Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

নির্বাচনী হলফনামা ও চেতনার পাইকারী ব্যবসা

Corruption

মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে এলাকায় গেলেন এবং জমা শেষে একই ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে এলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ এক নতুন সংযোজন এবং মনে হচ্ছে তা টিকে থাকার জন্য এসেছে। পরিবর্তনের এ ধারা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছিলাম শেষবার বাংলাদেশ বেড়াতে গিয়ে। এক বছর আগের ঘটনা। জর্জ (ছদ্ম নাম) আমার ছোটবেলার বন্ধু। তার বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের সদস্য। মারা যাওয়ার আগে জীবনের শেষ পাঁচটা বছর ভাগ্যের সাথে অসফল লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দলের তখন ভাদ্র মাস। চারদিকে নাই নাই ভাব। টেবিলে তিন বেলা খাবার যোগার দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হয়। আয় বলতে কেবল শহরের বানিজ্যিক এলাকায় মার্কেট ভাড়া। জীবন যুদ্ধের এ কঠিন বাস্তবতা আগে কোনদিন মোকাবেলা করতে হয়নি বনেদি এ পরিবারকে। নিউ ইয়র্কে বসে খবর পাই জর্জের বাবার মৃত্যুর। তত্ত্বাবধায়ক নামক ঝামেলার শেষে আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতার শপথ নেয় সেদিন আমি দেশে। বাবা নেই, তাই বলে জর্জ বসে থাকেনি। সুদিনকে স্বাগত জানাতে গুলসান এলাকায় মাসিক ৭৫ হাজার টাকায় ফ্লাট ভাড়া নিতে অসুবিধা হয়নি। কারণ জিজ্ঞেস করতে রহস্যজনক হাসি দিয়ে এড়িয়ে গেল সে প্রসঙ্গ। কিছুটা হলেও ধারণা ছিল কি হতে যাচ্ছে এর পর। ২০১২ সালে দেশে গিয়ে যা জানার জানলাম, যা দেখার তাই দেখলাম।

ছুরির মত ধারালো শরীরের স্বল্প বসনা এক তরুণী আমাকে ওয়েটিংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেল বসের সন্ধানে। চারদিক ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। রূপকথার মত মনে হল সবকিছু। শান সৈকতের এমন জটিল ও ভয়াবহ সমাহার কেবল কল্পলোকেই সম্ভব। সবকিছু সাজানো গোছানো। চারদিকে মৃতপুরীর স্বব্দতা। মাঝে মধ্যে ফাইল হাতে দুয়েকজন এদিক সেদিক করছে। তাও খুব সন্তর্পণে। বাবার মতই বদমেজাজ ছেলের। সামান্য কিছুতে রেগে যায় এবং ছোটবড় কারও উপর হাত তুলতে দ্বিধা করেনা। এ অফিসের কিসের ব্যবসা হয় জানিনা, কিন্তু কর্মচারীদের চেহারা দেখলে আন্দাজ করতে পারি এ আমার বন্ধু জর্জের ব্যবসা। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমন করেছি। অনেক ভ্রমর হতে একসাথে মধু পান করেছি। কিছুটা হতাশ হলাম বন্ধুর দর্শনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে। আগে কখনও এমনটা হয়নি। সাধারণত তাকেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। মন হল মেয়েটা ইচ্ছা করে নিতম্ব দোলাচ্ছে। স্কার্টের উপর সাদা শার্টের দুটা বোতাম খোলা রাখছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। তার বাবার কথা মনে পড়ল। ভদ্রলোকের চরিত্রও ছিল ভেজালে ভর্তি। ব্যবসায় সুন্দরী সেক্রেটারি তার অন্যতম। পর নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক অনেকটা খোলামেলা ভাবেই প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে টানাপোড়নের অন্ত ছিলনা। আমি ছিলাম তাদের ভেতরের মানুষ। সব পক্ষই আমাকে স্বাক্ষী মানতে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করত। নিতম্বের শেষ দোলাটা আমার ঠিক মুখটার কাছে এসে শেষ হল। যান্ত্রিক একটা হাসি দিয়ে জানাল একটু দেরি হবে, স্যার এখন ব্যস্ত। আমার নিজেরও সময় ছিলনা। তাই উঠতে হল। নামটা জিজ্ঞেস করে একটা ম্যাসেজ রেখে দরজার দিক পা বাড়ালাম। হয়ত গলার আওয়াজেই হুস হল বন্ধুর। ঝড়ো গতিতে বেরিয়ে এল এবং আমাকে দেখে উল্লাসে ফেটে পরল। কর্মচারীরা মনে হল ভূত দেখার মত কিছু একটা দেখল তাদের অফিসে।

বিশেষ একটা কক্ষ। থরে থরে সাজানো লাল নীল বোতল। এক কোনায় সিংহাসনের মত একটা খাট। পূর্ব লন্ডনের একটা সরকারী ফ্লাট কটা দিন একসাথে শেয়ার করেছি বন্ধুর সাথে। তখনই তার মুখে শুনতাম হবু ব্যবসার স্বপ্নীল কাহিনী। অফিস এবং সাথে সাজানো গোছানো একটা রুম। পুরনো মদের কালেকশন এবং যৌবনা নারী। কাজ আর আনন্দে কেটে যাবে জীবন। কোন কিছুই বাদ রাখেনি স্বপ্নপূরীর সে অফিস হতে। খুব দ্রুত পরিচয় করিয়ে দিল সখের মদ কালেকশনের সাথে। অন্তরঙ্গ মুহুর্তে নতুন করে পরিচয় হল একটু আগে দেখা মেয়েটার সাথে। তার রক্ষিতা। খুব উঁচু পরিবারের কেউ না হলেও ট্রেনিং দিয়ে তাকে উঁচুতে উঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক মনোরঞ্জন তার মূল পেশা। তবে সবকিছুই হয় বিদেশে। থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশে তার যাতায়াত। লাভের অংক আশাতীত হওয়ার পরই কেবল উপঢৌকন হিসাবে কদিনের জন্য ছেড়ে দেয়া হয় ক্লায়েন্টের হাতে। শর্ত একটাই, দেশের বাইরে। দু দুটা অসফল বিয়ের পর বন্ধু এখন একা। মনে হল এ নিয়ে খুশির অন্ত নেই তার। যৌন মিলনের ঝাঁপিটা খোলার আগেই থামাতে হল তাকে। ব্যবসা প্রসঙ্গ আসতে বদলে গেল সবকিছু। তালিকাটা লম্বা। যোগ বিয়োগ শেষে যা বুঝাতে চাইল তার পরিমান মাসিক ২ হতে ৩ কোটি টাকা নীট মুনাফা। এলাকায় অনেককে পালন করতে হয়, তাই লাভের অংশ এতটা ’কম’। দুয়েকজন কমন বন্ধুর তুলনা দিয়ে জানাল তাদের মাসিক আয় ১০-১৫ কোটির উপরে। দুয়েকটা উপরওয়ালার নাম চাইলে বন্ধু সজাগ হয়ে গেল এবং কৌশলে এড়িয়ে গেল। অবশ্য না বললেও আমি জানি তাদের। কারণ তার বাবার মুখেই শুনেছি কারও কারও নাম। বন্ধু তার পুরানো আক্ষেপটা নতুন করে প্রকাশ করল। আমি দেশে থাকলে তার আয় রোজগার নাকি দশ গুনা বাড়ানো সম্ভব ছিল। মগজ এবং কানেকশনের সমাহার অনেক কিছু বদলে দেয় বাংলাদেশে, চাইলে আমরা দুজনে হতে পারতাম তার চমৎকার উদাহরন। এসব কথাবার্তায় কোন চমক ছিলনা আমার জন্য। টাকা পয়সা আর বিত্ত বৈভবের গল্প বেশিক্ষন শোনা যায়না। বিরক্ত লাগে। এক সময় ক্রোধ এসে জড়ো হতে থাকে। কক্সবাজার ঘুরে আসার প্রস্তাবটা বন্ধুই দিল। পুরানো স্মৃতি রোমন্থন নাকি আসল উদ্দেশ্য। সময় এবং ট্রাফিক জ্যামের কারণ দেখিয়ে এড়াতে চাইলে হো হো করে হেসে উঠল। একটু অবাক হলাম তার অপ্রাসঙ্গিক হাসির জন্য। উওরে জানাল ট্রাফিক কোন সমস্যা নয়, আমরা হেলিকপ্টার ভাড়ায় নিয়ে যাবো। কেবল তখনই কিছুটা হলে আন্দাজ করতে পারলাম বন্ধুর সম্পদের পরিমান। নিউজিল্যান্ডের রটোরোয়া বলে একটা হট স্প্রীং এলাকা আছে। হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা ওখানেই সেরে নিয়েছি জানাতে বন্ধু দমে গেল। রাতে একটা প্রাইভেট ক্লাবে আসার দাওয়াত দিল। অনেক সিনে ও টিভি তারকাদের খোলামেলা জীবনের সাথে চাইলে নাকি পরিচিত হওয়া যাবে। এসব আমার জন্য সব চাইতে অনাকাঙ্খিত উপাদান। তাই ধন্যবাদ জানিয়ে প্রত্যাখান করলাম। বিদায়টা খুব সুখকর হলনা। বন্ধু বুঝতে পারল আমি বিরক্ত হচ্ছি। খালাম্মার কথা জিজ্ঞেস করে অনেকটা গায়ের জোরে বিদায় নিলাম।

গুলসানের এ এলাকাটা খুব অপরিচিত লাগল আমার কাছে। বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট সবকিছু মনে হল এক একটা অর্থ কামানোর ফ্যাক্টরি। এক সময় জর্জের সাথে প্রতিটা রাস্তা চষে বেড়িয়েছি। অমাবশ্যা জোৎস্না রাতে গলির ধারের ট্রলি হতে ফুচকা খেয়েছি। মিটমিটে আলোর রেষ্টুরেন্ট হতে গরম গরম পরোটা ও ভাজি দিয়ে রাতের খাবার সেরেছি। আর্থিক কষ্ট নিয়ে দুজনের কেউই আমরা বড় হয়নি। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই সবকিছু শেয়ার করেছি। মাঝে মধ্যে রিক্সা ভাড়া নিয়ে দ্বিধায় পরেছি, তর্ক করেছি। আবার হাতে পয়সা এলে দুহাত উজার করে খরচ করেছি। কিন্তু এত বছর পর কোথায় যেন একটা ছন্দপতন অনুভব করলাম। আমার সব চাইতে কাছের বন্ধু এখন কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। এবং বয়স তার মাত্র ৪৩ বছর। রাজনীতি নামক ক্যান্সার সমাজের পরতে পরতে চষে বেড়ায় জানতাম, কিন্তু তা এত কাছে আসতে পারে কল্পনা করিনি। বন্ধুর নারায়ণগঞ্জ বাসার তিন তলার ছাদে কত রাত আমরা জোৎস্না দেখেছি, নির্জন শহর দেখার লোভে হাটতে বেরিয়েছি। কিছুই মেলাতে পারলাম না আজ। মনে হল রাজনীতি আসলে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ, যার ছোঁয়ায় রাতকে দিন আর দিনকে রাত করা যায়। আমেরিকার হিংস্র পশ্চিমে অখ্যাত শহরে আমার বাড়িটার কথা মনে পড়ল। রক্ত পানি করা কামানো অর্থের কিছুটা আগাম দিয়ে বাড়িটা কিনতে হয়েছে। বাকিটা শোধ করতে হয়ত আমার এক বছরের ছোট কন্যাকেও এক সময় হাল ধরতে হবে। কর্পোরেট আমেরিকার মাসে দুবার করে পে-চেকের অংকটার কথা মনে হতে দ্বিধায় পরে গেলাম। আমি কি তাহলে জীবন নামক দৌড়ে ব্যর্থ!

পাঠক, নির্বাচনী হলফনামা বলতে প্রার্থীদের যে আমলনামা বেরিয়েছিল তা পড়তে গিয়ে আপনার কি নিজেকে একবারও ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা বলে মনে হয়নি? ওরা রাজনীতির চাক হতে চুকচুক করে মধু লুটছে আর আপনি সে লোটায় উদ্বেলিত হয়ে তালি দিচ্ছেন, একবারও কি এরকম কিছু মনে হয়নি? স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের চেতনা, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, কাদির মোল্লা, খালেদা জিয়ার জন্মদিন, ফাঁসি - এসব কথন একবারও কি মনে হয়নি বাংলাদেশ নামক দেশটাকে নেংটা করার সিসিম ফাঁক মন্ত্র মাত্র? পড়ে থাকলে মনে আছে কি আলীবাবা চল্লিশ চোরের সে গল্প? আমার কিন্তু মনে আছে। কারণ আমার বন্ধু জর্জদের বাসায় আমি দেখেছি চেতনা বিকাশের এসব সৈনিকদের তৎপরতা। ১৫ই আগষ্ট ওদের বাসায় রান্না বন্ধ থাকে। ২১শে ফেব্রুয়ারী কেটে যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে। ১৬ই ডিসেম্বর আসে মহোৎসবের প্রলয় নিয়ে, দলবেঁধে ছুটে যায় জাতীয় শহীদ মিনারে। ওরা রাজাকার নিধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, খালেদা জিয়া উৎখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আবার ১লা বৈশাখের সকাল কাটে পানি পান্তায়। কিন্তু দিনশেষ ওদের কুলায় ফিরতে হয়। এবং নামতে হয় বিরামহীন ধান্ধায়। এ ধান্ধা যেনতেন ধান্ধা নয়, দেশকে উলংগ করার ধান্ধা, ধর্ষনের ধান্ধা। তেতাল্লিশ বছর বয়সে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনতে চাইলে বাংলাদেশে রাস্তা একটাই, চেতনার পাইকারি ব্যবসা। বাকি সব ধাপ্পাবাজি, ধোকাঁবাজি, চাপাবাজি, ছলচাতুরি, ফটকাবাজি ।

Comments

হ ল ফ না মা: এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী

গুলশানের বহুতল ভবনের উল্লেখ নেই

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী সরকারদলীয় সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী হলফনামায় গুলশানে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটির উল্লেখ করেননি। নকশা অনুমোদন হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই তিনি ওই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছ থেকে নিকুঞ্জে পাওয়া তিন কাঠার প্লট বেআইনিভাবে পাঁচ কাঠা নয় ছটাক ১০ বর্গফুট করান। এ জন্য ফজলে করিম চৌধুরী জমির দাম দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৯ টাকা। যদিও বাড়তি জমির বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যই হলফনামায় নেই। যোগাযোগ করা হলে ফজলে করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িটির নির্মাণকাজ যখন শেষ হবে, তখন হিসাব দেওয়া হবে। আগে দেওয়ার কী আছে?

হলফনামায় যা আছে: হলফনামা অনুসারে ফজলে করিম চৌধুরীর আড়াই কোটি টাকার চা-বাগান ও মৎস্য খামার রয়েছে। আর অকৃষি জমি আছে এক কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকার। ২০০৮ সালে দেওয়া হলফনামায় এর কোনো উল্লেখই ছিল না। ওই সময়ের হলফনামায় ফজলে করিম চৌধুরীর যৌথ মালিকানায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের পৈতৃক দ্বিতল আবাসিক ভবনের উল্লেখ ছিল। এবারের হলফনামায় ওই ভবন ছাড়াও রাউজানের গহিরায় এফ কে টাওয়ারের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মূল্য ৯৫ লাখ ২৮৬ টাকা।

পাঁচ বছর আগের হলফনামা অনুযায়ী ফজলে করিমের দুটি মোটরগাড়ি আছে, যার মূল্য ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর এবার দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অকৃষি জমি আগে ছিল নিজ নামে ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৫ টাকার, এবার একই পরিমাণ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯০ টাকা। ফজলে করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারের সব মিলিয়ে সাত-আট কোটি টাকার বেশি সম্পদ হবে না। কেন শুধু শুধু আমাদের ওপর লাগছেন? আমি যা করেছি, সব বৈধভাবে করেছি। আমি কোনো অন্যায় করিনি।’

গুলশানের বহুতল ভবন: ফজলে করিম চৌধুরী গুলশান লেকের ধারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নকশা অনুমোদনের আগে প্রভাব খাটিয়ে তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। রাজউকের গুলশান এলাকার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওই ভবনটির নকশা অনুমোদন হয় গত আগস্টে। অনুমোদনের আগে কাজ শুরু করায় ফজলে করিম চৌধুরীর কাছ থেকে জরিমানা হিসেবে ১১ গুণ বেশি হারে অনুমোদন ফি নেওয়া হয়। ফজলে করিম এ বিষয়ে বলেন, নকশা অনুমোদনের আগে নির্মাণকাজ শুরু করেননি। তাহলে ১১ গুণ জরিমানা নেওয়া হলো কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নেওয়া হয়েছে নাকি, আমি তো জানি না।’ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের পর এখন চারতলার কাজ চলছে। নির্মাণ শ্রমিকেরা বলেন, এখানে দশতলা ভবন তৈরি হবে। যদিও সেখানে সাততলার নকশা অনুমোদন করা হয়েছে।

বাজারমূল্যে বিক্রি হয়নি: বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়ম করা হয়েছিল, অন্য কোনো আবাসিক প্রকল্প থেকে গুলশান-বনানীর মতো এলাকায় প্লট পরিবর্তন করতে হলে অতিরিক্ত জমি কিনতে হবে বাজারমূল্যে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে (ডেভেলপার) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশানে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫৭ কাঠা জমির ন্যূনতম দর হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। কিন্তু ফজলে করিমকে পুরো প্লটের জন্য দিতে হয়েছে মাত্র ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৯ টাকা। প্রতি কাঠা ১০ লাখ টাকা হিসাবে। ফজলে করিম এ বিষয়ে বলেন, গুলশানে প্লটের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে আবেদন করেছিলেন। সে আবেদনে প্লট পাননি। তবে নিকুঞ্জে প্লট পেলেও তিনি প্লট পরিবর্তনের চিঠিতে গুলশানের জন্য আবেদন করেছিলেন। গুলশানে প্লট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি। তাই বাড়তি টাকা দেওয়ার কথা নয়।

রাজউকের খরচে উন্নয়ন: ফজলে করিমের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য রাজউক প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে একটি পাকা রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। সেখানে রাজউকের নিজস্ব স্টিমরোলার ব্যবহার হয়েছে। লেকপাড় না ভাঙার জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরিতে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ফজলে করিম চৌধুরী তাঁর প্লটের সামনের খালি জায়গায় বোটক্লাব (নৌকা ভ্রমণের জন্য) ও লেকের ধারে শান বাঁধানো ঘাট চেয়েছেন। ফজলে করিম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি না বললেও এগুলো হবে। কারণ গুলশান লেক উন্নয়ন প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যানে তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে এসব স্থাপনার উল্লেখ আছে। তবে গুলশান-বারিধারা-বনানী লেক উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক কোম্পানি ভিত্তি স্থপতিদের প্রধান ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফজলে করিম চৌধুরী তাঁর বাড়ির সামনে আলাদা স্থাপনা যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় আমরা রাজি হতে পারছি না বলে জানিয়েছি।’
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/112039/%E0%A6%97%E0%A7%81%...

স্বর্ণ ছিল ১০ ভরি হয়েছে ৮৭০ ভরি

মাসুদ রানা, গাজীপুর | আপডেট: ০২:২৭, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৩ |

সাংসদ জাহিদ আহসানগাজীপুর ও টঙ্গী নিয়ে গাজীপুর-২ আসন। এই আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান ওরফে রাসেল। ওই আসনে অন্য প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। নির্মমভাবে খুন হওয়া সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন তিনি। বাবার আসনে সাংসদ হওয়া জাহিদ আহসান গত পাঁচ বছরে নিজে ৫০৮ ভরি স্বর্ণ উপহার পেয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী পেয়েছেন ৩৬২ ভরি স্বর্ণ। নগদ অর্থে যার বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। অথচ ২০০৮ সালে তাঁর নিজের স্বর্ণ ছিল মাত্র ১০ ভরি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

জাহিদ আহসান প্রথম আলোকে বলেন, বিয়েতে প্রায় সাত-আট হাজার মেহমান দাওয়াত করা হয়েছিল। সাংসদ হওয়ায় দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাংসদ ও মন্ত্রীরা তাঁর দাওয়াতে অংশগ্রহণ করেছেন। এত লোকের আয়োজন থেকে স্বর্ণগুলো বিয়ের মেহমান আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই এসেছে।
জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছরে জাহিদ আহসানের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। ৮৭০ ভরি স্বর্ণ ছাড়াও একই সময়ে তিনি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ড ক্লুজার জিপের মালিক হয়েছেন। তাঁর রয়েছে আরও একটি জিপ, যার মূল্য দেখান দুই কোটি এক লাখ ৫ হাজার ৪৯০ টাকা। এই জিপটি ২০০৮ সালে হলফমানায়ও উল্লেখ ছিল। তবে গাড়িটি তিনি নিজে ব্যবহার করেন না বলে জানা গেছে। জাহিদ আহসান প্রথম আলোকে বলেন, গাড়ি দুটির মধ্যে ল্যান্ড ক্লুজার গাড়িটি তিনি নিজেই ব্যবহার করেন। আর দুই কোটি মূল্যের জিপটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি, সেটি তার কাছে নেই। তবে কোথায় আছে, সেটি তিনি বলতে চাননি।

জাহিদ আহসানের নগদ টাকা রয়েছে আট লাখ ৫৫ হাজার, ব্যাংকে জমা এক লাখ ৭০ হাজার, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ চার লাখ ৮৩ হাজার ১৬৪ টাকা। আর স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে তিন হাজার ৩০৫ টাকা ও কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। জাহিদ আহসানের স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে উত্তরা তৃতীয় পর্বের ১৬ নম্বর সেক্টরে ১৭ নম্বর প্লট। কত কাঠার তা উল্লেখ নেই। প্লটের কিস্তি বাবদ জমা দিয়েছেন ২৩ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর নগদ অর্থ ছিল মাত্র ১৫ হাজার। ব্যাংকে জমা ছিল ৭০ হাজার। তবে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ছিল না। ২০০৮ সালে জাহিদ আহসান আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে সুদহীন ঋণ নিয়েছিলেন দুই কোটি এক লাখ। ২০১৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/112042/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%...

সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জাতীয়

সম্পদের পাহাড় গড়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপরা

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাহী ক্ষমতা না পেয়েও সম্পদ অর্জনে রেকর্ড গড়েছেন নবম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদসহ সব হুইপ। হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) সম্পদ অর্জনের পরিমাণ প্রভাবশালী মন্ত্রীদের থেকেও ছাড়িয়ে গেছে। দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া এসব প্রার্থীর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এসব চিত্রই ফুটে ওঠেছে। তবে ইসিতে দেখানো সম্পদ ছাড়াও আরো বহুগুণ সম্পদ ও আয় গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দাবি করেছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্পদ অর্জনকে টেক্কা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপরা। যেখানে মন্ত্রীদের গড়ে সম্পদ বেড়েছে ২৪৭ ভাগ, সেখানে প্রতিমন্ত্রীদের বেড়েছে ৪৫৯ ভাগ। আর চিফ হুইপ ও হুইপদের গড়ে সম্পদ বেড়েছে ১ হাজার ৬৮৯ ভাগ। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আংশিক) আসনে পঞ্চমবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসা সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের গত ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ৩ গুণ। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে চিফ হুইপ দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে তা ফুলেফেঁপে ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, কৃষি, শেয়ার, নিজ নামে ২৫ ভরি ও স্ত্রীর নামে ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। গত নির্বাচনের আগে তার নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৫ টাকা। এবার তা এসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায়। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আগে কোনো টাকা না থাকলেও এবার আছে নগদ ৪ লাখ টাকা। নিজ মালিকানার সম্পদের মধ্যে রয়েছে কৃষিজমির পরিমাণ ৫ দশমিক ৭ একর, যার মূল্য ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। চা বাগান, রাবার বাগান, মৎস্য খামার আগে না থাকলেও এবার ৯ একর জমিতে এসব করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজ নামে ঢাকায় ৫ কাঠা প্লট, যার মূল্য ১৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা। শেয়ার ও বন্ডে নিজের নামে আগে ২ লাখ ৮৯ হাজার থাকলেও স্ত্রীর নামে ছিল না। এবার নিজ নামে ১ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৮ টাকা রয়েছে।
সম্পদ অর্জনের দিক থেকে সবার ওপর স্থান করে নিয়েছেন হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন। তার আয় বেড়েছে ২৩৬ গুণ। নিট সম্পদের পরিমাণ ৪১ কোটি ৬৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৭ টাকা। ২০০৮ সালে তার একমাত্র আয় ছিল ব্যবসা থেকে। বছরে তিনি আয় করতেন ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। আর নির্ভরশীলদের আয় শূন্য থেকে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৪ টাকা। নিজের অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১১৮ গুণ, স্ত্রীর ৩৩ গুণ। এবার কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ও নির্ভরশীলদের আয় ২১ হাজার টাকা। মাছের ঘের ও স্টক ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯১ হাজার ৬১৮ টাকা ও নির্ভরশীলদের একই খাত থেকে আয় ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিবহন, কনস্ট্রাকশন, ফিলিং ও হারবার সার্ভিস লিমিটেড থেকে তার আয় রয়েছে। পাঁচ বছর আগে তার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ২৩ হাজার ২৯৭ টাকা ও স্ত্রীর হিসাবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯২৯ টাকা থাকলেও এবার নিজের ব্যাংক হিসাবে ২৩১ গুণ বেড়ে হয়েছে ৫৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২১ টাকা ৩৬ পয়সা ও স্ত্রীর হিসাবে ২৭ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৫ টাকা ২৯ পয়সা। এ ছাড়া তিনি মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছেন ২০ কোটি টাকা। তার ব্যবসায় আছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৬৬৩ টাকা। আগে ছিল যথাক্রমে ২০ হাজার ও ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিএসপি ও এফডিআর খাতে আগে কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও এবার স্ত্রীর নামে আছে ২ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ৫৬১ টাকা। নিজ নামে কৃষিজমি ৬ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৮ টাকার। অকৃষি জমি নিজ নামে ৭৯ লাখ ৫২ হাজার ৯১০ টাকার ও স্ত্রীর নামে ৩৩ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টাকার। এ ছাড়া নিজ নামে ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬৮ টাকায় তিন কাঠা জমির ওপর একটি দালান রয়েছে তার। ২০০৮ সালে তার কৃষিজমি ছিল মাত্র ৭৬ হাজার টাকার।
হুইপ আ স ম ফিরোজের অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে বহুগুণে। ২০০৮ সালে ব্যংক হিসাবসহ তার টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৬৪ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৬০ হাজার ৯৪৫ টাকা। এ ছাড়া গত নির্বাচনের আগে তার মালিকানাধীন গাড়ির বিবরণ অনুযায়ী সম্পত্তির মূল্য ছিল ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৯ টাকায়। ২০০৮ সালে স্ত্রীর নামে কোনো নগদ টাকা না থাকলেও বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক হিসাবসহ ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে ৪০ ভরি স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র রয়েছে। রয়েছে ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট। তবে তার স্থাবর সম্পত্তি কমেছে বলে হলফনামায় দেখিয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে আ স ম ফিরোজের কৃষিজমি ও অকৃষি জমির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৩২ একর ও ১০ কাঠা বললেও এখন তা ১০ কাঠা ও ৮ কাঠা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের আরেক হুইপ জামালপুর-৩ আসনের এমপি মির্জা আজমের বর্তমানে নগদ অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ টাকা। ব্যাংকে আছে ১৫ লাখ টাকা। অথচ ২০০৮ সালে তার স্ত্রীর কোনো নগদ টাকা ছিল না। ব্যাংকেও কোনো টাকা ছিল না। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে স্ত্রীর নামে চার একর জমির মূল্য ৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। মির্জা আজম ও তার স্ত্রীর ২০০৮ সালে সব মিলিয়ে মোট সম্পদ ছিল এক কোটি ৯১ লাখ টাকার। আর এখন সেই সম্পদ বহুগুণ বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার।
যশোর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ শেখ আবদুল ওহাব রীতিমত আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে তার সম্পদের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে তার ও তার স্ত্রীর মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৬৪ টাকা। অথচ গত পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দেয়া তার হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মোট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার ১২৬ টাকা। সে হিসেবে গত পাঁচ বছরে তার ও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৫০ গুণ। এ ছাড়া তার হাতে নগদ টাকা দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর হাতে নগদ টাকার পরিমাণ রয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকে নিজ নামে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫৯ টাকা জমা। ২৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি, নিজ নামে ৭ ভরি ও স্ত্রীর নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ উল্লেখ রয়েছে। নিজ নামে রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের টিভি, ৩টি ফ্রিজ ও কম্পিউটার। স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিকস সামগ্রী। স্থাবর সম্পতিতে নিজ নামে ৩ দশমিক ৬২ একর, স্ত্রীর নামে ৪৭ শতক ও নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে ৫৪ শতক কৃষি ও অকৃষি জমি দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া নিজ নামে ১০ কাঠা ও স্ত্রীর নামে ১০ শতক জমি রয়েছে।
জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও নির্বাচনকালীন সরকারের রেলপথ ও ধর্মমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৭৭ লাখ এক হাজার ১৯৫ টাকার একটি গাড়ি আছে। পাঁচ বছর আগে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার টাকার গাড়ি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ৫৯২ টাকার দুটি দালান রয়েছে। আগে ছিল ২১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকার একটি দালান। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকা দামের ১০ কাঠার একটি রাজউক প্লট রয়েছে। মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। হুইপ ও মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক পেয়েছেন ২২ লাখ ২০ হাজার ৮০২ টাকা। পাঁচ বছর আগে আইনি পরামর্শক হিসেবে ৩ লাখ টাকা আয় করেছিলেন।
http://www.amaderrshomoy.com/content/2013/12/31/middle0327.htm

খালেদাকে ভারত চায় না, তাই

খালেদাকে ভারত চায় না, তাই বিপুল অর্থ নিয়ে মাঠে ‘র’
মিনা ফারাহ
**********************
সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন একমাত্র আসমানি হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কেউই টলাতে পারবে না। এথেন্স আদালতে সক্রেটিসের শেষ বক্তব্য নিয়ে প্লেটোর লেখা ‘অ্যাপোলজি’ বইটি অনেকেরই পড়া। সেই সূত্রেই লেখাটি।
সক্রেটিসের চেয়ে জ্ঞানী কেউ নেই, গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর এমন বক্তব্যের পর, দেবতাকে ভুল প্রমাণ করতে প্রথমেই বেছে নিলেন একজন জ্ঞানী রাজনীতিবিদ।
এরপর সক্রেটিস বললেন সেই কথাটি, ‘এবার আমি জানি, আমিই জ্ঞানী, কারণ আমি অন্তত একটি কথা জানি যে, আমি আসলেই কিছু জানি না। আর ওই রাজনীতিবিদ মনে করেন সব জানেন, কিন্তু তিনি জানেন না যে, আসলেই তিনি কিছু জানেন না।’
জ্ঞানের ফেরিওয়ালাদের জন্য এটাই যথেষ্ট সত্ত্বেও সক্রেটিসের ২৪০০ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত পণ্ডিতের জন্ম হয়েছে, যাদের অবাধ্য জিহ্বার কারণেই মহা-অরাজক। অশ্লীল বাক্যবানে শ্লীলতা হারিয়েছে রাজনীতির ভাষা। এরা জানে না এমন কিছু পৃথিবীতে নেই কিংবা সম্ভবও না।
এদের অপরিসীম বুদ্ধি জোর করে ঢুকিয়ে দেয়ায় জাতির মনোজগতে অভাবনীয় খরা এবং নৈতিকতা প্রায় ধূলিসাৎ। উগ্র রাজনীতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে গেছে সমাজ, ধর্ম, রাজনীতিতে। মাকে খুন করছে সন্তান, ভাতিজাকে খুন করছে চাচা, স্বামীকে বিশ্বাস করছে না স্ত্রী। এসবই রাজনীতিবিদদের সৃষ্টি।
‘অনির্বাচিত আর নয়’ অজুহাতে হঠাৎ একদিন জোর করে চাপিয়ে দিলো সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতেই সংশোধনী, কথাটি জাতিকে কত হাজারবার শুনিয়েছেন হাসিনা? আর তিনিই এখন প্রায় পাঁচ কোটি ভোট বাইরে রেখে নির্বাচিত!
বিশ্বাস করি না, জেনেশুনে কাজটি করা হয়নি। বিদেশী পত্রিকা ধাপে ধাপে তার পরিকল্পিত অভ্যুত্থানের প্রশ্ন তুলছে। সব জানার বিপদ কি বুঝিয়ে বলতে হবে? মানুষ রার অজুহাতে সংবিধান সংশোধন মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ‘যে নিজেই জানে না, জোর করলেও কাউকে শেখাতে পারবে না’, ২৪০০ বছর আগে বলেছেন পণ্ডিত সক্রেটিস।
৪৩ বছর পর সাড়ে সাত কোটি মানুষ ১৬ কোটি হলেও, আমরা কি ’৪৭-পূর্ববর্তী অভিভক্ত বাংলার বাঙালি নাকি ’৭১-পরবর্তী বাংলাদেশী… আজ পর্যন্ত মীমাংসা করিনি। যেমন করিনি পিণ্ডিমুক্ত হয়ে আমরা দিল্লির সারোগেট স্টেট কি না। ৩০ লাখ নাকি ৩০ হাজার শহীদ? ১৬ ডিসেম্বর নাকি ২৬ মার্চ? আজ পর্যন্ত বলেনি ১৯৫ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিনা বিচারে কেন ছেড়ে দেয়া হলো! চার দিকে আগুন আর খুন অথচ সরকারের ড্যামকেয়ার। ৪৩ বছর ধরেই জ্ঞানীদের পেছনে দৌড়াচ্ছি, যাদের বুদ্ধির ঝোলা ফাঁকা। আর এদের কারণেই জাতির মনোজগতের অবস্থান সর্বনিম্নে। টপ-টু-বটম বেশির ভাগেরই ওয়ার্ড কমিশনারের যোগ্যতা নেই সত্ত্বেও এরাই ১৬ কোটি মানুষের আইনপ্রণেতা এবং নীতিনির্ধারক হওয়ায় আমরা এই আস্তাকুঁড়ে।
২.
কাদের মোল্লার ফাঁসিতে স্তম্ভিত নই, বরং প্রক্রিয়ায়। মৃত্যুর কোনো মূল্য দেয়া সম্ভব নয়, তা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট দিন টার্গেট করে আত্মার মূল্য নির্ধারণ করল পণ্ডিতজীবীরা। গর্বিত প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন ১৪ ডিসেম্বরের আগে ফাঁসি দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা।
এতে একপ খুশি, কিন্তু সার্বিক যন্ত্রণা তুঙ্গে। ফাঁসির আসামিরা ১০-২০ বছর জেলে থাকলেও এই ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এমন সব প্রভু মহলে যারা আমাদের খাওয়ায়-পরায়। সুতরাং এহেন স্বৈরাচারী আচরণে বিদেশীরা নাক গলাবেই।
ভাত-কাপড় তো এরাই দেয়। রিজার্ভের ১৮ বিলিয়ন ডলার গোপালগঞ্জের অভ্যন্তরীণ জিডিপি থেকে এসেছে মনে করা ভুল। অসুস্থ মাথা এসব ঘাটায় না। মোল্লার লাশ নিয়ে ১৫ আগস্টের গোপনীয়তায় সন্দেহ, এখন তো ডালিম-রশিদেরা নেই, তাহলে?
অর্থাৎ অতি উত্তেজিত রাজনৈতিক জিঘাংসাই পশুবৃত্তিকে চরমপর্যায়ে উসকে দিয়েছে। মাংসের মতো কুপিয়ে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব পশুবৃত্তি দেখে শিউরে উঠেছি। হাজার হাজার জীবন দিয়ে প্রমাণ করছি সবজান্তাদের না জানার বোঝা কত বিপজ্জনক। এখন তো ডালিম-রশিদদেরা নেই তাহলে ১৫ আগস্টের পর মুজিবের লাশ নিয়ে একই নাটক, আমরা কি বুঝতে কিছু ভুল করছি?
সুতরাং লাশের অধিকার প্রশ্নে, মোল্লা পরিবারের প্রতি সমবেদনায় মুখরিত বিশ্ব। এই ভার সামাল দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। একই দিনে এরশাদকে গ্রেফতার করে সরকারের পোর্টফলিওর ওরা নির্বাচন আদায় করে প্রমাণ করল এদের সাথে মুক্তিপণ সন্ত্রাসীদের পার্থক্য নেই। আমরা চীন বা উত্তর কোরিয়া না হয়েও মানবাধিকার হরণে ওদের সাথে পাল্লা দিয়েছি। মনে হচ্ছে সরকার যেন সবাইকে ফাঁসির মঞ্চে একসাথে বেঁধে ক্রমাগত বোতাম টিপছে।
৩.
প্রশ্ন, দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কি না! বারবারই হত্যার অভিযোগ করছে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যে কারণে মোবারক মুরসির বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, একই কারণ বাংলাদেশে ঘটলেও ব্যতিক্রমের কারণ তিনটি।
এক. সস্তা শ্রম অর্থাৎ সর্বনিম্ন মূল্যে শ্রমের জন্য না হলে পশ্চিমারা হয়তো অনেক আগেই অ্যাকশনে যেত। হয়তো অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও দিত। কিন্তু তা করলে ওয়ালস্ট্রিটের তি হতে পারে। এক ডলার খরচ করে ৬০ ডলারে বিক্রি অর্থাৎ লাভের হার ১:৬০ কিংবা বেশি। এত সস্তা শ্রম একমাত্র বাংলাদেশেই। ২২ বিলিয়ন খরচ করে প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন (৫০০ বিলিয়ন) আয় অর্থাৎ চারটি বাংলাদেশের অর্থনীতির সমান অর্থ তুলে নেয়। গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৪০ বিলিয়ন ডলারের কম।
দুই. পুঁজিবাদীদের সঙ্ঘাত অর্থাৎ প্রণব মুখার্জিদের কারণে অ্যাকশনে যেতে পারছে না পশ্চিমারা। যেমন করে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে না পারার কারণ রাশিয়া। রাশিয়ার স্বার্থ, ভেটো পাওয়ারের বদলে সিরিয়ার সস্তা তেল। ভারতের স্বার্থ অবিভক্ত বাংলা পুনরুদ্ধার।
তিন. পণ্ডিতজীবীদের কণ্ঠে দিল্লির প্রতিধ্বনি। মিলিয়ে দেখুন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সাথে সুজাতা সিংয়ের বক্তব্য এক কি না। সাম্রাজ্যবাদী ইন্দিরা আদর্শের দাদারা অবিভক্ত বাংলা কায়েম করতে আদাজল খেয়ে মাঠে। ইতোমধ্যে সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ।
সুতরাং আমাদের সঙ্কট বহুমাত্রিক। আমাদের ক্যান্সারও খুব আপত্তিকর জায়গায়। পশ্চিমারা যতণ পর্যন্ত সস্তায় ফসল তুলবে ততণ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী সরকারদের তোয়াজ করবে। যতণ পর্যন্ত অ্যাকশনে না গিয়ে সংলাপের কথা বলবে, ততণ পর্যন্ত বুঝতে হবে তারা নিজের স্বার্থই দেখছে। হেফাজত কিংবা বিডিআর হত্যাকাণ্ড… পাঁচ বছরের যত অপরাধ, প্রথম ১০টি বেছে নিলেই হাসিনার অবস্থান চার্লস টেলর কিংবা মুরসির কাতারে না হওয়ার কারণ নেই। নথিপত্রে নিরস্ত্র মানুষ হত্যার প্রমাণ দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এর পরও একনায়কত্বের কাছে আত্মসমর্পণে ’৭১কে বরং রক্তশূন্যই মনে হয়। ফিরতে হয় সক্রেটিসের কাছে, ‘…মিথ্যা কথাগুলো এমন সুন্দর করে বলে যে, সহসাই আমিও সত্য মনে করে ভুল করি।’
৪.
৯ মাস যুদ্ধ করে এমন এক দেশ পেলাম, যেখানে মই বেয়ে উঠে করাত দিয়ে গ্রিল কেটে বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করে পণ্ডিতজীবীদের দল। পণ্ডিত ওবায়দুল কাদের বললেন, রাজি হলেই শীর্ষ নেতাদের মুক্তি। আমরা কি চীন নাকি উত্তর কোরিয়া যে, বন্দী রেখে আদায় করতে হবে? এদের কারণেই উচ্চতার মই বেয়ে নিচের দিকে নামছে বাংলাদেশ। তালেবান ছাড়াই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
যারা সন্ত্রাসের অভিযোগ করছে আদৌ তারা শব্দটির অর্থ বোঝে না! আন্দোলন ছাড়া কোনো দাবিই আদায় হয় না। শুরুতে ক্যাস্ট্রোর সহায়তায় ম্যান্ডেলাও ছিলেন ভয়ঙ্কর সশস্ত্র গেরিলা যোদ্ধা যিনি বাংকারে থেকে সংগ্রাম করলে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিলো শ্বেতাঙ্গ সরকার। বিচারককে বলেছিলেন, তোমরা যাকে সন্ত্রাস বলো আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার বিনিময়ে মরতে রাজি। সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কাতারে ফেলে বহির্বিশ্বকে জানান দিতে পণ্ডিতদের আঙুল ১৮ দলের দিকে।
তবে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশেও সন্ত্রাস শব্দটি বিনির্মাণ না করার কারণ নেই। মাত্র ২০০৮ সালে ম্যান্ডেলাকে সন্ত্রাসী তালিকামুক্ত করল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে সরকারের জঙ্গি আর সন্ত্রাসবাদ খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে না পশ্চিমে। জঙ্গিবাদের নামে হাজার হাজার হত্যাকাণ্ডে তুলকালাম পশ্চিমি মিডিয়া এবং মানবাধিকার সংগঠনে।
মহাপণ্ডিতদের হিসেবে খালেদা একজন খুনি, সন্ত্রাসী, রক্তপিপাসু গোলাপী, যার কাজ ঘরে বসে গরম স্যুপ আর মুরগির ঠ্যাং চিবিয়ে মানুষ হত্যার নির্দেশ দেয়া। দেখা যাক, খালেদার দোষ। বাস্তবতা বলে, ১৫তম সংশোধনীর অধীনে নির্বাচনে গেলে সব হারাবেন খালেদা, আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী থাকবেন হাসিনা। মোটাদাগে খালেদার এক দফা মানলে হাসিনার সর্বনাশ। খালেদাকে ভারত চায় না, এই কাজে বিপুল অর্থ নিয়ে মাঠে ‘র’।
ভারতীয় সৈন্য ফেরত দেয়ার অপরাধে ’৭২-এই মুজিবের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল ‘র’। আমরা শুধু বরফের মাথাটাই দেখছি, পুরো শরীর পানির তলে। বাংলাদেশের যা কিছু ঘটছে এবং ঘটবে দৃশ্যত সবই ভারতের অ্যাকশনে। বিরোধী দলকে রাস্তায় দাঁড়াতে পর্যন্ত দেয় না ৩৩০ দিন হরতাল করা সরকার, টকশোর মহাপণ্ডিতদের কাছে প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে অবরোধ ছাড়া খালেদার আর কী করণীয়? খালেদার সমান অত্যাচারিত হলে জনতার মঞ্চ করা আওয়ামী লীগ আর কী ধরনের অ্যাকশনে যেত, ভাবাও দুঃস্বপ্ন। এরাই ত্বকীর মঞ্চের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানকে মনোনয়ন দিয়ে জগৎ বিস্মিত করেছে।
সুতরাং দিল্লির সাম্রাজ্যবাদ রুখে দিতে বিরোধী দলকেই প্রত্য ও পরো সমর্থনের কারণে বিজয় আসবেই। খালেদার পকেটে ৯০ শতাংশ সমর্থন। আওয়ামী জনপ্রিয়তায় ধস নামায় বন্দুকের নল আর গণজাগরণ মঞ্চই ভরসা। অনেকেরই প্রশ্ন, ’৬৯-এর মতো কেউ রাস্তায় নামছে না কেন? খালেদার কি জনসমর্থন নেই? এর উত্তর, এরা ’৬৯-এর চেয়েও ভয়ঙ্কর স্বৈরাচার। তখন একটি লাশ পড়লে গর্জে উঠত মানুষ, এখন রীবাহিনীর মতো একাই গর্জন করে র‌্যাব, বুট, বুলেট।
মার্কিন পাপেট বাতিস্তা সরকার উৎখাতের সময় ক্যাস্ট্রোর সৈন্য কম থাকলেও জনসমর্থন ছিল প্রচুর। যার শিশুসুলভ আচরণে তারানকোকে ঢাকায় আসতে বাধ্য করা হলো, তার কী মতা দেশ চালায়! সক্রেটিসের কথা, ‘এই ব্যক্তি যিনি মনে করেন সব জানেন, কিন্তু তিনি জানেন না, আসলেই কিছু জানেন না।’
৫.
যদি প্রশ্ন তুলি, রাষ্ট্রপতি হয়ে মুজিব কোট পরা বেআইনি কি না, পেটখারাপের মতো ছুটবে মহাপণ্ডিত হানিফ, কামরুল, নাসিমদের অবাধ্য জিহ্বা। এরা জানে না এমন কিছু থাকলে অনুবীণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হবে। এদের জ্ঞানের বিশালতা গিনিস বুকের যোগ্য। শিশুশিক্ষায় পড়েছি, ‘আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।’ এখানে তিনটি শব্দ এক কাতারে, যেমন- ভালো, গুরুজন ও আদেশ। শিশুবয়সেই এসব চারা বুনে দিয়েছেন অভিভাবকেরা। অভিভাবক যারা পিতা-মাতা, যারা শিক্ষক, যারা রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি, যার দায়িত্ব দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান অভিভাবকসুলভ আচরণ।
কী দেখলাম? রাষ্ট্র যখন পুড়ছে, বার্ন ইউনিট যখন উপচে পড়ছে, ডাক্তাররা যখন চিৎকার করছে, রাষ্ট্রের অভিভাবক তখন সন্তানদেরকে অরতি অসহায় রেখে নিজের সুচিকিৎসার স্বার্থে বিশেষ বিমানে আবারো বিদেশ গেলেন। অল্প ব্যবধানে একবার ব্যাংকক আরেকবার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার যথেষ্ট যুক্তি না থাকার কারণ, অসুস্থতা এমন ভয়াবহ ছিল না যে জন্য দেশের চিকিৎসকেরা অম-অযোগ্য। তার মানে এই দাঁড়ায়, দেশের ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষ যাদের ওপর নির্ভরশীল, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা সেসব ডাক্তারের ওপর ন্যূনতম আস্থাও রাখেন না।
সুতরাং প্রতিবারই রাষ্ট্র এদের পেছনে বিপুল অর্থ জোগান দিতে বাধ্য। যে দিন সিঙ্গাপুরে গেলেন সে দিনও পোড়া মানুষদের চিৎকারে কাঁপছে বার্ন ইউনিট। রাস্তাঘাট জ্বলছে মিসরের মতো। বিকট আওয়াজে গর্জে উঠছে পুলিশের বুলেট। তবে সাথে করে যদি বার্ন ইউনিটের রোগীগুলোকেও নিয়ে যেতেন, বুঝতাম তিনি অভিভাবকের দায়িত্বই পালন করলেন। জীবন বড় সুন্দর জিনিস, সবাই বাঁচতে চায়। এখানে ছোট-বড়, প্রেসিডেন্ট-প্রজায় পার্থক্য নেই।
না। একবারও বার্ন ইউনিটে যাননি। বরং সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেই দক্ষিণ আফ্রিকা। এ দিকে একজন তারানকো যখন ভাঙা হাড় জোড়া দিতে দৌড়ঝাঁপ, তখন জানাজায় যাওয়া কতটা জরুরি! অভিভাবকদের এহেন দায়িত্বহীনতা ব্যয়বহুল পদটিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাষ্ট্রপতির কাজের সাথে ব্যয়ের সঙ্গতি নেই। এদের রেখে কী পায় জাতি! তবে কালো ম্যান্ডেলার জানাজায় শ্বেতাঙ্গদের বিপুল অংশগ্রহণে যদি দেশবাসীর জন্য সবাইকে নিয়ে রাজনীতির কিছু জ্ঞান এনে এই আগুনে শান্তির বৃষ্টি ঝরাতেন, বলতাম ঠিক করেছেন। বলা বাহুল্য, ম্যান্ডেলা বুঝেছিলেন, যাদের সাথে থাকতে হবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে সঙ্কট বাড়বে।
৬.
সমস্যা এই যে, সরকারের সব মতামতের সাথে সব পেশার সবাই সব সময় একবাক্যে একমত। যে অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হলো, সরকারকে সক্রেটিস বলেছিলেন, “একমাত্র ‘কেন’ প্রশ্নটি ঢুকিয়ে দেয়া ছাড়া যুবসমাজকে আমি কিছুই শেখাতে জানি না। আমি হচ্ছি সেই পোকা যে কামড় দিলে মানুষ জাগে।”
আমাদের ‘কেন’ প্রশ্নগুলো কোথায়? ‘কেন’ ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে ভোটারবিহীন নির্বাচন? …হাসিনাকেই ‘কেন’ ২০২১ সাল পর্যন্ত মতায় থাকতে হবে? …বিরোধী দলের অফিসের সামনে ‘কেন’ পুলিশি রাষ্ট্র? …বিতর্কিত খায়রুল হক আইন কমিশনার? ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত গুম করল ‘কেন’? …হলমার্কের সাথে জড়িত স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার হলো না? পদ্মা সেতু, সাগর-রুনি…?
আর কত র‌্যাব-পুলিশের নিপীড়ন! আর কত সংখ্যালঘু কার্ড! সরকারের শিশুসুলভ জেদ অব্যাহত থাকলে খেলনার মতো ভেঙেচুরে যাবে দেশ। যেকোনো কাজেই লাগে হোমওয়ার্ক। ৪০ বছরের শীতলযুদ্ধ শেষ করতে রোনাল্ড রিগ্যান বললেন, মি. গর্বাচেভ! ভেঙে ফেলুন ওই দেয়াল, বলেছিলেন, পূর্ব-পশ্চিম জার্মানির মধ্যে ২৬ বছরের বার্লিন দেয়ালটির কথা। সোভিয়েত সমাজতন্ত্র কফিনে পাঠাতে সে দিন রিগ্যানের হোমওয়ার্ক ছিল। নাৎসিদের বিতর্কিত বিচারের আগে মিত্র দেশগুলোর হোমওয়ার্ক ছিল। আফগানিস্তান আক্রমণের আগে হোমওয়ার্ক ছিল ক্যাপিটলহিলের, যার প্রমাণ ১২ বছর দেখছি। মানবতাবিরোধীদের মার আগে হোমওয়ার্ক ছিল ম্যান্ডেলার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি হোমওয়ার্কে বিশ্বাস করেন? করলে অনেক কিছুই উচিত সত্ত্বেও করতেন না, যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। করলেও অর্থনৈতিক যোগ্যতা এবং ঝুঁকির হোমওয়ার্ক করে স্বচ্ছ বিচার নাকি নির্বাচনমুখী বিচার! চাইলে বিশ্বযুদ্ধও করতে পারি, কিন্তু সেই মুরোদ কি আছে? আমরা ক্যাস্ট্রো কিংবা শ্যাভেজ, কোনোটাই হতে পারব না।
বাস্তবতা এই, ১৬ কোটি মানুষের সপ্তম জনবহুল দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি, সবচেয়ে বসবাসের অয্যোগ্য রাজধানীর নাম ঢাকা। দেশটির আয়তন ‘আইওয়া’ অঙ্গরাজ্যের সমান, কিন্তু বাস করে আমেরিকার অর্ধেক জনসংখ্যা। দৈনিক মাথাপিছু আয় দেড় ডলারের নিচে, রাজধানীর প্রায় ৪৮ ভাগ মানুষ বস্তিতে। অভ্যন্তরীণ কর্মজগতের বেশির ভাগই গায়েগতরে শ্রমিক। ৭৯ শতাংশ অর্থনীতিই গার্মেন্ট এবং বিদেশী রেমিট্যান্স নির্ভরশীল। সুতরাং পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ধ করে কোন গাধা! প্রায় এক কোটি মজুর বিদেশীদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল, ছুতো পেলেই শ্রমিক ছাঁটাই, ধরপাকড়, খুন। রহস্যজনক কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভিসা প্রায় বন্ধ।
জোর করে সবাইকে চেতনা খাওয়ানো যাবে না, প-বিপ তুলে সবার কাছে সব সময় সব কিছু আদায় করাও সম্ভব নয়। নিজের মতামত অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সাময়িক বিজয় সম্ভব, পরবর্তী সময়ে টেকসই নাও হতে পারে। ’৭১কে কেন্দ্র করে এখনো অনেক দেশেরই অ্যালার্জি। মুক্তিযুদ্ধ চায়নি চীন-আমেরিকা। এখনো সমর্থন করে কি না সন্দেহ। ধর্মনিরপেতার নামই শুনতে চায় না মধ্যপ্রাচ্যের প্রভুসমাজ। এদের চাপেই ১৯৫ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে মুক্ত করার গুজব। প্রায় ৬০ লাখ মজুর গার্মেন্ট শিল্পের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। মোটাদাগে প্রায় ১২ কোটি মানুষ প্রত্য ও পরোভাবে বিদেশী অর্থের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় অর্ধেক মানুষ কম শিতি কিংবা নিরর। বেকার সমাজ গড়ে তুলেছে ভয়ঙ্কর অপরাধ জগৎ। ইচ্ছে করেই ‘মাদক এপিডেমিক্স’ লুকিয়ে রেখেছে সরকার। মধ্যরাতের ভয়ঙ্কর ঢাকা নগরীর দৃশ্য দেখেছি। আসছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ১৬ কোটি মানুষের ঝুঁকি বিবেচনা ছাড়াই কেউ যখন অর্থনীতির চালকদের এই পর্যায়ে চটায়, যোগ্য-দ রাজনীতিবিদ বলা যাবে কি না!
প্রতিপরে লবি এবং টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতা সরকারের থাকলে শুরুতেই মোকাবেলা না করায় পরিস্থিতি এই পর্যায়ে গেছে। ফলে এই শক্তির মিত্ররা সরকারের শত্রু। স্কাইপ কেলেঙ্কারির পর আন্তর্জাতিক মহলের সন্দেহ বেড়েছে। মোটাদাগে, সমালোচকেরা মনে করছেন বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। আফগান-পাকিস্তানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, অর্থনৈতিক শক্তিগুলো কিভাবে কর্তৃত্ব করছে। প্রয়োজনে হাসিনাকে আশ্রয় দেবে ভারত কিন্তু গার্মেন্ট, রেমিটেন্স বন্ধ হলে গরিব মানুষ কী খাবে? ‘বাংলাদেশ এমন খাদে পড়বে যা তারা আগে কখনোই দেখেনি’ লিখেছেন, ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান, যিনি যুদ্ধাপরাধী চার্লস টেলরের অন্যতম আইনবিদ ও লবিস্ট।
ইতোমধ্যে ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোট ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টগুলোর। দুই বছরের অগ্রিম বেতনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিয়েছে বিজিএমইএ। এফবিসিসিআইয়ের মেরুদণ্ডহীন সভাপতি মাল মুহিতকে প্রথমে বললেন, আল্লাহর পরেই শেখ হাসিনা, তার পরেই জানালেন দুই হাজার কোটি টাকার আবদার। সুতরাং আমার সন্দেহ, এরাও হলমার্ক, ডেসটিনির মতোই বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে।
ইতোমধ্যে অনেকে বিপুল অর্থসহ পালিয়েও গেছে। স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টে আগুন রহস্যজনক না হলে, রানা প্লাজার এত মৃত্যুর পরও শুকনো চোখের এসব ‘নরাধম’ প্রধানমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে নিয়ে হাজার কোটি টাকার জন্য কান্নাকাটি করবে কেন? অর্থাৎ জেদ আর মুরোদে তালগোল পাকালে যা হয়। মূল কথা হাসিনার জেদে অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যারা হুজুগে নাচছে, রক্তশূন্য অর্থনীতির খবর রাখে না। রাখলে শাহবাগীদের অভ্যুত্থানের প্রশ্নই উঠত না।
৭.
বিশেষ বিমানে দণি আফ্রিকা কিংবা ম্যান্ডেলার জন্য তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোক করে লাভ নেই বরং উচিত তার আদর্শ অনুসরণ। কিন্তু সমাধানের একটিও ফর্মুলা ছাড়াই নিত্যনতুন যুদ্ধত্রে খুলছে সরকার, ফলে অর্থনীতি আরো ডুবছে। কে কার কথা শোনে? চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ ৭৮ জন রাষ্ট্রপ্রধান জানাজায় কেন গেল, শেখার কি কিছুই নেই! বিজয়ের ফর্মুলা ভিন্ন। বিজয়ীর চেহারাও ভিন্ন। ম্যান্ডেলার কথাই ধরা যাক।
১৯৯১ সাথে পশ্চিমে এসে ব্যাপক লবির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে বর্ণবিদ্বেষীদের পতন ঘটিয়েছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই অভূতপূর্ব মার দৃষ্টান্ত রেখে জাতিকে অনিবার্য গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে দিলেন ম্যান্ডেলা। ম্যান্ডেলার ফর্মুলার বিকল্প নেই। বহুমূত্র রোগীকে একই সাথে গ্লুকোজ আর ইনসুলিন চিকিৎসা দিলে হয় শকে, নয় শ্বাসকষ্টে মারা যাবে। পক্ষ-বিপক্ষের যুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধ রক্ষা হবে না। চেতনাও টিকবে না বেশি দিন। শ্বাসকষ্ট চলছে দেশের। ম্যান্ডেলাকে ২৭ বছর একটি প্রোকষ্ঠে বন্দী করে রাখল, পাথরকুচি করালো ২৭ বছর, দুই সন্তানের জানাজায় পর্যন্ত যেতে দেয়নি, কিন্তু ’৯৪ সালে সাধারণ ক্ষমা এবং তাদের নিয়েই সরকার গঠনের দৃষ্টান্ত থেকে আমাদেরও পক্ষ-বিপক্ষ যুদ্ধ বন্ধ না করার জায়গা নেই। অন্যথায় হত্যাকাণ্ড বাড়বে, সংখ্যালঘুরা হবে বলির পাঁঠা। নাৎসিদের বিচার আর দক্ষিণ আফ্রিকা বা বাংলাদেশের প্রোপট ভিন্ন।
ম্যান্ডেলার ফর্মুলা অনুযায়ী জামায়াত-শিবিরসহ সব দলকে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে কারণ এরা অন্য দেশে যাচ্ছে না। শিবসেনা, বিজেপি, হিন্দু মহাসভাকে নিয়েই ভারতের রাজনীতি। আইন, সংবিধান, ব্যক্তিগত কষ্ট, পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে ম্যান্ডেলা যা করেছেন, সুফল ভোগ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
১৩ বছর ধরে পক্ষ-বিপক্ষের যুদ্ধ ছাড়া আর কী করেছি? বুঝলাম, হাসিনাই ১০০ ভাগ ঠিক কিন্তু এভাবেই কি আগামীর ১০-২০ বছর চলবে? তাহলে স্বেচ্ছায় যে দায়িত্ব নিয়েছেন হাসিনা, ৯০ শতাংশের স্বার্থে ১০ শতাংশকে হয় মানতে হবে, নয় অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে হবে, কারণ এভাবে চলা সম্ভব নয়। সর্বস্তরের জিঘাংসা যেমন বেড়েছে, বাংলাদেশের অস্তিত্বও তেমনই হুমকির মুখে। বিচারের কারণ ম্যান্ডেলারই বেশি এবং গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি আমাদেরই বেশি কারণ আমাদের সংস্কৃতি, গায়ের রঙ, ধর্ম এক হলেও ওরা সাদা বনাম কালো।
বাইরের শত্রুর সাথে যুদ্ধ শেষ হয় কিন্তু ঘরের যুদ্ধ চলে অনন্তকাল। বুঝতে হবে যে, ম্যান্ডেলা সাদা-কালোদের মতো আমাদেরকেও সবাইকে নিয়েই বাস করতে হবে। এক ধর্ম, বর্ণ, ভাষার মানুষের মধ্যে আদর্শের যুদ্ধ আসলেই কোনো যুদ্ধ নয়। না মানলে ম্যান্ডেলার মতো দেশী-বিদেশী অর্থনৈতিক চাপে রেখেই পতন ঘটাতে হবে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জেদে সত্যি সত্যিই গৃহযুদ্ধ শুরু হলে, সেই দায়িত্ব গোটা জাতি বহন করবে না। আর কত লাশ পড়লে ‘চৈতন্য’ উদয় হবে? কবে দেখব বুদ্ধিজীবীদের অসহযোগ আন্দোলন!
[লেখক : নিউইয়র্ক প্রবাসী]
farahmina@gmail.com
এনসিএন : ৩২৯২৪
- See more at: http://www.sangbad24.net/?p=112832#sthash.gzh9njYT.l30PERu8.dpuf

ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখানো ও ব্যালট কেটে নৌকায় সিল মারার

ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখানো ও ব্যালট কেটে নৌকায় সিল মারার নির্দেশ!

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌসের বাসায় আয়োজিত ভুরিভোজে অংশ নিলেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওছখালী উত্তর সংলগ্ন ইটেরভাটা বাসায় রাজকীয় ওই ভোজের আয়োজন করেন প্রার্থী নিজেই। এমনকি ভোটকেন্দ্রে কম ভোটার আসতে পারে সেই আশঙ্কায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখানো এবং ব্যালট পেপার কেটে নৌকা মার্কায় সিল মারারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রার্থীর স্বামী। ভোজে অংশ নেন হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একহাজার ৪ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ২শ’ ৪ জন প্রধান শিক্ষক, ৮শ’ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। যারা আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অংশগ্রহণকারী প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ওছখালি সরকারি আলিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল উদ্দিন, গুল্লাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মনিরুজ্জামান দুলাল, চরকৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একে এম মানছুরুল হক, পশ্চিম চরকৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মায়া বেগম, হাতিয়া শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আমিরুল ইসলাম, মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. তোহা, চরলাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমরান হোসেন, উত্তর কোরালিয়া নবসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জবিউল হোসেন, চরলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, উত্তর চরলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল ওহাব প্রমুখ।
ভোজের আগে প্রার্থীর স্বামী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। তাই ভোটার উপস্থিতি শতকরা ৬০ ভাগ দেখাতে হবে।’ এসময় তিনি ব্যালট পেপার কেটে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়ারও আহ্বান জানান।
ভুড়িভোজে অংশ নেয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রার্থীর স্বামী মোহাম্মদ আলী এলাকায় প্রভাবশালী। তাকে সবাই ভয় পায়। তার বাড়িতে দাওয়াতে অংশ নিতে উপজেলার শিক্ষকদের তিনি ডেকেছেন। ভোট গ্রহণ বিষয়ে শিক্ষকদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতেই চাইলে কোনো শিক্ষক কথা বলতে রাজি হননি।

সরকারদলীয় প্রার্থীর বাড়িতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দুপুরের ভুড়িভোজের সত্যতা নিশ্চিত করে তমরুদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বাবু জানান, প্রার্থীর আহ্বানে তার বাড়িতে উপজেলার সহস্রাধিক শিক্ষক দুপুরের খাবার খেতে যান। এসব শিক্ষকই আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এটা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন ছাড়া কিছুই নয়। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) ও ভারপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার আবুল হাসানাত মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে জানান, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাড়িতে ভোজে অংশ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউএনও বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গ, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জারি করা নির্বাচনী আচরণ বিধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা (রিটার্নিং, প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার) নির্বাচনে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। বিষয়টি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিলসহ জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, নোয়াখালীর-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌস সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী হাতিয়ায় ‘জলডাকাতদের গডফাদার’ হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত, সমালোচিত ও পরিচিত। বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। কিন্তু ঋণ খেলাপীর অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। এবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার স্বামী মোহাম্মদ আলী বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর ওছখালীতে আমিরুলের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে জানানো হয়। বাংলামেইল ২৪
- See more at: http://www.1newsbd.com/index.php/national/34510-2013-12-26-18-02-48#stha...

সম্পদ ও শিক্ষা দুটোই বেড়েছে আসলামুলের

ক্ষমতার পাঁচ বছরে সাংসদ মো. আসলামুল হকের ঘোষিত সম্পত্তিই (জমি) বেড়েছে ৩৪ গুণের বেশি। একই সঙ্গে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বেড়েছে চার ধাপ। নির্বাচন কমিশনে ঢাকা-১৪ আসনের সরকারদলীয় এই সাংসদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য মিলেছে। তিনি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় বলেছেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মাকসুদা হক ৪ একর ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিক। এসব জমির দাম দেখিয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। আর দশম সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হলফনামায় বলেছেন, আসলামুল হক ও তাঁর স্ত্রী এখন ১৪৫ দশমিক ৬৭ একর (১৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ) জমির মালিক। জমির দাম উল্লেখ করা হয়েছে এক কোটি ৯২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাঁচ বছরে স্বামী-স্ত্রীর জমি বেড়েছে ১৪০ একরের বেশি। আর বাড়তি এই জমির মূল্য দেখিয়েছেন এক কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা অবিশ্বাস্য। পাঁচ বছরে আসলামুল হকের শুধু সম্পদই বাড়েনি, বেড়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতাও। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ছিলেন অষ্টম শ্রেণী পাস। আর এখন তিনি বিবিএতে (স্নাতক ব্যবসায় প্রশাসন) অধ্যয়নরত বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে হলফনামার বাইরেও আসলামুল হকের জমি থাকার তথ্য মিলেছে। এমন ৭৬ বিঘা (২৫ একরের অধিক) জমি তিনি গত বছর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিক্রিও করেছেন। এর মধ্যে তাঁর মালিকানাধীন মায়িশা গ্রুপের নামে থাকা সাভারে (মহাসড়কের পাশে) ৫৭ বিঘা, আমিনবাজারে (মহাসড়কের পাশে) ১৪ বিঘা, মিরপুর এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ৭১ কাঠা ও দারুস সালাম থানার গৈদারটেক এলাকায় ৩১ কাঠা জমি গত বছর বিক্রি করেন। জানতে চাইলে মায়িশা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোর কাছে এসব জমি বিক্রির কথা স্বীকার করেন। কত টাকায় এসব জমি বিক্রি করা হয়েছে, তা তিনি বলতে রাজি হননি। এ টাকা কী কাজে লাগানো হয়েছে, তা মায়িশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলামুল হক জানেন বলে আনোয়ার হোসেন জানান।

আসলামুল হক গত বছর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ এলাকায় জমি দখলসংক্রান্ত এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন। তখন আদালতে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘পারিবারিকভাবে তার পাঁচ-ছয় হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে।’ (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১৭ মে, ২০১২)। শুধু তা-ই নয়, মায়িশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আসলামুল হক রাজধানীর গাবতলী থেকে আজিমপুরে উড়ালসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করে গত বছরের জুনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে কাজ দেওয়া হলে এতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং এই সরকারের আমলেই কাজ সম্পন্ন করবেন বলে উল্লেখ করেন।

জীবনে প্রথম সাংসদ হয়েই এত সম্পদের মালিক হলেন? জানতে চাইলে আসলামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ফকিরনির বাচ্চা নই, আমার বাবা ও নানা জমিদার। তাঁদের সম্পদ আছে। ধীরে ধীরে ব্যবসা করে এ অবস্থায় আসছি।’ তাহলে হলফনামায় কেন সব সম্পদ উল্লেখ করেননি—এ প্রশ্নের জবাবে আসলামুল হক বলেন, ‘হলফনামায় কী উল্লেখ করেছি, কী করিনি, তা আপনার দেখার দায়িত্ব নয়। তা দেখবে নির্বাচন কমিশন ও এনবিআর।’ ঘোষিত-অঘোষিত এসব সম্পদের বাইরেও আসলামুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এবার দশম সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেসরকারিভাবে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের জমি দখল: সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সীমানা দেয়ালের দক্ষিণ ও কমিউনিটি সেন্টারের পশ্চিম পাশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থার ২৩ একর ২৩ শতাংশ জমি দখল করেছেন আসলামুল হক। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই জমি ২০০০ সালের ২৩ মার্চ সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেয় মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা।

মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, ২০১১ সালের ৫ মে সাংসদ আসলাম দলবল নিয়ে জমিটি দখল করে নেন। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়টি ভেঙে দেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থার মহাসচিব হাবিবুর রহমান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মশিউর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দখলের সময় তাঁদের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অশ্লীল গালাগাল দেন সাংসদ আসলাম। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘সাংসদ আমাকে কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে দারুস সালাম থানায় নিয়ে যান। আমাদের মহাসচিবকেও দাগি আসামির মতো পুলিশে তুলে দেন।’ সংস্থার মহাসচিব হাবিবুর রহমান বলেন, সাংসদ ওই দিন মুক্তিযোদ্ধাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেও ক্ষান্ত হননি, তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। মামলার বাদী হন সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী ইসলাম হোসেন।
প্রথম আলোর কাছে সাংসদ আসলামুল হক ওই জমি দখলের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ওই জমি কবরস্থানের। তিনি তা উদ্ধার করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিন দিয়ে ঘেরা দেওয়া জমিটির সামনে দুটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। একটিতে লেখা ‘সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজ’, অপরটিতে লেখা ‘দারুস সালাম থানা কমপ্লেক্স’।

প্রবাসীর জমি দখল: আসলামুল হক মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী আমিনুল ইসলামের ৩৭ শতাংশ জমি দখল করেছেন বলেও অভিযোগ আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমির প্রবেশমুখে একটি সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। তাতে লেখা, ‘এই জমির মালিক মো. আসলামুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মায়িশা গ্রুপ’। সাংসদ আসলামুলের দাবি, তিনি সেখানে ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি প্রবাসী আমিনুল ইসলামের ভাগ্নির কাছ থেকে কিনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আমিনুল ইসলাম টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর জমির পাশে ভাগ্নির জমি। ভাগ্নির জমি কিনে পাশে তাঁর ৩৭ শতাংশ জমিও দখল করে নিয়েছেন সাংসদ। এ নিয়ে আসলামের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে চারটি মামলা করা হয়েছে।

দখল করা জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র: মোহাম্মদপুরের বছিলা সেতু পার হয়ে নদীর তীর ঘেঁষে ওয়াসপুর ও সাভার থানার বিশাল এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছেন সাংসদ আসলাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য জমির মালিকদের না জানিয়ে হঠাৎ নিচু জমি ভরাট এবং সীমানাপ্রচীর নির্মাণ করেন সাংসদ। ওয়াসপুর জামে মসজিদ কমিটির সদস্য মো. সেলিম অভিযোগ করেন, একই স্থানে ওয়াসপুরের মসজিদের প্রায় দেড় একর জমি ছিল। চার কোটি টাকা দাম ঠিক করে ওই জমি কিনে নেন আসলামুল হক। কিন্তু পরে ৮০ লাখ টাকা দিয়ে আর কোনো টাকা দেননি।
ওয়াসপুরের নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি জমি বিক্রি করতে চাননি। সাংসদ ছয় কোটি টাকা মূল্যের ২০৮ শতাংশ জমি জোর করে দখল করে নিয়েছেন। কোনো টাকা দেননি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসলামুল হক দাবি করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তিনি এসব জমি কিনে নিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠ দখল, বিক্ষোভ: ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সাংসদ আসলামের লোকজন মিরপুরে চিড়িয়াখানা সড়কের পাশে মসজিদুল আকবর ঈদগাহ ময়দান দখল করে নেন। অবশ্য পরে এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের বিক্ষোভের মুখে সাংসদ ঈদগাহ মাঠ ছেড়ে দেন। আসলামুল হক দাবি করেন, দখল নয়, স্থানীয় যুবকদের দাবির মুখে তিনি সেখানে ক্রিকেট একাডেমি করতে চেয়েছিলেন।

দাপট: ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসা ও জেলা প্রশাসন কল্যাণপুরে খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে সাংসদ আসলামুল হক গিয়ে বাধা দেন। তাঁর বাধার মুখে উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসেন দুজন ম্যাজিস্ট্রেট। এ নিয়ে পরদিন প্রথম আলোয় সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে ২ ডিসেম্বর সাংসদ নিজেই কল্যাণপুর খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।
মামলা ও জিডি: সংশ্লিষ্ট থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রতারণার অভিযোগে ১৯৯৬ সালে আসলামুল হকের বিরুদ্ধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সাভার, পল্টন ও মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পৃথক পাঁচটি মামলা হয়। একই বছর মিরপুর থানায় তিনটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয় তাঁর বিরুদ্ধে। অবশ্য আসলামুল হক ২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল, তিনটিতেই আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। অবশ্য ওই হলফনামায় তিনি দুটি মামলার কথা গোপন করেছিলেন। তবে, ২০১৩ সালের হলফনামায় পাঁচটি মামলার কথাই উল্লেখ করেন। এবং সবগুলোতে খালাস পান বলে লিখেছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে গাবতলী: আসলামের বাড়ি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া গ্রামে। গত নভেম্বরে সেখানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আসলামুল হকের বাবা এনামুল হক মুন্সি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এরপর তাঁরা সপরিবারে রাজধানীর গাবতলীতে তাঁর নানার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। এখানেই বড় হন আসলামুল হক। স্থানীয় লোকজন জানান, আসলামুল হক বিগত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুর দিকে শাহ আলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আসলামুল হক আশির দশকে কর্মজীবনের শুরুতে যাত্রীবাসের কাঠামো (বডি) তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি এলাকায় জমি-বেচাকেনায় মধ্যস্থতার কারবারে জড়িত হন। পরে তিনি মায়িশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট নামে আবাসন কোম্পানি করেন। এখন তা হয়েছে মায়িশা গ্রুপ। কোম্পানির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মায়িশা গ্রুপের এখন মোট প্রতিষ্ঠান ১১টি। আসলামুল হক এই গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং তাঁর স্ত্রী মাকসুদা হক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

হলফনামায় হোঁচট: সাংসদ হিসেবে আসলামুল হকের ব্যক্তিগত ও মায়িশা গ্রুপের ওয়েবসাইটে তাঁর যে ব্যবসায়িক বৃত্তান্ত (প্রোফাইল) উল্লেখ করা হয়েছে, সেটার সঙ্গে হলফনামায় উল্লেখ করা আয়-ব্যয় ও ব্যাংক হিসাবের স্থিতি মেলাতে গেলে হোঁচট খেতে হয়। হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে স্বামী-স্ত্রীর ব্যবসা থেকে বার্ষিক মোট আয় চার লাখ ৯৯ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে আসলামের দুই লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ ও তাঁর স্ত্রীর দুই লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা। আর, ২০১৩ সালে এসে ব্যবসা থেকে দুজনের মোট বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৭ টাকা (স্বামীর নয় লাখ ৫২ হাজার ৩০০ এবং স্ত্রীর ছয় লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা)। ২০০৮ সালে আসলামুল হকের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ৬৫ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। দুজনের নামে ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের শেয়ার ও ১২০ ভরি সোনা ছিল। আর এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসলামের নামে ২৪ হাজার ৪৩ টাকা, আর স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৬ টাকা জমা আছে। দুজনের নামে এখন শেয়ার আছে ৯৪ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকার। বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে দুজনের মোট বিনিয়োগ আছে ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এখন দুজনের নামে সোনা আছে ৮৩ ভরি।

পাঁচ বছর আগে আসলামের হাতে নগদ টাকা ছিল দুই লাখ ১৯ হাজার ৮০০ এবং স্ত্রীর নামে এক লাখ নয় হাজার ৫০০ টাকা। আর এখন দুই কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৯ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর আছে কাছে ৫৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ ছাড়া বর্তমানে আসলামুল হকের স্ত্রীর নামে এক কোটি ৪৩ লাখ টাকার বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/108514/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%...

ক্ষমতায় থাকলে আয় বাড়া

ক্ষমতায় থাকলে আয় বাড়া স্বাভাবিক

হালিম মোহাম্মদ : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সব দেশেই ক্ষমতাসীনরা সম্পদশালী হন; ক্ষমতায় থাকলে আয় বাড়ে, এটাই স্বাভাবিক। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সম্পদের বৃদ্ধি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং কিছু প্রার্থীর আপত্তির মধ্যেই মুহিতের এ বক্তব্য এলো। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ক্ষমতাসীনরা সম্পদশালী- এটা দুনিয়ার সব দেশেই আছে।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-সাংসদের সম্পদ গত পাঁচ বছরে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, দেশের উন্নতি হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনগণের আয় বেড়েছে।

প্রাচীন আমলে বর্বরদের গোত্রপ্রধানও হতেন সম্পদশালী। যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের আয় বাড়ে, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দুদক এ বিষয়ে তদন্ত করবে কি-না জানতে চাইলে মুহিত বলেন, দুদক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা তদন্ত করে দেখতে পারে। এনবিআর বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কি-না এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রীর জবাব, এনবিআর অবশ্যই এগুলো দেখবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাদের সবাইকেই সম্পদের বিবরণী, হলফনামা ও বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নেতার সম্পদ কতটা বেড়েছে- সে বিষয়ে গত কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

অবশ্য এসব প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা। হলফনামার তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যায়িত করে এর পিছনে ‘তৃতীয় শক্তির উত্থান’ ঘটানোর চেষ্টা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই বিরোধিতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি প্রতিবছর আয়কর বিবরণী জমা দেই। এটার সঙ্গে আমার মেলে না। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ ওপেন বুক একাউন্ট হওয়া উচিত।

২০১৩-১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৪ হাজার টাকা। এই হিসাবে গত পাঁচ বছরে অর্থমন্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৫৮ লাখ টাকার মতো। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য আবুল মাল আবদুল মুহিত কর দিয়েছেন ৮৪ হাজার ৪৩৬ টাকা। সম্পাদনা : তারেক
http://www.amaderrshomoy.com/content/2013/12/25/news0173.htm

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla