Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

দেশ আবারো সাংবিধানিক এক প্রত্যাখ্যাত পরিবর্তনের পথে?

দেশ আবারো সাংবিধানিক এক প্রত্যাখ্যাত পরিবর্তনের পথে? [৩]
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামের উপর আঘাত করতেই চতুর্থ সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা সরকারের|
- বিশ্বের ১৭০টি দেশে নিজ নিজ রাষ্ট্র ধর্ম আছে
- পশ্চিমের ধর্মনিরপেক্ষ দেশের ধর্মভিত্তিক দল আছে
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামের উপর আঘাত করতেই বর্তমান সরকার চতুর্থ সংশোধনীতে ফিরে যেতে চায়। আইনমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ সংশোধনীতে ফিরে গেলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে। তিনি আরো বলেছেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানের মৌলিক অবস্থানে ফিরে যাবেন। আর ৭২-এর সংবিধানে মহান আল্লাহর প্রতি আস্তা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ছিল না।
আইনমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে বলেছেন, ??পঞ্চম সংশোধনী বিষয়ে হাইকোর্টে যে রায় এসেছে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার কথা বলা হয়েছে। আর গণতন্ত্রের সমাজ অসাম্প্রদায়িক সমাজ। ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই হলো ধর্ম যার যার, তার তার। ইসলাম ধর্মের সাথে কোনো তফাৎ নাই। এও বলছে, যার যার ধর্ম তার তার। এটাই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা।?? তিনি আরো বলেন, '৭২-এর সংবিধান অমৃত হিসাবে জনগণ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশ স্বাধীন করেছে। এতে অঙ্গীকার বাঙ্গালি জাতি গঠন।
'৭২-এর সংবিধান বা চতুর্থ সংশোধনীতে আমাদের জাতীয়তাবাদের, ধর্মীয় কোনো পরিচয় ছিল না। পঞ্চম সংশোধনীতে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে ইসলামী মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদের পরিচয় ঘটে। সংবিধানের প্রস্তাবনার সূচনায় ??বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম?? যোগ করা হয়। ??সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সকল কাজের ভিত্তি?? কথাগুলো ??ধর্মনিরপেক্ষতা??-এর স্থানে প্রতিস্থাপিত হয়।
পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত হচ্ছে- বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক পর্যায় থেকে আজ পর্যন্ত যে বক্তব্য এসেছে, তাতে এটা পরিষ্কার যে, তারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর সংবিধান থেকে ??বিসমিল্লাহ?? তুলে দিতে চায়। পৃথিবীর ১৭০টি দেশে বর্তমানে নিজ নিজ রাষ্ট্রধর্ম রয়েছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে কেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না, সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম থাকবে না এটাই অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন। স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর তারা বলছেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থাকবে না। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নেই, ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর বিশ্বাস করে রাজনৈতিক দল নেই, এটা ঠিক নয়, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। অভিজ্ঞ মহল আরো মনে করেন, সরকার ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বন্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথ পরিষ্কার করতে চান। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, চতুর্থ সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ইসলাম বা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলোকে বন্ধ করে দেয়া। সূত্র আরো জানায়, এই মুহূর্তে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশে চলমান প্রধান ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া। এটাকে সামনে রেখে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে এই সরকার। একটি বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে আরো জানা যায়, বিশেষ করে প্রথমে জামায়াতকে দুর্বল বা তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করার জন্যে যা যা করার দরকার, তাই করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল চেষ্টা করছে। একদিকে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ইস্যু, অপরদিকে চতুর্থ সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে সরকার তার এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়।

Comments

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla