Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

আসুন ঘৃণা করতে শিখি

Bangladeshi Infant

মানুষ অমানুষ ভাগ করার দুঃখজনক একটা সুযোগ দিয়ে গেল শিশু জেহাদ। তার মৃত্যু আমাদের কষ্ট দিয়েছে সন্দেহ নেই, তারপরও এ মৃত্যুতে খুঁজলে এমন কিছু পাওয়া যাবে যা নিয়ে জাতি হিসাবে আমরা গর্ব করতে পারি। মানুষ মরণশীল। যারা সৃষ্টিকর্তাকে জন্ম-মৃত্যুর নিয়ন্ত্রক হিসাবে মানেন তাদের কাছে শিশু জেহাদের মৃত্যুর হিসাব খুব সহজ। হয়ত তার ভাগ্যলিপির আশু বাস্তবায়ন হিসাবে বিবেচনা করবেন তারা। কিন্তু আমার মত যাদের মগজে উপরওয়ালার অস্তিত্ব নিয়ে লাখো প্রশ্ন কিলবিল করে তাদেরকে কোন শিশুর মৃত্যু ঠাণ্ডা মাথার খুন ছাড়া অন্যকিছু মেনে নিতে কষ্ট হয়। হোক তা আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায়, হোক তা পাকিস্তানের পেশোয়ারে তালেবানদের নৃশংসতায়, হোক তা শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির সরকারী মৃত্যু-কুপের কারণে। একটা শিশু জন্ম নেয় বাঁচার জন্য, চার বছর বয়সে মারা যাওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেকটা মা-বাবা তাই করার চেষ্টা করে। মা-বাবার পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও অলঙ্ঘনীয় দায়িত্ব শিশুকে আগলে রাখা। অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিৎসা, শিক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া। এসব নিশ্চিত করার জন্যই একটা দেশে সরকারের প্রয়োজন হয়। দরকার হয় রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতির। এজন্যই নাগরিকরা ভোট দেয়। পছন্দের মানুষকে দায়িত্বে বসায়। শুধু জেহাদ কেন, দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া প্রত্যেকটা শিশুর অভিভাবক কেবল তার পিতা-মাতা নয়, বরং সব বিবেচনায় রাষ্ট্র তার মূল অভিভাবক। দুঃখজনক সত্য হচ্ছে মৃত্যু এ দেশে এখন গলির ধারের ফুচকার মত সহজলভ্য উপাদেয় পণ্য। প্রতিদিন জেহাদের মত শত শত শিশু মরছে। কেবল দুর্ঘটনায় নয়, মরছে অনাহারে, অবহেলায়, বিনা চিকিৎসায়, মরছে রাষ্ট্র তথা সরকারের বুটের তলায়। জেহাদের মৃত্যুর পার্থক্যটা হচ্ছে রাজনীতি তথা সরকারের নামে এ দেশে যে ভয়াবহ অরাজকতা ও অযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তার আসল চেহারা কিছুক্ষণের জন্য হলেও নেংটা করে দেখানো। আমরা দেখেছি কতটা যোগ্যতা নিয়ে সরকারী চাকরি করছেন আজকের প্রশাসন ও তার প্রফেশনাল মেকানিজম। মুক্তিযোদ্ধার কোটা, দলীয় কোটা, পারিবারিক কোটার নামে দুদিন আগের রাস্তার সন্ত্রাসী এখন চাকরিতে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে জিহাদ উদ্বার পর্বে। ২৩ ঘণ্টা চেষ্টা করে যে কাজটা তারা করতে পারেনি তা আধা ঘণ্টায় করেছে কজন সাধারণ মানুষ। এখানেই উন্মোচিত হয় জাতি হিসাবে আমাদের আসল পরিচয়। এ পরিচয় রাজনীতির নষ্ট গলিতে পথভ্রষ্ট হলেও একেবারে যে তলিয়ে যায়নি তাই প্রমাণ করেছেন কজন সাহসী যুবক। এ বাংলাদেশকেই আমরা আবহমান কাল ধরে চিনে আসছি। এ বাংলাদেশকেই আমরা বুকে লালন করে ভালবেসে গেছি। লাখো মানুষের পতাকা রেকর্ড অথবা চেতনার বেলুনে মুক্তিযুদ্ধের ঝাণ্ডা উড়ালেই যে দেশপ্রেমিক হওয়া যায়না তার প্রমাণ রেখেছে জিহাদ উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধর কয়েক ঘণ্টা।

একদিকে অবৈধ মন্ত্রী, আগাগোড়া পচনশীল আমলাতন্ত্রে, সরকারের পোষ্য ও নিকট অতীতে লালিত পেটোয়া বাহিনীর সমন্বয়ে ঘটিত উদ্বার বাহিনী, অন্যদিকে এ দেশের কোটি মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা এবং সাথে ফারুক, লিটু, বকর, মজিদ, সুজনদের মত নিঃস্বার্থ কজন সাধারণ মানুষ। এ বাংলাদেশ নিয়েই আমরা গর্ব করতে পারি। আর যে বাংলাদেশের পরতে পরতে দুর্নীতির কুষ্ঠ রোগ, পিতার মাজারে লালসালুর ব্যবসা আর মজিদ, সুজন ও লিটুদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে হানিফ, হাসান মাহমুদ আর সুরঞ্জিত চোরাদের জন্য গড়া হয় স্বর্গের লীলাভূমি সে বাংলাদেশ আমার, আপনার কারও নয়। আর কিছু না পারি আসুন ঘৃণা করতে শিখি এমন রাষ্ট্রকে।

Comments

খালেদার পালানোর হিসাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ‘পালানো’র হিসাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কোন একটি ষড়যন্ত্র পাকিয়ে তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান।’ খালেদা জিয়া’র পালানোর অভ্যাস পুরনো উল্লেখ করে তিনি বলেন. অস্টম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে সিনেমার নায়িকা হওয়ার জন্য সহপাঠী আরও দু’জনকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। দিনাজপুর থেকে ট্রেনে যাওয়ার পথে বিহারের কটিহার রেলস্টেশনের পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তাদের ফেরত পাঠানো হয়। দ্বিতীয়বার পালিয়ে যান তরুণ আর্মি অফিসার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তখন আওয়ামী লীগের নেতারাই আবার তাকে উদ্ধার করে বাবা-মা’র কাছে ফিরিয়ে দেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আর্মি অফিসারদের স্ত্রীদেরও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের কাছে। এজন্য গেরিলা পাঠানো হয়েছিল স্ত্রীদের কাছে। সে অনুযায়ী খালেদ মোশাররফ, মঞ্জুরের স্ত্রীরা তাদের স্বামীর কাছে গেলেও যাননি খালেদা জিয়া। সে সময়ে খালেদা জিয়া পল্টনে বোনের বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি গেরিলাদের বলেছিলেন আজ না, আগামীকাল যাবেন। কিন্তু এর পরেই তিনি বাসা থেকে ক্যান্টনমেন্টে পালিয়ে যান কর্নেল আসলাম বেগের তত্ত্বাবধানে। যে আসলাম বেগ পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনা প্রধান হয়েছিলেন। সেখান থেকে জিয়াউর রহমানকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, ‘এসব যুদ্ধ-টুদ্ধ করে কিছু হবে না। আমি যাচ্ছি, তুমিও পাকিস্তানে চলে আসো।’
১৯৮৫ সালেও আরেকবার পালিয়ে আশ্রয় নেন পূর্বানী হোটেলে। সেখানের দরজা ভেঙ্গে জেনারেল এরশাদ তার ভাবীসাবকে উদ্ধার করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে সমাবেশে তিনি সিপাহীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনদিন হাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন। পরে কোর্টে গিয়ে বলেছিলেন এরশাদ সাহেব তাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ তিনি পালিয়ে যান বিডিআর বিদ্রোহের সময়ে। ঘটনার দু’ঘণ্টা আগে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন কোথায় কেউ জানেন না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবার বাসা থেকে পালিয়ে অফিসে গিয়ে উঠেছেন। সেখান থেকে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে চান। আবার বলছেন, তাকে নাকি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভালোই হচ্ছে তার, মাগনা মাগনা খাবার-দাবার পাচ্ছেন, আর খাচ্ছেন। তার সমর্থিত একটি পত্রিকা লিখেছে, ‘খাট পছন্দ না হওয়ায় ইতিমধ্যে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।’
সম্পাদনা : রাশিদ

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla