Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

তৈলমর্দনের দেশে একজন বিশ্বজিৎ ও একজন প্রধানমন্ত্রী

Chattro League কিছুতেই নেভানো যাচ্ছেনা বিশ্বজিৎ আগুন। মিডিয়ার সবকটা মাধ্যমে তুষের মত জ্বলছে এ দাবানল। সাথে সরকারও পুড়ছে তিলে তিলে। অপরাধীর সন্ধান না করে যারা ছাত্রলীগের গঙ্গা স্নানে ব্যস্ত ছিল তাদের গ্রহণযোগ্যতাও হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। ঘটনার কদিন আগে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রলীগকে মাঠে নামতে বলেছিলেন। এ ধরণের সরকারী দাওয়াতের আসল অর্থ কি তা আমাদের সবার জানা। ওরা দাওয়াত কবুল করে মাঠে নেমেছে এবং ছাত্রলীগ হিসাবে যা করার তাই করেছে। এ সমীকরণ পানির মত সহজ। অতীতের সব ক্ষমতাসীন সরকারই এ কাজে প্রফেশনালিজম দেখিয়ে গেছে। কিন্তু এ সরকারের জন্যে সমস্যাটা অন্য জায়গায়।

প্রথমত, হতভাগ্য বিশ্বজিতের ভুল সময়ে ভুল জায়গায় অবস্থান; দ্বিতীয়ত, প্রবাসী একজন ’বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিকের’ বদৌলতে দেশে এখন ডিজিটাল রাজত্ব। পাশাপাশি ক্ষমতার রাজনীতি দেশের অনেক যদু মধুকে উপহার দিয়েছে টিভি চ্যানেল সহ মিডিয়া বাণিজ্যের হরেক রকম উপাদান। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পেটের ধান্ধায় দেশের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে গাদাগাদা সাংবাদিক। তাই প্রকাশ্য রাজপথে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জজ মিয়াদের জন্ম দেয়া এখন আর সহজ কাজ নয়। দেশের কোটি কোটি বেকারদের অনেকে বানের স্রোতের মত যত্রতত্র ভেসে বেড়ায় এবং বিশ্বজিতদের সাথে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় হাজির থেকে স্বাক্ষী হয় ডিজিটাল নিধনের। হাতে মোবাইল আর অবসরে নুয়ে পরা দুটি চোখ নিয়ে প্রতিনিয়ত ওরা খুজে বেড়ায় বৈচিত্র্য। ছাত্রলীগ নামের দানবীয় শক্তির পৈশাচিকতা সাংবাদিকদের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হলেও ফাঁকি দেয় না এসব আদমদের চোখ। ওরা শুধু দেখেই ক্ষান্ত থাকেনা, অনেক সময় মোবাইলে ধারণ করে নেয় পশুদের পশুত্ব। বিশ্বজিৎ খুন নিয়ে সরকারী বেকায়দার মূলেও আছে সাংবাদিকদের পাশাপাশি এসব প্রত্যক্ষদর্শী। এদের কারণেই মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের গৃহপালিত সেবাদাস পুলিশের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। ছাত্রলীগ নামক নরপশুদের রক্ষা হয়ত বঙ্গবন্ধুর দেখা স্বপ্নেরই অংশ, তাই এর বাস্তবায়ন জাতি হিসাবে আমাদের জন্যে বাধ্যতামূলক। খোলা তরবারি হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে তিলে তিলে খুন করল একদল কসাই আর তাদের বাঁচানোর দায়িত্ব নিল বিপুল ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় এর চাইতে ন্যাক্কারজনক, নিকৃষ্ট ও পশুসুলভ ক্ষমাহীন অপরাধ বিশ্বের দ্বিতীয় কোন গণতান্ত্রিক দেশে সংঘটিত হয়েছিল বলে মনে হয়না। কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছে। কেবল বিশ্বজিৎ হত্যায় এ ধরণের অপরাধ সীমাবদ্ধ ছিল বললে অন্যায় বলা হবে। বাংলাদেশের অলিগলিতে প্রতিদিন ঘটছে এসব নারকীয় হত্যাকাণ্ড। কেবল মাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে খুনিরা পার পাচ্ছে এবং রক্ত নেশায় উজ্জীবিত হয়ে হায়েনার মত ধাওয়া করছে নতুন নতুন শিকার।

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের রায় আদৌ কি কোনদিন লেখা হবে? রাজনৈতিক খুনের বিচার বাংলাদেশে বলতে গেলে অবৈধ। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট সহ বাংলাদেশের কোন কোর্টই এত ক্ষমতা রাখেনা যা নিশ্চিত করতে পারে খুনিদের শাস্তি। কোন জেলই এত শক্ত নয় যা আটকে রাখতে পারে শাওন, রাশেদ আর ইউনূস-টিপু গংদের। হৈ চৈ কিছুদিন প্রলম্বিত হবে, এ ফাঁকে ঘটে যাবে নতুন কোন ঘটনা যা বিশ্বজিত অধ্যায়ের উপর এঁটে দেবে শেষ পেরেক। মাস না ঘুরতে আমরা ভুলে যাব বিশ্বজিত নামের কোন এক দরিদ্র দর্জিকে। দেশের আইন, বিচার ও শাসনব্যবস্থার কাঠামোটা এভাবেই তৈরী। যেহেতু ক্ষমতার আশির্বাদ ছাড়া প্রধান বিচারপতি হওয়া যায়না তাই এমন একটা পদের অলিখিত বাধ্যবাধ্যকতা থাকে বিশ্বজিৎ হত্যাকারীদের পদসেবা করা। খুনিরা খুশি থাকলে দল খুশি, দল খুশি তো মন্ত্রী খুশি, মন্ত্রী খুশি তো নেত্রী খুশি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, রাজনীতি, অর্থনীতি সহ সবই তো নেত্রীর দয়া। তাই নেত্রী খুশি মানে দেশ খুশি। আমরা খুশি। খুশি দেশের আইন-আদালত। নেত্রীদের খুশির জন্যেই তো আমাদের স্বাধীনতা। এবং এ স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলশ ত্রিশ লাখ মানুষ।

"...তখন আমার হাতে একটি চাপাতি ছিল আর রাজনের হাতে ড্যাগার। অন্যদের হাতে রড ও লাঠি। ইউনুছ, টিপু ও ওবায়দুর রড দিয়ে মারতে থাকলে ছেলেটি চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমার নাম বিশ্বজিৎ দাস, আমারে মাইরেন না।‘ এ সময় বিশ্বজিৎ দোতালায় উঠে গেলে রাজন বিশ্বজিৎকে ঘাই দেয়। আর আমি চাপাতি দিয়া বিশ্বজিতের হাত-পা ও পিঠসহ বিভিন্ন জায়গায় কোপালে বিশ্বজিৎ ফ্লোরে লুটিয়ে পরে..."। ঠান্ডা মাথায় বিশ্বজিতকে এভাবেই খুন করেছিল ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা। আহত বিশ্বজিতকে সাংবাদিকরা মরতে দেখেছে এবং কেবল ছবি তোলার মাঝেই সীমাবদ্ধ রেখেছে প্রফেশনাল ও মানবিক দায়বদ্ধতা। একজন রিক্সাচালক মৃত্যুপথযাত্রী বিশ্বজিতকে তুলে দিয়েছিল ডাক্তারদের হাতে। কিন্তু ডাক্তারদের হাতও ছিল বাঁধা। কারণ ছাত্রলীগ যাকে কুপিয়েছে তাকে বাঁচানো মানে দেশ, জাতি তথা নেত্রীর সাথে বেইমানি করা। তারও হাত গুটিয়ে নেয় এবং মরতে দেয় অসহায় একজন মানুষকে। ডাক্তার হিসাবে তাদেরও দরকার চাকরির নিশ্চয়তা, প্রয়োজন প্রমোশন। ছাত্রলীগকে নাখোশ করলে এ প্রাপ্তি অধরা থেকে যাবে এ সত্য এখন দেশের শাসনতন্ত্রে লিপিবদ্ধ। আমার এ বক্তব্যের প্রমাণ মেলবে বিশ্বজিৎ খুনের ময়নাতদন্তে। ডাক্তাররা বিশ্বজিতের শরীর কেবল একটা একটা মাত্র ছুরিকাঘাতের চিহ্ন খুজে পেয়েছে এবং পুলিশের সুরে গলা মিলিয়ে একই ভাষায় জমা দিয়েছে ময়নাতদন্ত। নিজেদের আমরা কি ভাবে মূল্যায়ন করবো? পাথর যুগের বর্বর পশু হিসাবে, নাকি একবিংশ শতাব্দীর বিকাশমান মানব সভ্যতার উচ্ছিষ্ট হিসাবে?

প্রধানমন্ত্রীর মুখ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। ট্যাক্সবিহীন মুখ হতে লাগামহীন কথাবার্তা উগড়ে ইতিমধ্যে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। নেত্রী চরিত্রের এ দিকটার উপর আলোকপাত করার জন্যে এ লেখা নয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু কথা বলেছেন যা মূল্যায়নের দাবি রাখে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভারত সফরকে তিনি তেল মারার সফর হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহিত্যের ভাষায় তা হবে ’তৈলমর্দন’। এই তৈলমর্দনের সাথে কমবেশি সবার পরিচয় আছে। বিশেষ করে নাগরিক হিসাবে যারা বাংলাদেশে বাস করেন। বিশ্বজিতের খুনিরা রিমান্ডে স্বীকার করেছে ছাত্রলীগের সামনের কমিটিতে ভাল পদের জন্যে শীর্ষ নেতাদের মনোযোগ আকর্ষনের জন্যেই ছিল এ বর্বরতা। পারফরমেন্স শো'র জন্যে তাদের তাগাদা ছিল। সে জন্যেই হরতালকে কেন্দ্র করে বেছে নিয়েছিল হতভাগা বিশ্বজিতকে। কে কতটা নির্মম হতে পারবে তার উপর নির্ভর করছিল পদের ক্যাটাগরি। একটা ভাল পদ মানে লাখ টাকার চাঁদা, কোটি টাকার টেন্ডার আর নেত্রীর পাশে দাঁড়ানো ছবি। বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে নতুন তারা হয়ে জ্বলতে চাইলে এসব শর্ত পূরণ করেই জ্বলতে হয়। এসব শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ কি কেবল বিশ্বজিতের খুনিরা? ম খা আলমগীর ও মোহম্মদ হানিফ সহ রাজনীতির যে সব ’বাঘা বাঘা’ চরিত্র দিনভর বুলি আওড়াচ্ছেন তা কি নেত্রীর মনোযোগ আকর্ষনের জন্যে নয়? খুনের উপর পুলিশ ও ডাক্তারের মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট কি ক্ষমতার স্বাদ নিতে কারও মন জয় করার জন্যে নয়? হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টের বিচারক সহ দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা যে সব অলৌকিক তেলেসমাতি দেখাচ্ছে তার মূলেও কি তৈলমর্দন নিহিত নয়? গোটা দেশ চলছে এই মর্দন প্রযুক্তির উপর। এখানে কে কাকে মর্দন করবে, কখন করবে তার উপর নির্ভর করে জীবন সাফল্য। বিরোধী দলীয় নেত্রী না হয় তৈলমর্দন করতে প্রতিবেশী দেশে গেলেন; কিন্তু বস্তা ভর্তি ইলিশ, সুটকেস ভর্তি জামদানি আর টাঙ্গাইলের চমচম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন একই দেশ সফর করেন তাকে আমরা কি বলে আখ্যা দেব? এখানে কেউ যদি নোংরা কোন ইঙ্গিত দেয় খুব কি অন্যায় হবে? ক্ষমতার রাজনীতিতে তৈলমর্দন কতটা ভয়াবহ হতে পারে ১৯৭৪-৭৫ সালের ঘটনা হতে প্রধানমন্ত্রী হয়ত শিক্ষা নেননি। হানিফের মত মর্দন দৌড়ে যারা এগিয়ে ক্ষমতার স্থায়ী পতনে তারাই সামনে আসবে এবং নমরূদ খেতাবে নেত্রীকে ঠেলে দেবে ছয় ফুট মাটির নীচে।

বিশ্বজিতের খুনিদেরও প্রয়োজন ছিল নেতামর্দন। মর্দনের তৈলাক্ততাই তাদের পৌছে দিত অভিষ্ট লক্ষ্যে যেমনটা পৌছে দেয় নেত্রীদের ভারতমর্দন।

Comments

ছুরি মারে রাজন কোপায় শাকিল আমি চালাই রড’

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১২

নূরুজ্জামান: পেছন দিক থেকে বিশ্বজিৎকে ছুরি মারে রাজন। তার হাত ও পায়ে চাপাতি দিয়ে কোপায় শাকিল। আরও ১৫ জনের হাতে রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র ছিল। তাদের সঙ্গে আমিও রড দিয়ে ২-৩টা বাড়ি দিয়েছি। গতকাল দুপুরে আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী এমদাদুল হক মিলন। মহানগর মুখ্য হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের খাসকামরায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এমদাদুল হক মিলন বলেছে, জবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমার সহসভাপতি হওয়ার কথা ছিল। ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ঘটনার আগের রাতে সভাপতি ও সেক্রেটারি আমাদের ব্রিফ করেছিলেন। নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, যে কোন মূল্যে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে হবে। পরের দিন ৯ই ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি আছে। ওই দিন আমাকে ক্যাম্পাসে থাকতে হবে, যাতে অবরোধকারীরা পিকেটিং করতে না পারে। যদি শিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত কিছু ঘটাতে চায়, তবে যে কোন মূল্যে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এমন প্রস্তুতি নিয়ে পরের দিন সকাল ৮টা থেকে সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল শুরু করি। এ সময় বিএনপি’র উকিলরা মিছিল নিয়ে সামনে এগোতে থাকলে তাদের ধাওয়া করি। জজকোর্টের ভিতর ঢুকে কয়েকজনকে মারধর করি। একপর্যায়ে রায়সা বাজার ঘুরে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে আসার পর ২-৩টি ককটেল ফাটে। ওই সময় সবাই বলে, একটা ছেলে ইনটেনসিভ ডেন্টাল কেয়ারে উঠেছে। তখন মিছিল থেকে ‘ধর ধর’ চিৎকার ওঠে। ওই ছেলের পিছন পিছন দৌড় দেয় রাজন, শাকিল, ইউনুছ, টিপু, কিবরিয়া, তমাল, আলাউদ্দিন, ইমরান, তাহসিন ও মোস্তফা। দাবড়িয়ে দোতলায় ওঠে তারা। রাজনের হাতে ছুরি, শাকিলের হাতে চাপাতি, অন্যদের হাতে রড ও লাঠি ছিল। ওই সব অস্ত্র দিয়ে সেখানেই আঘাত করতে থাকে। শাকিল চাপাতি দিয়ে হাতে ও পায়ে কোপাতে থাকে। রাজন পেছন দিক থেকে ছুরি মারে। মারধর করার সময় ছেলেটি বার বার চিৎকার করছিল, ‘আমি হিন্দু, আমারে মাইরেন না।’ পরে ছেলেটাকে নিচের দিকে নিয়ে এলে আমি সহ শাওন, নাহিদ, আজিজ, লিমন, আলামিন, রফিক ও পাভেল আটকাই। আমার হাতে রড ছিল। ছেলেটা তখন রক্তাক্ত। ছেলেটি বিক্ষিপ্তভাবে দৌড়ানোর চেষ্টা করছিল। পরে শাঁখারীবাজারের দিকে দৌড়ে পালানোর সময় আমি রড দিয়ে ২-৩টা বাড়ি মারি। একপর্যায়ে সে শাঁখারীবাজারে দিকে চলে যায়। সবার সঙ্গে আমিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে যাই। ওইদিন সভাপতি শরীফের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্যের সামনে কেক কাটা হয়। এর কিছুক্ষণ পর খবর পাই, ছেলেটিকে এক রিকশাওয়ালা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেছে এবং সেখানেই মারা গেছে। মৃত্যুর পর জানতে পারি, ও আসলেই হিন্দু। ওর নাম বিশ্বজিৎ। পরে এক ছোট ভাইয়ের পরিচয়ের সূত্র ধরে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পালিয়ে যাই। স্বপ্নপুরী আবাসিক হোটেলে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করি। পরে সেখান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, গত ২৫শে ডিসেম্বর চাঁপাই নবাবগঞ্জের সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার স্বপ্নপুরী রেস্টহাউস থেকে ইমদাদুলকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে ঢাকায় আনা হয়। আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে ২৩শে ডিসেম্বর অন্য তিন আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলেছিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ২১ জন মিলে বিশ্বজিতের ওপর হামলা করেছে। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কাইয়ুম মিয়া টপু ও কিবরিয়াকে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে যাদের নাম এসেছে তাদের বেশির ভাগই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞ আদালতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতেই বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ও আসামিদের পরিচয় উদঘাটিত হয়েছে। বাকি আরও কয়েকজন আসামির জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতিমধ্যে মামলা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তদন্তকাজ সম্পন্ন হবে।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=MzY1OTY=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==

জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্ত মিলছে না

‘...তখন আমার হাতে একটি চাপাতি ছিল আর রাজনের হাতে ড্যাগার। অন্যদের হাতে রড ও লাঠি। ইউনুছ, টিপু ও ওবায়দুর রড দিয়ে মারতে থাকলে ছেলেটি চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমার নাম বিশ্বজিৎ দাস, আমারে মাইরেন না।” এ সময় বিশ্বজিৎ দোতলায় উঠে গেলে রাজন ড্যাগার দিয়ে বিশ্বজিৎকে ঘাই দেয়। আর আমি চাপাতি দিয়া বিশ্বজিতের হাত-পা ও পিঠসহ বিভিন্ন জায়গায় কোপালে বিশ্বজিৎ ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে...।’
বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল। তিনি, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মাহফুজুর রহমান নাহিদ গতকাল প্রায় একই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনজনের জবানবন্দিতেই মারধরের বীভৎস বর্ণনা থাকলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বিশ্বজিতের শরীরে একটিমাত্র ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আর একটি থেঁতলানো জখম খুঁজে পেয়েছেন। ময়নাতদন্তের আগে করা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বিশ্বজিতের শরীরে একটি কাটা ও দুটি জখমের কথা বলা হয়।
বিশ্বজিতের ওপর বর্বর হামলার যে বর্ণনা এই তিন আসামি দিয়েছেন, তার সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মিল নেই। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন, বিশ্বজিতের লাশ পুড়িয়ে ফেলায় এখন আর অধিকতর অনুসন্ধানের সুযোগও নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো হত্যামামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদন দেখে বিচারের সময় প্রশ্ন উঠতে পারে, এতগুলো আসামি একজনকে কোপাল, মারল। অথচ শরীরে জখমের চিহ্ন মাত্র দুটি কেন? এ যুক্তিতে আসামিদের শাস্তি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক লিখেছেন, ‘পিঠে ডান কাঁধের (বগলের) নিচে সাড়ে তিন ইঞ্চি চওড়া দেড় ইঞ্চি গভীর একটি ছুরিকাঘাতের জখম এবং বাম হাঁটুর জোড়ায় থেঁতলানো জখম রয়েছে। বগলের নিচে জখমের ফলে তাঁর শরীরের একটি বড় ধমনি কাটা গেছে। শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক ও ফ্যাকাশে এবং হূৎপিণ্ডের দুটি প্রকোষ্ঠই ছিল খালি।’
সুরতহাল প্রতিবেদনে সূত্রাপুর থানার পুলিশ লিখেছে, ‘কোমরের ওপরে পিঠে হালকা ফোলা জখম দেখা যায়। ডান হাতের পাখনার (বগলের) নিচে আনুমানিক তিন ইঞ্চি কাটা রক্তাক্ত জখম ও বাম হাঁটুর নিচে ছেঁড়া জখম রয়েছে।’
ময়নাতদন্তকারী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক মাকসুদুর রহমান বলেছিলেন, বিশ্বজিতের শরীরে বড় ধরনের একটি ছুরিকাঘাত ছিল, দু-একটি ছিল ছোটখাটো। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সব কটিই উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনেও এ ধরনের আঘাতের উল্লেখ আছে।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-12-24/news/315658

কোপা - মাহফুজ মেহেদী

Photobucket

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla