Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস, একজন নোবেল লাউরিয়টের অকাল মৃত্যু

দেশজুড়ে ইউনুসোফোবিয়ার যে সুনামী বয়ে গেল তাতে জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। বিশেষ করে ব্লগ দুনিয়ার অংশগ্রহন। এ যাত্রায় ব্লগারদের মত প্রকাশের ভাষা ও তাদের চিন্তাশক্তির গভীরতা অতীতের সবকিছু ছাড়িয়ে এমন এক উচ্চতায় ঠাঁই নিয়েছে যা কেবল থাই অথবা ইন্দোনেশিয়ার সুনামির সাথেই তুলনা করা চলে। আক্ষরিক অর্থেই সুনামি বয়ে গেছে দেশজুড়ে। নরওয়ের অসলোতে সৃষ্ট বানিজ্যিক ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পরল ব্যক্তি চরিত্রের জলোচ্ছ্বাস হয়ে। আর এই জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নিল ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস নামের একজন বাংলাদেশির প্রাণ। তবে রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যাবে এটা ডক্টর মোঃ ইউনুসের প্রথম এবং একমাত্র মৃত্যু ছিলনা। এর আগেও একাধিকবার মরতে হয়েছে বেচারাকে।

শুরুটা ভালই ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপকের জন্যে। জোবরার গ্রামের অখ্যাত সুফিয়া না আমিনা নামের কাউকে কিছু টাকা ধার দিয়ে তা ফিরিয়ে নেন লাভ পকেটস্থ করে। বলা হয় এভাবেই নাকি জন্ম নিয়েছিল গ্রামীন দুনিয়ার। জোবরার সাফল্য একসময় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে স্থান করে নেয় পশ্চিমা দুনিয়ার দেশে দেশে। রবীন্দ্র নাথ আর অমর্ত্য সেনের বাইরে বাংলাদেশি গরুখোর মুসলমানদের কেউ নোবেল পুরস্কার পেতে পারে মংগল প্রদীপ জ্বলানো বুদ্ধিজীবীরা বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করেন নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই ঘটল। ডক্টর ইউনুস ছিলেন সে হতভাগা যার কপালে জুটল নোবেল পুরস্কারের বিতর্কিত সন্মান। একজন অর্থনীতিবিদ কেন শান্তিতে নোবেল পায় এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পণ্ডিতদের অনেকে বোঝালেন সফল অর্থনীতিই জনশান্তির পূর্বশর্ত। যেহেতু শান্তি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক তাই কোনটার উপর নোবেল পেল তার মৌলিক কোন তফাৎ নেই। ডক্টর ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তিতে মানুষ ভাসল খুশিতে আর স্তূতির সমুদ্রে সাতার কাটল দেশের মিডিয়া। সবকিছু চলল সেভাবে যেমনটা আশা করা গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যাটার শুরু অন্য জায়গায়। দেশের রাজনীতির ভাগ্যাকাশে ততদিনে দেখা দিয়েছে কালো মেঘের ঘনঘটা। ১/১১ এল ঝড়ের মত। আর এই ঝড় উড়িয়ে নিল রাষ্ট্র ও সরকার যন্ত্রের সাথে জড়িত আমলা ও রাজনীতিবিদের পরিধেয় বস্ত্র। জাতি অবাক হয়ে দেখল লালু ভুলু আর টুলুদের নগ্ন শরীর। ওসমান গনি আর বাকের ভাইদের আলৌকিক উত্থানের সাথে যোগ হল সাজেদা চৌধুরীর মত জাত রাজনীতিবিদ আর শাজাহান সিরাজের মত বাংলাদেশের আর্কিটেক্টদের নাম। এই দুইয়ের কম্বিনেশন বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে এনে দিয়েছিল দুর্নীতিতে হ্যাটট্রিক শিরোপা। সেনাছাউনির সহায়তায় নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের বানী শোনাল আমাদের। জাতি ভাবল পরিবর্তন এলো বলে! দেশের রাজনীতি ও আর্থ-সামাজিক সংস্কৃতিতে যে পচন তা বদলাতে প্রয়োজন ছিল নতুন মানুষের, এমনটাই বুঝালেন সেনা সমর্থিত ইন্টেরিম সরকার। মাইনাস টু ফর্মুলা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে উঠে এল ডক্টর মোহম্মদ ইউনুসের নাম। ডক্টর সাহেবও ভাবলেন নোবেল জোয়ারে জাতি যেভাবে তাকে অবগাহন করিয়েছে রাজনীতির মাঠেও বইবে একই জোয়ার। বিশাল আয়োজনে রাজনীতিতে পদার্পণের ঘোষনা দিলেন জোবরা গ্রামের ইউনুস মাষ্টার। আর এখানেই জন্ম নিল নতুন এক ইউনুসের, সুদখোর ইউনুস।

সুদ শব্দটার একটা আত্মঘাতী গন্ধ আছে। এর সাথে ধর্মীয় লোবান মেশাতে পারলে পটাশিয়াম সায়ানাইডের চাইতেও শক্তিশালী মৃত্যুবাণ তৈরী সম্ভব। হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়নশীপের খেলোয়াড়রা তাই করলেন এবং তা ব্যবহার করলেন ডক্টর ইউনুসের বিরুদ্ধে। মৃত্যু হল এই ডক্টরের। নোবেল লাউরিয়ট হতে রাতারাতি মানুষটাকে নিক্ষেপ করা হল সাফল্যের আস্তাকুঁড়ে। আখ্যায়িত করা হল রক্ত চোষা ভ্যাম্পায়ার হিসাবে। সুদের একটা ইংরেজী শব্দ আছে যাকে বলা হয় ইন্টারেস্ট। বিশ্বায়নের পৃথিবীতে টিকে থাকতে চাইলে এই ইন্টারেস্টের প্রয়োজনীয়তা এখন অক্সিজেনের মত। পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের ধমনীতে প্রবাহিত হয় ইন্টারেষ্টের লাল নীল রক্ত। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, ইউ এস এইড, সৌদি তহবিল, কুয়েতি ফান্ড, এ ধরণের গোটা বিশেক ইন্টারেস্টখোর প্রতিষ্ঠানের আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে আছে বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের সবগুলো দেশের শরীর। এরা ইন্টারেস্টে অর্থ খাটায়, আর আমরা তা খাটতে দেই, যাকে সুদ আখ্যায়িত করতে আমরা কোথায় যেন লজ্জা। কারণ এই টাকায়ই যে জন্ম নেয় একজন তারেক জিয়া, খাম্বা মামুন আর মোচ ওয়ালা শেখ সেলিম। এই টাকার উপরই রচিত হয় মইনুল হোসেন রোড উপাখ্যান, আর এই টাকাই সুদূর ভার্জিনিয়া ও আয়েসের লীলাভূমি ফ্লোরিডায় জন্ম হয় সম্পদের মালিক বড় বড় বিজ্ঞানীদের।

সনাতনী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পতন মাইটি আমেরিকার জন্যে বয়ে এনেছে শতাব্দীর ভয়াবহ মন্দা। ব্যাংক অব আমেরিকা আর সিটি ব্যাংকের মত বিলিয়ন ডলারের জায়ান্ট ব্যাংক গুলো জীবন্মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সন্ধান করছে নতুন পদ্ধতির। রুগ্ন লোন আর অনাদায়ী সুদের দফারফা করতে গিয়ে ক্রোক দিচ্ছে আমেরিকানদের বাড়িঘর। বাস্তুহারা আর চাকরিহারা আমেরিকানদের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। এমন একটা প্রেক্ষাপটে জোবরা গ্রামের ধারণা পশ্চিমা দুনিয়ার নজড় কাড়বে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ ওরা নতুনের পূজারী। সভ্যতার বিবর্তনে এদের অবদানের জন্যেই আজকের পৃথিবী খুঁজে পেয়েছে নেট দুনিয়ার মত হাজারও আবিষ্কার। দেশের ঘরে ঘরে যখন ইউনুসকে সমাহিত করার অলআউট উৎসব, পৃথিবীর অন্য কোথাও তখন বইছে ভিন্ন স্রোত। মাত্র গতকাল নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিও এম হেলথ তাদের বোর্ডের সদস্য বানিয়েছে ডক্টর ইউনুসকে। রহস্যটা কোথায়? তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের ভারসাম্য ধরে রাখতে কি ব্যর্থ হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়া? আমরা যাদের চোর বলছি সন্মান দিয়ে ওরা লুফে নিচ্ছে তাদের, আর ওদের দৃষ্টিতে যারা চোর তাদের আমরা বসাচ্ছি সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে। আয়রনী হচ্ছে, দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র হিসাবে ওরা সফল, আর আমরা দাড়িয়ে আছি ব্যর্থতার ক্রসরোডে।

ক্ষুদ্র ঋণের জন্যে দেয়া নরওয়ে সরকারের অর্থ গ্রামীন ব্যাংক তার সিস্টার সংগঠনে ট্রান্সফার করেছে ব্যবসায়িক স্বার্থে। ঋণদাতা বলছে এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযোগ মানেই ডক্টর ইউনুস ও তার গ্রামীন সাম্রাজ্যকে দুর্নীতির তকমা লাগানো নয়, এমন একটা নিশ্চয়তাও দিয়েছে অভিযোগকারী। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বাধ ভাংগা জোয়ারের মত ভেসে গেল অভিযোগের আসল উদ্দেশ্য। পৈশাচিক উন্মত্ততায় বাংলাদেশিরা নেচে উঠল তাদের সন্তান ইউনুসকে কবর দিতে। ব্লগীয় দুনিয়া কেঁপে উঠল ইউনুস নিন্দায়। ব্লগীয় ভাষার সহজ বাংলা করলে এমনটাই প্রতীয়মান হবে যেন ডক্টর ইউনুস শত শত কোটি টাকার লোন লোপাট করে দিয়ে ভূমধ্যসাগরের কোন বিলাসবহুল দ্বীপে সুরম্য প্রাসাদ বানিয়েছেন। আসলেই কি তাই?

নতুন কিছুর সন্ধান না করে জীবন কাটিয়ে দেয়া খুব সহজ। চাইলে ডক্টর ইউনুসও তা পারতেন। গ্রামীন সাম্রাজ্য তৈরী না হলে হয়ত কোন এক নেত্রীর নিবেদিত পূজারী হয়ে নাম লেখাতেন লাল, নীল অথবা সাদা ক্যাম্পে। আর দশটা অধ্যাপকের মতই হয়ত বগলে ফাইল নিয়ে প্রমোশনের আশায় ঘুরে বেড়াতেন রাজনীতির পেছনে। তিনি তা করেন নি। আর তা করেন নি বলেই বিশ্ব মুখ দেখেছে মাইক্রো ক্রেডিট এবং সামাজিক ব্যবসার মত নতুন ধ্যান ধারণার। অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশে এসব তো কাজ করছেই না, বরং সর্ব শান্ত করছে দেশের দরিদ্র জনসমষ্টিকে। হতে পারে তা সত্য। গ্রামীন ব্যাংক দাতব্য চিকিৎসালয় নয় যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস এমন কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও জানা নেই। দশ টাকা কেজি চাল আর বিনামূল্যে সার বিতরনের মত ভাওতাবাজীর প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি এ রাস্তায় আসেন নি। উনার ব্যবসা সুদের ব্যবসা, এবং এ ব্যবসায় জড়িত হওয়ার জন্যে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে নীল চাষের মত বাধ্য করা হয় বলেও জানা নেই। যারা চড়া সুদ নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের উচিৎ গ্রামগঞ্জের গরীব মহিলারা কেন গ্রামীন ব্যাংকের মত সুদখোরদের হাতে ধরা দেয় তার কারণ খুঁজে বের করা। দেশের আবিষ্কার মাইক্রো ক্রেডিট বিদেশে কাজ করলেও দেশে কাজ করবে না, কারণ জোবরা গ্রামে শুধু সুফিয়া আর আমিনাদেরই বাস নয়, এখানে বাস করে পশুলীগ, পশুদল আর পশুশিবিরের মত শত শত হিংস্র পশুর দল।

Comments

Dr. Younus.

Hello all,

I truly feel that we Dr. Younus stood up for the poor, for the well being of our country. We can keep writing in favor of Dr.Younus, and limit ourselves within writing only. But I like to request all and my humble request to all "Let us get united in a forum, we need to regain the strength and kick out Politicians"

Hussain M
Lynnwood, Washington

বিচিন্তা : ড. ইউনূসকে ঘায়েল করার দশচক্র

সাদেক খান
বাংলাদেশের নেতা-নেত্রীরা বাক-সংযমের ধার ধারেন না। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যারা নাৎসি প্রচার-বিশেষজ্ঞ গোয়েবলসের কলাকৌশল রীতিমতো রপ্ত করেছেন, তারা মুখ সামলাতে একেবারেই নারাজ। দলবদ্ধভাবে কিছু ব্যক্তি যদি একটা মিথ্যা কথাকে সত্য বলে বারবার জাহির করতে থাকে, তাহলে সরল বিশ্বাসে অনেকের কাছে সেটাই প্রামাণ্য সত্য বলে মনে হবে, এটা আওয়ামী প্রচারযন্ত্রের বাদকরা ভালোভাবেই জানেন। তাই ইশারা পেলেই দশচক্রে ভগবান ভূত সাব্যস্ত করতে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ভাষায়, ‘সব শিয়ালের এক রা’ হুক্কা হুয়া শুরু হয়ে যায়। যেমন ঘটেছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে।
এবার ইশারাটা এসেছে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জবান থেকে। ১৯৯৬-২০০১ সালের মেয়াদে তার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে শেখ হাসিনাকে ঘিরে কিছু উচ্চপদস্খ চাটুকার সরকার চালাচ্ছিলেন। তারা তাকে বুঝিয়েছিলেন, যেমন অনেক বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে মোটা টাকা দান করে ডক্টরেট ডিগ্রি কেনা যায়, তেমনি লবি করে নোবেল শান্তির পুরস্কারও আদায় হতে পারে। কারণ, তিনি উপদ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্খাপন করেছেন। এ লবি করতে একুশ শতকের তথা নয়া সহস্রাব্দের সিঁড়ি ভাঙার বছরগুলোতে দুনিয়ার সেরা রাজধানীগুলোতে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ শেখ হাসিনার নাম জারি করে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহল চষে বেড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় পাত্র কিছু বিশিষ্ট রাজকর্মচারী ও তাদের রংরুট কিছু ‘বিদ্বজ্জন’। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, নোবেল পুরস্কার বর্তালো বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণদাতা পল্লীসেবক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাগ্যে। বাংলাদেশে ‘অনুদার গণতন্ত্র’ কায়েম বা পার্বত্য চট্টগ্রামে ঠুনকো শান্তির কৃতিত্ব বিশ্বমানের ধোপে টেকেনি।
দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত এখনো ‘মর্যাদার প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিবেচনা করে ড. ইউনূসকে কুনজরেই দেখছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ড. ইউনূসের যে ‘শখের রাজনীতি’র বুদ্বুদ ফেনিয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে সঙ্গতভাবেই কটাক্ষ করেছিলেন শেখ হাসিনা। আরো ‘রাজা যত বলে পারিষদ বলে শত গুণ’ কটু কথা শুনতে হয়েছিল ড. ইউনূসকে। সম্প্রতি বিশ্ব পুঁজিবাজার সঙ্কটের জেরে বìধকনির্ভর ব্যাংকব্যবস্খার ভগ্নস্বাস্খ্য পুনরুদ্ধারের জন্য লগ্নি পুঁজি নিজস্ব কায়দা বজায় রেখেই নির্ভরযোগ্য খদ্দেরসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বìধকের স্তর বাড়িয়ে ফটকাবাজার বìধ করে ক্ষুদ্রঋণের বাজার হাত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। শুরু হয়েছে দুনিয়াজুড়ে প্রচারমাধ্যম ও পাঠচক্রে গবেষণাপত্রে বìধক বা জামিনমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ব্যবস্খার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা। বলা হচ্ছে, ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য নিরসনের সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অক্ষম। শুধু ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দারিদ্র্য কমবে এমন কোনো দাবি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্খাপকরা কোনো দিন করেননি। দারিদ্র কমানোর জন্য যে বিশ্বব্যবস্খায় এবং বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কাঠামোগত ও আর্থসামাজিক সংস্কার প্রয়োজন তার উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কদের, পল্লীসেবকদের নয়। পল্লীর যে সম্পদ শুষে ধনবাদী পুঁজিগঠন হচ্ছে ধনবাদী ব্যবস্খারই আওতায়, সেই পুঁজির সামান্য বরাদ্দ সমাজসহায়ক পদ্ধতিতে পল্লীবাসীর ন্যূনতম ক্ষমতায়নে বিতরণ করছে ক্ষুদঋণদাতারা। তাতে পল্লী কর্মসংস্খানসহ দারিদ্র্যের পীড়া লাঘবের যে সুফল ভোগ করছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক নিু আয়ের জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক প্রসার ও জনপ্রিয়তাই সেই সাফল্যের অকাট্য প্রমাণ। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম, কিছু পদস্খলনকে পুঁজি করে চলছে পাশ্চাত্যের একটা বিশেষ মহলের শক্তিশালী প্রচারবাদ্য, কুৎসা রটনা। তাতে মওকা পেয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও মুখ সামলাতে পারেননি। বলে বসলেন : ‘বাংলাদেশ অনেক কিছুতে দৃষ্টান্ত স্খাপন করছে। জনগণের টাকা নিয়ে ভোজবাজি খেলারও দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। দরিদ্র মানুষকে ঋণ দিয়ে অর্থ চুষে খাওয়া হয়। কোথাও দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন হয় না। দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে বাইরে থেকে শুধু টাকা নিয়ে আসা হয়েছে। দরিদ্র মানুষগুলোকে সব সময় গরিব রেখে তাদের গিনিপিগ বানানো হয়েছে। দারিদ্র্য লালন করা হয়েছে। আমি কখনোই এটা সমর্থন করিনি; বরং বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিবাদ করেছি। মানুষকে নিয়ে ধোঁকাবাজি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। প্রথমে আমিও ধোঁকায় পড়েছিলাম। বলা হয়েছিল, গ্রামের সাধারণ মেয়েরা ফোনের ব্যবসায় করে স্বাবলম্বী হবে। এতে আমিও পুলকিত হয়েছিলাম। এখন তো দেখছি, গ্রামের মেয়েরা যে অবস্খায় ছিল, সে অবস্খায়ই আছে। যাদের টাকা পাওয়ার তারা টাকা লুটে খেয়ে চলে যাচ্ছে।’
তারপর সরাসরি নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে টার্গেট করে দলীয় প্রচারযন্ত্রের চরিত্রহনন অর্কেস্ট্রা চালু করার সিগনাল দিলেন। বললেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনের নামে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে দরিদ্র মানুষের রক্ত চুষে খান তিনি (ইউনূস)। ওই ঋণ নিয়ে কেউ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়নি। গরিব মানুষের রক্ত চুষে বেশি দিন টেকা যায় না, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি অংশও ড. ইউনূস নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। গ্রামীণ ব্যাংক আসলে সরকারি ব্যাংক, কিন্তু এটাকে এমনভাবে কব্জা করা হয়েছে যেন মনে হয়, এটি একজনের ব্যক্তি-সম্পত্তি। উনি পারলে সরকারকে শূন্য করতে চান। এরও তদন্ত করা উচিত। গরিব মানুষ নি:স্ব হচ্ছে। ভালো ভালো কথা বলে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে। এখন অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে।’
সাথে সাথেই চালু হলো ইউনূস ধাবনের অর্কেস্ট্রা। ইঙ্গিত পেয়ে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছিলেন, ‘ড. ইউনূস যে দুর্নীতিবাজ তা আবারো প্রমাণিত।’ ছাত্রলীগসহ শাসক দলের সরকারি নেতারা, সহযোগী দলনেতারা সমস্বরে এবার আওয়াজ তুললো ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নোবেল ছিনিয়ে নিয়ে নতুন কাউকে দেয়ার জন্য নোবেল কমিটির প্রতি আহ্বান জানাতে হবে। ড. ইউনূস যখন রাজনীতিতে আসার পাঁয়তারা করেছিলেন, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সুদখোর বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্খা নিতে সরকার পিছপা হবে না, ইত্যাদি।
সরাসরি ড. ইউনূসকে ঘায়েল করার প্রচারাভিযানের এ মওকাটা অবশ্য দিয়েছে ডেনমার্কের এক প্রামাণ্য চিত্রনির্মাতা। অনুমান, ক্ষুদ্রঋণের ‘ব্যর্থতা’ অনুসìধান করে উদ্দেশ্যমূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তিনি কায়েমি স্বার্থের দ্বারা বাংলাদেশে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি খুঁজে বের করলেন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্খাপনায় একটা অনিয়মের কথা। ব্যস, তার কাজ হয়ে গেল, কারণ ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্খার সাফল্যের প্রতীক তো ড. ইউনূস। তা ছাড়া বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ‘মুসলিম’ দেশের একজন সাধারণ অর্থনীতিবিদ, তিনি সমাজসেবায় বা উদ্ভাবনী উন্নয়ন চিন্তায় যতই কৃতিত্বের দাবিদার হোন না কেন, অগ্রসর বা অগ্রসরমান দেশের এলিট সমাজের পণ্ডিতদের ডিঙিয়ে তিনি নোবেল পুরস্কার নিয়ে নেবেন এটা নর্ডিক উন্নাসিকদের অনেকেরই পছন্দ নয়। তার সাথে মিলেছে এ দেশেরও রাজনৈতিক পরশ্রীকাতরতা।
তিরিশ নভেম্বর নোবেল পুরস্কারদাতা দেশ নরওয়ের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বাংলাদেশ ফেরতা ডেনমার্কের প্রামাণ্য চিত্রনির্মাতা প্রেরিত যে ভিডিও চিত্র প্রচারিত হয়, তার শিরোনাম ছিল ফ্যাংগেট আই মাইক্রোজোল্ড বা ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে। ওই টেলিসম্প্রচারের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের বার্তা সংস্খা বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম পয়লা ডিসেম্বর একটা সংবাদভাষ্য প্রচার করে। সেই সংবাদভাষ্যের ভিত্তিতে পরদিন দোসরা ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চাঞ্চল্যকর খবর এলো, গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল থেকে ড. ইউনুস কোটি কোটি টাকা সরিয়েছেন। ‘রক্তচোষা’ দুষ্কৃতির গìধ পেয়ে প্রচারবাদ্যের নেকডেরা ‘গরিবের হাড় মাস’ খুঁজতে তক্ষুনি মাঠে নেমে পড়ল। কেউ খতিয়ে দেখে বলল না, বিষয়টা একটা দাতব্য তহবিল থেকে একই শৃঙ্খলাধীন আরেকটা দাতব্য তহবিলে অর্থ হস্তান্তর ও ফেরত নেয়ার বিষয়, রক্ষণশীল দাতাপক্ষের একটা নিয়মের কড়াকড়ির শৈথিল্য ও তার সংশোধনের বিষয়। প্রথমে তেসরা নভেম্বর অবশ্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, তিনি (ইউনূস) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তার দুর্নাম হলে তা জাতির জন্য দুর্নাম বয়ে আনবে। তাই এ বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ইউনূস বাংলাদেশের জন্য একটি মডেল এবং সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সমঝোতার মধ্য দিয়ে তহবিল সরানো হলে দোষের কিছু নয়।’ কিন্তু রাশিয়া, বেলজিয়াম ও জাপান সফর শেষ করে দেশে ফিরেই ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আখের গোছাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন ড. ইউনূস। তহবিল তসরুপের ইঙ্গিত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চৌঠা ডিসেম্বর একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলে, গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল অন্য তহবিলে জমা ও গ্রামীণ ব্যাংকে ফেরত জমার বিষয়টি ১৯৯৮ সালেই দাতাপক্ষের নরওয়ের লিখিত সন্তুষ্টি মোতাবেক নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে ব্যাখ্যা দেয়া হয় (সংক্ষেপিত): ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে অবৈধ বা অন্যায় কিছু ছিল না। সব সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ডের মাধ্যমে এবং সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছিল গরিব মানুষের কল্যাণের দিকে লক্ষ রেখে। নোরাড ও অন্য দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া তহবিল সম্পর্কে বলা হয়েছে, গামীণ ব্যাংক ও দাতারা ঋণের জন্য ২ শতাংশ সুদ ধার্য করে এবং ওই অর্থ দিয়ে সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) তৈরি করবে যা গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও কর্মচারীরা ব্যবহার করতে পারবেন। এসএএফ’র বিষয়টি ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের পরামর্শ এবং দাতারা তাতে সানন্দ সম্মতি দিয়েছিল।
গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ্বাস, যদি সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড গ্রামীণ ব্যাংকেই রাখা হতো এবং গ্রামীণ ব্যাংকই এ ফান্ডের তত্ত্বাবধান করত তাহলে এটির পূর্ণ সদ্ব্যবহার হতো না। গ্রামীণ ব্যাংক সব সময় তার সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে না। অধিকন্তু গ্রামীণের কর রেয়াত সময়সীমা ১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর উত্তীর্ণ হয়ে যায়। এরপর এ সময় সরকার আর বাড়াবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। যদি সরকার সময় না বাড়াত, তাহলে সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড থেকে, যা খরচ হয়েছে তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের খরচ হিসেবে ধরা হতো না। এর ফলে সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ডের ওপর ৪০ শতাংশ কর আরোপিত হতো। এর ফলে সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ডে দেয়ার জন্য রিভলভিং ফান্ডের ওপর থেকে দুই শতাংশ সুদ আরোপ করা হয়, তা কমাতে অথবা বìধ করতে বাধ্য হতো গ্রামীণ ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে সেটা হতো দাতাদের সাথে চুক্তির বরখেলাপ। এ পরিস্খিতিতে নতুন একটি সংস্খা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দেয়, যা থেকে জন্ম হয় গ্রামীণ কল্যাণের। এই সংস্খা ওই সুদ থেকে পাওয়া অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে।
গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে এবং বিখ্যাত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সংস্খা ‘রহমান রহমান হক’-এর মতামত নিয়ে ১৯৯৬ প্রতিষ্ঠিত হয় গ্রামীণ কল্যাণ। এর লক্ষ্য গ্রামীণের ঋণগ্রহীতা ও কর্মীদের (যাদের ৯০ শতাংশই নিুবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে) কল্যাণে কোম্পানির আইন অনুসারে এটি একটি নন-প্রফিট (মুনাফাবিহীন) কোম্পানি। এর মুনাফা বন্টন করা হয় না; বরং গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও কর্মীদের প্রাথমিক স্বাস্খ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যয় হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি বলে ৩৯১ কোটি ৪০ লাখ টাকা গ্রামীণ কল্যাণ তহবিলে স্খানান্তর করা হয়। কিন্তু এ টাকার নিয়ন্ত্রণ কখনোই গ্রামীণ কল্যাণকে দেয়া হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক এ টাকা ঋণ আকারে ফেরত নেয় এবং ঋণের সুদও দেয়। সুদ বাবদ পাওয়া অর্থ গ্রামীণ ব্যাংক ও দাতাদের সম্মতিক্রমে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের সোস্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ডে জমা হতো। তারাই হতো এর মালিক।
তহবিলের সর্বোচ্চ ব্যবহারের স্বার্থে গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের ৯ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সরকারের সিনিয়র প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত বোর্ড এ পদক্ষেপ নেয়। দাতাদের মঞ্জুরি থেকে ঋণগ্রহীতারা যাতে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে এবং গ্রামীণ ব্যাংক যাতে আর্থিকভাবে স্বচ্ছ থাকে সে জন্য এ বোর্ড গঠন করা হয়। পরে শুধু নোরাডের অর্থই নয়, দাতাদের অর্থের এক শ’ ভাগ মিলিয়ে ৩৪৭ কোটি ৪৫ লাখ এক হাজার টাকা গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে ফেরত দেয়া হয়, যদিও এ অর্থ সব সময় গ্রামীণ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেই ছিল। সুদের বাইরে রাখার জন্য শুধু এসএএফ তহবিলের ৪৪ কোটি ২৫ লাখ দুই হাজার টাকা গ্রামীণ কল্যাণের কাছে রাখা হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি সব সময় অত্যন্ত স্বচ্ছ। সরকার মনোনীত দেশের স্বনামধন্য নাগরিকই গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডে সভাপতিত্ব করে থাকেন। চেয়ারম্যান ছাড়াও সরকার এ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রতি বছর দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম গ্রামীণ ব্যাংক অডিট করে এবং এর সব হিসাব সরকার ও ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টকে দেয়া হয়। প্রতি বছর সব দাতার কাছেও এ রিপোর্ট পাঠানো হয়। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গ্রামীণ ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ অনুসìধান করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, বাংলাদেশে বসে বাংলাদেশে যেন কর দিতে না হয়, সে জন্য এই ট্রিকস। কিভাবে জনগণের টাকা নিয়ে খেলা দেখানো যায়, সে খেলাই দেখানো হয়েছে।
সে কথার জবাব দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করে ড. ইউনূস বলেছেন, অন্যান্য এনজিওকে যেমন লভ্যাংশ দরিদ্রের সেবায় নিয়োগের জন্য করের রেয়াত দেয়া হয়, তিনি সেই রেয়াতই গ্রামীণের তহবিলের জন্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। সেটা কারো পকেটে পোরার ফন্দি বলে ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ড. ইউনূস অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বিবেচনা (রাজনৈতিক?) প্রসূত বক্তব্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংযতভাবে বিতর্কাতীত তথ্য প্রদান করে সরকারের তদন্তের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে নরওয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে, গ্রামীণ ব্যাংক বা ড. ইউনূস কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করেননি। নরওয়ে সরকারকে দেয়া নোরাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের ‘অনুদানের অর্থ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক অর্থ নিয়ে দুর্নীতি বা আত্মসাৎ করেছে­ প্রতিবেদনে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী স্খানান্তর করা অর্থ গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিলে আবার ফেরত আনার মাধ্যমেই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।’ বাংলাদেশের অন্যান্য বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকেও ইআরডিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল বর্তমানে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে। তাই এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন কিছু করা উচিত হবে না যাতে সারা বিশ্বে বাস্তবায়িত ক্ষুদ্রঋণ মডেলের ওপর নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ে। আর গ্রামীণ ব্যাংকের কথিত তহবিল সরানোর বিষয়টি নিয়ে যে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে, তা-ও হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তদন্তের নোটিশ বহাল রেখেছে। আর নরওয়ের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত টেলিচিত্রটির প্রেরক ডেনমার্কের চিত্রনির্মাতা টম হাইনমানকে উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে : নোরাডের পুরো অর্থ গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে ফেরত যায়নি। এখন পর্যন্ত হিসাবপত্র বা অন্য এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে জানা যেতে পারে, স্খানান্তরিত ওই অর্থ আসলে কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
অর্থ ব্যবহার প্রসঙ্গে সংসদে উদাহরণ দিতে গিয়ে নরওয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী এরিক সোলেইম বলেছেন, স্খানান্তরিত অর্থ ১৯৯৮ সালের বন্যার্তদের জন্য ব্যয় করা হয়েছিল। অথচ গ্রামীণ ব্যাংকের বিবৃতিতে এ বিষয়ে একটি শব্দও নেই। অন্য দিকে বাংলাদেশের টেলিভিশনে জোরেশোরে রটনা হয়েছে, কর ফাঁকি দিয়েছেন ড. ইউনূস। গ্রামীণ ব্যাংকের কর ‘বাঁচানোর’ উদ্যোগকে রঙ দেয়া হচ্ছে অপরাধের ছাপ লাগিয়ে। এভাবেই চলছে দশচক্রে ভগবান ভূত সাব্যস্তের কারসাজি।
লেখক : বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট
http://www.dailynayadiganta.com/fullnews.asp?News_ID=250805&sec=6

গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল স্থানান্তরে দুর্নীতি হয়নি: নরওয়ে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | তারিখ: ০৯-১২-২০১০

গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল সরানোর অভিযোগ তদন্তে দেখা গেছে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা দুর্নীতি বা তহবিল আত্মসাতের জন্য ক্ষুদ্রঋণে জড়িত প্রতিষ্ঠানটি ওই কাজ করেনি। তা ছাড়া, ১৯৯৮ সালের মে মাসে মূল তহবিলে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নরওয়ে সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, ঘটনাটি তখনই মিটে গেছে। নরওয়ের পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এরিক সোলেইম গতকাল বুধবার এ মন্তব্য করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে নরওয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সহায়তা সংস্থার (নোরাড) এক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সোলেইম এ মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ নভেম্বর সরকারি মালিকানাধীন নরওয়ে সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের (এনআরকে) টেলিভিশনে প্রচারিত ‘ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে’ (কট ইন মাইক্রো ডেট) প্রামাণ্যচিত্রে দেখানো হয়, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস দারিদ্র্য দূর করতে দাতাদের দেওয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ১০ কোটি ডলার (বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) গ্রামীণ কল্যাণ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নিয়েছেন। এরপর ২ ডিসেম্বর এরিক সোলেইম বিবিসিকে জানান, ওই ঘটনার তদন্ত হবে। এক দিন পর গ্রামীণ ব্যাংকের পাঠানো এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রামাণ্যচিত্রে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৯৮ সালেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান গ্রোতনেস হালভোরসেন গতকাল বুধবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, এরিক সোলেইমের নির্দেশে নোরাড গ্রামীণ ব্যাংককে আশি ও নব্বইয়ের দশকে যে সহায়তা দিয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। নোরাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণে মোট ৬০ কোটি ৮৫ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার স্থানান্তর করে। এতে নরওয়ের অর্থ ছিল ১৭ কোটি ক্রোনার। ১৯৯৭ সালে ঘটনাটি জানার পর ঢাকার নরওয়ের দূতাবাস তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। দূতাবাসের দৃষ্টিতে, এ স্থানান্তর নরওয়ের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের চুক্তি অনুযায়ী হয়নি। তখন বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে জানতে চাওয়া হয়। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ১৯৯৮ সালের মে মাসে ঠিক করা হয়, ১৭ কোটি ক্রোনার গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিলে স্থানান্তর করা হবে। প্রতিবেদনের ওই মন্তব্যের পর এরিক সোলেইম বলেন, ‘এ অর্থ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হয়েছে, কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক অর্থ নিয়ে দুর্নীতি বা আত্মসাৎ করেছে—প্রতিবেদনে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী স্থানান্তর করা অর্থ গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিলে পুনরায় ফেরত আনার মাধ্যমেই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।’

প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ: ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে গ্রামীণ ব্যাংকের ‘বার্ষিক প্রতিবেদন’ (১৯৯৬) পর্যালোচনার সময় আর্থিক বিবরণীতে একটি পাদটীকা খুঁজে পান ঢাকার নরওয়ের দূতাবাসের কর্মকর্তারা। ওই পাদটীকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক হিসাব পরিবর্তনের তথ্য জানা যায়। গ্রামীণ ব্যাংকের ওই স্থিতিপত্র (ব্যালান্সশিট) ১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল। দূতাবাসের ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির একটি স্মারকে বলা হয়েছে, বিবরণীতে যে অর্থ এদিক-সেদিক করার তথ্য রয়েছে, তা উন্নয়ন-সহায়তা তহবিলসংশ্লিষ্ট।

একই তারিখে লেখা স্মারক থেকে আরও জানা গেছে, দূতাবাসের পক্ষ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ কল্যাণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির অনুলিপি ও গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন ধারার অনুলিপি দূতাবাসে পাঠানো হয়। ওই সময় গ্রামীণ কল্যাণ সম্পর্কিত কোনো তথ্য দূতাবাসের কাছে ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, উন্নয়ন-সহায়তা হিসেবে দাতারা যে অর্থ (প্রায় ৫৪ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার) ছাড় করেছিল, তার পুরোটাই গ্রামীণ কল্যাণ নামের প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে ছাড় করা ছয় কোটি ৮৫ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনারের আরেকটি তহবিলও (সামাজিক বিকাশ তহবিল) একই প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে স্থানান্তর করা তহবিলের পরিমাণ ৬০ কোটি ৮৫ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার। এই অর্থ গ্রামীণ কল্যাণকে দেওয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ হিসেবে আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওই তহবিলের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেটাই আবার গ্রামীণ ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রমে ওই তহবিল ছাড় করা হয়েছিল, যেখানে নরওয়েরও অর্থ ছিল।

ওই স্মারকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে গ্রামীণ কল্যাণে তহবিল স্থানান্তরের বিস্তারিত হিসাব বাংলাদেশি মুদ্রায় উল্লেখ করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক কেন গ্রামীণ কল্যাণে ওই সহায়তা তহবিল স্থানান্তর করেছে, তার কয়েকটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। দূতাবাসের ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির স্মারক থেকে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩ ডিসেম্বরের একটি বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তহবিল স্থানান্তরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল করের দায় কমানো এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের জন্য তহবিলটি নিশ্চিত করা।’ ওই সময় গ্রামীণ ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম করের আওতামুক্ত ছিল। তাই দূতাবাস উপসংহারে পৌঁছায়, ওই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির স্মারকে দূতাবাস আবারও মন্তব্য করে, গ্রামীণ কল্যাণের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাতে যেমন অস্পষ্টতা আছে, তেমনি এটি সন্তোষজনক নয়। ওই স্মারক অনুযায়ী দূতাবাস বিষয়টি নোরাডের কাছে উপস্থাপন করে। নোরাডের আইন শাখা এ ব্যাপারে তাদের মতামত দেয়। এতে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে গ্রামীণ কল্যাণে যে তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে দূতাবাসকে নরওয়ের উন্নয়ন-সহায়তা তহবিলের মালিকানা দাবি করতে হবে। এরপর যে তহবিল গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংককে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তা গ্রামীণ ব্যাংককে ফিরিয়ে দিতে হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূতাবাস মনে করে, বাংলাদেশ ও নরওয়ের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের আওতায় গ্রামীণ ব্যাংককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে দূতাবাস অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এ ব্যাপারে ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, তহবিলের মালিকানা গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নরওয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত পোষণ করে ইআরডি প্রতিনিধি। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা নিজেরাই বিষয়টি গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে তুলে ধরে। এরপর তারা দূতাবাসকে জানায়, বিষয়টি নিয়ে নরওয়ে সরাসরি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করলেই সবচেয়ে ভালো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে দূতাবাস। ওই পরামর্শ মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় পর্যায়ের তহবিল ফিরে পাওয়ার দাবি করার ক্ষেত্রে দূতাবাসের আইনগত ভিত্তি দুর্বল। নোরাডের আইন শাখাও ১৯৯৮ সালের ১১ মের এক স্মারকে একই অভিমত দেয়।

এ পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণ দূতাবাসের কাছে প্রস্তাব দেয়, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চতুর্থ পর্যায়ের প্রায় ১০৬ মিলিয়ন নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য দূতাবাসকে দায়িত্ব দেয় নোরাড। যার উদ্দেশ্য ছিল পুরো তহবিল ফিরে পাওয়া, যা তৃতীয় পর্যায়ের অংশটি নিশ্চিত করবে। গ্রামীণ ব্যাংক, গ্রামীণ কল্যাণ ও দূতাবাসের মধ্যে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, তৃতীয় পর্যায়ের তহবিলসহ ঘূর্ণমান তহবিলের পুরো অর্থই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর মানে, ১৭ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ফেরত দেওয়া হবে। ফলে নোরাড ও দূতাবাসের দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৯৮ সালের ২৬ মে আপসরফার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দিলে দূতাবাসের চিঠিতে ‘আপসরফা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আলোচনা শেষে নোরাড ও দূতাবাসের সবগুলো দাবি পূরণ হয়। গ্রামীণ ব্যাংককে চতুর্থ পর্যায়ের তহবিল ছাড় ১৯৯৭ সালে শেষ হয়। ১৯৯৮-৯৯ সালে গ্রহণ করা হয় ওই প্রকল্পের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে ২০০১ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রতিবেদন পেতে থাকে। ২০০৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে নোরাডের অর্থায়ন চুক্তি শেষ হয়। দূতাবাসের মতে, গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকে তহবিল স্থানান্তরের বিষয়টি বেশ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়। এ ব্যাপারে ১৯৯৮ সালের ২৬ মে গ্রামীণ ব্যাংককে লেখা চিঠিতে দূতাবাস বলেছে, বিষয়টি সুরাহার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যেভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে, তা গ্রামীণ ব্যাংক ও দূতাবাসের জন্য সন্তোষজনক। ভবিষ্যতেও গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে এ ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে দূতাবাস।

ড. ইউনূসকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মনমোহন

কলকাতার দৈনিকের ভুল

মিলটন আনোয়ার ও খুররম জামান:

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং সমালোচনা তো দূরের কথা কোনো মন্তব্যই করেননি। ভারতের কলকাতার দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের ছাপার ভুলের কারণে ইউনূসের সমালোচনাকারী হিসেবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম এসেছে। গতকাল সংবাদ প্রতিদিনের একটি সংশোধনীর মধ্যদিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা সংবাদ প্রতিদিনের চতুর্থ পৃষ্ঠায় ঢাকা থেকে পাঠানো ‘ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রমাণ তথ্যচিত্রে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটির একস্থানে ভুলবশত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নাম ছাপা হয়।

সংবাদ প্রতিদিনের ওই সংবাদটির বরাত দিয়ে ওইদিনই বাংলাদেশের শীর্ষনিউজ ডটকম একটি সংবাদ প্রকাশ করে। শীর্ষনিউজের সংবাদের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো ছাপে যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইউনূসের সমালোচনা করেছেন।

গতকাল সংবাদ প্রতিদিনের ঢাকা প্রতিনিধি আজ এক সংশোধনপত্রে বলেন, সংবাদটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কটাক্ষের সুরে বলেন- এর পরিবর্তে পড়তে হবে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’। তিনি জানান, ওই ভুল সংশোধনটি ৭ ডিসেম্বর সংবাদ প্রতিদিনের পঞ্চম পৃষ্ঠায় ‘সংশোধনী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এ ভুলের জন্য ভারতের সংবাদপত্রটি ক্ষমা চেয়ে তাদের রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নেয়। একইভাবে ভারতের পত্রিকার বরাত দিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষনিউজ যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং কোনো মন্তব্য করেননি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্রের বিবৃতি শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল। এ সম্পর্কে হাইকমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূসের সমালোচনা বা তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

তদন্তকে স্বাগত জানালেন ইউনূস

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে 'তহবিল স্থানান্তর' অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার রাতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্যাডে পাঠানো এক বিবৃতিতে নোবেল বিজয়ী ইউনূস বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সংবাদপত্রে যে আলোচনা হয়েছে সেই ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব এই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত পরিস্থিতি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে এই বিতর্কের অবসান করা হবে।" প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের কয়েকঘণ্টা পর ইউনূস এ প্রতিক্রিয়া জানালেন। গ্রামীণ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস লিসবন থেকে এই বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন।

এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে 'তহবিল স্থানান্তর' অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "গরীব মানুষের রক্ত চুষে বেশি দিন টেকা যায় না সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগের ভালোভাবে তদন্ত হওয়া উচিৎ।" ইউনূসকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সূত্র ধরে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কোটি কোটি ডলার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য তহবিলে সরানোর অভিযোগ তোলা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক অবশ্য ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এইচএ/০০২০ ঘ.

তোতা পাখিরদের হামদ ও নাত...

ইউনূস যে 'দুর্নীতিবাজ' তা প্রমাণিত হলো: হানিফ

সিলেট, ডিসেম্বর ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ সরানোর অভিযোগ ওঠায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও ক্ষমতাসীন দলেরই নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, তিনি যে 'দুর্নীতিবাজ' তা আবারো প্রমাণিত হলো।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হানিফ শনিবার সিলেটে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কোটি কোটি ডলার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য তহবিলে সরানোর অভিযোগ তোলেন এক ডেনিশ তথ্যচিত্র নির্মাতা। গ্রামীণ ব্যাংক অবশ্য ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

সিলেট রেজিষ্ট্রারি মাঠে জাতীয় শ্রমিক লীগ সিলেট জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন হানিফ।

সম্মেলনে বক্তৃতার পর ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে অপমান করার কোনো অধিকার তার নেই। সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।"

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার পেছ পা হবে না বলে হানিফ জানান।

একদিন আগেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, "তিনি (ইউনূস) আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তার দুর্নাম হলে, তা জাতির দুর্নাম বয়ে আনবে। তাই এ বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।"

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক দল গড়ার ঘোষণা দিয়ে সমালোচনায় পড়েছিলেন। সমালোচকদের দলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

আওয়ামী লীগ প্রধান হাসিনার তখনকার সমালোচনার কথা তুলে ধরে তার সহকারী হানিফ বলেন, "ড. ইউনূস যখন রাজনীতিতে আসার পাঁয়তারা করেছিলেন, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সুদখোর বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।"

শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ বলেন, "বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একজন সম্পদলোভী মানুষ। শুধু সম্পদের লোভে বাড়ি ছাড়ার ইস্যু নিয়ে তিনি হরতাল করে জনগণকে কষ্ট দিয়েছেন।"

শ্রমিক লীগ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এজাজুল হক এজাজের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র, সংসদ সদস্য জেবুন্নেচ্ছা হক, সিলেট জেলা আওয়ামীগের সভাপতি আনম শফিকুল হক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এমআই/১৬৫৫ ঘ.

খবর পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' : গ্রামীণ ব্যাংক

Fri, Dec 3rd, 2010 11:19 pm BdST

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' ও 'বিভ্রান্তিকর' বলে দাবি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ সরানোর অভিযোগ তোলেন এক ডেনিশ তথ্যচিত্র নির্মাতা। এই তথ্যচিত্রের ভিত্তিতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম গত ১ ডিসেম্বর 'দরিদ্রদের ইউনূসফাঁদ' শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে।

নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে (এনআরকে) 'ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে' নামে প্রামাণ্যচিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় মঙ্গলবার।

প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ কল্যাণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে অনৈতিক কিছু নেই। যার আওতায় গ্রামীণ কল্যাণ ৩৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে নিয়েছে।

ব্যাংকের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, "গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী দরিদ্রদের কল্যাণে এটি করা হয়েছে। এতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিলনা।"

এই অর্থের (৩৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মালিকানা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কখনো গ্রামীণ কল্যাণকে দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা গ্রামীণ ব্যাংককে ঋণ পরিশোধ করেছে।

এতে বলা হয়, "ঋণের সুদ বাবদ মাত্র ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা গ্রামীণ কল্যাণে রয়ে গেছে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএসজেড/এসএইচএ/এইচএ/২৩১০ ঘ.

ড. ইউনূস এম হেলথের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য

Saturday, 04 December 2010

নিউজ ওয়ার্ল্ড, নিউ ইয়র্ক থেকে: যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিও এম হেলথ তাদের বোর্ড সদস্য হিসেবে ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর আগে মোবাইল হেলথ অ্যালায়েন্স ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত তাদের বার্ষিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে মোবাইল ফোনসহ কম্পিউটার টেকনোলজি কি ভূমিকা পালন করতে পারে সে বিষয়ে গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করে। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মাইক্রোসফট প্রধান বিল গেটস, সিএনএন-এর প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নারসহ বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিল গেটস ও টেড টার্নার এ সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। সম্মেলনে বিখ্যাত কম্পিউটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান (এইচপি হিউলেট প্যাকার্ড) এম হেলথ নেটওয়ার্ককে বিশ্বে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ১০ লাখ ডলার অনুদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থ নিয়ে সদ্যসৃষ্ট বিতর্কের মধ্যেও এম হেলথ নেটওয়ার্ক ড. ইউনূসকে তাদের বোর্ড সদস্য নির্বাচিত করায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাকে অভিনন্দন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
http://202.79.16.19/index.php?option=com_content&task=view&id=17408&Item...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla