Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

আর কত কাল?

Bangladesh Awami League and BNP

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ট্রানজিট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে শো ডাউন শুরু করতে যাচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সরকার বলছে আমরা আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় হতে দূরে থাকতে পারি না, সুতরাং এশিয়ান হাইওয়ে আমাদের জন্যে জরুরী। ক্ষমতাহারা দলগুলো বলছে, এশিয়ান হাইওয়ে আসলে ভারতের পুরানো দাবি ট্রানজিট সুবিধারই নতুন সংস্করন। ফ্রেশ চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিরোধী দল। পাশাপাশি সরকারী দল দাবী করছে দেশপ্রেমের তাগাদা তাদেরকে উজ্জীবিত করছে চুক্তি সম্পাদনে। কোন পক্ষ সত্য বলছে এমনটা বুঝার জন্যে সাধারণ মানুষের সামনে কোন রাস্তাই খোলা থাকছে না, কারণ দুই পক্ষই নিজদের দাবী নিয়ে এতটা পোলারাইজড, তাতে প্রতিপক্ষের দাবী নিয়ে আলোচনার সামান্যতম কোন স্থান নেই।

অবাক হয়ে দেখছি নিজদের দাবী আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এক অন্যকে দেশ বিক্রীর দালাল হিসাবে চিহি¡ত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেনা, নেত্রীত্বের সর্বোচ্চ পর্য্যায় হতে এমন অভিযোগ হর হামেশা উচ্চারতি হচ্ছে। সভ্য দুনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ হতে এমন অভিযোগ উচ্চারিত হলে মিডিয়ায় বিষ্ফোরন ঘটে যেত এবং পাশাপাশি শুরু হত আইনী লড়াই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে যদি তথ্য থাকে বিরোধী দল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তা হলে প্রশ্ন আসতে বাধ্য, কেন প্রধানমন্ত্রী সে দলকে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছে না। অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে তারা নিশ্চিত ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশের কাছে বিক্রী করে দিচ্ছে। তাদের কাছেও যদি প্রমান থাকে সরকারী দল দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশ্বাষঘাতকতা করছে, তাদেরও উচিৎ প্রমান সহ আইনের আশ্রয় নেয়া। বাস্তবতা হল, এ সবের কিছুই করবে না রাজনৈতিক দলগুলো, বরং এ নিয়ে ঘোলা পানিতে স্ব স্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পুরানো ধান্ধা চালিয়ে যাবে র্নিলজ্জের মত। দেশের মৌলিক স্বার্থ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যদি এক প্লাটফর্মে আসতে ব্যর্থ হয় এমন রাজনীতি আমাদের আদৌ দরকার আছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলীদের বৈরীতা নতুন কোন খবর নয়, কিন্তূ যুগ যুগ ধরে এ বৈরীতা বাধা হয়ে দাড়ায়নি দেশগুলোর ভেতর শাত-ইল-আরবের পানি এবং সযুজ কানালের নৌ চলাচল শেয়ার করাতে। ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকার প্রায় প্রতিটি দেশ চেষ্টা করছে নিজদের ভেতর অর্থনৈতিক সহযোগীতা বিস্তৃত করার মধ্য দিয়ে নতুন বিশ্ব বানিজ্যিক ব্যবস্থায় স্থান করে নিতে। স্বভাবতই বাড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি, উন্নত হচ্ছে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় কমোডিটি শেয়ারের বুঝাপড়া। কিন্তূ এ ধরনের বিশ্ব হতে আমারা যেন হাজার বছর পিছিয়ে। কোন স্বার্থই যেন আমাদের জাতীয় স্বার্থ হতে পারছে না, সবকিছুর যাচাই বাছাই হচ্ছে দলীয় স্বার্থের কষ্টি পাথরে। এ ধরনের সংকীর্ন রাজনীতির রুগ্ন চেহারা জাতির সামনে উন্মোচিত হচ্ছে অত্যন্ত প্রকট ভাবে, সময় এবং বাস্তবতার চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ এ সব পারিবারিক এবং দলীয় বৈরীতা আমাদের ঠেলে দিচ্ছে উন্নতির পাথর যুগে। ভারত আমাদের শত্রু না মিত্র তা নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার আগে রাজনীতিবদ্‌দের উচিৎ নিজদের ভেতর বুঝাপড়ায় আসা কোথা নিয়ে যাচ্ছে আমাদের এ ধরনের অন্ধ তর্ক বিতর্ক, খুজে বের করা অন্যরা যা পারছে আমরা কেন পারছিনা?

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla