Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ছোট হয়ে আসছে আমাদের পৃথিবী

অবিক্রীত পড়ে আছে পৌনে ২ হাজার কোটি টাকার সুতা
৯০ শতাংশ মিলমালিক কিস্তি খেলাপি; ঝুঁকির মুখে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক বিনিয়োগ; পোশাকের রফতানি আদেশ কমছে প্রতিনিয়ত
জিয়াউল হক মিজান, দৈনিক নয়া দিগন্ত
দেশের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এবং দ্রুত সম্প্রসারণশীল টেক্সটাইল শিল্প খাতে অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভারতীয় সুতার আগ্রাসনের শিকার এ শিল্প খাতের ৯০ শতাংশ মিলমালিকই ব্যাংকের কিস্তিখেলাপি হয়ে পড়েছেন। পৌনে দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ টন সুতা পড়ে আছে অবিক্রীত অবস্খায়। এ খাতের ৩৩০টির মধ্যে ১২টি কমপোজিট কারখানা ইতোমধ্যে বìধ হয়ে গেছে। ৩৫ থেকে ৪০টি কারখানা লোকসান দিয়ে কোনোমতে চালু রাখা হয়েছে আরো অধিক লোকসানের ভয়ে। এমতাবস্খায় অর্ধলক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগে তিলে তিলে গড়ে ওঠা তৈরী পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ এই পশ্চাদ শিল্পে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

জানা যায়, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে ইতোমধ্যে আমাদের তৈরী পোশাক রফতানি আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফরমায়েশ এখনো কেউ সরাসরি বাতিল না করলেও বেশির ভাগ আমদানিকারকই পণ্য পরিবহনের তারিখ পিছিয়ে দিচ্ছে। নতুন করে ফরমায়েশ আসছে না। পাশাপাশি আগে ফরমায়েশ দেয়া পণ্যেরও দাম কমিয়ে দেয়ার জন্য জোর চাপ অব্যাহত রেখেছেন ক্রেতারা। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র দেয়া তথ্যানুযায়ী, অর্ডার বিলম্বকরণের হার ২০ থেকে ২৫ এবং দাম কমানোর হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরী পোশাক বিদেশে রফতানি হয়েছিল। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতার প্রতি লক্ষ রেখে চলমান অর্থবছরের জন্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সে অনুযায়ী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অর্জনও হচ্ছিল আশা অনুযায়ী। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে যেখানে ২৪ শতাংশের বেশি হারে রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল, সেখানে জানুয়ারিতে এসে ধস নামে পোশাক রফতানিতে। প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে উল্টো আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ লাখ ডজন পোশাক রফতানি কমে যায় জানুয়ারি মাসে। আগের জানুয়ারিতে যেখানে এক কোটি ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ২৫৮ ডজন পোশাক রফতানি হয়েছিল সেখানে গত মাসে রফতানির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় এক কোটি ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৬ ডজনে।
ইউডি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের চিত্র আরো ভয়াবহ। মে-জুনের পর আর কোনো অর্ডারই থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বমন্দার পাশাপাশি টেক্সটাইল শিল্পের ওপর পড়েছে আরেকটি বাড়তি ছোবল। টেক্সটাইল শিল্পমালিকদের অভিযোগ, নিুমানের কম দামি ভারতীয় সুতায় সয়লাব হয়ে পড়ছে দেশের বাজার। সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে কম মূল্য দেখিয়ে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই আসছে টন টন সুতা। বৈধ পথে যে পরিমাণ সুতা আমদানি হচ্ছে তারচেয়ে ৩০ গুণ বেশি আসছে অবৈধ পথে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় সুতার ডাম্পিংয়ের জন্য স্পিনিং মিলগুলোয় অবিক্রীত পড়ে আছে দেশে উৎপাদিত এক লাখ টন সুতা। যার অনুমানিক মূল্য এক হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।
বিটিএমএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় সুতা আগ্রাসনের শিকার হয়ে দেশের ৩৩০টি স্পিনিং মিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২টি স্পিনিং মিল পুরোপুরি বìধ হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত লোকসান দিয়েও কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে আরো ৩৫ থেকে ৪০টি মিলকে। বìধ করে দিলে আরো বেশি লোকসানের ভয়ে তারা মিল চালু রেখেছে। বাকি চালু মিলগুলোরও উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। উদ্ভূত পরিস্খিতিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা স্পিনিং শিল্প এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এ খাতে কর্মরত ছয় লাখ শ্রমিকের চাকরি হারানোর। অথচ যে কারণে এত সব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই ভারতীয় সুতার আগ্রাসন বন্ধে সরকার পালন করছে নীরব দর্শকের ভূমিকা।

মন্তব্যঃ
আমাদের প্রতবেশী দেশ ভারতকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকেই আশংকা করেন দেশটি আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলছে এবং বহুমূখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দখলের পায়তারা করছে। আসলেই কি তাই? দ্বিমত করতে চাই ভারতীয় দখলদারী তত্ত্বের সাথে। উপরের আর্টিকেলটা পড়লে ধারনা করতে অসূবিধা হয়না, আমরা যদি আমাদের তিন দিকের সীমানা খূলে নেংটা হয়ে ভারতকে দেশ দখলের আমন্ত্রান জানাই ভারত ভূলেও এ মূখী হবেনা। কারন? বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতের সর্ববৃহৎ বাজার হিসাবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, ভৌগলিক ভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতের পাওয়ার কিছু নেই ১৫ কোটি পথভ্রষ্ট মানুষ ছাড়া। বেনিয়া ভারতীয়দের জন্যে বর্তমান বাংলাদেশ সোনার ভান্ডার, দেশ দখলের মাধ্যমে এ ভান্ডার হাতছাড়া করার মত বোকা ভারতীয়রা নয়।

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla