Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

কোথাও কেউ নেই, এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে নেত্রীর উৎকন্ঠা

hypocrite sheikh hasina
অর্থাৎ, ‘ অবৈধ পন্থায় দখলকৃত বাড়ি বাঁচাইবার নিমিত্তে হরতাল দিয়া জনগণের কষ্ট বাড়াইবার কোন অধিকার নাই খালেদা জিয়ার‘।

লেখার শুরুতে পাঠক ও ব্লগারদের কাছে একটা ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেশের রাজনীতিবিদ ও বিচারকদের নাম উচ্চারণের আগে-পিছে যারা ’মাননীয়া/মাননীয়’ শব্দের জপমালা পড়তে অভ্যস্ত তাদের কাছে আমার এ লেখা বেয়াদবি মনে হতে পারে। নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির এ অংশকে সন্মান শ্রদ্ধার আসনে বসাতে আমার গোড় আপত্তি। মহামারির মত জাতির স্বাস্থ্যে চেপে বসা লুটেরা ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে যারা নেত্রীত্ব দেন, লালন পালন করেন, যাদের বগলের উষ্ণতায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, আর যাই হোক তারা সম্মানের পাত্র হতে পারেন না। অন্তত আমার কাছে। ব্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে সন্মান জানিয়ে ফিরে যাচ্ছি লেখার আসল পর্বে।

ক্যাবল টিভির দৌরাত্ম্য শুরু হয়নি তখনও। বিটিভির একক ও নিরবচ্ছিন্ন রাজত্বে বাস করছে বাংলাদেশের জনগণ। সে সময়ের একটা জনপ্রিয় টিভি সিরিজের নাম ছিল ’কোথাও কেউ নেই’ (যদি ভুল না হয়ে থাকে)। কোথাও কেউ না থাকলে জনজীবনের সুবিধাগুলোর কিছুটা চিত্র দেখা গেছে এবারের কুরবানী ঈদে। খাঁ খাঁ করছে মনুষ্য ভারে নুয়ে পড়া ঢাকা শহর, ভোজবাজির মত মিলিয়ে গেছে দুর্ঘটনা, রাতারাতি বিদায় নিয়েছে হত্যা, ঘুম, ছিনতাই, রাহাজানি সহ হাজার রকমের অপরাধ। নাড়ির টানে যাদের ঘরে ফিরতে হয়নি তারা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন ক্ষণিকের এ স্বস্তি। কোথাও কেউ নেই’এর সুবিধা শুধু নগর জীবনের জন্যে প্রযোজ্য এমনটা বললে নিশ্চয় কম বলা হবে, এর আওতায় আনা যায় আরও অনেক কিছু। এই যেমন খেলার মাঠ, রাজনীতির মাঠ, প্রেমের ময়দান, ইত্যাদি। কলেজ জীবনে ফুটবল ম্যাচ দেখতে প্রায়ই ঢাকা স্টেডিয়ামে যেতাম। আবাহনী ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে খেলা ছিল সেদিন। কোন এক জটিল সমীকরণের কারণে আবাহনী দল মাঠে এলো না। আর তাতেই জ্বলে উঠল লীগ তালিকার নিম্ন সারীর দল দিলকুশা। ফাঁকা মাঠকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে ফিরে গেল বীরের বেশে।

কোথাও কেউ নেই’এর মোষ্ট প্রডাক্টিভ ক্ষেত্র হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। কল্পনা করুন এমন একটা বাস্তবতা, কোথাও কেউ নেই এবং ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন সিপাহসালার জেনারেল এরশাদ! রাজনীতির এই মজনু কি আরামেই না কাটিয়ে দিতে পারতেন আরও ৯টা বছর। কিন্তু হায়, এমনটা কখনো হয়না! দুদিন পর আবাহনীকে যেমন মাঠে ফিরতে হয় তেমনি ফিরতে হয় রাজনীতির বাকি খেলোয়াড়দেরও। কারণ এটাই তাদের রুটি-রুজি, বেচে থাকার একমাত্র মাধ্যম। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দূরের দেশ রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে গেলেন বাঘ সন্মেলনে যোগ দিতে। শিকারিদের হাত হতে কি করে বাঘ রক্ষা করা যায় তার সন্ধান পেতে সদলবলে হাজির হলেন পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এ শহরে। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার মন্ত্রণা নেবেন রাজনীতির হিংস্র বাঘ পুটিনের কাছ থেকে, চমৎকৃত না হয়ে উপায় নেই। তবে কলা বেচা ও রথ দেখার কায়দায় প্রধানমন্ত্রী আরও একটা কাজ সেরে নিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গে, পিএইচডি ডিগ্রী। আগের ডিগ্রী গুলোর সাথে নতুন এ ডিগ্রিটা যোগ করলে এর সংখ্যা দাড়াবে সাত। এ যাত্রায় ডিগ্রিটা ছিল মানবাধিকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখার জন্যে। নভেম্বরের শেষ দিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের আবহাওয়া খুব রুক্ষ্ম হয়ে যায়। প্রকৃতি হয়ে বিদায় নেয় এর ভালমানুষি রূপ। কনকনে শীত, হুল ফোটানো হাওয়া আর বিবর্ণ প্রকৃতির সাথে যোগ হয় সময় অসময়ের তুষারপাত। বৈরী প্রকৃতির লীলভূমিতে মানবাধিকার উন্নয়নের ডিগ্রী হাতে নিয়ে দেশীয় রাজনীতির উপর তিনি কিছু নসিহত করলেন যা আমার কাছে সুন্দর বনের বাঘ শিকার বন্ধে রাশিয়া যাত্রার মতই চমকপ্রদ মনে হয়েছে। দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের কায়দায় ফাঁকা মাঠে বেশ কটা উত্তর বিহীন গোল করলেন তিনি। বিরোধিতা করার মত কোথাও কেউ ছিল না, আর সংগী হিসাবে যাদের নিয়ে গেছেন তাদের কেউ কথা বললে এ হত মংগল গ্রহে তামাক চাষের মত।

এতদিন জানতাম একটা দেশের সরকার অথবা রাষ্ট্রপ্রধান বিদেশে গেলে গোটা দেশের প্রতিনিধি হিসাবেই যান, একটা বিশেষ দলের নয়। আমাদের এ প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অস্বাভাবিক রকমের বিপরীত। এমনকি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দাড়িয়ে সগৌরবে বলে যান নিজ দলের সাফল্য আর বিরোধী দলের ’কদর্য্যের’ কথা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হরতাল করার অধিকার নিয়ে কথা বললেন। উনার কথার সাথে নিকট অতীতের বাস্তবতা তুলনা করলে আমাদের ধরে নিয়ে হবে এ দেশে হরতাল করার অধিকারও সংরক্ষিত আছে প্রধানমন্ত্রীর নিজ দলের জন্যে। জনগণের অসুবিধার জন্যে তিনি উৎকণ্ঠিত, আর তাই বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হরতাল না দেয়ার জন্যে। রাশিয়ার রাজনীতি এবং এর জনগণও অনেকটা আমাদের মত। মিথ্যাচার আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আমাদের মত সেখানেও ডালভাত। এমন একটা দেশে বসে এমন নির্জলা মিথ্যাচার একেবারেই বেমানান মনে হয়নি। কোথাও কেউ না থাকলে এসব মিথ্যাচার সহজেই পার পেয়ে যায়। কিন্তু আমরা যারা রাশিয়া হতে হাজার মাইল দুরে আছি তাদের সবাই এখনো অলসাইমার রোগে আক্রান্ত হয়েছি এমনটা মনে করে থাকলে প্রধানমন্ত্রী ভুল করে থাকবেন। আমরা অনেক কিছুই ভুলিনি। ভুলিনি প্রধানমন্ত্রীর হরতাল ম্যারাথন, এর নৈরাজ্য এবং আমজনতার সীমাহীন দুর্ভোগ।

হরতালে হরতালে অবশ হয়ে গেছে দেশের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। জনজীবন বিপর্যস্ত। সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে আছে গোটা জাতি। চাল, ডাল, তেল আর নুনের বাজারে জ্বলছে পুরান ঢাকার আগুন। জ্বলছে চারদিক। জ্বলছে আর ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমজনতার অক্ষমতার অন্তর। মাকে ঢাকায় নিতে হবে জরুরী প্রয়োজনে। কিডনী রোগ মুঠোর বাইরে চলে গেছে। ডাক্তার দেখাতে রাজধানী যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এমনটাই রায় দিল স্থানীয় ডাক্তার। কিন্তু যাব কোন পথে? চারদিকে হায়েনাদের হিংস্র থাবা। লাঠি সোঠা আর বন্দুকের নল ওৎ পেতে আছে ঘাটে ঘাটে। মার ভালোমন্দের কাছে হার মানার মানুষ নই আমরা, তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ঝড় ঝাপটা উপেক্ষা করে রওয়ানা দিতে হবে। বেশিদূর যেতে হয়নি। শহর হতে বের হওয়ার মুখেই দেখা মিলল ওদের। হাসিনার সেনাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু সৈনিকের দল ওরা। সেনাপতির নির্দেশ, কোথাও কোন গাড়ি ঘোড়া চলতে পারবে না। পিপিলিকার দল শকুনের মত ঝাপিয়ে পরল আমাদের ভিনটেজ (লক্কর ঝক্কর) গাড়িটার উপর। পরিচিত অনেক মুখের দেখা পেলাম গাড়ির ভেতর হতে। একসাথে পড়েছি অনেকের সাথে, অনেকে ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের সহযোগী, আবার শিক্ষক হিসাবে সন্মান করেছি অনেককে। কিন্তু এ মুহূর্তে সবাইকে মনে হল দানবীয় শক্তিধর এক একটা অসুর। ভাংচুর আর খুনের নেশায় জ্বলজ্বল করছিল সবার চোখ। এ শক্তির কাছে সব ধরণের মানবতা পরাজিত হল। মাকে জীবন মৃত্যুর অনিশ্চয়তায় ফেলে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম। রাত নামতে এদের অনেকেই দেখতে এল মাকে। সমবেদনা জানিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিল কৃতকর্মের জন্যে। জানাল তাদের হাত পা বাধা। দলীয় পদ ধরে রাখতে গাড়ি ঘোড়া ভেংগে হরতাল সফল করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নাকি খোলা নেই তাদের সামনে। এমনটাই নাকি হাই কমান্ডের নির্দেশ আর নেত্রীর আদেশ। গভীর রাতে আবারও রওয়ানা দিলাম। দেড় ঘন্টার পথ ছয় ঘন্টায় পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌছাতে ভোর হয়ে গেল। হিংস্র হায়েনাদের থাবা এড়িয়ে ছয় ঘন্টার এ অনিশ্চিত যাত্রা নিয়ে লেখা যাবে বিশাল এক কাহিনী, যাকে উপন্যাস বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। হায়েনাদের নেত্রী যখন বিদেশে বসে জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন দেয়ালে মাথা ঠুকতে ইচ্ছে করে, অক্ষমতার সমুদ্রে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। পৃথিবীর কোন কিছুই আপন মার চাইতে বড় নয়, হোক তা জন্মভূমি আর তার রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তির পেশাদারী গণতন্ত্র। মা বেচে নেই কিন্তু হরতালের কাছে জিম্মি ভীত সন্ত্রস্ত মার চেহারা যতদিন চোখের সামনে ভাসবে ততদিন হরতালের পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে নেত্রীদের আহাজারী বেশ্যাদের খদ্দের শিকারের মন্ত্র হিসাবেই গণ্য করে যাব। শেখ হাসিনাও এর ব্যতিক্রম নন।

Comments

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে হলেও মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করবো

বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১১

সংসদ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ না খেয়ে থাকবে না। প্রয়োজনে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে হলেও সব মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। চালের দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে অসৎ ব্যবসায়ী না থাকলে চালের দাম এত বাড়তো না। মানুষের মুখের গ্রাস নিয়ে যারা চালবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকল চাল ব্যবসায়ী ও আড়তদারের তালিকা সরকারের কাছে আছে, তারা কি করছেন, তাদের কাছে কি পরিমাণ মজুদ আছে, কে কোন পন্থি তার তথ্যও সংগ্রহ হচ্ছে। গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সরকার।

আর বিএনপি হলো দাম বাড়ানোর সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই এখনও ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে জনগণ চাল পাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এখন এ চালের কেজি হতো ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পুঁজিবাজারের দরপতন সম্পর্কে বজলুল হক হারুনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর শেয়ার বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুদিন আগে কোন একটি মহলের কারসাজিতে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়। একটি চক্রের কারণে তা আবারও অস্থির হয়ে ওঠে এবং শেয়ার বাজারে দরপতন ঘটে। আমরা জানি যে, শেয়ার বাজারে দরপতনের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখিত। তবে পত্রিকায় দেখলাম অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রেডিমেড ব্যানার নিয়ে রাস্তায় মিছিল করে। অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। দরপতনের আগেই কি করে তারা জানলো যে আজ দরপতন হবে? তা কি করে হলো এর রহস্যটা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, দাম কমলে তারা গাড়ি ভাঙচুর করে। তাদের এটিও বোঝা উচিত যে যাদের গাড়ি ভাঙা হয় তারাও তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, শেয়ার বাজারে দাম বাড়া এবং কমাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। দাম যখন কমে যায় তখন ভয়ে শেয়ার বিক্রি না করে দরে রাখলেই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। যারা শেয়ার বাজারে যায় তাদের এ সম্পর্কে জেনেশুনে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি শেয়ার বাজার সম্পর্কে বেশি বুঝি না। কিন্তু তারপরও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলবো দরপতন হলেই আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দেবেন না। এগুলো ধরে রেখে কিছুদিন অপেক্ষা করুন। তবে বাজার স্বাভাবিক রাখার জন্য যা করা প্রয়োজন সরকার তা করবে। মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের পক্ষে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এডভোকেট আবু জাহিরের উত্থাপন করা প্রশ্নের জবাবে দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব সময়ে চালের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চালের দাম ১৮ থেকে ২০ টাকায় আনতে সক্ষম হয়। যা এক বছর ছয় মাস পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে সকল প্রকার ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় আমাদের দেশের বাজারেও দাম কিছুটা বাড়ে। তারপরও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য কম রয়েছে। সরকার বাজার নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মুজিবুল হক চুন্নুর অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভিশন ২০২১-কে সামনে রেখে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে সমপ্রসারিত ও সময় উপযোগী এবং ঢাকা শহরের যানজট নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যাতে কম খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারে সে জন্য রেল যোগাযোগের উপর নজর দেয়া হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সড়কগুলো জরুরি পুনর্বাসনকল্পে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যা নিরসনে বর্তমান সরকার ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় জুরাইন রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ এবং মিরপুর বিমানবন্দর সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বনানী রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ শীর্ষক দু’টি প্রকল্প একনেক কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা শহরে জাহাঙ্গীর গেট হতে রোকেয়া সরণি পর্যন্ত একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী-আজিমপুর করিডরকে গ্রেড সেপারেশন করার ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন। রাশেদ খান মেননের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষের মতো বরিশালবাসীও রেল লাইন দেখতে পারবে। সরকার বরিশাল-পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল লাইন সমপ্রসারণ করবে। সাধারণ মানুষের জন্য অল্প খরচের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে দেশের সব জেলাকে রেল যোগাযোগে সম্পৃক্ত করতে চাই।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=2556:...

Suronjit babura khomotai gele

Suronjit babura khomotai gele beshi neety katha bolen kintu pore bemalam bhule jan!

একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষা!!!

ধরা খেতে হয়: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য দেওয়া বিদেশি অর্থ অন্য তহবিলে সরানোর অভিযোগ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গরিব মানুষের রক্ত চুষে খেলে ধরা খেতে হয়।

ইউনূসকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সূত্র ধরে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে হাসিনা রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ অনেক কিছুতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। জনগণের টাকা নিয়ে ভোজবাজির খেলার এটাও একটা দৃষ্টান্ত। দরিদ্র মানুষকে ঋণ দিয়ে অর্থ চুষে খাওয়া। কোথাও তো দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন হয়নি। দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে শুধু টাকা নিয়ে আসা হয়েছে।"

"বাংলাদেশের মানুষকে গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। আমি এটা কখনোই সমর্থন করিনি। প্রতিবাদ করেছি", বলেন তিনি।

শুরুতে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি শেয়ার ৬০ শতাংশ হলেও এখন তা ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে- এ তথ্য তুলে ধরে আমাদের সময়ের সম্পদক নাইমুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, "উনি (ইউনূস) পারলে সরকারকে শূন্য করতে চান। তবে সরকার সেটা হতে দেয়নি। অনেক বাড়াবাড়ি আছে। সরকার তা তদন্ত করে দেখবে কি না?"

জবাবে হাসিনা বলেন, "এটাকে এমনভাবে কব্জা করা হয়েছে, যেন এটা ব্যক্তি সম্পত্তি। এরও তদন্ত করা উচিৎ। গরিব মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। ভালো ভালো কথা বলে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে। এখন অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে।"

সেনানিবাসের বাড়ির প্রতি খালেদা জিয়ার যে 'ভালবাসা' ড. ইউনূসেরও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সে রকম 'ভালবাসা'- এ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গ্রামীণ ব্যাংক জনগণের সম্পত্তি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংককে ভালবেসে নিজের করা হচ্ছে। ইউনূস সাহেব গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি ভালবাসায় পড়ে গেছেন।

"গরিব মানুষের রক্ত চুষে খেলে জবাব দিতে হবে; ধরা খেতে হয়।"

মঙ্গলবার নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক প্রামাণ্যচিত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের কোটি কোটি ডলার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য তহবিলে সরানোর অভিযোগ তোলা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক অবশ্য ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে সংবাদ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শুক্রবার এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পরদিনই দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ড. ইউনূস যে 'দুর্নীতিবাজ' তা আবারো প্রমাণিত হলো। একইদিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সমঝোতার মধ্য দিয়ে তহবিল সরানো দোষের কিছু নয়।

তিন ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সরকার প্রধান হাসিনা বলেন, "আমরা চাই, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হোক। অর্থমন্ত্রীও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চেয়েছেন।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসইউএম/এজে/এমআই/১৫২০ ঘ.

এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে!

সরকার পতনে হরতালের মতো অপচেষ্টা আমরাও করেছিলাম: সুরঞ্জিত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিরোধী দলের হরতাল প্রসঙ্গে বলেন, ‘৫০টা হরতাল করার চেয়ে পাঁচ মিনিট সংসদে থাকা বেশি লাভজনক। হরতাল দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যায় না। এ রকম অপচেষ্টা আমরাও করেছিলাম। সুতরাং হরতাল না করে বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে বেশি লাভ হবে।’
আজ রোববার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘নীতিতে চাতুর্য চলে, শঠতা চলে, কিন্তু মিথ্যা চলে না। আবার বহুরূপী আইনজীবী (মওদুদ) গতকাল বলেছেন, আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করা হলে তা হবে অসাংবিধানিক ও সংসদের জন্য অপমানজনক।’ মওদুদের এ রকম বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, ‘অসাংবিধানিক যদি হয়ে থাকে তাহলে সে দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে। কারণ অষ্টম সংশোধনী মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কারও পরামর্শ না নিয়ে সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করেন। কিন্তু এ সরকার সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তিনি (মওদুদ) মনে করেন, সাংবাদিক ও সাংসদেরা অজ্ঞ, তিনিই একমাত্র বিজ্ঞ। এ ধরনের চিন্তাভাবনা রাজনীতির জন্য সুখকর নয়।’

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla