Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

প্রধানমন্ত্রীর বস্তির ভাষা

৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা। অফিসের কাজে রাজশাহী যাচ্ছি। তাও আবার ট্রেনে চেপে। দূরপাল্লার বাস গুলোতে তখন দুর্ঘটনার সুনামী, তাই বিকল্প হিসাবে ট্রেন ধরতে বাধ্য হলাম। এর আগেও দুয়েক বার এ পথ মাড়িয়েছি। উপভোগ করার মত তেমন কিছু নেই। যা আছে তা হল সীমাহীন অনিশ্চয়তা, রাজ্যের বিরক্তি আর ঝাঁপিত জীবনকে দাড়িপাল্লায় দাঁড় করানোর অফুরন্ত সময়। যাত্রার শুরুতেই হোচট। শাজাহানপুর বস্তির পাশে থেমে গেল ট্রেনটা। এমন ভাবে থামল মনে হল যাত্রার এটাই বোধহয় শেষ গন্তব্য। দু'ঘন্টারও উপর ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। ফেরিওয়ালাদের আনাগোনায়ও ততক্ষণে ভাটা লেগেছে। চরম বিরক্ত হয়ে অপেক্ষা করছি অনিশ্চিত যাত্রার। বাইরের স্লো মোশনের জীবনে সহসা চাঞ্চল্য দেখা দেয়ায় নড়েচড়ে বসল সবাই। বস্তিতে কারা যেন ঝগড়া করছে। প্রথমে নীচু স্বরের গলার আওয়াজ, ধ্বস্তাধ্বস্তি এবং সব শেষে কাগজে কলমে নিষিদ্ধ ভাষার নির্বিচার ব্যবহার। সে ভাষার দুয়েকটা শব্দ এখানে উল্লেখ করতে গেলে ব্লগ কর্তৃপক্ষেরে রোষানলে পরে লেখালেখির অধিকার হারানোর সম্ভাবনা থাকবে, তাই চেপে রাখলাম ভেতরের ইচ্ছাটাকে। স্বামী পেটাচ্ছে স্ত্রীকে, স্ত্রী জবাই হওয়া পশুর মত চীৎকার করছে এবং চেষ্টা করছে পাশে দাঁড়ানো সতীনের টুটি চেপে ধরতে।

পুরানো ঘটনাটা মনে পরল প্রধানমন্ত্রীর ইদানীংকালের কিছু কথাবার্তার কারণে। আশুলিয়া ও বদ্দার হাট শোক এখনো জাতির শিরা উপশিরায়। বিশ্বের সবকটা দেশ ও মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করেছে বাংলাদেশের এই ট্রাজেডি। আমেরিকার মত উন্নত দেশ যারা বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল তারা শোকের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলছে রপ্তানী শিল্পে দেশটার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। বিশ্বের সবচাইতে বড় চেইন ষ্টোর ওয়ালমার্ট ইতিমধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করছে তাদের সহযোগী কোম্পানীর সাথে, যাদের মাধ্যমে আমদানী করত দুর্ঘটনা কবলিত কারখানার পোষাক। সন্দেহ নেই আরও কোম্পানি যোগ দেবে ওয়ালমার্টের মিছিলে। বাংলাদেশের পোষাক শিল্প বলতে গেলে একক ভাবে ডমিনেট করছে বিশ্ববাজার। চীন ও ভারতের নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে উন্নত বিশ্বের ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে দেশ দুটি হতে। এ শিল্পে উদীয়মান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা আমেরিকার জন্যে সমস্যা। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশের নাম চলে আসে সবার আগে। সম্ভাব্য উন্নতির এমন এক সোনালী সন্ধিক্ষণে আশুলিয়া দুর্ঘটনা ব্যহত করবে আমাদের অগ্রযাত্রা এ ব্যাপারে সন্দেহ করার অবকাশ নেই। এর আলামত পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালমার্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হতে।

বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে চাইলে সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠাটা পোষাক শিল্পের জন্যে খুবই জরুরি। তার জন্যে যাই প্রচার মাধ্যমের সাথে সরকারের সমন্বিত প্রয়াস। কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু কথা বললেন যা গোটা পোষাক শিল্পের জন্যে ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। ইতিমধ্যে বেশ কটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বিশ্ব উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে দুর্ঘটনার আসল কারণ জানার জন্যে। যদিও এর সম্ভাবনা একবারেই শূন্য। কিন্তু সব কমিশনকে পাশ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী গঠন করলেন নিজস্ব কমিশন এবং রায় দিলেন দুর্ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে। মুখ ফুটে না বললেও প্রধানমন্ত্রী আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন এ ঘটনা জামাত-বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফসল। বলার অপেক্ষা রাখেনা প্রধানমন্ত্রীর এ রায় দ্রুত গতিতে পৌঁছে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন কোনায়। বাংলাদেশি রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রতি সন্মান থাকলে বিদেশি ক্রেতারা বিশ্বাস করতে বাধ্য স্বার্থের জন্যে এ দেশের রাজনীতিবিদরা শিল্প কারখানায় আগুন দেয় এবং পরিকল্পিত ভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারে। প্রধানমন্ত্রী রায় দেয়ার পর একই দেশের দ্বিতীয় রায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিতে বাধ্য। পোষাক শিল্পের বিপর্যয় কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরণের মন্তব্য মোটেও যে সহায়ক হবেনা তা বলাই বাহুল্য।

অনেকটা শাজাহানপুর বস্তির কায়দায় প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের টুটি চেপে ধরতে চান। এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এ যাত্রায় তিনি দেশের পোষাক শিল্পকে বলি দিতেও দ্বিধা করবেন না। আরও একটা ভয়াবহ অভিযোগ করলেন আগের নির্বাচনে ক্ষমতা হারানো নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করলে আমাদের মানতে হবে গ্যাস বিক্রি করেও এ দেশে ক্ষমতা নিশ্চিত করা যায়। তা হলে কি আমাদের মানতে হবে সংসদ নির্বাচনের নামে যে গ্রান্ড শোর আয়োজন করা হয় তার সবটাই ভাওতাবাজি? মার্কিন সুপারিশে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে রাজী না হওয়ার কারণেই নাকি আগের বার ক্ষমতায় যেতে পারেননি। ক্ষমতায় বসে তৃতীয় বিশ্বের অতি দরিদ্র দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন নিকৃষ্ট ও প্রোভোকেটিভ কথা খুবই বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্ষয়িষ্ণু সম্পর্ক মেরামতে এ ধরণের বস্তির ভাষা কতটা কাজ করবে সময়ই তা প্রমাণ করবে। একই কারণে ওয়ালমার্টের মত বড় বড় কোম্পানী গুলো যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় ইউনূস গিবত গেয়ে এ যাত্রায় পার পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না। আওয়ামী লীগের মত বিশাল একটা দলে এমন একজনও কি নেই যিনি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝাতে পারেন তিনি যা বলছেন তা শ্রেফ বস্তির ভাষা?

Comments

তেল মারতে ভারত গিয়েছিলেন খালেদা

যশোরের জনসভায় শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী ও যশোর থেকে মালেকুজ্জামান কাকা : বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এখন ‘ভারততোষণ’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে অন্ধ হয়ে খালেদা জিয়া এবার আগেভাগেই ভারতে ‘তেল মারতে’ গিয়েছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সেখানে টিপাইমুখ বাঁধ ও সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি করতেই ভুলে গেছেন। বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকলে ভারত প্রীতি বাড়ে, আর বিরোধী দলে গেলে ভারত বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাম্প্রতিক ভারত সফরকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ওই সফরে খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতবিরোধী কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার হতে দেবেন না। টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে এগোনোর আগে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথ সমীক্ষার প্রস্তাবও দেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট রাখার পর বিএনপির নিজেকে মুক্তিযোদ্ধাদের দল দাবি করার সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি একদিকে জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় হরতাল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের দোসরের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা শোভা পায় না।

‘বিরোধী দলীয় নেত্রী ক্ষমতায় গেলে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন’Ñ এ উদ্ধৃতি করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি প্রশ্ন করতে চাই, তারা কিভাবে দেশকে পাল্টাবেন? আওয়ামী লীগ যে দশ ভাগ দরিদ্র কমিয়েছে, তাদের আবার দরিদ্র বানিয়ে দেবেন? ৫ কোটি নিু আয়ের মানুষ মধ্যবিত্ত হয়েছে, তাদের আবার নিুবিত্তে পরিণত করবেন?

তিনি বলেন, ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে বাড়িয়ে বর্তমান সরকার ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আপনারা কি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেশকে অন্ধকার করে পাল্টে দেবেন? নাকি বিনামূল্যের বই দেওয়া বন্ধ করে দেশের লাখ লাখ ছেলে-মেয়েকে অশিক্ষিত করে রাখবেন?

যশোরকে ডিজিটাল জেলা ঘোষণা করে শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগ সরকার গোটা দেশকেই ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করবে। মোবাইল ফোনের মতো হাতে হাতে কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়া হবে। সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। ঘরে বসেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসনের সব অফিসের সব সেবা মানুষ গ্রহণ করতে পারবেন।

২০০৮ সালের নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্র“তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সবসময়ই আন্তরিক। এ অঞ্চলের অন্যতম সংকটÑ ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করা হচ্ছে। কপোতাক্ষ খননে আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যশোরে বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়ন করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, পরবর্তী মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি-বেসরকারি খাতে ৮০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে।

এরমধ্যে ৪ লাখ বেকারকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। যুব ও যুব মহিলারা যাতে চাকরির পেছনে না ছোটে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে সে জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণও দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক ও নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে বই সরবরাহ করছে। এ বছর পহেলা জানুয়ারি ২৭ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। আর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে আওয়ামী লীগ স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বিএনপির লুটপাট ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সরকারি কোষাগার থেকে দুই ছেলের লেখাপড়ার জন্য টাকা নিয়ে তাদের দুর্নীতির ডিগ্রি দিয়েছেন। হাওয়া ভবন খুলে মানি লন্ডারিং, টাকা পাচার, লুটপাট আর কমিশন বাণিজ্য করেছেন। তার এক ছেলের পাচার করা টাকা সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, আমেরিকায় তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে ৬ বছর জেল ও ৩৬ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। আর তিনি নিজেই এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। আবার তিনিই বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সবাই চোর। একেই বলে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১-এ আওয়ামী লীগ ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রেখে ক্ষমতা থেকে গিয়েছিল। আর বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়েছে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ না দিয়ে খালেদা জিয়ার ছেলে মানুষকে খাম্বা দিয়েছে আর লুটপাট করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার। এ কারণে হলমার্ক, ডেসটিনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ বিশ্বব্যাংক দিতে পারেনি। তারা বলেছে, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে। আর টাকা বন্ধ হয়েছে, তার (খালেদা জিয়া) সময়ের দুর্নীতির কারণে।

২০০১ নির্বাচন পরবর্তী সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে যশোরসহ এ অঞ্চলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ছাড়াও যে সন্ত্রাস ও অত্যাচারের রাজত্ব কায়েম করেছিল মানুষ তা ভুলে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার দেওয়ার আহবান জানান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জাতীয় সংসদের হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশিদ, সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো, খান টিপু সুলতান ও রণজিৎ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার প্রমুখ।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় প্রধানমন্ত্রী যশোরের বিমানবাহিনীর মতিউর রহমান ঘাঁটিতে ২৩তম শীতকালীন গ্রাজুয়েশন প্যারেড পরিদর্শন ও নবীন ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ এবং সালাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ই-সার্ভিসের উদ্বোধন এবং শহরের বকুলতলায় নির্মিত বঙ্গবন্ধুর সর্ববৃহৎ ম্যুরাল উদ্বোধন করেন।
http://www.amadershomoy2.com/content/2012/12/21/news0726.htm

এতদিনে আদালতরে ঘুম ভাঙল!

৫ পুলশি র্কমর্কতার বরিুদ্ধে ব্যবস্থা নওেয়ার নর্দিশে
সমকাল প্রতবিদেক
ফনেসডিলিসহ জ্যষ্ঠে সহকারী বচিারক জাবদে ইমামকে গণমাধ্যমরে সামনে হাজরি করার ঘটনায় পুলশিরে রমনা বভিাগরে উপ-কমশিনারসহ পাঁচ র্কমর্কতাকে র্বতমান র্কমস্থল থকেে প্রত্যাহার করে 'নন ক্রাইম জোনে' বদলরি নর্দিশে দয়িছেনে আদালত। এ ছাড়া তাদরে বরিুদ্ধে ৭ দনিরে মধ্যে বভিাগীয় ব্যবস্থা নতিে পুলশি মহাপরর্দিশককে নর্দিশে দওেয়া হয়। আদালতরে এমন নর্দিশেরে পর পুলশি বাহনিীতে চাপা ক্ষোভরে সৃষ্টি হয়ছে। তবে সঙ্গত কারণইে প্রকাশ্যে কউে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হচ্ছনে না। অনেকে আদালতরে এ আদশেকে যর্থাথ বলছেনে, অনকেরে প্রশ্নথ এতদনি পর কনে আদালতরে ঘুম ভাঙল। সমগোত্ররে সদস্যরে অপরাধ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়াতইে কি আদালতরে এমন নর্দিশেনা? অবশ্য পুলশি র্কমর্কতাদরে দাবি, গ্রফেতাররে পর ওই বচিারক নজিরে কৃতর্কমরে কথা গণমাধ্যমরে কাছে অকপটইে স্বীকার করছেনে।
অনকেরে যুক্ত,ি এর আগে বভিন্নি সময় অনতৈকি র্কমকাণ্ডে জড়তি থাকার অভযিোগে চকিৎিসক, সনো র্কমর্কতা, পুলশি র্কমর্কতাদরে মডিয়িার সামনে হাজরি করা হয়ছেলি। র্ধষণরে অভযিোগে র্সবশষে গত বুধবার বশিষ্টি সঙ্গীত পরচিালক শওকত আলী ইমনকে ইয়াবা, মদসহ মডিয়িার সামনে হাজরি করে পুলশি। তখন কনে আদালত এ ধরনরে নর্দিশেনা দনেন।ি অনকেে এও বলছনে, চূড়ান্তভাবে দোষী প্রমাণ না হওয়া র্পযন্ত বুকে নাম লখিে কোনো ব্যক্তকিে মডিয়িার সামনে হাজরি করা ঠকি নয় বট,ে তবে র্দীঘদনি ধরে যে কোনো ঘটনায় অভযিুক্ত ব্যক্তকিে আটক করে মডিয়িার সামনে হাজরি করার এ রীতি চালু আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহনিীর। বচিারক জাবদে ইমামরে ক্ষত্রেওে এর ব্যত্যয় ঘটনে।ি
বচিারক জাবদে ইমামকে গণমাধ্যমরে সামনে হাজরি করে বক্তব্য নওেয়ার অভযিোগে রমনা বভিাগরে উপ-কমশিনার সয়ৈদ নুরুল ইসলাম, নউির্মাকটে থানার ওসি মোস্তাফজিুর রহমান, মামলার তদন্ত র্কমর্কতা নউির্মাকটে থানা পুলশিরে উপ-পরর্দিশক শফকিুল ইসলাম, মামলার জব্দ তালকিা প্রস্তুতকারী নউির্মাকটে থানা পুলশিরে উপ-পরর্দিশক নূর হোসনে ও থানার ডউিটি অফসিার শফয়িার রহমানরে বরিুদ্ধে ব্যবস্থা নওেয়ার নর্দিশে দয়িছেনে আদালত। ঢাকা মহানগর হাকমি এমএ সালাম গতকাল এ আদশে দনে। একই সঙ্গে বচিারক জাবদে ইমামরে জামনি আবদেন নাকচ করে দনে।
আদালতরে আদশেরে বষিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে জাতীয় মানবাধকিার কমশিনরে চয়োরম্যান ড. মজিানুর রহমান সমকালকে বলনে, বলিম্বে হলওে আদালত সঠকি আদশে দয়িছেনে। এটা আমাদরে অনকে দনিরে প্রত্যাশতি ছলি। তনিি বলনে, একজনকে গ্রফেতাররে পর আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু পন্থায় অভযিোগ প্রমাণ হওয়ার আগইে তাকে মডিয়িার সামনে হাজরি করা অবশ্যই আইনরে লঙ্ঘন। বচিাররে আগে কখনও বচিার করা ঠকি নয়। এটা কখনও আইন সর্মথন করে না। ওই বচিারককে গ্রফেতাররে ক্ষত্রেে কী ঘটছেলি আমার জানা নইে।
ফৗেজদারি অপরাধ বশিষেজ্ঞ অ্যাডভোকটে আনসিুল হক সমকালকে বলনে, এতদনিে বচিার বভিাগরে টনক নড়ছে।ে এটা অনকে আগইে করা উচতি ছলি। তনিি বলনে, বচিাররে আগে আসামকিে জোর করে মডিয়িার সামনে হাজরি করে স্বীকারোক্তমিূলক জবানবন্দি নওেয়া আইনবহর্ভিূত। কন্তিু দুঃখ হচ্ছ,ে একজন জুডসিয়িাল র্কমর্কতা আটকরে পর আমাদরে বচিার বভিাগরে টনক নড়ছে।ে
চলতি বছররে মে মাসে চট্টগ্রামরে তালসরা দরবার থকেে দুই কোটি টাকা লুটরে ঘটনায় অভযিুক্ত র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন অধনিায়ক চাকরচ্যিুত ল.ে র্কনলে জুলফকিার আলী মজুমদারকে পুলশি গ্রফেতার কর।ে গত অক্টোবরে রাজধানীর মরিপুর ১৩ নম্বর সকেশনরে একটি ভাড়া বাসা থকেে গভীর রাতে পুলশিরে পাবলকি র্অডার ম্যানজেমন্টেরে (পওিএম) নায়কে জনোল চাকমা ও প্রমে চাকমাকে গ্রফেতার করে মডিয়িার সামনে হাজরি করে পুলশি।
আদালতরে আদশেে আরও বলা হয়, পুলশি বচিার বভিাগকে জনগণরে সামনে হয়ে প্রতপিন্ন করার জন্য উদ্দশ্যেপ্রণোদতিভাবে 'মডিয়িা ট্রায়াল' করছে।ে পুলশি একজন আসামকিে নয়িে এভাবে মডিয়িা ট্রায়াল করতে পারে না। বচিাররে আগইে কাউকে এভাবে হাজরি করার বধিান আইনে নইে।
আদালতরে আদশেে আরও বলা হয়, যদি কোনো আসামি দোষ স্বীকার করে ফৗেজদারি র্কাযবধিরি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দতিে চান, তাকে অবশ্যই নকিটস্থ ম্যাজস্ট্রিটেরে কাছে হাজরি করতে হব।ে তা না করে পুলশি জোর করে আসামকিে গণমাধ্যমরে সামনে হাজরি করে স্বীকারোক্তমিূলক জবানবন্দি দতিে বাধ্য করছে,ে যা সংবধিান ও ফৗেজদারি র্কাযবধিরি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আদশেে আরও বলা হয়, এভাবে একজন আসামকিে গণমাধ্যমরে সামনে হাজরি করে বচিাররে আগইে দোষী প্রমাণ করা হয়; যা আইনরে পরপিন্থী, এমনকি মামলার তদন্তসহ বচিারকি র্কাযক্রমকে বঘি্িনত কর।ে আদশেে বলা হয়, ফৗেজদারি র্কাযবধিরি ১০৩ ধারামতে মামলার জব্দ তালকিা প্রস্তুত করার সময় দুই বা ততধকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তকিে উপস্থতি থাকতে হবে ও তাদরে স্বাক্ষর নতিে হব।ে তবে জব্দ তালকিায় যাদরে সাক্ষী করা হয়ছেে তাদরে একজন হলনে শাহ আলম। তার বাড়ি পটুয়াখালী। অপরজন চায়রে দোকানি আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া অপর সাক্ষী হলনে ধানমণ্ডি থানার উপ-পরর্দিশক জাহাঙ্গীর আলম। তারা কউে গণ্যমান্য ব্যক্তরি আওতায় পড়ে না। আদশেে ওই জব্দ তালকিাকে ত্রুটপর্িূণ বলে আখ্যা দওেয়া হয়ছে।ে
গতকাল আদালতে ওই পাঁচ পুলশি র্কমর্কতার পক্ষে আইনজীবী হসিবেে উপস্থতি ছলিনে অ্যাডভোকটে আশরাফ-উল আলম ও মুনজুর আলম। তারা আদালতে পুলশিরে পক্ষে ওকালতনামা দাখলি করতে চাইলে বচিারক তা নাকচ করনে। বচিারক এ সময় ওই দুই আইনজীবীকে বলনে, এ মামলায় পুলশি র্কমর্কতারা কোনো আসামি নয়। গণমাধ্যমরে সামনে বচিারককে কোন আইনে হাজরি করছেলিনে, তার ব্যাখ্যা দওেয়ার জন্য তাদরে আদালতে হাজরি হওয়ার জন্য নর্দিশে দওেয়া হয়ছেলি।
আদালতরে আদশেে বলা হয়, পুলশি আসামকিে মডিয়িার সামনে দোষ স্বীকার না করয়িে আদালতে পাঠয়িে দোষ স্বীকারোক্তি রর্কেড করার আবদেন করতে পারত। তা না করে তাকে মডিয়িার সামনে হাজরি করে তারা বাংলাদশে জুডসিয়িাল র্সাভসিরে সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।ে আদালতরে নর্দিশে অনুযায়ী গতকাল সকালে পুলশি র্কমর্কতারা আদালতে উপস্থতি হন। তারা পৃথকভাবে কারণ র্দশানোর জবাব আদালতে দাখলি করনে। বচিারক এজলাসে ওঠার পর প্রথমে রমনা জোনরে ডসিি সয়ৈদ নুরুল ইসলামরে কাছে এ বষিয়ে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে চান। জবাবে নুরুল ইসলাম বলনে, সদেনি জামায়াত নতো গোলাম আযমরে বোন মারা যাওয়ায় তাকে প্যারোলে মুক্তি দওেয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি নয়িে তনিি ব্যস্ত ছলিনে।
এ সময় বচিারক বলনে, 'জানতে চাইছ,ি কোন আইনে পুলশি জাবদে ইমামকে গণমাধ্যমরে সামনে হাজরি করছে?ে সটো বলুন। অন্য কছিু জানতে চাইন।ি' এরপর বচিারক পুলশি র্কমর্কতা নুরুল ইসলামকে প্রশ্ন করে বলনে, 'কে বচিারক জাবদেরে বুকে নাম লখিে ও সামনে ফনেসডিলি রখেে সাংবাদকি ডকেছেনে।' এর জবাবে ডসিি নুরুল ইসলাম বলনে, 'আমি জানি না। আমি গণমাধ্যমরে কাছে কছিু বলওিন।ি' এ সময় বচিারক বলনে, সব মডিয়িায় আপনার বক্তব্য এসছে।ে আপনি বলছনে কছিু বলনেন।ি আমাদরে কাছে ইলকেট্রনকি মডিয়িার সব ফুটজে ও পত্রকিার সব সংবাদ প্রমাণ হসিবেে রয়ছে।ে এরপর একে একে অপর ৪ পুলশি র্কমর্কতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করয়িে একই প্রশ্ন করনে বচিারক। তারাও জাননে না বলে একই উত্তর দনে।
এরপর জাবদে ইমামরে পক্ষে জামনি আবদেন করনে আইনজীবী কাজী নজীবউল্লাহ হরিু। শুনানতিে তনিি বলনে, বচিারক হওয়ার আগে আসামি নজিওে আইনজীবী ছলিনে, সুপ্রমি র্কোটে প্র্যাক্টসি করছেনে। তার বাবা এবং ভাইও আইনজীবী। প্রয়োজনে আমি জামনিদার থাকব। আসামি জামনি পলেে মামলার তদন্তে প্রভাব পড়বে না বলওে তনিি আশ্বস্ত করনে। শুনানি শষেে বচিারক তার জামনি নামঞ্জুর করনে ও দ্রুত এজলাস ত্যাগ করনে।
প্রসঙ্গত, গত ১ ডসিম্বের শনবিার রাতে রাজধানীর নীলক্ষতে এলাকায় রাফনি পল্গাজার সামনে থকেে সন্ধ্যার সময় ৩৪২ বোতল ফনেসডিলিসহ ভোলার সনিয়ির সহকারী জজ জাবদে ইমামকে গ্রফেতার করা হয় বলে এজাহারে উল্লখে করা হয়। এরপর নউির্মাকটে থানায় এক সংবাদ সম্মলেনরে আয়োজন করে পুলশি। সখোনে জাবদে ফনেসডিলি বহনরে কথা স্বীকার করনে। পরে গত ২ ডসিম্বের তাকে ঢাকা সএিমএম আদালতে হাজরি করা হলে কারাগারে পাঠান একই বচিারক। জাবদে ২০০৮ সালরে ২২ মে জুডসিয়িাল ম্যাজস্ট্রিটে হওয়ার পর কুষ্টয়িা ও পরে যশোররে আদালতে র্কমরত ছলিনে। এরপর তাকে ভোলায় বদলি করা হয়।
http://www.shamokal.com/

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla