Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কী জবাব আছে বেগম জিয়ার?

tarzan09's picture

আবুল হোসেন খোকন
Photobucket
আমার এক ঘনিষ্ঠজন বলছিল, সরকারের এই কি কাজ? এতোদিন ধরে যে মানুষটি ওই বাড়িতে বাস করছেন, কতো স্মৃতি সেখানে তার, সেই বাড়িটি কি কেড়ে নেওয়া উচিৎ হচ্ছে? জবাবে আমি বললাম, বাড়ির মালিক তো আর উনি নন, মালিক সরকার, সরকারের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান। তারা ইচ্ছে করলে নিয়ে নিতেই পারেন। ঘনিষ্ঠজন বললো, তারপরেও নেবেন কেন? একজনকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া কি ঠিক? তাও আবার দেশের রাজনৈতিক নেত্রীকে। জবাবে বললাম, ঘটনা তো ওখানেই। এক সময় উনি স্বামী হারিয়েছিলেন। এতিম হয়ে গিয়েছিল দুইটি বাচ্চা। স্বামীর কিচ্ছু ছিল না, ছেঁড়া গেঞ্জি গায় দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। সুতরাং সরকার ওনাকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর মাত্র এক শ’ এক টাকায় ১০ বিঘার মতো জমির ওপর রাজকীয় প্রসাদসহ সম্পদ লীজ দিয়ে দিয়েছিল। শুধু ক্যান্টনমেন্ট নয়, গুলশানের অভিযাত এলাকায়ও এরকম রাজকীয় প্রাসাদসহ সম্পত্তি দিয়েছিল। তারপর তো সময় গড়িয়েছে। এতিম ছেলেরা জাহাজের মালিক থেকে শুরু করে যতো ব্যবসা-কারবার আছে সবকিছুরই মালিক হয়েছে। বাবা ছেঁড়া গেঞ্জি পড়েছেন কিন্তু ছেলেরা দেশে-বিদেশে এতো হাজার হাজার কোটি টাকা জমিয়ে ফেলেছেন যে পৃথিবীর কোন ধনবানও এতো কম সময়ে এতোটা করতে পারেননি। এই তো গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাদের জমানো এবং পাচার করা যতো টাকা এবং সম্পত্তির হিসেব বেরিয়ে আসছিল­ তাতে আলাউদ্দিনের চেরাগেরও চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। সুতরাং আজ ওনার ছেলে-আত্মীয়দেরও অর্থ-বিত্ত্বের অভাব নেই, ওনার নিজেরও নেই। তারপরেও উনি কেন ওই জায়গা ধরে রাখবেন? বিশেষ করে উনি যখন এই গরীব দেশের দেশনেত্রী!

জবাবে আমতা আমতা করে ঘনিষ্টজন বললো, তাই বলে সরকারকে কি বাড়ি কেড়ে নিতে হবে? কেন নেবে? জবাবে আবার বললাম, এখানে কতগুলো যুক্তির বিষয় আছে, নৈতিকতার বিষয আছে, আর আছে শর্তভঙ্গেরও ব্যাপার। নিশ্চয়ই-ই কেও চাইবে না ক্যান্টনমেন্টের মতো জায়গায় রাজনীতির আখড়া থাকুক। তাছাড়া লীজের বাড়ি তো কেও নিজের মনে করতে পারেন না, নিজের মনে করে বাড়ির নকশাও বদলে ফেলতে পারেন না, সেখানে নিজের এবং নিজের ছেলে-আত্মীয়দের ব্যবসায়িক হেডকোয়ার্টারও বানাতে পারেন না। এগুলো করলে ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা থাকে না, বিধি-বিধান থাকে না, নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকে না। অথচ এই অনৈতিক কাজগুলোই করা হয়েছে, একটি পক্ষের রাজনৈতিক আখড়া বানানো হয়েছে জায়গাটিতে। সুতরাং কোন সুস্খ মানুষ কি এটা চাইতে পারেন? পারেন না। সরকারকে সেই দায় থেকেই ব্যবস্খা নিতে হবে। নিয়েছেও। আর যে কোন বিবেকবান মানুষই এইসব কারণে সে বাড়ি ছেড়ে দেবেন­ এটাই স্বাভাবিক। আর দেশনেত্রী হলে তো আরও অনেক অনেক আগে এটা করা উচিৎ ছিল। এই উচিৎ কাজটি করলেই কেবল তিনি সত্যিকারের নেত্রী হতে পারতেন, নি:স্বার্থ হতে পারতেন, বড় মনের বলে পরিচিত হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তো তা করছেন না। না করে লীজের বাড়ি দখলে রাখতে সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলন করাচ্ছেন। এটা কি কোন রাজনৈতিক দলের কাজ হতে পারে? দল কি ব্যক্তির অবৈধ বাড়ি দখলে রাখার জন্য? তাই যদি হয় তাহলে দেশ এবং মানুষের জন্য রাজনীতি কোথায়? আর একটা কথা হলো, আগে তো আমরা জানতাম, ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি বৈধভাবে লীজ দেওয়া হয়েছে, এখন দেখা যাচ্ছে বৈধভাবে দেওয়া হয়নি। আর, একজনকে দুটি বাড়িও দেওয়া যায় না। এটা অন্যায়, অবৈধ, অনৈতিক এবং গণবিরোধী। অথচ এ কাজগুলোই হয়েছে। এখানে কোন দল বা নেত্রী কথা বলেন কিভাবে? মানুষকে বোকা বানানো এতোই সহজ?

আমার ঘনিষ্টজন বললো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো বলেছেন বিডিআরের নিহত কর্মকর্তা পরিবারদের ফ্লাট করে দেওয়ার জন্য ওই বাড়িটি দরকার। তা হবে কেন? ওই জায়গা দরকার হবে কেন? ফ্লাট করতে কি আর জায়গা নেই? জবাবে আবারও বলালাম, বলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী এই জায়গাটায়ই বড় ভুল করেছেন। এটা বলে তিনি অনাকাক্ষিত ইস্যু তুলে দিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। সম্ভবত তাঁকে বিভ্রান্ত করে কেও এটা বলিয়েছেন, বলিয়ে বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছেন। যদি তাই-ই হয়ে থাকে তাহলে যারা এটা বলিয়েছেন তাদের অসৎ কোন উদ্দেশ্য কাজ করেছে। আসলে কথা বা ইস্যু তো ফ্লাট বানানো নয়, কথা বা ইস্যু হলো ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে একটি পক্ষের রাজনৈতিক মাথাকে সরানো, ষড়যন্ত্র-কূটতৎপরতা বন্ধ করা এবং সবকিছুকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা। এতে কিন্তু কোন মানুষেরই আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু একটা ভুল শব্দ উচ্চারনের জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়েছে। আমার ঘনিষ্টজন বেগম জিয়ার স্বামীর স্মৃতিবিজরিত বিষয়ক কথা বলছিল। জবাবে বললাম, কার স্মৃতি, কীসের স্মৃতি। যিনি স্বামী হত্যার বিচার চান না, হত্যা মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাখেন, তার আবার স্বামীর স্মৃতি কি?................

এতোক্ষণ ঘনিষ্টজনের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা উল্লেখ করতে হলো এইজন্য যে, এটা শুধু এক ঘনিষ্টজনের প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা অনেক মানুষের ভেতরই দেখেছি। এ নিয়ে নানা কথা বলতে শুনেছি। সে কারণে প্রসঙ্গটি তুলতে হলো। কথা হচ্ছে, একজন মানুষের কতো চাই? বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তার সম্পদের বিবরণীতে দেখিয়েছেন, গুলশানে তার ১৬ কাঠার ওপর বাড়ির দাম ১০০ টাকা, আর সেনানীবাসে ৯ বিঘা জমির ওপর বাসভবনের দাম ৫ টাকা। তিনি এসব মিলিয়ে দেখিয়েছেন তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকার। সত্যিই কি তাই-ই? এটা কিন্তু শুধু গুলশানের রাজকীয় ভবন আর ক্যান্টনমেন্টের রাজপ্রাসাদের দাম হিসেব করলেই বোঝা যায়। যাই হোক, তিনি যে তার ৫ কোটি টাকার মোট সম্পদের বিবরণী দিয়েছেন তারমধ্যে দেখিয়েছেন বাৎসরিক আয় প্রায় ২৬ লাখ টাকা। বাড়ি, এপার্টমেন্টসহ অন্যান্য ভাড়া থেকে পান ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে পান পৌনে ৮ লাখ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। স্খাবর-অস্খাবর সম্পত্তির মধ্যে তার আছে ১২ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যমাণের অকৃষি জমি এবং ১০৫ টাকা মূল্যমাণের ওই দুই বাড়ি।

সামরিক বাহিনীর অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ১৯৮১ সালে বেগম জিয়ার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তার জীবদ্দশায় কোন সম্পদ ছিল না, ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা ছুটকেস নিয়ে জীবন কেটেছে­ তা আগেই বলেছি। কিন্তু স্বামী নিহত হওয়ার পর বেগম জিয়া যে সুযোগ-সুবিধাগুলো সরকার বা রাষ্ট্র থেকে পেয়েছেন­ তা বাংলাদেশ বা এ উপমহাদেশের ইতিহাসে কেও কখনও পায়নি। ওই সময় তাকে দুটো রাজপ্রসাদতুল্য বাড়ি-জায়গা-জমি-সম্পদ দেওয়ার পরেও যে সুযোগগুলো দেওয়া হয়েছিল তার উল্লেখ্যযোগ্য হলো, বিলাশবহুল সকল রকম যানবাহন বিনামূল্যে ব্যবহার, দুই ছেলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা-লেখাপড়ার খরচ, চাকর-বাকর এবং পরিবার-পরিজনসহ বিদেশ ভ্রমণের সকল ব্যবস্খা। বেগম জিয়া এর সবই রাজকীয়ভাবেই ব্যবহার করেছেন। প্রশ্ন হলো জেনারেল জিয়াউর রহমান এমন কি ছিলেন, দেশের জন্য কী অবদান রেখেছিলেন যে তার গোটা পরিবার এমন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন চীরকাল ধরে? তিনি সেনাবাহিনীর লোক ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন, শেষে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। কেন, এরচেয়েও বেশীকিছু কি আর কারও ছিল না? যিনি মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের শ্রষ্টা সেই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা তাঁর পরিবার কি রাষ্ট্রীয় এমন কোন সুবিধা পেয়েছেন? রাষ্ট্র কি একটু কিছুও তাদের জন্য দিয়েছে? দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধে আরও সেক্টর কমাণ্ডার ছিলেন এবং তাদেরকেও হত্যা করা হয়েছে, কই তারা বা তাদের পরিবার কি কিছু পেয়েছেন? মুক্তিযুদ্ধের যে চার জাতীয় নেতা এবং যাঁদের জেলখানার ভেতর ঢুকে হত্যা করা হয়েছে­ তারা বা তাঁদের পরিবার কি কেও কিছু পেয়েছেন? মুক্তিযুদ্ধের আর কোন নেতা বা কোন সেক্টর কমান্ডার কি এমন কোন সুবিধা পেয়েছেন? জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসনের সময় সামরিক বাহিনীর হাজার হাজার অফিসার এবং জওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে, কই তারা বা তাদের পরিবার-পরিজন কি কোন রকম সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন? রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-সেনাবাহিনীর লোক তো আরও অনেকে আছেন­ তারা কি কেও বেগম জিয়ার মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন বা নিয়েছেন? না, কেও পাননি, কেও নেননি? তাহলে ‘দেশনেত্রী’ হয়ে বেগম জিয়া কোন্ লজ্জায় এগুলো নেন? এগুলো রক্ষার জন্য গোটা দলকে দেশময় মাঠে নামান?

আগের কথাই আবার বলছি, বেগম জিয়ার স্বামী জেনারেল জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় নাকি কোন সম্পদ করেননি, ছোঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা ছুটকেস নিয়ে চলেছেন। কিন্তু এখন তো আর ছুটকেসের অভাব নেই। গেলবার ক্ষমতায় থাকাকালে বেগম জিয়া সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্জ পালনের নামে ৪০০ সুটকেস নিয়ে গিয়েছিলেন। আজকের যুগের ছুটকেস মানে যা-তা কথা নয়। ওই সুটকেস কোন ব্রিফকেস বা ব্যাগ নয়। রীতিমতো আলীশান জিনিস। সেই আলীশান ৪০০ ছুটকেস নিয়ে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আরও ৬/৭ জন। সুতরাং আলীশান ৪০০ ছুটকেস মানে এক বিমান ভর্তি সুটকেস। মাত্র ৬/৭ জন মানুষ এক বিমান বোঝাই ছুটকেস নিয়ে গিয়েছিলেন কেন? কী ছিল ওই সুটকেসে? এই ছুটকেস নিয়ে তখন জাতীয় সংসদসহ সর্বমহলে ব্যাপক সমালোচনা এবং কথা উঠেছিল। আজও ওই ঘটনার ফয়সালা হয়নি। প্রশ্ন হলো ৬/৭ জন মানুষের জন্য কয়টি ছুটকেস লাগে? একএকজনের দুটো করে হলেও ১৪টি। না হয় রাজকীয় ওমরাহ (!) বলে ধরেই নিলাম আরও বেশী লাগার কথা। বেশী মানে কতোটি? একএকজনের নিশ্চয়ই কোন অবস্খায়ই ৫টির বেশী লাগার কথা নয়। তাহলেও মোট সুটকেস হবার কথা ৩৫ টির মতো। অথচ ৪০০ ছুটকেস! ভাল কথা, ছুটকেস না হয় গেল, তারপর ফেরত তো আসবে। কিন্তু তা এলো না কেন? তাহলে কী ছিল ওই ছুটকেসে? যা গেল কিন্তু ফেরত এলো না! কি পাচার হলো? এসবের জবাব কিন্তু প্রয়োজন। কী জবাব আছে ওনার?

আবুল হোসেন খোকন : সাংবাদিক-কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।

নিউ ইয়র্ক হতে প্রকাশিত'খবর' হতে

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla

JUST VIEWED

Last viewed: