস্ট বিস্কুট, ১৬ প্যাকেট নুডলস, ২টি ডানো বড় কৌটার দুধ, ৭টি দুধ (কনডেন্স মিল্ক), ২টি বড় বোতলের ট্যাং, ২টি ওভালটিন, ২টি মালটোভা, ৩টি আমের আচার, কমলার জুস, গরম মসলাসহ ৩৭ রকমের খাদ্যসামগ্রী নিয়েছেন। ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল তার ব্যক্তিগত সহকারীর সই করা একটি চাহিদাপত্র অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব খাদ্যসামগ্রী তার বাসভবনে সরবরাহ করা হয়।

Photobucket
জানা গেছে, একই দিনের আরেকটি চাহিদাপত্র অনুযায়ী সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পৃথক আরেকটি বাসভবনের জন্য চাল-ডাল-আটা-তেল-লবণ থেকে শুরু করে ২৭ রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়। এভাবেই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছরের শাসনামলে প্রতিমাসেই বাসার বাজারের জন্য চিফ হুইপের কার্যালয় থেকে বিশাল দুটি ফর্দ দেয়া হতো সংসদ ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজারের হাতে। সে অনুযায়ী মালামাল চলে যেত। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারীরা এসব মালামাল আনা-নেয়ার কাজটি সম্পন্ন করতেন। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীই নয়, সাবেক চিফ হুইপ তার বাসায় অতিথি আপ্যায়নের জন্য ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে নগদ টাকাও নিয়েছেন। বিদায়ী স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটি খোন্দকার দোলোয়ার হোসেনের এসব দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করে।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, বিএনপির বর্তমান মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন চিফ হুইপ থাকার সময় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়া থেকে চিফ হুইপের দুই বাসভবনের জন্য চাল-ডাল-তেল-লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাসার জন্য ক্যাফেটেরিয়া থেকে খাদ্যসামগ্রী নেয়া, আবার তা দুই বাসায় পাঠানো সত্যিই সংসদের জন্য লজ্জাকর। অতীতে এরকম ঘটনা আর ঘটেছে বলে নজির নেই। জবাবদিহিতার স্বার্থেই এসব অনিয়মের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্ত কমিটির উপ-কমিটির প্রধান শাহজাহান খান বলেন, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন চিফ হুইপ থাকার সময় যা করেছেন তা শুধু অভিনবই নয়, সংসদের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তদন্ত কমিটির হাতে তার যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণাদি রয়েছে। এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সাবেক চিফ হুইপকে সংসদীয় তদন্ত কমিটির সমানে হাজির হতে বলা হবে। তার বক্তব্য শোনার পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla