Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

স্বদেশে বিদেশী বিনিয়োগ, আল্লার ঘরে এক টেকা দিলে সত্তুর টেকা পাওয়া যায়

Finance Minister of Bangladesh
৯০ দশকের প্রথম দিকের কথা। চাকরি উপলক্ষে প্রায় প্রতিদিন সাভার যেতে হয়। ঢাকায় অফিস থাকলেও ওখানে তেমন কিছু করার ছিলনা এক মার্কেটিং ছাড়া। ব্যবসার ভালোমন্দের সবটা জড়িয়ে ছিল কারখানাকে ঘিরে। ঢাকা-আরিচা রোডের বাসষ্ট্যান্ড হতে সাভার বাজারের দিকে যে রাস্তাটা চলে গেছে ওটাই ছিল শহরের প্রাণ। আমাদের কারখানাটি ছিল একই রাস্তার উপর। তখনও তা পাঁকা হয়নি। টানা একদিন বৃষ্টি হলে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পরত। পিচ্ছিল রাস্তায় রিক্সা চড়লে পেটের ভাত শরীরের সবকটা ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইত। অফিসের গাড়ি আনলে তার ধকল কাটাতেও লাগত ৭ দিন। জীবনযুদ্ধের এই বিরক্তিকর অধ্যায়ে হঠাৎ করে প্রাণ ফিরে এল বিশেষ একটা খবরে। দূরের দেশ আমেরিকা হতে অতিথি আসবেন কারখানা পরিদর্শনে। স্থানীয় এক টেন্ডারে বিদেশী বিনিয়োগের চেষ্টা অনেকদিন ধরেই চলছিল। শেষ পর্যন্ত রাজী করানো গেছে তাদের। অতিথিদের ইমপ্রেস ও মনোরঞ্জন করার সবকটা গলি মাড়াতে গিয়ে অদ্ভুত একটা সত্যের মুখোমুখি হতে হল আমাদের। অতিথিরা যেদিন আসবেন একই দিন সাভার বাজারেও জমবে সাপ্তাহিক হাট। সমস্যাটা দেখা দিল এখানেই। সপ্তাহে দুদিন হাট বসে এ বাজারে এবং আমাদের কারখানার ঠিক উলটো দিকে মাইক লাগিয়ে বাসষ্ট্যান্ড মসজিদের জন্যে চাঁদা উঠান একই মসজিদের মুয়াজ্জিন। জীর্ণ, শীর্ণ লোকালয়, দরিদ্রের চরম কষাঘাত আর ক্ষয়িষ্ণু রাস্তার পাশে আলিশান মসজিদের প্রয়োজনটা কোথায় এ ছিল জটিল এক ধাঁধাঁ। চাঁদা উঠানোর প্রযুক্তি ও মুয়াজ্জিনের ভাষা নিয়ে বেশ কবার প্রতিবাদ জানিয়েও কাজ হয়নি। সকাল ৯টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাইকের উঁচু আওয়াজে মুয়াজ্জিন সাহেব ঘুরে ফিরে একই বাক্য বাতাসে ছড়িয়ে দেন, ‘কত টেকা কত পয়সা অকারণে চইল্যা যায়, আল্লার ঘরে এক টেকা দিলে সত্তুর টেকা পাওয়া যায়’। সপ্তাহে দুদিন, মাসে আট দিন, বছরে ছিয়ানব্বই দিন, একই সুর, একই বাক্য, একই আবেদন, একই কান্না। দ্বিতীয় বছরের মাথায় দৈনন্দিন জীবনের সাথে কেমন যেন মিশে গেল এ কান্না। বরং মুয়াজ্জিনের আওয়াজ পেতে দেরি হলে চিন্তিত হতাম। দুই ঈদে শ্রমিক বোনাসের সময় ভাল অংকের একটা চাঁদা দিতেও ভুলতাম না জীবনযুদ্ধের এই সহযাত্রীকে। কিন্তু এ যাত্রায় আমাদের প্রয়োজন ছিল পারিপার্শ্বিক শান্তি। বিদেশি অতিথিদের অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়ানো আমাদের জন্যে ছিল বাধ্যতামূলক। মুয়াজ্জিনকে কারখানায় তলব করলাম অসুবিধা গুলো বুঝিয়ে বলার জন্যে। এবং এখানেই উন্মোচিত হল বিনিয়োগ বাণিজ্যের নয়া দিগন্ত। মুয়াজ্জিন সাহেব যা বললেন তার সরল সারমর্ম হলঃ

মসজিদের চাঁদা উঠানোর জন্যে অলিখিত টেন্ডার হয় প্রতি বছর। এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে বেশ কবার, এবং তা খোদ মসজিদে। পেশিতে বেশি শক্তি থাকায় এ যাত্রায় কাজটা চলে গেছে মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্টের পকেটে। বিস্ময়কর সত্য হল চাঁদা যাই উঠুক তার মাত্র শতকরা ১০-২০ ভাগ ফিরে যায় মসজিদ ফান্ডে। বাকি ৮০ ভাগ ভাগাভাগি হয় শহরের বিভিন্ন গলিতে। মুয়াজ্জিন সাহেব সাব-কন্ট্রাক্টরের প্রতিনিধি। যাদের আসল পরিচয় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ছাত্রনেতা এবং ওসি সহ গোটা পুলিশ বাহিনী। চাঁদার আনুমানিক অংকের ধারণা পেয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। কারখানা, লোকবল, বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাঁদা, ট্যাক্স আর ব্যাংক নিয়ে ২৪/৭ আহাজারী হঠাৎ করে কেমন যেন অর্থহীন মনে হল মসজিদ বাণিজ্যের কাছে। মুয়াজ্জিনকে অনুরোধ করলাম আমাদের প্রয়োজনে সপ্তাহের ঐ দিনটায় অন্তত মসজিদ বিনিয়োগের অফিসটা যেন সরিয়ে নেয়। ক্রুর ও বাঁকা একটা হাসি দিয়ে মুয়াজ্জিন সাহেব চলে গেলেন।

দুদিন পর কারখানায় চুরি হল। চুরি বললে হয়ত কম বলা হবে, এক কথায় লুট। দরজা জানালায় কোন ভাঙ্গন নেই, নেই কোন ক্ষতের চিহ্ন। শ্রমিকদের একজনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করে। বাকি কজনকে বাধ্য করে মালামাল ট্রাকে উঠাতে। ভোর হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিক সহ কারখানার বাকি সব বিনিয়োগ ভোজবাজির মত হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ উলটো আমাকে আটক করার হুমকি দিল। দুদিন না যেতে পরিষ্কার হয়ে গেল এ লুটের পেছনে কাদের হাত ছিল। সময় মত বিদেশিরা এল এবং কারখানা রুগ্ণ চেহারা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে গেল। মাস না ঘুরতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার অভিযোগ তাদের লোকাল এজেন্ট আমার নামে মামলা ঠুকে দিল। এর পরের কাহিনী অপ্রাসঙ্গিক হলেও তা ছিল আরও ভয়াবহ। তিক্ততায় ভরপুর এ কাহিনী নিয়ে আরব্য উপন্যাস লিখলেও শেষ হবেনা। উঠিয়ে রাখলাম পরবর্তী কোন পর্বের জন্যে।

পুরানো এ অভিজ্ঞতাটা মনে করতে বাধ্য হলাম বিশেষ একটা কারণে। বিদেশি বিনিয়োগের উপর বাংলাদেশের সমসাময়িক অবস্থা পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমাদের অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত সাহেব এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা মূল্যায়নের দাবি রাখে। অর্থমন্ত্রীর মতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে এবং এর জন্যে এককভাবে দায়ি করছেন দেশের একমাত্র নোবেল লওরিয়াট ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে। তার মতে ইউনূস বাংলাদেশের ’বিস্ময়কর’ উন্নতিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিদেশে গিয়ে দেশ সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ করছেন এবং তাতে বিদেশিরা কান দিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা হতে দুরে থাকছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতিবিদ ও নোবেল লওরিয়াট আমর্ত্য সেনকে কোট করে বলছেন তিনিও নাকি একই চোখে দেখেছেন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ইউনূসের ভূমিকা। সাংবাদিকদের সামনে রেখে বাংলিশ ভাষায় মাল মুহিত যখন এসব কাণ্ডজ্ঞানহীন, ঘৃণা ও বিদ্বেষপ্রসূত অভিযোগ করছিলেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস ছিলেন সুদূর ভিয়েনায়। গোটা বিশ্বে সমাদৃত সোস্যাল বিজনেসের উপর আয়োজিত এক সেমিনারের দরিদ্রকে জাদুঘরে পাঠিয়ে বিশ্বকে শান্তিময় করার উপর গুরুত্ব আরোপ করছিলেন। বালার অপেক্ষা রাখেনা সেমিনারে স্পেনের রানী সোফিয়া সহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক বিশ্বখ্যাত মুখ। একজন ব্যক্তি কি করে একটা রাষ্ট্রের চাইতে বেশি ক্ষমতা রাখতে পারে তার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই না আমাদের রাজনীতিবিদদের মুখে, সেদিকে না গিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে পাতি নেতা হয়ে ভার্চুয়াল দুনিয়ার দলীয় পদলেহনকারী পর্যন্ত ঢালাওভাবে দায়ী করছেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে। হোক তা পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা অথবা বিদেশী বিনিয়োগে সরকারী ব্যর্থতা। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে যাদের সম্যক জ্ঞান নেই তাদের হয়ত বিভ্রান্ত করা যাবে প্রধানমন্ত্রী সহ মন্ত্রীসভার বাকি সদস্যদের ইউনূস চুলকানি দিয়ে। দেশীয় রাজনীতির হাগু মুতু দিয়ে বিদেশীদের কতটা প্রভাবিত করা যায় তার প্রমাণ অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আক্ষেপ, ক্ষোভ আর ব্যক্তিগত বিষোদগার।

অর্থমন্ত্রী কোন শতাব্দিতে বাস করেন জানিনা, তবে ৩২ বছর পৃথিবীর বিভিন্ন কোনায় বাস করতে গিয়ে এতটুকু শিখেছি স্বার্থের বাইরে গিয়ে ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্র কোথায় কোন বিনিয়োগ করতে যায়না। এটা মুক্তবাজার অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। হতে পারেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনূস একজন নামী দামি মানুষ, পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের দুয়ার হতে পারে তার জন্য সদা উন্মুক্ত, কিন্তু কেবল মাত্র এক ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে উন্নত বিশ্বের কোন দেশ তার বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনবে এর নাম মুক্তবাজার অর্থনীতি নয়। অন্য কারও কাছে না হোক বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন কর্মচারী হিসাবে অর্থমন্ত্রীর তা জানার কথা। প্রধানমন্ত্রী সহ মন্ত্রীসভার বাকি সবাই প্রায় অশিক্ষিত। মুখবাজি আর পদলেহন ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতি ও এর মেরুকরণ নিয়ে এসব আদমদের আদৌ কোন জ্ঞান অথবা মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয়না। আমাদের দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মূল অভিষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট। এহেন কাজে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে রাজনীতির ছটাক নেতা পর্যন্ত একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছেন। দেশের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে যে দেশের অর্থমন্ত্রী জুয়াড়ি হিসাবে উড়িয়ে দিতে পারেন তিনি আর যাই হোক অর্থমন্ত্রী পদের যোগ্যতা দাবি করতে পারেন না। জানিনা এসব লগ্নিকারীদের সর্বনাশের পেছনেও মাল মুহিত সাহেবরা ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পান কিনা। প্রশ্ন উঠতে পারে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্যে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকারের প্রায় সব মন্ত্রী পা হতে মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন সাবেক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজু। ল্যাপটপের দেশীয় সংস্করণ দোয়েল নিয়ে তুঘলকি লুটপাটের লোমহর্ষক কাহিনী প্রকাশ করেছে আজকের দৈনিক সমকাল। পত্রিকা দাবি করছে তাদের হাতে প্রমাণ আছে দোয়েলের যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে মালয়েশিয়া ও নিউ ইয়র্কে লাখ লাখ ডলার অবৈধ লেনাদেনা হয়েছে, যার সিংহভাগ গেছে মন্ত্রী রাজিউদ্দিনের পকেটে। জানিনা এসব লেনা দেনার উৎসও মাল মুহিতের চোখে প্রফেসর ইউনূস কিনা। বাতাসে খবর ভাসছে পদ্মাসেতু নির্মাণে মালয়েশিয়ান আগ্রহের পেছনে আসলে লুকিয়ে ছিলেন আওয়ামী পন্থী সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল হারুন। ডেসটিনি নামের ভেলকিবাজি কোম্পানী বানিয়ে সরকারের নাকের ডগায় হাজার হাজার কোটি লোপাট করে বিদেশে পাচার করেছেন এই জেনারেল। ধরা পরে মুক্তিযুদ্ধা খেতাবের ছত্রছায়ায় সসম্মানে মুক্তি পেয়ে ফিরে গেছেন স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু এ ফাঁকে ধোঁকাবাজির বেড়াজালে পথে বসিয়ে গেছেন দেশের হাজার হাজার সহজ সরল খেটে খাওয়া মানুষকে। এ দেশে ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের সরকার কায়েম নেই যে জেনারেল হারুনের চুরির জন্যে তাকে দায়ী করা যাবে। দেশের প্রায় প্রত্যেক সরকারী ব্যাংক অভুক্ত শকুনের মত লুটে নিচ্ছে মাল মুহিতের চেলা চামুন্ডারা। তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসব খবর কি বিনিয়োগকারীদের কানে যায়না? সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা কি সরকারী দলের ঘরজামাই যে খোঁজ খবর না নিয়ে বাংলাদেশে টাকা ঢালতে আসবে? দুদিন আগে আইন করে নতুন গ্যাস সংযোগ নিষিদ্ধ করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। খবর গুলো কি বিদেশে যায়না? নাকি বিদেশিদের সবাই হলমার্ক অথবা সুরঞ্জিত বাবুদের মত লুটের টাকায় কালো পুঁজি যোগার করে যত্রতত্র বিনিয়োগের জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকে? আমাদের গ্যাস নেই, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, আইনশৃংখলা বলতে কিছু নেই, সুশাসন ঠাঁই নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টাদের মাথায় ঝুলছে বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক সংস্থার দুর্নীতির অভিযোগ। এমন একটা দেশে মাল মুহিতদের ললিপপ চেহারা আর প্রধানমন্ত্রীর নষ্ট মুখের নষ্টামিতে বিনিয়োগের জন্যে বিদেশিরা আকৃষ্ট হবে এমনটা ভাবা নিছক ভন্ডামি। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে দুর্নীতি আর লুটপাটের মহাসমুদ্র বইছে, আর তাতে প্রাণ খুলে সাতার কাটছে মাল মুহিত সাহেবের সাঙ্গপাঙ্গরা। মিথ্যা দিয়ে মহাসমুদ্র ঢাকা সহজ কাজ নয়, ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে ভেলা বানিয়ে লুটপাটের দরিয়া পাড়ি দেয়ার হাসিনা প্রকল্প তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। মাল সাহেবরা ইউনূসের নামে আকাশে যে থুথু ছুড়ছেন তা নিজেদের কাছে ফিরে আসতে বাধ্য এবং দিনশেষে ব্যক্তি ইউনূসের তাতে কতটা ক্ষতি হবে সময়ই তা প্রমাণ করবে।

ইউনূস গীবত ছেড়ে মাল মুহিত সাহেবদের সময় হয়েছে চামড়া বাঁচানোর চিন্তা করার। আশাকরি যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক মন্ত্রী নামের এসব দস্যুদের দাঁড় করাবে আদালতের কাঠগড়ায়। ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে সর্বশান্ত করার অপরাধ, ডেসটিনির নামে হাজার হাজার কোটি লুটে নেয়ার অপরাধ, পদ্মা সেতুর আর্ন্তজাতিক দুর্নীতি, হলমার্কের ছত্রছায়ায় সরকারী ব্যাংক উজার করার অপরাধ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করার অপরাধ গুলো কি যথেষ্ট হবেনা এসব মন্ত্রীদের বাকি জীবনের জন্যে জেলে ঠেলে দেয়ার? এক টাকা বিনিয়োগ করে সত্তুর টাকা আয়ের বাংলাদেশি বাস্তবতা বাকি বিশ্বের জন্যে নতুন কোন সংবাদ নয়, এসব সংবাদ প্রতিদিন শোভা পাচ্ছে উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। এ জন্যে প্রফেসর ইউনূসকে দায়ী করে সাময়িক রক্ষা পাওয়া যাবে ঠিকই, কিন্তু যখন সময় আসবে মাল মুহিতদের শেষ ঠিকানা কি হবে তা জানার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকবো।

Comments

লিজ নেওয়াই লেনিনের কাজ

লাবলু মোল্লা, মুন্সীগঞ্জ

তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক। অথচ দলীয় প্রচারণার খবর নেই। তিনি এখন ব্যস্ত হিন্দু সম্পত্তি লিজ বাণিজ্য নিয়ে। এই ব্যস্ত মানুষটি হলেন এক সময়ের কমিউনিস্ট নেতা নূহ-উল আলম লেনিন। 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন' নামের একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তিনি একের পর এক লিজ নিয়ে চলেছেন হিন্দু সম্পত্তি। জমিদারবাড়ি, হিন্দুবাড়ি, পুলিশ ক্লাব, এমনকি সরকারি খালও তিনি নামমাত্র মূল্যে লিজ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত কতগুলো বাড়ি তিনি লিজ নিয়েছেন, এর সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রশাসনের কাছে নেই। তবে অগ্রসর বিক্রমপুরের সাইনবোর্ড-সংবলিত কিংবা সাইনবোর্ডবিহীন সাতটি বাড়ি ও স্থাপনার ছবি রয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে। মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি থানায় তার নেওয়া লিজের বাড়ি আছে। এ কারণে মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ তাকে আড়ালে-আবডালে ডাকেন 'লিজ লেনিন' নামে। তবে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন না। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা লেনিনের দখল আতঙ্কে তটস্থ জেলার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। কারণ ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান আর খননকাজের নামে আওয়ামী লীগের দাপট খাটিয়ে জেলার বেশ কয়েকটি হিন্দুবাড়ি এরই মধ্যে দখলে নিয়েছেন লেনিন। লেনিন লৌহজংয়ের যে বাড়িটিতে বর্তমানে বসবাস করছেন, সেটিও রেণু বালা নামে এক হিন্দু নারীর। কৌশলে বাড়িটি তিনি দখলে নেন। এখানেই শেষ নয়, এর পর থেকে তিনি একের পর এক হিন্দু সম্পত্তি দখল করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি শ্রীনগরের রাঢ়িখাল ইউনিয়নের বালাশুর গ্রামের জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়িটি দখল করেন। শুধু সেই বাড়ি দখল করেই ক্ষান্ত হননি লেনিন, দখলদারির শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে চলেছেন দিন দিন। তিনি এবার হাত দিয়েছেন খোদ জেলা শহরে। শহরের মালপাড়ায় কে বি ব্যানার্জির দোতলা বাড়িটি লিজের নামে দখলে নিয়ে সেখানে টাঙিয়েছেন 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন'-এর সাইনবোর্ড। সদর থানার কাছে অবস্থিত ভবনটি পুলিশ অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বর্তমানে লিজের রীতি না থাকলেও জেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে হাত করে দখলে নিয়েছেন ওই বাড়ি।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের অভিযোগ, প্রাচীন বাংলার রাজধানী রামপালে পুরাকীর্তি খননের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন লেনিন। খনন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকলেও সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আত্দসাৎ করছেন তিনি। একই সঙ্গে কনকসার এলাকায় শ্রীনগরের প্রধান খালটি ভরাট করে তিনি অগ্রসর বিক্রমপুর সংগীত বিদ্যালয়ের নামে তা দখল করে নিয়েছেন। এযাবৎ যতগুলো হিন্দু বাড়ি লিজের নামে 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন' সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখল করেছে, এর প্রতিটিই লেনিনের নিজ নামে লিজ নেওয়া। সম্প্রতি তিনি বালাশুরের আরও একটি দিঘি লিজের নামে দখল নিয়েছেন। দিঘিটি গত বছর প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছিল সরকার। অথচ জেলা প্রশাসক আজিজুল আলমের যোগসাজশে সেটিকে তিনি মাত্র আড়াই হাজার টাকায় নিজ নামে লিজ নেন।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট সালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'এটিকে নতুন কোনো বিষয় বলা ভুল হবে। কারণ তার (লেনিন) পুরোটা জীবনই কেটেছে চাঁদাবাজি করে। এখন তিনি দখলদারির ধরন পাল্টেছেন মাত্র। তিনি যদি মুন্সীগঞ্জের সব হিন্দু বাড়িও দখল করে নেন, আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।' এই দখল-বাণিজ্য ঠেকাতে জেলার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এখন একাট্টা, ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে জমিদার যদুনাথের বাড়ি দখলে নিয়ে জনতার রোষানলে পড়েছেন লেনিন। সেখানে তিনি নির্মাণ করছেন ব্যক্তিগত সংগঠনের নামে মিউজিয়াম। অথচ এ এলাকায় নেই কোনো হাসপাতাল। খুব কাছেই রয়েছে অন্য একটি মিউজিয়াম। তার এ মিউজিয়াম করার পেছনে দুরভিসন্ধি রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কারণ মিউজিয়ামকে পুঁজি করে তিনি দেশে-বিদেশে অর্থ সংগ্রহের নামে মেতে উঠেছেন চাঁদাবাজিতে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, লেনিন বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অর্থসাহায্য কামনা করছেন। এরই মধ্যে লেনিনের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিক্রমপুরবাসী। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহিন মোহাম্মাদ আমানউল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে যে দখল-বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন লেনিন, এর সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। তাই এ প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে, আসলে জেলা প্রশাসন কি লেনিনের, নাকি সরকারের?

জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির এক নেতা বলেন, 'লেনিনের একের পর এক হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জানতে পেরেছি তিনি মন্দির লিজ নিতে চান। তবে আমাদের মন্দিরে কেউ হাত দিলে বসে থাকব না।'

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সফু বলেন, লেনিনকে দখল-বাণিজ্যে সহায়তা না করে জেলা প্রশাসকের উচিত দেশের স্বার্থে অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া।এলাকাবাসী মনে করেন, জনবিচ্ছিন্ন ও দাম্ভিক লেনিন নিজ ইউনিয়নে মেম্বার পদে যদি নির্বাচন করেন, তবুও পাস করতে পারবেন না। তাহলে কোন যোগ্যতাবলে তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বনে গেলেন, এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর। তারা অভিযোগ করেন, কমিউনিস্ট পার্টি করার সময় লেনিন বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানা কটূক্তি করেছেন। আওয়ামী লীগ কি তাকে সেই কাজের পুরস্কার দিল কেন্দ্রীয় পদ দিয়ে! এলাকাবাসী আরও মনে করেন, একজন মাত্র লেনিনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে অপেক্ষা করছে মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি।
http://www.bd-pratidin.com/index.php?view=details&type=single&pub_no=913...

জাল দলিলে ব্যাংক ঋণের মহোৎসব

মানিক মুনতাসির

দেশের ব্যাংকিং খাতে জাল দলিলে ব্যাংক ঋণের মহোৎসব চলছে। ভুয়া দলিলপত্র জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলোতে নানা ফন্দিফিকির আর তদবির করে ভুয়া কাগজপত্র মর্টগেজ হিসেবে জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে তারা। সম্প্রতি হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে এ ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেয় হলমার্ক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত চার দশকে এভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। আর এর সিংগভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা। এ ছাড়া প্রায় সব বেসরকারি ব্যাংকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অবিশ্বাস। লেনদেনের সম্পর্কে ধরছে ফাটল। ফলে বিপাকে পড়েছেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ঘটনার জের ধরে প্রকৃত ঋণগ্রহীতা বা উদ্যোক্তাদের প্রতারক সন্দেহের তালিকায়ও রাখছে ব্যাংকগুলো। এ ধরনের ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিংকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে না পারলে শীঘ্রই ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে।

সূত্র জানায়, এই প্রতারক চক্র কখনো কখনো ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে ব্যাংক ঋণ নিয়ে যায়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশেও ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পত্তি অতিমূল্যায়িত করে, ভুয়া এলসি খুলে কিংবা জাল সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর বন্ধক রাখার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপি সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া দলিল, ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধ করছে না গ্রাহক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংককে দেওয়া কাগজপত্রের ঠিকানা অনুযায়ী গ্রাহকের খোঁজও পাচ্ছে না ব্যাংক। আবার খোঁজ পেলেও আইনি জটিলতায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। কারও কারও বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করলেও তা ঝুলে থাকছে বছরের পর বছর। কিন্তু এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে পাঁচ বছর পর ওই সব ঋণ 'মন্দ ঋণে' পরিণত করছে। ফলে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ব্যাংকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর এর নেতিবচাক প্রভাব পড়ছে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে। এ কারণে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের সাড়ে ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু সোনালী ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এ ঋণ আদায় করতে না পারায় ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছে। পুরো ব্যাংকিং খাতে বিরাজ করছে তারল্য সংকট। এ কারণে অসময়েও ব্যাংকগুলোকে কলমানি মার্কেটের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছে ধারের ওপরই। এক ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে অন্যটির ধার পরিশোধ করার মতো ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ অবলোপনের নিয়ম চালু হয়। ওই সময় ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। আর ব্যাংকিং খাতে মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৯ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৯০ শতাংশই ছিল খেলাপি ঋণ। এর মধ্যে মন্দ হিসেবে শ্রেণীবিন্যাসিত হওয়ার পর পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এমন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ওই ১৩ হাজার কোটি টাকা মন্দ খেলাপি ঋণের মধ্যে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর পাঁচ বছর মেয়াদি মন্দ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মোট ঋণের প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংকই অবলোপনের পর আর ওই খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করে না বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সূত্র জানায়, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানতে পারার পর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তা প্রকাশ করে না। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বলা হলেও তা অস্বীকার করে বলে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনায় কয়েকটি ব্যাংককের ঊধর্্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশপাশি যে কোনো ধরনের ঋণ দেওয়ার আগে মর্টগেজের কাগজপত্র অধিক যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেওআইসি (তোমার গ্রাহককে জানো) ছাড়া ব্যাংক ঋণ দিতে নিরুৎসাহিতও করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ব্যাংকগুলো সব নিয়ম মেনে চললে এবং কেওআইসি অনুসরণ করলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এ জন্য ব্যাংকারদের স্বচ্ছতা, সচেতনতা ও জবাবদিহি বাড়ানো দরকার। এসব ঘটনার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে অনিয়মের পাহাড় জমেছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েছে। ফলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। উৎপাদনশীল খাতের চেয়ে অনুৎপাদনশীল ঋণ প্রবাহ বেড়েছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ কমে আসার কথা। এসব অনিয়ম দেখভালও করতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেননা এ প্রতিষ্ঠানটিকেও রাজনৈতিকীকরণ করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে রাজনৈতিক মতাদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ আর হতাশা। সাম্প্রতিক সময়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নড়েচড়ে বসলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা ব্যাংকটি। এ ছাড়া বর্তমান গভর্নর ড. আতিউর রহমান দাফতরিক কাজকর্ম ফেলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছোট ছোট অনুষ্ঠানেও হরহামেশাই উপস্থিত হচ্ছেন তিনি। ফলে গভর্নর সচিবালয়ের দাফতরিক কাজকর্ম চলছে ঢিমেতালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকগুলো একটু নড়েচড়ে বসেছে তাই এ ক্ষেত্রে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। এমন এক ব্যাংক আরেক ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে দিচ্ছে। জালিয়াতির এসব ঘটনা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বদা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে।
http://www.bd-pratidin.com/index.php?view=details&type=gold&data=Sports&...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla