Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

দারিদ্র বিমোচন - A Phantom of the Opera বাংলাদেশ ষ্টাইল!

Khaleda and Hasina
দারিদ্র বিমোচন, শব্দ দু’টোর ভেতর এক ধরনের মিষ্টিক্যাল আমেজ আছে যা বজ্রপাতের মত আঘাত হানে বিবেকে, বিচ্ছুর মত আটকে থাকে মগজের অন্ধ প্রকোষ্ঠে। আসলেই ত, কে-না চায় দারিদ্র বিমোচিত হোক? ব্রুনাই সালতানাতের সুলতানকেও যদি জিজ্ঞাস করা হয় তিনিও বলবেন, ‘নিশ্চয়, আমিও চাই তামাম দুনিয়া হতে দারিদ্র নির্বাসিত হউক‘। এ নিয়ে বানী অর্চনার মেহফিল বসানো হলে সুলতান সোনার কমোটে বর্য্য নির্গমন শেষে ব্যক্তিগত ১৯৩২টা গাড়ি বহরের একটায় করে, নিজস্ব ৭ বিমান, দুই হেলিকপ্টার বহরের একটায় চড়ে উড়ে আসবেন, বলবেন দারিদ্র বিমোচনের সুলতানী কাহিনী। সন্দেহ নেই কল্পলোকের ভাগ্য বিধাতার দিকে বৃষ্টির মত বর্ষিত হবে ফ্লাশ লাইট, উদ্‌ঘাটিত হবে সুলতানের সুলতাননামার আর্শ্চয্য কাহিনী।

এমন একটা বিমোচনের মেহ্‌ফিল বাংলাদেশেও আয়োজন করা হয়েছিল। কথাছিল সূয়োরানী দূয়োরানী দূজনেই আসবেন, পাশাপাশি বসবেন, আলোকিত হবে মেহফিল এবং তারপর বাংলাদেশের দারিদ্র কাহিনী কেবল রূপকথার লুলাবাই হয়ে অনন্তকাল ধরে বেচে থাকবে এ দেশের ঘরে ঘরে। কিন্তূ মানুষ যা ভাবে তা বোধহয় সব সময় বাস্তবে রূপ নেয়না। বাংলাদেশেও হল তাই, রানীদের একজন আসেন্‌নি তাই জমেনি গল্প বলার আসর। মন্দ হতনা আমার মত যদু, মধু, রাম শ্যামরা যদি জানতে পারত এই দুই মহিলার ব্যক্তিগত দারিদ্র বিমোচনের অজানা কাহিনী! দারিদ্রের কসাঘাতে জর্জরিত কোটি মানুষের অনেকেই উপকৃত যদি যদি সূয়োরানী জানাতেন কোন মন্ত্র বলে বৈধ তেজারতী অথবা পরিশ্রম ছাড়া শুধু রাজনীতির মোহজালে মিলিওনিয়র তঘমায় সয়-সন্তানদের বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। আর দূয়োরানীর কাছে আমজনতার জানার ত কোন শেষ নেই! সেই যে মৃত স্বামীর ছেড়া গেঞ্জি আর আন্ডারয়্যার প্রদর্শনী দিয়ে শুরু, তারপর কোটি মানুষের চোখ আর নাকের পানিতে স্বামীর কাটা অসম্পূর্ণ খাল টাইটম্বুর করে ঢাকা শহরে ২০০ কোটি টাকার বাড়ি অর্জন, আউলা ঝাউলা বাউলা সরকার আমলে লাখ লাখ টাকা কর দিয়ে কোটি টাকা বৈধ করা, ডান্ডি ডাইং, ককো নেভিগেশন, এ তালিকার যেমন কোন আদি নেই, নেই তার অন্ত...। এসব আমাদের কাছে কেবলই রূপকথার গল্পের মত, শুনলে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে উত্তেজনার ঢেউ খেলে যায়! ভাবলেই চমৎকৃত হতে হয়, তা হলে বাংলাদেশেও সম্ভব ফকির হতে বাদশাহ হওয়া! উনারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে দারিদ্রের বিমোচন চাইলে ভাগাভাগি করতে পারতেন নিজদের উত্থানের ইতিহাস। এ হতে পারত সামনের নির্বচনে ক্ষমতা লাভের টিকিট নিশ্চিত করা। কিন্তূ জাতিকে শোক সাগরে ভাসিয়ে রানীদ্বয় খেল্‌লেন নিজদের চীরাচরিত সূয়োরানী-দূয়োরানী খেলা। আমরাও বঞ্চিত হলাম রাতারাতি দারিদ্রকে কবর দিয়ে হাওয়া ভবনের হাওয়ায় ভাসতে, সূধা সদনের সূধা পান করতে। কিন্তূ সব কিছু শেষ হয়ে গেছে এমনটা ভাবা বোধহয় ঠিক হবেনা, এই রানীমাতারা সামনের বছর ঠিকই এক মাহফিলে বসবেন, কথা বলবেন, হাসি-ঠাট্টায় জাতির মলিন বদনে ছড়াবেন আশার ঐশ্বরিক আলো। তবে তা হবে সেনাছাউনির লৌহ বলয়ে। কারণ ভয় বলে একটা কথা আছে, উর্দিওয়ালারা সময় অসময়ে রাক্ষস-খোক্কস বনে যায়, রানীমাতাদের বানায় মিন্টু রোডের সরকারী অতিথিশালার সন্মানিত মেহমান। তাই জাতির কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা হতাশ হবেন না, হাল ছাড়বেন না। বরং স্বপ্ন ভংগের বেদনা উপশমের জন্যে একটা গান শুনতে পারেন, ‘এই দিনটা দিন নয়রে আরও দিন আছে, এই দিনকে ঠেলে নেব সেই দিনের কাছে...'।

দারিদ্রের সাথে লড়াই করেই মানব সভ্যতার বিবর্তন হচ্ছে। এ লড়াই কোন নেতা-নেত্রীর অভয় আশ্বাষের জন্যে থেমে থাকেনি। পকেট আর পেটের দারিদ্র লড়াই করে জয় করা যায়, কিন্তূ মনের দারিদ্র জয় করার জন্যে প্রয়োজন আরও অনেক কিছু। আমাদের দুই নেত্রীর জন্যে একজন হা-ভাতে নাগরিকের উপদেশ থাকবে, হাতি-ঘোড়া সাজিয়ে দারিদ্র বিমোচনের মহাবানী ছড়ানোর আগে আপনারা নিজদের মনের দারিদ্র দূর করুন।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla