Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কালো টাকা সাদা এবং ১০% শুভংকরের ফাকি...

দেশীয় রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে চুরি এবং এই চুরিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতাহীন রাজনীতি। আমি মনে করি শুধু কালো টাকা সাদা নয় বরং চুরিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে এ পথে আয়কৃত অর্থকে দেশীয় অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে স্বাগত জানালে এক ঢিলে অনেক পাখী মারা সম্ভব হবে। প্রথমত, রাজনীতিবিদ্‌রা চুরি চামারি শেষে দিনান্তে বাড়ি ফিরে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন, ১/১১'র দুঃস্বপ্ন তাদের তাড়িয়ে বেড়াবেনা। দ্বিতীয়ত, আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ভূত হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাবেনা। তৃতীয়ত, আমাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় উত্তরমূখী যাত্রা শুরু করবে। এ ধরনের অর্থ বাজারে বিনিয়োগ হলে সমাজে চরম বৈষম্য এবং নৈরাজ্যের পাশাপাশি আইন শৃখংলা পরিস্থিতীর ব্যাপক অবনতি হবে এবং তা দেখভাল করার জন্যে পুলিশ সহ অনেক দপ্তরে ব্যপক চাকরীর সম্ভাবনা তৈরী হবে। পুলিশ মানেই লারেলাপ্পা মার্কা চুরি, আর চুরি মানেই নতুন নতুন চাকরী...দেশে জ্যামিতিক হারে কমতে থাকবে বেকারত্ব।

থাইল্যান্ডের কথা মনে আছে আপনাদের? চরম দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে সে দেশের জনগন হাবুডুবু খাচ্ছিল বাচামরার লড়াইয়ে। দেশটির রাজা চমৎকার এক উদ্বার পরিকল্পনা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হন। রাজা দেশের মহিলাদের সামনে হাতজোড় করে বিনীত অনুরোধ করেন বেশ্যাবৃত্তিতে নাম লেখাবার জন্যে। রাজার আদেশ শিরোধার্য, শুরু হয় রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় পতিতাবৃত্তি। বিদেশ হতে পতিতাখেকোর দল মিছিল করে আসতে শুরু করে ব্যাংককে, সাথে আসতে থাকে বৈদেশিক মুদ্রা। এভাবেই শুরু হয় নতুন থাইল্যান্ডের যাত্রা। একটা পর্য্যায়ে এসে রাজা নতুন আবেদন নিয়ে হাজির হন দেশবাসীর সামনে, অনেক হয়েছে বেশ্যাবৃত্তি, এবার অর্থনীতির ভীত গড়ার পালা। ভাল-মন্দের বর্তমান থাইল্যান্ডের চিত্র আমাদের চোখের সামনে।

থাইল্যান্ডের বেশ্যাবৃত্তিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চুরি দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে কে জানে আমাদের ভগ্যাচাকাও হয়ত আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করবে।

On a serious note; ক'মাস আগে মার্কিন ইন্স্যুরেন্স জায়ান্ট AIG'কে Chapter 11 (দেউলিয়া) হতে রক্ষার জন্যে ওবামা সরকার বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স মানি সহায়তা দিতে বাধ্য হন। এ কর্পোরেট জায়ান্ট এবং তার এক্সিকিটিভরা পুরানো অভ্যাস পরিত্যাগ না করে ভিক্ষার টাকা হাতে পেয়েই লাখ লাখ ডলারের বোনাস নিজদের মধ্যে ভাগা ভাগি করে নেন। টনক নড়ে ওবামা সরকারের, তাত্ত্বিক অর্থে দেয় টাকার উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন ছিলনা, বিধায় সরকার আশ্রয় নেয় বাকা পথের। শতকরা ৯০ভাগ কর ধার্য্য করা হয় বোনাসের উপর। পরের ধনে পোদ্দারী করার মজ্জাগত অভ্যাসে ছুড়ি চালিয়ে ওবামা সরকার বুঝিয়ে দেন দিন বদলের সময় এটা। প্রাসংগিক ভাবে বাংলাদেশের অবৈধ আয়ের অর্থে মাত্র ১০ভাগ কর না বসিয়ে তা অনেক বেশী করে চোরদের সামনে প্রকাশ করলে রাষ্ট্রীয় চোরের দল তা গিলতে বাধ্য হত। সমস্যা হচ্ছে আইন প্রনয়নকারীদের প্রায় সবাই চোর including the PM। মুহিত সাহেব ক'দিন আগে কালো টাকা সাদা করার ব্যবসার চরম বিরোধি ছিলেন, তাহলে আমরা কি ধরে নেব প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং হস্তক্ষেপ করেছিলেন সিদ্বান্ত বদলাতে? সময়ই তা প্রমান করবে।

Comments

২ লাখ কোটি টাকা 'কালো'

সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের আমল থেকে কালো টাকা সাদা করার ধারাবাহিকতা চলছে

রুকনুজ্জামান অঞ্জন
দেশে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা রয়েছে। এটি মোট সরকারি বিনিয়োগের প্রায় ৬ গুণ এবং মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আনিসুল হক জানিয়েছেন, দেশে কালো টাকার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। কালো টাকার পরিমাণ নিয়ে প্রায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে। ২০০২ সালে বিশ্বব্যাংক বিশ্বের ১১০টি দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থের পরিমাণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশে কালো টাকার হার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৩৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা; আর ২০০৯-১০ অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেশে যে পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে আনুপাতিক হারে তা মোট সরকারি বিনিয়োগের প্রায় ৬ গুণ এবং মোট জিডিপির প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগের সমান। আর এ বিশাল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ করের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সালে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে অধ্যাদেশ জারি করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫টি সরকারের আমলে এ সুযোগ দেয়া হলেও মাত্র ১৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা কর দিয়ে বৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়ার সামরিক শাসনামলে ৭০ কোটি টাকা, এরশাদের আমলে ৮৫০ কোটি টাকা, আওয়ামী লীগের আমলে ১ হাজার কোটি টাকা, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার কালো টাকা কর দিয়ে বৈধ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার বিনিয়োগের যুক্তি তুলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। তবে এরপরও কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণ না কমে বরং বেড়েই চলেছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ (রুমী) আলী। 'সংবাদ'কে তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত এ বিপুল পরিমাণ আয় কখনোই বিনিয়োগের বাইরে ছিল না। যে পরিমাণ অর্থ করের আওতার বাইরে রয়েছে অর্থাৎ অপ্রদর্শিত রয়েছে তার সবই যদি বিনিয়োগের বাইরে থাকত তবে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যেত। কোন না কোনভাবে এসব অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে এবং বিনিয়োগকৃত এ অর্থই ফুলে-ফেঁপে আবার কালো টাকার পাহাড় গড়েছে।

২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত মহাজোট সরকারের প্রথম বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর নির্ধারণ করে কর্মসংস্থান বাড়াতে উৎপাদনমুখী খাতসহ সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছেন। অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা প্রসঙ্গে সরকারি ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যারা সুযোগটি নেবেন বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে তাদের আয়ের কোন উৎস জানা হবে না। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের (২০০৫-০৬) অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে আয়কর আইনের একটি ধারা চালু আছে, যা ১৯(এ) নামে পরিচিত। ওই ধারায় যে কোন শিল্প খাতে বিনিয়োগ করলে আয়ের উৎস জানা হয় না। আর এ ধারাতেই মহাজোট সরকারের প্রথম বাজেটে উৎপাদনমুখী শিল্প খাত ও ভৌত অবকাঠামো খাতে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য (আয়কর ও নীতি) আলী আহমদ বলেন, অপ্রদর্শিত আয়কে প্রদর্শন ঘোষণা কোন অবৈধ কার্যক্রমের আওতায় পড়ে না। আয়কর আইনের ১৯-এ ধারায় এ ধরনের সুযোগ দেয়ার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, আয়কর আইনের বিভিন্ন শ্রেণী-বিভাজনের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে কর অনারোপিত বা অপ্রদর্শিত আয়ের সৃষ্টি হয়। তাই এ আয়ের ওপর কর আরোপের ব্যবস্থা না করলে আরও কালো টাকার জন্ম হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, স্বাধীনতা-উত্তর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৬ সালে প্রথম দেশে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। সামরিক অধ্যাদেশে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তখন এ সুযোগের আওতায় ৭০ কোটি টাকা সাদা করা হয়। আর এ থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে মাত্র সাড়ে ১০ কোটি টাকা। এরপর এরশাদ শাসনের শেষদিকে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে ২০ শতাংশ কর ধরে আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। ওই বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকা বৈধ করা হয়। পরে রাজস্ব ও বিনিয়োগ বাড়াতে এরশাদ সরকার কালো টাকা সাদা করার নিয়ম আরও সহজ করে মাত্র ১০ শতাংশ হারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়। এ সুযোগে ১৯৮৮-৮৯ ও ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা সাদা করা হয়। এর মধ্যে প্রথম অর্থবছরে ২৫০ কোটি টাকা এবং পরের অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধ করা হয়।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন সাইফুর রহমান তার বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগকে নিরুৎসাহিত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনিয়োগের স্বার্থে আবারও ১০ শতাংশ হারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধ করা হয়। তবে আগেরবার মুখ ফিরিয়ে থাকলেও পরের বার ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আর কালো টাকার দিক থেকে মুখ ফেরাননি। বরং তিনি আগের সরকারের চেয়ে এক্ষেত্রে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে গাড়ি-বাড়ি ও শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেন। গত জোট সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১০ শতাংশ আয়কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ঘোষণা করেন। আলোচ্য অর্থবছরে সাইফুর রহমান তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, 'দেশে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত আয় আছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। এ ধরনের অপ্রদর্শিত আয় কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই বিনিয়োগ করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।' তখন এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে এবং সাইফুর রহমান নিজেও এ ধরনের সুযোগ দেয়াকে অনৈতিক বলে স্বীকার করেন; কিন্তু তার সরকারের ক্ষমতার শেষ মেয়াদেও (২০০৬-০৭) প্রবল চাপের মুখে ওই সুযোগটি অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি; শুধু তাই নয়, ক্ষমতার শেষ বছরে আরও আগ্রাসী হয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৬-২০০৫) ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হলেও জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেন। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে সাইফুর রহমান অভিজাত এলাকায় বাড়ি-গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে পরোক্ষভাবে এসব খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেন। ওই বাজেটে ঢাকার গুলশান বনানী, বারিধারা, ধানমণ্ডি, ডিওএইচএস ইত্যাদি এবং চট্টগ্রামের খুলশী ও পাঁচলাইশ অভিজাত এলাকার ২০০ বর্গমিটার এরিয়ার বাড়ি ও ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ৩০০ টাকা এবং ২০০ বর্গমিটারের অধিক বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য ৫০০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া একই বাজেটে জমি ক্রয়ের জন্য করের হার ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে করের হার ৫ ও সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে যথাক্রমে ১০ ও ১৫ শতাংশ করা হয়। আর এ হারে ২০০৫-০৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০০৬-০৭ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬০৩ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়। ওই সময় ৭ হাজার ২৫৪ জন তাদের কালো টাকা সাদা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাপকভাবে দুনর্ীতি দমন অভিযান শুরু করলেও বিনিয়োগের স্বার্থে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ আগের সরকারগুলোর মতো অব্যাহত রাখে। ২০০৭ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথমবার বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে বিশেষ আদেশ জারি করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেন, যা এসআরও ৯৮ নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে আগের নিয়ম পরিবর্তন করে প্রচলিত কর হার ও তার সঙ্গে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে সুযোগটি দেয়া হয়। ব্যাপক ধরপাকড় ও দুনর্ীতিবিরোধী অভিযানের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু'বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার অপ্রদর্শিত আয় নির্ধারিত কর দিয়ে বৈধ করা হয়। এর মধ্যে শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৫৯১ জন নির্ধারিত কর দিয়ে ৮ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করেন। পরের বছর দুনর্ীতিবিরোধী অভিযান কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রেও ভাটা পড়ে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (নির্বাচনের আগ পর্যন্ত) মাত্র ১৪ হাজার ৬২২ জন করদাতা ৭৮৮ কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করেন। এনবিআর সূত্র জানায়, ওই সময় যারা কালো টাকা সাদা করেছেন তাদের মধ্যে শতকরা ৭১ ভাগেরই বসবাস ঢাকায়, ১৯ ভাগ চট্টগ্রামের এবং বাকিরা অন্যান্য স্থানের। কালো টাকা সাদা করার তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। এছাড়া ডাক্তার, প্রকৌশলী, কাস্টমস অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, আমলা, গৃহিণী এমনকি রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ গ্রহণ করেন।

এমনকি জোট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শর্তসাপেক্ষে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেয়া হলে সে সুযোগ গ্রহণ করেন খোদ বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান তার কালো টাকা সাদা করার জন্য এনবিআরে আবেদন জানান। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ পেলেও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের আবেদন আমলে নেয়নি এনবিআর।

সূত্রঃ দৈনিক সংবাদ

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla