News Archive

Collection of Bangladeshi news and videos worthy of archiving.

"Quotation"

১। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। আমি দুর্নীতি করলে আমার মেয়ের জামাই আমেরিকা থেকে ট্রাক চালিয়ে কানাডা যেতো না। নাইকোর কোনো কিছু আমি অনুমোদন করিনি। নাইকোর খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা লেখা হচ্ছে, কিন্তু তা ঠিক নয়। আমার সময়ে শুধু একটি খসড়া নীতিমালা হয়েছে।
- শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

২। গণরোষ পরিণত হতে চলছে গণবিদ্রোহে ধপাস করে পড়ে যাবে সরকার।
- শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

৩। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদান করে। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে এই পুরস্কার পেতাম না।
- শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী
(বার্জমাউন্টেড পাওয়ার পস্নান্ট স্থাপন সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার চার্জ গঠনের ওপর আদেশ প্রদানের পূর্বে তিনি আদালতে এ কথা বলেন।)

৪। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বার্জ মাউন্টেড প্রকল্পে ৫ সেন্টে বিদ্যুত কেনা হয়েছে। কিন্তু আজ ১৯ সেন্টে বিদ্যুত ক্রয় করা হচ্ছে। তাহলে কি তাদের বিরম্নদ্ধে মামলা হবে না?
- শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

৫। আমি নিজে কোন টাকা গ্রহণ করিনি বা কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। কেউ যদি কারো কাছ থেকে টাকা নেয় তার দায়িত্বতো আমি নিতে পারি না।
- শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

৬। দেশের স্বার্থে আল্লাহর ওয়াস্তে ঐক্যের প্রতি 'না' বলে 'হ্যাঁ' বলুন। নির্বাচনে জনগণের রায় আপনারা পেলে আমরা তা মেনে বিরোধী দলেই বসব। তবু ঐক্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করবেন না।
- খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি মহাসচিব
(আওয়ামী লীগের প্রতি দেলোয়ার, জুন ০৫, ২০০৮)

৭। ‘কী এমন ঘটল যে ১/১১ করা হলো?’
- খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
(গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা ও তাঁর ছয় মন্ত্রী কাঠগড়ায়)

৮| 'ফখরুদ্দীন সরকার দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে'
- খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
(গাজীপুরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আয়োজিত সভায় বক্তৃতায়)

৯| 'ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে।'
- অধ্যাপক এম এ মান্নান, বি.এন.পি যুগ্ম মহাসচিব
(গাজীপুরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আয়োজিত সভায় বক্তৃতায়)

পলাতক ৬ খুনির মার্জনা নাকচ হলে ফাঁসি কার্যকর হবে

দিদারুল আলম
দৈনিক ইত্তেফাক

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো ছয়জন পলাতক রয়েছেন। নিম্ন আদালত থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া এই মামলায় কারাবন্দি ৫ খুনির ফাঁসির রায় এখন কার্যকরের অপেক্ষায়। কিন্তু পলাতক ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হবে? এ ব্যাপারে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পলাতক থাকায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আপিল করার সুযোগ হারিয়েছেন। কারণ পলাতক থাকা অবস্থায় আপিল করা যায় না। ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল করতে হলে আটক বা আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে থাকা অবস্থায় আপিল দাখিল করতে হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি লে.কর্নেল (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) শরীফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে.কর্নেল (অব.) এম এ রাশেদ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। তবে জানা যায়, খুনি আজিজ পাশা ২০০২ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন। এর ফলে তারা নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তাদের আপিল তামাদি হয়ে গেছে। কারণ তামাদি আইনের (লিমিটেশন এ্যাক্ট) ৫ ধারা মোতাবেক ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৬০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়। এই সুযোগ হারানোয় তাদের আপিল তামাদি হয়ে গেছে। আইনানুযায়ী এখন আটক বা আত্মসমর্পণের পর পলাতক খুনিদেরকে কারাগারে গিয়ে আপিল করতে হবে। একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের আপিলের সঙ্গে বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। কি কারণে এবং কেন এতদিন আপিল করতে বিলম্ব হয়েছে তার প্রতিটি দিনের অর্থাৎ ১৩ বছরের প্রত্যেকটি ঘন্টা ও দিবসের যথাযথ কারণ দর্শাতে হবে। এই কারণ বা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে আদালত বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত মঞ্জুর করতে পারেন। এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল করার সুযোগ পাবেন। যদি আদালত বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত নাকচ করে দেন তাহলে দণ্ড কার্যকর করতে কোন আইনগত বাধা থাকবে না।

উল্লেখ্য, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কারাবন্দী খুনি মেজর (অব:) একে মহিউদ্দিনকে (ল্যান্সার) দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কারাগার থেকে ঐ বছরের ২৪ জুন তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তাকে বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে তাকে প্রায় ৯ বছরের বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হয়েছিল। আদালত উক্ত দরখাস্ত মঞ্জুর করায় তিনি ঐ বছর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে প্রখ্যাত ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র কৌঁসুলি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক এবং আপিল করে নাই সেহেতু তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। আটক বা আত্মসমর্পণের পর কারাগার থেকে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। তিনি বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে তাই তাদের শুরুটা হাইকোর্ট থেকে করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল এর পরিচালক ড. শাহদীন মালিক ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক রয়েছে সেহেতু তাদেরকে কারাগার থেকে আপিল করতে হবে। আপিলের সঙ্গে বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত দাখিল করতে হবে। এই দরখাস্তে কেন আপিল দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে তার যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে হবে। তখন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি হবে এই ঐতিহাসিক রায় না জানার কারণ নেই। বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত যেন মঞ্জুর না হয়। তবে তা মঞ্জুর করা বা না করার এখতিয়ার আদালতের। তিনি বলেন, দরখাস্ত করলে তার ওপর শুনানি হতে হবে। দরখাস্তের ওপর হাইকোর্ট থেকে একটি সিদ্ধান্ত আসবে। তবে আদালত বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর করতে আইনগত কোন বাধা থাকবে না। কারণ তাদের ওপর আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১০

পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর

আবুল খায়ের
ইত্তেফাক রিপোর্ট

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ খুনির ফাঁসি গতকাল বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতার খুনিদের শাস্তি দেয়ায় দেশ আজ কলংকমুক্ত হল। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বজনদের কাপুরুষোচিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের নায়কদের বিচার করতে জাতিকে প্রায় ৩৫ বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয়েছে। গতকাল রাত ১১টা থেকে চাঁনখারপুল থেকে নাজিমুদ্দিন রোড পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। রাস্তার আশে পাশে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভিড় জমিয়ে বিভিন্ন ে াগান দেয়। আশেপাশের এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেয়। এগারটায় ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান ও ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। এর পরই স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুল সোবহান সিকদার, ডিএমপি কমিশনার শহীদুল হক, আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম কারাগারে যান। ১১টা ২০ মিনিটে পাঁচটি কফিন বক্স কারাগারের ভেতরে ঢোকানো হয়। সেই সাথে লাশ গোসলের জন্য দুটি চৌকিও রাখা হয়। ফাঁসি কার্যকর করার সময় সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম ও মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ পাঁচ খুনির রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেন এবং এই আদেশ অপরাহ্ণে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে। নিয়মানুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ খুনিদের উচ্চ আদালতের রায় অবহিত করেন। তাদের আত্মীয়-স্বজনকে শেষবারের মতো দেখা করার সংবাদ দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন করেন এবং লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবে না বলে কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। দুটি আবেদনই কারা কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান রাত ৮টায় লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন। এই আদেশ রাত ৯টায় কারা কর্তৃপক্ষ পেয়ে যায়। এর আগে তিন খুনি লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) ও মেজর (অব.) বজলুল হুদা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করলে তা নাকচ করা হয়।

রাতে পাঁচ খুনির আত্মীয়-স্বজন কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করার আগে কারাগার মসজিদের ইমাম তাদের তওবা করান। তাদের মুখে কালো রংয়ের যমটুপি পরানো হয়। এরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ইংরেজি বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী পাঁচ খুনির ফাঁসি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হয়। প্রথমে বজলুল হুদার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মহিউদ্দিন আহমেদ, এম মহিউদ্দিন, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সৈয়দ ফারুক রহমানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ফাঁসি হওয়ার সংবাদে কারাগারের গেটে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান গেট ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে কাশিমপুর-২ কারাগার, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, প্রস্তুত রাখা হয়েছিল ৩৫ জন জল্লাদকে।

ফাঁসি কার্যক্রমে ৬ জল্লাদ অংশ নেয়। গোপালগঞ্জের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সানোয়ার, ফারুক, এরশাদ শিকদারের ফাঁসির জল্লাদ শাহজাহান, কালু এবং গাজীপুরের হাফিজ ও ঢাকার রাজু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারে ফাঁসির মঞ্চে ফাঁসি কার্যকর করে।

রাত ১০টায় ফাঁসির মঞ্চ আলোকিত করা হয়। জল্লাদরা সবাই খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। ফাঁসি কার্যকর করতে নতুন কোন ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করা হয়নি। পুরনো মঞ্চেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ ব্যাপারে একজন কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি নতুন মঞ্চ তৈরি করতে ২ মাস থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। এ জন্য পুরানো মঞ্চেই ফাঁসি কার্যকর করা হলো। ফাঁসি কার্যকর করতে যে রশি ব্যবহার করা হয় তা ম্যানিলা রোপ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে দেশের কারাগারগুলোতে ফাঁসি কার্যকর করতে এই রশি আমদানি করা হত। ম্যানিলা থেকে এ রশি আনা হয় বলে একে বলে ‘ম্যানিলা রোপ’। একজন সাবেক কারা কর্মকর্তা জানান, ফাঁসি কার্যকর করতে ফাঁসির ৩ গজ ম্যানিলা রোপ দরকার হয়।

গতকাল দেশের সকল কারাগারে সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছিল। কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে কারারক্ষীর পাশাপাশি র‌্যাবও মোতায়েন করা হয়েছিল।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১০

পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর

প্রথম আলো রিপোর্ট
তারিখ: ২৮-০১-২০১০

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ঘাতকেরা। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হলো গতকাল ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও ছয় খুনি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক। অন্য একজন মারা গেছেন।

গতকাল বুধবার রাত ১২টার পরপরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ আসামির মধ্যে প্রথমে বজলুল হুদা ও মুহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সাড়ে ১২টার দিকে সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান এবং রাত একটা পাঁচ মিনিটে এ কে এম মহিউদ্দিনের (ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর হয়। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাঁচজনের লাশ বিশেষ পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সকালের মধ্যে লাশগুলো দাফনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, রাত আড়াইটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় গোপীনাথপুর গ্রামে পুলিশের পাহায়ায় কবর খোঁড়া হচ্ছিল।

ফাঁসির রায় কার্যকর করতে গতকাল বিকেলের পর থেকে কারাগারের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। শত শত পুলিশ ও র্যাব সদস্য চারদিক থেকে কারাগার ঘিরে রাখেন। সন্ধ্যার পর রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড় থেকে কারাগারের প্রবেশ মুখে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় অনুমোদিত লোকজন ছাড়া কাউকে চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। রাতে নগরের অন্যান্য স্থানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সকাল সাড়ে নয়টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হওয়ার পর থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়।

রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হওয়ার পর পাঁচ আসামির মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান বিকেলে প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে অতি দ্রুত ওই আবেদন বঙ্গভবনে পৌঁছায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তা নাকচ হয়। রাতে তা ফারুক রহমানকে জানানো হয়। রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টা পরেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। গতকাল রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

সরকারি দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ফাঁসি কার্যকর করার সব ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে দুপুরে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ফাঁসি কার্যকর হবে। নিরাপত্তার কারণে ফাঁসির স্থান ও সময় গোপন রাখা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই গোপন থাকেনি। বিকেলের পর থেকেই সংবাদকর্মীরা কারাগারের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। এর আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বৈঠক করে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেন।

কারাবন্দী পাঁচ আসামির সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের শেষবারের মতো দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সাক্ষাত্ শেষে বেরিয়ে আসা স্বজনদের চোখেমুখে উত্কণ্ঠা ছিল। তাঁরা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, লাশ হস্তান্তর নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। ভেতরে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত অবস্থায় তাঁরা দেখেছেন। তাঁদের ফোন নম্বর রেখে দিয়েছেন কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে একটিমাত্র ফাঁসির মঞ্চ ছিল। পাঁচজনের ফাঁসির জন্য আরও দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। ফাঁসির জন্য রশি ও অন্যান্য সরঞ্জামও প্রস্তুত করা হয়। সর্বশেষ গতকাল রাত আটটার দিকেও বাইরে থেকে মঞ্চের সরঞ্জাম ভ্যানে করে ভেতরে নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পুরোনো মঞ্চেই ফাঁসি কার্যকর হয়। কারণ, নতুন মঞ্চ দুটি ফাঁসি কার্যকরের মতো পুরো উপযোগী হয়নি।

সূত্র জানায়, কাশিমপুর-১ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শাহজাহান ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত কালু জল্লাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সহযোগিতা করেন আরও তিন কয়েদি।

কাশিমপুর কারাগার থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে সাদা রঙের দুটি পিকআপ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে আসে। সামনের পিকআপে ছিলেন খুনি মুহিউদ্দিনের দুই ছেলে। পেছনের পিকআপে ছিলেন তিন জল্লাদ। জল্লাদ শাহজাহান ও তাঁর সহযোগী বাবুল ও মনিরের পরনে কয়েদির পোশাক ও ডান্ডাবেড়ি ছিল। তাঁরা কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় ভেতরে সব বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই কারাগারের ভেতরে ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

কারাগারের আশপাশের ভবনগুলোর ছাদে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। ভবনগুলোর জানালা বন্ধ করে দিয়ে বাসিন্দাদের ভেতরে থাকতে বলা হয়। সন্ধ্যা সাতটার পর কারাগারের দেয়ালঘেঁষা সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারা অবস্থান নেয়।

রাত ১১টা ১০ মিনিটে আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকার জেলা প্রশাসক জিল্লার রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার, ঢাকার সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহমান, সহকারী সিভিল সার্জন শামসুদ্দিন এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান সিকদার কারাগারে ঢোকেন। এর পরপরই একটি পিকআপে করে পাঁচটি কফিন কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়, লাশের গোসল করানোর চৌকি পাঠানো হয় এর পরপরই।

গতকাল রাতে ফাঁসির মঞ্চের পাশে অনেকের সঙ্গে ছিলেন কারা তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম। তাঁর হাতে ছিল একটি লাল রঙের রুমাল। তিনি হাত থেকে রুমাল ফেলার সঙ্গে সঙ্গে জল্লাদ মঞ্চের লিভার (লোহার তৈরি বিশেষ হাতল) টেনে দেন। এতে পায়ের তলা থেকে কাঠ সরে গিয়ে ফাঁসি কার্যকর হয়। পরে চিকিত্সক লাশ পরীক্ষা করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। লাশের প্রতিবেদন তৈরি করেন ম্যাজিস্ট্রেট। ফাঁসিতে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর গোসল করিয়ে একে একে লাশগুলো কফিনে ভরা শুরু হয়।

কারাগারের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও ফাঁসি কার্যকর করার কথা শুনে শত শত উত্সুক মানুষ সেখানে ভিড় করে। ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। মানুষের ভিড় উপচে পড়ে পুরো নাজিমউদ্দিন সড়কে। দুই শিশুকে দেখা যায় ফাঁসির দাবির ব্যানার হাতে শীতের রাতে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ফাঁসি কার্যকর করার খবর শুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা মিছিল বের করে। কারাগারের আশপাশেও মিছিল দেখা যায়।

সূত্র: প্রথম আলো
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১০

পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি

পারভেজ খান ও মাসুদুল আলম তুষার
কালের কন্ঠ রিপোর্ট

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশে। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিচার এবং রায় কার্যকর করার দাবি উচ্চারিত থেকেছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। অবশেষে গত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ক্ষণটির জন্য উন্মুখ ছিল সারা দেশের মানুষ। বছরের পর বছর খুনিচক্রের সদম্ভ বিচরণ এখন শুধুই অতীত। হত্যা মামলার আরো ছয় আসামি পালিয়ে আছে বিদেশের মাটিতে। একজন মারা গেছে বছর কয়েক আগে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন দায়মুক্ত। হত্যাকারীদের বিচার করতে পেরে গর্বিত সারা দেশ।

কারাবন্দি পাঁচ খুনি মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) করা রিভিউ পিটিশন (রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন) গতকাল বুধবার সকালে খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এর পরই রায় কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। রাত ১২টার পরপরই একের পর এক ফাঁসি কার্যকর করা শুরু হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমেই মেজর (অব.) বজলুল হুদা এবং মহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) ফাঁসি দেওয়া হয়।

এরপর একে একে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ এবং এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। রাত ১টায় মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্ত শুরু করেন সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার।

কারা সূত্র জানায়, পাঁচজনকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার আগে তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। এর আগে কারা চিকিৎসক বন্দিদের শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষা করে দেখেন। এরপর বন্দির মুখে লাল সুতি কাপড়ের টুপি বা মুখোশ পরিয়ে দেওয়া হয়। হাতকড়া দিয়ে পেছন দিকে হাত বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে।


সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকার জেলা প্রশাসক জিল্লার রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার, ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমানসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা ঘড়ি দেখে সময় নির্ধারণের পর হাতের রুমাল ফেলে দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার ইঙ্গিত দেন। জল্লাদরা তখন একের পর এক লিভার টেনে দিলে পায়ের নিচে থাকা পাটাতন সরে যাওয়ায় বন্দিরা ঝুলে পড়ে। এভাবে কিছুক্ষণ দড়িতে ঝোলানোর পর জল্লাদ অন্য বন্দিদের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে পাঁচ খুনির লাশ নামিয়ে পাশে রাখা চৌকিতে শুইয়ে দেয়। চিকিৎসকরা তখন দণ্ডপ্রাপ্তের দুই পা, দুই হাত ও ঘাড়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্তের পর সবার লাশ কফিনে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রত্যেকের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে রয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের পাহারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কারাবন্দি মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ গতকাল দুপুরের দিকে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার খবর জানতে পারে। তবে কেউ ভেঙে পড়েনি। তারা আগে থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিল। কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে উচ্চৈঃস্বরে গালিগালাজ করেছে। রায় কার্যকর করার চূড়ান্ত সময় রাত ১১টার দিকে তাদের জানানো হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, পাঁচ খুনি স্বজন ছাড়াও গতকাল যখনই যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। নামাজ পড়েছে নিয়মিত। কেউ কেউ তাহাজ্জুদের নামাজ পর্যন্ত পড়েছে। সাধারণত ফাঁসির আগে আসামির কাছে ভালো কিছু খেতে ইচ্ছা করছে কি না জানতে চাওয়া হয়। কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগও অনেকে পায়। তবে এদের কাউকে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

কারা সূত্র রাতে জানায়, সন্ধ্যার কিছু পরই ফাঁসির মঞ্চ লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হয় সেখানে। স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য কারাগারে নেওয়া হয় পাঁচটি কফিন। রাত ৮টার দিকে কারারক্ষী সুবেদার ফজলু সাবান, মোমবাতি, কর্পূর, আগরবাতি, গোলাপজল, কাফনের কাপড় নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন। রাত ৯টার দিকে কারাগারে যায় তিন জল্লাদ মনির, শাহজাহান ও বাবুল। তবে রাত ১২টার পর ফাঁসির মঞ্চে জল্লাদের দলে আরো যোগ দেয় রাজু, হাফিজ, সানোয়ার ও ফারুক। জল্লাদ শাহজাহান খুনি এরশাদ শিকদার, মুনীর এবং দুই জঙ্গি সানি ও মামুনের ফাঁসি কার্যকর করেছিল। রাত ১০টায় সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে ঢোকেন।

কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) গতকাল সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেওয়ার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠক করে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে। আর ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দুপুরে পাঁচ খুনির স্বজনদের টেলিফোন করে শেষবারের মতো দেখা করে আসতে বলা হয়।

প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ পাঁচ আসামির করা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গতকাল সকালে খারিজ করেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিচারিক কক্ষ বা এক নম্বর কক্ষে বিচারকরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম আদেশ পড়ে শোনান। আদালত খারিজ আদেশে বলেন, আসামিপক্ষ যেসব বক্তব্য রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানিতে উপস্থাপন করেছে, সেখানে নতুন কোনো যুক্তি নেই। এসব বিষয় আপিল বিভাগ ইতিপূর্বে যে রায় দিয়েছেন, সেখানে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কাজেই আসামিদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। রিভিউ আবেদন খারিজের পরপরই খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান। কিন্তু তা নাকচ করা হয় তাৎক্ষণিক।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য সাত আসামির মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, মেজর (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) এফ এইচ এম বি নুর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন পলাতক। এ ছাড়া লে. কর্নেল (অব.) আবদুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছে বলে জানা যায়।

ঊর্ধ্বতন এক কারা কর্মকর্তা জানান, কারাবিধির ৯৮৬ ধারা অনুযায়ী প্রধান কারারক্ষক প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার রজনীগন্ধা সেলে গিয়ে আসামিদের দেখেছেন। সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখন আর ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। কারাবিধি অনুযায়ী যেকোনো সময় রায় কার্যকর করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।'

কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির জন্য ব্যবহার করা হয় ইউরোপে তৈরি 'ম্যানিলা দড়ি'। দড়ির ব্যাস এক ইঞ্চি। মহড়ার সময় দেখা হয়েছে দড়িগুলো মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির চেয়ে দেড় গুণ ওজন নিতে পারবে। কারা চিকিৎসকরা জল্লাদ ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মঞ্চে ওঠানোয় সাহায্যকারী বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও পরীক্ষা করে দেখেন। ফাঁসি কার্যকর করার দড়ির দৈর্ঘ্য বন্দির দেহের ওজন ও দৈর্ঘ্য অনুপাতে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বন্দির ওজন ৯৮ পাউন্ডের নিচে হলে ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি, ১২৬ পাউন্ডের নিচে হলে ছয় ফুট, ১৫৪ পাউন্ডের নিচে হলে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি এবং ১৫৪ পাউন্ড বা তার ওপরে হলে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের দড়ি ব্যবহার করা হয়।

ফাঁসি কার্যকর করার সময় কমপক্ষে ১২ জন বন্দুকধারী রক্ষী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র আরো জানায়, বন্দিদের সেল থেকে বের করার সময় ঊর্ধ্বতন এক কারা কর্মকর্তা ইংরেজি ও বাংলায় দণ্ডাদেশ পড়ে শোনান। বন্দিদের সেলেই জিজ্ঞেস করা হয় তারা বিশেষ কোনো খাবার খেতে চায় কি না।

স্বজনদের সাক্ষাৎ
রিভিউ আবেদন খারিজের পরপরই পাঁচ খুনির সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তাদের স্বজনরা। গতকাল বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারাগারের রজনীগন্ধা সেলের সামনে তাঁদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। পাঁচ খুনির মোট ৫৫ জন স্বজন দেখা করেন। এর মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) কারাবন্দি দুই ছেলে নাজমুল হাসান সোহেল ও মাহাবুবুল হাসান ইমুও আছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক এই দুই ভাইকে গতকাল রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে বাবা মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করানো হয়।

স্বজনরা জানান, কারা কর্তৃপক্ষ দুপুরে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার জোর তাগিদ দিয়ে টেলিফোন করে। একসঙ্গে এতজনকে দেখা করার সুযোগ দেওয়ায় স্বজনরা ধারণা করেছেন, এটাই হয়তো শেষ দেখা। তবে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কিছু জানাতে রাজি হয়নি।

মেজর (অব.) বজলুল হুদার বোন মাহফুজা পাশা লিজা কালের কণ্ঠকে জানান, দুপুরের পর কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে ভাইয়ের (বজলুল হুদা) সঙ্গে দেখা করতে আসতে বলে। তিনি বলেন, 'কয়জন আসব_জিজ্ঞেস করতেই তাগাদা দিয়ে বলা হয়, তাড়াতাড়ি আসেন।' পরে তিনি ছাড়াও দুই ভাই কামরুল হুদা, নুরুল হুদা, বোন মাহমুদা ফেরদৌসসহ পরিবারের ২৩ সদস্য কারাগারে আসেন। দুই ভাগে তাঁরা দেখা করেছেন।

মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী হোসনে আরা মহিউদ্দিন, ভাই হাই তালুকদারসহ ১৮ জন। নূরজাহান অসুস্থ থাকায় তাঁকে হুইল চেয়ারে করে আনা হয়। লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমানের সঙ্গে তার মা মাহমুদা রহমান, বোন ইয়াসমিন রহমানসহ চারজন দেখা করেন।

লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) স্ত্রী শাহিদা মহিউদ্দিন, মেয়ে রুমানা আফরোজ, বোন ফাতেমা বেগম, এক নাতনিসহ পাঁচজন এবং লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের স্ত্রী মাসোয়ারা রশিদ, মেয়ে শেহনাজ রশিদ দেখা করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) স্ত্রী শাহিদা মহিউদ্দিন কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার স্বামী ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করতে দেখেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সকালে আমাকে আবার আসতে বলেছে। আমার দুই সন্তান কারাগারে, তাই লাশ গ্রহণ করারও কেউ নেই।'

কারাগারের সামনে মানুষের ভিড় : রাতে ফাঁসি কার্যকর হতে পারে আঁচ করতে পেরে কারাগারের সামনে বিকেল থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জড়ো হতে শুরু করেন সংবাদকর্মী এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও একসময় কারা ফটকের সামনে পর্যন্ত চলে যায় মানুষ।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একসময় মিছিল শুরু করেন। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। রাতে কারাগারের বাইরে পাঁচ খুনির স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি। জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণেই তাদের কারা ফটকের সামনে আসতে নিষেধ করা হয়।

সূত্র: কালের কন্ঠ
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১০

বিশ্বাস করেন, আমি সন্ত্রাসী নই

লেখক: পারভেজ খান
কালের কণ্ঠ

Bangladesh RAB and Police
মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। আমি তখন প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার। অপরাধ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সন্ধ্যার দিকে খবর পেলাম, রাজধানীর কোনো এক এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। সহকর্মী ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামকে নিয়ে ছুটে চললাম ঘটনাস্থলের দিকে। দুজনেরই বাহন মোটর সাইকেল। ঘটনাস্থলে পেঁৗছতে সময় লাগল আধঘণ্টার মতো। সেখানে হাজারো জনতার ভিড়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে রাস্তা। কাউকে সামনে এগোতে দিচ্ছে না। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আমাদের পথ ছেড়ে দিল। মোটর সাইকেল রেখে হেঁটে এগিয়ে গেলাম বেশ খানিকটা পথ। কানে ভেসে আসছে গুলির শব্দ। থেমে থেমে। আবার কখনো বা টানা। রাস্তার ধারে আশপাশের বাসার জানালা দিয়ে অনেকেই বারণ করলেন আর সামনে না এগোতে। এভাবে দুজন আরো কিছুক্ষণ হাঁটার পর নিজেদের আবিষ্কার করলাম যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝে। চারদিকে শুধু অস্ত্র উঁচিয়ে ধাবমান পুলিশ আর পুলিশ। কালো পোশাক পরে অস্ত্র উঁচিয়ে ছুটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তব্য পালনরত আরো এক দল। চারদিক থেকে ছুটে আসছে গুলি। কখনো কানের পাশ দিয়ে আবার কখনো ঘাড়ে বাতাস লাগিয়ে চলে যাচ্ছে। এক গাছের আড়ালে বসে পড়লাম আমি ও জিয়া। জিয়া কাঁপতে কাঁপতে বলল, 'বস, আপনি আমাকে এ কোথায় নিয়ে এলেন!'

গাছের আড়াল থেকে বের হয়ে ওপাশের দেয়াল, আবার দেয়াল থেকে বের হয়ে ওপাশের গাছের আড়াল। এভাবেই ছোটাছুটি করছি। গোল্লায় যাক সাংবাদিকতা! জিয়াও ক্যামেরা বের করেনি ব্যাগ থেকে। আগে নিজের জীবন বাঁচানো! পুলিশের হাতে অস্ত্র আছে। তারা না হয় কিছুটা হলেও নিরাপদ। কিন্তু আমরা? আমার হাতে অস্ত্র বলতে কলম আর প্যাড। জিয়ার কাছে ক্যামেরা। কলম নাকি অস্ত্রের চেয়েও ক্ষমতাধর। ক্যামেরাও। গুণীজনরা বলে থাকেন এ কথা। কিন্তু এ মুহূর্তে কি এসব কথা শোভা পায়? বরং বলা চলে, কলম আর ক্যামেরাই আমাদের ঠেলে দিয়েছে বা টেনে এনেছে এই সমর-ময়দানে। সাংবাদিকতার বয়স একেবারে কম নয়। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতিতে এর আগে পড়েছি বলে মনে পড়ে না।

গুলির ছোটাছুটি তখনো থামেনি। ছোটাছুটি করছে পুলিশ আর কালো পোশাক পরা দলটি। বন্দুকযুদ্ধ চলছে। কিন্তু কাদের সঙ্গে যুদ্ধ? পুলিশ আর কালো বাহিনী ছাড়া অন্য কাউকেই দেখছি না। গুলি ছুড়তে দেখছি শুধু পুলিশকে আর কালো ভাইদের। আমার মতো জিয়া ইসলামেরও একই প্রশ্ন। এরই মধ্যে এক পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারলাম এখানে আসলে কী ঘটছে। পুলিশ ভাই যা বললেন তা হচ্ছে, সংঘর্ষ শুরু হয়েছে আরো দেড় ঘণ্টা আগে। এরই মধ্যে এক পুলিশ কনস্টেবল মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। পুলিশ সার্জেন্ট মঞ্জু অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। কিছুক্ষণ পর সার্জেন্ট মঞ্জুকেও দেখতে পেলাম। নাকের পাশে সামান্য আঁচড় কেটে গুলি চলে গেছে। হালকা রক্ত ঝরছে। এ অবস্থায়ও ছোটাছুটি করছেন তিনি। উপস্থিত পুলিশ আর কালো ভাইদের অনেকেই পরিচিত। কারো কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব আর ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কে কার খবর রাখে! আমি আর জিয়া দাঁড়িয়ে আছি একটা ঘরের আড়ালে। পাশেই রিকশার গ্যারেজ। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এক যুবক। তাকে ঘিরে আছে পুলিশ আর কালো ভাইয়েরা। জিয়া ক্যামেরা বের করে কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে এল আমার কাছে। ওর কানের পাশ দিয়ে ছুটে গেল গুলি। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজনের খালি গা প্যান্ট পরা, কারো পরনে লুঙ্গি। তবে অস্ত্র আছে সবারই। এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছেন। কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু আছে বলে মনে হয় না। চিৎকার আর হুংকার দিয়ে কথা বলছেন একজন আরেকজনের সঙ্গে। কেউ কেউ চিৎকার করে কাঁদছেনও। সহকর্মী হতাহত হয়েছে। ক্ষোভ জন্ম নেওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কান্নাটাও স্বাভাবিক। পুলিশও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। এর বাইরে কিছু নয় সত্য। কিন্তু এখানেই কি শেষ?

যাক, এ প্রসঙ্গে পরে আসব। জিয়া আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় এক লোককে টেনেহিঁচড়ে আনা হলো আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি ঠিক সেখানে। বাঁ হাতের বাহুতে গুলির চিহ্ন। রক্ত ঝরছে। মুখেও রক্ত লেগে আছে। ভালো করে খেয়াল না করলে বয়স বোঝার উপায় নেই। আমার আর জিয়ার পায়ের কাছে শুয়ে আছে লোকটি। আমরা তাকিয়ে আছি সামনের দিকে। দেখছি পাশের ঘরের জানালা দিয়ে আমাদের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন এক মহিলা। কোলে এক শিশু। আমাদের জায়গা থেকে ঘরটির দূরত্ব ১৫ গজের বেশি নয়। সমরক্ষেত্রের মাঝে পড়েছে ঘরটি। আর এ কারণেই ঘরের কেউ পালাতে পারেনি। জানতে পারলাম, যে লোকটি আমাদের পায়ের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, ঘরটি তাঁরই। তাকিয়ে থাকা মহিলা তাঁর স্ত্রী, আর স্ত্রীর কোলে তাঁরই সন্তান। আমার প্যান্টের নিচের দিকে ধরে কে যেন টানছে। তাকিয়ে দেখলাম রক্তাক্ত ওই ব্যক্তির এক হাত চেপে ধরে আছে আমার প্যান্ট। প্যান্ট ছেড়ে তিনি পা জাপটে ধরলেন। বললেন, 'বাবা, আপনি আমার ছেলের বয়সী হবেন। আমি মিথ্যা বলছি না। আপনারা আমাকে অহেতুক সন্ত্রাসী বলছেন। বিশ্বাস করেন, আমি কোনো সন্ত্রাসী না। রিকশা-গ্যারেজের মালিক। চারটা রিকশা আছে আমার। মিস্ত্রির কাজও করি। ওই ঘরটা আমার। আমার নাম...। আমাকে মারবেন না, স্যার।'

তাঁর দিকে ভালো করে তাকালাম। বয়স অনুমানের চেষ্টা করলাম। হ্যাঁ, বৃদ্ধই বটে। মুখে লেগে থাকা রক্তের আড়ালে তাঁর চেহারাটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠল আমার বাবার চেহারা। বৃদ্ধ আমাকে পুলিশ কর্মকর্র্তা ভেবে জীবনভিক্ষা চাইছেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে দাঁড়ালেন আমার পাশে। তাঁদের বললাম, এ বোধ হয় আসলে কোনো সন্ত্রাসী নয়। আমার কথা শুনে হেসে উঠলেন দুজনই। একজন বললেন, 'আরে পারভেজ ভাই, অন্তত আপনার মুখে এ কথা মানায় না। গলাকাটা...। এর নাম শোনেননি? এই শুয়োরের বাচ্চাই হচ্ছে গলাকাটা...। শালা জীবনে বহু মানুষ খুন করেছে। এখন ন্যাকামো করছে।' কর্মকর্তার কথা শুনে বৃদ্ধ আরো জোরে আমার পা চেপে ধরলেন। বললেন, 'স্যার, বিশ্বাস করেন, আমি গলাকাটা... নই। আমার নাম...।' আমি মনে মনে বললাম, বাবা, আমার বিশ্বাস আর অবিশ্বাসে কিছুই আসে-যায় না। বৃদ্ধের কথা শুনে পাশে দাঁড়ানো দুই পুলিশ কর্মকর্তার একজন রেগে গেলেন। বললেন_

_এখানে কোনো সাংবাদিক নাই তো?
পাশের জুনিয়র কর্মকর্তা আমার আর জিয়ার দিকে তাকালেন। মুচকি হাসলেন বড় কর্মকর্তা_
_আরে দূর! পারভেজ খান তো আমাদের ভাই।

যা বোঝার বুঝে নিলেন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার জুনিয়র কর্মকর্তা। অপরজন ডিসি পদমর্যাদার। কালো পোশাক পরা দলের বড় কর্তাদের একজন। আমার চোখের সামনেই ঘটে গেল যা ঘটার। ইন্সপেক্টর সাহেব পিস্তল বের করলেন হোল্ডার থেকে। চেপে ধরলেন বৃদ্ধের বাঁ বুক বরাবর। মাত্র একটি গুলি। বৃদ্ধ আমার পা আরো জোরে চেপে ধরলেন। এরপর ডিসি সাহেব শেষ করলেন তাঁর পর্ব। বৃদ্ধের মাথায় রিভলবার ঠেকিয়ে তিনিও একটি মাত্র গুলি করলেন। নীতিমান পুলিশ! অযথা বেশি গুলি করে সরকারের অর্থ অপচয় করলেন না। বৃদ্ধ আমার পা ছেড়ে দিলেন। হতে পারে, তাঁর হাত পা থেকে খসে পড়ে গেল। আমি এবার আর কিছু না বলে থাকতে পারলাম না_

_কাজটা কি ঠিক হলো... ভাই?
_এত নীতির কথা বলবেন না তো! এই শালা জীবনে কত খুন করেছে!
_স্যার, গলাকাটা...পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে করতে পালাচ্ছিল। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এ সময় গলাকাটা.... গুলি খেয়ে মারা গেছে স্যার।

আমি তাকিয়ে আছি ওই ঘরের দিকে। সেখানে চলছে তাণ্ডব। পুলিশ ঘরের মালামাল ভেঙে চুরমার করছে। ভেঙে ফেলেছে টিভি। বাধা দেয়ার কেউ নেই। এই ঘরের মালিক গলাকাটা... খুন করেছে তাদের সহকর্মীকে। এর বাসার কিছুই আস্ত রাখা হবে না। চলছে ভাঙচুর। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই মহিলার। তিনি তাকিয়ে আছেন আমাদের দিকে, যেখানে পড়ে আছে স্বামীর লাশ।

কিছুক্ষণ পর দেখা হলো পূর্বপরিচিত স্থানীয় এক লন্ড্রি ব্যবসায়ীর সঙ্গে। অনেকটা কানের কাছে মুখ এনে বললেন_
_পারভেজ ভাই। আমি গলাকাটা... কে চিনি। যাকে মারা হলো তিনি গলাকাটা... নন। গলাকাটার বয়স এই লোকের বয়সের চেয়ে অর্ধেকেরও কম।
_বলেন কি!

আমার গলা থেকে যেন কোনো শব্দই বের হচ্ছে না। আমার সহকর্মী জিয়া ইসলামের চোখের মণিও যে ছুটে বের হয়ে আসতে চাইছে। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ পুলিশের ওই ডিসি সাহেবকে জানালাম। তিনি বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা। খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন। পরে ফিরে এসে জানালেন, ওই ব্যাটা গলাকাটা ... না হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গডফাদার। গলাকাটার বাবা বলা চলে। পরমুহূর্তেই তিনি আবার বেতারবার্তায় ঊর্ধ্বতন কাউকে বলতে শুরু করলেন_

_স্যার, যে মারা গেছে সে গলাকাটা নয়। তবে সন্ত্রাসীদের গডফাদার। তার ঘরেই গলাকাটার গ্রুপ আস্তানা গড়ে থাকত। আরো একজন সন্ত্রাসী মারা গেছে, স্যার। জি স্যার। লিটন নাম।

বুঝতে পারলাম, কিছুক্ষণ আগে যে যুবককে গুলিবিদ্ধ হয়ে রিকশার গ্যারেজের পাশে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম, সেও বিদায় নিয়েছে। আর থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিল না সেখানে। চলে আসার জন্য আমার চেয়ে বেশি ব্যস্ত জিয়া ইসলাম। ফিরে এলাম অফিসে। নিউজ লিখতে বসলাম। হাত পড়ছে না কিবোর্ডে। মনিটরও চোখে ঝাপসা হয়ে আসছে। আমার আর জিয়া ইসলামের কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে সহকর্মীরাও হতবাক। ডেপুটি এডিটর মঞ্জু ভাইকে বিস্তারিত জানালাম। তিনি শান্ত হতে বললেন। গেলাম সম্পাদক মতি (মতিউর রহমান) ভাইয়ের রুমে। তাঁকেও খুলে বললাম সব। তাঁকে বিন্দুমাত্র বিস্মিত হতে দেখলাম না। ভাবখানা এমন, এদের (পুলিশ) কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কী-ই বা আশা করা যায়। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় নিউজটা লিখতে বললেন। বললেন, যা দেখেছি হুবহু তা-ই লিখতে। শেষ পর্যন্ত আমি লিখলাম। কিছুটা রাখঢাক করে হলেও অনেকটা বিস্তারিতই ছাপা হলো পরদিন। তবে ছবি ছাড়া। জিয়া ব্যর্থ হয়েছে ছবি তুলতে। আরেকটি কথা, ওই দিন গলাকাটা... সন্ত্রাসীটাও ক্রসফায়ারে মারা যায়। সম্ভবত রাত ১১টার দিকে। একই নিউজে সেটাও ছাপা হয়।

ওই দিন প্রথম আলোয় যেটা ছাপা হয়েছিল, তা বলা চলে স্মরণীয়। আমার ধারণা ছিল, আরো বেশি সেন্সর হতে পারে। কিন্তু না। তা করেননি বার্তা সম্পাদক।

আজও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই বৃদ্ধের মুখ। পথ চলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই মনে হয়, তিনি আমার প্যান্ট টেনে ধরেছেন। টেনে ধরেছেন আমার পা। বলছেন, 'বাবা, আপনি আমার ছেলের মতো। আমি গলাকাটা... বা সন্ত্রাসী নই। আমি রিকশার মিস্ত্রি। আমাকে মারবেন না।' মাঝেমধ্যেই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়ানো সেই অসহায় মহিলার চেহারা, যার কোলে ফুটফুটে শিশু। এই শিশু একদিন বড় হবে। বড় হযে সে কী হবে_পুলিশ ইন্সপেক্টর? নাকি পুলিশের ডিসি? জিয়া ইসলাম, তোমার কি এসব ঘটনার কথা মনে আছে? তুমিও কি ভাব, বড় হয়ে ওই শিশুটি কী হবে? পুলিশ? নাকি গলাকাটা ...দের কেউ। যদি পরেরটা হয়, তবে এই সমাজ এ জন্য কাকে দায়ী করবে!

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠ

আমি শুধু বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করি

প্রথম আলোকে ফখরুদ্দীন
আমি শুধু বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করি

Fakhruddin Ahmed
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আমি শুধু বাংলাদেশের নাগরিক। একমাত্র বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্টই ব্যবহার করি। আমার ভিন্ন কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই, কখনো ছিল না।’ গতকাল বুধবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ফখরুদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি আইনজীবী রফিক-উল হকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ফখরুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনেছেন। কেউ কেউ এর জন্য ফখরুদ্দীনের বিচারও দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুদ্দীন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান থাকাকালে বা এর আগে-পরে কখনো তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেননি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করেননি। তিনি শুধুই বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি বলেন, তাঁর একটিই পাসপোর্ট, সেটি বাংলাদেশের।

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে ছাত্রজীবনে, বিশ্বব্যাংকে চাকরিরত অবস্থায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে যতবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছেন, প্রতিবারই বাংলাদেশি পাসপোর্টে বৈধ ভিসা নিয়ে গেছেন।

ফখরুদ্দীন আহমদের এ দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে রফিক-উল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফখরুদ্দীন যদি বলে থাকেন যে তিনি শুধু বাংলাদেশি নাগরিক, তাঁর আর কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই, তাহলে তো ভালো কথা।’
কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফখরুদ্দীনের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন—এই প্রশ্নের জবাবে রফিক-উল হক বলেন, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, ‘এটা তো বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বের হয়েছে। অনেকেই তো এ কথা বলছেন।’

ফখরুদ্দীনের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ সরকারকে তদন্ত করে দেখার কথাও বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খানসহ কেউ কেউ।

এ প্রসঙ্গে ফখরুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘সরকার বা আর কেউ চাইলে নিশ্চয় তদন্ত করে দেখতে পারেন।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই সাবেক প্রধান উপদেষ্টা আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বতন গবেষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ১৪-০১-২০১০
http://prothom-alo.com/detail/news/34809

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার মিছিলে স্থবির রাজপথ

প্রথম আলো রিপোর্ট

ভারত সফর শেষে দেশে ফেরা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে সরকারি দলের মিছিলে গতকাল স্থবির হয়ে পড়েছিল ঢাকার রাজপথ। দুপুর থেকে তীব্র যানজটে পড়ে প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। ছোট-বড় সব পথেই ছিল থমকে থাকা অগণিত যানবাহনের সারি।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় আওয়ামী লীগ। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হোটেল শেরাটন পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে মিছিল বের করেন। সেই মিছিল ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর সর্বত্র। এতে করে শুরু হয় ভয়াবহ যানজট।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরেন সন্ধ্যা পৌনে ছটার দিকে। কিন্তু আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা দুপুর থেকেই মিছিল বেরে করেন। শহরের বিভিন্ন মহল্লা ও অলিগলি থেকেও তাঁরা মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে আসেন। এতে করে অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। মিছিলের কারণে শাহবাগ থেকে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের (ভিআইপি সড়ক) বেশ কিছু অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়া শহরের অন্য সব রাস্তায়ও পড়ে। যানবাহনের গতি মন্থর হয়ে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর সড়ক, শেরাটন মোড়, শাহবাগ, মিরপুর রোডে দুপুরের পর দুঃসহ যানজটে আটকা পড়ে নষ্ট হয় মানুষের মূল্যবান সময়। দেখা যায়, রাজধানীর সব রাজপথ গাড়িতে ঠাসাঠাসি। কোথাও খালি নেই। মহাখালীর সড়কে যত দূর চোখ যায়, শুধু গাড়ি। মগবাজার থেকে মহাখালী যেতে সময় লেগেছে কারো এক ঘণ্টা, কারো আরও বেশি।

পুরো বিজয় সরণিতে দেখা যায় গাড়ির লম্বা সারি। ফার্মগেটে আসার উপায় না থাকায় অনেকে গাড়ি ঘুরিয়ে দেন মিরপুর রোডের দিকে। এই সড়কটি পার হয়ে এসে পান্থপথে আবার সেই ঠায় গাড়িতে বসে থাকা। এভাবেই কয়েক মিনিটের পথ পেরোতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি। যাত্রীরা অভিযোগ করেছে, যানজটের কারণে রাস্তায় যানবাহন পাওয়াও ছিল দুরূহ। দুপুরের দিকে শেরাটন মোড়ে দেখা যায়, মিছিলের কারণে গাড়ি আর এগোতে পারছে না। যুবলীগের একটি মিছিল এ সময় শেরাটন হোটেলের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে যাচ্ছিল।
ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ যানবহন নিয়ন্ত্রণে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ১৪-০১-২০১০
http://prothom-alo.com/detail/news/34810
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব

ভারত সফর শতভাগ সফল নয়া দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে

Hasina's return from India trip
ভারত সফর শেষে বুধবার দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

ভারত সফর শতভাগ সফল নয়া দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে
দেশে ফিরে বিমান বন্দরে শেখ হাসিনা পথে পথে প্রাণঢালা সংবর্ধনা : ফুলেল শুভেচ্ছা
যাযাদি রিপোর্ট

ভারত সফর শতভাগ সফল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এ সফর এবং সমঝোতা স্মারক শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যই নয়, নেপাল-ভুটানসহ এ উপমহাদেশের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বুধবার ভারত থেকে দেশে ফিরে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলের নেতা, এমপি এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিজ্ঞতা বর্ণনাকালে তিনি এ কথা বলেন।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় শেখ হাসিনা ও তার সফর-সঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট রানওয়েতে অবতরণ করে। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন হাসিমুখে। লাউঞ্জে ঢুকেই তিনি প্রথমে জড়িয়ে ধরেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে। এরপর তিনি একে একে মন্ত্রিসভার উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে ভিভিআইপি লাউঞ্জের একটি কক্ষে তিনি প্রবেশ করেন। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবরাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সমমনা খ্যাতিমান ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও মাহবুব-উল আলম হানিফ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, শেখ রেহানার ছেলে রিজওয়ান সিদ্দীক ববি ও তার স্ত্রী পেপপি ছিলেন।

এদিকে সফর সফল হওয়ায় পূর্ব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে তার দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা পর্যন্ত এলাকায় প্রধান প্রধান পয়েন্টে সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ সময় হাজার হাজার সাধারণ মানুষও যোগ দেন। তবে এ কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা না থাকার কারণে রাজধানীতে দীর্ঘমেয়াদি যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ, ডিবি, এসবি, মহিলা পুলিশ ও সোয়াত বাহিনীর নিরাপত্তা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী। মন্ত্রী-এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ি ব্যাপকভাবে তল্লাশি করা হয় এবং বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নেতাকর্মীরা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুুন, প্ল্যাকার্র্ড, ফুল প্রভৃতি হাতে নিয়ে রাস্তার দুইধারে দাঁড়িয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ব্যান্ড পার্টি, মাইক, ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে খোলা ট্রাকে করে নেচে-গেয়ে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানায়। দলের শিল্পীরা এ সময় গেয়ে ওঠেন ‘জননেত্রীর আগমনে আইলো দেশে খুশির বান...’ শীর্ষক গান। শুভেচ্ছা জানাতে সবচেয়ে বেশি নেতাকর্মীর সমবেত হতে দেখা গেছে বিমানবন্দর ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা এলাকায়। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে এসব নেতাকর্মী বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল তাদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে ও অভিবাদন জানাতে। নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। তারা প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেয়।

শেখ হাসিনা জানান, ভারতে তার চারদিন ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কেটেছে। এ সফর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

ভারত সফরে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি সমঝোতা সহজ হয় এ সফর তা প্রমাণ করেছে। সফরে অনেক সমঝোতা হয়েছে যা এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় অবদান রাখবে। তিনি বলেন, তারা যে সমঝোতায় এসেছেন তা এ অঞ্চলের সব দেশের মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াবে। তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এ অঞ্চলের ড্রাগ, নারী ও শিশু পাচার, অস্ত্র পাচার, চোরাচালান বন্ধ হওয়া দরকার। সেজন্য দুই দেশের মধ্যে আরো কিছু বিষয়ে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। তারা চান শান্তি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে চান। যে কোনো সমস্যা হলে সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চান। এ অঞ্চলের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা জানান, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মদিন ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে উদযাপন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী শান্তি পদকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এ পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেছেন। এ সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী উপস্থিত ছিলেন। দেশের জনগণকে এ পদক উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ পদক তার নয়, এটা বাংলাদেশের জনগণের। পদকের প্রাপ্ত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য ও চিকিৎসাসেবায় এ টাকা ব্যয় করা হবে।

দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ভারতে চারদিনের সফর শেষে বুধবার জয়পুরের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগের আগে হোটেল মৌর্য শেরাটনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছোট-বড় নির্বিশেষে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এ অঞ্চলের সব দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ভারত সফরকে খুবই সফল বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঢাকা ফিরে যাচ্ছেন। তার এ ভারত সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার কথা উলেখ করে তিনি বলেন, এ সফর সম্পর্কে অন্যরা (বিরোধী) কী বলবে আমি জানি না। কিন্তু আমি মনে করি সফর পুরোপুরি সফল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত ও তার জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তারা আমাদের জনগণকে আশ্রয় ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশের ভূমি কখনই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহার করতে দেয়া হবে নাকি এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভারতীয় এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের দমনে আগের সরকার কী করেছিল আমি তার জবাব দিতে পারবো না। এ ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। এক জনসমাবেশে আমাকে লক্ষ্য করে ১২টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভী রহমানসহ দলের ১২ নেতাকর্মী নিহত হন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সব দেশে নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং আমরা এ অঞ্চলের কোথাও সন্ত্রাসীদের সমর্থন করি না। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, দেশ নেই এবং সীমান্তও নেই। তারা শুধুই সন্ত্রাসী এবং তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি নাকি এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এ ব্যাপারে টেকনিক্যাল কমিটি বৈঠক করেছে এবং সচিব পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হতে পারে।

টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘ্নি্ত হতে পারেকি এমন কোনো কিছুই করা হবে না বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ ধরনের একজন নেতার অঙ্গীকার সাদরে গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া টিপাইমুখ এলাকায় কোনো স্থাপনা না থাকায় এ নিয়ে আলোচনারও কিছু নেই।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রশমিত হয়েছে - এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, এ মনোভাব অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, তারা যা করতে চায় তাদের তা করতে দিন। কিন্তু আমাদের সময় এ মনোভাব কাজ করবে না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সবসময়ই বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতাকেই প্রাধান্য দেবো।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ও রেলওয়েমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম বাংলা সফর বাতিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, কিন্তু জ্যোতি বসুর স্বাস্থ্য নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। তিনি এ উপমহাদেশের সবচেয়ে বর্ষীয়ান নেতা। আমি তাকে সবসময়ই শ্রদ্ধা করি।

প্রধানমন্ত্রীর ফাতেহা পাঠ

প্রধানমন্ত্রী বুধবার মহান সুফি সাধক হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর মাজারে ফাতেহা পাঠ করেন। প্রধানমন্ত্রী জয়পুর থেকে হেলিকপ্টারযোগে সেখানে পৌঁছলে বিভাগীয় কমিশনার ও রাজস্থান সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।

দরবার শরিফে যাওয়ার পথে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নেতাকে শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। দরবার শরিফের প্রধান খাদেম দরবার চত্বরে শেখ হাসিনা, তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও সফরসঙ্গীদলের সদস্যদের অভ্যর্থনা জানান।

শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা মাজারে ফাতেহা পাঠ করেন। শেখ হাসিনা এ মহান সুফি সাধকের মাজারে একটি গিলাফ চড়ান। মাজারের প্রধান খাদেম তাকে একটি গিলাফ উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী ওই গিলাফটিও মাজারে বিছিয়ে দেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেখ হাসিনা জয়পুরে ফিরে এলে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক ঘাটল তাকে অভ্যর্থনা জানান।

সূত্র: যায় যায় দিন
ছবি: যায় যায় দিন
তারিখ: ১৪ জানুয়ারি, ২০১০
http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=170531

যুদ্বাপরাধীদের তালিকা

পড়তে কষ্ট হলে দুঃখিত।

তালিকার শেষ নামটার দিকে (৫০নং) একটু খেয়াল করবেনঃ ইনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই এবং মুক্তিযুদ্ব চেতনায় উদ্ভাসিত মন্ত্রীসভার 'মাননীয়' মন্ত্রী। ধিক!

লাখপতি স্বামীর কোটিপতি স্ত্রী!

ছোট্ট কী ফুটফুটে বাচ্চাটা! বয়স কতই বা আর হবে - ১২ কি ১৩। জ্বালানি নেওয়ার জন্য সিএনজি পাম্পে যখন স্কুটারটা এসে থামল। তখনই বাচ্চা এসে বলল, আপু, বাদাম কিনবেন?



"লাখপতি স্বামীর কোটিপতি স্ত্রী" দৈনিক প্রথম আলোর আলপিন হতে সংকলিত -১২ই মার্চ, ২০০৭
http://www.prothom-alo.org/print.php?t=f&nid=NTg5NA==

Bangladesh's GMG plans $900 million Boeing plane purchase

Bangladesh's privately-owned GMG Airlines expects to complete a deal with plane maker Boeing (BA.N) to buy six new aircraft worth more than $900 million in the next few months, GMG's chairman said on Monday.

Boeing had offered to supply three 777-300ER and three 787-9 Dreamliners to GMG, from 2012 to 2017.

"We have decided to accept the offer and hope a final agreement will be signed by the end of June or early July," Abdus Sattar, chairman of GMG Airlines, told Reuters.

Boeing also recently won a $1.265 billion deal to supply eight aircraft to the national carrier Biman Bangladesh Airlines Ltd,

GMG Airlines started its international operations in 2004 and currently flies from Dhaka to Kolkata, Delhi, Kathmandu, Bangkok, Kuala Lumpur and Dubai with a fleet of seven aircraft.

It started domestic operations in 1998 and is one of five Bangladeshi carriers competing for an increasing number of domestic and regional travelers.

Bangladesh and India have recently agreed to increase flight frequencies between the two countries.

Reuters News
http://news.yahoo.com/s/nm/20080324/bs_nm/bangladesh_boeing_dc_1&printer...

A Tale of Two Begums

প্লিজ নাঈম ভাই, আমাকে বলতে দিন। আমার হাত বাঁধা নেই, চোখ খোলা। বিবেক বোবা অন্ধ নয়। দুই নেত্রী, দুই পরিবারের ব্যর্থতার করুণ ইতিহাস লিখতে দিন। দুই নেত্রীকে তাদের লাখো কর্মীরা ভালোবেসে গণতন্ত্রের মানসকন্যা ও দেশনেত্রী বলে আকাশ কাঁপিয়ে স্লোগান তুলতেন। গণতন্ত্রের মানসকন্যা দলে তার ইচ্ছাকেই গণতন্ত্র বলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশবাসীকে প্রকৃত গণতন্ত্র দেননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলীয় গণতন্ত্র কী তা যেমন জানেন না তেমনি রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করা দূরে থাক শেষ শাসনামলে যে দেশপ্রেমের নমুনা দেখিয়েছেন ইতিহাস তাকে নতুন নামেই ভবিষ্যতে পরিচিত করাবে। তার দলে অনেক যোগ্য লোক থাকলেও তাদের অকর্মণ্য করে রাখা হয়েছিল।

'৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপি নামের দলটি দুর্বল হয়ে যায়। ডাকসাইটে নেতারা চলে যান জাতীয় পার্টিতে। '৯০ সালে এরশাদের পতনের পর '৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি চমক সৃষ্টি করে বিজয়ী হয়। দুই দলের দুই নেত্রী দেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে এনে সংবিধান সংশোধন করলেও জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ নির্বাচনে ভোটদান ছাড়া আর কিছু পায়নি। '৯১ থেকে '৯৬ সালের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদারগণতন্ত্রী মনোভাবের কারণে সফল হন। তবে রাজনীতির দাবার চালে তিনি হেরে যান। মাগুরার উপ-নির্বাচনে ভোটডাকাতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নেয়া তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। হানিফের জনতার মঞ্চের গণঅভু্যত্থানের মুখে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড মেরিলের মধ্যস্থতা ফমর্ুলায় ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচনে ১৫ দিনের সংসদে রাতারাতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে। ওই শাসনামলে এরশাদ ও জাপার ওপর প্রতিহিংসার অগি্নরোষ ছাড়া তেমন অপশাসন হয়নি। খালেদা জিয়া সহকর্মীদের যেমন সম্মান করতেন তেমনি তাদের কথা শুনতেন। তবে সংসদে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী কখনো ছিলেন না। জামায়াত নিয়ে শেষ শাসনামলটি ছিল এই উপমহাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। পুত্রদের শাসন করতে না পারার ব্যর্থতা খালেদার ৫ বছরকে অন্ধকার যুগে পরিণত করে। হাওয়া ভবনের প্যারালাল সরকার ঘিরে সারাদেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির মহোতসব শুরু হয়। দলের একটি অংশ ছাড়া, দু-চারজন মন্ত্রী ছাড়া সবাই হাওয়া ভবনের উতসাহে দুর্নীতিতে গা ভাসিয়ে দেয়। জনগণ অমন অন্ধকার যুগ আর দেখতে চায় না বলেই ওয়ান-ইলেভেনকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছিল। দুই নেত্রী ও তাদের দুই দল আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতি ও অপশাসন ছাড়া তারা জনগণকে কিছু দিতে পারেনি। এটা সত্য হাসিনার শাসনের সঙ্গে খালেদার শাসনের তুলনা চলে না। কিন' হাসিনার শাসনামলে বাজার মূল্য ও বন্যা প্রতিরোধ সফল হলেও সংসদে দাঁড়িয়ে দলীয় গডফাদারদের পক্ষে সাফাই গাওয়া ও কিচেন কেবিনেটের প্রভাব সবকিছু ধুয়ে-মুছে দেয়। এমনকি সংসদে দাঁড়িয়ে এক নেত্রী আরেক নেত্রীকে হোটেলে রাত কাটানোর অশ্লীল ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিতেও ছাড়েননি। তাছাড়া দলকানারাও বলবেন না ওই সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়নি। মাঝখানে নিশ্চিত হলো না জবাবদিহিতা, বন্ধ হলো না সংসদ বর্জন, দলীয়করণ। স্বাধীনতা পেল না বিচার বিভাগ। দুই নেত্রী সামরিক শাসক এরশাদের চেয়ে ভালো দেশ চালিয়েছেন এমন কথা বলার মতো কোনো নজির স্থাপন করতে পারেননি।

১১ মে আমাদের সময়ে যে লেখাটি প্রকাশিত হয় তা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। তবে অনুমাননির্ভর নয়। দেখা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আমি সেটি লিখি। এটা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল না, সত্যকে সামনে টেনে আনার প্রয়াস ছিল। সত্য বড় কঠিন, অপ্রিয় ও নির্মম। ওই লেখায় যেমন ড. কামাল হোসেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাহাবুদ্দিন আহমদ, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দলের নেতাদের অসম্মান করার প্রবণতা শেখ হাসিনার মাঝে দেখা গেছে তা বলেছি। আঙুল দিয়ে তার কিছু ভুল দেখিয়েছি। বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ২৭ বছর ও খালেদা জিয়া ২৪ বছর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এখন ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে তাদের অবসরে যাওয়া উচিত। অনেকে বলেন, তাদের ঐক্যের প্রতীক করে রাজনীতিতে আনা হয়েছিল। এটা সত্য। কিন্ত তার চেয়েও বড় নির্মম ও অপ্রিয় সত্য হচ্ছে এই দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে গিয়ে তারা ব্যর্থতার ইতিহাস রচনা করেছেন। দেশকে পিছনের দিকে ঠেলেছেন। রাজনীতি থেকে তাদের অবসর নেয়া এখন সময়ের দাবি। অন্ধ জনতার আবেগ এখনো দুই নেত্রীর প্রতি থাকলেও সবাইকে ভাবতে হবে - ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দেশের স্বার্থ সামনে দাঁড়ালে জনগণকে অন্ধ আবেগ থেকে মুক্ত হতে হবে। দুই নেত্রী যোগ্যতা প্রমাণের যথেষ্ট সময় পেয়েছেন। দুই নেত্রী তাদের পুত্রদের জাতির কাঁধে চাপিয়ে দিলে দেশের ভবিষ্যত আরো করুণ হবে। তাদের কিচেন কেবিনেটের দাপটে এমনিতেই শেষ সম্ভাবনার আলো নিভতে বসেছে।

আমার লেখার প্রতিক্রিয়ায় 'ড. কামাল হোসেন কি ধোয়া তুলসি পাতা?' শিরোনামে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছেন ড. আবুল হাসনাত মিল্টন। ১১/১২ তারিখ দুইদিন আমি দেশ-বিদেশের শতাধিক টেলিফোন পেয়েছি। অনেকে বলেছেন এমন লেখা আমার জীবনের সেরা লেখা, সাহসী লেখা। কেউবা বলেছেন, কর্মীর মনের সব কথা এসেছে লেখায়। কেউ বলেছেন, নিজেকে গানপয়েন্টে দাঁড় করিয়ে সাহস দেখানো অর্থহীন। ওরা ফিরে এলে শেষ রক্ষা হবে না। দু-একজন বলেছেন, নেত্রীর এই দুঃসময়ে না লিখলেও পারতেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিল্টন পঞ্চগড়ের বিখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম এডভোকেট সিরাজুল ইসলামের জামাতা ছিলেন। তার সেই শ্বশুর সব দেখেশুনে বুঝেই জীবনের শেষ সময়েও ড. কামাল হোসেনের পাশে থেকে দলীয় গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। আপস করেননি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যারা ভূমিকা রাখেন সিরাজুল ইসলাম তাদের অন্যতম। মিল্টনের লেখাটি চমৎকার। মার্জিত রুচির। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রতি অবিচার করেছি। এটা তার ব্যক্তিগত ভাবনা। আমি আগে যা বলেছি তা এখনো বলছি আমার বিশ্বাসের কথা। আমার শৈশব-কৈশোর থেকে উপমহাদেশের রাজনীতিতে যে রাজনীতিবিদ মনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার বিশ্বাস এই জাতির জীবনে সবচেয়ে মধুর ও রক্তে নাচন ধরানো স্লোগান 'জয় বাংলা'। আর কৈশোরে যে মহিলার ভাবমূর্তি আমাকে মুগ্ধ করেছিল তিনি শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন। আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য লড়লেও চিনত্দায় সমাজতন্ত্র ঠাঁই পাওয়ায় তার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল না। ঘরে-বাইরের অস্থিরতার মুখে রাষ্ট্রপরিচালনায় সফল হতে না পারলেও কৃতজ্ঞ জাতি গভীর শ্রদ্ধায় তাকে জাতির জনক বলেই স্মরণ করে। মিল্টন জানাতে চেয়েছেন কারা সেদিন গৃহবধূ শেখ হাসিনাকে দলে এনেছিলেন? তিনি ইঙ্গিত করেছেন ড. কামাল হোসেনের প্রসত্দাব নিয়ে সিরাজুল ইসলাম দিলি্লতে হাসিনার কাছে যান। তিনি যা বলেছেন সে ইতিহাস অন্যরকম। আর আমি ড. কামাল হোসেনকে ফেরেশতা বলিনি। বলেছি বঙ্গবন্ধু যেখানে সম্মান করতেন সেখানে তার কন্যা একে একে গুণীজনকে ও দলীয় নেতাদের কেন অসম্মান করেন? দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তিরা হারিয়ে গেছেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊধের্্ব ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, ড. জহিরের মতো আইনজীবীরা এখনো সংবিধান, গণতন্ত্র, মানবতা রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেন। তাই ড. কামালের এই চরিত্রটি তুলে ধরেছি। শেখ হাসিনার কাছে যদি কারো বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ থাকে তা তিনি বলতেই পারেন। কিন' কাউকে অসম্মান করার জন্য বেফাস মনত্দব্য করা মানায় না।

ফজলুর রহমান প্রসঙ্গে মিল্টন বলেছেন, হাসিনাকে নিয়ে রসিয়ে রসিয়ে তিনি যে বক্তৃতা করতেন তা এখনো তার কানে বাজে। আওয়ামী লীগের বক্তাদের মধ্যে হানিফের পরে সতর্ক ছিলেন ফজলুর রহমান। তিনি কখনোই অশালীন মনত্দব্য করতে পারেন না। তবে মিল্টন যে অভিযোগ করেছেন ১৯৮৬ সালে সংসদে জাতীয় পার্টির একজন সাংসদ এই অভিযোগ করেছিলেন। সেদিন সংসদে শেখ হাসিনা ছিলেন। ডেপুটি স্পিকার কোরবান আলী সংসদ পরিচালনা করছিলেন। ফজলুর রহমান এর সত্যতা প্রমাণের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার পর সরকারি দল ক্ষমা চায়। '৭৫-এর পর গ্রেফতার হয়ে আমু, তোফায়েল, রাজ্জাকরা কঠিন নির্যাতনের মুখেও আপস করেননি। মৃতু্যর মুখোমুখি হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি তাদের নেতার আত্দার সঙ্গে। জিয়া-এরশাদ-খালেদা যার সঙ্গেই তারা যেতেন মওদুদের মতো বারবার মন্ত্রী হতে পারতেন। তারা রাজনীতি করেছেন আদর্শকে সামনে রেখে। হাসিনা তাদের দূরে ঠেলে দিয়ে আজ নিজের ও দলের জন্য কী বিপর্যয় ডেকে এনেছেন কারাগারে একা একা বসে চিনত্দা করছেন কিনা আমার জানতে খুব ইচ্ছা করছে।

'৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগের মধ্যমণি আব্দুর রাজ্জাক। দলের ১৪ আনা নেতাকর্মী তার প্রতি অবিচল। ওই সময়ে দলের সভাপতি পদে আগ্রহী ড. কামাল হোসেন, আব্দুস সামাদ আজাদ, আব্দুল মালেক উকিল প্রমুখ। শেখ হাসিনাকে আব্দুর রাজ্জাক দলের সদস্য বা সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার প্রসত্দাব আগেই দিয়েছেন। এদিকে শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রী করে দেশে ফিরিয়ে আনার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন আমির হোসেন আমু, মরহুম ইলিয়াস আহমদ চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরীর স্বামী আকবর আলী চৌধুরী ও মরহুম মোহাম্মদ হানিফ। এ ছাড়াও এই প্রক্রিয়া জোরদার করতে ভূমিকা রাখেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোসত্দফা মহসীন মন্টু, চট্টগ্রামের মহিউদ্দিন চৌধুরী। জানা যায়, দলের প্রাণ আব্দুর রাজ্জাককে আমুরা এই বলে রাজি করান যে, শেখ হাসিনা সভানেত্রী হলে রাজ্জাক হবেন ব্রেজনেভ আর হাসিনা হবেন কোসেগিন। রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, ক্ষমতা রাজ্জাকের নিরঙ্কুশ থাকবে। শেখ হাসিনা প্রাণের ভয়ে দেশে আসবে না। ওই সময় দলে সহসভাপতি বদলে প্রেসিডিয়াম হয়। একেক সভায় একেকজন সভাপতিত্ব করবেন - এই হয় যৌথ নেতৃত্বের পরিকল্পনা। জানা যায়, দিলি্লতে আমু-ইলিয়াস শেখ হাসিনার বাড়ির ছাদে বসে বৈঠক করে যখন প্রসত্দাব দেন তখন হাসিনা বলেছিলেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ যেন না জানে। আপনারা সামাদ আজাদকে সভাপতি প্রার্থী করেন। ন্যাপের গন্ধ থাকায় দল তাকে মানবে না। শেখ হাসিনাকে দেশে আনার ব্যাপারে মোহাম্মদ নাসিমও ভূমিকা রাখেন। যাক, রাজ্জাক যদিও জানতেন হাসিনা সভানেত্রী হচ্ছেন তবু তিনি সামাদ আজাদকে সায় দেন। '৮১ সালে হোটেল ইডেনে দলের কাউন্সিল ঘিরে ছিল শক্তির মহড়া। পুলিশ প্রহরা ছিল না। দুই গ্রুপই তখন প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এমনি অবস্থায় সাবজেক্ট কমিটি নেতৃত্ব নির্বাচনে বসলে দেখা যায় প্যানেল রয়েছে দুটি। আব্দুস সামাদ আজাদ-আব্দুর রাজ্জাক এবং ড. কামাল হোসেন-সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন। শেষ প্যানেলের নায়ক তোফায়েল। রাজ্জাক তার সঙ্গে জোহরা তাজউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী করা নিয়ে তোফায়েলকে প্রশ্ন করেন। তোফায়েলের সহজ সরল স্বীকারোক্তি ছিল আপনি যেন কমিটি ভাগাভাগি করতে বসেন এজন্য এটা করা হয়েছে। কিন' সাবজেক্ট কমিটির বৈঠকে অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের পকেট থেকে পিসত্দল পড়ে যাওয়ায় তা বাতিল হয়। সিনিয়র নেতারা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বাসায় গিয়ে বৈঠকে বসেন। ভোরবেলা ড. কামাল হোসেনের প্রসত্দাবে শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। জানা যায়, ওই রাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনে জেগে ছিলেন ওয়াকিটকি নিয়ে। তার আশা ছিল দল ভাঙবে। কিন্ত যখন শুনলেন শেখ হাসিনা সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তখন বিষণ্ন চেহারায় সামনে বসা মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক আহমেদ চৌধুরীকে বললেন, দেশটা বুঝি ইন্ডিয়া হয়ে গেল!

এদিকে শেখ হাসিনা আসার আগেও রাজ্জাক শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের মতোই সিদ্ধানত্দ নিতেন না, সংখ্যালঘুদের মতামতও গ্রহণ করে সিদ্ধানত্দ নিতেন। কিন্ত শেখ হাসিনা আসার পর দলের সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতও মানতেন না। জমির সিলিং নির্ধারণ বৈঠকে ১৪ জন ৫০ বিঘা, ৯ জন ১০০ বিঘা ও ৬ জন ছিলেন ৩৬ বিঘার পক্ষে। ৫০ বিঘার সিদ্ধানত্দ চূড়ানত্দ হবে। হাসিনা বললেন, এর বিরোধী তো বেশি। এমনকি রেগে গিয়ে তিনি রাজ্জাককে এই মর্মে সতর্ক করেন যে, কেউ আমার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে আমি মনে করবো সে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত। সেদিনই রাজ্জাক বুঝে যান, দলে থাকা তার আর হচ্ছে না। '৭৫-উত্তর সারা দেশের ছাত্রলীগ পুনর্জন্মকালে জিয়ার মার্শাল ল' গণবাহিনী আর লাল বইয়ের বিপ্লবীদের সামনে দাঁড়ানো ছিল কঠিন কাজ। সে সময় হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গরা ছিলেন ছাত্রলীগের কর্মীদের সাহসের উতস। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে দূরত্ব রাখলেও সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্ন- ছিলেন সবার প্রিয়। মিতব্যয়ী মধুর হাসির চুন্ন-র উষ্ণ হাতের ছোঁয়া নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ধন্য হতো। বাহালুল মজনুন চুন্ন-কে ওয়ার্কিং কমিটিতে রাখা হয়নি। সহসম্পাদক করে অপমান আর অবহেলার চরম নজির সৃষ্টি করা হয়। চট্টগ্রামে আ জ ম নাছিরের শক্তিশালী দুর্গ থাকলেও তাকে দলের মহানগর কাউন্সিলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পর্যনত্দ দেয়া হয় না। কত অযোগ্যরা জায়গা পেল! ছাত্রলীগ এক করার শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজ্জাককে '৯৩ সালে দল ছাড়তে হয় সঙ্গীদের নিয়ে। রাজ্জাক চলে যাওয়ার পর ড. কামাল, তোফায়েলদের প্রভাব থেকে দলকে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় এনে দেন আমির হোসেন আমু। ওই সময় শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠদের বলতেন, রাজ্জাক-তোফায়েল বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত। তোমরা আমু ভাইর সঙ্গে থাকো। বঙ্গবন্ধু পুত্রস্নেহে ধন্য তোফায়েল এখনো তার নেতার জন্য শিশুর মতো কাঁদেন। রাজ্জাক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরেননি। সুরঞ্জিতকে দলে এনে অনেক অপমান করেছেন শেখ হাসিনা। আমু সব সময় ছিলেন দলের ও নেত্রীর অতন্দ্র প্রহরী। মোসত্দফা মহসীন মন্টু ও হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গদের দল থেকে বের করে দিয়ে হাসিনার কিচেন কেবিনেটকে সন'ষ্ট করা গেলেও কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়া হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরদিন মন্ত্রীরা ভয়ে সচিবালয়ে যাননি। কিন' হাসিনা মৃতু্যর দুয়ার থেকে বেঁচে গিয়ে দেখলেন তার ওপর বর্বোচিত হামলার পরেও ঢাকায় আগুন জ্বলা দূরে থাক একটি প্রতিবাদ মিছিল পর্যনত্দ হয়নি। সারাদেশে সংগঠনকে যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে তাতে গ্রেফতার হওয়ার ৮ মাসে কোথাও তার মুক্তির দাবিতে একটি মিছিলও হয়নি। জানা যায়, হাসিনা দেশে আসার পর দলের এক নেতা ৪ বছরে তার নেত্রীকে ৫৭টি শাড়ি উপহার দিলেও তিনি একটিও পরেননি। তবে হাত খরচের টাকা যখন যা এনে দিয়েছেন তা গ্রহণ করেছেন।

'৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর পরিবারকেন্দ্রিক লুটেরাশ্রেণী গড়ে ওঠে। যেখানে নেতৃত্ব দেন শেখ হেলালসহ চিহ্নিত কটি মুখ। আমির হোসেন আমুকে প্রথমে কেবিনেটে নেয়া হয়নি এই কিচেন কেবিনেটের লুটপাটে বাধা দেবেন বলে। শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তারা হলেন শেখ রেহানা, শেখ হেলাল, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ আর নাবালক বালকরা যাদের বলা হয় কচি-কাঁচার আসর। এই টিমের একজনকে থাপ্পর মেরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিষিদ্ধ হন জনপ্রিয় সাংসদ হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। কিচেন কেবিনেটের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে ওই সময় শোনা যেত রউফ চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, নূর আলী, শাহ আলম, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম। সালমানের শেয়ার কেলেংকারির বাধা দেয়ায় অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার প্রতি এই চক্র ক্ষুব্ধ হয়। ওই সময় এক সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যান ম খা আলমগীর, সালমানরা। ঠিক হয় দেশে এসেই কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে মখা আলমগীরকে অর্থমন্ত্রী করা হবে। শেখ হাসিনা ওই সময় তার লোকদের সহযোগিতা না করার জন্য কিবরিয়ার প্রতি অসনত্দোষ প্রকাশ করেন। এতে কিবরিয়া পদত্যাগের সিদ্ধানত্দ নেন। আন্তর্জাতিক মহল তার সততা, দক্ষতা ও মেধার কারণে তাকেই অর্থমন্ত্রী চাইলেন। তাই কিবরিয়ার পদত্যাগ ঠেকাতে সামাদ আজাদকে দূতিয়ালিতে লাগানো হয়।

সূত্র জানায়, বিশেষ মহলের চাপে সামাদ আজাদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হলেও ভারত ছাড়া কোথাও প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তাকে সফরসঙ্গী করেননি। পড়নত্দ বয়সে সামাদ আজাদের বিয়েকে আড়ম্বরপূর্ণ ও কৌতুকপ্রিয় করে তোলার জন্য শেখ হাসিনা টাকাও খরচ করেন। এর কারণ তাকে বাইরের দুনিয়ায় হাল্কা করা। এদিকে শেষ সময়ে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতিতে আনতে দল থেকে যেন প্রবীণদের তাড়াতে ব্যসত্দ হন শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়ে আনা হয় তার নিজস্ব কর্মী দ্বারা। খালেদার প্রথম আমলে সামরিক বাহিনীতে হাসিনার ফুপা জেনারেল (অব.) মোসত্দাফিজুর রহমানসহ প্রশাসনে কোনো কোনো আত্দীয় প্রমোশনও পান। খালেদা বঙ্গবন্ধুর মাজারেও যান। পুতুলের বিয়েতে খালেদা এলে হাসিনা স্বাগত জানান, তবে একজন প্রধানমন্ত্রীকে যে সম্মান দেয়ার কথা তা দেননি। দিয়েছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতারা। তারেকের বিয়েপেত যান শেখ হাসিনা। '৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানকে সস্ত্রীক বিদেশ যেতে না দেয়ায় দুই পরিবারে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে ওঠে। বিমানবন্দর থেকে পুত্রবধূসহ ছেলের ফিরে আসার অপমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভোলেননি। তারেককে আটকে দেয়ার পিছনে হাসিনার কিচেন কেবিনেটের দুজনের ভূমিকা ছিল বলে শোনা যায়। খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন, কত ধানে কত চাল দেখে নেব।

এই সূত্রে খালেদা লাগাতার সংসদ বর্জন শুরু করেন। সংসদ আবার অকার্যকর হয়। এদিকে তারেক মায়ের কাছ থেকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিলে হাওয়া ভবন সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এখান থেকে শুরু হয় বিএনপির পরিবারতন্ত্রের যাত্রা। খালেদা দলের সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে ক্রমশ সরে এসে ছেলের সিদ্ধানত্দকেই গুরুত্ব দিতে থাকেন। ২০০১-এর নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রার্থীই হন শতাধিক। আর হাওয়া ভবন নির্লজ্জ মনোনয়ন বাণিজ্যের নজির স্থাপন করে। আবুল হাশেমের মনোনয়নের দাম ৫ কোটি_ এ খবর সবাই জেনে যায়। দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া ২৮ সদস্যের মন্ত্রিসভার তালিকা তৈরি করেন। বঙ্গভবনে শপথ নেয়ার দিন সকালে তারেক খালেদার কাছ থেকে তালিকা টেনে নিয়ে সব মন্ত্রীর সঙ্গে তার পছন্দের প্রতি ও উপমন্ত্রী যোগ করে বহর বিশাল করেন। বরকত উল্লাহ বুলু ওই সময় বঙ্গভবনের শপথ অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে শপথ নেন মন্ত্রীর।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই তারেক মামুনকে দিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের জড়ো করেন তার পক্ষে। লতিফুর রহমান মাহবুবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এই ব্যবসায়ী দলের নেতৃত্ব দেন। খালেদা মন্ত্রীদের তালিকা করেছিলেন সাইফুর, মান্নান, ড. মোশাররফকে নিয়ে। তারেক করেন মামুনকে নিয়ে। মোরশেদ খান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে প্রথমে সাড়ে তিন কোটি টাকা দেয়ায় শপথ বিলম্ব হয়। ৫ কোটি পেইড হলে মন্ত্রণালয় পান। মাফিয়া ডন বাবরকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। খালেদা এতটাই অসহায় হন ছেলেদের কাছে যে হাওয়া ভবন সরকারকে গ্রাস করে। ব্যবসা-বাণিজ্য-টেন্ডার কমিশন আদায় সব এখান থেকে হয়। দেশ পরিচালনার শপথনামা ভঙ্গ করে প্রায় গোটা সরকার ও বিএনপি দুর্নীতিতে ডুবে যায়। '৯১ সালে খালেদার প্রিয় সহকর্মী মোসাদ্দেক আলী ফালুর কী ছিল সেটি বড় প্রশ্ন নয়। ক্ষমতার শেষ ৫ বছরে তাকে এমপি বানানো হয়েছে, মিডিয়া মোগল বানানো হয়েছে। অর্থের উৎস কোথায় সেটাই প্রশ্ন। এখানেও লক্ষ্যণীয় মজার বিষয় যে হাসিনার পাশে থাকা আওয়ামী লীগের দু-চারজন নেতার ফালুর সঙ্গে রয়েছে গভীর সখ্য। এমন লুণ্ঠন উপমহাদেশের ইতিহাসে আর হয়নি। খালেদার অসহায়ত্ব এমন পর্যায়ে পেঁৗছে তার জানা মতে, সাবি্বর হত্যা মামলায় তার পুত্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা ঘুষ নেয়। তাদের দুর্নীতি সন্ত্রাস দমনে র্যাবের সাফল্যের ইতিহাস মুছে যায়। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির এই মহোৎসব ও খালেদার কিচেন কেবিনেট নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে সাঈদ ইস্কান্দার, তারেক-কোকো-মামুন, ফালু, বাবর, ডিউক ছিলেন। ডান্ডি ডায়িং নিয়ে বিরোধে মামা ছিটকে পড়লেও বোনের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে যায়। হাওয়া ভবনেও লুটেরা অথর্ব একদল রাজকর্মচারীর বাড়াবাড়ি ছিল সীমাহীন। এই ভবনের মুখপাত্র ছিল আশিক ইসলাম। তারেকের সঙ্গীরা তাকে সারাদেশে ভাইয়া থেকে যুবরাজ বলতেই বেশি পছন্দ করতেন। খালেদা নির্বাচনের পর গুরুত্বপূর্ণ এক জায়গায় গিয়ে চা-চক্রের ফাঁকে বলেছিলেন, তারেক হবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সবাই হতবাক। ৫ বছর সংসদ উপনেতাও নির্বাচিত করেননি। দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠায় অপমান মাথায় নিয়ে বঙ্গভবন ছাড়েন বি চৌধুরী। বসুন্ধরা শপিং মল যেদিন ঝলমলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন সেদিন সরকারের একটি মহল বন্যার সময় ওখানে যেতে খালেদাকে মানা করেছিলেন। জবাবে খালেদা এই বলে অনুষ্ঠানে যান, ওটা কোকোর ফার্ম ডেকোরেশন করেছে। আজ যে রিজভী আহমদের মতো সত তরুণ নেতা খালেদা পরিবারের জন্য লড়ছেন তিনি উপমন্ত্রীও হননি। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, শামসুজ্জামান দুদুরা মনোনয়ন পাননি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কন্যা মহিলা এমপি হতে পারেননি। তবে মজার বিষয় ছিল - খালেদার কিচেন কেবিনেট হাসিনার কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে মাঝে মাঝে রাতে গুলশানে গোপন বৈঠকে বসতো। সেখানে সুচতুর তারেক ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের খুশি করে দিতেন। বিনিময়ে হাসিনা কখন কোথায় কী করতেন তা সুধা সদন থেকে হাওয়া ভবনে জানিয়ে দেয়া হত। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু ব্যবসা করে দলকে ভালবেসে চাঁদা দিতেন। আর বাধ্য হয়ে বিএনপিকে দিতেন কমিশন। কিচেন কেবিনেটের বাইরে থাকায় টিংকু দলের কাছে অপরাধী আর কিচেন কেবিনেট নির্দোষ। তাই নয়, বিএনপির লুটপাটের সঙ্গে জঙ্গিবাদকে সহযোগিতা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ। তারেক সুচতুরভাবে সবকিছু এমনভাবে করতেন যে ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে অর্থের জোরে সব ম্যানেজ করতে চেয়েছিলেন। ওয়ান ইলেভেন না এলে তারেক বিজয়ী হতেন, জনগণ পরাজিত হতেন। এদিকে ওয়ান ইলেভেনের অ্যাকশন দুই পরিবারকে কাছাকাছি করে দেয়। সরলপ্রাণ কর্মীরা অন্ধ বোবা হয়ে বুঝতে চান না। হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র গেলেন বেঁধে দেয়া সময়ে ফিরবেন বলে। এদিকে খালেদার বিদেশ নির্বাসনের সব প্রস'তি সম্পন্ন। তারেক ছাড়া কোকোসহ সবাই সঙ্গে যাবেন। এই সময়ে খালেদার আনত্দর্জাতিক মিত্র শক্তির এজেন্টরা বন্ধু সেজে পাশে দাঁড়ালো হাসিনার! টেলিফোনে কথা বলানো হলো খালেদার সঙ্গে। খালেদা সম্মতি দিলেন হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি বিরোধী দলে থাকবেন। হাসিনা আরো কিসের বিনিময়ে জানি তার চরমশত্রু যার মুখ দেখতে নারাজ ছিলেন সেই 'চাঁদ কাপালির' (হাসিনার ভাষায়) বিদেশ যাত্রার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। ব্যয়বহুল ছিল আল জাজিরাসহ আনত্দর্জাতিক মিডিয়াকে সংগঠিত করা। আর সরকারের সঙ্গে শর্ত ভঙ্গ করে দেশে ফিরলেন। দেশে ফিরতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা মিডিয়ায় ফাঁস করে হাসিনা তাকে বিব্রত করেন। হাসিনার শর্তযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরে ভূমিকা রেখেছিলেন আব্দুল জলিল ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম। হাসিনার কারণে তারাও গ্রেফতার হন। হাসিনা কেন এমনটি করলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে জবাব একটাই আসে_ দুই পরিবারের হাতে দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ থাকবে এটাই চেয়েছেন। প্রিয় মিল্টন, আমাদের আর কতকিছু দেখার বাকি বলতে পারেন? বিজয়ের ৩৭ বছর কেটে গেছে। কেউ কথা রাখেনি! তাই অবিচার নয়, ব্যক্তির প্রতি অন্ধ মোহও নয়, দেশকে ভালবেসে বলি, নিজের ভেতর থেকে আসা শক্তির জোরে বলি। 'নিজের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ' এটা প্রমাণে দুই নেত্রী, দুই দল ব্যর্থ। আমাদের এখন একজন মাহাথির মোহাম্মদের প্রয়োজন। যিনি লক্ষ্য নিয়ে আসবেন। পরিবর্তনের মাধ্যমে জয় করবেন সবার হৃদয়। যার সমালোচনা সইবার ক্ষমতা থাকবে। নিজ এবং তার আত্দীয়-স্বজন, সহকর্মী, সমর্থক সবাইকে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে রাখবেন। কোনো তদবিরে কাজ হবে না। প্রশাসন হবে পক্ষপাতমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত। প্রশাসন ও আইনের হবে ব্যাপক সংস্কার। বাড়বে শুধু মানুষের জীবন যাত্রার মান।

পীর হাবিবুর রহমান
[বিশেষ সংবাদদাতা, দৈনিক যুগান্তর]
http://amadershomoy.com/online/news.php?id=18028&sys=1

An unpunished crime by Khaleda Zia's mother

খালেদা জিয়ার মায়ের এনজিও পল্লীশ্রীকে অবৈধভাবে চিরস্খায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়ার ঘটনা ফাঁস

ভিওবিডি, ঢাকা থেকে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মায়ের এনজিও পল্লীশ্রীকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্পিত সম্পত্তি চিরস্খায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়ার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে বালুবাড়ী মৌজার ৪৮৩ খতিয়ানের ৩৫১ দাগের অর্পিত সম্পত্তি সাড়ে ৩৮ শতাংশ জমিসহ দোতলা বাড়ি খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা মজুমদারের এনজিওর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগে জানা গেছে, এই বরাদ্দ দেয়ার সময় ভূমি মন্ত্রণালয় এবং তৎকালীন দিনাজপুর জেলা প্রশাসন কোনো আইন-নিয়মনীতি তো মানেইনি বরং মাত্র একদিনে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই বরাদ্দপত্র অনুমোদনে স্বাক্ষর করেন।

তাছাড়া ২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি ‘প্রত্যর্পণ আইন’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর এই ধরনের সম্পত্তি আইনগতভাবেই কাউকে চিরস্খায়ী বরাদ্দ দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষমতার দাপটে এই অবৈধ কাজটি করেছিলেন তারা। এতে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং সরকারের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ওই সম্পত্তির মূল মালিক যতীন্দ্র মোহন গং এই দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গেলে এই সম্পত্তি ‘শক্র সম্পত্তি’ এবং পরে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রয়োজনে বাড়িটি হুকুমদখল করে সরকারি দফতর স্খাপন করা হয়। হাল আমলের সংশোধনী জরিপে নালিশি ৩৫১ দাগটি ১৫৭৩ দাগে রূপাìতরিত হয় এবং এই দাগের সব সম্পত্তিই অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে সরকারের নামে ১/১ খতিয়ানে চূড়াìতভাবে রেকর্ড প্রকাশিত হয়। ২০০১ সালে প্রত্যর্পণ আইন জারির পর এই সম্পত্তি ‘প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তি’ হিসাবে জেলাওয়ারী তালিকার ১৩১১ নম্বর ক্রমিকে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু সরকারি এই সম্পত্তির দিকে দৃষ্টি যায় খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা মজুমদারের। তার প্রতিষ্ঠিত এনজিও ‘পলíীশ্রী’র নামে নালিশি সম্পত্তি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির শুরু করেন। খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি কিছুটা সফল হন। প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ১৯৯৩ সালে ভিপি কেইস নং-১/৯২-৯৩ মূলে নালিশি জমির ১০ শতাংশ ‘পল্লীশ্রী’র নামে একসনা বন্দোবস্ত নেয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির ১৯৮৪ সালের ৩১ জুলাই ঘোষণা অনুযায়ী নতুন করে অর্পিত সম্পত্তি লিজ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৩/১১/১৯৮৪ তারিখের ৫-২৩/৮৩(অংশ-১)/৩৩৮/৬৪ নম্বর স্মারকে নতুন লিজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু তারপরও খালেদা জিয়ার ক্ষমতাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতির ঘোষণা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রকে লঙ্ঘন করে ওই ১০ শতাংশ জমির লিজ হাসিল করা হয়। কিন্তু তৈয়বা মজুমদার কেবলমাত্র ১০ শতাংশ, তাও আবার একসনা, লিজ নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তার উদ্দেশ্য ছিল বাড়িসহ সম্পূর্ণ সম্পত্তি গ্রাস করা।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে তৈয়বা মজুমদার উল্লিখিত দাগের সব সম্পত্তি এবং দোতলা বাড়ি গ্রাসের জন্য আবার চেষ্টা তদবির শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠিত এনজিও পল্লীশ্রীর নামে উল্লিখিত দাগের সব সম্পত্তি চিরস্খায়ীভাবে বন্দো্বস্ত দেয়ার জন্য দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে আবেদন করেন। ২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বলবৎ হয় এবং আলোচ্য সম্পত্তি ‘প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তি’ হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়। প্রত্যর্পণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তির যাবতীয় হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়। এই আইনগত বিধান লঙ্ঘন করে উল্লিখিত সম্পত্তি পল্লীশ্রীর অনুকূলে চিরস্খায়ী বন্দোবস্ত প্রদানের প্রস্ততাব করে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৩/৫/২০০৪ তারিখের এল.এ/০৯/৭৬-৭৭/০৪/১৪১ নম্বর স্মারকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে।

প্রত্যর্পণ আইন বলবৎ থাকার কারণে ‘স্খায়ী বন্দোবস্ত সম্ভব নয়’ বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৬/৬/০৪ তারিখের ভূ:ম:/শা-৬/অর্পিত/দিনাজপুর/৮৫/২০০৪/৪৮৬ নম্বর স্মারকে জানিয়ে দেয়া হয়। তবে একসনা লিজের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে মর্মে মতামত দেয়া হয়। যদিও প্রত্যর্পণ আইন বলবৎ থাকা অবস্খায় একসনা বন্দোবস্ত নিষিদ্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৬/৮/০৫ তারিখের এল,এ/এইচ,আর/০৯/৭৬-৭৭/০৫/২২২ নম্বর স্মারকে পল্লীশ্রীর অনুকূলে স্খায়ী বন্দোবস্তত প্রদানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রþতাব প্রেরণ করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ১০/১১/০৫ তারিখের ভূ:ম:/শা-/অর্পিত/দিনাজপুর/৮৫/২০০৪/৮৯১ নম্বর স্মারকে আইনের পরিপন্থী বিধায় স্খায়ী বন্দোবস্তের প্রþতাব অনুমোদনযোগ্য নয় বলে জেলা প্রশাসককে জানিয়ে দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২৯/৩/০৬ তারিখের এইচ,আর/৯/৭৬-৭৭/০৬/৫৫ নম্বর স্মারকে পল্লীশ্রীর অনুকূলে চিরস্খায়ী লিজের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। তৃতীয়বারের মতো প্রস্তাব প্রেরণ করেও কোনো কাজ না হওয়ায় নালিশি সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে পল্লীশ্রী ভিন্নপথ অবলম্বন করে। প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্খায় ক্ষমতার দাপটে অবৈধ উপায়ে অধিগ্রহণের মাধ্যমে উল্লিখিত সম্পত্তি গ্রাস করার কৌশল গ্রহণ করে।

২০০১ সালের প্রত্যর্পণ আইন লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসক ‘প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তি’ পল্লীশ্রীর অনুকূলে অধিগ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করে। ১৯৯৭ সালের স্খাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়ালের ১৭ নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসক অধিগ্রহণ কেইস রুজু করেন। নালিশি সম্পত্তির পুরোটাই সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ১/১ নম্বর খতিয়ানে চূড়াìতভাবে রেকর্ডে প্রকাশিত হয়। ম্যানুয়ালের উল্লিখিত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরিবর্তে বন্দোবস্ত প্রদানের বিধান রয়েছে। কিন্তু জোট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট জেলা প্রশাসক ম্যানুয়াল লঙ্ঘন করে সরকারি সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য ১৯৮২ সালের অধিগ্রহণ আইনের আওতায় ৪/২০০৬-২০০৭ নম্বর এল.এ কেইস রুজু করে অধিগ্রহণের প্রþতাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। জেলা প্রশাসনের ০১/১০/০৬ তারিখের এল.এ/তিন-৩০/২০০৬/১৭৯ নম্বর স্মারকে রুজুকৃত এল.এ কেইস অনুমোদনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব নালিশি সম্পত্তি ‘অধিগ্রহণযোগ্য নয়’ মর্মে প্রস্তাব করেন।

কিন্তু তাদের এই আইনগত মতামতকে অগ্রাহ্য করে বেআইনিভাবে সরকারি সম্পত্তি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করেন জোট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট উপ সচিব (উন্নয়ন), যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন), সচিব, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। বিস্ময়কর ব্যাপার যে, তৈয়বা মজুমদারের এনজিও পল্লীশ্রীর অনুকূলে অধিগ্রহণের এই প্রস্তাবটি বিদ্যুৎগতিতে অনুমোদিত হয়। মাত্র ১ দিনেই (১১/১০/০৬ তারিখে) ওই ৫ জনের স্বাক্ষরে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। আরো মজার বিষয় যে, ঐ দাগে সাড়ে ৩৮ শতাংশ সরকারি ভূমি থাকলেও অধিগ্রহণ প্রþতাবে অìতর্ভুক্ত করা হয় মাত্র সাড়ে ২৬ শতাংশ। বাকি ১২ শতাংশ ভূমি ক্ষমতার কারসাজিতে অদৃশ্য কৌশলে বিনা অর্থে পল্লীশ্রীকে স্খায়ীভাবে পাইয়ে দেয়া হয়। এতে করে সরকারের ৫ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। বর্তমানে বহাল তবিয়তে পল্লীশ্রী অফিস পরিচালনা করছে।

সূত্র: http://www.khabor.com/news/bangladesh/may/bangladesh_news_05292009_00001...

Bangladesh Capital Dhaka Sees Unprecedented Rise In Land Prices

http://au.news.yahoo.com//080520/3/16xi2.html

Asia Pulse Tuesday May 20, 02:18 PM

DHAKA, May 20 Asia Pulse - Bangladesh's capital Dhaka City has experienced an unprecedented increase in land prices since the early 70s with Dhanmondi showing 12,000 per cent rise since there is no control over the land market. According to a study, Dhaka City has seen the unusual rise in land prices for lack of serviced land compared to the demand.

It says age-old land record system, taxation structure and cumbersome land transfer procedure have made the whole system unmanageable in the city where the land-man ratio is among the lowest in the world.

The study says real estate companies have had land development and housing projects allover the city driving up the land price, as they compete with each other for a single piece of land.

Land prices in areas where developers operate such as Dhanmondi, Gulshan, Banani, Baridhara, Segunbagicha, Siddheswari, Shantinagar and Mohammadpur are much higher.

The study says transformation of land use from residential to commercial knocks up the price further. The growth rate of land price of Dhanmondi was higher during 1983 to 2005, which was 1,222 per cent. In recent years, the land price in Dhanmondi has broken the previous records due to fierce competition among the developers.

The study found only one area in the city, Motijheel, where land price had been rising faster long before independence (between 1947 and 1966). Prices in Motijheel increased by 9,900 per cent before independence and by 2,400 per cent after independence.

It reveals that although there is almost no land transaction in the older part of Dhaka, there are some wards like 62, 63, 64, 66, 68, 69, 70, and 71 where land price is too high because of their commercial importance.

The study, titled Land Price in Dhaka City: Distribution Characteristics and Trend of Changes, says the pressure on limited land in Dhaka has not only intensified urbanisation, it has also led to indiscriminate filling of lowland in and around the city to make way for unplanned urban development.

The study has identified some physical factors that influence the land price in Dhaka. These include type of neighbourhood (planned/unplanned), width of the main road, width of access road, surface quality of the road, distance of the main road from the area, duration of water logging and distance of the marketplace and the nearest health facility.

The study suggested setting up of an information database to regulate the market, avoid artificially created land crisis, ensure equitable access to land by citizens and overcome the problem of speculation.

It says information about land price help the policymaker and the planners understand and analyze the dynamic urban structure of Dhaka as the capital city.

Suman Kumar Mitra, Md Abu Nayeem Sohag and Mohammad Aminur Rahman of Urban and Regional Planning Department of BUET conducted the study under the guidance of Ishrat Islam, a teacher of the department.

"It's like auction the way land is sold in Dhaka city. There should be a system to regulate the land market in the city," Ishrat Islam told UNB.

According to the 2001 census, 23 per cent of the country's population live in urban areas. The increasing rate of urbanisation is the effect of growing population and migration from rural areas. The mounting population pressure on Dhaka City has a severe impact on housing, infrastructure and employment sectors, which require land to meet the demand.

About the land price in Dhaka, a writer in an article says, Its now an open secret that a gulf of difference exists between the government and market prices of the city land. In this 'imperfect' or 'distorted' market, land becomes arguably the most valued commodity. It is no surprise that land receives more than its fair share of attention from land speculators and developers as well as grabbers. A gainful nexus develops between some of them and a section within the concerned authorities.

He says the developers are now on a rampage for land, creating ecological disasters in and around Dhaka.

Bangladesh kills 200,000 fowl over bird flu

(Reuters)

24 March 2008

DHAKA - Authorities in Bangladesh said on Monday they have culled more than 200,000 chickens at different farms over the last two weeks over suspected bird flu outbreaks, although the disease had begun subsiding across the country.

Avian influenza has spread through 47 of Bangladesh’s 64 districts and forced the killing of more than 1.5 million birds since March of last year. Nearly 2 million eggs have also been destroyed.

“More than 200,000 chickens and ducks were culled over the past two weeks in dozens of affected firms and in their immediate vicinity,” a senior official at the livestock ministry said.

Industry officials said bird flu has caused losses of about 45 billion taka ($650 million) to the poultry sector, which accounts for 1.6 percent of the poor nation’s gross domestic product.

About 60 percent of the country’s more than 150,000 poultry farms have been closed, making more than 1.5 million people jobless.

Chicken prices in the capital Dhaka have jumped nearly 75 percent in the past week, selling at 140 taka per kg, while the price of eggs has risen over 10 percent.

“We are facing a quick upward trend in the chicken and egg prices, when prices of rice, flour, edible oil continue to rise alarmingly,” said Mashud Islam, a government employee.

Around five million of the country’s more than 140 million people are directly or indirectly involved in poultry farming.

No human bird flu cases have been reported in Bangladesh, a densely populated nation where poultry is commonly kept by households.

Experts fear the H5N1 strain could mutate or combine with the highly contagious seasonal influenza virus and spark a pandemic, especially in countries such as Bangladesh where people live in close proximity to backyard poultry.

The virus has killed 236 people worldwide since 2003.

Bangladesh tops most corrupt list - 2005

By Waliur Rahman
BBC News, Dhaka

Bangladesh has topped the list for the fifth consecutive time
Bangladesh has been ranked as the most corrupt country on earth in the latest list of corrupt nations published by Transparency International.

The Berlin-based anti-corruption watchdog said Bangladesh shares the top spot with the central African country of Chad.

The government has not yet commented on the latest corruption list.

This is the fifth year in a row that Bangladesh has topped the corruption perception index.

Last year, the Caribbean country, Haiti, ranked top with Bangladesh.

The survey relates to perceptions of the degree of corruption in different countries, as seen by business people, academics and risk analysts.

'No real effort'

Corruption is widespread in Bangladesh and is a hot political and controversial issue and feuding political parties often charge each other with being corrupt.

MOST AND LEAST CORRUPT
5 most corrupt states:
Bangladesh
Chad
Turkmenistan
Burma
Haiti
5 least corrupt states:
Iceland
Finland
New Zealand
Denmark
Singapore
Source: Transparency International

Officials at the Bangladesh chapter of Transparency International say they have seen no real effort over the years to root out corruption.

Previous surveys by the Transparency's local researchers found police, revenue and land departments to be the most corrupt among the country's public institutions.

This list is quite controversial in Bangladesh and government ministers have dismissed the index in the past on the grounds that perceptions do not necessarily mean that it is true.

Bangladesh's prime minister Begum Khaleda Zia
The PM insists corruption has come down

In a televised address last week, Bangladesh's Prime Minister Khaleda Zia rejected criticism from opposition parties that her government did nothing to deal with the problem.

Mrs Zia said her administration has taken some bold measures to root out the problem during her four-year rule, including the formation of an independent Anti-Corruption Commission.

She also said the level of corruption had come down, but progress was not so visible because of a media campaign and deliberate rumours.

The government insists that the commission is still new and will play a strong role in curbing corruption once the body develops with time.

Bangladesh's Biman to buy 8 Boeing planes for 1.26 billion dollars

Bangladesh's ailing national carrier Biman will buy eight new Boeing aircraft for 1.26 billion dollars as part of a fleet overhaul to help make the airline profitable, a minister said on Monday.

"We want to give a new face to Biman," Civil Aviation Minister Mahbub Jamil told reporters.

US planemaker Boeing edged out European rival Airbus for the contract to supply the planes to state-owned Biman, which has been posting huge financial losses and is facing fierce competition from smaller, private rivals.

"Biman's board has decided to procure four Boeing 777-300ER and four 787-8 aircraft as part of the fleet overhaul," the minister said.

"Our aim is to make Biman profitable by the next financial year. Already we hope it will break even this year... as we've made it more efficient," he said.

The eight aircraft will bring Biman Bangladesh Airline Ltd's fleet strength to 20.

Biman has already laid off 2,000 workers, plans to axe 2,000 more posts and has suspended eight loss-making international flights and four domestic routes under its restructuring drive.

"The eight new aircraft will cost 1.26 billion dollars with each 777-300ER costing 182 million dollars and 787-8 plane 133 million dollars. We'll sign a preliminary agreement by March 15. A final deal will be signed by April 15," Jamil said.

Boeing will hand over the 463-seat 777-3003R between July and August 2013 and the 294-seat 787-8 between July-December 2017, Jamil said.

Biman's board reviewed bids from both Airbus and Boeing, but chose the US company as it proposed to train pilots, upgrade airports and help in engineering and marketing for Biman as part of the deal, Jamil said.

"But Biman will negotiate with Airbus next month for procuring short-haul aircraft," he said.

Biman posted a record loss of more than 120 million dollars for the financial year ending June 2006 and is expected to announce a 100 million dollar loss for the following financial year on soaring global fuel prices and higher-than-expected maintenance costs.

"It's the first time in Biman's 35-year history that the national flag carrier is purchasing aircraft directly from the manufacturer and it's being done transparently," Jamil said.

Critics have said prevous aircraft purchase deals were shady.

Bangladesh's military-backed government took power in January 2007, pledging to clean up the country's notorious corruption before reinstating democracy later this year.

The national carrier started in 1972 with a vintage Dakota DC-3 aircraft, less than a month after the South Asian nation won independence from Pakistan. Its current fleet includes five 20-year-old DC-10 planes which officials say must be replaced within a few years.

Before the new planes are delivered, Boeing will lease Biman four used 777-300 ER in 2009 and 2010 and four used 787-8 in 2011-12 to help the airline cope with a growing passenger load.

Jamil said the Boeing plane purchases will be financed by the US Export-Import Bank and a syndicate of local banks.

http://news.yahoo.com/s/afp/20080310/wl_sthasia_afp/bangladeshusairlineb...

Bashundhara City

ক্ষতি ২০০ কোটি : খুলছে বসুন্ধরা সিটি
দেব দুলাল মিত্র


বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৰয়ৰতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এ দাবি করেছে বসুন্ধরা গ্রম্নপ কতর্ৃপৰ। ৰতিগ্রসত্দ টাওয়ারটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পুরো টাওয়ারটি ভেঙেও ফেলতে হতে পারে। এটি পুনর্নির্মাণে দুই বছর লাগবে। ওদিকে সরকার গঠিত তদনত্দ কমিটি গতকালও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কথা বলেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে। তদনত্দ কমিটির সদস্যরা বেশ কয়েকটি কারণ সামনে নিয়ে তদনত্দকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশকিছু গরমিল তাদের নজরে পড়েছে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন সিটি টাওয়ারের সব ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বন্ধ ছিল। কিন্তু কোনো ক্যামেরাই বন্ধ থাকার কথা নয়। ওইদিন কেন তা বন্ধ ছিল তা এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকার বিষয়টি নিয়েও চিনত্দায় পড়েছে তদনত্দ কমিটি। টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যনত্দ আগুন ছড়িয়ে পড়লেও ১৬ তলার ফ্লোরটি ৰতিগ্রসত্দ না হওয়ায় বিষয়টি অস্বাভাবিক ঠেকছে তদনত্দ কমিটির কাছে। অগি্ননির্বাপণের জন্য ওই ভবনে একটি পৃথক লিফট আছে। কিন্তু ঘটনার দিন লিফটটি বন্ধ থাকা রহস্যজনক। অগি্নকা-ের আগে কোনো দাহ্য পদার্থের অসত্দিত্ব আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দাহ্য পদার্থ না থাকলে আগুন এতো দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলা সম্ভব নয়।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে বসুন্ধরা সিটিতে যায় তদনত্দকারী দল। বিকাল ৩টা পর্যনত্দ চলে তদনত্দকাজ। পরিদর্শন শেষে তদনত্দ কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইকবাল খান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আমরা এখন আগুন লাগার রহস্য অনুসন্ধান করছি। বেশ কিছু ত্রম্নটি আমাদের নজরে এসেছে। এর মধ্যে বিদু্যতের কোনো ত্রম্নটি ছিল কি না, আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলার কারণ কী, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা কেন বন্ধ ছিল_ আমরা এসব কারণ খতিয়ে দেখছি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ৰতিগ্রসত্দ হয়েছে ১৮ তলার ফ্লোরটি। ওই ফ্লোর থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

তদনত্দ কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, সাতদিনের মধ্যেই তদনত্দ রিপোর্ট দেয়া হবে। এখানে আমাদের গোপন করার কিছু নেই। বসুন্ধরা গ্রম্নপের কর্মকর্তারা জানান, অগ্নিকান্ডের ক্ষতি পোষাতে অনেক সময় লাগবে। তবে সবার সুবিধার্থে আজ বসুন্ধরা সিটির মার্কেট সাইড খুলে দেয়া হবে। একই সঙ্গে ৰতিগ্রসত্দ ভবনের পুনর্নির্মাণও শুরম্ন করা হবে। তবে এতে মার্কেটে আসা ক্রেতা বা বিক্রেতাদের কোনো সমস্যা হবে না।

JaiJaiDin
http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=121278

Cellphone jammers to be installed at jails

Step to stop widespread use by high profile inmates, criminals
By Kailash Sarkar

Following detection of quite widespread use of mobile phones by prisoners in violation of the jail code, the government decided to install cellphone jammers at all 67 prisons across the country.

Inspector General of Prisons (IGP-prisons) Brig Gen Zakir Hassan told The Daily Star yesterday, "Recently we seized a few mobile phones from prisoners, which they had been using while in jail. That's why we have taken the decision to make it impossible for the prisoners to make unauthorised contacts with people outside."

"A low range cellphone jammer has already been installed at Dhaka Central Jail experimentally about 15 days ago. In the first phase, the jammers will be installed at all 12 central jails, and the rest of the jails will get them gradually."

Cellphone jammers transmit low power radio signals to cut off communications between cellphones and transmission towers, prompting cellphones to detect 'NO SERVICE' in an area.

Recently, newspapers published reports with corroborations from jail authorities that many high profile prisoners, detained in the ongoing anti-graft drive, have been using mobile phones coordinating their political, professional, and other activities outside from jails.

According to the sources other imprisoned crime suspects and convicted criminals also often control their networks of killings, extortions, and other crimes through mobile phones from jails.

The jail authorities already took punitive actions against at least 10 high profile prisoners for using cellphones in prisons violating the jail code.

Imprisoned former ministers Air Vice-marshal (retd) Altaf Hossain Chowdhury and Barrister Nazmul Huda, and former state minister Aman Ullah Aman were shifted to Narayanganj Jail punitively for using mobile phones in Dhaka Central Jail.

Salahuddin Quader Chowdhury, political adviser to former prime minister Khaleda Zia, was sent to Sylhet Jail punitively from Kashimpur Jail, and former housing minister Mirza Abbas was sent back to Dhaka Central Jail from Apollo Hospital for same reasons.

The jail authorities also seized mobile phones from possessions of imprisoned former state minister Mohiuddin Khan Alamgir, Sigma Huda, wife of Nazmul Huda, Sabera Aman, wife of Aman Ullah Aman, and Khusnud Lobi, wife of former lawmaker Ali Asgar Lobi.

According to the jail authority sources, a number of other VIP prisoners also have been using mobile phones in prisons as well as various other criminals, dodging the eyes of the authorities.

"The seizures of mobile phones prove that mobile phones are somehow being smuggled into jails," the IGP-prisons said adding, "We have decided to install cellphone jammers, so the mobile phones smuggled into jails by prisoners won't work."

Our Rajshahi correspondent Anwar Ali reported that Deputy Inspector General of Prisons (DIG-prisons) at Rajshahi Maj Hafijur Rahman Mollah said, "The authorities of all 16 prisons in the northern districts have been asked to provide data about where in the prisons the jammers could be installed, without interfering the signals in areas adjacent to the prisons."

The jail authority sources said they also asked the jails to provide data regarding whether they have division wards and hospitals where VIP prisoners are usually kept, and what are the capacities of those as well as of the general cell blocks.

DIG-prisons Maj Shamsul Haider Siddique said, "Jails in Dhaka need the jammers the most, since high profile prisoners tend to use cellphones more than other prisoners."

IG-prisons Brig Gen Zakir Hassan said, "The cellphone jammers will be purchased from abroad through an invitation for tenders."

The IGP-prisons hoped that the invitation will be published in June, following which the jammers will hopefully be installed in all the central jails within this year, to be expanded gradually to other jails.

He also said, "We are very alert against unauthorised use of mobile phones in jails, but in addition to our usual vigilance we have started installing the jammers."

Brig Gen Zakir said, "Each of the jammers installed at Dhaka Central Jail covers about 100 square feet. The jammers installed will be of low range so the people outside are not affected by it."

The prison authority sources said they are now assessing the cost of installing the jammers.

Source: The Daily Star
http://www.thedailystar.net/story.php?nid=25577
Published on: Saturday, March 1, 2008

Corruption of Sheikh Family

বাংলা দৈনিক হতে সংকলিত

Crime & Punishment

Falu gets 5-yr for relief pilferage
June 3, 2008 - 6:15am BDT

Crime and Punishment - Mosaddeque Hossain Falu

A special court yesterday sentenced detained former BNP MP Mosaddek Ali Falu to five years' rigorous imprisonment for embezzlement of government relief materials.

Judge Tanjina Ismail also fined Falu Tk 5.35 lakh, in default, to suffer one year more in jail.

Falu, who faces a number of cases, was convicted first by the special court set up at the high-security parliament complex.

The court, however, acquitted co-accused Monirul Islam Sohel, Falu's associate, as the prosecution failed to prove the charges bright against him.

Crime and Punishment - Mosaddeque Hossain Falu On February 10 last year, sub-inspector of Ashulia police station Ismail Hossain filed the case against Falu and Sohel for misappropriating 982 pieces of corrugated iron (CI) sheets meant for relief to the underprivileged.

On February 9, the army-led joint forces seized the government relief materials from Falu's factory, 'Dhaka Shanghai Ceramic Factory', at Savar.

Falu, also the owner of private satellite TV channels ntv and Rtv and daily Amar Desh, was arrested by the army-led joint forces on February 6, 2007.

RTV and daily Amar Desh, was arrested by the army-led joint forces on February 6, 2007.

Crime & Punishment No 6 - Memeber of PSC Prof. Mahfuz

Crime & Punishment, No 10 - Lalu Talukdar & Family

Ex-MP Lalu, wife jailed

April 29, 2008
10 Years Behind Bar

Crime & Punishment - Lalu Talukdar and Family

A special court here yesterday sentenced former BNP lawmaker Helaluzzaman Talukder Lalu to 10 years' simple imprisonment for amassing wealth beyond known sources of income and concealing information on his wealth.

The court also ordered confiscation of Tk 1.75 crore of Lalu, and sentenced his wife, Shamsunnahar Zaman, to three years in jail and ordered confiscation of her Tk 56.91 lakh.

Lalu and his wife were present in the dock when the verdicts were pronounced.

Ashish Kumar Kundu, assistant director of Anti-Corruption Commission (ACC), filed a case against Lalu and his wife with Sadar thana on September 6 last year.

After investigation, the ACC found that Lalu has Tk 1.75 crore beyond his known sources income and another Tk 56.91 lakh by his wife, Shamsunnahar, beyond the wealth statement submitted to the ACC. After examining records and witnesses, Judge Anwar Hossain of the special judge court handed down the verdicts in a crowded court.

Earlier, another court had sentenced Lalu to five years in prison for illegally setting up a wireless tower.

The joint forces arrested Lalu from his Bogra residence on February 13 last year.

Crime & Punishment, No 12 - Amanullah Aman

Crime and Punishment

Crime & Punishment, No 13 - Mirza Abbas

Mirza Abbas jailed for 8 yrs for tax evasion

May 12, 2008 - 1:23am BDT

Former minister Mirza Abbas was on Sunday jailed for eight years for dodging taxes of Tk 59.79 lakh and concealing wealth information.

Shahed Nooruddin, the judge of the special judge’s court-3 set up in the Jatiya Sangsad complex, also ordered confiscation of his assets of Tk 57 lakh and fined him Tk 57 lakh. The court sentenced him to three years’ rigorous imprisonment for hiding asset information in his income tax files and five more years for dodging tax. As the two sentences will go concurrently, the accused will have to serve five years altogether.

National Board of Revenue filed the case on August 5, 2007 accusing Abbas of evading tax of Tk 59.79 lakh on Tk 2.25 crore. This is the first verdict against Abbasin a case since his arrest on February 25, 2007. The housing and public works minister of Khaleda Zia’s cabinet between 2001 and 2006 is facing some more cases on different charges.

His wife Afroza Abbas was jailed on September 2, 2007 for 16 years in absentia in two tax evasion cases.

Crime & Punishment, No 15 - Barrister Aminul Haque

Barrister Aminul Haque
যাযাদি রিপোর্ট
দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ১০ বছরের জেল হয়েছে। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস জেল এবং অবৈধভাবে অর্জিত ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৬-এর বিচারক তানজীনা ইসমাইল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আসামি ব্যারিস্টার আমিনুল হক পলাতক। রায়ে বিচারক উলেস্নখ করেন, আসামির গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে এ সাজা কার্যকর হবে। এর আগে জেএমবির জঙ্গিদের মদদ দেয়ার অভিযোগে একটি মামলায় ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সাড়ে ৬১ বছর জেল হয়। রায়ে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী সম্পদের হিসাব গোপন করার অপরাধে তিন বছরের সশ্রম কারাদ- ও একই আইনের ২৭(২) ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অপরাধে সাত বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা না দিলে তাকে আরো ছয় মাস অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া তার অবৈধভাবে অর্জিত ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

সূত্র: http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=70843

Barrister Aminul Haque

Crime & Punishment, No 16 - Sheikh Toyebur Rahman

Crime and Punishment - Sheikh Toyebur Rahman
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেখ তৈয়েবুর রহমান এবং কেসিসির এক কর্মকর্তার সাত বছর করে সশ্রম কারাদ-, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদ- হয়েছে। মেয়রসহ আটজনের বিরম্নদ্ধে করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইবু্যনালের বিচারক শিরিন কবিতা আখতার গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অন্য ছয় আসামি বেকসুর খালাস পান। আদালত সূত্র জানায়, খুলনার রূপসা উপজেলার আলী আবদুলস্নাহ এলিনের ভাগ্নে আলমগীর এবং ভাইপো জাহাঙ্গীরের কেসিসিতে চাকরির জন্য মেয়রসহ অন্যরা ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। এলিন পরে সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তার ভাগ্নে এবং ভাইপোর চাকরি হয়নি। ২০০৭-এর ৩ নভেম্বর সে খুলনা থানায় মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ মোঃ মশিউজ্জামান খান, জনসংযোগ কর্মকর্তা সরদার আবু তাহের, বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম জহির, কাজী সাইফুল ইসলাম বাবু, কামরম্নল ইসলাম, আনাম ও বুলুকে আসামি করে মামলা করে। মামলার তদনত্দকারী কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান গত ২৪ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১৫ সাৰীর মধ্যে ১১ জন সাৰ্য দেয়। গতকাল রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান, প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, তরিকুল ইসলাম জহির ও সাইফুল ইসলাম বাবু উপস্থিত ছিলেন। মামলায় দ-প্রাপ্ত আসামি কেসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা সরদার আবু তাহের পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ২ নভেম্বর রাতে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের বিরম্নদ্ধে এ পর্যনত্দ ১৪টি মামলা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল একটি অস্ত্র মামলার রায়ে তিনি খালাস পান। এ প্রথম কোনো চাঁদাবাজি মামলায় তিনি শাসত্দির সম্মুখীন হলেন।

Crime & Punishment, No 17 - Dr. A Z M Zahid

ড্যাব মহাসচিব জাহিদের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

Sun, May 25th, 2008 3:30 pm BdST ঢাকা,
মে ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)--দুর্নীতির দায়ে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বামীকে দুর্নীতিতে সহযোগিতার দায়ে তার স্ত্রী রিফাত হোসেনকেও ৩ বছরের কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা না দিলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক তানজীনা ইসমাইল এ রায় দেন। জাহিদ ও তার স্ত্রী পলাতক রয়েছে। তাদের আটক বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে এ সাজা কার্যকর হবে। দুইটি ধারায় দেওয়া এই রায়ে সম্পত্তির তথ্য গোপন করায় তিন বছর এবং অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা একটির পর অপরটি কার্যকর হওয়ায় জাহিদকে ১৩ বছরই কারাভোগ করতে হবে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন ও সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমেদ গত বছরের ৩ অক্টোবর জাহিদ হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ডা. জাহিদ হোসেন কমিশনে দাখিল করা হিসাব বিবরণীতে এক কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পত্তির হিসাব গোপন করেছেন। এছাড়া তিনি এক কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ২৩৭ টাকার সম্পত্তি অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। এতে সহায়তা করেছেন তার স্ত্রী রিফাত হোসেন। জাহিদের সব অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ৭ ফেব্র"য়ারি এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে জাহিদ দম্পতির পাশাপাশি সম্পত্তির মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় সহযোগিতা করার অভিযোগে তাদের আইনজীবী মোজাহেদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মোজাহেদুলের বিরুদ্ধে বিচার কাজ স্থগিত রয়েছে। গত ১৮ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৪ মার্চ থেকে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়। ড্যাব মহাসচিব জাহিদ হাসান জরুরি অবস্থা জারির পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। সন্দেহভাজন 'দুর্নীতিবাজদের' যে দ্বিতীয় তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকাশ করেছিল তাতে জাহিদ হোসেনের নাম ছিলো। তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে চিকিৎসা খাতে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিসি/আরএ/এমএ/১৫২৫ ঘ.

Crime & Punishment, No 18 - Salah Uddin Ahmed

যুগান্তর রিপোর্ট

Crime and Punishment - Salah Uddin Ahmed
দুর্নীতিরদায়ে বিএনপি নেতা ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে তার ২ কোটি টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক একেএম আরিফুর রহমান এ রায় দেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। কারাবন্দি সালাহউদ্দিন আহমেদ রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত দুটি ধারায় সালাহউদ্দিনকে সম্পত্তির তথ্য গোপন করায় তিন বছর এবং অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জন করায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া তার ৪ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৮ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, এ সাজা একটা শেষ হলে আরেকটা কার্যকর হবে। অর্থাত তাকে ১৩ বছরই কারাভোগ করতে হবে। আসামির আটকের দিন থেকে এ সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত আদেশ দেন।

১ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অপরাধে সালাহউদ্দিন আহমেদকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। গত বছরের ১৪ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা কমিশনে দাখিল করা হিসাব বিবরণীতে ২৯ লাখ ২ হাজার ১৬০ টাকার সম্পত্তি গোপন করেছেন। একই সঙ্গে জ্ঞাতআয়ের বাইরে আরও ৪ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৮ টাকার সম্পত্তি অর্জন করেছেন। ১০ জানুয়ারি মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৭৮ জন এবং আসামিপক্ষে ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের ৫০ জন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা ও অন্যদের যে তালিকা প্রকাশ করে তাতে সালাহউদ্দিনের নামও ছিল। তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের ও পরিবারের নামে থাকা সম্পত্তির হিসাব জমা দিতে বলা হয়।

Crime & Punishment, No 19 - Osman Gani

Crime and Punishment - Osman Gani
বনরাক্ষশ ওসমান গনির ১২ বছর ও স্ত্রীর ৩ বছর জেল। বনখেকো হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধান বন সংরৰক ওসমান গনিকে দুর্নীতির দায়ে ১২ বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুর্নীতিতে সহায়তা করার দায়ে তার স্ত্রী মোহসেনারা গনিকে তিন বছরের সশ্রম জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ ও ২৭০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বিশেষ জজ আদালত ১০-এর বিচারক এ কে এম আরিফুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে ওসমান গনি জেলে ও মোহসেনারা গনি পলাতক আছেন।

রায়ে সম্পদের হিসাব গোপন করার দায়ে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দুই বছরের জেল ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের সশ্রম জেল ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে মোহসেনারা গনিকে তিন বছরের সশ্রম জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের জেল ভোগ করতে হবে। এছাড়াও রায়ে ওসমান গনির নামে থাকা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদ ও তার স্ত্রীর নামের ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে গত বছরের ২৬ জুলাই উত্তরা থানায় সম্পদের হিসাব গোপন করা ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে মামলা করেন। কমিশনের সহকারী পরিচালক আখতার হামিদ ভূইয়া ১৩ ডিসেম্বর তদনত্দ প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ওসমান গনি ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেয়া সম্পদের বিবরণীতে ১ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৪ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।

৬ জুন ২০০৮
http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=73618

Crime & Punishment, No 20 - Taimur Alom Khondokar

Ex-BRTC boss gets 14 years for taking bribes

Thu, Jun 12th, 2008 4:52 pm BdST Dhaka, June 12 (bdnews24.com) - A Dhaka court has sentenced former chairman of Bangladesh Road Transport Corporation (BRTC) and BNP leader Taimur Alam Khandker to 14 years in prison for taking bribes. Anticorruption Commission deputy director, Md Golam Mostafa filed four separate cases of taking bribes against Taimur Alam on Aug 14 last year. The verdicts in two cases were delivered Thursday at the Special Judge's Court-9. Judge Khondker Kamal Uzzaman sentenced Taimur to 7 years in each case. Taimur was also fined Tk 50 lakh or another two years behind bars on failure to pay. bdnews24.com/pc/eh/rah/1642 hours

Crime & Punishment, No 4 - Atiqullah Masud

Atiqullah jailed for 13 years

wife for 3 years The Globe-Janakantha Group chairman, Atiqullah Khan Masud, also editor and publisher of the daily Janakantha, was on Thursday jailed for 13 years on charge of amassing illegal wealth and hiding assets in his wealth statements submitted to the Anti-Corruption Commission. M Sirajul Islam, the judge of the special judge’s court 7 set up on the Jatiya Sangsad complex, also sentenced Atiqullah’s wife Shamima A Khan to imprisonment for three years for abetting her husband in the crimes. The court ordered confiscation of Atiqullah’s wealth of Tk 1.14 crore which was disproportionate to his known sources of income. The court also fined Atiqullah Tk 10 lakh and Shamima Tk 1 lakh. If they fail to pay the fines, Atiqullah will need to serve one more year and Shamima six months in jail. Shamima’s sentence will come into execution after her arrest or surrender as she is in hiding, the court said in the verdict. Atiqullah was sentenced to imprisonment for 10 years for amassing wealth of Tk 1.14 crore beyond his known sources of income and 3 years for hiding assets of Tk 1.41 crore in his wealth statement. The court ordered c onsecutive execution of the sentences, meaning Atiqullah will need to serve both the sentences. The sentences will be effective from May 7, 2007, when he was arrested by the joint forces. The same court on March 6, 9 and 20 sentenced Atiqullah to a total of 21 years’ imprisonment, seven years each in three cases on charge fraudulence. The commission filed the case with the Ramna police on September 30, 2007 against Atiqullah, his wife and two sons — Mishal A Khan and Jishal A Khan. His wife and two sons were accused of abetting him. The commission, however, dropped the names of his sons off the charge sheet.

Source:http://www.newagebd.com/front.html

Crime & Punishment, No 8 - Haji Salim

Crime and Punishment - Haji Salim

Date: 26th of April, 2008; Source: The Daily Naya Digonto

Crime & Punishment, No1 - Pobon (Son of Delwar Hossain)

Crime and Punishment - Pobon, Son of Delwar Hossain
Crime and Punishment - Pobon, Son of Delwar Hossain

BD politics...just for the record
http://www.ittefaq.com/content/2008/04/01/print0641.htm

AttachmentSize
No1.gif56.86 KB

Crime & Punishment, No11 - Hajee Mokbul

Crime and Punishment - Hajee Mokbul

Crime & Punishment, No14 - Shajahan Omar & Family

Shajahan Omar and Gong!

A special court yesterday sentenced BNP leader and former state minister for law Barrister Shahjahan Omar to 13 years' imprisonment for amassing wealth illegally and concealing information on his wealth to the Anti-Corruption Commission (ACC). Judge Khondker Kamal Uzzaman of the Special Judge Court-9, housed at Jatiya Sangsad Complex, also fined him Tk 10 lakh, in default to suffer one year more in prison. The court also sentenced his wife Mehjabin Farzana to three years' imprisonment for assisting her husband in committing corruption. At the same time, the court fined her Tk 5 lakh, in default, to suffer six more months in prison. The court ordered confiscation of Shahjahan Omar's property worth Tk 2.06 crore to the state coffers, which he earned illegally. Both Shahjahan Omar and his wife Mehjabin Farzana are absconding. "The sentences will come into effect after his arrest or surrender to the court, say's the court order.

The court also acquitted Shahjahan Omar's son Adnan Omar as the charges brought against him could not be proved. ACC assistant director Sheikh Mesbahuddin filed the case against the convicts with the Gulshan Police Station of the city on September 27 last year. In the FIR of the case it was stated that the accused concealed the information of wealth worth Tk 46.18 lakh in their wealth statement submitted to the ACC. Besides, they amassed wealth worth Tk 2.06 crore through illegal means.

Meanwhile, another special court jailed former Awami League MP Makbul Hossain's son Masudur Rahman for 13 years for similar charge. He was also tried in absentia. Judge Sirajul Islam also fined him Tk 10 lakh in default of to suffer one year more in jail. The court ordered confiscation of his property worth over five crore. On May 6 a special court sentenced Makbul to 13 years imprisonment for amassing wealth illegally and concealing information about his wealth. His wife Fatema Tahera Khanom was also jailed for three years for aiding and abetting her husband in protecting the ill-gotten property.

Crime & Punishment, No2 - Naser Rahman

Crime and Punishment - Naser Rahman

Just for the record...

Crime & Punishment, No3 - Barrister Nazmul Huda

Crime and Punishment - Barrister Nazmul Huda

The mighty Huda is in history for wrong reason...

Crime & Punishment, No5 - Shajahan Chowdhuy of Jamat-e-Islam

Crime and Punishment - Shajahan Chowdhuy of Jamat-e-Islam

সূত্র: Daily Ittefaq

Crime & Punishment, No7 - Shajahan Siraj

Shajahan Siraj

Crime & Punishment, Ziaul Hoque Zia

Ziaul Hoque Zia
যুগান্তর রিপোর্ট

অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় সাবেক জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়াকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জনে তাকে সহযোগিতা করায় আসামি হিসেবে জিয়ার স্ত্রী নাসিমা হক ও ছেলে মুশফিকুল হককে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত ৭নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ে জিয়াউল হক জিয়া পরিবারের অবৈধভাবে অর্জিত ১২ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর দুদকের সন্দেহভাজন দুনর্ীতিবাজ হিসেবে গ্রেফতার হন জিয়াউল হক জিয়া। দুদকের তদন্তে জিয়া পরিবারের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আয়বহিভর্ূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এ অভিযোগের সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ নভেম্বর রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক।

Development ministers urge action on food prices

By Lesley Wroughton  Sun Apr 13, 2:28 PM ET

Development ministers from around the globe on Sunday called for urgent action to stem soaring food prices, warning that social unrest will spread unless the cost of basic staples is contained.

World Bank President Robert Zoellick and British Prime Minister Gordon Brown have said the issue of skyrocketing food prices needs to be front and center at the highest political level in every country, and Brown said he would raise it at meetings of the Group of Eight powerful nations.

Concerns about rising food costs took on new urgency as senators in Haiti ousted Prime Minister Jacques Edouard Alexis after a week of food-related rioting in which at least five people were killed. There have also been protests in Cameroon, Niger and Burkina Faso in Arica, and in Indonesia and the Philippines.

In just two months, rice prices have closed in on historic highs, rising by around 75 percent globally and by even more in some markets. Meanwhile, the cost of wheat has climbed by 120 percent over the past year, more than doubling the price of a loaf of bread in most poor countries, the World Bank said.

The problem is most worrying in developing countries where food represents a larger share of what poorer consumers buy. It threatens to sharply increase malnutrition and hunger, while reversing progress in reducing poverty and debt burdens among the poorest nations.

Top development officials who gathered on Sunday for a meeting of the International Monetary Fund and World Bank's joint Development Committee also called for action to address climate change. They urged the World Bank to mobilize financing to help the poorest nations deal with threats from global warming.

Indian Finance Minister Palaniappan Chidambaram said rising food and energy costs threatened to stir more social unrest.

"It is becoming starker by the day that unless we act fast for a global consensus on the price spiral, the social unrest induced by food prices in several countries will conflagrate into a global contagion, leaving no country -- developed or otherwise -- unscathed," he said.

"The global community must collectively deliberate on immediate steps to reverse the unconscionable increases in the price of food, which threatens to negate the benefits to the poor nations from aid, trade and debt relief," he said.

His concerns also reflect worry about the impact higher food prices are having on overall inflation in India, which hit its highest level in more than three years in late March.

Douglas Alexander, Britain's minister for international development, said his country is willing to work with others to bring prices down. "Much has been said this week about rising food prices, but now is the time for urgent action to tackle the crisis, which is affecting millions of the poorest people across the globe," he said.

Alexander also pointed to higher fuel costs and said it was important that global oil supplies "are sufficient to ensure the market has flexibility to respond to potential supply shocks and changes in demand."

The World Bank has warned that the rise in food prices is not a temporary phenomenon and has said prices are likely to remain elevated this year and next before moving lower, and that they will likely remain above 2004 levels through 2015.

One of the biggest factors behind the sharp rise in food prices is the increased use of crops for biofuels as an alternative energy source. Almost all of the increase in global corn production from 2004 to 2007 went to biofuels in the United States, where farmers are heavily subsidized.

Other factors that have contributed to the food-price surge are the growth in demand in Asia as that region grew wealthier, droughts in Australia and the rising cost of fertilizers.

(Reporting by Lesley Wroughton; editing by Tim Ahmann)

http://news.yahoo.com/s/nm/20080413/ts_nm/worldbank_dc

 

 

who is to blame for this? MUA? FUA? CTG?

 

Dr. Yunus - a beacon of hope

২০৩০ সালের পর বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সন্ধানদাতাকে এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার - বোস্টনে ড.ইউনূসের ঘোষণা
রবিউল ইসলাম:

২০৩০ সালের পর বাংলাদেশে যদি একজন দরিদ্র মানুষ কেউ খুঁজে দিতে পারে তাহলে তাকে ৭ কোটি টাকা পুরস্কার দেবেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৭ জুন বোস্টনে জন এফ কেনেডি প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অ্যান্ড মিউজিয়ামে এক সুধী সমাবেশে এ চ্যালেঞ্জ করেন ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য মুক্তি আন্দোলনের জনক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস। খবর: এনা ড. ইউনূস বলেন, গরিবী হঠাও অভিযান চলছে পুরোদমে। আমি আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্য মুক্ত করতে সক্ষম হবো। ২০৩০ সালের পর বাংলাদেশে একজন দরিদ্র মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ড. ইউনূস বিপুল করতালির মধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, যদি একজন দরিদ্র মানুষ কেউ বাংলাদেশে খুঁজে দিতে পারেন তাহলে তাকে আমি এক মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেব। মার্কিন রাজনীতিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, কবি, লেখক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ড. লিংকন চেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বর্তমানে বাংলাদেশে ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ বিতরণ করছে। প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামীণের ধ্যান-ধারণা। ড. ইউনূস বলেন, গ্রামের হতদরিদ্র নারীদের জন্য আমরা হেল্্থ ইন্সু্যরেন্স প্রথা প্রবর্তন করেছি। গ্রামীণ ব্যাংক দেশে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নিয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, আমাদের মেডিকেল কলেজে পাস করা চিকিৎসকরা প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে এরইমধ্যে গ্রামীণের পক্ষ থেকে জন হফকিন্স মেডিকেল কলেজের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ড. মুহম্মদ ইউনূস এর আগে গত ৬ জুন ম্যাসেচুসেট্্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।

Dr. Yunus and the future of Bangladesh

By Abdullah Momen The Bangladesh political culture is at a historic turning point. The seizure of the ill gotten wealth of the professional corrupt politicians is a welcome signal to all corrupt politicians and bureaucrats that there is some form of accountability left in an otherwise completely lawless political environment. To complement the elimination of the corrupt and looter politicians and bureaucrats the country desperately needs positive minded and honest leaders and politicians to come forth and take up the onerous and glorious task of building the country. Dr. Yunus "Professional" politicians stand discredited and disgraced in the eyes of the people. They have ruled the country uninterruptedly for the last 15 years and have brought the country to the brink of disaster. Dr Yunus's entry into politics is a major development for Bangladesh. Dr Yunus is an outstanding person who has created one of the most successful banks for the poor and which has culminated in a Nobel Prize. His decision to join politics has been widely welcomed by Bangladeshis across the nation; he brings to politics a level of achievement and wisdom that is sorely missing amongst the professional politicians. Many patriotic and progressive people support Dr Yunus's entry into politics as the only way of breaking the stranglehold of the BNP and AL on the political life of the country. Others are a bit more circumspect, taking a wait and see attitude. There has been some concern whether Dr Yunus represents the same forces that currently hold sway in Bangladesh, namely Western capital internationally and domestically corrupt officials who collaborate with corrupt politicians. There is also concern whether Dr Yunus has the staying power to survive in the country's rough political climate. Dr Yunus needs to demonstrate his staying power, spell out his vision for Bangladesh and state his principles and political beliefs before this group will decide on whether to support him or not. Is Dr Yunus a front man of Western capital? In the last week of February 2007 a book was launched in Dhaka with a lot of fanfare that claimed to expose Dr Yunus as a conduit of international capital and a blatant promoter of "capitalism." One would indeed like to know the relationship of a new political aspirant like Dr Yunus with international capital and with our neighbour. A cursory investigation shows that Dr Yunus is in fact a product of Bangladesh and is a patriot driven by a vision of removing poverty from Bangladesh. A number of questions have been raised about the source of the asset base of Grameen Bank and whether this is mostly drawn from Western capital. As of 2002 Grameen Bank had assets worth $3 billion of which 93% was from local depositors. Much has been made by the detractors of Dr Yunus of World Bank's loan of $100 million to Grameen Bank given in 1996; such loans from multi-lateral lending agencies constitute less than 5% of Grameen Bank's assets. Hence, to claim that Grameen Bank is a creation of Western capital simply does not tally with the facts. Is Dr Yunus promoting 'capitalism'? A major criticism of Dr Yunus is that he is promoting "capitalism" and which, in the eyes of some people, cannot provide a solution to the problems of Bangladesh. What these critics fail to understand is that the term "capitalism" is too vague and needs to be understood more precisely. In Bangladesh today there are three main forms of capital, namely state capital, private capital, and non-profit private capital, which we henceforth call NGOs (non-government organizations). State capital includes the so-called public sector industries, banks, and other corporations dealing with electricity, gas, the infrastructure, and so on. In Bangladesh, state capital is the most pernicious and destructive form of capital. What the critics of capitalism have in mind is most probably Bangladeshi state capital. One should not confuse private capital with state capital. In Bangladesh, private capital is further divided into productive capital and looter capital. In advanced capitalist countries looter capital is marginal and is part of the criminal underworld. In contrast, in a developing country like Bangladesh, since private capital has only started to form over the last three decades, looter private capital is unfortunately a major component. Private looter capital is composed of businessmen who are mostly themselves either corrupt politicians, or else form a nexus with corrupt politicians and corrupt bureaucrats to loot the country's wealth. The present caretaker government is playing a positive role in arresting leading elements of looter capital and making them accountable to the law of the land. In Bangladesh productive private capital begins only in 1975 and has since then created many new industries. For example, in 2006 the private sector employed almost 3 million workers and exports from only the garments industry amounted to almost $7 billion. Productive private capital is the main engine of economic growth in Bangladesh today and should be strongly supported in an all round manner. In the 21st century all countries of the world, including self-declared socialist countries like China and Vietnam, have realized that private entrepreneurs are a valuable national asset. The ability and willingness of entrepreneur to take great personal financial risks in launching new ventures is a crucial ingredient in the expansion of a country's economy. In developing countries the private sector of the economy needs to be led by a powerful political leadership that formulates comprehensive policies for economic development and ensures that the looter section of private capital does not gain the upper hand. As has been seen in country after country in East Asia, explosive social and economic growth is a very realistic goal that can be achieved with a competent leadership at the helm of affairs. The concept of social business enterprise that Dr Yunus has proposed is a powerful means for developing a healthy and productive private sector. A social business enterprise has two criteria for its success namely: a) how much profit it makes, and b) how much social progress it brings. To succeed, such an enterprise needs competent and dynamic leadership. The concept of social business enterprise is a proposal for reforming world capitalism and is being seriously discussed in the West; it is being taught in universities in France and the UK and there is talk of even setting up a stock market for such businesses. The concept of a social business enterprise would provide a useful framework for eliminating looter capital in Bangladesh and evolve a form of productive private capital that is both profitable and socially responsible. Some critics of Dr Yunus point out that the idea of social business enterprise is simply a re-packaging of the concept of corporate social responsibility. Although there is an element of truth in this statement it misses the main point. Just as Al Gore provides a focal point, a human face, to the global need for addressing environmental problems, Dr Yunus provides an international icon for the much needed reform of international capital from a purely profit seeking organization to a social business enterprise, where social benefits are also a major consideration. Far from being a negative factor, the fact that Dr Yunus will foster the growth of the productive private capital is one of his strongest points. Being himself accountable for all his capital investments, Dr Yunus understands the nature of productive private capital. Furthermore, his exposure to foreign private NGOs and other forms of capital has had a modernizing effect on him, making it clear to him that in this globalized world Bangladesh has to perform and measure up to international standards if it is to survive and prosper. Can Dr Yunus provide good governance for Bangladesh? The main purpose for supporting a democratic system is because it provides a mechanism for electing leaders into power who can provide good governance and thus lead the country towards prosperity. So the question that needs to be addressed is whether Dr Yunus can provide good governance. Can he make a difference in eliminating corrupt politics and corruption in the bureaucracy needed for good governance? Dr Yunus does not have any political experience and hence many people are unsure whether he can bring about good governance. Lack of experience is a negative factor but this is also a positive feature since Dr Yunus is a fresh and uncorrupted force in what is otherwise a dishonest and crooked political environment. Dr Yunus brings a level of competence and quality that is currently absent in the political leaders of Bangladesh. The Grameen Bank is part of the larger effort of the NGOs, which in Bangladesh have spread far and wide; they have created networks, mostly in the villages, that reach the poorest elements. Religion based NGOs are also active and mostly concentrated in religious schools. Whether one likes it or not, the NGOs have over the last 30 years matured into a significant social force, and it is necessary to take them into account to understand the political landscape of Bangladesh. NGOs are non-profit organizations based on private donations; hence their social and economic position is in-between state capital and the profit-driven private sector. NGOs are largely focused on development work and poverty alleviation and in this sense operate in the same areas of society as the government. However, unlike the government, which is largely unaccountable due to corrupt political leadership and hence does not have any measure for its performance, the NGOs are more result oriented: most of the (foreign) donors demand some tangible proof that the money disbursed by them has been effectively used. NGOs, similar to the private sector, are penalized for their failures and are rewarded for their efficiency and productivity; success allows for greater access to support from local and overseas sponsors. The NGOs have empowered the people, in particular the women, by making the people look towards themselves for solutions instead of waiting for the government to address their problems. The NGOs have created new social networks for solving social problems and in doing so have created a whole new generation of grassroots leaders. Dr Yunus's work with the Grameen Bank has shown his ability to organize and mobilize the poorest sections. For example, about 6.5 million poor rural women -- one of the most marginalized sections of the country -- account for more than 97% of the clients of Grameen Bank. Dr Yunus has shown, unlike many urban oriented leaders, a consistent and sincere commitment towards the poorest sections of both the urban and rural population. In particular, Dr Yunus understands the urgency of removing poverty by developing the economy by one's own efforts and has the optimism and organizational ability for accomplishing this task. Some critics point out that Bangladesh, as a nation, is not one giant NGO since logically the government of Bangladesh cannot be itself be an NGO. Hence these critics question whether the success of Dr Yunus in doing social work can be transferred to the larger task of good governance and of giving leadership to Bangladesh as a whole. There are many reasons why Dr Yunus has the potential to succeed as a national leader. He has shown immense organizational abilities and creativity in building a vast institution such as Grameen Bank in a matter of only 30 years. Dr Yunus has shown that development cannot take place through handouts but instead needs the people to take charge of their own lives. Dr Yunus has the international stature and vision needed for leading Bangladesh into the global economy. And most importantly, Dr Yunus has grown and developed as an institution independent of government control and without subordinating himself to, or colluding with, corrupt bureaucrats. The main obstruction that Dr Yunus will face in modernizing Bangladesh is from the entrenched powers, which consists primarily of the nexus of corrupt bureaucrats and officials, corrupt politicians and corrupt businessmen. Corrupt officials make impossible the implementation of the best of policies. Corrupt officials are like a cancer in the governance of Bangladesh and are easily the chief domestic obstacle to national development and to the country's modernization. Some critics have raised the questions on the connection of Grameen Bank to the bureaucracy and to corrupt officials in general. One can see from the cross-section of officials of Grameen Bank that there are no corrupt ex-bureaucrats holding important posts and those personnel who are ex-civil servants occupying the higher echelons of the bank are persons of high integrity and honesty. A pre-condition for good governance is to make the government machinery a positive force that facilitates national development. Political parties for the last 15 years have grown and come to power by colluding with corrupt officials and so were never in a position to reform and curtail the corruption of government officials. In contrast, one of the most important positive factors about Dr Yunus and the Grameen Bank is that they have grown as an institution independent of bureaucratic patronage and hence Dr Yunus is not beholden to corrupt officials. It is fair and accurate to conclude that Dr Yunus is neither beholden to Western capital nor to the nexus of corrupt professional politicians, corrupt civil servants, and corrupt businessmen. Dr Yunus is the only person on the political scene who has the potential of carrying out the historic task of reforming the government machinery and transforming it into a positive factor contributing to the growth of the country. One can only hope, for the sake of the very survival of the country, that he does so. Dr Yunus made a significant statement on February 23 in which he declared his entry into politics by floating his party called Nagorik Shakti and expressed patriotic and progressive principles. Dr Yunus's experience in working with the poor and uneducated masses will prove invaluable if he has the opportunity of leading the task of modernizing Bangladesh. Dr Yunus represents a breed of honest and patriotic Bangladeshis; it is vital that all right thinking people of the country lend him wholehearted support. Only if Dr Yunus succeeds will many other honest and patriotic individuals -- who have so far kept away from politics due to the fear of the money politics as well as fear of the musclemen, gangsters, and thugs of the major political parties -- take heart and find the courage to join politics and contribute to the task of nation building.

Source: http://www.thedailystar.net/2007/03/30/d703301501122.htm

Early Skeleton Sheds Light on Evolution

By MALCOLM RITTER

NEW YORK (May 19) – The nearly complete skeleton of a small 47 million-year-old creature found in Germany was displayed Tuesday by scientists who said it would help illuminate the early evolution of monkeys, apes and humans. About the size of a small cat, the animal has four legs and a long tail. It's not a direct ancestor of monkeys and humans, but it provides a good indication of what such an ancestor may have looked like, researchers said at a news conference.

Scientists on Tuesday unveiled the skeleton of this 47 million-year-old creature from Germany that could provide clues into the early evolution of primates. While the well-preserved creature is not a direct ancestor of humans, it may provide an indication of what that ancestor may have looked like, experts said.

Because the skeleton is so remarkably complete, scientists believe it will provide a window into primate evolution. PhotobucketThe animal was a juvenile female that scientists believe died at about 9 or 10 months. "She tells so many stories. We have just started the research on this fabulous specimen," said Jorn Hurum, of the University of Oslo Natural History Museum, one of the scientists reporting the find.

The creature is nicknamed Ida after Hurum's 6-year-old daughter.
The unveiling, at New York's Museum of Natural History, was promoted by a press release for the cable TV show History, which called it a "revolutionary scientific find that will change everything."

Mayor Michael Bloomberg, among the speakers at the news conference, called it an "astonishing breakthrough." The story of the fossil find will be shown on History, which is owned by A&E Television Networks. A book also will be published.
Hurum saw nothing wrong with the heavy publicity which preceded the research's publication Tuesday in the scientific journal PLOS (Public Library of Science) One.
"That's part of getting science out to the public, to get attention. I don't think that's so wrong," Hurum said.

Justice Served Mr.....

Crime and Punishment

Lost Papers

Historic Bangladesh papers 'lost'

Sheikh Mujibur Rahman
Sheikh Mujib became the country's first president

The Bangladesh proclamations of independence - drafted on paper during the war against Pakistan in 1971 - have gone missing, officials say.

They say that it is unclear when the historic documents disappeared.

Officials say it was only discovered they were missing when the government handed over important artefacts to the national archive in April.

The documents were drafted on behalf of imprisoned Bangladeshi independence leader Sheikh Mujibur Rahman in 1971.

'Really unfortunate'
Sheikh Mujib was jailed at the time in what was then West Pakistan, but was released from captivity to become the first president of independent Bangladesh in January 1972.

Cabinet Secretary Ali Imam Majumder told The Daily Star newspaper that officials in the cabinet division could not find the original versions of the hand-written independence proclamations.
Violence in 1971 Bangladesh war of independence

Events leading up to independence were violent and turbulent
"We only had photocopies, which we handed over to the national archives," he said.

He told the newspaper that he did not know how the originals had gone missing.

Bangladesh's first Cabinet Secretary, HT Iman, told the Daily Star that the original proclamation of independence had definitely been placed in government custody.

He said that it was "really unfortunate" for the nation that it and other promulgations had now disappeared.

Experts who drafted the proclamation of independence say that it worked as a provisional constitution of Bangladesh throughout the war.

Historians say that the constitution had to be handwritten because for most of 1971 Bangladesh was in turmoil as thousands of people died in the struggle for independence.

Some former government officials say that the independence promulgations could have been lost, removed or destroyed by the military government which seized power in the country in 1975.

However officials say that photocopies of some of the promulgations - signed by all the country's cabinet ministers except the incarcerated Sheikh Mujib - do still exist.

The promulgations served as an interim constitution for the country until a new constitution was drafted in December 1972.

Move to try Bangladesh war criminals

Haroon Habib

DHAKA: A national campaign to bring to trial the war criminals who committed genocide and rape during Bangladesh’s Liberation War 36 years ago, is getting intensified.

The campaign is being led by a non-political platform, “Sector Commanders Forum”, comprising seven of 11 (others have died) regional military commanders of the Bangladesh Liberation Army .

After several months of campaign, which apparently got support from war veterans as well as the younger generation of Bangladeshis, the forum convened a national convention in the capital to start a new phase of the movement.

The well-publicised meeting, holding of which the caretaker government had earlier refused under the state of emergency but was allowed later, made it clear that the campaign would not stop until the war criminals of 1971 are prosecuted and punished under national and international laws.

“As the government itself realised that war criminals should be prosecuted and people from different strata voiced the same, the demands for trial of the war criminals seem very logical,” Justice Muhammad Habibur Rahman, a former Chief Justice and head of the 1996 caretaker government, told the convention.

All leading socio-political and cultural organisations of Bangladesh have expressed solidarity with the forum’s demand for forming a war crimes tribunal and an inquiry commission to bring the perpetrators of the genocide to book with support from the U.N. and the international community.

The forum of war veterans brought the issue to the forefront through a renewed nationwide campaign after key leaders of the fundamentalist Jamaat-e-Islami claimed last year that there were no war criminals in the country and that the 1971 conflict was a “civil war” and the freedom fighters were “Indian stooges”.

Amid demands from various quarters, the head of the interim government, Fakhruddin Ahmed, had remarked that the 1971 war criminals should be brought to justice. The Chief Election Commissioner, as also the Chief of Army Staff spoke in favour of trying the suspects. But later, Mr. Ahmed expressed his inability to begin the process as his government was “burdened with many other pressing things”.

The trial of war criminals was first initiated in 1972, months after Bangladesh’s independence, but was stopped abruptly after the August 1975 political changeover that saw the country’s founding father, Sheikh Mujibur Rahman, killed.

However, all the Pakistani war criminals listed by the new Bangladesh government were allowed to leave after Islamabad promised to prosecute them at home following the signing of the historic tripartite Simla Agreement. Pakistan did not honour the commitment.

A total of 37,000 Bangladesh perpetrators of war crimes were arrested between 1972 and 1975, said Air Vice-Marshal (Retd) A.K. Khandaker, who was the deputy chief of the Bangladesh Liberation Army and is the chairman of the forum.

About 26,000 of the detenus with minor offences were freed under a general amnesty offered by the then Mujib government. But the trial process of 11,000 others, who were directly linked to killing, rape, arson and looting, was going on.

The Hindu
http://www.thehindu.com/2008/03/25/stories/2008032555141400.htm

Mowlana Abdul Hamid Khan Bhasani

বদুল হামিদ খান ভাসানী (ডিসেম্বর ১২, ১৮৮০-নভেম্বর ১৭, ১৯৭৬) বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। দেশের মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' হিসাবে পরিচিত। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় বামপন্থী মাওধারার রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাকে "লাল মাওলানা " নামেও ডাকতেন। [১]
সূচিপত্র

[সম্পাদনা] ১৮৮০-১৯২৯

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খান। মক্তব হতে শিক্ষাগ্রহন করে কিছুদিন মক্তবেই শিক্ষকতা করেন। ১৮৯৭ সালে পীর সৈয়দ নাসীরুদ্দীনের সাথে আসাম যান। ১৯০৩ সালে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ইসালামিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭-এ দেওবন্দ যান। দুই বছর সেখানে অধ্য্যন করে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হন।[২] ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহন করে দশ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্বরাজ্য পার্টি গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৬-এ আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটান। ১৯২৯-এ আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন।এখান থেকে তার নাম রাখা হয় " ভাসানীর মাওলানা "। [৩] এরপর থেকে তার নামের শেষে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।

[সম্পাদনা] ১৯৩০-১৯৫৯

১৯৩১-এ সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২-এ সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় ও ১৯৩৩-এ গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। ১৯৩৭-এ মাওলানা ভাসানী কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলীম লীগে যোগদান করেন। সেই সময়ে আসামে 'লাইন প্রথা' চালু হলে এই নিপীড়নমূলক প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন।এসময় তিনি " আসাম চাষী মজুর সমিতি" গঠন করেন এবং ধুবরী, গোয়ালপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৪০ সালে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের সঙ্গে মুসলীম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে মাওলানা ভাসানী আসাম প্রাদেশিক মুসলীম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৫-৪৬ সালে আসাম জুড়ে বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে "বাঙ্গাল খেদাও" আন্দোলন শুরু হলে ব্যাপক দাঙ্গা দেখা দেয়। এসময় বাঙ্গালীদের রক্ষার জন্য ভাসানী বারপেটা, গৌহাটি সহ আসামের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান। পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৪৭ সালে আসামে গ্রফতার হন। ১৯৪৮-এ মুক্তি পান। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে ফিরে আসেন। ১৯৪৯-এর ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। মাওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন। ভূখা মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ১৯৪৯-এর ১৪ অক্টোবর গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৫০ সালে সরকার কর্তৃক রাজশাহী কারাগারের খাপরা ওয়ার্ড এর বন্দীদের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করেন এবং পরে মুক্তিলাভ করেন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ৩০ জানুয়ারি ঢাকা জেলার বার লাইব্রেরী হলে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সহযোগিতার কারণে গ্রেফতার হয়ে ১৬ মাস কারানির্যাতনের শিকার হন। পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামক নির্বাচনী মোর্চা গঠন করেন। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদে ২৩৭ টির মধ্য ২২৮ টি আসন অর্জনের মাধ্যমে নিরঙকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফজলুল হকের নেতৃত্বে সকার গঠন করার পর ২৫শে মে ১৯৫৪ মাওলানা ভাসানী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্ম যান এবং সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন।[৪] ৩০ মে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে গভর্ণরের শাসন জারি করে এবং মাওলানা ভাসানীর দেশে প্রত্যাবর্তনের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। ১১ মাস লন্ডন, বার্লিন, দিল্লী ও কলকাতায় অবস্থান করার পর তার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে ১৯৫৫-র ২৫ এপ্রিল দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। পূর্ব বাংলায় খাদ্যজনিত দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে ১৯৫৬-র ৭ মে ঢাকায় অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। সরকার দাবি মেনে নিলে ২৪ মে অনশন ভঙ্গ করেন। একই বছর ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হলে মাওলানা ভাসানী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করে নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করার জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। ১৯৫৭-র ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছর ২৫ জুলাই তার নেতৃত্বে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে 'ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি' (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর পর থেকে সবসময় বাম ধারার রাজনীতিএর সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিলেন। [৫]১৯৫৭-র ৭ অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি হলে আইয়ুব খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। ১২ অক্টোবর মাওলানা ভাসানীকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় ৪ বছর ১০ মাস কারারুদ্ধ থাকেন।

[সম্পাদনা] ১৯৬০-১৯৬৯

বন্দী অবস্থায় ১৯৬২-র ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের সাহায্য ও পাটের ন্যায্যমূল্যসহ বিভিন্ন দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ৩ নভেম্বর মুক্তিলাভ করেন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট-এর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হন। ১৯৬৩-র মার্চ মাসে আইয়ুব খানের সাথে সাক্ষাত করেন। একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের বিপ্লব দিবস-এর উৎসবে যোগদানের জন্য ঢাকা ত্যাগ করেন এবং চীনে সাত সপ্তাহ অবস্থান করেন। ১৯৬৪-র ২৯ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পুনরুজ্জীবিত করে দলের সভাপতির দ্বায়িত্বভার গ্রহন করেন এবং একই বছর ২১ জুলাই 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (কপ) গঠনে ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৫-র ১৭ জুলাই আইয়ুব খানের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৬৬-তে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচীর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৭-র ২২ জুন কেন্দ্রীয় সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ জারি করলে এর প্রতিবাদ করেন। [৬][৭]১৯৬৭-র নভেম্বর-এ ন্যাপ দ্বি-খন্ডিত হলে চীনপন্থি ন্যাপের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন। ২৬ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের ঘেরাও কর্মসূচী পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। আইয়ুব খান সরকারের পতনের পর নির্বাচনের পূর্বে ভোটের আগে ভাত চাই, ইসলামিক সমাজতন্ত্র কায়েম ইত্যাদি দাবি উত্থাপন করেন।

[সম্পাদনা] ১৯৭০-১৯৭৬

১৯৭০ সালের ৬-৮ আগস্ট বন্যা সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনশন পালন করেন।অতঃপর সাধারণ নির্বচনে অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। ১২ নভেম্বর (১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রান ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার জন্য ন্যাপ প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় 'স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান' দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমানএর অসহযোগ আন্দোলন এর প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত যান এবং মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭২-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক হক-কথা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তির বিরোধিতা করলেও মুজিব সরকারের জাতীয়করণ নীতি এবং ১৯৭২-এর সংবিধানের এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সালে খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় ১৫-২২ মে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ১৯৭৪-এর ৮ এপ্রিল হুকুমতে রাব্বানিয়া সমিতি গঠন করেন। একই বছর জুন মাসে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে গৃহবন্দি হন। ১৯৭৬-এর ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন। একই বছর ২ অক্টোবর খোদাই খিদমতগার নামে নতুন আর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। [৮]১৯৭৬ সালের ১৭ই নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশ বরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাকে সন্তোষে দাফন করা হয়।

New TV channels to get licences soon

From DailyStar
http://www.thedailystar.net/newDesign/latest_news.php?nid=19151

The government will soon give licences to a number of private satellite television channels for broadcasting, Information Minister Abul Kalam Azad informed the parliament this morning.

He however did not specify the number of new channels.

The information minister said actions would be taken against the television channels for failing to comply with the conditions of taking licence.

Replying to lawmakers’ queries, he also said the television code of advertising standards and practices is being updated.

“We will consider whether any action can be taken against broadcasting irritating and indecent advertisements,” the information minister said.

He also said the works are going on to regulate television advertisement and "we hope it will be stopped in future."

“The existing rules are not enough to stop such advertisements,” he said urging the satellite television channel owners and high officials not to broadcast any such advertisements.

In reply to a query of a lawmaker to stop controversial comments on religious and other matters in television talk shows, the information minister said there is no policy to take action against it. “But we will make policy to this effect,” he added.

মন্তব্য: যেই দেশে বিদ্যুত সমস্যা সেই দেশে আরো টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজন কতটুকু?

Politics heats up ahead of Bangladesh anniversary

By Anis AhmedMon

Political parties largely silenced by a state of emergency are now sounding a chorus of demands for release of detained leaders as Bangladesh prepares to mark its independence anniversary this week.

At least one party threatens demonstrations if former prime minister Sheikh Hasina is not released before the March 26 anniversary, and corruption charges against her quashed.

"If that does not happen, the Awami League (Hasina's party) would defy all bans and launch protests against the illegal jailing and (urge) bringing her out, along with other party leaders," Tofayel Ahmed, a former minister and senior Awami leader, told reporters.

He said the senior leaders and top policy planners of the party met late on Sunday in Dhaka to review the situation, and warned they might "not be able to hold back a people's upsurge to free Hasina and her comrades."

His senior colleague Abdur Razzak said refusing Hasina a parole for having treatment of her ailing ears in the United States was "illegal, unacceptable and a denial of justice."

Khaleda Supporters also demanded her release from jail before March 26, in a letter addressed to President Iajuddin Ahmed.

"Set her free immediately. We all are waiting for her and her instructions to break the impasse" over emergency and related restrictions, said Rizvi Ahmed, a senior leader of Khaleda's Bangladesh Nationalist Party (BNP).

Hasina and Khaleda alternated as prime ministers of impoverished and disaster-prone Bangladesh for 15 years until October 2006, and could be key contenders for power in future elections.

Bangladesh's army-backed interim government, which took over in January 2007 following months of political violence, put the country of 140 million people under an indefinite state of emergency.

It banned political activities and launched a massive crackdown on allegedly corrupt politicians, but vowed to hold a free, fair and credible parliamentary election before this year-end.

The anti-corruption drive netted more than 170 key political figures including Khaleda's two sons, Hasina's relatives and dozens of their former ministers. If convicted they will be barred from contesting the polls.

Not all have been put on trial yet, but their parties want them tried in normal civil courts, not special courts under emergency powers.

"Our leaders have been held deliberately to keep that away from the polls, but people still love them," acting Awami chief Zillur Rahman said late on Sunday.

Hasina is suffering from high blood pressure, allergy and eye and ear problems, and is in a hospital in Dhaka.

She has asked for access to treatment, especially for hearing impairment, in the United States where her children live and she had been treated earlier.

Khaleda, suffering from arthritis and related complaints, told followers through her attorneys she would not go abroad for healthcare.

Reuters News

Politics inside of politics

Politics inside of politics....

See-Through Frogs, Alien Salamanders, and Spiny Bugs

Photobucket
See-Through Frogs, Alien Salamanders, and Spiny Bugs...
by Vera H-C Chan
A salamander that looks like E.T., a micosized frog smaller than a fingernail, and a spiny-crested grasshopper. Who says the age of exploration is dead?
It's definitely not for Conservation International (CI). Their scientists have come back with some startlingly vivid images of endangered and never-before-seen critters from a whirlwind trip to the Nangaritza Protected Forest in Ecuador, near the Peruvian border. CI researchers came across at least 15 species of creatures and plants "unknown to science."
One of the most remarkable creatures is the Hyalinobatrachium pellucidum, also called a glass or crystal frog because you can see through its transparent flesh (right down to its guts). This guy's not new, but he's definitely endangered, so the find is heartening for environmentalists.
The purpose of the three-week biodiversity study was to identify species and make conservation recommendations for ecotourism possibilities, which the Ecuadorian locals are entertaining. It also turns out that frogs and insects yield medicinal properties, and a proper population survey is needed to see what else is out there in the forest.
According to Bloomberg, out of 14 million plants and animals in the world, human beings have been acquainted with only about 1.8 million. Below are more images of new friends; you can find other photos and expedition details at CI's site.
New-to-Us Species, Ecuador

Suranjit Banu, answer please!

Suranjit Banu, answer please!

The Ship Breakers Of Bangladesh

Ship Breaking Industry Arrived In Bangladesh By Accident, Literally

This segment was originally broadcast on Nov. 5, 2006. It was updated on Aug. 29, 2007.
CBS News - 60 Minutes

Now and then 60 Minutes take viewers to places they’ve never been to before. They are exotic places, the stuff of dreams. This is a story about one of those places. But as Bob Simon reports, the ship breaking beaches of Bangladesh belong more in a nightmare.

We all know how ships are born, how majestic vessels are nudged into the ocean with a bottle of champagne. But few of us know how they die. And hundreds of ships meet their death every year. From five-star ocean liners, to grubby freighters, literally dumped with all their steel, their asbestos, their toxins on the beaches of some the poorest countries in the world, countries like Bangladesh.


You can’t really believe how bad it is here, until you see it. It could be as close as you’ll get to hell on earth, with the smoke, the fumes, and the heat. The men who labor here are the wretched of the earth, doing dirty, dangerous work, for little more than $1 a day.

It’s not much of a final resting place, this desolate beach near the city of Chittagong on the Bay of Bengal. Ships are lined up here as at any port, but they’ll never leave. Instead, they will be dissected, bolt by bolt, rivet by rivet, every piece of metal destined for the furnaces to be melted down and fashioned into steel rods. The ships don’t die easily - they are built to float, not to be ripped apart, spilling toxins, oil and sludge into the surrounding seas.

The men who work here are dwarfed by the ships they are destroying. And they dissect the ships by hand. The most sophisticated technology on the beach is a blowtorch. The men carry metal plates, each weighing more than a ton from the shoreline to waiting trucks, walking in step like pallbearers, or like members of a chain gang. They paint images of where they would like to be on the trucks - pictures of paradise far from this wasteland.

And when night falls, the work continues and the beach becomes an inferno of smoke and flames and filth.

This industry, which employs thousands and supplies Bangladesh with almost all its steel, began with an accident - a cyclone to be precise. In 1965, a violent storm left a giant cargo ship beached on what was then a pristine coastline. It didn’t take long before people began ripping the ship apart. They took everything and businessmen took note - perhaps they didn’t need a storm to bring ships onto this beach here.

Mohammed Mohsin’s family has become extremely wealthy bringing ships onto these beaches. He pays millions of dollars for each ship and makes his profit from the steel he sells. The name of his company is PHP, which stands for Peace, Happiness and Prosperity.

His latest acquisition is a ship weighing in at 4,000 tons but Mohsin tells Simon that's small by comparison to other vessels that have been gutted on the beaches. They have handled ships as large as 68,000 tons.

This the first time Mohsin has seen the 4,000 ton ship close up. In fact buying a ship is not at all like buying a car. He didn’t even need to see a picture before he bought it for $14 million. All he needed to know was its weight and how much the owners were charging for each ton of steel.

One of the single most valuable parts of the ship is the propeller. The "small" ships propeller is worth around $35,000 alone, Mohsin estimates.

It may be a small ship to Mohsin, but getting onto it from the beach is still a bit delicate.

Mohsin's ships don't have seafaring captains anymore - he is the captain now of dying ships and the captain of one of the largest of 30 shipyards on this 10-mile stretch of beach. Some 100 ships are ripped apart on the beach each year, most of them from the west.

"It is the west’s garbage dump," says Roland Buerk, who lives in Bangladesh. He spent a year in these yards, writing a book about the industry. 60 Minutes hired him to guide Simon through the tangled world of shipbreaking.

To do the same work in America or England would be very expensive.

"It would be because in Europe and America when they do this, they do it in dry docks," Buerk explains. "So in actual fact, the owners of these ships are selling them to the yard owners here to break up. If they had to do it in America, they’d have to pay for that process to be carried out. So you see it makes real economic sense to do it here."

"So old, out-dated ships that were previously a liability, are now an asset," Simon remarks.

"Exactly," Buerk agrees. "And that's why they end up on these shores."

They are the shores of the most densely populated nation and one of the poorest nations in the world. Bangladesh desperately needs steel for construction but has no iron ore mines. The shipbreaking yards are its mines, providing 80 percent of the nation's steel.

But steel is only part of the deal; there are so many things on a ship which are sold off. It is in fact a gigantic recycling operation.

You can find everything, including kitchen sinks, at a sprawling roadside market which goes on for miles. When you’re driving down this road, it's not a problem if you need a toilet or a life boat or a light bulb. It is estimated that 97 percent of the ship’s contents are recycled. The other three percent, the stuff nobody would buy, including the hazardous waste, asbestos, arsenic and mercury, are left behind to foul the beaches.

"And what we're looking at, which is a recycling operation, is also an environmental disaster," Simon says.

"That's true. And I think this is really capitalism as red in tooth and claw as it gets. At the moment this is what makes financial sense for everybody. And this is, despite the fact that we might not like it, and it doesn't look pretty, this is how it's done," Buerk says.

The workers toil in tough conditions. They have no unions, no safety equipment, and no training. About 50 are said to die in accidents each year; often in explosions set off by blowtorches deep inside the fume-filled holds.

You see casualties in the yards, men who were injured here but have no money to go anywhere else. The workers are housed in barracks with no beds, just steel plates scavenged from the ships they break.

Many of the workers are not old enough to grow a beard. Some are, quite simply, children. 60 Minutes spoke to several who said they were 14 and had been working here for two years.

So what does the man from Peace Happiness and Prosperity say about that?

Asked if there are any children working in his yard, Mohsin says, "Not my yard."

"Well, we talked to several children," Simon tells Mohsin. "We found a couple who were 14 and said they'd been working there for a couple of years."

"They are - if they are working - if they don't work, what they'll do, then? Our government cannot afford it. Their food, shelter and clothing has to be provided by someone whether their parents or the government. None of them can afford it. So what they gonna do?" Mohsin argues.

"So, you say that child labor is inevitable, necessary in Bangladesh?" Simon asks.

"If they don't work in ship-breaking yard, they'll work somewhere else. They have to," Mohsin replies.

But child labor is only one of the issues. Environmentalists have been doing battle with the industry for years. They say the west has no business dumping its toxic waste on impoverished lands in the east. They condemn the appalling work conditions, the low pay, and the lack of accountability for workers who are killed or injured. Their most important proposal: that ships be cleaned of their toxic materials in the west, before they sail to Bangladesh.

That’s in line with an international ban which prohibits the shipment of hazardous waste from rich countries to poorer countries.

Rezwana Hasan of the Bangladeshi Environmental Lawyers Association is in the forefront of the battle against the industry. She says the shipbreaking yards in Bangladesh don’t respect even the most minimal environmental standards.

"And an industry that can't comply with these minimum standards must not operate," she argues. "I mean if you can't comply with the - if you can't pay your worker the minimum wage, you can't operate. You can't - if you can't ensure the minimum environmental safeguard you shouldn't operate."

But the owners of the yards argue that environmentalism is a luxury, reserved for the rich nations.

"It becomes quite expensive, which we can't afford," Mohsin claims.

"If all the rules and regulations, all the international conventions regarding ship breaking were observed here, would the industry be able to survive?" Simon asks Mohsin,

"No," he replies. "It would be stopped from tomorrow. It'll stop. Has to be stopped."

And that, he says, would put 30,000 men out of work and deprive Bangladesh of its source of steel.

But for now the shipbreaking industry in Bangladesh is sailing full steam ahead. Literally. 60 Minutes boarded a Russian fishing trawler, the Bata, in the final hours of its last voyage.

It was eerie walking through the corridors. The lights were on but nobody was home. It was a dead ship sailing.

In a sailor’s cabin, the sheets were on the bed, a radio and a flashlight were on the table. In the kitchen, there were pots filled with borscht and potatoes that were barely cold.

In the dining room there were still Russian books on a table. They too will end up in the market on that dusty road to Chittagong. There was just a skeleton crew on this skeleton ship

Up on the bridge, Captain Edwaard Petenko already seemed dressed up for his coming vacation. He had brought the ship all the way from Vladivostok and didn’t enjoy the trip.

Asked what it feels like taking the ship to the beach, Petenko tells Simon, "No like."

"No like. Sometimes even cry. Because…" Capt. Petenko says.

He wasn’t even in charge any more. The baton had passed to the beaching captain, Enam Chowdrey. He had done this 700 times. They call him the executioner.

Beaching a ship is a very delicate operation. It's not simply aiming for the beach - Chowdrey has to calculate the movement of the tides, the swell, the wind, by the minute. In this instance, he has got to wedge the ship between two other vessels already parked there.

The workers on ships nearby are cheering. The Bata’s arrival means more work, more wages for them. Their backs and their lungs will suffer, but do they have a choice?

The Bata steamed its way into its final resting place. The bow got stuck in the sand. A perfect end to the last voyage. In just a few months, it will disappear.

And Captain Petenko? He’ll head home to Vladivostock. But he’ll be back in Bangladesh soon. His company has three more trawlers heading to these shipyards.

U.S. Naval and Merchant Marine ships no longer wind up in these yards, not since 1998, when President Clinton passed a moratorium on exporting U.S. ships. Instead, they clog up American waterways. U.S. ship breakers can’t keep pace and the Bangladeshis would be only to happy to have their business.

Source: CBS News - 60 Minutes
http://www.cbsnews.com/stories/2006/11/03/60minutes/main2149023.shtml

World's oldest person dies in Los Angeles at 115

Photobucket
By JOHN ROGERS, Associated Press Writer John Rogers, Associated Press Writer – Fri Sep 11, 5:03 pm ET

LOS ANGELES – Although she liked her bacon crispy and her chicken fried, she never drank, smoked or fooled around, Gertrude Baines once said, describing a life that lasted an astonishing 115 years and earned her the title of oldest person on the planet.

It was a title Baines quietly relinquished Friday when she died in her sleep at Western Convalescent Hospital, her home since she gave up living alone at age 107 after breaking a hip.

She likely suffered a heart attack, said her longtime physician, Dr. Charles Witt, although an autopsy was scheduled to determine the exact cause of death.

"I saw her two days ago, and she was just doing fine," Witt told The Associated Press on Friday. "She was in excellent shape. She was mentally alert. She smiled frequently."

Baines was born in Shellman, Ga., on April 6, 1894, when Grover Cleveland was in the White House, radio communication was just being developed and television was still more than a half-century from becoming a ubiquitous household presence.

She was 4 years old when the Spanish-American War broke out and 9 when the first World Series was played. She had already reached middle age by the time the U.S. entered World War II in 1941.

Throughout it all, Baines said last year, it was a life she thoroughly enjoyed.

"I'm glad I'm here. I don't care if I live a hundred more," she said with a hearty laugh after casting her vote for Barack Obama for president. "I enjoy nothing but eating and sleeping."

Her vote for Obama, she added, had helped fulfill a lifelong dream of seeing a black man elected president.

"We all the same, only our skin is dark and theirs is white," said Baines, who was black.

The centenarian, who worked as a maid at Ohio State University dormitories until her retirement, had outlived all of her family members. Her only daughter died of typhoid at age 18.

In her final years, she passed her days watching her favorite TV program, "The Jerry Springer Show," and consuming her favorite foods: bacon, fried chicken and ice cream. She complained often, however, that the bacon served to her was too soft.

"Two days ago, when I saw her, she was talking about the fact that the bacon wasn't crisp enough, that it was soggy," Witt said.

She became the world's oldest person in January when Maria de Jesus died in Portugal at 115.

The title brought with it a spotlight of attention, and Baines was asked frequently about the secret to a long life. She shrugged off such questions, telling people to ask God instead.

"She told me that she owes her longevity to the Lord, that she never did drink, she never did smoke and she never did fool around," Witt said at a party marking her 115th birthday.

At the party, Baines sat quietly, paying little attention as nursing home staffers and residents sang "Happy Birthday" and presented congratulatory notices from Gov. Arnold Schwarzenegger, Sen. Dianne Feinstein and others. But she laughed when told the Los Angeles Dodgers had given her a cooler filled with hot dogs.

With Baines' death, 114-year-old Kama Chinen of Japan becomes the world's oldest person, said Dr. L. Stephen Coles of the Gerontology Research Group, which tracks claims of extreme old age. Chinen was born May 10, 1895.

The oldest person who ever lived, Coles said, was Jeanne-Louise Calment, who was 122 when she died Aug. 4, 1997, in Arles, France.

অপরাধ এবং শাস্তি - মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষন

চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষককে ৭ বছর জেল

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে শিশুকণ্যাকে ধর্ষণ মামলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো: আকতার হোসেন যৌন নির্যাতনের দায়ে আসামি মাদ্রাসা শিক্ষককে এই দণ্ড দেন। চিকিৎসা খরচ হিসেবে ওই টাকা শিশুটিকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

২০০৫ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জামেয়া মিল্লিয়া আজিজিয়া কাশেমুল উলুম মাদ্রাসার নরপশু শিক্ষক আবদুস ছাত্তার ওই মাদ্রাসার নুরানী প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ওই শিক্ষকের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেছিল। ওই শিক্ষার্থীর বয়স তখন ৪ বছর ছিল । ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ২৪ এপ্রিল বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

বাদী আঞ্জুমান আরা বেগম ভোরের কাগজ অফিসে এসে বলেন, এই রায়ে আমরা খুশি নই। আমার শিশু কণ্যাটিকে সেই নরপশু ধর্ষণ করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করায় আমাকে আমার পরিবারকে হয়রানি করেছে। আমরা অনেক কষ্ট পেয়েছি।

তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ২৩ জুন আসামি মৌলভী আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার চার্জ গঠন হয়। রায়ে বলা হয়েছে, যৌননিপীড়নের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেয়া হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আকতার কবিরও জানিয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে উচ্চতর আদালতে আপীল করবেন।

http://www.bhorerkagoj.net/content/2009/11/09/news0703.php

আইরিন খানের দৃষ্টিতে ‘বাংলাদেশ চুরিচামারির দেশ’

আরিফুর রহমান, দৈনিক আমাদের সময়

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ একটি চুরিচামারির দেশ’। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে আপত্তি তুললে তিনি তার ‘দ্য আনহার্ড ট্র-থ: পভার্টি অ্যান্ড হিউমেন রাইটস’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এখানে পুলিশ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে এ পর্যন্ত যে পরিমাণ টাকা এসেছে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার আইন করলেও তা কীভাবে চলবে এখনো স্পষ্ট করে বলেনি। এ ছাড়াও তিনি নিষ্ক্রিয় দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য আনহার্ড ট্র-থ: পভার্টি অ্যান্ড হিউমেন রাইটস’ বইয়ের উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বইটির দাম ৭৫০ টাকা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, আকবর আলি খান, ফজলে হাসান আবেদ প্রমুখ।

আকবর আলি খান বলেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে মন্ত্রিসভার সদস্য ও এমপিদের সম্পদের হিসাব দেয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত তথ্য জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আইরিন খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দারিদ্র্য বিমোচনে মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অভিজাত শ্রেণীর দুর্নীতির কারণে গরিবরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিজাত শ্রেণী ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে দুর্নীতি করে তা প্রতিরোধে সকলকে আরো সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, ছোট পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে বড় মন্ত্রী পর্যায়ে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নয়নের জন্য যেসব টাকা আসে দুর্নীতির কারণে সেসব টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য আগে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এ দুর্নীতি কীভাবে রোধ করা যায় সে বিষয়ে বইটিতে অনেক কিছু উল্লেখ আছে।

গত একবছরে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে আইরিন খান বলেন, সরকার বেশ কিছু ভালো কাজ করেছে। তবে দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। একবছর একটি সরকারকে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে আরো সময় দেয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/01/22/news0883.htm

আওয়ামী মন্ত্রীর আওয়ামী তত্ত্ব

আত্মরক্ষার্থে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটতেই পারে, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শামীম খান:

আত্মরাক্ষায় এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটতেই পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। কোরআন শরীফে এ ধরনের বিধান রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, সরকার সব সময়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিপক্ষে। তবে সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আঘাতপ্রাপ্ত হলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। পবিত্র কোরআন শরীফেও এ ধরনের বিধান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং কাঙালি ভোজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবর্হিভূত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। বিকেলে মিরপুর শাহ আলী (র.) বোগদাদী মাজার শরীফে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জঙ্গিবাদের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো কিছুই অর্থ ছাড়া হয় না। জঙ্গিবাদের পেছনে অর্থের উৎস খুঁজে বের করবে সরকার। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। নির্র্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এটা করা যাবে না। বর্তমান সরকারের সময়কালে এটা হতে পারে, না-ও হতে পারে। তবে অর্থদাতা-মদতদাতাদের খুঁজে বের করে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনের মাধ্যমে দেশে শান্তি ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা হবে।

মিরপুর, পল্লবী ও দারুসসালাম থানাসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটিগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম। এতে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জিএম কাদের, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা

একটি দেশের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নানাভাবেই প্রকাশ পায়। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন সময়ে এর পরিচয় ও দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। দুঃখের বিষয় রাজনীতির অতীত ইতিহাস থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা খুব কম শিৰাই গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য শাখায় যাদের অবস্থান তারাও অতীত অভিজ্ঞতা মনে রেখে নিজেদের সংশোধন করেছেন বলে মনে হয় না। রাজনীতি কেবল রাজনীতিবিদদের নিয়েই বিবর্তিত হয় না। তার সঙ্গে জড়িত আরো অনেকেই, পরোৰ হোক কিংবা প্রত্যৰ। কেউই বলতে পারবে না যে, রাজনীতির সুস্থতা এবং উন্নতির জন্য নিজের পৰ থেকে উলেস্নখযোগ্য কিছু করা হয়েছে।

আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার প্রথম প্রকাশ ঘটে স্বাধীনতার পর যখন একটা জাতীয় সরকার গঠন না করে আওয়ামী লীগ নিজ দলের সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠন করে। তারা নির্বাচিত হয়েছিল সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের পটভূমিতে, স্বাধীন বাংলাদেশের কথা ভেবে নয়। সুতরাং ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের পর একটি জাতীয় সরকার গঠিত হলে নতুন সার্বভৌম দেশে দেশ গড়ার যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হতে পারতো। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের বিষয়ে 'ওনারশিপ' বা মালিকানাবোধ থাকতো দল নির্বিশেষে রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে। এটা হয়নি বলেই পরিত্যক্ত সম্পত্তি, গাড়ি এসব নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন অনেকে। কেউ কেউ চোরাকারবার এবং স্মাগলিংয়ে জড়িয়ে পড়েন যার ফলে বঙ্গবন্ধুকে জরম্নরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়। আওয়ামী লীগের সেই প্রথম শাসনকালে কোন ধরনের সরকার দেশের জন্য উপযুক্ত এ নিয়ে পরীৰা-নিরীৰা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু একবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, একবার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এই সময়ের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে যখন সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় সরকারের প্রবর্তন করা হয়। যে রাজনৈতিক দল অতীতে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে সেই দলের এই হঠকারিতা শুধু দুঃখজনক ছিল না, ছিল ভীষণ উদ্বেগের বিষয়। কেননা এর মধ্যে স্বৈরতন্ত্রের বীজ সুপ্ত ছিল।

১৯৭৫-এর শোচনীয় হত্যাযজ্ঞের পর রাজনীতির পালাবদল হয় এবং বেশ কয়েক বছর সামরিক শাসনের পর রাজনৈতিক তৎপরতা আবার শুরম্ন হয়। এই সময়ে ততকালীন সামরিক শাসক এবং রাষ্ট্রপতি জামায়াতে ইসলামকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেন এবং সংবিধানের চার সত্দম্ভের একটি ধর্মনিরপেৰতাকে বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া শুরু করেন তা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকার অব্যাহত রেখেছে। এক হিসাবে দেখা যায় যে, আমেরিকা ২০০ বছরে তাদের সংবিধান সংশোধন করেছে ২৭ বার আর আমরা ৩৬ বছরে সংশোধন করেছি ১২ বার। অদূর ভবিষ্যতে আরো সংশোধন করা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশের সার্বরিক স্বার্থে নয়, দলীয় কিংবা কোনো বিশেষ ব্যক্তির স্বার্থে আমাদের সংবিধান বারবার (সংখ্যার দিক দিয়েও বলা যায়) সংশোধন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার এও এক দৃষ্টান্ত।

রাজনৈতিক দলগুলো ৰমতায় গিয়ে বিরোধী দলকে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়নি যার জন্য তারা সংসদের অধিবেশন বয়কট করেছে মাসের পর মাস। ক্ষতাসীন দলের স্বৈরাচারিতার জন্য বিরোধী দল বার বার হরতাল-অবরোধ ডেকে জনজীবন অসহ্য করে তুলেছে। দেশ পরিচালনায় সরকারের পাশাপাশি যে বিরোধী দলেরও ভূমিকা আছে এটা ভুলেই থেকেছে যখন যে দল ৰমতায় গেছে। অপরদিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনকালে ৰমতাসীন দলের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সংসদকে যে ৰমতা দেয়া প্রয়োজন এবং সংসদের কাছে যেভাবে দায়বদ্ধ থাকা উচিত তার ব্যত্যয় ঘটেছে। একদিকে বয়কট অন্যদিকে সংসদকে রাবারস্ট্যাম্প বানিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে প্রহসন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো ৰমতায় থেকে ৰমতার অপব্যবহার করে দলীয় এবং ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এত উদগ্রীব ও অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছিলেন যে, ছলে-বলে-কৌশলে নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাদের কাছে অপরিহার্য মনে হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্বাচন কমিশন, আদালকে প্রভাবান্বিত করেছেন এবং দলীয় সমর্থকদের নিয়োগ দিয়েছেন। প্রশাসনকে একই উদ্দেশ্যে দলীয়করণ করেছেন। এসবই রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার লৰণ এবং রাজনীতিবিদদের অবিমৃষ্যকারিতার প্রমাণ। রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার সবচেয়ে জাজ্বল্যমান দৃষ্টানত্দ হলো নির্বাচনের আগে তিন মাসের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান সংবিধানের অনত্দর্ভুক্ত করা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যত ভাল দৃষ্টানত্দ থাক না কেন এটি একটি অনির্বাচিত সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যই যে এমন সরকারের নিধান রাখতে হলো এটি দেউলিয়াপনাকে নগ্ন করে দেখিয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো ৰমতায় আসাকে এতটাই গুরম্নত্বপূর্ণ মনে করে যে, এর জন্য নীতি বিসর্জন দিয়ে মতাদর্শগতভাবে ভিন্ন এমন দলের সঙ্গেও জোট বাঁধতে ইতসত্দতঃ করেনি। এ নিয়ে একটি দল অন্য দলকে সমালোচনা করলেও নিজেরাও ভবিষ্যতে একইভাবে জোট বেঁধেছে। এইসব জোট যদি কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে হতো তাহলে খুব একটা সমালোচনা করা যেত না। কিছু কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম বা নূ্যনতম সাধারণ কর্মসূচি নয়, ৰমতায় যাওয়ার লিঞ্ঝা এবং তাড়না থেকেই এসব জোট বাঁধা হয়েছে। প্রকৃতপৰে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি বলে স্পষ্ট কোনো ম্যানিফেস্টো ছিল না। থাকলেও সেসব কাগজেই থেকে গেছে। সব সরকারই ৰমতায় এসে চলমান কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে গেছে, নতুন কিছু করেনি। করলেও তা হয়েছে কসমেটিক ধরনের। একমাত্র জেনারেল এরশাদ প্রেসিডেন্ট হয়ে ৰমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য এক ঐতিহাসিক পদৰেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও পরবতীতে রাজনীতিবিদদের স্বার্থরৰা করে তাদের সমর্থন লাভের আশায় সেই কর্মসূচি বাতিল করে দেন। যার জন্য বিপুল উতসাহে সূচনা করা হলেও বিকেন্দ্রীকরণ তার লক্ষে পৌঁছাতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার দায়ভার রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের পতনের পর তিনটি সরকার ৰমতায় এসেছে। কিন্তু কোনোটি বিকেন্দ্রীকরণের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ বিষযের প্রতি তেমন মনোযোগ দেয়নি।

রাজনীতিতে দলের ভূমিকা খুব গুরম্নত্বপূর্ণ। পুরাতন দলগুলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে না বলেই নতুন দলের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিকট অতীতে গণফোরাম, বিকল্পধারা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আবির্ভাব হয়েছে যেমন হয়েছে জাতীয় পার্টির খন্ড-বিখন্ড হওয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোনো দলই নতুন মুখ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি এবং তাদের সদস্যসংখ্যাও নগণ্য হয়ে থেকেছে। অনেকে ভেবেছিল ড. কামাল হোসেনের মতো অথবা ডা. বদরম্নদ্দোজা চৌধুরীর মতো খ্যাতনামা ব্যক্তি তাদের দলে নতুন-পুরাতন বেশ অনেককে আনতে পারবেন, যা দেখে দলের ভবিষ্যত সম্বন্ধে আশাবাদী হওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাসত্দবে তা হয়নি। তারা যেসব সদস্য নিয়ে দল শুরম্ন করেছিলেন তার বেশি সদস্যসংখ্যা বাড়েনি। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৰমতায় আসার পর নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি দেশের স্বার্থে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন সেই সময় দেশের অনেকেই উৎফুলস্ন হয়েছিল। কেননা ড. ইউনূস শুধু পণ্ডিত ব্যক্তি নন তিনি একজন জনদরদীও বটে। বিশেষ করে দরিদ্র-বান্ধব হিসেবে তার সুখ্যাতি বহু বিসত্দৃত এবং সুবিদিত। তার ভাবমূর্তি এমন ছিল যে, সহজেই তিনি অনেক নতুন রাজনীতিবিদ উপহার দিতে পারতেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি যখন ঘোষণা দিলেন যে, যারা তার পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা না আসায় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার এই সিদ্ধানত্দে দেশের অনেকেই হতাশ হয়েছিল। কেউ কেউ ৰুব্ধ হয়ে এও বলেছে, তিনি এত তাড়াতাড়ি ধৈর্য হারালেন কেন? কেউ প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী পাশে এসে না দাঁড়ালে না দাঁড়ালো, তিনি কি কখনই নতুন মুখ আকর্ষণের ৰমতা রাখেন না? মনে হয় ড. ইউনূস অন্যের উপর বেশি নির্ভর করেছিলেন। ভেবেছিলেন তাকে সাংগঠনিকভাবে খুব একটা সময় বা শ্রম দিতে হবে না। যখন এটা হলো না তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেললেন। যে ব্যক্তি একাই গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানকে সারাদেশে শুধু নয় পৃথিবীর বহু স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তিনি ইচ্ছা করলে মনের মতো একটা রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারবেন না এবং সমমনাদের নিজ দলে আনতে পারবেন না এটা বিশ্বাস করা যায় না। তার রাজনীতিতে আসাকে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো সুনজরে দেখেনি। কেননা তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তিনি দল গঠন করলে সেই দল তাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং অনেকেই তৃতীয় পথের সন্ধানে তার কাছেই চলে যাবে। তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাদেরকে স্বসত্দির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দিয়েছেন। ড. ইউনূসের দল হতে পারতো বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন সুস্থ ধারা। এটাই ছিল নতুন দল নিয়ে আত্মপ্রকাশের সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগ না নিয়ে দেশকে বঞ্চিত করলেন এ কথা বলতেই হয়। নির্বাচনের এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি। তিনি কি আবার ফিরে আসতে পারেন না, গঠন করতে পারে না একটি নতুন দল? এর জন্য দরকার হলে একটি স্বাৰর অভিযান শুরম্ন করা যেতে পারে। সুধী মহলকে এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে অনুরোধ জানাই। দেশ এখন এমন ক্রানত্দিকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে যে, চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই। দেউলিয়াপূর্ণ রাজনীতি থেকে বাঁচার জন্য চাই নতুন দল। ড. ইউনূস পারেন সেই দল উপহার দিতে।

পুরাতন রাজনৈতিক দলও দেশবাসীর সেবায় এগিয়ে আসতে পারে। তাদের ভূমিকাকেও খাটো করে দেখার উপায় নেই। অনেক ত্যাগ-তিতিৰার মধ্য দিয়ে তারা এই পর্যনত্দ এসেছে। কিন্তু গত ৩৭ বছর (আওয়ামী লীগের জন্য) এবং ২৫ বছর (বিএনপির জন্য) দলের ভেতর যেসব জঞ্জাল জমেছে তা পরিষ্কার করতে হবে। দুর্নীতিবাজ ও গডফাদারদের বহিষ্কার করতে হবে। এসবের জন্য প্রয়োজন আমূল সংস্কার। এই সংস্কার নিজেদের স্বার্থে দলগুলোকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে করতে হবে, সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন কি বলছে তার জন্য অপেৰা করলে চলবে না। দুঃখের বিষয় দলগুলো এইদিকে কোনো মনোযোগই দেয়নি। কিছুদিন সংস্কারপন্থিদের কথা শোনা গিয়েছিল। এখন তাও শোনা যাচ্ছে না। বরং পুরাতন নেতৃত্ব ছাড়া তারা নির্বাচন করবে না এমন ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। পুরাতন কোনো দলেই নতুন মুখের আবির্ভাব হয়নি। পুরাতন শীর্ষ নেতাদের অনেকেই জেলে বিচারের অপেৰায় আছেন। তাদের স্থান পূরণ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় পুরাতন শীর্ষ দুই নেতার উপর চরম নির্ভরশীলতা। তারা দুইজনই অভিজ্ঞ ও দলের সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্ষমতায় এসে ভাল-মন্দ মিলিয়ে সরকারও পরিচালনা করেছেন। কিন্তু তারা ছাড়া দল চলতে পারে না কোনো অবস্থাতেই এই মানসিকতার মধ্যে যে পরিবর্তনবিমুখতা এবং চরম নির্ভরশীলতা তা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই আরেকটি দৃষ্টান্ত। দুইটি প্রধান দলেই যে দ্বিতীয় কেউ শীর্ষ নেতা হবার মতো গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। এটি দলের অভ্যনত্দরীণ গণতন্ত্রের চর্চায় অনত্দঃসারশূন্যতা প্রমাণ করে। এ ধরনের মানসিকতা রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে না। এর অর্থ হলো আগের মতো হানাহানি, সহিংসতা এবং অস্থিরতার রাজনীতি। এ দেশের নাগরিকরা কী এরচেয়ে ভাল কিছু আশা করতে পারে না?

হাসনাত আবদুল হাই
[লেখক : কথাশিল্পী ও সাবেক সচিব]


মে ৩১, ২০০৮, শনিবার

http://www.ittefaq.com/content/2008/05/31/news0445.htm

খালেদা-হাসিনার বিরুদ্ধে নাইকো মামলার চার্জশিট প্রস্তুত

Hasina and Khaleda
Hasina and Khaleda

ইত্তেফাক রিপোট - ১লা মে, ২০০৮
http://www.ittefaq.com/content/2008/05/01/news0436.htm

গদি ও নাই তাই বাঁশ ও নাই।


কেন যেন আমার ভাল্লাগে না গো।গদি ও নাই তাই মানুষকে বাঁশ ও দিতে পার না গো,বাঁশ ও দিতে পারি না।

AttachmentSize
bangladesh_news_01092008_000005_sheikh_hasina.jpg92.69 KB

গ্যাংস্টার মেয়র মহিউদ্দিনের কাহিনী

চোরের মার বড় গলা


দৈনিক প্রথম আলোর আলপিন হতে সংকলিত - ১২ই মার্চ, ২০০৭
http://www.prothom-alo.org/print.php?t=f&nid=NTg5Mw==

ছাত্ররাজনীতির আসল চেহারা

ঘুরে ফিরে সেই বিতর্কিতরাই আসছেন ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে

তিন গ্র"পে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সংগঠন

আফজাল বারী : বিএনপির পাশাপাশি পুনর্গঠিত হ"েছ সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। খুব শিগগিরই বিদেশ যাবার আগেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই সংগঠনের নয়া কমিটি ঘোষণা দিবেন। জানা গেছে, সংগঠনের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি মদদদাতার ভাই ও কেলেঙ্কারির দায়ে পদ হারানো ছাত্রদল নেতারাই এই কমিটিতে স্থান পেতে জোর লবিং চালা"েছ বিএনপির হাইকমান্ডে। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও তাদের আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্রনেতাদের সামনে আনতে চেয়ারপারসনের কাছে তদ্বির করছেন। রীতিমতো বিভক্তও হয়ে পড়েছেন তারা। তাই ঘুরে ফিরে সেই বিতর্কিতরাই আসছে ছাত্রদলের নয়া কমিটিতে। এ কমিটি পূর্ণাঙ্গ নাকি আহ্বায়ক হিসেবে দেয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে বিতর্কিত এবং অছাত্রদের হাতে কমিটি না দেয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২ বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। সে লক্ষ্যে ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে আজিজুল বারী হেলাল সভাপতি ও শফিউল বারী বাবু সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু ও আমির"ল ইসলাম আলীম সাংগঠনিক সম্পাদক পদের জন্য লবিং করে। কিন্তু হাইকমান্ড সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সিনিয়র সহসভাপতি, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডুকে সহসভাপতি ও আমীর"ল ইসলাম আলীমকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন করেন। এই কমিটি বিলুপ্ত করে শিগগিরই নয়া কমিটি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও অনেক ছাত্র নেতাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবন থেকে অবসরে যাওয়া। খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অন্য ছাত্র নেতারা অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো জেলায় কমিটির মেয়াদ ৭ বছরেরও বেশি হয়েছে। সারা দেশেই ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। ফলে এবারের নির্বাচনে তর"ণদের ৩০ ভাগ ভোট থেকে বিএনপি বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান কমিটির বির"দ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, বর্তমান কমিটির দীর্ঘ দিনেও এ কমিটি সারা দেশের জেলা, থানা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন করতে পারেনি। নির্বাচন এবং আন্দোলনেও সংগঠনটি গুর"ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এসব কিছু বিবেচনা করে খুব শিগগিরই কমিটি দেয়ার প্রক্রিয়া শুর"র নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কমিটি পেতে ছাত্রদল তিন গ্র"পে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক গ্র"পের নেতৃত্ব দি"েছন সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দি"েছন সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সহসভাপতি জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু। এ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমীর"ল ইসলাম আলীম ও খোকনের নেতৃত্বে আরেকটি গ্র"প সক্রিয় রয়েছে।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, হেলাল-বাবু ও টুকু-কুণ্ডু গ্র"পের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। পরস্পরের বির"দ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিভক্ত নেতারা। অভিযোগ রয়েছেÑ সাবেক ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস আলীর অনুসারী হিসেবে এবং হাওয়া ভবনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বকুলের বন্ধু হওয়ার সুবাদেই আজিজুল বারী হেলাল সভাপতি। আর দায়িত্ব পেয়ে ক্ষমতার প্রভাবে কোটিপতি বনে গেছেন হেলাল-বাবু ও তার অনুসারীরা। টুকু গ্র"পের অভিযোগÑ হেলাল-বাবু ও তার অনুসারীরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে লোপাটে ব্যস্ত ছিল। উদাহরণ দিয়ে ওই গ্র"প জানায়, শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং নির্মাণকালেই হেলাল-বাবু চাঁদা নিয়েছে ৮০ লাখ টাকা এবং সিলেট এয়ারপোর্ট থেকে নিয়েছেন ৩৫ লাখ টাকা। এটা ছাত্রদলে ওপেন সিক্রেট। শফিউল বারী বাবুর ছিল অস্ত্র মামলা। তাদের আরো অভিযোগÑ এ দুই নেতাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে লিয়াজোঁ রাজনীতিতে লিপ্ত ছিলেন বলে ছাত্র আন্দোলন সংগ্রাম সম্ভব হয়নি। ফলে ওই সরকার আমলেই বাবুর অস্ত্র মামলা খালাস পায়। ছাত্রলীগ নেতা পার্থ মজুমদার হত্যা মামলার আসামিও হেলাল-বাবুসহ তার অনুসারীরা। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার আমলসহ দীর্ঘ ৭ বছর হেলাল একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকুরীরত ছিলেন। অবশ্য এবার ছাত্রদলে থাকছেন না আজিজুল বারী হেলাল।

অপরদিকে হেলাল-বাবু গ্র"পও অভিযোগ তুলেছে টুকু গ্র"পের বির"দ্ধে। এদের অভিযোগÑ টুকুর ভাই আব্দুস সালাম পিন্টু প্রথমে শিল্প উপমন্ত্রী ও পরে শিক্ষা উপমন্ত্রী ছিলেন। ভাইয়ের প্রভাবেই কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে টুকু গ্র"প। এছাড়াও টুকুর সহোদর দুই ভাই কারাবন্দী পিন্টু ও পলাতক মাওলানা তাজ উদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলা মামলার আসামি। তাদের বির"দ্ধে জঙ্গি মদদেরও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আমীর"ল ইসলাম আলীম টুকু গ্র"পেই ছিল। বনিবনা না হওয়ায় বিভক্ত হয়ে আলাদা গ্র"প করেছে সে। ছাত্রদল নেতাদের চোখে আমীর"ল ইসলাম আলীম চরিত্রহীন। উদাহরণ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতা জানান, ২০০৪ সালে আলীম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি। ওই সময় জনৈক ছাত্রদল কর্মীর বান্ধবীর শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি হলের ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দাবির মুখে সে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে আলীমের গ্র"পে যারা রয়েছে তাদের অনেকেই বহিস্কৃত এবং জহুর"ল হক হলের ছাত্রদল নেতা খোকন হত্যা মামলার আসামি।

সূত্র: http://www.bhorerkagoj.net/content/2009/06/22/news0006.php

জেনারেল মইন

নববর্ষের প্রত্যাশা - মইন উ আহমেদ

বাংলা নববর্ষ। বাঙালির নববর্ষ। এই দিনে আমরা নতুন কিছু আশা করি। নতুন কিছু কামনা করি। আনন্দ-উৎসবে ধনী-গরিব, শহরবাসী-গ্রামবাসী সবাই আনন্দিত হতে চাই। জাতি হিসেবে আমরা ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য সংগ্রাম করে সফল হয়েছি, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ১৯৯০ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে পটপরিবর্তন পেয়েছি, ২০০৬ সালে সময়ের সঙ্গে আপস করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। তারপরও সব কিছু মিলে হিসাব করতে গেলে খুব সহজেই আমাদের চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অসামঞ্জস্যতা খুব প্রকটভাবে চোখে পড়ে। এমন কেন হলো? এই প্রশ্ন যেমন সবাই করে, তেমনি এই প্রশ্ন আমারও, আমাদের কী নেই? সোনার একটি দেশ আছে। সোনা ফলানো মাটি আছে। সহজ-সরল পরিশ্রমী মানুষ আছে। নেই শুধু সৎ পরিকল্পনা, সৎ বাস্তবায়ন ও সৎ মানসিকতা। এই নেই এর প্রতিকার কী? দীর্ঘ ৩৬ বছর আমরা পার করে এলাম, এখনো কেন আমাদের হিসাবের খাতা প্রায় শুন্য, পহেলা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার লাভ-লোকসান নিয়ে হালখাতা খোলেন। সেই হালখাতায় হিসাব লেখা থাকে কড়ায়-গন্ডায়। কতটা সে এগোলো, কতটা পেছালো, এই হিসাব আমরা যদি আমাদের দেশ নিয়ে করতে চাই তাহলে আমরা কী দেখি। যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম সেখান থেকে কতটুকু এগোলাম? এমন কেন হলো? আমাদের চোখের সামনে কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া যাদেরই দেখি, সবাই উঠছে আকাশে আর আমরা ডুবেছি হতাশায়। আকন্ঠ হতাশা কোনো দেশকে, কোনো জাতিকে, কোনো সমাজকে, কোনো সংসারকে আলোর মুখ দেখাতে পারে না। কেন এ হতাশা?
আমাদের অনেক বড় বড় রাজনৈতিক দল আছে, যাদের প্রতি দেশের মানুষের অনেক আস্থা, অনেক বিশ্বাস, অনেক প্রত্যাশা। তাদের পাশাপাশি অন্য যারা সমাজ-সংস্কার নিয়ে ভাবেন, দেশের বরেণ্য ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের পরিচিতি, তাঁদের সবারই এই দেশ। আমরা যারা বিভিন্ন বাহিনীতে আছি, বিভিন্ন পেশায় আছি, সরকারি-বেসরকারি কাজে জড়িত আছি, কৃষক, শ্রমিক, জেলে তাঁতি, সবারই এই বাংলাদেশ। এই দেশের কথা যাঁরা ভাবেন, এই দেশের জন্য যাঁরা কাজ করেন, বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে যাঁরা আছেন, সবাই এই দেশের সমান অংশীদার, সবারই দায়িত্ব এই দেশকে ভালোবাসা। অমিত সম্ভাবনার এই দেশে প্রত্যাশার আলো বার বার চারিদিকে দ্যুতি ছড়িয়ে নিভে গেছে। অধরা সাফল্য দুর থেকে হাতছানি দিয়ে শুধু স্বপ্নই দেখিয়েছে। স্বপ্ন আর বাস্তবে ধরা দেয়নি। তার পরও আমরা স্বপ্ন দেখি এক সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। দেশের মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের গৌরবময় ইতিহাস এ স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়। এ সাহস অলঙ্ঘনীয় সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে এক আলোকিত পথে যাত্রার সুচনা করতে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলা নববর্ষের এই সুন্দর দিনে, সুন্দর সময়ে আমি তেমনি কয়েকটি বিষয় এখানে তুলে ধলতে চাই-

দেশপ্রেম
আমরা সবাই এ দেশকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এ ভালোবাসায় কোনো স্বার্থ নেই। এ ভালোবাসার প্রমাণ আমরা দিয়েছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়। যে যেখানে যেভাবে পেরেছেন দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং সত্যি সত্যি দেশকে একদিন শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। সেই মানুষগুলো এখনো আছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও সমপরিমাণ মানুষ। এতে আমাদের ক্ষমতাশক্তি সব কিছু দ্বিগুণ হওয়ার কথা। আমরা কেন পরাজিত হব! যদি একাত্তরে পেরে থাকি এখনো পারব। দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়ে সততার সঙ্গে যদি আমরা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি, তবে আমরা আবার সফল হব। সুখী এক বাংলাদেশ গড়তে পারব!

মানবসম্পদ
আমাদের দেশে যে পরিমাণ মানুষ, একে অনেকে মনে করেন এটা আমাদের বোঝা। আমি মনে করি এটাই আমাদের বড় সম্পদ। আমরা যদি এই সব মানুষদের একটা বিরাট অংশকে শিক্ষিত করে, প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে পারি তাহলে তারা কখনোই আমাদের বোঝা হবে না। তারাই হবে আমাদের বড় সম্পদ, বড় শক্তি, বড় অবলম্বন। আমি একটা কথা সব সময় বলি, আমাদের ১৫ কোটি মানুষের ৩০ কোটি হাত। এ হাতগুলোকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। এই হাতগুলোকে অলস অথবা অকর্মণ্য হতে দেওয়া যায় না। যে শিশু তার হয়তো ক্ষমতা নেই, যে বৃদ্ধ তারও হয়তো শক্তি নেই, কিন্তু যারা কাজ করতে পারে, যে যতটুকু পারে, তাকে, তাদের সেই কাজই করতে দেওয়া উচিত। আমি সাহায্যের নামে কর্মের হাতকে ভিক্ষুকের হাত বানানোর পক্ষপাতী নই। দুর্যোগের সময় যার যা কিছু আছে তা নিয়েই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু সে সাহায্য কোনোভাবেই যেন সাহসী মানুষগুলোকে অকর্মণ্য করে না তোলে। সাহায্যের বিনিময়ে যে মানুষ যে কাজ করতে পারে, যতটুকুই করতে পারে, তার বিনিময়েই তাকে সাহায্য দিতে হবে। আর এভাবেই মানুষকে সম্পদে পরিণত করলেই জাতি হিসেবে আমাদের মুক্তি নিশ্চিত।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
আমরা অনেক সময় ভুলে যাই আমাদের দেশে মাটি এক ইঞ্চিও বাড়ছে না। বাড়ছে মানুষ। প্রতিবছর প্রতিমাসে শুধু নয় প্রতি ঘণ্টায় মানুষ বাড়ছে। এই সব নতুন অতিথিকে আমাদের স্বাগত জানাতে হচ্ছে। তাদের মুখের খাবার জোগান দিতে হচ্ছে। তাই চাষের জমিকে সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। যেখানে বছরে একবার ফসল হয় সেখানে বছরে দুবার-তিনবার যেন ফসল ফলানো যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি সিলেটে গিয়ে দেখেছি হাজার হাজার একর জায়গা পড়ে আছে, পানির অভাবে চাষ হয় না অথচ মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে নদী। ইচ্ছে করলেই তারা ওই নদী থেকে পানি এনে জমিগুলোকে চাষযোগ্য করতে পারে। এইভাবে শুধু সিলেট নয়-বাংলাদেশের সব জেলায়, সব উপজেলায়, সব ইউনিয়নে, সব গ্রামে ও শহরে খুঁজলে দেখা যাবে অনেক জায়গা অনাবাদি। এ ব্যাপারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ, নিবিড় তত্ত্বাবধান, ভালো বীজ, ভালো সার, পানি ও শ্রমের ব্যাপারে উৎসাহ আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ হতে সহায়তা করবে। তাহলে খাদ্যের জন্য আমাদের কখনোই বিদেশমুখী হয়ে অপেক্ষা করে থাকতে হবে না।

মৎস্য চাষ
আমাদের দেশ মাছের দেশ। নদীর ইলিশ থেকে পুকুরের পুঁটিমাছ পর্যন্ত যেমন পুষ্টিকর তেমনি উপাদেয় ও স্বাস্থ্যকর। কিন্তু আমরা সেই মাছের ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছি। অথচ আমাদের দেশে অনেক জলাশয়, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল মাছ চাষের জন্য উপযোগী। শুধু উদ্যোগ আর আগ্রহের অভাব। অথবা সহযোগিতার-পৃষ্ঠপোষকতার। আমি পরিদর্শনে গিয়ে তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন জায়গায় যেখানে খালি জলাশয় দেখেছি সেখানে সেনা সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনকে মৎস্য চাষে উৎসাহ দিয়েছি এবং ফলাফল আশ্চর্যজনকভাবে আশাতীত। আমি বিশ্বাস করি, দেশের প্রত্যেকটি এলাকায় যেখানে মৎস্য চাষ সম্ভব সেখানে যদি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নেতা-কর্মী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, ছাত্র-শিক্ষক, সবাই মিলে মৎস্য চাষে এগিয়ে আসেন তাহলে থাইল্যান্ডের মতো আমরাও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মাছ রপ্তানি করতে পারব।

পাম অয়েল
ভোজ্য তেল নিয়ে আমাদের নানাবিধ সমস্যা। তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে, কিন্তু সফলতা আসে না। অথচ একসময় আমাদের দেশের মানুষ সরিষার তেল খেত। এখন সরিষার চাষ তেমন হয় না। কেন হয় না, সে বিষয়টি দেখার পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাও যাচাই করে দেখা যেতে পারে। যেমন পাম চাষ। আমার জানা মতে, একজন উৎসাহী দেশপ্রেমিক গবেষক পাম চাষ করে আশাতীত ফলন লাভ করেছেন। কাজেই যদি সঠিক উদ্যোগ নেওয়া যায় তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই আমাদের দেশ পাম অয়েলে সমৃদ্ধ হবে এবং বিদেশেও এই তেল রপ্তানি করা যাবে। কাজেই অর্থকরী এরূপ কৃষিজাত পণ্যের সীমাহীন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার
আমাদের সীমিত সম্পদের বিপরীতে রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা। এ চাহিদা মোকাবিলায় শুধু সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারই যথেষ্ট নয়। এ সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিংড়ে নেওয়ার জন্য আমাদের সুবিবেচনাপ্রসুত উদ্ভাবনী পন্থা নিয়ে এগোতে হবে। যেমন বর্তমানে গভীর সংকটে নিমজ্জিত বিদ্যুৎ ও সারের ক্ষেত্রে আমাদের একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ বড় একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্নুক্ত করেছে। ১১ পদাতিক ডিভিশনে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে অ্যানার্জি বাল্ব আংশিকভাবে প্রচলন করে শুধু বগুড়া অঞ্চল (দশটি জেলা) প্রায় ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাঁচানো গেছে, যা বর্তমানে ওই এলাকায় সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রদানে ব্যবহূত হচ্ছে। অথচ ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে প্রায় ৩০০-৪০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বগুড়া এলাকায় অ্যানার্জি বাল্ব প্রচলন প্রকল্প সম্পন্ন করা গেলে এ বছরের শেষ ভাগে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব হবে। এভাবে আমরা পুরো দেশে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাঁচাতে পারি। তেমনি আর একটি উদাহরণ হলো নবম পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে নরসিংদী জেলায় প্রচলিত ইউরিয়া সারের পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া সারের প্রবর্তন। প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় প্রায় ৩০ ভাগ পর্যন্ত কম গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে ২০ ভাগ পর্যন্ত অধিক ফসল উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ৭০ ভাগ সারে ১২০ ভাগ ধান উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের সীমিত সম্পদের দেশে এ রকম উদ্ভাবনী পন্থা একদিকে যেমন মূল্যবান সম্পদ বাঁচাবে, অন্যদিকে অধিক উৎপাদনে মানুষ বাঁচবে। এভাবে আমাদের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রাকৃতিক সম্পদ
আমাদের দেশে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম গ্যাস, কয়লা, পাথর। এই প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে আহরণ করে আমরা নিজেরা যেমন উপকৃত হতে পারি, তেমনি এই সম্পদ ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশে রপ্তানি করেও আমরা বিদেশি মুদ্রায় আমাদের সমৃদ্ধ করতে পারি। গ্যাসের কথা যদি বাদও দেই, তাহলেও বলা যায়, আমাদের কয়লা আছে, পাথর আছে, যা অত্যন্ত উন্নতমানের। বিদেশে রপ্তানি না করেও আমরা আমাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই সব খাতে বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দিতে পারি। তাহলেও অনেক বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

কারিগরি শিক্ষা
সেই মানুষ উপযুক্ত যে শিক্ষিত। শিক্ষা বলতে, লেখাপড়া যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কারিগরি শিক্ষাকে। কারিগরি শিক্ষায় যত আমরা নিজেদের শিক্ষিত করতে পারব, ততই দেশ-বিদেশে আমাদের চাহিদা বাড়বে। আর যত চাহিদা বাড়বে তত উপার্জন বাড়বে। উপার্জন বাড়লেই আমাদের অর্থনৈতিক দৈন্যতা কাটবে। যেমন দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যদি আমরা ইসলামিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে কোনো কারিগরি শিক্ষা কিংবা আরবি (কথোপকথন) ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারি তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে তাদের প্রারম্ভিক বেতন বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বেশি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার এ উন্নুক্ত সম্ভাবনাকে আমাদের দেশের জন্যই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর তথ্য পাচারের খোঁড়া যুক্তিতে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলে চলবে না। আলোকিত আগামীর জন্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আগামী প্রজন্েনর জন্য আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। গতানুগতিকতা ছেড়ে তথ্যপ্রযুক্তির আলো ঝলমলে ক্ষেত্র আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনাময়। কারণ আমাদের রয়েছে বিশাল এক মানবসম্পদ। সঠিক সিদ্ধান্ত, উন্নত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের এ বিশাল ব্যবসার কিয়দংশও যদি আমরা দখল করতে পারি তবে আমাদের মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ইতিমধ্যে বছরে এ ক্ষেত্র থেকে বার্ষিক ৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করার পরিকল্পনা করেছে। তারা যদি পারে আমরাও পারব।

জাহাজ নির্মাণ
এ খাতটির সাম্প্রতিক সম্ভাবনা আমাদের সবাইকে আলোড়িত করেছে। বড় রকমের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নীরবে বিস্তার লাভ করা এ শিল্পটির সাফল্য একান্তই নিজস্ব বলে দাবি করতে পারেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ শিল্পটির প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা একে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের দেশে জাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের যদি আমরা প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারি তাহলে এ শিল্প বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা অর্জনের বিরাট সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

হোটেল ম্যানেজমেন্ট
এই খাতটি সমগ্র বিশ্বময় সমানভাবে সমাদৃত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকের চাহিদাও অনেক। আমাদের (সেনাবাহিনীর) একটি হোটেল রয়েছে রেডিসন। এই হোটেলের জন্য বিভিন্ন বিভাগে বিদেশ থেকে লোক আনতে গিয়ে দেখেছি অনেক টাকা খরচ হয়। অথচ আমাদের দেশ থেকে যদি ছেলেমেয়েদের আমরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দেশের হোটেলের চাহিদা মিটিয়ে শত শত দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী আমরা বিদেশে পাঠাতে পারব। এই খাতে আমাদের দেশের কর্মজীবী, কর্মপ্রত্যাশী মানুষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বিশাল এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমার বিশেষ অনুরোধে ‘রেডিসন’ হোটেল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে এ রকম একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে রাজি হয়েছে। যেখান থেকে প্রতিবছর প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বিশ্ববাজারে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও যদি এভাবে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসে তবে দেশের যুবসমাজ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে নিজেদের বলিষ্ঠভাবে শামিল করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

পর্যটন
আমাদের দেশ প্রকৃতিগতভাবে অত্যন্ত সুন্দর। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রকৃতির সৃষ্টি সুন্দরবন, মনোমুগ্ধকর পার্বত্য এলাকা চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, নদী, সমুদ্র, দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহ। আমরা যদি নিখাদ নিরাপত্তা, আন্তরিক আতিথেয়তা ও পরিপূর্ণ পথপরিক্রমার নিশ্চয়তা দিতে পারি তাহলে পর্যটকেরা আমাদের দেশে আসবেই। দেশ বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা অর্জন করবে। সরকারি-বেসরকারি উভয়ভাবেই আমরা পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারি। পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু পর্যটনের আয়ের ওপর নির্ভর করে উন্নত আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তারা যদি পারে আমরা কেন পারব না?

ডেইরি ফার্ম
আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি। সরকারের পক্ষে সবার জন্য এসব সুবিধা নিশ্চিত করা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু আমি দেখেছি ছোট একটি পরিকল্পনা করে কীভাবে এসব মানুষগুলোকে বদলে দেওয়া যায়। যেমন ২৫টি গরু নিয়ে ছোট একটি ডেইরি ফার্ম স্থাপন করলে একদিকে এটি যেমন নির্দিষ্ট একটি দলের প্রোটিন চাহিদা মেটাবে, অন্যদিকে তেমনি বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও জমির সার উৎপাদন সম্ভব হবে। এরূপ ডেইরি ফার্ম স্থাপনে যে অর্থের প্রয়োজন তা দেওয়ার ক্ষমতা দেশের অর্থবান নাগরিকদের রয়েছে। তারা যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, তবে অতি অল্প সময়ে প্রকল্পটি দেশের দারিদ্র্য দুরীকরণে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখতে সমর্থ হবে।

গার্মেন্টস
গার্মেন্টস শিল্প আমাদের অর্থনীতির জীবনীশক্তি। এ শিল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া। এ শিল্পটি বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু ক্ষমতায় আরোহণের ঘুঁটি হিসেবে এ শিল্পকে নিয়ে খেলা হবে আত্মহত্যার শামিল। আমাদের কষ্টে অর্জিত সুনাম এবং নির্ভরযোগ্যতা বিঘ্নিত হলে প্রবল প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে আমরা ছিটকে পড়ব। তাতে লাভ হবে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর। ক্ষতি হবে আমাদের অর্থনীতির। ক্ষতি আমাদের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর। কাজেই এ শিল্পকে বাঁচাতে হবে। এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকার, গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রয়োজনে, আমাদের অর্থনীতির প্রয়োজনে এ শিল্পকে আরও অনেক বিস্তৃত করতে হবে।

নেতৃত্ব
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমগোত্রীয় অনেক দেশ এখন উন্নত বিশ্বের দেশ হিসেবে পরিচিত। যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও কোরিয়া। প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদে বাংলাদেশ থেকে অনেক পিছিয়ে থেকেও তারা অতি দ্রুত নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পেরেছে। তাদের এ সাফল্যের মূলে ছিল সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব। আমাদের এ দেশ সুর্যসন্তানদের দেশ। এ দেশে সৎ নেতৃত্বের অভাব আছে বলে আমি মনে করি না। দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন আমাদের অবশ্যই করণীয় কর্তব্য। এ বছর সে নেতৃত্ব নির্বাচনের বছর। আমাদের অবশ্যই এমন নেতৃত্বের পেছনে একতাবদ্ধ হতে হবে, যে হবে সৎ, নির্ভীক, বিবেকবান ও নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক।

পরিশেষে আমরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছি, দুর্নীতি আমাদের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা। দুর্নীতি থেকে সবাইকে মুক্ত করে আনতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন-যাঁরা হননি, যে যেই স্থানে, যেই কর্মে, যেই দায়িত্বে, যেই পরিচয়েই থাকুন না কেন তাঁকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। দুর্নীতি শুধু অর্থে নয়, বিত্তে নয়, কথায়, কাজে, নীতিতে, আদর্শে, সর্বক্ষেত্রে আমাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। মালদ্বীপ ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ অবস্থায় ছিল। বর্তমানে তাদের মাথাপিছু আয় ৩৯০০ মার্কিন ডলার। ওখানেও ঝড় হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। তার পরও তারা এগিয়ে গেল কেমন করে। শুধু সততা আর আন্তরিকতা দিয়েই দেশ ও মানুষকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের কাজ করতে হবে পরিকল্পনা করে। ঘর তুলতে হবে পরিকল্পনা করে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, এখানেও পরিকল্পনার প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে-দেশের জন্য সবাইকে নিবেদিত হতে হবে। নিজেকে নিবেদন করতে হবে। দেশকে যদি আমি কিছু না দিই তাহলে দেশ আমাকে কেন কিছু দেবে। এটা প্রকৃতগত সত্য। এই সত্যকে অস্বীকার করার যোগ্যতা বা ক্ষমতা কারোরই নেই। তাই বাংলা নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন মনে রাখি-১. আমাদের লোভ সংবরণ করতে হবে। ২. হিংসা পরিহার করতে হবে। ৩. জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
সবার জন্য রইল নববর্ষের নন্দিত শুভ কামনা।

জেনারেল মইন উ আহমেদ: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান।

ড. কামালের আরো অনেক গোপন তথ্য জানিঃ শেখ হাসিনা

Hasina and Dr. Kamal

ড. কামালের আরো অনেক গোপন তথ্য জানিঃ শেখ হাসিনা | দৈনিক নয়া দিগন্ত - ১লা মে, ২০০৮
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=79448&sec=1

ঢাকার বাতাসে বিষ বাড়ছেই

Sat, Jun 6th, 2009 9:27 pm BdST

এহেছান লেনিন
সহ-সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, জুন ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)--একটি বড় নগরীতে কার্বনের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ২৯০ থেকে ৩০০ পিপিএম বলে ধরা হয়। জনসংখ্যার হিসেবে বিশ্বের প্রধান দশটি মহানগরীর মধ্যে থাকলেও তৃতীয় বিশ্বের এক রাজধানী ঢাকাতে গাড়ির সংখ্যা নিঃসন্দেহে এ তালিকার ওপরের দিকে থাকা নগরীগুলোর চেয়ে কম। কিন্তু এখনই এ নগরীর বাতাসে কার্বনের মাত্রা ৩৫০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। এবং উঠতি মধ্যবিত্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজপথে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা।

আর গাড়ির সংখ্যা বাড়া মানেই রাজধানীর দেড় কোটি বাসিন্দার নিঃশ্বাসে যাওয়া নানাধরণের বিষাক্ত উপাদানের মাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি। সেই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে চলা ধুলার দৌরাত্ম্যসহ অন্যান্য পরিবেশগত আপদ তো আছেই।

খোদ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রতিবছর বায়ু দূষণজনিত বিভিন্ন রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অসুস্থ হচ্ছেন লাখো নাগরিক। আর এসব রোগের চিকিৎসায় ঢাকায় প্রতিবছর ১৩২ থেকে ৫৮৩ মিলিয়ন ডলার এবং চারটি বৃহত্তম নগরীতে ২০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে যা দেশের জিডিপি'র প্রায় শূন্য দশমিক ৭ থেকে ৩ শতাংশ।

ঢাকা শহরে শুধু গাড়ির ধোঁয়া থেকে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টন সূক্ষ্ম বস্তুকণা (এসপিএম) বাতাসে ছড়াচ্ছে। এসব ভাসমান কণার আকার ১০ মাইক্রনের কম।

পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকার বাতাসে এ ধরনের উপাদান প্রতি ঘনমিটারে ৬৬৫ থেকে ২ হাজার ৪৫৬ মাইক্রোগ্রাম। সরকারি খোড়াখুড়ি ছাড়াও অরক্ষিত নির্মাণ কাজের মহোৎসব ঢাকাকে পরিণত করেছে ধুলার রাজ্যে।

বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রামকে সহনীয় পর্যায়ে বলে ধরা হয়।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ঢাকায় সচল গাড়ির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ত্র"টিপূর্ণ ইঞ্জিনের কারণে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। ধারণা করা হয়, সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অন্য গাড়ি পরিবেশ বান্ধব। তবে এসব গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গেও বাতাসে মিশছে ক্ষতিকারক কার্বন মনোক্সাইড ও বেনজিন। মূলত মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ত্র"টিপূর্ণ ইঞ্জিনের কারণে গ্যাস সম্পূর্ণ না পোড়ায় মিথেন থেকে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীদের ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ার জন্য একে অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া সালফার ও সীসাযুক্ত পেট্রল ব্যবহার, জ্বালানি তেলে ভেজাল ও গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন-ডাই অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইড, নাইট্রোজেনের অক্সাইড, সালফার-ডাই অক্সাইড, অ্যালিহাইডসহ বিভিন্ন বস্তুকণা ও সীসা নিঃসৃত হয়ে বাতাসকে দূষিত করছে। বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, উড়ন্ত ছাই, ধোঁয়া, অ্যারোসল ও বিভিন্ন ধরনের ফোমের কারণেও বায়ু দূষণ হচ্ছে।

সরাসরি বিষাক্ত উপাদানের প্রতিক্রিয়া ছাড়াও দূষণের কারণে বাতাসে প্রকৃত উপাদানের পরিমাণে তারতম্য ঘটে যা মানব দেহে ফুসফুসের কাজ ও রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়। রাজপথে চলাচলকারী লাখ লাখ পথচারী, পথপাশের অফিস, দোকানপাটের কর্মী, হাজারো গাড়িচালক ও ট্রাফিক পুলিশের মতো মানুষ প্রতিদিন শিকার হচ্ছেন এই দূষণের।

শিশু চিকিৎসক ডা. মাহবুবুল হাসান বলেন, "বায়ুদূষণে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার শিশু ও গর্ভবতী মা। জন্ম হচ্ছে ত্র"টিপূর্ণ শিশুর। এছাড়া বয়স্কদের ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিউলাস, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, ফুসফুসের অকার্যকারিতা, চোখের প্রদাহসহ নানা ধরনের রোগ বাড়ছে।"

পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার গাড়ি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম সীসা, সাড়ে ৩ টন অন্যান্য বস্তুকণা, দেড় টন সালফার-ডাই অক্সাইড, ১৬ টন নাইট্রোজেনের অক্সাইড, ১ টন হাইড্রো কার্বন এবং ৬০ টন কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গত হচ্ছে।

এ কারণে গত কয়েক বছরে রাজধানীর বাতাসে কার্বনের পরিমাণ ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বিল্লাল হোসাইন বলেন, "ঢাকার বায়ু দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ আশেপাশে গড়ে উঠা ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া। এছাড়া গাড়ির ধোঁয়া, ধূলিকণা, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কর্মকাণ্ড ও খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলায়ও দূষণ হচ্ছে।"

এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য মজুদ এবং তা উন্মুক্তভাবে পরিবহণের ফলেও দূষণ হচ্ছে বলে জানান বিল্লাল হোসাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাহনাজ হক হুসেন বলেন, শুধু কার্বনের কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে এমনটি ঠিক নয়। ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলার কারণেও দূষণ হচ্ছে।"

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দূষণ প্রতিরোধে রুটিন মাফিক মনিটরিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, "দূষণ শুধু বায়ুতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বায়ু থেকে পানি এবং মাটি উভয়েই সঞ্চারিত হতে পারে। যার প্রত্যক্ষ ক্ষতির শিকার আমরা সবাই।"

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড অ্যানভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. জহির আলম বায়ু দূষণের একটি নতুন উৎসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার মতে, বড় বড় বিপণীবিতান ও বাড়ির বিশেষ ধরণের কাঁচ থেকে নিঃসৃত
কার্বন বায়ু দূষণ করছে।

তিনি বলেন, "কাঁচ থেকেও যে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে তা অনেকেরই অজানা। এ কারণে এখন ভিন্নমাত্রায় বায়ু দূষণ হচ্ছে।"

ড. জহির জানান, উন্নত বিশ্বে ভবনে এ ধরণের কাঁচের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে উষ্ণতাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাতাসে ক্রমবর্ধমান কার্বন এবং ধূলিকণা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি ছাড়াও ঢাকার বার্ষিক গড় উষ্ণতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যত্যয় ঘটছে বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতার স্বাভাবিক নিয়মে।

ক্রমশঃ ইটকাঠের স্তুপে পরিণত হওয়া প্রায় সবুজহীন ঢাকায় গাছের বৃদ্ধিতেও বিঘ� ঘটাচ্ছে দূষণ। অধ্যাপক জহির জানান, দীর্ঘদিন পাতায় ধূলিকণা জমায় গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া সালোক সংশ্লেষণ ঠিকমত ঘটে না। আর এ কারণে বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ পাভেল পার্থ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বায়ু দূষণের প্রভাব সম্পর্কে বলেন, "উদ্ভিদের স্বাভাবিক সালোক সংশ্লেষণে এর প্রভাব বিরূপ। এছাড়া ধূলিকণার কারণে সূর্যের আলো উদ্ভিদের পাতায় প্রতিফলিত হয়ে তাপমাত্রা বাড়ছে।"

ইউক্যালিপটাসের মতো কিছু গাছের বায়ুবাহিত পরাগরেণুও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মত দেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক ড. নাসির উদ্দিনের মতে, রাজধানীতে পেট্রলচালিত দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনের অটোরিক্সা বন্ধের পর দূষণ প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমেছিল। এখন অবস্থা প্রায় আগের পর্যায়ে।

বিশ্বব্যাংকের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই স্ট্রোক অটোরিক্সা নিষিদ্ধ করায় চিকিৎসা বাবদ প্রায় আড়াই কোটি ডলার সাশ্রয় হয়েছে। দূষণ আরো কমানো গেলে আট কোটি অসুস্থতার ঘটনা এড়ানো যাবে। মাতৃগর্ভে শিশু মৃত্যুর হার লাখে ১৫শ' থেকে ১২শ'তে নেমে আসবে।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে গাড়ির ধোঁয়ার ঘনত্ব ৭০ হার্টরিজ স্মোক ইউনিট (এইচএসইউ) হওয়ার কথা ছিল। আর ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুধু ৬৫ এইচএসইউ মাত্রার গাড়িই চলাচলের অনুমতি পাওয়ার কথা। তবে ঢাকার গাড়ির ধোঁয়ার ঘনত্ব এইচএসইউ একশ'র বেশি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএল/এজে/এসকে/২১৩৩ঘ.

পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি

পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি পারভেজ খান ও মাসুদুল আলম তুষারবঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশে। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিচার এবং রায় কার্যকর করার দাবি উচ্চারিত থেকেছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। অবশেষে গত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ক্ষণটির জন্য উন্মুখ ছিল সারা দেশের মানুষ। বছরের পর বছর খুনিচক্রের সদম্ভ বিচরণ এখন শুধুই অতীত। হত্যা মামলার আরো ছয় আসামি পালিয়ে আছে বিদেশের মাটিতে। একজন মারা গেছে বছর কয়েক আগে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন দায়মুক্ত। হত্যাকারীদের বিচার করতে পেরে গর্বিত সারা দেশ।

কারাবন্দি পাঁচ খুনি মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) করা রিভিউ পিটিশন (রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন) গতকাল বুধবার সকালে খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এর পরই রায় কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। রাত ১২টার পরপরই একের পর এক ফাঁসি কার্যকর করা শুরু হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমেই মেজর (অব.) বজলুল হুদা এবং মহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) ফাঁসি দেওয়া হয়। এরপর একে একে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ এবং এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। রাত ১টায় মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্ত শুরু করেন সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার।

কারা সূত্র জানায়, পাঁচজনকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার আগে তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। এর আগে কারা চিকিৎসক বন্দিদের শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষা করে দেখেন। এরপর বন্দির মুখে লাল সুতি কাপড়ের টুপি বা মুখোশ পরিয়ে দেওয়া হয়। হাতকড়া দিয়ে পেছন দিকে হাত বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে। সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকার জেলা প্রশাসক জিল্লার রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ সরকার, ডিএমপি কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমানসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা ঘড়ি দেখে সময় নির্ধারণের পর হাতের রুমাল ফেলে দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার ইঙ্গিত দেন। জল্লাদরা তখন একের পর এক লিভার টেনে দিলে পায়ের নিচে থাকা পাটাতন সরে যাওয়ায় বন্দিরা ঝুলে পড়ে। এভাবে কিছুক্ষণ দড়িতে ঝোলানোর পর জল্লাদ অন্য বন্দিদের সহায়তায় পর্যায়ক্রমে পাঁচ খুনির লাশ নামিয়ে পাশে রাখা চৌকিতে শুইয়ে দেয়। চিকিৎসকরা তখন দণ্ডপ্রাপ্তের দুই পা, দুই হাত ও ঘাড়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্তের পর সবার লাশ কফিনে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রত্যেকের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে রয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের পাহারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কারাবন্দি মেজর (অব.) বজলুল হুদা, মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ গতকাল দুপুরের দিকে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার খবর জানতে পারে। তবে কেউ ভেঙে পড়েনি। তারা আগে থেকেই এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিল। কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে উচ্চৈঃস্বরে গালিগালাজ করেছে। রায় কার্যকর করার চূড়ান্ত সময় রাত ১১টার দিকে তাদের জানানো হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, পাঁচ খুনি স্বজন ছাড়াও গতকাল যখনই যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। নামাজ পড়েছে নিয়মিত। কেউ কেউ তাহাজ্জুদের নামাজ পর্যন্ত পড়েছে। সাধারণত ফাঁসির আগে আসামির কাছে ভালো কিছু খেতে ইচ্ছা করছে কি না জানতে চাওয়া হয়। কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগও অনেকে পায়। তবে এদের কাউকে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কারা সূত্র রাতে জানায়, সন্ধ্যার কিছু পরই ফাঁসির মঞ্চ লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করা হয় সেখানে। স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য কারাগারে নেওয়া হয় পাঁচটি কফিন। রাত ৮টার দিকে কারারক্ষী সুবেদার ফজলু সাবান, মোমবাতি, কর্পূর, আগরবাতি, গোলাপজল, কাফনের কাপড় নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন। রাত ৯টার দিকে কারাগারে যায় তিন জল্লাদ মনির, শাহজাহান ও বাবুল। তবে রাত ১২টার পর ফাঁসির মঞ্চে জল্লাদের দলে আরো যোগ দেয় রাজু, হাফিজ, সানোয়ার ও ফারুক। জল্লাদ শাহজাহান খুনি এরশাদ শিকদার, মুনীর এবং দুই জঙ্গি সানি ও মামুনের ফাঁসি কার্যকর করেছিল। রাত ১০টায় সিভিল সার্জন ডা. মুশফিকুর রহমান ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে ঢোকেন।

কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) গতকাল সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দেওয়ার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠক করে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে। আর ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দুপুরে পাঁচ খুনির স্বজনদের টেলিফোন করে শেষবারের মতো দেখা করে আসতে বলা হয়।
প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ পাঁচ আসামির করা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গতকাল সকালে খারিজ করেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিচারিক কক্ষ বা এক নম্বর কক্ষে বিচারকরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর আদেশ দেন। প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম আদেশ পড়ে শোনান। আদালত খারিজ আদেশে বলেন, আসামিপক্ষ যেসব বক্তব্য রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানিতে উপস্থাপন করেছে, সেখানে নতুন কোনো যুক্তি নেই। এসব বিষয় আপিল বিভাগ ইতিপূর্বে যে রায় দিয়েছেন, সেখানে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কাজেই আসামিদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
রিভিউ আবেদন খারিজের পরপরই খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান। কিন্তু তা নাকচ করা হয় তাৎক্ষণিক।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য সাত আসামির মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, মেজর (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) এফ এইচ এম বি নুর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন পলাতক। এ ছাড়া লে. কর্নেল (অব.) আবদুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছে বলে জানা যায়। ঊর্ধ্বতন এক কারা কর্মকর্তা জানান, কারাবিধির ৯৮৬ ধারা অনুযায়ী প্রধান কারারক্ষক প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার রজনীগন্ধা সেলে গিয়ে আসামিদের দেখেছেন। সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখন আর ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। কারাবিধি অনুযায়ী যেকোনো সময় রায় কার্যকর করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।' কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির জন্য ব্যবহার করা হয় ইউরোপে তৈরি 'ম্যানিলা দড়ি'। দড়ির ব্যাস এক ইঞ্চি। মহড়ার সময় দেখা হয়েছে দড়িগুলো মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির চেয়ে দেড় গুণ ওজন নিতে পারবে। কারা চিকিৎসকরা জল্লাদ ও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মঞ্চে ওঠানোয় সাহায্যকারী বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও পরীক্ষা করে দেখেন। ফাঁসি কার্যকর করার দড়ির দৈর্ঘ্য বন্দির দেহের ওজন ও দৈর্ঘ্য অনুপাতে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বন্দির ওজন ৯৮ পাউন্ডের নিচে হলে ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি, ১২৬ পাউন্ডের নিচে হলে ছয় ফুট, ১৫৪ পাউন্ডের নিচে হলে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি এবং ১৫৪ পাউন্ড বা তার ওপরে হলে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের দড়ি ব্যবহার করা হয়। ফাঁসি কার্যকর করার সময় কমপক্ষে ১২ জন বন্দুকধারী রক্ষী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র আরো জানায়, বন্দিদের সেল থেকে বের করার সময় ঊর্ধ্বতন এক কারা কর্মকর্তা ইংরেজি ও বাংলায় দণ্ডাদেশ পড়ে শোনান। বন্দিদের সেলেই জিজ্ঞেস করা হয় তারা বিশেষ কোনো খাবার খেতে চায় কি না।

স্বজনদের সাক্ষাৎ
রিভিউ আবেদন খারিজের পরপরই পাঁচ খুনির সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তাদের স্বজনরা। গতকাল বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারাগারের রজনীগন্ধা সেলের সামনে তাঁদের দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। পাঁচ খুনির মোট ৫৫ জন স্বজন দেখা করেন। এর মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) কারাবন্দি দুই ছেলে নাজমুল হাসান সোহেল ও মাহাবুবুল হাসান ইমুও আছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টা মামলায় আটক এই দুই ভাইকে গতকাল রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে বাবা মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করানো হয়। স্বজনরা জানান, কারা কর্তৃপক্ষ দুপুরে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার জোর তাগিদ দিয়ে টেলিফোন করে। একসঙ্গে এতজনকে দেখা করার সুযোগ দেওয়ায় স্বজনরা ধারণা করেছেন, এটাই হয়তো শেষ দেখা। তবে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কিছু জানাতে রাজি হয়নি। মেজর (অব.) বজলুল হুদার বোন মাহফুজা পাশা লিজা কালের কণ্ঠকে জানান, দুপুরের পর কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে ভাইয়ের (বজলুল হুদা) সঙ্গে দেখা করতে আসতে বলে। তিনি বলেন, 'কয়জন আসব_জিজ্ঞেস করতেই তাগাদা দিয়ে বলা হয়, তাড়াতাড়ি আসেন।' পরে তিনি ছাড়াও দুই ভাই কামরুল হুদা, নুরুল হুদা, বোন মাহমুদা ফেরদৌসসহ পরিবারের ২৩ সদস্য কারাগারে আসেন। দুই ভাগে তাঁরা দেখা করেছেন। মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের (ল্যান্সার) সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী হোসনে আরা মহিউদ্দিন, ভাই হাই তালুকদারসহ ১৮ জন। নূরজাহান অসুস্থ থাকায় তাঁকে হুইল চেয়ারে করে আনা হয়। লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমানের সঙ্গে তার মা মাহমুদা রহমান, বোন ইয়াসমিন রহমানসহ চারজন দেখা করেন।

লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) স্ত্রী শাহিদা মহিউদ্দিন, মেয়ে রুমানা আফরোজ, বোন ফাতেমা বেগম, এক নাতনিসহ পাঁচজন এবং লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের স্ত্রী মাসোয়ারা রশিদ, মেয়ে শেহনাজ রশিদ দেখা করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) স্ত্রী শাহিদা মহিউদ্দিন কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার স্বামী ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করতে দেখেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সকালে আমাকে আবার আসতে বলেছে। আমার দুই সন্তান কারাগারে, তাই লাশ গ্রহণ করারও কেউ নেই।'

কারাগারের সামনে মানুষের ভিড় : রাতে ফাঁসি কার্যকর হতে পারে আঁচ করতে পেরে কারাগারের সামনে বিকেল থেকে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জড়ো হতে শুরু করেন সংবাদকর্মী এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও একসময় কারা ফটকের সামনে পর্যন্ত চলে যায় মানুষ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একসময় মিছিল শুরু করেন। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। রাতে কারাগারের বাইরে পাঁচ খুনির স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি। জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণেই তাদের কারা ফটকের সামনে আসতে নিষেধ করা হয়।
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=single&pub_no=60&menu...
২৭শে জানুয়ারী, ২০১০

ফখরুদ্দীন সরকার দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। দুই বছরের ফখরুদ্দীন সরকার দেশকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে দ্রুত কাজ করা প্রয়োজন। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রেখেছি। কিন্তু দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু করা হলে সহযোগিতার হাত আন্দেলনের হাতে পরিণত হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার বিকালে গাজীপুর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৮তম শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ হাসানউদ্দিন সরকার। বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আ স ম হান্নান শাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এম এ মান্নান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক মিলন, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আলহাজ সোহরাব উদ্দিন, মীর হালিমুজ্জামান ননী, আফজাল হোসেন কায়সার, অ্যাডভোকেট এমদাদ খান, ড. শহিদুজ্জামান, ডা. মাযহারুল আলম, আহাম্মদ আলী রুশদি, মাহবুবুল আলম শুক্কুর, প্রভাষক বশির আহমেদ, আশরাফ হোসেন টুলু, শাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ, সৈয়দ হাসান সোহেল, হান্নান মিয়া হান্নু প্রমুখ।

খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজনের দুর্নীতি বের হয়েছে। বাকিদেরও বের হবে ইনশাল্লাহ। সব উদ্দিনের দুর্নীতিই বের হবে। এ দেশের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসেছে ছয় মাস হয়েছে । ছয় মাসে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবকিছু একের পর এক দখলে নিয়েছে। দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। ছিনতাই, খুন, রাহাজানি ব্যাপক হারে বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলারও ব্যাপক অবনতি হয়েছে।

জাতীয় সংসদে আমাদের কথা বলতে দেয়া হয় না। সংসদে আমাদের আসনগুলো কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই হলো আওয়ামী লীগ সরকার। তারা নাকি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা দেশে আন্দেলন চাই না। চাই শান্তি ও উন্নয়ন।

খালেদা জিয়া বলেন, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে নিছক বিদ্রোহ বলা যাবে না। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় ছোট আকারে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাদের লোকজনকে রক্ষা করা হয়েছে। বিডিআরদের পোশাক ও নাম পরিবর্তন করার চেষ্টা চলছে। অবসরপ্রাপ্তদের বিভিন্ন স্থানে বসিয়ে যোগ্য লোকদের ওএসডি, দলীয়করণ ও বদলি করা হচ্ছে। এখন সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভেজাল সার, খাদ্যদ্রব্য দেশে আসছে। যার কারণে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতোবার ক্ষমতায় এসেছে ততোবারই ট্রানজিট দেয়ার চেষ্টা করেছে। জনগণের জন্য তা পারেনি। জনগণের বাধার মুখে নাম পরিবর্তন করে এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর দেয়া হচ্ছে। এটা করতে দেয়া হবে না। এ কাজগুলো বন্ধ রাখুন।

বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য এ সরকারকে বসানো হয়েছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। অন্যরা আজ দেশকে গ্রাস করতে চলেছে। বিদেশি আধিপত্যবাদ, আগ্রাসনবাদ বন্ধ করতে হবে। সুশীল সমাজ আজকে কেন নীরব? তাদের আমরা টিপাইমুখে বাঁধ সম্পর্কে বেশি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। টিপাইমুখে বাঁধের কাজ বন্ধ করতে হবে। বিএনপি চেযারপারসনের উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে সরকার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। সব ষড়যন্ত্র এ দেশ থেকে উৎখাত করা হবে।

যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সভাশেষে দোয়া, মিলাদ ও খাবার বিতরণ করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন পীরজাদা মাওলানা এস এম রুহুল আমীন।


গাজীপুরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে আয়োজিত সভায় বক্তৃতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া - যাযাদি

Source:
যায় যায় দিন
http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=133959

বাংলা ইউনিকোড

 

Bangla script display and input help

 

 

উইকিপেডিয়া:

 

 

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

(উইকিপেডিয়া:Bangla script display help থেকে ঘুরে এসেছে)

• Learn more about using Wikipedia for research • ঝাঁপ দাও: পরিভ্রমন, অনুসন্ধান

Wikipedia heavily uses diverse scripts from numerous languages. It has adopted Unicode (UTF-8) as the "encoding" scheme for its websites. In order to view this Bangla version of Wikipedia, you need to have your computer set up to see web pages encoded in Unicode Bangla scripts. To do this, you need to have a Unicode capable browser and Unicode Bangla fonts. Modern browsers following open web standards like Mozilla Firefox, Opera, Safari, and current versions of Internet Explorer support viewing Bangla scripts (and indic scripts in general) once you have enabled unicode support in your operating system and installed the fonts.

 

সূচিপত্র

[আড়ালে রাখো]

//

[সম্পাদনা] Check for existing support

The following image shows you how a correctly enabled computer will render the Bangla script: Example.of.bangla.rendering.png

The following line of text shows how your computer renders the above line: ক + ি → কি

If the rendering on your computer matches the rendering on the image, then you have already enabled complex text support for Bangla and should be able to view text correctly in Bangla script. However, this does not mean you will be able to edit text in Bangla. To edit such text you need to install the appropriate keyboard software on your operating system.

[সম্পাদনা] Windows XP (Service Pack 2)

[সম্পাদনা] Viewing

Go through the following steps:

  1. Download the latest version of Internet Explorer (IE7), Opera (Opera 9) or Firefox browser (Firefox 2.0 or later)
  2. Download Unicode Bangla fonts from the web and install them on your operating system; quite a few of these fonts are freely available. Here is a list of web locations that house such fonts.
  3. Go to control panel -> Regional and Language Options -> Language, and check the "Install files for complex scripts and right-to-left languages" option. You will need your Windows XP SP2 installer CD to install these new files.
  4. Install Bangla support on your browsers:
    • On Internet Explorer 6: Go to Tools -> Internet Options -> General -> Languages, and add Bengali as a language.
    • On Firefox 1.5: Go to Tools -> Options -> Advanced -> General -> Edit Languages..., and add Bengali as a language.
  5. Go to your browser's "view" menu and set the "character encoding" or "encoding" feature to: Unicode (UTF-8).
  6. If you want to change to a favorite Bangla Unicode font for your webpages:
    • For Internet Explorer 6: Go to Tools-->Internet options-->Fonts, choose Bengali from the Language Script pulldown menu and select from one of the available Bangla fonts in your system.
    • For Firefox 1.5: Go to Tools -> Options -> Content tab -> Advanced... in the Fonts and colors section. In the pop up window titled "Fonts", select Bengali from the "Fonts for:" pulldown Menu and set a Bengali font of your choice for various kinds of fields like Serif, Sans Serif, Monospace, etc. to be shown on webpages.
    • For Opera 9: Go to Tools -> Prefereces -> Advanced tab -> Fonts>International fonts>choose bangla from drop down list. Select Bangla font of your choice. In most of the cases,opera automatically detects your support for unicode onece you have it in operating systems and installed fonts. So, you may not require the steps above.

[সম্পাদনা] Inputting

  1. Go to Start -> Control Panel -> Regional and Language Options -> Language, and check the option “Install files for complex scripts and right-to-left languages" and insert Win XP CD in your CD-ROM drive to install the files.
  2. Download and install any Bangla input interface software from the list provided near the end of this article.
  3. Follow the help guide/manual that comes with the applications for instructions on how to input Bangla. You should be able to input anywhere you need to type bangla provided the application is unicode compliant. Ideally, you should also be able to input Bengali directly into the edit window of this wiki in your browser.

[সম্পাদনা] Windows 95, 98, ME and NT

These operating systems contain no support for indic scripts (combined letters) and thus no support for Bangla script. However, ownloading Internet Explorer 6.0, Opera (9 or later) or Mozilla Firefox (you need version 2.0 or later!) should enable you to view Bangla scripts on these operating systems but you will not be able to edit any Bangla text. If after downloading the appropriate browser you still cannot view Indic scripts please install an appropriate Unicode Bangla font.

[সম্পাদনা] Windows Vista

Bangla script support is automatically enabled.

[সম্পাদনা] Viewing

You do not need to do anything to enable viewing of Bangla text.

[সম্পাদনা] Inputting

You can use any unicode compliant standard input methods.

[সম্পাদনা] Mac OS X

Unicode support is built into Mac OS X (Cocoa based applications). You need to download and install Bangla unicode supported fonts with Apple Advanced Typography (AAT) to enable it. You can download some of them from Ekushey.Org. To view unicode Bangla web pages use Safari as your browser. Currently Firefox/Mozilla/Camino do not support AAT. As a result you will not see Bangla properly on those browsers. To input Bangla you have to download unicode Bangla keyboard layouts. You can download some of the layouts from Ekushey.Org.

[সম্পাদনা] Linux with Gnome Desktop

[সম্পাদনা] Viewing

You do not need to do anything to enable viewing of Indic text in Gnome 2.8 or later. Ensure you have Bangla Unicode fonts.

When using Mozilla or Firefox, you must enable Pango rendering by opening xterm and typing MOZ_ENABLE_PANGO=1 mozilla or MOZ_ENABLE_PANGO=1 firefox. After this, all future sessions of Mozilla or Firefox will have Bangla language support. This will work only on Firefox compiled with ctl support. The firefox binaries supplied by Fedora Core 4,[ [en:Debian]] and Ubuntu Linux are compiled with this ctl and set this option, by default. Also, make sure that you have a Firefox 2..0 or later, earlier versions have abug concerning rendering of Indic fonts.

[সম্পাদনা] Inputting

[সম্পাদনা] Linux with KDE Desktop

[সম্পাদনা] Viewing

You do not need to do anything to enable viewing of Indic text. Ensure you have appropriate Unicode fonts for each script you wish to view or edit.

[সম্পাদনা] Inputting

[সম্পাদনা] Locations of free unicode bangla fonts (alphabetically)

[সম্পাদনা] List of software/resources that enable writing in unicode Bangla (sorted alphabetically)

[সম্পাদনা] Linux

[সম্পাদনা] Web/Browser Based

Ekushey

[সম্পাদনা] Windows

[সম্পাদনা] Viewing Tips

[সম্পাদনা] Solution for the small fonts problem

If you think the font size is too small, you can use the "text size"/"zoom" feature of your browser to enlarge it. The methods for increasing "text-size" in different browsers are as follows:

 

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতার বিষয়টিকে স্রেফ মেঠো বক্তৃতার অংশ!

ঢাকা, জুলাই ২৯, ২০০৮(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নিজের স্বার্থকেই সবার আগে গুরুত্ব দিতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার কাছে রাজনীতি মানে স্বার্থ হাসিল, দেশপ্রেম অনেক পরের বিষয়।

বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতার বিষয়টিকে স্রেফ মেঠো বক্তৃতার অংশ বলেও মনে করেন তিনি।

সম্পত্তির তথ্য গোপনের মামলায় মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বিশেষ জজ আদালত- ৪ এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "রাজনীতি হচ্ছে স্বার্থের ময়দান, আদর্শের নয়। সবার আগে নিজের স্বার্থ। আমার নিজের স্বার্থ যেখানে বিপন্ন হবে, সেখানে আমি নেই। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের পরে দেশ। আগে আমার জামিন, তারপর দেশপ্রেম। জামিন না হলে দেশপ্রেম দিয়ে কী করব!"

মুজিব বা জিয়ার আদর্শের কথা বলে যারা রাজনীতি করেন, তারা নিজেদের স্বার্থেই ওই আদর্শকে ব্যবহার করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সালাউদ্দিন কাদের বলেন, "মাঠের রাজনীতির কারণে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। দেশ বিক্রি হয়ে যাবে, ভারত এ দেশ দখল করে নেবে। এসব আসলে কথার কথা। ভারতও এ কথা জানে।"

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওই হামলার পরিকল্পনা আগে থেকে জানতে না পারা চারদলীয় জোট সরকারের ব্যর্থতা। এর দায়-দায়িত্ব নিয়ে ওই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত ছিল।"

দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আকতার হামিদ ভূঁইয়া গত বছরের ১৩ জুন রাজধানীর রমনা থানায় সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, আসামি অবৈধভাবে প্রায় ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। একইসঙ্গে কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে তিনি প্রায় ৯১ লাখ টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন।

গত বছরের ১ অক্টোবর কমিশনের উপ-পরিচালক মো. মানিরুজ্জামান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গতবছর ৩ ফেব্র"য়ারি গ্রেপ্তার করে যৌথবাহিনী। এখন তিনি কারাগারে আছেন।
(বিডি নিউজের পুরনো খবর)

বাবর আলীর কাহিনী

বাবর আলীর কাহিনী

Only in Bangladesh!

মানসিবভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা হচ্ছেঃ শেখ হাসিনা

Hasina

যাযাদি রিপোট - ১লা মে, ২০০৮
http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=67619

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকে ভূষিত ইউনূস

Dr. Yunus
ঢাকা, আগস্ট ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক 'প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' এ ভূষিত হলেন।

বুধবার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ বিশিষ্টজনকে এ পদক পরিয়ে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, বিশ্বশান্তি, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এ পদক দিয়ে সম্মানিত করে থাকেন।

এ বছর আরও যারা 'প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম' পেলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- দক্ষিন আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং, মার্কিন সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি স্যান্ড্রা ডে ও'কনর, সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, মার্কিন অভিনেতা সিডনি পয়টার, আয়ারল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসন, ঐতিহাসিক জো মেডিসিন ক্রো প্রমুখ।

সারাবিশ্বে 'গরিবের ব্যাংকার' হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্রঋণের জনক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬০ সালে বিএ ও ১৯৬১ সালে এমএ সম্পন্ন করেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অফ ইকোনমিক্স-এ যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক নিযুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে ইউনূস ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। ১৯৬৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাণ্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রফেসর ইউনূস টেনেসির ন্যাশভিলে নাগরিক কমিটি গঠন করেন। 'বাংলাদেশ নিউজলেটার' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অন্যান্য বাংলাদেশীদের সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ তথ্য কেন্দ্র চালু করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অন্যদের সমর্থন আদায় এবং পাকিস্তানকে সামরিক সহযোগিতা প্রদান বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসে লবি করার উদ্দেশ্যে তিনি এসব উদ্যোগ নেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ইউনূস ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষকে খুব কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করার পর ইউনূস দারিদ্র্য দূরীকরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং তার অর্থনীতি বিভাগের একাডেমিক প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মসূচি চালু করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি নতুন ধরনের কৃষি সমবায় 'নবযুগ তেভাগা খামার' সংগঠিত করেন, যা পরবর্তীতে সরকার প্যাকেজড ইনপুট প্রোগ্রাম হিসেবে গ্রহণ করে।

১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে অত্যন্ত দরিদ্র্য কিছু পরিবারের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার পর তিনি আবিষ্কার করেন যে, খুব সামান্য পরিমাণ ঋণ একজন দরিদ্র্য মানুষের জীবনে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি দরিদ্র্যদের ঋণ দেওয়ার জন্য প্রথাগত ব্যাংকগুলোর কাছে ধর্ণা দিয়ে দেখতে পেলেন তারা এ ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কারণ, ব্যাংকগুলো মনে করে গরিব মানুষ ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত নয়। অনেক প্রচেষ্টার পর অবশেষে প্রফেসর ইউনূস একটি ক্রেডিট লাইন প্রতিষ্ঠায় সফল হলেন। তিনি নিজে গরিব মানুষের ঋণের জামিনদার হয়ে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় জনতা ব্যাংক থেকে তাঁর প্রকল্পের মাধ্যমে জোবরা গ্রামের গরিব মানুষদের ঋণ দেওয়া শুরু করলেন।

১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর তার এই প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। যার নাম হলো 'গ্রামীণ ব্যাংক'।

প্রফেসর ইউনূসের অর্জিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার, সিডনি শান্তি পুরস্কার। আর বাংলাদেশে তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার (১৯৭৮), কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮৫) এবং সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৮৭)।

অধ্যাপক ইউনূস ২৮টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। তিনি অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার বোর্ডের সদস্য হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর দু'টি বেস্ট সেলার বইয়ের লেখকও তিনি। এর একটি হচ্ছে- ব্যাংকার টু দি পুওর (১৯৯৭) এবং অপরটি- ক্রিয়েটিং এ্যা ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি, সোশ্যাল বিজনেস এ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ ক্যাপিটালিজম (২০০৮)।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএনএস/এইচএ/০৩৩০ ঘ.

যে গল্পের শেষ নেই

যে গল্পের শেষ নেই

রাজনীতির সূত্রধর মাহমুদুর রহমান মান্না, প্রিন্সেস লাকি খান রমণীর যত ত্যাগই থাকুক, স্বামী স্বর্ণালঙ্কার ত্যাগে তত কৃপণ

পীর হাবিবুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর:

একসময় সারা দেশে শীত নামলেই যাত্রা, বাউল গান, কবিয়াল লড়াইয়ের আসর বসতো। গ্রাম-গঞ্জে। গ্রামীণ জ্যোতস্নার শহর, হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জেও হতো। যাত্রায় ট্রাজেডি, সংলাপ প্রক্ষেপণ যেমন ভিন্ন স্বাদের, তেমনি একজন সূত্রধর বা বিবেক গানে গানে হাজির হলে দর্শকদের হূদয় দোলা দিয়ে উঠত। যাত্রার সূত্রধর গল্পের সূত্র ধরিয়ে সত্য উদঘাটন করতেন। অর্থাত যাত্রার কাহিনীর সূত্র ধরিয়ে দিতেন। সবার বিবেক জাগাতে সূত্রধরের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শেরেবাংলা নগরে যাত্রার আসর বসিয়ে প্রিন্সেস লাকী খানকে হার্টথ্রব করা হয়। তাকে ঘিরে তারুণ্যের উম্মাদনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে আমাদের শহরের যাত্রা-পালায় প্রিন্সেস রত্নার নাচ দেখতে ঘরের দরজা খুলে মধ্যরাতে চলে গিয়েছিলাম। প্রিন্সেসের নাচের তালে তালে সামনের সারির দর্শকদের টাকা ছুড়তে দেখেছি। সারারাতের যাত্রা-পালায় বিবেকের গানে অনেক দর্শক অশ্রুসজল হতেন। তাদের বিবেক জাগ্রত হতো। শহরের অনেক বয়স্কদেরও প্রিন্সেসের নাচ দেখে পুলকিত হতে দেখেছি। এখন দেশে তেমন যাত্রা-পালা হয় না। তবু মাঝে-মধ্যে শীত নামলে যাত্রা-পালা হয়, আর বিবেক হাজির হতে দেখা যায়। বর্তমানে গাবতলী ও মিরপুরের যাত্রা-পালায় সূত্রধর বা বিবেককে পাওয়া যায়। মানে বিবেক আমাদের যাত্রায় আছে, রাজনীতিতে নেই। তাই এই রুগ্ন রাজনীতিতে কর্মীদের কোনো সমাদর নেই। স্বৈরশাসক যেমন দেশ চালায় তেমনি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীর হুকুমে চলে তাদের দলীয় রাজনীতি। এখানে সূত্রধরের ভূমিকা নিতে গিয়ে একবার আওয়ামী লীগ ছাড়তে হয়েছিল ড. কামাল হোসেনকে। বিএনপিতে সূত্রধরের ভূমিকা নিতে গিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র ও আয়োজন গণতান্ত্রিক হলেও নেত্রীর ইচ্ছাই সিদ্ধানত্দে পরিণত হয়। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার নামে যে সাজানো কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে একজন বিবেক পাওয়া গেলো না যে দাঁড়িয়ে বলবে, দলের অভ্যনত্দরে গণতন্ত্র চালু করুন, মনোনয়ন বাণিজ্য দমন করুন। ২৭ বছরের ব্যর্থ নেতৃত্বকে দলীয় দায়িত্ব থেকে বিদায় দিন। কার কথায় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল? আইএসআই'র কাছ থেকে নির্বাচনি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ তদনত্দ করুন। সংলাপে যোগদিন। আদালত অবমাননা না করে নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হোন। বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে 'চোরে চোরে মাসতুতো ভাই' সম্পর্ক গড়ে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির দায় কাঁধে নিবেন না।

এ সভায় ৭৪ জেলার মধ্যে ৭২ জেলাই তোতা পাখির মতো শেখানো বুলি আউড়েছে, 'নো হাসিনা, নো ডায়ালগ, নো ইলেকশন'। বর্ধিত সভার বক্তৃতা দেখে ওয়ার্কিং কমিটিও আত্দসমর্পণ করেছে। তারাও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছিল সেই আওয়ামী লীগ হাসিনা ছাড়া সংলাপ নয় বলে সংলাপকে 'ডেড-লক' করেছে। সুযোগ নিয়েছে বিএনপি-জামাত। আওয়ামী লীগকে তাদের পাল্লায় নিতে পারলেই ষোলকলা পূর্ণ। আত্দবিস্মৃত জাতি যেন একে একে সব ভুলে যাচ্ছে। 'হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী মেনেছিলেন খালেদা' এবং 'যদি রাজদণ্ড দাও, আষাঢ়ে পূর্ণিমা রাতে দিও - দুই নেত্রী অবসর নিলে হাওর দেখাতে নিব' শিরোনামে আমাদের সময়ে লেখা দুটি সাড়া জাগিয়েছে। প্রচুর প্রশংসা, বেশকিছু দলকানাদের আক্রোশ, সমালোচনা উপলব্ধি করেছি। তবুও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে রাজনীতির সাফল্যের শিখরের উঠে আসা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শের সনত্দান হিসেবে বিতর্ক স্বাগত জানাই। আমার লেখার উন্মাদনায় রাজনীতির আলোকিত মানুষ, সৃজনশীল, মেধাবী, পণ্ডিত মাহমুদুর রহমান মান্না যখন কলম ধরলেন তখন আমি তাকে রাজনীতির কঠিন সময়ে পিচ্ছিল পথে উঠে আসা সেই বিবেক বা সূত্রধরের সাহসী ভূমিকায় দেখলাম। আমি তার মার্জিত, পরিশীলিত সাহিত্যের রসবোধ দিয়ে অসাধারণ লেখাটি পড়ে অভিভূত ও মুগ্ধ হয়েছি। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের নায়ক তোফায়েল আহমদের পর আমাদের কৈশোর ও প্রথম তারুণ্যের নায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ডাকসুর দু'বারের ভিপি মান্না যখন আমার লেখার প্রশংসা করে প্রায় কাছাকাছি ইতিবাচক ক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তখন তার অনুজ হিসেবে কেবল মান্নার প্রতিই আমার মাথানত হয়নি, হয়েছে সেই সব বিবেকবান ছাত্র সমাজের প্রতি ও যারা সুদর্শন, রোমান্টিক মান্নাকে ডাকসুতে বিজয়ী করেছিলেন। মাহমুদুর রহমান মান্নার বিবেক এখনো অন্ধ হয়নি। মেরুদণ্ড হয়নি নূ্যব্জ। তাই তিনিও আমার মতো একজন মাহাথির মোহাম্মদের স্বপ্ন দেখেন। যিনি দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করে নিজে সমসত্দ স্বজনপ্রীতির ঊধের্্ব থেকে বাংলাদেশকে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি নিয়ে যাবেন। মান্না অসংখ্যবার দলীয় ফোরামে সত্য উচ্চারণ করেছেন সাহসের সঙ্গে। আমি তাকে আবারো অভিবাদন জানাই। আমি গৌরববোধ করি মান্না আমার অগ্রজ, আমার দেশের রাজনীতির সূত্রধর। মান্না তখন আমাদের কবিতা ও গানের শহরের জামাই হননি। রাজনৈতিক সফরে গেলে আমার স্কুলজীবনের বন্ধু দেওয়ান ইমদাদ রেজার বাসায় উঠতেন। ছোটদের রাজনীতি, ছোটদের অর্থনীতি ছাড়া তেমন রাজনৈতিক বই পড়া হয়নি। নির্মলেন্দু গুণের অসমাপ্ত কবিতা ও হুলিয়া তখন মুখসত্দ ছিল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কেউ কথা রাখেনিও অনর্গল বলতে পারতাম। ওই সময়ে ছাত্র রাজনীতির নায়ক এসেছেন জেনে ইমদাদের বাসায় গিয়ে মান্নাকে নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতাম। কাবু করার প্রশ্নই ওঠে না।

ডাকসুর আরেক নায়ক আখতারুজ্জামান আমার ওই অভ্যাসের কারণে এখনও মনে করেন আমি তাদের রাজনীতির কর্মী ছিলাম। জাসদের রাজনীতিতে সৃজনশীল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি একধরনের বেয়াদবের আচরণে হলো ক্যান্টিনে যেতে বিব্রতবোধ করতাম। তাদের উন্নাসিক আচরণ দেখে বিস্মিত হতাম মান্নার মতো ভদ্র বিনয়ী মানুষ জাসদ করেন। নিজেকে প্রশ্ন করেছি, মাহমুদুর রহমান কেন রবীন্দ্রনাথের শানত্দি নিকেতন বেছে না নিয়ে বটতলা বেছে নিয়েছিলেন। আমি মাহমুদুর রহমান মান্নার জাসদ-বাসদ রাজনীতির সমালোচক হলেও তার প্রতি যে মোহ কৈশোরে লালন করেছিলাম পরিণত বয়সে সেটি গভীর শ্রদ্ধায় রূপ নেয়। তাকে আওয়ামী লীগে দেখলেই বলি_ রাজনীতি ছাড়-ন লেখালেখি করুন। আপনার লেখক সত্তা পাঠককে কিছু দিতে পারবে। বঙ্গবন্ধুর সাদাকালো যুগের আদর্শ থেকে সরে যাওয়া আওয়ামী লীগ করে নায়ক হওয়া যাবে না, খলনায়ক হওয়া যাবে। মানুষ এখন রাজনীতিতে নায়ক দেখে না। একেক দলে একেকজন দাস দেখে। রাজনীতির নায়ক হতে হলে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সমমনাদের সঙ্গে করে নতুন দল করুন। ডাকসুতে মান্নার কাছে ওবায়দুল কাদের দুইবার ও আখতারুজ্জামানের কাছে একবার পরাজিত হয়েছেন। সেই কাদেরের ওপরে দূরে থাক সাবের চৌধুরীর নিচে তাদের নাম স্থান পেয়েছে দলীয় কমিটিতে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কারো গ্লানি আছে বলে মনে হয় না। এখানে যোগ্য লোকের কদর নেই। উপমহাদেশের বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের পর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি মরহুম স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে এসে মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মৃতু্যবরণ করেছেন। ভদ্র বিনয়ী সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নুরুদ্দীন খান এবং সত ও যোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের পতাকা খুলে নিতে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান দ্বিধা করেননি। মান্না জানতে চেয়েছেন, মাহাথির মোহাম্মদ কোথায়? এরশাদকে কাছাকাছি আনা হলেও তাকে বলা হয়নি। তবে মান্না বলেছেন, একজন মাহাথির না পাওয়া পর্যনত্দ আমরা যেন দুই নেত্রী ও তাদের দুইটি ধারা মেনে নিই। ওয়ান-ইলেভেনের আবির্ভাব কেউ আশা করেননি তবু দেশ রক্ষায় ওয়ান-ইলেভেন এসেছে। তেমনি জাতির নেতৃত্ব সংকট পূরণে একজন মাহাথির ১৫ কোটি মানুষের মাঝ থেকে বেরিয়ে আসবেন না এমনটি আমি বিশ্বাস করি না। মান্না বলছেন, হাসিনার শাসনামল খালেদার আমলের চেয়ে ভালো। তবে স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেনি। কথা অনেকটা সত্য। তবে তাদের আমলে চুরি হয়েছে। আর বিএনপির আমলে ডাকাতির মহোতসব হয়েছে। চোর আর ডাকাতের সংসারে কেন ফিরে যাব? এই প্রশ্ন করে মান্নার কাছ জানতে চাই, সাংবাদিক টিপু সুলতান যখন মৃতু্যমুখে তখন সরকার প্রধান কেন তার চিকিৎসার সব দায় না নিয়ে জয়নাল হাজারির মতো গডফাদারের সাফাই গাইলেন সংসদে? 'দুই নেত্রী রাজনীতি থেকে অবসর নিলে হাওর দেখাতে নিয়ে যাবো'_ এ কথা লেখায় দুই দলের দুই নেত্রীর অন্ধ সমর্থকরা আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এমনকি শুনেছি আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, 'দুই নেত্রী কি পীরের বান্ধবী যে হাওর দেখাতে নিয়ে যাবে?' আমি বিনয়ের সঙ্গে বলছি, বঙ্গবন্ধু ছাড়া কেউ জনগণের বন্ধু হয়নি। আমার খাতায় শাসকের তালিকায় দুই নেত্রীর নাম। জনরায়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আত্দমর্যাদা আর গণতন্ত্রকে শাসকের আসন থেকে মুক্ত করার জন্য কবি নজরুলের চেতনায় বিদ্রোহের সুরে তাদের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে অবসর নিতে বলেছি। যারা কষ্ট পাচ্ছেন তাদের কাছে আমি দুঃখিত। কিন' আমার বিশ্বাসে আমি অনড়। অবসর নিলে বিসত্দীর্ণ হাওরের অথৈ জলরাশির সঙ্গে আষাঢ়ে পূর্ণিমার খেলা দেখে তারা মুগ্ধ হবেন। পৃথিবীতে এমন সুন্দর রয়েছে যা শাসকের চেয়ারের চেয়েও নয়ন-মনকে মুগ্ধ করে। তাই আমার প্রসত্দাব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিমানে চড়ে গুজরাট ও আসামের বন্যা দেখতে যখন বেরিয়েছিলেন তখন কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন- 'প্রিয় ইন্দিরা তুমি বিমানের জানালায় বসে গুজরাটের বন্যা দেখতে যেয়ো নাঃ মেঘের প্রাসাদে বসে তোমার করুণ কণ্ঠস্বরেও কোনো সার্বজনীন দুঃখ ধ্বনিত হবে না, তোমার শুকনো ঠোঁট, কতদিন সেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনিঃ মাঝে মাঝে দ্বীপের মতন বাড়ি, কাণ্ডহীন গাছের পল্লবিত মাথা ইন্দিরা, তখন সেই বন্যার দৃশ্য দেখেও একদিন তোমার মুখ ফসকে বেরিয়ে যেতে পারে, বাঃ কী সুন্দর! সুনীলের কবিতা অনুবাদ করে ইন্দিরাকে দেখানো হলে শুধু বলেছিলেন, 'ভেরি নেস্টি'। কোনো কংগ্রেস কর্মী তাড়া করেনি সুনীলকে। টনি ব্লেয়ার জনরায় থাকার পরও যদি অবসরে যেতে পারেন আমার দুই নেত্রী ক্লানত্দি নিয়ে কেন অবসরে যেতে চান না? আকিদুল ইসলাম লিখেছেন, মান্নাকে অবসর নিয়ে হাওর, জ্যোৎস্না ও জোনাকি দেখতে। আমি বলবো, মেধাবী মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসু বিজয়ী আখতারুজ্জামান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের জাতীয় রাজনীতিতে হাল ধরার অভিষেকই তো ঘটেনি। অবসরের প্রশ্ন কেন? মানুষ মনে করে বিএনপি উড়োজাহাজ কিনে কমিশন খায়, আওয়ামী লীগ মিগ কিনে কমিশন খায়।

রোমান্টিক মান্না যখন আমার লেখা নিয়ে বলেন, জ্যোৎস্না রাতে অবারিত শস্য ক্ষেতে শরীরের সব কাপড় খুলে দেঁৗড়াতে ইচ্ছা করে আমাকে তখন নস্টালজিয়া শৈশব-কৈশোরে নিয়ে যায়। মাহমুদুর রহমান মান্না সাহসের সঙ্গে আরো বলেছেন, যখন শিবগঞ্জের ঘরে জোনাকি প্রবেশ করে তখন লাইট নিভিয়ে দিয়ে ঢাকায় এক সুন্দরী বিদূষী রমণীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সেই সুন্দরী মহিলাটিকে জানতে আমার কৌতূহল জাগলেও ঈর্ষা জাগে না। কারণ আমার শহরে আষাঢ়ে পূর্ণিমা রাতে দেখার হাওরে থাকে অথৈই জলরাশি। মরমী কবি হাসন রাজা নারী, সাকী-সুরা, গানের দল নিয়ে এই হাওরে ভেসে বেড়াতেন। ওই রাতে জ্যোৎস্নার রূপ নবযৌবনা সুন্দরী রূপসীর রূপকেও হার মানায়। সুনামগঞ্জ গেলে এখনো রাতের হাওরে বন্ধু-বান্ধব ও গানের দল নিয়ে ভেসে বেড়াই। তবে কোনো সুন্দরী রমণীর সঙ্গলাভ হয় না। তখন মনে হয়, প্রিয়দর্শিনী ঊর্মিলা মুখার্জি সঙ্গে থাকলে হাওরে রূপ দেখার আনন্দ পূর্ণতা পেতো। ঊর্মিলা মুখার্জির সঙ্গে হৃদয় জড়াজড়ি করে আমি জ্যোৎস্নার রূপ উপভোগ করি, শানত্দিনিকেতনে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করি। জ্যোৎম্না রাতে হাওরে ঘুরে বেড়ানোর সময় টেলিফোনে ওই রূপসী নারীকে হাওরের গল্প বলি, লন্ডনে টেমস তীরে বসে আমি তার সঙ্গে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার দৃশ্য উপভোগ করি, হাত ধরাধরি করে দিগনত্দ বিসত্দৃত ঘাসের ওপর বসে গল্পে গল্পে জ্যোতস্না রাত কাটিয়ে দিই। তখন ভিতর থেকে জেগে ওঠে, পৃথিবীর তাবত সুন্দরী রমণীর উদ্দেশে বলি, 'এই মন জ্যোতস্নায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসো না গল্প করি।' মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যে বিদূষী রমণীর সঙ্গে তিনি জোনাকি পোকার আনন্দ উপভোগ করেন সেই ভাগ্যবতী কে? মিত হেসে তিনি বলেছেন, এটা বানানো গল্প। আমি বিশ্বাস করি, মাহমুদুর রহমান মান্না লিখেছেন সত্য, বলেছেন মিথ্যা। কারণ আমার মতো অনেকেই আল্লাহর পরে বউকে ভয় পায়। আমার কৈশোরের প্রথম ভালো লাগা ও ঈর্ষার পুরুষ রবীন্দ্রনাথ। তার ছুটি গল্পের ফটিক চরিত্র ঐ সময় মনে হতো আমার একার। রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, 'তেরো চৌদ্দ বছরের মতো বালাই পৃথিবীতে আর কোথাও নাই' তখন মনে হয় একি আমার জন্যই তিনি লিখেছিলেন? রবীন্দ্রনাথের প্রেমের ভাগ্য আমার কপালে জোটেনি। মাহমুদুর রহমান মান্নার রোমান্টিক জীবন স্বার্থক। সুন্দরী মহিলার সঙ্গে জোনাকি পোকার আনন্দ ভাগাভাগি করলেও তার স্ত্রী ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, 'রমণীর ধমনীতে ত্যাগের যত প্রকার উদাহরণই থাকুক তাহারা স্বামী ও স্বর্ণালঙ্কার ত্যাগে ততই কৃপণ'। মাহমুদুর রহমান মান্নার বেলায় এটা কতটা সত্য জানি না। তবে আমাদের দুই নেত্রীর বেলায় যোগ করলে বলা যায় ২৭ ও ২৪ বছর ক্ষমতা ভোগ করলেও রাজনীতি ত্যাগ করতে তারা ভীষণ কৃপণ। আমার বেলায় বলবো রবীন্দ্রনাথের মর্মবাণী অর্ধসত্য। স্বর্ণালঙ্কার ত্যাগ করলেও আমার স্ত্রী স্বামী ত্যাগ করতে পারবে না। সুন্দরী রমণীর সঙ্গে জ্যোৎস্না রাতে যদি অঙ্গ ভিজিয়ে গল্প করি তাহলে তার চিবুক জুড়ে অমাবস্যার অাঁধারই নেমে আসবে না, ঘরে ক্যাটরিনার মতো ঝড়ও বয়ে যাবে। দুই দল দুই নেত্রীর মুক্তি দাবি করছেন। বিনা কারণে জেল খাটা মানুষের সংখ্যা কারাগারে কম নয়। দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বলতেন, আইনের ঊধের্্ব কেউ নয়। তাহলে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত দুই নেত্রীর মুক্তির দাবি আসে কেন? এক নেত্রী আরেক নেত্রীর বিরুদ্ধে পল্টন ময়দানে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। আজ ন্যায়বিচারের পথে, আইনি লড়াইয়ের পথে বের হয়ে আসার সাহস তারা হারিয়েছেন কোথায়। এক নেত্রী যখন আদালতে বলেন, 'রায় লেখা হয়ে গেছে, ঘোষণা করুন' আর তার দলকানা আইনজীবীরা আদালতে স্লোগান তুলে তখন আদালত অবমাননা হয় না? ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, গোলাম আরিফ টিপু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের মতো প্রবীণ আইনজীবীরা এর উত্তরে কী বলবেন। একদিকে ন্যায়বিচারের জন্য লড়বেন, অন্যদিকে আদালত অবমাননা চলবে এমনটি তো কাজীর বিচারের আমলেও হয়নি। শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৬ টাকা সের চাল খাওয়াবেন। মতিয়া চৌধুরী বিশ্বাস করলেও আনত্দর্জাতিক বাজারের মূল্য দেখে সায়েসত্দা খাঁ কবর থেকে উঠে বাজার পরিদর্শন করতে চাইবেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনে মনে হয় না তার শাসন আমলের পাপের গ্লানিতে তিনি ভুগছেন। হাওয়া ভবনের দুর্নীতির মহোৎসব, মন্ত্রী-এমপিদের লুটপাট, তার সহকর্মী ফালুর রাতারাতি গড়ে ওঠা মিডিয়া সাম্রাজ্য, হারিছ চৌধুরীর সম্পদ আর দুই সনত্দানের মামুনকে নিয়ে কমিশন বাণিজ্য, সম্পদের পাহাড় গড়ার জন্য অপরাধবোধ তাকে তাড়া করলে নিশ্চয় জাতির কাছে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে করজোড়ে ক্ষমা চাইতেন। মান্না আরো বলেছেন, গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় সংখ্যাগরিষ্ঠই বড় কথা। যা দুই নেত্রীর সঙ্গে রয়েছে। বলেছেন, দুটি দল গণতন্ত্রের যাত্রা পথে স্বাক্ষর রেখেছিল।

এরশাদ পতন পর্যনত্দ ঐক্যবদ্ধ ছিল। তিন জোটের রূপরেখা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দিয়েছিল। নির্বাচনের পর সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় ফিরেছিল। মাহমুদুর রহমান মান্নাকে যদি বলি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদের কাছে পরাজয়ের ভয়ে '৯০-র পর দুই নেত্রী মাত্র একবার এই ইসুতে এক হয়েছিলেন। '৯১-এর নির্বাচনে এরশাদকে সুযোগ দিয়ে কেন যাচাই করা হলো না কে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। কূটনৈতিক মধ্যস্থতার সব শর্ত ভঙ্গ হয়েছিল এরশাদ ও তার দলের প্রশ্নে। ভোটে তাদের সমান সুযোগ দেয়া হয়নি। তিন জোটের রূপরেখার ওয়াদা দুই নেত্রীই ভঙ্গ করেছেন। বেতার-টিভির স্বায়ত্তশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিছুই দেননি তারা। খালেদা '৯১-র নির্বাচনে এরশাদের দালালদের বরণ করে নিয়েছিলেন। ভোটে হেরে গিয়ে শেখ হাসিনা সেই অসুস্থ ধারা অনুসরণ করে দলকে আদর্শচু্যত করেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছ থেকে এসবের জবাব চাই। সূত্রধরের ভূমিকায় তিনি কি স্বীকার করবেন_ শেখ হাসিনার রোমান্টিক মন আটপৌঢ়ে জীবন যেমন আমাদের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করেনি, সংসদ কার্যকর করেনি তেমনি খালেদা জিয়ার বাহারি শাড়ি, মহারাণীর অবয়ব তার সরকারকে ডাকাতি থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি এবং সংসদ ও জনগণকে আমলে নেয়নি। র্যাব আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করলেও জঙ্গিবাদকে খালেদার সরকার লালন করেছিল। ওয়ান-ইলেভেন ওদের ফাঁসি দিয়েছে। মান্নাদের সময় ছাত্র রাজনীতির যৌবনকাল ছিল। সুলতান মনসুরের পর ছাত্র রাজনীতি যৌবন হারিয়েছে। '৯০-এ ইতিহাস নির্মাণ হলেও রাজনীতিবিদ জন্ম দিতে পারেনি। ঐ সময় আমার প্রিয় ছাত্রনেতাদের মধ্যে ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না, আখতারুজ্জামান, ফজলুর রহমান, বাহালুল মজনুন চুন্ন-, ডা. মোসত্দফা জালাল মহিউদ্দিন, মাহবুবুল মোকাদ্দেস আকাশ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, ফজলে হোসেন বাদশা, বজলুর রহমান ছানা, জাহাঙ্গীর কবির রানা, আবদুল মান্নান, প্রদীপ কর, জমির চৌধুরী প্রমুখ। কেউ কেন্দ্রে কেউবা রাকসু, চাকসু, বাকসুতে ছিলেন। জাতীয় ছাত্রলীগ নামের সংগঠনটি একমাত্র আদর্শবান ছাত্রনেতার জন্ম দিয়েছিল। তার নাম ইনায়েতুর রহীম। দুই নেত্রীর শাসনামলে ছাত্র রাজনীতি বলতে কি কিছু ছিল? তাদের আমলে কি ডাকসু বা কলেজ সংসদ নির্বাচন হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে ৬ মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি করে আবার প্রধান বিচারপতির চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার অসাংবিধানিক সিদ্ধানত্দের মাধ্যমে এরশাদের ক্ষমতা হসত্দানত্দর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেদিন যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাই হয় তাহলে আজ কেন সংলাপ ব্যর্থ করে জেলের তালা খুলে দেয়ার দাবি ওঠে? তাই বলি, দিন বদলের চুক্তিনামা চূড়ানত্দ না করে যেন-তেন নির্বাচন চাই না। সাহাবুদ্দিনকে এনে পরে যদি সংবিধান সংশোধন করা যায় তাহলে আজ কেন পারা যাবে না? ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিভিল সোসাইটি হোক আর সামরিক বাহিনী হোক যেখান থেকেই হোক জাতির ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্ব দেয়ার মতো দক্ষ একজনকে বের করে আনা হোক যিনি হবেন আমাদের একালের মাহাথির মোহাম্মদ। দেশ মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পাল্লা দেবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আমার শেষ লেখা পড়ে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিতীয় চিঠি লিখেছেন। বলেছেন, জ্ঞানীর সঙ্গে পত্রবিনিময় কিংবা একতরফা লেখা উভয় ক্ষেত্রেই নির্মল আনন্দ উপভোগ করা যায়। তোমার ভুবনে তুমি যথেষ্ট পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পেরেছো। এজন্য মন উজার করা প্রশংসা তোমার একানত্দ প্রাপ্য। এ বিষয় নিয়ে এবং তথাকথিত আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার রাতের আঁধারে এরশাদের সঙ্গে আপস-রফা করার চেষ্টার কথা আগামীতে লিখবো। যায়যায়দিনে সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাহজাহানের 'জোনাক জ্বলে' কলামটি নিয়মিত পড়তাম। নস্টালজিক ওই সব লেখা পড়ে বলতাম, মানুষটা কেন বিএনপি করে। আমার লেখা পড়ে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, 'আপনার লেখা পড়ে আমি ও আমার স্ত্রী মুগ্ধ হয়েছি। এমন সুন্দর সাহসী লেখার পর দেশে একটা ভালো সরকার আসা উচিত'। তার সঙ্গে আগে কখনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি। তিনি আমাকে আনত্দরিকতার সঙ্গে চায়ের নিমন্ত্রণ জানালে বিনয়ের সঙ্গে তা কবুল করলেও এখনো যাওয়া হয়নি। একদিন মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়েই তার সঙ্গে আড্ডা দিতে যাবো। আওয়ামী লীগ, বিএনপির অনেকে অভিনন্দন জানালেও তাদের নাম প্রকাশ করে বিব্রত করতে চাই না।

রাজনৈতিক ফায়দা হাসি্লই ছিল দুই সরকারের লক্ষ্য


Ittefaq Report on April 17, 2008
http://www.ittefaq.com/content/2008/04/17/print0732.htm

শেখ মুজিব হত্যা মামলার ঘটনাপঞ্জি

মিলটন আনোয়ার:

স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। এ ঘটনার দীর্ঘ ২১ বছর পর দায়ের করা হয় মামলা। ১৯৯৮ সালে বিচারিক আদালত ১৫ আসামির ফাঁসির রায় দেন। হাইকোর্টের বিচার শেষে আজ আপিল বিভাগে এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হবে।

উল্লেখযোগ্য ঘটনাক্রম: ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫: এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে।

১২ আগস্ট, ১৯৯৬: বিশেষ ক্ষমতা আইনে কর্নেল ফারুকসহ তিনজনকে গ্রেফতার।

২ অক্টোবর, ১৯৯৬: হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

১২ নভেম্বর, ১৯৯৬: আওয়ামী লীগ সরকার সংসদে দায়মুক্তি অধ্যাদেশটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করে।

১৫ জানুয়ারি, ১৯৯৭: তদন্ত শেষে পুলিশ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

৩ ফেব্র“য়ারি. ১৯৯৭: পলাতক আসামিদের নামে গেজেট নোটিস জারি হয়।

১ মার্চ, ১৯৯৭: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ এজলাস গঠন করে এই মামলার বিচারক করা হয় কাজী গোলাম রসুলকে। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি হন সিরাজুল হক।

১২ মার্চ, ১৯৯৭: চার আসামি মারা যাওয়ায় ২০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকায় দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু।

৭ এপ্রিল, ১৯৯৭: একই আদালত ২০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

৮ নভেম্বর, ১৯৯৮: দেড়শ কার্যদিবস শুনানির পর ঢাকার দায়রা জজ গোলাম রসুল ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এ দিনই ব্যাংকক থেকে আসামি বজলুল হুদাকে দেশে ফেরত আনা হয়।

ওই রায়ের পর এর বিরুদ্ধে কারাবন্দি চার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর বজলুল হুদা, বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টে আপিল করেন।

৩০ মার্চ, ২০০০: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

১০ এপ্রিল, ২০০০: এই মামলা শুনতে এক বেঞ্চের বিব্রতবোধ।

২৪ এপ্রিল, ২০০০: অপর এক বেঞ্চের বিব্রতবোধ।

২৮ জুন, ২০০০: হাইকোর্টের বিচারপতিরা কয়েক দফা বিব্রত হওয়ার পর ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু।

১৪ ডিসেম্বর, ২০০০: ৬৩ কার্যদিবস শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ মামলায় বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপর বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ১৫ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন।

১২ ফেব্র“য়ারি, ২০০১: হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের আদালতে মামলার শুনানি শুরু।

৩০ এপ্রিল, ২০০১: তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ১২ আসামির মধ্যে পরে ওই বছরই কারাবন্দি চার আসামি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

১৩ র্মাচ, ২০০৭: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি ল্যান্সার একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হন।

১৮ জুন, ২০০৭: ল্যান্সার এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

২৪ জুন, ২০০৮: ল্যান্সার মহিউদ্দিন জেল আপিল করেন।

২ আগস্ট, ২০০৭: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের দায়ের করা লিভ টু আপিলের ওপর শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করা হয়।

৭ আগস্ট ২০০৭: বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলাম, বিচারপতি জয়নাল আবেদীন ও বিচারপতি মো. হাসান আমিনের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শুরু করেন।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৭: আপিল বিভাগ ২৫ কার্যদিবস শুনানি গ্রহণ করে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ (লিভ মঞ্জুর) করেন।

৩০ অক্টোবর, ২০০৭: পেপারবুক তৈরি করে জমা দিতে আসামি পক্ষের শেষ সময়। তারা পেপারবুক ও যুক্তির সংক্ষিপ্তসার আদালতে জমা দেন।

২৩ আগস্ট, ২০০৯: রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তির সংক্ষিপ্তসার আপিল বিভাগে জমা দেয়া হয়।

২৪ আগস্ট, ২০০৯: আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ ধার্য করে দেন।

৪ অক্টোবর, ২০০৯: মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়।

৫ অক্টোবর, ২০০৯: আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে চূড়ান্ত আপিল শুনানি শুরু হয়।

১২ নভেম্বর, ২০০৯: আপিলের ওপর টানা ২৯ দিন শুনানি শেষে ১৯ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

সূত্রঃ http://www.amadershomoy.com/content/2009/11/19/news0317.htm

শেষ পর্যন্ত দেখা হল গ্যালিভারের সাথে লিলিপুটের

Photobucket

সত্রী, কন্যা, পুত্রসহ মেয়র খোকার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সত্রী কন্য পুত্রসহ মেয়র খোকার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

http://www.ittefaq.com/content/2008/04/03/print0457.htm

সোনা রফিক - একজন আওয়ামী সংসদ সদস্য

এদেরকে ভাল করে চিনে রাখুন

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা

দীর্ঘতম জবানবন্দি শাহাবের

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ১৬৪ ধারায় দীর্ঘতম এক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে রেকর্ড সৃষ্টি করলেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) শাহাব উদ্দিন। চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক ঘটনায় দায়েরকৃত চোরাচালান মামলায় এনএসআই’র গ্রেপ্তারকৃত এ সাবেক পরিচালক গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমানের কাছে প্রায় সোয়া ১০ ঘণ্টা স্থায়ী জবানবন্দি দিয়ে ফৌজদারি মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এক নজির স্থাপন করেন। সিআইডি সূত্র জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় শনিবার বিকাল সোয়া ৪ টা থেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে শুরু করেন শাহাবউদ্দিন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে রাত ২টা ৩৫ মিনিটে শেষ হয় জবানবন্দি রেকর্ড করা। এর মধ্যে অবশ্য ক্লান্তিজনিত বিরতি ও চা বিরতি নেয়া হয় কয়েকবার। আদালত সূত্র জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফরমেট যুক্ত কাগজপত্র শেষ করে শাহাবের জবানবন্দি রেকর্ড করতে আরও ৩১ পৃষ্ঠা কাগজ লাগে। ফৌজদারি মামলায় দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ একজন প্রবীণ আইনজীবী বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কোন ঘটনা তার জানা নেই। তিনি বলেন, এটিই হয়তো হবে সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘকালব্যাপী ও দীর্ঘতম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। উল্লেখ্য, এটি হচ্ছে উইং কমান্ডার শাহাবের ১৬৪ ধারায় দ্বিতীয় দফা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। শনিবার তিনি যে মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সেটি হচ্ছে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক ঘটনায় দায়েরকৃত দু’টি মামলার একটি অস্ত্র চোরাচালান মামলা। এ মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার অপরাহ্নে তাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবর রহমানের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া, না দেয়ার সিদ্ধান্ত ভেবে দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মমাফিক তাকে ৩ ঘণ্টা সময় দেন। পরে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শুরু হয় তার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান। জবানবন্দি শেষে রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে এনএসআই’র সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার শাহাবউদ্দিন ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র সাবেক উইং কমান্ডার শাহাবউদ্দিন জবানবন্দিতে ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচার ও চোরাচালান ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন। এ সময় তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি তার সম্পৃক্ততা স্বীকার না করলেও জবানবন্দিতে আগের জবানবন্দির মতো এবারও বারবার তিনি উল্লেখ করেন, যা কিছুই করেছি বা করতে হয়েছে, তার সবকিছুই, অধঃস্তন হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ও পরামর্শে করেছি। পালন করেছি সরকার অর্পিত দায়িত্ব। অতএব, এসবের দায় সরকারের নীতি নির্ধারক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তিনি জানান, ১০ ট্রাক অস্ত্র দেশে আসার ব্যাপারে তৎকালীন সরকারে বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র সাবেক দুই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক উপ-পরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেনও সব জানতেন। তারা এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরা এ ঘটনার অনেক কিছুই জানেন বলে শাহাব বারবার দৃঢ়তার সঙ্গে জানান। শাহাব তার জবানবন্দিতে এ ব্যাপারে তাদের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। ১০ ট্রাক অস্ত্রের ঘটনার ব্যাপারে তার জানা সব বিষয়ের অনুপঙ্খ বর্ণনা তিনি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন বলেই জবানবন্দি রেকর্ডে এত বেশি সময় লাগে বলে সিআইডি সূত্র জানান। জবানবন্দিতে এছাড়াও তিনি ঘটনার ব্যাপারে আরও বেশ ক’জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন বলে জানা যায়। নিজেকে অনুগত একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করে শাহাব বলেন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তিনি ঊর্ধ্বতনের আদেশ মানতে বাধ্য ছিলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার কোন কিছুর সঙ্গেই সম্পৃক্ত নন বলে জানান। এ সময় তিনি সরকারের কয়েকজন নীতিনির্ধারকের কথা বললেও তাদের কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা এ ব্যাপারেও তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ করে কোন কথা বলেননি বলে জানান সিআইডি সূত্র। সূত্র মতে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) শাহাব উদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও এতে তেমন নতুন কিছু পাওয়া যায়নি। এর আগে দেয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তিনি এসব কথার বেশির ভাগই বলেছেন। তবে এবারের জবানবন্দিতে অনেক ঘটনার বিশদ বয়ান রয়েছে। কিন্তু যা কিছুই তিনি বলেছেন তা বলেন নিজের গা বাঁচিয়ে। এর আগে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের অপর এক মামলায়ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)’র এ সাবেক পরিচালক শাহাবউদ্দিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে অবশ্য তিনি আদালতে তার এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, তার ওপর বলপ্রয়োগ করে এ জবানবন্দি আদায় করা হয়। এরপর আবার গত শনিবার তিনি ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দিলেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১লা এপ্রিল সরকারি মালিকানাধীন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)’র সংরক্ষিত জেটিতে নোঙর করা ট্রলার থেকে খালাস করার সময় ১০ ট্রাক অস্ত্রের বৃহত্তম চালান আটক করে পুলিশ। এ নিয়ে দেশে বিদেশে তোলপাড় হয়। মামলা হয় দু’টি। সে সময় এ নিয়ে বেশ ক’দিন তোলপাড় চললেও রহস্যময় কারণে মামালা দু’টির কার্যক্রম তেমন আর এগোয়নি। আটককৃতরাও অনেকে জামিনে বেরিয়ে যায় জেল থেকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার নতুন করে গতি পায় ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনা। এরপর এনএসআই’র ২ সাবেক মহাপরিচালক ও পরিচালক শাহাবসহ একে একে এনএসআই’র ৫ কর্মকর্তা এ ব্যাপারে গ্রেপ্তার হন।

১৫ই আগষ্ট যারা নিহত হয়েছিলেন

ঢাকা, নভেম্বর ১৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনসহ নিহত হন আরও ২৬ জন। এদের মধ্যে যারা রয়েছেন:

শেখ কামাল
বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৫ই আগস্ট, ১৯৪৯ সাল।

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি. এ. (অনার্স) পাস করেন। ছায়ানটে সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। নাটক, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই খেলাধুলায় ছিলো তার প্রচণ্ড উৎসাহ। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মানোন্নয়নে তার শ্রম ও অবদান ছিল অপরিসীম। নতুন খেলোয়াড় তৈরির জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে নিজেই মাঠে অনুশীলন করতেন। ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসেবে '৬৬-এর স্বাধিকার আন্দোলন, '৬৯-এর গণআন্দোলন ও '৭১- এর অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতেই বাড়ি থেকে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ওই দিন ভোরে বাড়ি ঘেরাওয়ের কথা শুনে নিচে নেমে এলে ঘাতকরা সবার আগে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ জামাল
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল।

বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে শেখ জামাল শৈশবে শাহীন স্কুল ও পরে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। একটি সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রে গিটার বাজানো শিখতেন। ক্রিকেট খেলতেন আবাহনী মাঠে। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধানমণ্ডি ১৮ নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দি অবস্থায় থাকাকালে একদিন গোপনে বের হয়ে কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে থাকাকালে যুগোশ্লভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটোর আমন্ত্রণে সেদেশে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে যান। তার পর লন্ডনের স্যান্ডহার্স্ট আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট র‌্যাংকে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ই জুলাই ফুফাতো বোন রোজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৫ আগস্ট তাদের এক সঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেল
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র
জন্ম: ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বাড়ির ছোট্ট ছেলে হিসেবে সবার আদরের ছিল। রাজনৈতিক পরিবেশ ও সঙ্কটের মধ্যেও সে চির সঙ্গী সাইকেল নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতো। ১৯৭১Ñএর মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয়মাস পিতার অদর্শন তাকে এমনই ভাবপ্রবণ করে রাখে যে, পরে সব সময় পিতার কাছাকাছি থাকতে জেদ করতো। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তাদের লাশ দেখিয়ে তারপর রাসেলকে হত্যা করা হয়। তাকে কাজের লোকজন পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায়। কিন্তু ঘাতকরা তাকে দেখে ফেলে। বুলেটবিদ্ধ করার পূর্বে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া হয়। রাসেল প্রথমে মায়ের কাছে যেতে চায়। মায়ের লাশ দেখার পর অশ্র"সিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিল 'আমাকে হাসু আপার ( শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দিন।'

শেখ আবু নাসের
বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, সেপ্টেম্বর, ১৯২৮ সাল।

শেখ আবু নাসের টুঙ্গিপাড়া ও গোপালগঞ্জে লেখাপড়া করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবং বড়ভাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অল্প বয়সেই তাকে পিতার সঙ্গে পারিবারিক কাজকর্ম ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হয়। এজন্য খুলনা শহরে বসবাস করতে হত। পরবর্তী সময়ে তিনি খুলনায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৭৫-এ নিহত হওয়ার সময় বড় ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান।

সুলতানা কামাল খুকু
শেখ কামালের স্ত্রী
জন্ম: ঢাকা, ১৯৫১ সাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদের ছোট মেয়ে। মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স পাস করেন। ১৯৭৫ সালে এম. এ পরীক্ষা দেন। স্কুল থেকে আন্তঃখেলাধুলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে লংজাম্পে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন হন।

মোহামেডান ক্লাবের পক্ষে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিকে লংজাম্পে দ্বিতীয়, ১৯৬৮ সালে ঢাকার মাঠে পাকিস্তান অলিম্পিকে লং জাম্পে ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ডসহ স্বর্ণপদক পান। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯-৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে নিখিল পাকিস্তান মহিলা এথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তিনি রেকর্ডসহ স্বর্ণ পদক পান। ১৯৭৩-এ লংজাম্পে স্বর্ণ পান। ১৯৭৪ এ লংজাম্প ছাড়াও সুলতানা ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিয়ের আগে তাকে দেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। বাড়ির বড় বউ হিসাবে তার বিপুল সমাদর হয়েছিল।

পারভীন জামাল রোজী
শেখ জামালের স্ত্রী
জন্ম: সিলেট, ১৯৫৬ সাল।

বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট বোন খাদেজা হোসেনের মেয়ে। পিতা সৈয়দ হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র ৩০ দিনের বিবাহিত জীবন ছিল তার। মেহেদির রং তখনও তার দু'হাতে ছিল। বেগম মুজিবকে হত্যা করে ঘাতকরা জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজী ও সুলতানাকে এক সঙ্গে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে। ওই বাড়িতে দু'বধুর শুভাগমন যেমন এক সঙ্গে তেমনি শোকাহত বিদায়ও ছিলো একসঙ্গে।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত
বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী
জন্ম: বরিশাল, ১৪ই চৈত্র ১৩২৭ বাংলা।

বরিশাল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ছিলেন। বেকার হোস্টেলেও এক সঙ্গে থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর সেজ বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কলকাতায় আই. এ. ও বি. এ পাস করার পরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে বরিশালে আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১- এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ই এপ্রিল কৃষিমন্ত্রী হন। ১৯৭৩ এর নির্বাচনেও জয়লাভ করেন এবং বঙ্গবন্ধু তাকে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী নিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার ও উৎপাদনে এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়ায় তার ভূমিকা ছিল যথেষ্ট জোরালো। একজন সৎ আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে তিনি সব মহলে প্রশংসিত ছিলেন।

শেখ ফজলুল হক মনি
বঙ্গবন্ধুর মেজো বোনের বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমস-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাপ্তাহিক 'সিনেমা' ও মধুমতি মুদ্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৫৬ সালে ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৮ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. ১৯৬০ সালে বরিশাল বি. এম. কলেজ থেকে বি. এ. এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ. বং পরবর্তী সময়ে এলএলবি পাস করেন।

ছাত্রাবস্থায়ই শেখ মনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬০ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে কুখ্যাত হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয় মাস বিনা বিচারে আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান।

গণবিরোধী শিক্ষানীতি ও সরকারের দমনীতির প্রতিবাদে ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তদানীন্তন গভর্নর মোনায়েম খানের হাত থেকে ডিগ্রি সার্টিফিকেট না নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শেখ মনির এম. এ. ডিগ্রী কেড়ে নেওয়া হয়। কিছু দিন পর তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৫ সালের শেষাশেষি পর্যন্ত তাকে দেশরক্ষা আইনে আটক রাখা হয়। এ সময় সরকার তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সাজানো মামলা দায়ের করে।

১৯৬৬ সালে শেখ ফজলুল হক মণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাঙালির স্বাধিকারের সনদ ঐতিহাসিক ছয়দফার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছয় দফা আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত করা এবং ঐতিহাসিক ৭ জুনের হরতাল সর্বাত্মক সফল করার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। ওই সময় সরকার শেখ মনির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। ১৯৬৬ সালের জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর মুক্তিযোদ্ধা ও যুব সমাজকে সংগঠিত করে দেশগড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তেজগাঁও আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে মনি শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলে শেখ মনি অন্যতম সম্পাদক নিযুক্ত হন।

শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭৩ সালে বার্লিন যুব উৎসবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বিশ্ব শান্তি আন্দোলনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন সফল সংগঠক, সুবক্তা ও সুলেখক। সম্পাদকীয় ছাড়াও তিনি স্বনামে ও ছদ্মনামে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। ছয় দফার ওপর ও তার লেখা ছোটগল্পের সংকলন 'বৃত্ত' প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৭৪ সালে শেখ মনির দ্বিতীয় গল্প সংকলন 'গীতা রায়' প্রকাশিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেই রাতে শেখ মনির জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও কনিষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস অলৌকিকভাবে রক্ষা পায়। পরশের বয়স ছিল পাঁচ বছর এবং তাপসের মাত্র তিন বছর।

বেগম আরজু মনি
শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী
জন্ম: বরিশাল, ১৫ মার্চ ১৯৪৭ সাল।

বরিশাল সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বি. এ. পাস করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন। ১৯৭০ সালে খালাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিয়ে হয়। দু'সন্তানের মা আরজুকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ
বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার
জন্মঃ গোপালগঞ্জ, ১ ফেব্র"য়ারি ১৯৩৩ সাল।

১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সচিবালয়ে যোগ দেন এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভোর ৫টায় বঙ্গবন্ধু লাল টেলিফোনে তাকে সেনাবাহিনীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কথা জানালে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হন তিনি। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর জীবন রক্ষার জন্য তিনি আত্মাহুতি দিয়েছেন। তার এ আত্মদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।

বেবী সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের
ছোট মেয়ে
জন্মঃ বরিশাল, ২০ মে ১৯৬০ সাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। নিহত হবার সময় পিতার কাছে ছিল।

আরিফ সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র
জন্মঃ ২৭ মাচর্, ১৯৬৪ সাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। নিহত হওয়ার সময় ঢাকায় পিতার কাছে ছিল।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি
জন্ম: গৌরনদী, বরিশাল, ২২ জুন ১৯৭১ সাল।

আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্ল¬াহর জ্যেষ্ঠ পুত্র বাবু নিহত হওয়ার সময় বয়স ছিল ৪ বছর এবং ঢাকায় দাদার বাসায় বেড়াতে এসেছিল।

শহীদ সেরনিয়াবাত
আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে
জন্মঃ বরিশাল, ২৬ মার্চ ১৯৪০ সাল।

বরিশাল বি এম স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলেজ থেকে আই. এ. ও বি. এ. পাস করেন। ঢাকা থেকে আইন পাস করে বরিশালে কোর্টে আইনজীবী ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার বরিশালের সংবাদদাতা ছিলেন। ১৫ আগস্ট চাচার বাসায় অবস্থানকালে নিহত হন।

আবদুল নঈম খান রিন্টু
আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই
জন্মঃ বরিশাল, ১ ডিসেম্বর ১৯৫৭ সাল।

বরিশাল জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। বরিশালের একটি সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন এবং তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় অবস্থান কালে নিহত হন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এএনএস/এইচএ/এসএইচ/০৬৩৫ ঘ.