Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

আহা এমন যদি হত...!!!

আমাদের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং রাজনীতিকরা যদি এমন জীবন-যাপন করতেন

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফক্স নিউজের প্রশ্নÑআপনি সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন নিজেকে দেখেন তখন নিজেকে আপনি কি বলেন? মাহমুদ আহমাদিনেজাদের জবাব, আমি আয়নায় দেখা ব্যক্তিকে বলিÑ মনে রেখো, তুমি সামান্য একজন সেবকের চেয়ে বড় কেউ নও। আজ তোমার ওপর গুরুদায়িত্ব অর্পিত। সে দায়িত্ব ইরানি জাতির সেবা করা। মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। ওইদিন তিনি ইরানের সবচেয়ে দামি কার্পেটগুলো দান করেছিলেন রাজধানী তেহরানের একটি মসজিদে। ওই মসজিদের কম দামি সাধারণ কার্পেট সরিয়ে বিছিয়ে দেন ওইসব দামি কার্পেট। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, ওই মসজিদে ভিআইপিদের অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বিশাল এক লাউঞ্জ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরিবর্তে সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ভিআইপিদের জন্য একটি সাধারণ কক্ষের ব্যবস্থা করতে। সেখানে থাকবে শুধু কাঠের চেয়ার। অনেক সময় তিনি মিউনিসিপ্যালিটির পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কার করেন। শহরের যেখানে তার বাসা ও প্রেসিডেন্টের অফিস সেখানে অনেকবার প্রেসিডেন্ট সাধারণ পোশাকে নেমে পড়েছেন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। তার অধীনে কোন ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করার আগে ওই ব্যক্তিকে একটি দলিলে সই করতে হয়। তাতে অনেকগুলো শর্ত বেঁধে দেয়া হয়। ওই দলিলে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ওই ব্যক্তিকে হতে হবে দরিদ্র। মন্ত্রী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও তার আত্মীয়-স্বজনের একাউন্টের ওপর নজরদারি করা হবে। পদ ছেড়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই সততার স্বাক্ষর রাখতে হবে। এছাড়া কোন ব্যক্তি মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি বা কোন আত্মীয় তার মন্ত্রিত্বকে ব্যবহার করে কোন সুবিধা নিলে তা হবে আইনবহির্ভূত। ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ নিজেই প্রথম নজির হিসেবে নিজের সহায়-সম্পদের হিসাব দিয়েছেন রাষ্ট্রের কাছে। বলেছেন, সম্পদ বলতে তার আছে ১৯৭৭ মডেলের একটি পিউজিওত ৫০৪ গাড়ি। তেহরানের দরিদ্রতম এলাকায় বড় হয়ে ওঠা আহমাদিনেজাদ পিতার কাছ থেকে ৪০ বছর আগে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন পুরনো একটি ছোট বাড়ি। তার একাউন্টে ছিল না কোনই অর্থ। ওই একাউন্টে পরে যে অর্থ জমা হয়েছে তা ইউনিভার্সিটির বেতন। এর পরিমাণ মাত্র ২৫০ ডলার। প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ এখনও বসবাস করেন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং কৌশলগত দিক দিয়ে তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের এ প্রেসিডেন্ট বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন। তিনি নিজেকে জাতির রক্ষক বা সেবক মনে করেন। জাতির সেবা করছেন এমনটা ভেবে তিনি তুষ্ট। সেজন্য কোন বেতন নেন না। প্রেসিডেন্টের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি বিষয়ে খুবই কৌতূহলী। প্রতিদিন একটি ব্যাগ হাতে করে অফিসে আসেন। কি আছে ওই ব্যাগে? এ কৌতূহলের জবাব মেলে সহসাই। দেখা যায় ওই ব্যাগে করে সকালের নাশতা নিয়ে এসেছেন বাসা থেকে। তাতে থাকে কিছু স্যান্ডউইচ বা রুটি, জলপাই তেল আর পনির। প্রেসিডেন্ট পতœী নিজ হাতে প্রস্তুত করে দেন এ খাবার। আর তা তৃপ্তি সহকারে খেয়ে নেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ সরলতায় আরও নজির স্থাপন করেছেন। তার জন্য বরাদ্দ করা ‘দ্য প্রেসিডেন্টস এয়ারক্রাফট’ তিনি ব্যবহার করেন না। রাজকোষের খরচ কমানোর জন্য এ বিমানের বদলে ব্যবহার করেন একটি মালবাহী বিমান। তা-ও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তার জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থার দরকার নেই। সাধারণ একখানা আসন হলেই তিনি খুশি। মাঝে মাঝেই তিনি মন্ত্রীরা কে কি করছেন, কার কার্যকারিতা কতটুকু তা জানতে সব মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ম্যানেজার বা সহকারীর অফিস বাতিল করেছেন। ফলে যে কোন মন্ত্রী কোন পূর্বানুমতি ছাড়াই তার অফিসে ঢুকে পড়তে পারেন। খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি লাল গালিচা সংবর্ধনা, ফটো সেশন, ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন অথবা দেশের কোন স্থান পরিদর্শনকালে বিশেষ কোন সম্মান দেয়ার রীতি বন্ধ করেছেন। সরলতার আরও উদাহরণ রেখেছেন তিনি। যখন কোন হোটেলে তাকে থাকতে হয় তিনি বলে দেন, তার জন্য বড় কোন বিছানার দরকার নেই। তিনি বিছানার পরিবর্তে মেঝেতেই মাদুরের ওপর চাদর বা কম্বল বিছিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। বাড়িতে তিনি মাঝে মাঝেই গেস্টরুমে মাদুর বিছিয়ে ঘুমান। নামাজ আদায় করতে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন। সামনের সারিতে দাঁড়াতেই হবে এমন কোন তাগিদ তার নেই। আর খাবার খেতে দেখা যায় সবার সঙ্গে ডাইনিং রুমের মেঝেতে বসে। এমন অনেক ছবি ছাপা হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের বেশির ভাগ সংবাদপত্র, ম্যাগাজিনে; যাতে ফুটে উঠেছে তার সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপনের আদর্শ ছবি।

সূত্র: ইন্টারনেট

কিসের সাথে কি তুলনা করেন?

ভাই, কিসের সাথে কি তুলনা করেন? কই শেখ সাদী, আর কই বরকির...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla