Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

দিনবদলের চেহারায় মহাজোটেই শংকা |

দিনবদলের চেহারায় মহাজোটেই শংকা |
স্বজনঃ
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো নামে তো হ্নাধীন, কিশ্চু প্রকৃত অর্থে কতটা হ্নাধীন সে প্রশ্ন তো করাই যায়। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জনগণই এখনো হ্নাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার প্রধান প্রধান কারণগুলো হলো? গণতামিক সংস্কৃতির অভাব, শাসকদের ফ্যাসিবাদী মনোভাব, অর্থনৈতিক দৈন্য এবং দুর্নীতি, হ্নাধীন পররাষ্ট্রনীতি চর্চায় অক্ষমতা, বৃহৎ এবং আঞ্চলিক শক্তির আগ্রাসন ও খবরদারী। এই কারণগুলোর কিছু ঘরের এবং কিছু বাইরের। আর আমরা জানি যে, ঘরের সমস্যা দূর করতে পারলে বাইরের সমস্যা দূর করাও হয়ে ওঠে সহজ। আমরা লক্ষ্য করেছি, তৃতীয় বিশ্বে যেসব দেশ তাদের অভ্যশ্চরীণ সমস্যা দূরীকরণে সাফল্য পেয়েছে, বাইরের শক্তি তাদের সমীহ করেছে। ফলে ওইসব দেশের জনগণ হ্নাধীনতার সুফল পেয়েছে।
তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও রয়েছে ঘরের এবং বাইরের নানা সমস্যা। এসব সমস্যার কারণে বাংলাদেশের জনগণ ৩৮ বছর পরও হ্নাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত। জাতীয় নির্বাচনের সময় এই বঞ্চনার কথা বেশি করে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলো তখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনুকূলে নানা অঙ্গীকার ব্যক্ত করে, চমৎকার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। কারণ জনগণের মন জয় করতে না পারলে তো নির্বাচনে বিজয় সম্ভব নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল এভাবে বিজয়ী হলেও আজো সংকট জয়ে সমর্থ হয়নি তারা। ফলে বাংলাদেশের জনগণের দুর্ভোগও কমেনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও আবার জনগণের বঞ্চনার কথা, অভাব-অভিযোগের কথা নতুন করে ওঠে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা সাধারণতঃ হ?vস পায়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এই বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছে। দিনবদলের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ঘরের ও বাইরের সমস্যা দূর করে জনগণকে উন্নত জীবনের হ্নপ্ন দেখিয়েছে। জনগণের বড় একটা অংশ তাদের কথায় আন্সা এনেছে, ভোট দিয়েছে। ভোটের ফলাফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় গিয়েছে। জনগণ আশা করেছিল, এবার বঞ্চনা দূর হবে, মৌলিক অধিকারগুলো পাওয়া যাবে, জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। অতীতের আচার, অনাচার ও মন্দ উদাহরণ দূর হবে। কারণ দিনবদলের অঙ্গীকারনামায় এসব কথাই বলা হয়েছে, আর দিনবদলের অর্থও তাই। তবে আমরা একথা জানি যে, দিনবদল একদিনে কিংবা এক মাসে সম্ভব নয়, এর জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে একথাও সত্য যে, সকালটাই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে। অর্থাৎ সরকার এবং সরকারি দলের বিগত ১০০ দিনের কর্মকান্ড থেকে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, পাঁচ বছরের মেয়াদে সরকার কী করতে পারে, কতটা করতে পারে।
বিগত ১০০ দিনের কর্মকান্ডে আশাবাদের বদলে জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা। জনগণ এখন বলছে? আমাদের নয়, দিন বদল হচ্ছে সরকারি দলের লোকজনের। বিরোধী দলের সমালোচনা আরো কঠোর। সে কথা নাই বা বললাম, কিশ্চু মহাজোট সরকারের কোনো নেতাই যখন বলেন, ?দিনবদল মানে টেন্ডারবাজি আর হল দখল নয়' তখন এ কথার গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। শুধু জনগণকেই নয়, সরকার ও সরকারি দলকেও এ কথার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।
গত ২৬ এপ্রিল বগুড়ায় এক কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি এবং শিক্ষা মমণালয় সংক্রাশ্চ সংসদীয় ন্সায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান এমপি বলেন, দিনবদল মানে টেন্ডারবাজি নয়, হল দখল নয়, ভর্তি বাণিজ্য নয়। দিন বদল করতে হবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা যাতে ফসলের মূল্য পায় সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। আমরা তো সরকারকে সমর্থন দিয়েছি ২৩ দফার ভিত্তিতে। এর বাইরে কোনো কিছু করলে তার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। তার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টি দায়ী হবে না। কিশ্চু প্রশ্ন হলো, মাত্র ১০০ দিনের মাথায় দিনবদলের সরকারের অন্যতম রূপকার জনাব রাশেদ খান মেনন সরকারের কর্মকান্ডের দায়-দায়িত্ব থেকে নিজেকে এভাবে আলাদা করতে চাইলেন কেন? তাহলে সরকারের রোডম্যাপ কি তার পছন্দ নয়, অথবা সরকার কি ইতোমধ্যেই এমন সব মন্দ কাজ সম্পন্ন করেছে, যার দায়-দায়িত্ব গ্রহণে তিনি ভীত? কিশ্চু শুধু কর্মীসভায় মুখের কথায় অহ্নীকার করলেই তো দায়-দায়িত্ব থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। জনাব মেনন তো জাতির সামনে প্রকাশ্যেই দিনবদলের রূপকার হিসেবে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করেছিলেন। তাই আজ যদি তিনি সরকারি কর্মকান্ডের দায়-দায়িত্ব শুধু সরকারের কাঁধেই চাপাতে চান, তাহলে তার কারণ এবং জনহ্নার্থে তার কর্তব্য সম্পাদনের উদাহরণও প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেই বলতে হবে। কারণ তিনি তো দিনবদলের কথা বলেই নিজের জন্য এবং মহাজোট সরকারের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এবং জনগণও সেভাবেই তাদের ভোট দিয়েছিলেন। অতএব জনাব মেননের বক্তব্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
দিনবদলের সরকার যদি আসলেই দিনবদল করতে চান, তাহলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন দরকার, দরকার সুশাসন। এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সরকারের মাঠ প্রশাসন। কিশ্চু বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে সরকারি দলের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ক্যাডারদের খবরদারি চরম আকার ধারণ করায় প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) অফিস দখল, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেপরোয়া হস্তক্ষেপ, দাবি অনুযায়ী কাজ না করলে হত্যার হুমকি, কোথাও কোথাও হাত-পা ভেঙ্গে দেয়াসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে ভীতসমস্ত হয়ে পড়েছেন ইউএনওরা। এসব কথা উল্লেখ করে মাঠ প্রশাসন থেকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিজেদের জীবন বাঁচানোর প্রার্থনা জানিয়ে সংন্সাপন মমণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে শতাধিক ইউএনও। চিঠিতে তারা মাঠ প্রশাসনের অস্তিত্ব-সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন। আরো খারাপ খবর আছে। প্রধানমমীর অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদাবাজিতেও নেমেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রধানমমীর এক অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ডিপিডিসি) চাঁদাবাজিতে নেমেছে। শিল্প মালিকদের সভা ডেকে চাঁদা দাবির নতুন নজির ন্সাপন করেছেন ডিপিডিসি'র এমডি। এসব কীসের লক্ষণ। বাকশাল আমলে এক দল এক নেতার যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তেমন চিত্রই এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি দলের এমপিদের আচরণে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-১৯ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি তালুকদার তৌহিদ জয় মুরাদকে সংবর্ধনা দেয়ার লক্ষ্যে সাভারের অধরচন্দ্র মডেল হাইস্কুলের পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং ছাত্রীদেরকে প্রচন্ড রোদের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এছাড়া গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমমীর সাভার আগমন উপলক্ষে পুলিশ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন ন্সানে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় শত শত এইচএসসি পরীক্ষার্থী যথাসময়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এসব কি দিনবদলের লক্ষণ?
আমরা সবাই জানি দেশের বিদ্যুৎ পরিন্সিতির কথা। বিদ্যুতের সংকটের কারণে শুধু যে উৎপাদন হ?vস পাচ্ছে তা নয়, নতুন শিল্পও চালু করা যাচ্ছে না। নতুন শিল্প চালু না হলে বেকারদের কর্মসংন্সান হবে কেমন করে? আর বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনদুর্ভোগের চিত্র তো কারো অজানা নয়। অথচ প্রভাবশালীদের চাপে দু'টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পিছিয়ে গেল। গত সপ্তাহে দু'টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ন্সাপনের দরপত্র ন্সগিত করা হয়েছে। ১৫০ মেগাওয়াট করে এ দু'টি কেন্দ্রের মধ্যে খুলনা কেন্দ্রের দরপত্র দাখিলের তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল ও সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রের দরপত্রের তারিখ ছিল ২৭ এপ্রিল। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ একটি কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দরপত্র ন্সগিত করা হয় এবং খুলনা কেন্দ্রের দরপত্র দাখিলের সময় দুই মাস পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে বিদ্যুতের যে অবন্সা তাতে এভাবে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি?
এতো গেল জনদুর্ভোগ লাঘবে দিনবদলের সরকারের দায়িত্বশীলতার নমুনা। দখলের স্পৃহা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্ পর্যায়ে অবন্সান করছে, তার ন্যক্কারজনক উদাহরণ পাওয়া যায় শিবমন্দির ভাঙ্গার ঘটনায়। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরে অর্ধশত বছরের পুরানো শিবমন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। মন্দিরের জায়গাও আওয়ামী লীগের নজর থেকে বাদ পড়ছে না। অথচ তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলে। সেক্যুলারিজমের কথা বলে। আসলে বর্তমানে সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আচরণ দেখে দিনবদলের কথা ভাবা যায় না। তাহলে নির্বাচনের আগে তারা যেসব কথা বলেছেন, তা কি শুধু কথার কথা? সামনের দিনগুলোতে বিষয়টি হয়তো আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Comments

সেলিম সাহেবকে

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ব্লগে নিয়মিত লেখার জন্যে। মনে হতে পারে এ সাইটের পাঠক সংখ্যা তেমন একটা নয়, বাস্তবতা হচ্ছে কম লিখলেও এর নিয়মিত পাঠক কিন্তূ অনেক। আশা করি আপনার অংশগ্রহন নিয়মিত থাকবে।

আবারও ধন্যবাদ।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla