Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

এ র্দুঘটনা নয়, ঘটনা। এ অপমৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড

Bangladesh factory fire kills 111 garment workers
পোষাক কারখানায় পাইকারি মৃত্যু বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। বহুবার ঘটেছে এই শিল্প হত্যাকাণ্ড। মাথা পিছু ১ লাখ টাকা খয়রাত আর প্রধানমন্ত্রী-বিরোধী দলীয় নেত্রীর শোক বার্তার নীচে অনেক বার চাপা দেওয়া গেছে এ ধরণের ম্যাস মার্ডার। সিরিয়াল কিলারের মত এই খাতের শিল্প মালিকরা একের পর এক হত্যা করে চলছেন অসহায় একদল খেটে খাওয়া মানুষকে। কারখানাকে জ্বলন্ত নরক বানিয়ে বাহির হতে তালা লাগিয়ে শত শত নারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে মালিকরা ঘুমাতে চলে যান। এবং মাঝে মধ্যে এ ঘুম ভাঙ্গে মাথাপিছু ১ লাখ টাকা লোকসানের এলার্ম ঘড়িতে। এ দেশে মহাসমারোহে রাজনীতি করার সংস্কৃতি আছে, আছে রাজনীতির বিশাল বিশাল মাঠ। ৬০ জনের মত মন্ত্রী, বাঘা বাঘা উপদেষ্টা আর দেশপ্রেমের ঠিকাদার প্রধানমন্ত্রী নিয়ে আছে শক্তিশালি মন্ত্রীসভা। কিন্তু হায়, যাদের জন্যে রাজনীতি তাদের এখন আগুনে পুড়ে কয়লা হতে হয়, ধ্বসে পরা সেতুর নীচে পরিত্যাক্ত লাশ হতে হয়।
Bangladesh factory fire kills 111 garment workers
Bangladesh factory fire kills 111 garment workers
Bangladesh factory fire kills 111 garment workers
Bangladesh factory fire kills 111 garment workers
Bangladesh factory fire kills 111 garment workers

Comments

‘ফটকে ছিল তালা’

সেলিম আহমেদ
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধি

সাভার, নভেম্বর ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তাজরিন ফ্যাশনসে আগুন লাগার সময় কলাপসিবল গেইটে তালা থাকায় হতাহতের সংখ্যা এত বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেঁচে যাওয়া কয়েকজন শ্রমিক, যারা লাফিয়ে বেরিয়ে আসেন।

শনিবার রাতে সাভারের নিশ্চিন্তপুরে ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে নিহত হন ১১০ জন, যাদের প্রায় সবাই পুড়ে মরেছেন।

তাজরিন ফ্যাশনসের শ্রমিক মোহাম্মদ রিপু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, “ঘটনার সময় ফায়ার এলার্ম বেজে উঠে। তখন আমরা আগুন লেগেছে ভেবে নামতে গেলে কর্তৃপক্ষ বলে কিছু হয়নি। এলার্ম নষ্ট হয়ে গেছে।”

“ঠিক করে দিচ্ছি বলেই কলাপসিবল গেইটে তালা এঁটে দিয়ে কাজ করতে বলে শ্রমিকদের।”

নয় তলা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করছিলেন রিপু। নিচতলায় লাগা আগুন কিছু সময়ের মধ্যে ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

তখন প্রাণ বাঁচাতে অনেক শ্রমিক ওপর থেকে লাফ দেন। এর মধ্যে নয়জন মারাও যান। আর বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে একজন রিপু, তবে সামান্য আহত হয়েছেন তিনি।

“আগুনের তাপ আসতে থাকলে আমরা কয়েকজন স্যাম্পল রুমের ভেতর ঢুকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হই।”

নাজমুল নামের আরেক শ্রমিকও জানান, কলাপসিবল গেইটে তালা দেখে তিনতলার জানালা ভেঙে তিনি লাফিয়ে পড়েন।

প্রাণ বাঁচাতে জানালা দিয়ে লাফ দিয়েছিলেন নারী শ্রমিক মিলি আক্তারও। টিন শেড একটি ঘরের চালে তিনি পড়েন।

দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে গেলেও প্রাণে বেঁচে যাওয়ার আনন্দে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও অঝোরে কাঁদছিলেন মিলি।

তিনিও বলেন, “ফায়ার এলার্ম বাজলেওর্ র্কতৃপক্ষ বের হতে দেয়নি। ফায়ার এলার্ম নষ্ট হয়েছে বলে গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়।”

মো. স্বপন নামে আরেক শ্রমিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পরিচালকের পিয়ন কামরুল কলাপসিবল গেইটে তালা এঁটে দেন।

পঞ্চমতলার ফিনিশিং সেকশনের আয়রনের কাজ করেন স্বপন। ভবনের দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল ভেঙে বের হয়ে বাঁশ বেয়ে নিচে আসেন বলে তিনি জানান।

নয় তলা ওই ভবনে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা বা এই ধরনের কোনো সিঁড়ি ছিল না। আস্তর লাগানোর জন্য ভবনের দক্ষিণ দেয়ালে বাঁশের মাচা ঝোলানো ছিল, ওই মাচা দিয়ে অনেকে নেমে আসেন বলে স্থানীয়রা জানায়।

পোশাক কারখানায় তালা লাগানোর অভিযোগ বহু পুরনো। ২০০৬ সালে কেটিএস টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টসে আগুনের সময় তালা দেয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছিলেন এর মালিকরা।

কেটিএসে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছিল ৫৪ জন, যার ৪০ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিল ফটকের সামনে।

এই বিষয়ে সম্মিলিত গার্মেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মালিকরা শ্রমিকদের মূল্যায়ন করে না। তাদের দৃষ্টিতে শ্রমিকরা যেন চোর।

“যে কারণে কারখানার দরজা, প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখে। আর তাতে আগুন লাগলে শ্রমিকরা অবরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। এটা এক ধরনের হত্যাকাণ্ড।”

তাজরিন কারখানায় তালার যে অভিযোগ শ্রমিকরা করেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প পুলিশের উপ-পরিচালক মোক্তার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ কথা আমরা শুনছি। তবে তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।”

তাজরিনের অগ্নিকাণ্ড তদন্তে তিনটি কমিটি করেছে। একটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে, একটি পুলিশের পক্ষ থেকে এবং একটি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর পক্ষ থেকে।

তাজরিন ফ্যাশনসের শ্রমপরিবেশ নিয়ে তাদের পোশাক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়াল-মার্টেরও অসন্তোষ ছিল। ওয়াল-মার্টের গত বছরের এক নিরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/কেটি/এমআই/২২০৫ ঘ.

নিহতদের স্মরণে শোক দিবস ঘোষণা দেবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী!!!

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে চলতি সপ্তাহের যেকোনো এক দিন শোক দিবস ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে শোক প্রকাশ করে শোক দিবস ঘোষণার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। আজ রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত পোশাকশ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। খবর ইউএনবির। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আহত পোশাকশ্রমিকদের সুচিকিত্সা ও আহত-নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে গতকাল শনিবার রাতে পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

_ গুষ্টি কিলাই এসব ভাওতাবাজির...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla