Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

একজন বিচারপতি, একজন মন্ত্রী ও বাংলাদেশের বিচার বিচার খেলা...(রঙ্গ রসের গল্প)

Bangladesh Politics

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ... এক নাগাড়ে বেজে চললো লাল ফোনটা। পিউবিক হেয়ার ট্রিমিংয়ে ব্যাস্ত আইন প্রতিমন্ত্রি সেদিকে চোখ ফেরানোর তাগাদা অনুভব করল না। প্রাইম মিনিষ্টারের সাথে একটু আগে কথা হয়েছ, বাকি কারও ফোন নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। তাই সময় নিয়ে প্যান্টের তলদেশের কাজটা শেষ করল।

আইন প্রতিমন্ত্রী (আপ্র) : আপনে কেডা?

ফোনের অপরপ্রান্তঃ আমি এটর্নী জেনারেল (এজে)।

আপ্রঃ জেনারেল মারানোর সময় নাই। কি কইবা জলদি কও।

এজেঃ সিদ্ধান্ত দরকার।

আপ্রঃ সব সিদ্ধান্ত যদি আমার দিতে হয় কোন সাওয়ার কাজে তোমারে রাখা হইছে?

এজেঃ আকাশজিৎ নামের ঐ মালুর কেইসের রায় দরকার।

আপ্রঃ তুমরা সব হালায় চুতিয়া। নিজে কোন দায়িত্ব নেওনা। সিংহাসন গেলে যাতে বনবাসে না যাও তার জন্য আমার ঘাড়ে বন্দুক রাখতাছ। সব কথা রেকর্ড করতাছি। দরকার অইলে হাটে হাড়ি ভাইঙ্গা দিমু। তা প্রেসিডেন্টের লগে কথা কইছ?

এজেঃ হ কইছি।

আপ্রঃ তয় ঠিক আছে। ঝুলানোর রায় দিতে কও।

এজেঃ ইডা কি কইলেন? নিজেগো মাইনষেরে আমরা ঝুলামু? আপনে কি নিশায় আছেন?

আপ্রঃ আমি তুর স্ত্রীর সাথে (শ্রবণ অযোগ্য) প্রস্তুতি নিতাছি... যা কইছি তা কর।

খটাস!

বিচারপতি এবিএম নাজিমুল হক (এনাহ): স্যার, সময় গড়াইতাছে। কি করমু বুঝতাছিনা। সিদ্ধান্ত কি হাতে পাইছেন?

এজেঃ ঐ খা* (শ্রবণ অযোগ্য) পুত, হাতে পাইছি মানে? সিদ্ধান্ত দেওনের মালিক আমি। হাতে পাওনের কথা মাথায় আইলো কেম্ভে?

এনাহঃ না, মানে আপনে নিজেই একটু আগে কইলেন উপরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, তাই। ভুল হইয়ে গেছে বোধহয়, ক্ষেমা কইরা দিয়েন।

এজেঃ যা দিলাম ক্ষমা কইরা। শোন, আমি সিদ্ধান্ত দিতাছি ঝুলানের।

এনাহঃ লা হাওলা অলা কুয়াতা ইন্নালিল্লাহে রাজেউন.. ইডা কি কইলেন? হেগো গলায় দড়ি লাগানোর রায় দিমু আমি? আপনে হুসে আছেন তো? আমার বার বছরের মাইয়াডার জীবন নষ্ট কইরেন না। হেয় লেখাপড়ায় ভাল। বড় হইয়া এজে হইতে চায়।

এজেঃ যেইখানে আমি কইতাছি ফাঁসী এইখানে তুই কথা কওনের কিডা?

এনাহঃ সব বুঝলাম। তয় স্বরাষ্ট্র দপতর থেইক্কা যে রায়টা পাঠাইলো তার কি হইব?

এজেঃ কস কি! রায়ডা পড় দেখি!!!

এনাহঃ "ঘটনাকালীন সময়ে আকাশ নেশাগ্রস্ত আছিল। হাতে ছিল জামাতি গো দেয়া অস্ত্র। লীগের পুলাপাইন নম্র হইয়া অনুরোধ করল, ভাই তুই হিন্দুর পু্‌ত, আমাগো দলের খত দেওয়া সদস্য। তুই ভাই হাতে অস্ত্র নিয়া কি করবার চাইতাছস? এই কথা বলার সাথে সাথে বিকাশ পকেট হইতে একখান সাব-মেশিনগান বাইর করল এবং ঠা ঠা কইরা গুলি করা শুরু করল। গুল্লির বৃষ্টিতে চারদিক আন্ধার হইয়া গেল। ঘটনার অনতিদূরে ঘাপটি মারা জামাত শিবিরের ক্যাডাররা আন্ধাইরে দাও কুড়াল লইয়্যা বিকাশের উপরে ঝাপাইয়া পরল। লীগের ছাত্ররা জামাতিগো ধাওয়া দেওয়ায় হেরা পালাইল। সাথে সাথে চারদিক ফর্সা হইয়া গেল। ফর্সায় উপস্থিত দর্শকরা কেবল লীগের পুলাপাইন দেখলো ও ভাবলো হেরা খুন করছে। আসল ঘটনা হইল, জামাত-শিবিরের ফেইল্যা যাওয়া অস্ত্র লীগের পুলাপাইন হাতে নিয়ে পরখ করতেছিল। দৈবক্রমে চারদিক ফর্সা হইয়া যাওয়ার মানুষ ভুল বুঝছে। লীগের সবাই নিরপরাধ, দুধের মত টলটলা পরিস্কার। তাই হেগোরে খালাছ দেওয়া হইল"

এজেঃ কাহিনী একখান বানাইছে বটে। হা হা হা হা... না, স্বরাষ্ট্র ফরাষ্ট্র চলবনা। কথা হইছে আসল জনের লগে। তাইনে কইছে ঝুলাইতে। সময় এখন খারাপ। কাদিরার ফাঁসী লইয়্যা দুনিয়া ক্যাচাল করতাছে। এই মুহূর্তে লীগের পুলাপাইনরে খালাছ দিলে শরম দিব।

এনাহঃ তাইলে কি আদেশটা ফাইনাল কইরা দিমু?

এজেঃ হ হ বাপধান দেও। কতা এত কম বুঝলে দেশ চালামু কেমনে? তয় ভয় পাইওনা। লীগের পুলাপাইন ও হেগো বাপ-মার লগে কতা হইছে। ফাঁসী হইব নামে, কামে না। কয় মাস গেলে মানুষ ঠান্ডা হইব। আকাশরে কুত্তা দিয়াও কেউ চু (শ্রবণের অযোগ্য) না। তহন ফাহমিদ মিয়া হেগো মাপ কইরা দিব। জেল হইতে বারাইলে কিছুদিনের লাইগ্যা আগরতলায় পাঠানো হইব।

এনাহঃ কুন ফাহমিদ মিয়া?

এজেঃ আরে বেকুবের বাচ্চা আধাকুব, আংগো ফাহমিদ মিয়ারেও চিনসনা? প্রিসিডিন্ট ফাহমিদ মিয়া।

এনাহঃ তওবা তওবা এত বড় ভুল করলাম! ঠিক আছে ঝুলানোর রায় দিয়াই এই বিচার শেষ করলাম। তয় একখান কতা, আমার প্রমোশনডার কি কিছু করা হইব এই যাত্রায়?

Comments

সম্পদের ভাণ্ডার সর্বকনিষ্ঠ এমপি

দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি নাটোরের জুনাইদ আহম্মেদ পলক। তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কর্মজীবন শুরু করেন নাটোরের সিংড়া সদরের দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে। ২০১১ সালের শুরুতে মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে স্থানীয় দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকরি নেন। ২০০৮ সালে তার সম্পদ বলতে ছিল সর্বসাকুল্যে ১৫ শতক মাঠের জমি, ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা, নগদ ১০ হাজার টাকা, ১০ ভরি সোনা, ২৫ হাজার টাকা দামের একটি রেফ্রিজারেটর ও ১০ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় এখন তিনি ভিশন বিল্ডার্স লিমিটেড কোম্পানির ৮০ ভাগ শেয়ারের মালিক। এখন তার সঞ্চয়পত্র আছে ২০ লাখ টাকার, ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের (ঢাকা-মেট্রো-গ-৩৩-০২৪৫) একটি অত্যাধুনিক প্রাইভেট কার। সোনা ১০৩ ভরি ও নগদ রয়েছে ১০ লাখ ও ব্যাংকে তিন লাখ ৮০ হাজার ৮৭৩ টাকা। একটি ডেস্কটপ ও একটি ল্যাপটপ, এসি ও ফ্রিজ। খাট, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সোফা, আলমারী ও ওয়্যারড্রবসহ সোনা এবং সব ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এই শিক্ষিকা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে তিনি এগুলোর দাম জানেন না। আগে ১৫ শতক জমির মালিক হলেও এখন তার মালিকানায় রয়েছে ৭৬২ শতক জমি। এর মধ্যে সিংড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ৩০০ শতক অকৃষি জমিও উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে এর দামও তিনি জানেন না!

আরিফা জেসমিনের স্বামী বর্তমান সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক। ২০০৮ সালে পলকের ব্যাংকে ছিল ২০ হাজার টাকা। নগদ ছিল ৩০ হাজার আর সঞ্চয়পত্র ছিল ১৮ হাজার টাকার। তার নিজের কোনো স্বর্ণ ছিল না। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল ৩০ হাজার টাকার একটি কম্পিউটার, ২০ হাজার টাকার একটি মোবাইল আর ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল এক বিঘা কৃষি জমি ও ১৮ শতক ভিটা জমি, দুইটি দোকানঘর আর একটি গুদাম। বার্ষিক আয়-ব্যয় উভয়ই ছিল এক লাখ ১৮ হাজার টাকা। চার খালাতো ভাই, দুলাভাই, চাচা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দান ও ঋণ নিয়ে নির্বাচনী খরচ চালানো এমপি পলক পাঁচ বছর পরে বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ২৫ লাখ ১১ হাজার ৫২ টাকা বলে তিনি ১০ম সংসদ নির্বাচনে তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এখন তার ব্যাংকে রয়েছে চার লাখ ৬১ হাজার ৪০৪ টাকা, নগদ দুই লাখ, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র আছে ছয় লাখ ৯৯ হাজার টাকার। সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো অত্যাধুনিক পাজেরো গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৪২৬৯) এমপি হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কিনেছেন মাত্র ৪৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকায়।

এখন তার রয়েছে ৪১ ভরি সোনা, দুইটি ডেস্কটপ, একটি ল্যাপটপ, এসি, ফ্রিজ। জমি কিনেছেন আরও সাত বিঘা ১১ শতক, উপহার পেয়েছেন ৪ শতক, দোকান দু’টি থেকে বেড়ে হয়েছে চারটি, সাথে দোতলা ভবন। স্ত্রীর মতোই তার সোনা, সব ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উপহার পাওয়ায় তিনি এগুলোর মূল্য কত জানেন না। তবে শুধু দু’জনের উপহার পাওয়া সোনার বর্তমান বাজার মূল্য ৬১ লাখ টাকা। সব কিছু বাড়লেও এবার তার আসবাবপত্র কমেছে। ২০০৮ সালে ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র থাকলেও এবার সেটা কমে হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে প্রায় এক কোটি টাকার ১৪৪ ভরি সোনা, পাঁচটি কম্পিউটার, দু’টি এসি, দু’টি ফ্রিজ, তিনটি মোবাইল ও সব আসবাবপত্র উপহার পাওয়ায় এগুলোর মূল্য হলফনামায় লেখা হয়নি। এগুলো বাদেই এবার তিনি অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন এক কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৮৯৯ টাকার। অথচ ২০০৮ সালে আসবাবপত্র, কম্পিউটার মোবাইলসহ তার অস্থাবর সম্পদ ছিল তিন লাখ ৫৪ হাজার টাকার। আগে টেনশনমুক্ত জীবনযাপন করলেও এখন নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন একটি শর্টগান ও একটি পিস্তল। এসব তথ্যই পাওয়া গেছে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া এমপি পলকের হলফনামা থেকে।

পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে সিংড়া দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরি নিলেও বছরের বেশির ভাগ সময় স্বামীর সাথে থাকেন ঢাকায়। তার পরিবর্তে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে ক্লাস নিয়ে দেন স্থানীয় চলনবিল কলেজের প্রভাষক গোলাম রব্বানী। একজন শিক্ষক বাইরে অবস্থান করে অন্যজনকে দিয়ে বছরের পর বছর ক্লাস নেওয়াতে পারেন কি না- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সিংড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেছেন, বর্তমানে প্রভাষক আরিফা জেসমিন ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন।

এ ব্যাপারে দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলকের আপন বড় ভাই জুবাইর আহমেদ নয়ন বলেছেন, হলফনামায় তার ছোট ভাই যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন তা বাস্তবের শত ভাগের এক ভাগও নয়। তিনি বলেন, একই পরিবারের মানুষ হয়েও আমি মাত্র কয়েক হাজার টাকার জন্য আমার চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে পড়ুয়া মেধাবী মেয়ে ঋতি মৃত্তিকা নয়নকে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে না পারায় সে মারা গেছে।

স্ত্রী ছাড়াও মা, চাচা, শ্বশুর, শ্যালক ও তার ফাইভস্টার বাহিনীসহ অনুগত কর্মীদের নামে-বেনামে পলক শত শত বিঘা জমি কিনেছেন ও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। পলকের বড় ভাই জুবাইর আহমেদ নয়ন সম্প্রতি তার ভাইয়ের টেন্ডারবাজি, ৬৫০টি পুকুর দখল, চাকরি বাণিজ্য, কালো টাকা, হত্যা বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি কমিশন, খাসজমি বরাদ্দ বাণিজ্যসহ অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং দখলবাজির বিষয়ে নিজের ও নিজের মারা যাওয়া মেয়ে ঋতি মৃত্তিকা নয়নের ছবিসহ ‘খাই খাই রাজনীতি আর কত দিন?’ শিরোনামে নাটোরে ব্যাপকভাবে পোস্টারিংও করেছেন।

এসব বিষয়ে জানার জন্য এমপি পলকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকা ফোন রিসিভ করে বলেন, এমপি সাহেব নির্বাচনী কাজে বাইরে আছেন। তিনি বলেন, ১৪৪ ভরি সোনা বিভিন্ন সময়ে দলীয় অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পাওয়া। আর খাট, টিভি ও ফ্রিজের বিষয়টি হলফনামায় ভুলবশত উপহার হিসেবে লেখা হয়েছে।

http://www.bd-pratidin.com/2013/12/24/33953

৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০৭

৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০৭ গুণ!

ডেস্ক রিপোর্ট : পাঁচ বছর আগে সাকুল্যে সম্পত্তি ছিল ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার। খুব অল্প দিনের ব্যবধানে সেটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি তিন লাখে। আগে বার্ষিক আয় ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তারপর দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রীর। মন্ত্রিত্ব পেয়েই বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়ালো তিন কোটি ২৮ লাখ টাকায়। পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বকালে সম্পত্তি বেড়েছে ১০৭ গুণ!

এই সৌভাগ্যবান হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। বর্তমানে তিনি ঢাকা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজেই যে সম্পত্তির বিবরণ দিয়েছেন, তাতে যে কারো চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। তবে প্রশ্ন হলো- রাতারাতি কীভাবে এমন বিত্তবান হয়ে উঠলেন সাবেক এই বামপন্থি নেতা।

মান্নান খানেরই ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে মান্নান সাহেব আইন ব্যবসা করতেন। তার থেকে কিছু আয় হতো। পূর্ত প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আইন পেশায় আর তাকে সময় দিতে দেখিনি। কাজেই আইন ব্যবসা থেকে এত টাকা আয় যে তার হয়নি, এটা নিশ্চিত। অন্য কোনো ব্যবসাও তার ছিল না। কাজেই পাঁচ বছরের ব্যবধানে তার সম্পত্তির পরিমাণ কমার কথা। অথচ দেখা গেল তা বেড়েছে শত গুণ। ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’।

মান্নান খানের নির্বাচনী এলাকা দোহারের এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জীবনেও শুনিনি সাবেক এই মন্ত্রী মাছের ব্যবসা করেন। এবার তিনি হলফনামায় স্ত্রীর নামে পাঁচটি এবং নিজের নামে আরো পাঁচটি মাছের ঘের আছে বলে উল্লেখ করেছেন। কোথায় সেই ঘের তা এলাকাবাসী জানে না। আর মাছের ব্যবসা করে যদি এত ফুলেফেঁপে ওঠা যায়, তাহলে দেশের সব মানুষ পেশা বদলে মাছচাষি বা জেলে হয়ে যেত।

মান্নান খানের এই আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ব্যাপারে খোঁজ করতে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দু’একজনের কাছে প্রসঙ্গ তুলতেই তারা জানান, প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বড়গলায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, কোনোদিন রাজউকের প্লট নেবেন না। সেই তিনিই এখন ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক। হলফনামায় ফ্ল্যাট দুটির মূল্য তিনি দেখিয়েছেন এক কোটি ৮১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এই টাকা তিনি কোথায় পেলেন প্রশ্ন করতেই পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজউকে (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) গিয়ে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাজউককে ভাঙিয়েই মান্নান খান সব কিছু করেছেন বলে তাদের অভিমত।

রাজউকে কয়েক দিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজ নামে অবশ্য তিনি রাজউকের প্লট নেন নি। বেনামে নিয়েছেন। গুলশান ৩২/এ নম্বরে লেকের ধারে একটি সড়ক তৈরি করে নতুন করে চারটি প্লট বানিয়ে চারজনে বরাদ্দ নিয়েছেন। তার ১ নম্বর প্লটটির মালিক জনৈক আনোয়ার হোসেন। এই নামের আড়ালে আসলে মান্নান খান। এলাকাবাসীও সেটা মান্নান খানের প্লট বলেই জানেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লটটির বর্তমান বাজার মূল্য ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে সেটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে বলে জানালেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।

রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, মান্নান খান দায়িত্বে থাকাকালে পূর্বাচলে ছয় হাজার ৮০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঝিলমিলে দেওয়া হয় আরো প্রায় হাজারখানেক। এর মধ্যে ১০ শতাংশ প্লট আগেই সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন তিনি। তার হাত দিয়ে এ ৮০০ প্লট বিতরণ হয়েছে। এর মধ্যে শতিনেক প্লট বিতরণ হয়েছে মান্নান খানের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে। যাদের মধ্যে শদুয়েক ব্যক্তির বাড়ি তার নির্বাচনীয় এলাকায়। এখানেও অনেক প্লট আছে, যেগুলোর আড়ালে আছেন মান্নান খান। এছাড়া আরও যাদের তিনি প্লট দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতানোর অভিযোগ মান্নান খানের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বারিধারায় মাদানী এভিনিউ নামে একটি সরণি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মান্নান খান। এই এভিনিউয়ের পাশেও একই কায়দায় বেনামি প্লট তৈরি ও বরাদ্দের আড়ালে আছেন তিনি। আর যেটুকু তিনি লুকাতে পারেন নি, ঠিক সেটুকুই তিনি নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় প্রকাশ করেছেন। বাস্তবে তার সম্পত্তি বেড়েছে অন্তত হাজার গুণ। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হিসাব বাস্তবের অংশবিশেষ মাত্র।

২০০৮ সালের হলফনামায় দেখা গেছে, কৃষি খাতে আবদুল মান্নানের বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার টাকা। গত ১ ডিসেম্বর দেওয়া হলফনামায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত ছিল না তার। এখন এসব খাত থেকে তার বার্ষিক আয় হয় এক লাখ ১১ হাজার টাকা। এখন তাঁর নিজের নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ৩৭ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রীর নামে কোনো শেয়ার না থাকলেও এখন দুই লাখ টাকার শেয়ার আছে। আগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার মতো কোনো আয় তার ছিল না। এখন তিনি মৎস্য ও রেমিট্যান্স থেকে বছরে আয় করেন এক কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ২২৭ টাকা।

এছাড়া এ খাতে তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় এক কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৫ টাকা। আগে নিজের কোনো ব্যবসা না থাকলেও এখন তার ওপর নির্ভরশীলদের ব্যবসা থেকে বছরে আয় হয় দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে আবদুল মান্নানের কাছে নগদ ৫১ হাজার টাকা ছিল। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪০ লাখ। পাশাপাশি বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল রয়েছে, যার মূল্য ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকা।

আগে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি না থাকলেও এখন তার নিজ নামে পাঁচ একর কৃষি জমি আছে। পাঁচ বছর আগে তার ও স্ত্রীর কোনো পাকা দালান ছিল না। এখন তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য এক কোটি ৮১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারা দেশের পূর্ত কাজের দিকেও প্রতিমন্ত্রীর নজর ছিল। পূর্ত ভবনে গেলে সে সবেরও খবর পাবেন।

এ প্রসঙ্গে মান্নান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান, স্যার এখন নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত। তাই কথা বলা যাবে না। কালের কণ্ঠ

স্থানীয় সময় : ০৯৫৫ ঘণ্টা, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩
http://www.amaderrshomoy.com/content/2013/12/24/middle0770.htm

আমি দু:খিত এবং খুবই দু:খিত: এমপি রনি

আধুনিক ইরানের শেষ শাহ অর্থাৎ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী ও সমসাময়িক অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। পাঠকদের জন্য ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

আমার কৈশোরবেলার স্বপ্ন পুরুষ তিনি। এক অদ্ভুত মায়া লাগে আজো তার জন্য। তাঁর তিন তিনজন অসাধারণ সুন্দরী, অভিজাত, আর শিক্ষিতা সম্রাজ্ঞীর মায়াবী বদন এবং একমাত্র রাজকন্যা প্রিন্সেস ফারাহনাজ ও দুই রাজপুত্র রেজা এবং আলী রেজার সঙ্গে স্বপ্ন জগতে ঢুকে মাঝে মধ্যে কথাবার্তা বলা ছাড়া হতদরিদ্র বাংলাদেশের এক উৎসুক তরুণের আর কি ই বা করার ছিলো। আমি যার কথা বলছি- তিনি হলেন আধুনিক ইরানের শেষ শাহ অর্থাৎ সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী।

তাবৎ দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী আর প্রভাবশালী শাহী রক্তের ধারক ছিলেন তিনি। তার বংশ গত আড়াই হাজার বছর ধরে কালকে এবং কখনো সকনো মহাকালকে অবাক করে দিয়ে জমিনের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করছিলো। শুরুটা করেছিলেন তারই পূর্বপুরুষ মহামতি সাইরাস আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে। সেই বংশের শেষ সম্রাট ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি দেশবাসীর কাছে কিভাবে পরাজিত হয়ে ইরান ত্যাগ করেছিলেন তার নেপথ্য কাহিনী শুনলে বাংলাদেশের পাঠকগণ হয়তো অনেক কিছুর আভাস পেয়েও যেতে পারেন।

তখনো রেজা শাহ পাহ্লবী ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। সর্বময় ক্ষমতা ছিলো পার্লামেন্টের হাতে এবং নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সেই ক্ষমতা ভোগ করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই ইরানে ব্যাপক আকারে তেল ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয় যার মালিক ছিলো বৃটিশ কোম্পানিগুলো। ঠিক এই সময়টিতে মোসাদ্দেক নামক জনপ্রিয় এক রাজনৈতিক নেতা দেশের সব তেল সম্পদ জাতীয়করণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বৃটেনে তখন উইনস্টন চার্চিল ক্ষমতায় আর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রম্যান। মুসাদ্দেকের জয়লাভের ফলে দুই ক্ষমতাশালীর মাথায় বাজ পড়লো। শুরু হলো মুসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করার নীল নক্সা।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিআইএ’ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এসআইএস’- লন্ডনে বসে যৌথ পরিকল্পনা করলো। প্রেসিডেন্ট থিউডর রুজভেল্টের নাতি কার্মিট রুজভেল্ট তখন সিআইএ প্রধান। তিনি উড়ে এলেন লন্ডনে। প্রণীত হলো অপারেশন ‘এ্যাজাক্স’ এর নীল নকশা। পরিকল্পনা মতে ইরানী সেনাবাহিনীতে ঘটানো হলো অভ্যুত্থান। প্রধানমন্ত্রী মুসাদ্দেক পদচ্যুত হলেন। তার স্থানে আজ্ঞাবহ জেনারেল ফজলুল্লাহ জাহেদীকে নিয়োগ দেয়া হলো। কিন্তু মূল ক্ষমতা রাখা হলো ইঙ্গো মার্কিন সাম্রাজ্যের দোসর শাহেন শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর নিকট।

এই ঘটনার একদিনের মাথায় সেনাবাহিনীতে একটি কাউন্টার অভ্যুত্থান হলো। অভ্যুত্থানকারীরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে উদ্ধার করলেন। অন্যদিকে শাহ পালিয়ে গেলেন বাগদাদে এবং তারপর ইতালিতে। কিন্তু এর দুই দিন পর আরো একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ঘটানো হয় সেনাবাহিনীতে। ফলে মার্কিন বৃটিশের নীল নক্শা অপারেশন এ্যাজাক্স এবার সফল হয় শতভাগ। শাহ ইরানে ফিরে আসেন চটজলদি। এসব ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৩ সালে।

পতনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৭৯ সালের ১৬ ই জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের নিরষ্কুশ সর্বময় ক্ষমতা ছিলো শাহের হাতে। তার ইঙ্গো-মার্কিন মদদ দাতারা অনবরত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন তাকে। ফলে তার পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রতিদিন রাজপথে শত শত মানুষকে গুলি করে মারছিলো। অথচ ১৯৫৩ সালের পর থেকে ইরানে যে অকল্পনীয় উন্নতি হয়েছিলো তাতে জনগণের খুশি বা সন্তুষ্ট থাকার কথা ছিলো এবং তারা তা ছিলোও। কিন্তু শাহের কতিপয় ব্যক্তিগত আচরণ, অভ্যাস আর পশ্চিমা সংস্কৃতির অবাধ প্রচলন দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধীরে ধীরে বিক্ষুদ্ধ করে তোলে। এই বিক্ষোভই অগ্নিগর্ভে রূপ নেয় ১৯৭৭ সালের শেষ দিকে।

এবার আমি বলছি কোনো ইরানের লোকজন শত সহস্র উন্নয়নের পরও এতো রাগ করলো। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তেহরান শহরে কোন পাবলিক বাসে কোন দাড়ি টুপিধারী মুসল্লী উঠলেই কনট্রাকটর টিটকারী করে বলতো- আমরা আলেম আর বেশ্যাদের বাসে চড়াই না। রাস্তায় রাস্তায় গড়ে উঠেছিল মদের দোকান। শহর ও শহরতলীতে শত শত নাইটক্লাবে চলতো সারারাত ব্যাপী ডিস্কো পার্টির নামে মদ্যপান, জুয়া আর অবাধ যৌনাচার।

শাহ নিজেও ছিলেন পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত। তার স্ত্রী, সন্তানরাও পশ্চিমা ধাঁচে চলতেন। শাহ এবং তার স্ত্রী সকল রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং দেশী বিদেশী সরকারী অনুষ্ঠানসমূহে পশ্চিমাদের পোশাক পড়তেন। এসব কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ দিনকে দিন ফুঁসে উঠতে থাকেন। আয়াতুল্লাহ খোমেনী ছিলেন একজন অপরিচিত ধর্মীয় ইমাম। মুসলমানদের এই মনের কষ্ট তিনি বুঝতে পেরে শিয়াদের ধর্মীয় শহর নাজাফে একটি জনসভা আহ্বান করেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশ হয় সেখানে। শাহের সরকার প্রথমে এই বিশাল সমাবেশকে মোটেই গুরুত্ব দিলেন না। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকলো দ্রুত। তেহরানের রাস্তায় বিক্ষুদ্ধ মুসলমানেরা নেমে আসলো। সংখ্যায় ছিলো তারা অগণিত। সেদিন ছিলো শুক্রবার। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ লোক তেহরানে জমায়েত হয়। তারিখটি ছিলো ১৯৭৮ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর। শাহের বাহিনী বিশাল জনসমাবেশের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। আপাতত লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় কিন্তু দিবসটিকে ইরানের ইতিহাসে কুখ্যাত ব্লাক ফ্রাইডে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ব্লাক ফ্রাইডের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত সিআইএ এজেন্ট ওয়াসিংটন ডিসিতে সিআইএ হেড কোয়াটারে রিপোর্ট করেন যে- ৮ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর শাহের শাসন ক্ষমতা এতোটাই সূদৃঢ় হয়েছে যে- আগামি ১০ বছরে বিরোধী পক্ষ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। অথচ এর মাত্র ৩ মাসের মাথায় অর্থ্যাৎ ১৬ ই জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে মাত্র একদিনের গণ অভ্যূত্থানে শাহের পতন হয়।

পরিবার পরিজন নিয়ে শাহ দেশ থেকে পালিয়ে যান। তার দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃটেন তাকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করে। তিনি প্রথমে ইটালি যান। কিন্তু ইটালী তাকে অসম্মান জনকভাবে বিদেয় করে দেয়। এরপর তার বিমান উড়াল দিলো পানামায়। সেখানকার সরকারও গ্রহণ করলো না। অনেক দেন দরবার এবং অনুনয় বিনয় করার পর মিশর তাকে সাময়িকভাবে সেই দেশে ঢোকার অনুমতি দিয়েছিলো একটি কারনে। প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে বোঝানো হলো যে- শাহের প্রথম স্ত্রী ফৌজিয়া ছিলেন মিশরের প্রয়াত এবং ক্ষমতাচ্যুত বাদশা ফারুকের বোন। এই রাজপরিবারের প্রতি তখনো মিশরের জনগণের বেশ সহানুভুতি অবশিষ্ট ছিলো। কাজেই মিশরের রাজকণ্যার স্বামী ভিক্ষুকের মতো দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবে সেটা মিশরবাসীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

শাহ ফিরে এলেন কায়রোতে। তার শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিল। নানা রকম হতাশা আর ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে তিনি বেশিদিন জীবনটাকে টেনে নিতে পারলেন না। ফলে কায়রোর একটি হোটেলে তিনি মারা যান ১৯৮০ সালের ২৭ শে জুলাই- যখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৬০ বছর।

ক্ষমতার শেষ দিকে সম্রাট অতিমাত্রায় অহংকারী হয়ে পড়েছিলেন। নিজের বংশ আর রাজ রক্তের অহমিকায় তিনি লোকজনকে মানুষ বলেই মনে করতেন না। কথায় কথায় লোকজনকে অস্মান করতেন। খোটা দিয়ে কথা বলতেন। দেশের সেনাবাহিনী বা বেসামরিক প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তাগণের পরিবর্তে তিনি মার্কিন এবং বৃটিশ দূতাবাসের কুকুরকে বেশি মর্যাদা দিতেন। মার্কিন ও ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তিনি দ্বিতীয় খোদা ভাবতেন।

তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, ইরানের জনগণ তাকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসে। কিন্তু জনগণ যে তাকে এবং তার পরিবারকে কি পরিমান ঘৃণা করতো তা বোঝার বোধশক্তি তিনি হয়তো খোদায়ী গজবের কারণে হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ৩৫ বছর পরও ইরানবাসী শাহের নাম উচ্চারিত হলে ঘৃণাভরে থু থু ছিটায়। আজও তার পরিবারের লোকজন জনগণের ক্ষোভের কারণে ইরানে যায় না। অথচ ইরান সরকারের এই বিষয়ে কোন বিধি নিষেধ পর্যন্ত নেই।

ইরানের সেই দিনের প্রেক্ষাপট আর আজকের বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু আলোচনার যে ইচ্ছা লেখার শুরুতে মনের মধ্যে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছিল তা আর কোনো জানি মাথা থেকে বের হচ্ছে না। আমার নির্বোধ কলম কিছুতেই পাঠকগণকে নতুন সমীকরনের যোগফল মিলিয়ে দিতে পারলো না। আমি দু:খিত এবং খুবই দু:খিত একটি অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসংঙ্গিক ইতিহাসের উপাখ্যান পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য।

স্থানীয় সময়: ১৮৫৬ ঘণ্টা, ২২ ডিসেম্বর ২০১৩

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla