Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ছাত্রলীগের উপর হতে অন্যায় এবং অবৈধ চাপ তুলে নেয়া হোক

দলীয় হাইকম্যান্ডের সূরে সূর মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নেন্ত্রীবৃন্দ, বুদ্বিজীবি, সাংবাদিক সহ আওয়ামী ঘরনার সব অংশ হতে অংগ সংগঠন ছাত্রলীগকে বলি করা হচ্ছে চাদাবাজির ফিকির তুলে। লক্ষ্যনীয়, নেত্রী মুখ খোলার আগে এই তোতা পাখির দল যেন কিছুই দেখেনি, কিছুই বুঝেনি। অবাক হবনা যদি কোন এক সকালে পত্রিকা খূলে দেখি আওয়ামী আইনজীবি সমিতি ছাত্রলীগের কথিত অপকর্মের বিরুদ্বে সোচ্চার হওয়ার জন্যে নেত্রীকে "Daughter of Salvation" উপাধি দিয়ে তৈলমর্দন শুরু করে দিয়েছে! ছাত্রলীগের বিরুদ্বে এহেন বিশেষদ্গার অবৈধ, অন্যায় এবং দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে hippocratic. ব্যপারটা খোলাসা করার জন্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঝুলি হতে একটা উদাহরন টানছি।

আমাদের জেলা শহরে তখন ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটছে হু হু করে, চারদিকে হৈহৈ রৈরৈ কারবার। পরিকল্পনাহীন এবং কাঠামোগত সাপোর্ট ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। বার বার তাগাদা এবং বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দেয়া সত্বেও বর্জ্য পদার্থ নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় পৌরসভা। স্বভাবতই একটা পর্য্যায়ে শহরের খাল-বিল, ডোবা, নর্দমা ভরে উঠে রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থে। এমন একটা মোক্ষম সময়ের জন্যেই বোধহয় ওৎ পেতেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী চেয়ারম্যান। দলীয় ক্যডার দিয়ে আটকে দেন শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা, পাশাপাশি রাতের আধারে প্রতিটি কারখানায় ব্যক্তিগত দূত পাঠান সমস্যার সমাধান দিয়ে। কারখানা প্রতি ৩ লাখ টাকা ঘুষ, মোট টার্গেট ১ কোটি টাকা। মিয়ার ব্যাটার মত সেই একই হুমকি, " ... হয় টাকা নইলে কারখানা..."। ১৩টা খুনের হুকুমের আসামী এই বংগবন্ধু সৈনিক জীবনের একটা সময় দুমুঠো আহারের জন্যে পরিবারিক সহকারী হিসাবে আমাদের নিত্যদিনের বাজার-সদাই করতেন, যার কারনে আমাদের কারখানার জন্যে ধার্য্য করা হয় ২ লাখ টাকা (ডিসকাউন্টেড!)। ৭৫ লাখ টাকা আদায়ের মাধ্যমে খুলে দেয়া হয় শহরের নিস্কাষন ব্যবস্থা। খবরটা সময়মত পৌছে যায় পঞ্চমশ্রেনী ফেল, চার বিবির স্বামী স্থানীয় বিএনপির সাংসদের কানে। ঢাকা হতে জরুরী তারের মাধ্যমে মাঠে আনা হয় তৎকালিন পরিবেশ মন্ত্রী আকবর হোসেনকে। শুরুহয় চাদা আদায়ের নতুন খেলা। মন্ত্রীকে ৫ লাখ এবং এমপিকে ৫ লাখ দিয়ে খোলাহয় কারখানার দুয়ার। সমস্যার কেবল মাত্র শুরু যেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল প্রতি কারখানায় ২/৩ জন সসস্ত্র ক্যাডার বসিয়ে বন্ধ করে দেয় কারখানা, রাতের আধারে আসতে শুরু করে বাকি পিপড়ার দল; থানা, পুলিশ, এসপি, ডিসি, সাংবাদিক... সবার কিছু চাই, কারন পরিবেশ দূষিতকরনের মূল্যত দিতেই হবে! বিএনপির পতন এবং আওয়ামী উত্থানের পর একই সমস্যার পূনঃজন্ম হয়, এবার দলের বদলে লীগ!

ঘটনাটার সারমর্ম হচ্ছে, সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার সহ প্রশাষনের সর্বস্তরে যদি নীরব চাদাবাজি বৈধ হয় তাহলে ছাত্রদের বেলায় এমন দ্বিমূখী মনোভাব কেন? বরং প্রকাশ্য চাদাবাজির কিছু ভাল দিক রয়েগেছে, যেমন, চাদাবাজরা ভাল সাজার চেষ্টা করেনা, নিজদের চেহারা লুকাতে রাতের আধারে হাজির হয়না, তৃতীয় কাউকে পাঠায়না। আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের জন্যে চাদা আদায় আর ছাত্রদের টেন্ডারবাজির মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই, আছে গুনগন পার্থক্য। একজন করে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আর ছাত্ররা করে প্রকাশ্যে, হাতে নাংগা তলোইয়ার উচিয়ে।

তাই আসুন, আমরা সোচ্চার হই ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার্থেঃ ছাত্রলীগের চাদাবাজি চলছে চলবে, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি বৈধ কর বৈধ কর...। জয়বাংলা!!!

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla