জাতির পিতার পরিবার আবাসন সুবিধাসহ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাবে
প্রথম আলো রিপোর্ট
জাতির পিতার পরিবারের সদস্যরা আবাসন সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাবেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনটি গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
জাতির পিতার পরিবারের সদস্য কারা, সে বিষয়টি পরে সংজ্ঞায়িত করা হবে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আরও বলেন, কুচক্রী মহল ও ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডের পর থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে। তাঁর বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবননাশের জন্য বহুবার চেষ্টা হয়েছে। তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা হয়। ওই হামলায় রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ আইন করেছে। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য সুরক্ষিত ও নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার কথা আইনে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০০১ সালে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য একটি আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। ওই সময় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণভবন ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি বরাদ্দ দিয়ে আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময় অনেক সমালোচনা হয়। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে আইনটি বাতিল করে দেয়।
ব্যক্তিগত ও দলবদ্ধ যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ বিচারে ব্যক্তিগত ও দলবদ্ধ অপরাধের বিচারের ধারা সংযুক্ত করে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৭৩ সালের আইনে অপরাধের জন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী বাহিনীর বিচার করার বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি ওই ধারা সংশোধন করে ব্যক্তিগত এবং দলবদ্ধ অপরাধ বিচারের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির যোগ্যতা হিসেবে হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি অথবা কোর্ট মার্শালের যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির কথা বলা আছে। সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন−এমন কোনো ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা সদস্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশোধনীতে বিচারকাজ পরিচালনার ভাষা হিসেবে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার কথাও বলা হয়েছে। সংশোধনীতে ট্রাইব্যুনালে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্বাহী হাকিমদের কিছু আইন প্রয়োগের ক্ষমতা: নির্বাহী হাকিমদের কিছু আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রস্তাবিত আইনে নির্বাহী হাকিমকে অপরাধ আমলে নিয়ে অর্থদন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে ৫৪টি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে। কিন্তু বর্তমান সংসদে অনুমোদন না হওয়ায় অধ্যাদেশটি অকার্যকর হয়ে যায়।
গতকালের বৈঠকে ভারতের ঘোষিত শুল্কমুক্ত অগ্রাধিকার সুবিধা (ডিএফটিপি) গ্রহণ ও ইচ্ছাপত্র (এলওআই) স্বাক্ষরের বিষয়টি অনুমোদিত হয়। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, ভারত সরকার স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় এ সুবিধা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫-১৬টি রাষ্ট্র এ সুবিধা নিতে ইচ্ছাপত্রে সই করেছে। এতে দেশের রপ্তানি বাড়বে। এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা এবং মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন অনুমোদন হয়েছে। বৈঠক সুত্র জানায়, নিয়মিত বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শুধু মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আগের সরকারের সময় করা পরিচালনা পরিষদ এখনো বহাল থাকায় প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্হিত ছিলেন।
http://www.prothom-alo.com/index.news.details.php?nid=MjQ3Nzc=
মন্তব্য:
যেই দেশে ১৫ কোটি মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই, সেই দেশে জনাবা হাসিনা নিজের এবং তার পরিবারের নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করে নিলেন। এ কেমন স্বার্থপরতা? নিজের জীবনটা নিয়ে যদি এতই ভয়, তাহলে বাংলাদেশে পড়ে আছেন কেন? আমেরিকা-কানাডা গিয়ে ছেলে-মেয়ের কাছে থাকুন।
বাংলাদেশে রয়েছে পাহাড় সমান সমস্যা এবং তার সাথে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন সমস্যা। আপনি সেই সমস্যাগুলোর দিকে দৃষ্টি না দিয়ে নিজের নিরাপত্তা, টাকার উপর আপনার পিতার ছবি, আপনার পিতাকে স্বাধীনতার ঘোষক - এসব নিয়েই ব্যাস্ত আছেন। শোনেন, মানুষের পেটে তিন বেলা ভাত না জুটলে, ইতিহাসের পাতা খেয়ে মানুষের পেট ভরবে না। সহজ সমীকরন। আগে ১৫ কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্হান, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাহলেই আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ১৫ কোটি মানুষের অন্তরে ঠাই পাবেন।
- Forums:
- Tag this post:
JUST VIEWED
Last viewed:
- রাজনীতির সার্কাস বনাম সার্কাসের রাজনীতি, ঠিকানাঃ নিউ ইয়র্ক
- খুলনায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকার
- ইউনূসকে নোবেল দেয়ার যুক্তি খুঁজে পান না অ্যাটর্নি জেনারেল
- সুন্দর বনের জন্যে ভোট; দেশপ্রেম এবং কিছু প্রাসংগিক ভাবনা...
- স্বাধীনতার ঘোষক, হাইকোর্টের রায় এবং একটু অন্যরকম চিন্তা
- এখানে সাকির নিতম্বে সূরার নৃত্য হয়না, এখানে এখন অন্ধকার
- রাজনীতির লাশ বনাম লাশের রাজনীতি, হ্যালো প্রধানমন্ত্রী!
- নিজামী-আমিনী-সাকা চৌ-খালেদার জন্য 'ভালবাসার' ভিডিও পত্র
- জাগরনে ডাক দেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে খোলা চিঠি
- যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত ইউনূস
- পুরনো বোতলে নতুন মদ (বাংলদেশী মদ ছেড়ে এবার বাঙ্গালী মদ)
- ছাত্রলীগের উপর হতে অন্যায় এবং অবৈধ চাপ তুলে নেয়া হোক
- বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের সাহষী সেনার অলৌকিক কাহিনী
- জেনারেল মইন গনতান্ত্রিক চেতনাকে দুপায়ে দলিত-মথিত
- দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া - সত্য-মিথ্যার দিনরাত্রি।
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 3 days ago - আমিও
3 weeks 4 days ago - about canada immigration
4 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 6 days ago - হুম!
5 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
5 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 2 days ago - Not fair!
6 weeks 4 days ago





Post new comment