এখানে সাকির নিতম্বে সূরার নৃত্য হয়না, এখানে এখন অন্ধকার
বিএনপি শাসনামলের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাহজাহান ওমরের ‘বীরউত্তম ভবন’ এ এখন আর সন্ধ্যাবাতি দেয়ারও কেউ নেই
ভিওবিডি, ঢাকা থেকে
বিএনপি শাসনামলের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সীমাহীন দুর্নীতির জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ‘বীরউত্তম ভবন’ নামের এ প্রাসাদোপম অট্টালিকায় এখন আর সন্ধ্যাবাতি দেয়ারও কেউ নেই। ২০০৬ সালের ২৭ মার্চ জমকালো উদ্বোধনের পর খোদ ওমরও এখানে ২/১ রাত থেকেছেন কিনা সন্দেহ। আর বর্তমান পরিস্খিতিতে বুধবার তিনি কারাগারে যাওয়ার পর আবার কবে এখানে আসতে পারবেন তা কেউ জানে না। দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িটি নির্মিত হয়েছে ব্রিটিশ আমল থেকে ওই এলাকায় ব্রাউন সাহেবের বাড়ি হিসেবে পরিচিত বিশাল জমিতে। ব্রাউনের নামেই এলাকাটির নামকরণ হয় ব্রাউন কম্পাউন্ড। ব্রিটিশ আমল থেকে সরকারের মালিকানাধীন ব্রাউন সাহেবের ওই বাড়ি এবং জমি কি করে শাহজাহান ওমরের মালিকানায় এসেছে তা অবশ্য আজও রহস্য হয়ে আছে।
নির্মাণশৈলীর দিক দিয়ে এ বাড়িটিই এখন দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর এবং ব্যয়বহুল ভবন হিসেবে পরিচিত। বিশাল একটি এলাকা দেয়াল দিয়ে ঘিরে তার ভেতরে তৈরি হয়েছে স্খাপনা। প্রবেশমুখে রয়েছে সুউচ্চ তোরণ। ৩ তলা ভবনের সবক’টি তলার মেঝে সাজানো হয়েছে বহু মূল্যবান টাইল্সে। শোনা যায়, মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছে ওই টাইল্স। বাংলো টাইপের বিল্ডিংয়ের চারদিকে বসানো হয়েছে রঙবেরঙের কাচ। ঢালু ছাদের সর্বত্র লাগানো হয়েছে লাল রঙের টালি। প্রকৌশলগত ডিজাইনের দিক দিয়েও অনন্যসাধারণ একটি স্খাপনা হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি।
২০০৬ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এ ভবনের সবক’টি কক্ষেই লাগানো হয়েছে দু’ধরনের ঝাড়বাতি। এর প্রতিটির দাম ১৮ এবং ১২ হাজার টাকা। পুরো বাড়িতে লাগানো ২০টির মতো ঝাড়বাতির গড় মূল্য ৩ লাখ টাকারও বেশি। বাড়িটি নির্মাণে কম করে হলেও সোয়া থেকে দেড় কোটি টাকা ব্যয় হলেও বুধবার কারারুদ্ধ সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর অবশ্য তা কখনোই মানেননি।
বছর দুয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে বাড়ি নির্মাণে ৫০ লাখ টাকারও কম খরচ হওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সে সময় এ খরচের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এমপি হিসেবে বিশেষ কোটায় পাওয়া কাঠ ব্যবহার হয়েছে বাড়ি নির্মাণে। তাছাড়া তার এক ব্রিগেডিয়ার (অব.) বন্ধুর কাছ থেকে খুব কম দামে পেয়েছেন টাইল্স। নির্মাণকাজ তদারকিও করেছেন নিজেই। এ কারণে যতটা বেশি ব্যয় হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাড়িটিকে বীরউত্তম ভবন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন কেন্দ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন ওমর। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব সময় এ বাড়ির দরজা খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ৩ বছরে এখানে একত্রিত হওয়া দূরে থাক একটি রাতও কাটাতে পারেননি দক্ষিণাঞ্চলের কোন মুক্তিযোদ্ধা। বিশাল ফটক পাহারায় থাকা কেয়ারটেকার কাউকেই ঢুকতে দেয়নি ভেতরে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, দুদকের মামলা এবং সাজা পেয়ে জেলে গেলেও বাড়িটির বিষয়ে মামলার বর্ণনায় কিছুই বলেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ফলে যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় হলেও ‘বীরউত্তম’ ভবন নামের এ অট্টালিকা রয়ে গেছে আলোচনার বাইরে।
- Forums:
JUST VIEWED
Last viewed:
- রাজনীতির লাশ বনাম লাশের রাজনীতি, হ্যালো প্রধানমন্ত্রী!
- নিজামী-আমিনী-সাকা চৌ-খালেদার জন্য 'ভালবাসার' ভিডিও পত্র
- জাগরনে ডাক দেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে খোলা চিঠি
- যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত ইউনূস
- পুরনো বোতলে নতুন মদ (বাংলদেশী মদ ছেড়ে এবার বাঙ্গালী মদ)
- ছাত্রলীগের উপর হতে অন্যায় এবং অবৈধ চাপ তুলে নেয়া হোক
- বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের সাহষী সেনার অলৌকিক কাহিনী
- জেনারেল মইন গনতান্ত্রিক চেতনাকে দুপায়ে দলিত-মথিত
- দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া - সত্য-মিথ্যার দিনরাত্রি।
- এক সশস্ত্র নেত্রীর উপাখ্যান, কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের নেত্রী একে ৪৭সহ গ্রেপ্তার
- করমচান্দ গান্ধী এবং শেখ হাসিনার ডিজিটাল তত্ত্ব
- ডিভি লটারি ২০১১ এর রেজিস্ট্রেশন শুরু শুক্রবার
- সায়রা খান, নরওয়ে পার্লামেন্টে বাংলাদেশী এমপি
- বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে ভারত ইস্যু
- ফখরুদ্দীন সরকার দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে
Latest Blogs
- লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে
- আমেরিকার রুক্ষ্ম পশ্চিমের গল্প...
- মৃত্যুর আগাম শোক...
- হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ!
- দ্যা ডে আফটার
- ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ
- ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প
- ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে...
- Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং...
- দেবতা বনাম উর্দিওয়ালা...নতুন পর্ব!
Recent Comments
- মুহূর্তেই ছিন্ন স্নেহের বাঁধন...
1 week 3 days ago - আমিও
3 weeks 4 days ago - about canada immigration
4 weeks 4 days ago - ঘুষ না পেয়ে মুক্তি দেননি বিচারক
4 weeks 6 days ago - কোটি কোটি রুহুল আমিন কী চায়?
4 weeks 6 days ago - হুম!
5 weeks 2 days ago - ধন্যবাদ...
5 weeks 2 days ago - Its really a great invention.
5 weeks 4 days ago - গুপ্ত হত্যার শেষ শিকার..., একটি রম্য রচনা
6 weeks 2 days ago - Not fair!
6 weeks 4 days ago





Post new comment