Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

পিছু হটার এখনই সময়

India and Bangladesh

রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত যতই ঘনিভূত হচ্ছে ততই বাড়ছে জাতি হিসাবে আমাদের অস্থিত্বের আশংকা। এমনটা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি কূটনীতিবিদদের বিরামহীন তৎপরতা, পাশাপাশি দেশী বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের খবর বিশ্বাস করলে আমরা ধরে নিতে পারি রাজনীতির ভাগ্য এখন আমাদের হাতে নেই, বরং তা নির্ধারিত হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত হতে। স্বার্থ-বান্ধব আওয়ামী সরকার ভারত সরকারের একমাত্র পছন্দ, এমন একটা উপসংহারে আসতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয়না। বুলেট খরচ না করেই অনুপচাটিয়া গংদের হাতের মুঠোয় পাওয়া, নিজ দেশের নদী ভরাট করে প্রতিবেশী দেশের ট্রানজিটের ব্যবস্থা করা, এমন ঐশ্বরিক সম্প্রদানের নজির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ হয়। ভারত আমাদের তিন দিকের প্রতিবেশি। আয়তন, লোকসংখ্যা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সহ অনেক কিছুতেই ওরা এগিয়ে। কিন্তু একটা জায়গায় ওদের নিকৃষ্টতা পৃথিবীর বাকি সব নিকৃষ্টতাকে হার মানাতে বাধ্য, প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক।

পাকিস্তানের কথা বাদই দিলাম, নেপাল, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ সহ কোন প্রতিবেশীকেই কেন জানি ক্ষমতাধর ভারতীয় সরকার সার্বভৌম দেশ হিসাবে মানতে রাজি নয়। ভয়াবহ বানিজ্য ঘাটতি ও চোরাচালানি বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক আয়তনে ছোট একটা দেশকে গলাধঃকরণ করেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং একতরফা মিডিয়া আগ্রাসনের মাধ্যমে দেশের আন্তসামাজিক ও আন্তপারিবারিক সমীকরণে ধরিয়ে দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। পরিকল্পিত ভাবে সীমান্ত উন্মুক্ত করে এ দেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ফেন্সিডিল, ইয়াবার মত নেশার বস্তু, সাথে আসছে অস্ত্র। যুবসমাজ নেশায় ধুকছে, হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবা লোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে হায়েনার মত। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে বিদেশি সংস্কৃতির নোংরা থাবা। ক্ষুদ্র ও ভারী শিল্প বলতে বাংলাদেশে যা ছিল তার সবই এখন জাদুঘরে। স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিবেশী হিসাবে আমাদের ক্রিকেট দলকেও তাদের দেশের মাঠে নিতে অনীহা। এমনটাই আমাদের প্রতিবেশী। এমন একটা প্রতিবেশীর পছন্দের সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। এ যেন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাওয়ার সমীকরণের মত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এক দেশের সরকার ও অন্যদেশের রাজনৈতিক দল একে অপরের পরিপূরক।

ভারতকে ফিরিয়ে দেয়ার মত কৃতজ্ঞতার তালিকা এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাওয়ার নয় শেখ হাসিনার জন্য। সবাইকে হারিয়ে শেখ পরিবারের দুই সন্তানকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল প্রতিবেশী দেশে। সন্তানদের ভরন পোষন সহ সব খরচ বহন করেছিল দেশটার সরকার। স্বভাবতই দুই পক্ষের বর্তমান আচরণে লেনদেনের অলিখিত প্রভাব খুজে পাওয়া যায়। ব্যক্তি হাসিনার অনেক কিছু দেয়ার আছে রাষ্ট্র ভারতকে এবং ভারতেরও অনেক কিছু পাওয়া আছে শেখ হাসিনার কাছে। সমস্যা হচ্ছে, শেখ হাসিনাই গোটা বাংলাদেশ নয়, শেখ পরিবারও এ দেশের ইজারা নেয়নি। যে দেশের সরকার গরু চোরাচালানির জন্য তার প্রতিবেশী দেশের গরীব সাধারণ মানুষকে পশু পাখির মত গুলি করে মারে, তাদেরই মালামাল পারাপারের জন্য আমরা নদী ভরাট করে দেই সামন্যতম চিন্তা না করে, এখানেই আসে আন্তদেশীয় সম্পর্কের চাইতে ব্যক্তি সম্পর্কের লেনাদেনার প্রশ্ন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ভারত ও শেখ পরিবারের জন্য লেনাদেনা, দায় শোধ ও কৃতজ্ঞতার বিনিময়ের মত। ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা বাতিল করে ব্যক্তি হাসিনার অধীনে নির্বাচন আয়োজনের করার আসল কারিগরের চেহারা। এ কারিগর ভারত। স্বার্থ-বান্ধব সরকারের পূত গন্ধময় শাসনের ফলাফল আগ বাড়িয়ে বুঝতে পেরেছিল এসব নিরামিষ খোর ধূর্ত শয়তানের দল। দেশের মানুষ বুঝে উঠার আগেই তাদের গলায় ঝুলিয়ে দেয় মৃত্যুদণ্ড। দেশের বিচার ব্যবস্থার ঘাড়ে বন্দুক রেখে তিতাস নদী ভরাটের মতই ভরাট করে রেখেছিল দেশের নির্বাচন নদী। ভেবেছিল এ নদীতে সাতার কেটে জনম জনম ধরে শোসন করতে থাকবে তিন দিক হতে বন্দী কোটি কোটি মানুষের একটা দেশকে। আসলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী বেনিয়াদের বিবেচনায় কোন দেশ নয়, বরং ব্যবসা-বানিজের হাট। অনেকটা বাবুর হাটের মত।

বয়স ছোট হলেও স্পষ্ট মনে আছে ঘটনা গুলো। ৬৯’এর গন-আন্দোলন হতেই বোধহয় শুরু। আইয়ুব খান মোনায়েম খান গং পাইকারি হারে গ্রেফতার করছে বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে এবং এই গংদের দেশীয় দোসরা উল্লাস করছে আইনশৃংখলার দোহাই দিয়ে, আস্ফালন করছে পেশি শক্তির মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে। ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন একজন মুক্তিযোদ্ধা অথবা তাদের পরিবারের কাউকে গ্রেফতার অথবা লাশ ফেললে একই কায়দায় উল্লাসে মেতে উঠত পাকিস্তানি দোসরের দল । বিজয় মিছিল, হুমকি, হাজার বছরে লড়কেলেঙ্গা পাকিস্তানের পক্ষে স্তুতি আর পাক সেনাদের বীরত্বের মহাভারত লেখায় মেতে উঠত এসব ভাড়াটিয়া সেবাদাসের দল। আজ একবিংশ শতাব্দির প্রথমাংশে এসে আবারও দেখতে হচ্ছে এসব কুলাঙ্গারদের প্রেতাত্মা। ওরা আইয়ুব, ইয়াহিয়া আর মোনায়েম খাঁ’দের মতই আস্ফালন করছে এবং ভয় দেখাচ্ছে শক্তি দিয়ে দমিয়ে দেবে দেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছা।

১৭৩ দিন হরতাল, শত শত মানুষ খুন এবং নিজেদের জরায়ুতে তত্ত্বাবধায়ক নামক সরকারের জন্ম দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার স্বাদ নিয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে ঠেলে দিয়ে উদ্বার করেছিলেন প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ। পাচ বছর ধরে রাষ্ট্রকে নিবিড় লুটপাটের পর দেশের মানুষ উনাদের জন্য এখন মোহম্মদী বেগের মত। তাই বাঁচার জন্য আবারও দ্বারস্থ হয়েছে ভারতীয় গনিকাদের দুয়ারে। এবং তাদের ঔরস হতেই জন্ম নিয়েছে গণতন্ত্র রক্ষার নতুন হযরতে আলা, শেখ হাসিনা। এসব ভন্ডামি, নষ্টামির সাথে এ দেশের মানুষ অনেকটাই এখন পরিচিত। আগের বার বেগম জিয়া যেমন পারেন নি, এ যাত্রায় শেখ হাসিনাও পারবেন না। এ ইতিহাসের অমেঘো পরিণতি, এ হতে ইয়াহিয়া আইয়ুব, হিটলার মুসোলিনি, শেখ মুজিব জেনারেল জিয়া, এরশাদ বেগম জিয়া যেমন রেহাই পাননি, শেখা হাসিনাও রক্ষা পাবেন না। যুদ্ধের মাঠে বুদ্ধিমানরাই পিছু হটে। শেখ হাসিনা বুদ্ধিমান হয়ে থাকলে পিছু হটার এখনই সময়। অন্তত প্রাণে বাচতে পারবেন।

Comments

তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে ৩৫

তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। সেই বৈরী সময় তৎকালীন সরকারকে ১৭ এপ্রিল গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে মুজিবনগর সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এ কারণে তাকে স্বাধীনতার সম্মানসূচক বীর বিক্রম খেতাবও দেওয়া হয়। পরে তিনি যোগ দেন সরকারের প্রশাসন বিভাগে। এরপর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন ড. চৌধুরী। ২০০৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি জ্বালানি সচিবেরও দায়িত্ব পালন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকেই তার দুর্নীতির যাত্রা শুরু।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা করা হয় তৌফিক-ই-ইলাহীকে। তিনি হয়ে ওঠেন এই মন্ত্রণালয়ের একচ্ছত্র অধিপতি। তার বিরুদ্ধে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ দেখা, দুর্নীতিসহ বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে গত পাঁচ বছরে। গণমাধ্যমে তিনি সমালোচিতও হন। এসব কারণে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের উপদেষ্টা থেকে তার নাম বাদ পড়ে।

শেভরন কেলেঙ্কারিতে ড. তৌফিক জড়িত : অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা থাকাকালে তৌফিক-ই-ইলাহী মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনকে ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৩৭০ কোটি টাকা) একটি গ্যাস কমপ্রেসারের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত এ অভিযোগটি করেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে জনৈক আবু সিদ্দিকী। অভিযোগটি প্রধানমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার কাছে তদন্তের দায়িত্ব দিলেও তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলা কোনো তদন্ত না করে মন্ত্রণালয়ের কাছেই তদন্তের ভার ফিরিয়ে দেয়। পরে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তবে তৎকালীন জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মোহসিনের (২০১০ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্বালানি সচিব) বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকায় এ তদন্তের কোনো ফলাফল আজো প্রকাশ হয়নি। এ বিষয়টি দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত হলে তৌফিক-ই-ইলাহীর পক্ষ থেকে ওই দৈনিকটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। মামলায় পত্রিকাটির সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দীর্ঘ দিন কারাভোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, সচিব মোহাম্মদ মোহসিন ও পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তাদির আলী পারস্পরিক যোগসাজশে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকার সমান ৫২ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে কমপ্রেসার স্টেশন বসানোর কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, কাজটি শেভরনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৌফিক-ই-ইলাহী ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তদন্তের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত চার বছরেও এ তদন্তকাজ শেষ হয়নি।

শেভরনকে কমপ্রেসার কেনার কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে গতকাল তৌফিক-ই-ইলাহীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে জ্বালানি উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, 'এ রকম একটি তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর আমি দৈনিক আমার দেশের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছি। বেনামি একটা চিঠির ভিত্তিতে খবরের কাগজে এ রকম চরিত্রহননের কারণে আমি মানহানির মামলা করেছি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।' এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'একটা উড়ো চিঠির ওপর, একটা বেনামি চিঠির ওপর; যার অস্তিত্ব নেই তার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মামলা বিচারাধীন রয়েছে।' এদিকে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া গোপন তারবার্তা থেকেও শেভরনের গ্যাস কমপ্রেসার কেনার সঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানা যায়। ২১ ডিসেম্বর, ২০১০ সালে ফাঁস হওয়া উইকিলিকসের এক গোপন তারবার্তায় (যার রেফারেন্স আইডি : 09DHAKA741) বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের একটা উপায় হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহ লাইনে কমপ্রেসার যুক্ত করা, কমপ্রেসার যুক্ত করলে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জবাবে জানান, 'বাংলাদেশ শেভরনকে তিনটি কমপ্রেসারের মধ্যে একটি বসানোর অনুমোদন প্রদানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।' উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া গোপন তারবার্তার সূত্র ধরে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেভরনের কাছ থেকে একটি কমপ্রেসার কেনার ব্যাপারে আগেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কথা দিয়েছিলেন তৌফিক-ই-ইলাহী। এ ব্যাপারে শেভরন তৌফিক-ই-ইলাহীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ প্রদান করবে, এটাই স্বাভাবিক। এ প্রসঙ্গে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুরো বিষয়টিই হয়েছে অনিয়মের মধ্য দিয়ে। যদি নতুন একটি কমপ্রেসার মেশিন কেনা হয়, তাহলে বর্তমান তার বাজারমূল্য ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে পুরনো কমপ্রেসার মেশিন শেভরনের কাছ থেকে কিনেছেন প্রায় ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই ৫৩ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৮ মিলিয়ন তো সরাসরি বাড়তি। যেহেতু পুরনো মেশিন সেহেতু এর দাম ৩৫ মিলিয়ন ডলারও নয়। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তার বরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য বিস্তারিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি ওই চিঠির সূত্র ব্যবহার নাও করি, তাহলে পারিপার্শি্বক বিবেচনায় এটা বলা যায় যে এখানে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। কারণ, যেখানে নতুন মেশিনের দাম ৩৫ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ৫৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পুরনো মেশিন কেনার কারণই হলো বড় ধরনের ঘুষের লেনদেন।

জানা গেছে, নাইকো কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তৌফিক-ই-ইলাহীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৌফিক-ই-ইলাহী জ্বালানি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাইকো মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীকে গ্রেফতার করা হয় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর। নাইকো মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিনা দরপত্রে নাইকোকে গ্যাস ক্ষেত্র বরাদ্দ দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতিসাধন হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি অভিজ্ঞতাহীন কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে টেংরাটিলায় গ্যাস উত্তোলনের কাজ দেওয়া হয়। পরে ওই কূপটিতে নাইকো আগুন ধরিয়ে দিলে ৭৫০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়ে যায়।

এদিকে, মাগুরছড়ায় ১৯৯৭ সালে অক্সিডেন্টালের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৫ হাজার কোটি টাকাও জ্বালানি উপদেষ্টার তদবিরে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে মার্কিন কোম্পানি শেভরনকে। জানা যায়, ১৯৯৭ সালে মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল আগুন ধরিয়ে দিলে ভয়াবহ ক্ষতিসাধন হয় ওই গ্যাস কূপ এবং চারপাশের এলাকায়। এ কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়। অক্সিডেন্টাল থেকে ক্রমান্বয় হাত বদল হয়ে এলাকাটি বর্তমানে শেভরনের হাতে। তবে ক্ষতিপূরণ মাফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি থেকে শেভরনকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, শেভরনের কাছে যেন ক্ষতিপূরণ আদায় না করতে পারে এ জন্য তৌফিক-ই-ইলাহীর নির্দেশে মডেল পিএসসি, ২০০৮-এর অধীনে শেভরনকে মাফ করে দেওয়া হয়েছে। শেভরনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এ বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দিতে বাধ্য নয়। কারণ এটা চুক্তিরই অংশ।

তৌফিক-ই-ইলাহীর তদবিরে সাগরের তেল-গ্যাস পেয়েছে বিদেশিরা : সাগরের তেল-গ্যাস মার্কিন আরেক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপসে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জে এফ মরিয়ার্টিকে। মরিয়ার্টি তৌফিক-ই-ইলাহীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তায় পাঠিয়ে দেন ২৯ জুলাই, ২০০৯ সালে। এ তারবার্তাটিও উইকিলিকস ফাঁস করে দিয়েছে। ২৯ জুলাই, ২০০৯ সালে পাঠানো তারবার্তায় মরিয়ার্টির বক্তব্য দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মীমাংসা করার ব্যাপারে তাগাদা দেন, যার মধ্যে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সাগরের গ্যাস ব্লক এবং কয়লা খনির অনুমোদনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত। উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কনোকো-ফিলিপসকে সাগরের দুটি নির্বিরোধ গ্যাস ব্লক প্রদান করা হবে। তারবার্তায় আরও জানা যায়, ২৩ জুলাই, ২০১০-এর এক মিটিংয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা কনোকো-ফিলিপসকে সাগরের দুটি বিরোধহীন গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান। এ তারবার্তাটি উইকিলিকস একই সময় অর্র্থাৎ ২১ ডিসেম্বর ওপরের তারবার্তার সঙ্গে যুক্তভাবে প্রকাশ করে।

উইকিলিসে ফাঁস হওয়া তারবার্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১১ সালের ২৩ মে সাগরের দুটি ব্লক কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেয়। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ৮০ শতাংশ গ্যাসের মালিকনা পেয়ে যায় মার্কিন কোম্পানি কনোকো-ফিলিপস। শুধু ৮০ শতাংশ মালিকানাই নয়, একই সঙ্গে গ্যাস রপ্তানিরও সুযোগ পেয়েছে কোম্পানিটি।

এ সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জ্বালানি উপদেষ্টা থাকাকালে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, 'কনোকো-ফিলিপস একটি মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সিলেকটেড (কাজ পেয়েছে) হয়েছে। এ সিলেকটেডের মাধ্যমে তারা অনেক ব্লক চেয়েছিল। কিন্তু বাকিগুলোর ওপর মিয়ানমার ও ভারতের ওভারলেপিং কেলেইম আছে। এ কারণে ওগুলো বাদ দিয়ে মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কনোকো-ফিলিপসকে ওই দুটো ব্লক দেওয়া হয়েছে। যেটা শুরু হয়েছিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়।' উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তারবার্তার সঙ্গে কনোকো-ফিলিপসের সাগরে গ্যাস ব্লক পাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না- জানতে চাইলে তখন তৌফিক-ই-ইলাহী আরও বলেছিলেন, 'উইকিলিকসে কী তথ্য ফাঁস হয়েছে জানি না। সত্য হলো মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তারা কাজ পেয়েছে।' জ্বালানি উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই অগভীর সমুদ্রের ৭ নম্বর ব্লকটি কনোকো-ফিলিপসকে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা রাখেন তৌফিক-ই-ইলাহী। আগামী ২ ডিসেম্বর কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে ৭ নম্বর ব্লকের উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করবে পেট্রোবাংলা।

কনোকো-ফিলিপসের সাগরে একাধিক ব্লক পাওয়া সম্পর্কে মহাজোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস বলেন, 'বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ যারা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায় তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ব্যক্তি। দেশ, জাতি, জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে তাদের বাধে না।' তিনি আরও বলেন, 'তৌফিক-ই-ইলাহী হলেন সাম্রাজ্যবাদের এ-দেশীয় এজেন্ট। তিনি আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চান। তাকে অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।'

এশিয়ান এনার্জির পক্ষে তৌফিক-ই-ইলাহীর ওকালতি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা খনির প্রতিবাদে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট পুলিশ ও বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) গুলিতে তিনজন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা আন্দোলনরত জনগণের ৬ দফার সঙ্গে একাত্দতা ঘোষণা করে বলেছিলেন, 'আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় যায় ফুলবাড়ীতে কোনোভাবেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি হবে না।' তবে অভিযোগ উঠেছে, তৌফিক-ই-ইলাহী নিজ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেইমানি করে এশিয়ান এনার্জির পক্ষে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার লক্ষ্যে একাধিকবার তদবির করেছেন। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি এশিয়ান এনার্জিকে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার অনুমতি দেওয়ার জন্য তৌফিক-ই-ইলাহীকে অনুরোধ করেন। ২১ ডিসেম্বর, ২০১০ সালে ফাঁস হওয়া উইকিলিকসের ওই গোপন তারবার্তায় জানা যায়, ফুলবাড়ীর জমিতে দরিদ্র এবং ঐতিহাসিকভাবে শোষিত উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বসতি থাকায় প্রস্তাবিত কয়লা খনি প্রকল্পটির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর বলে জ্বালানি উপদেষ্টা (ড. তৌফিক-ই-ইলাহী) মন্তব্য করেন। তিনি (ড. ইলাহী) বলেন, 'সরকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার উপায় বের করবে এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রকল্পটির পক্ষে সমর্থন তৈরি করবে।'

এ বিষয়ে বিমল বিশ্বাস বলেন, 'এশিয়ান এনার্জি পাবে ৯৪ ভাগ আর দেশের পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে বাংলাদেশ তার নিজের কয়লার পাবে মাত্র ৬ ভাগ! এ রকম কোনো অসম চুক্তি জনগণ কখনই মেনে নিতে পারে না।'

তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে যত

তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
ঘুষ খেয়ে বিদেশি স্বার্থ রক্ষাই ছিল তাঁর কাজ
আরিফুজ্জামান তুহিন
শেয়ার - মন্তব্য - প্রিন্ট

অঅ-অ+
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা করা হয় ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একচ্ছত্র অধিপতি। একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে দুর্নীতিসহ বিদেশি কম্পানির স্বার্থ রক্ষার মতো বেশ কিছু অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হন তিনি। গণমাধ্যমেও তিনি সমালোচিত হন সমানতালে। এসব কারণে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যায়। এখন তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও মামলাগুলোর বিচার কী হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সুধীমহল।

শেভরন কেলেঙ্কারিতে তৌফিক-ই-ইলাহী : অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা থাকাকালীন তৌফিক-ই-ইলাহী মার্কিন বহুজাতিক কম্পানি শেভরনকে ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৩৭০ কোটি টাকা) একটি গ্যাস কম্প্রেসর কেনার কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত এ অভিযোগ করেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে জনৈক আবু সিদ্দিকী। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার কাছে তদন্তের ভার দিলেও পেট্রোবাংলা কোনো তদন্ত না করে মন্ত্রণালয়ের কাছেই তা ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তবে তৎকালীন জ্বালানিসচিব মোহাম্মদ মোহসিনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকায় এ তদন্তের কোনো ফল আজও প্রকাশিত হয়নি।

এ বিষয়টি দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত হলে তৌফিক-ই-ইলাহীর পক্ষ থেকে ওই দৈনিকটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, সচিব মোহাম্মদ মোহসিন ও পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তাদির আলীর পারস্পরিক যোগসাজশে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কম্পানি শেভরনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকার সমান ৫২ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে কম্প্রেসর স্টেশন বসানোর কাজ পাইয়ে দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কাজটি শেভরনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৌফিক-ই-ইলাহী পাঁচ মিলিয়ন ডলার (৩৫ কোটি টাকা) ঘুষ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর তদন্তের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত চার বছরেও এ তদন্তকাজ শেষ হয়নি।

শেভরনকে কম্প্রেসর কেনার কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ মিলিয়ন ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানার জন্য গতকাল তৌফিক-ই-ইলাহীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। তবে জ্বালানি উপদেষ্টা থাকাকালীন কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদককে তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, 'এ রকম একটি তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর আমি দৈনিক আমার দেশের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছি। বেনামি একটা চিঠির ভিত্তিতে খবরের কাগজ এভাবে চরিত্র হনন করার কারণে আমি মানহানির মামলা করি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।' এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'একটা উড়ো চিঠির ওপর, একটা বেনামি চিঠির ওপর; যার অস্তিত্ব নেই তার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশিত হয়।'

এদিকে অনলাইন মিডিয়া উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন তারবার্তা থেকেও শেভরনের গ্যাস কম্প্রেসর কেনার সঙ্গে তৌফিক-ই-ইলাহীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানা যায়। ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর ফাঁস হওয়া উইকিলিসের এক গোপন তারবার্তায় (যার রেফারেন্স আইডি : ০৯উঐঅকঅ৭৪১) বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের একটা উপায় হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহ লাইনে কম্প্রেসর যুক্ত করা। কম্প্রেসর যুক্ত করলে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জবাবে জানান, বাংলাদেশ শেভরনকে তিনটি কম্প্রেসরের মধ্যে একটি বসানোর অনুমোদন প্রদানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।'

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া গোপন তারাবর্তার সূত্র ধরে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেভরনের কাছ থেকে একটি কম্প্রেসর কেনার ব্যাপারে আগেই তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে কথা দিয়েছিলেন তৌফিক-ই-ইলাহী। কম্প্রেসর কেনাবাবদ শেভরন তৌফিক-ই-ইলাহীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেবে, এটাই স্বাভাবিক। এ প্রসঙ্গে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পুরো বিষয়টিই হয়েছে অনিয়মের মধ্য দিয়ে। যদি নতুন একটি কম্প্রেসর মেশিন কেনা হয়, তাহলে তার বাজারমূল্য হতো ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে পুরনো কম্প্রেসর মেশিন শেভরনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যেহেতু এটা পুরনো মেশিন, তাই এটার দাম ৩৫ মিলিয়ন ডলারও নয়। তিনি জানান, পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তার বরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য বিস্তারিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি ওই চিঠির সূত্র ব্যবহার না-ও করি, তাহলে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় এটা বলা যায়, এখানে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। কারণ, যেখানে নতুন মেশিনের দাম ৩৫ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ৫৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করে পুরনো মেশিন কেনার কারণই হলো বড় ধরনের ঘুষের লেনদেন।

নাইকো কেলেঙ্কারিতেও তিনি : বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৌফিক-ই-ইলাহী জ্বালানিসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে কানাডিয়ান কম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া নাইকো মামলায় তৌফিক-ই-ইলাহীকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর। নাইকো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তাঁর মাধ্যমে বিনা দরপত্রে নাইকোকে গ্যাসক্ষেত্র বরাদ্দ দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি অভিজ্ঞতাহীন কম্পানি নাইকো রিসোর্সকে টেংরাটিলায় গ্যাস উত্তোলনের কাজ দেওয়া হয়। পরে ওই কূপটিতে আগুন লেগে সাড়ে সাত শ কোটি টাকার গ্যাস পুড়ে যায়। অভিযোগ আছে, আগুন লাগার পেছনে নাইকোরই হাত রয়েছে।

মাগুরছড়ায়ও তৌফিকের নাম : মৌলভীবাজার জেলার মাগুরছড়ায় ১৯৯৭ সালে মার্কিন কম্পানি অক্সিডেন্টাল আগুন ধরিয়ে দিলে ভয়াবহ ক্ষতি সাধিত হয় গ্যাসকূপ ও চারপাশের এলাকায়। এ কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি সাধিত হয়। অক্সিডেন্টাল থেকে ক্রমান্বয় হাত বদল হয়ে এলাকাটি বর্তমানে শেভরনের হাতে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টার সুপারিশে এ ক্ষতিপূরণ মাফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি থেকে শেভরনকে রেহাই দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার শেভরনের কাছ থেকে যেন ক্ষতিপূরণ আদায় না করতে পারে, এ জন্য তৌফিক-ই-ইলাহীর নির্দেশে মডেল পিএসসি ২০০৮-এর অধীনে শেভরনকে মাফ করে দেওয়া হয়েছে। শেভরনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এ বিষয় তারা কোনো তথ্য দিতে বাধ্য নয়। কারণ এটা চুক্তিরই অংশ।

তৌফিকের তদবিরেই সাগরের তেল-গ্যাস পেয়েছে বিদেশিরা : অভিযোগ আছে, তৌফিক-ই-ইলাহী বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস মার্কিন আরেক কম্পানি কনোকো-ফিলিপসকে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জে এফ মরিয়র্টিকে। মরিয়র্টি তৌফিক-ই-ইলাহীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তায় পাঠিয়ে দেন ২৯ জুলাই ২০০৯ সালে। এ তারবার্তাটিও উইকিলিকস ফাঁস করে দিয়েছে। ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই পাঠানো তারবার্তায় মরিয়র্টির বক্তব্য দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মীমাংসা করার ব্যাপারে তাগাদা দেন, যার মধ্যে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সাগরের গ্যাস ব্লকের অনুমোদন এবং কয়লাখনির অনুমোদনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কনোকো-ফিলিপসকে সাগরের দুটি নির্বিরোধ গ্যাস ব্লক প্রদান করা হবে। তারবার্তায় আরো জানা যায়, গত ২৩ (২০১০) জুলাই অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা কনোকো-ফিলিপসকে সাগরের দুটি বিরোধবিহীন গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান। এ তারবার্তাটি উইকিলিকস একই সময় ওই তারবার্তার সঙ্গে যুক্তভাবে প্রকাশ করে।

উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তারবার্তার তথ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়েই যেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১১ সালের ২৩ মে সাগরের দুটি ব্লক কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেয়। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ৮০ শতাংশ গ্যাসের মালিকানা পেয়ে যায় মার্কিন কম্পানিটি। শুধু ৮০ শতাংশ মালিকানাই নয়, একই সঙ্গে গ্যাস রপ্তানিরও সুযোগ পেয়েছে কম্পানিটি।

এ সম্পর্কে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে জ্বালানি উপদেষ্টা থাকাকালে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, 'কনোকো-ফিলিপস একটি মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সিলেক্টেড হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা অনেক ব্লক চেয়েছিল। কিন্তু বাকিগুলোর ওপর মিয়ানমার ও ভারতের ওভারলেপিং ক্লেইম আছে। এ কারণে ওগুলো বাদ দিয়ে মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কনোকো-ফিলিপসকে ওই দুটো ব্লক দেওয়া হয়েছে, যেটা শুরু হয়েছিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়।' ইউকিলিকসের ফাঁস হওয়া তারবার্তার সঙ্গে কনোকো-ফিলিপসের সাগরে গ্যাস ব্লক পাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না- জানতে চাইলে তখন তৌফিক-ই-ইলাহী আরো বলেছিলেন, 'উইকিলিকসে কী তথ্য ফাঁস হয়েছে, জানি না। সত্য হলো, মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তারা কাজ পেয়েছে।'

জানা যায়, জ্বালানি উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই অগভীর সমুদ্রের ৭ নম্বর ব্লকটি কনোকো-ফিলিপসকে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা রাখেন তৌফিক-ই-ইলাহী। আগামী ২ ডিসেম্বর কনোকো-ফিলিফসের সঙ্গে ৭ নম্বর ব্লকের উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করবে পেট্রোবাংলা।

কনোকো-ফিলিপসের সাগরে একাধিক ব্লক পাওয়া সম্পর্কে মহাজোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ যারা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায়, তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ব্যক্তি। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে তাদের বাধে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, 'তৌফিক-ই-ইলাহী হলেন সাম্রাজ্যবাদের দেশীয় এজেন্ট। তিনি আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চান। তাঁকে অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।'

এশিয়ান এনার্জির পক্ষে তৌফিক-ই-ইলাহীর ওকালতি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনির প্রতিবাদে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট পুলিশ ও বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) গুলিতে তিনজন নিহত হয়। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত জনগণের ছয় দফার সঙ্গে একাত্ম ঘোষণা করে বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় যায় ফুলবাড়ীতে কোনোভাবেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি হবে না।' তবে অভিযোগ উঠেছে, তৌফিক-ই-ইলাহী নিজ দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেইমানি করে এশিয়ান এনার্জির পক্ষে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার পক্ষে একাধিকবার তদবির করেছেন। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়র্টি এশিয়ান এনার্জিকে উন্মুক্ত কয়লা খনি করার অনুমতি দেওয়ার জন্য তৌফিক ইলাহীকে অনুরোধ করেন। ২১ ডিসেম্বর ২০১০ সালে ফাঁস হওয়া উইকিলিকসের ওই গোপন তারবার্তায় জানা যায়, ফুলবাড়ী এলাকার জমিতে দরিদ্র এবং ঐতিহাসিকভাবে শোষিত ক্ষুদ্রজাতির বসতি থাকার কারণে প্রস্তাবিত কয়লাখনি প্রকল্পটির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর বলে জ্বালানি উপদেষ্টা (ড. তৌফিক ইলাহী) মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার উপায় বের করবে এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রকল্পটির পক্ষে সমর্থন তৈরি করবে।'

এ বিষয়ে বিমল বিশ্বাস বলেন, এশিয়ান এনার্জি পাবে ৯৪ শতাংশ আর পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে বাংলাদেশ তার নিজের কয়লা পাবে মাত্র ৬ শতাংশ, এ রকম কোনো অসম চুক্তি জনগণ কখনোই মেনে নিতে পারে না।

চুক্তি না করার আহ্বান : তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গতকাল বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকার ২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে সংশোধিত 'পিএসসি ২০১২' অনুযায়ী কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে একটি ৭ নম্বর গ্যাস ব্লক চুক্তি করতে যাচ্ছে। একই ধারায় সরকার আরো দুটি ব্লকে শিগগিরই চুক্তি করবে বলেও জানা গেছে। এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করা নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ারবহির্ভূত। উপরন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি কম্পানিকে এত বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে যে নিজ দেশের গ্যাসসম্পদ ব্যবহারের সামান্য সুযোগও বাংলাদেশের জনগণ পাবে না।

জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারকে নিজেদের স্বাভাবিক কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে এই জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়।

- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2013/11/29/25757#sth...

৮৬২ মিলিয়ন ডলারের রাজপুত্র

যুক্তরাষ্ট্র সরকার শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের ৮৬২ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের খোঁজ পেয়েছে। বাংলাদেশ থেকে লুটে নেয়া এই বিশাল সম্পদের বহর দেখে চমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। অচিরেই বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে জয়। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ভাই শেখ সেলিম, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজের দুবাইতে বিলিয়ন ডলার লগ্নি করেছেন স্বর্নের মার্কেটে।

খবরে প্বাংরকাশ, লাদেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের জাষ্টিস ডিপার্টমেন্ট জয়ের মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগগুলি বিচারের সম্মুখীন করতে উদ্যোগ নিয়েছে, বিশেষ করে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক চাপ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কার্যকলাপ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগ মার্কিন আইআরএস, মানি লন্ডারিং এজেন্সি, এফবিআই ও ফরেন রিলেসন্স কমিটির নজরে রয়েছে। কর্মকর্তারা ধারনা করছেন, ৮৬২ মিলিয়ন ডলারের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংকের লকারে প্রচুর স্বর্ন এবং ক্যাপিটেল মার্কেটে বিনিয়োগ রযেছে। এর আগে কানাডা পুলিশ লাভালিনের কাছ থেকে নেয়া পদ্মাসেতু ঘুষ কেলেঙ্কারীর ৯ মিলিয়ন ডলার জয়ের একাউন্টে আসার তথ্য জানতে চায়। জয় এবং তার বোন পুতুলের নানাবিধ উপায়ে সম্পদ জমা করার বিষয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভালোভাবেই অবহিত আছে। আইন প্রণেতাদের চাপে ফরেন রিলেসন্স কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেজ বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। অপর একজন আইন প্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধের বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। অপরাধ প্রমান হলে জয়ের জেল জরিমানা থেকে শুরু করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করন, এমনকি গ্রীন কার্ডও বাতিল হতে পারে। জয়ের এসব ব্যক্তিগত দুর্নীতি উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি এন,জি,ও ব্যাপক সহযোগিতা করে। শনিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের মধ্যে আলোচনার সূত্র ধরে কূটনৈতিক সোর্সে এ খবর পরিবেশন করে শেখ নিউজ।

এ সাক্ষাতের পরে গত ২৪ ঘন্টায় সরকারের ঘনিষ্ট মহলে এমন বিষয় ছড়িয়ে পড়ে যে, ড্যান মজেনার সাথে জয়ের আলোচনা সন্তোষজনক হয়নি। অতপর জয়ের মুখ বন্ধ, এমনকি প্রতিদিনকার মত ফেসবুকেও কোনো ষ্টেটাস নাই। অনেক মন্ত্রীদের মুখের ভাষা বদলে গেছে, শুকিযে গেছে মুখ চোখ।
http://tpvworldnews.com/details.php?id=559#

"বিশ্বাস করেন, যখন দেখি এভাবে

"বিশ্বাস করেন, যখন দেখি এভাবে মানুষ পোড়ায়, তখন এত কষ্ট লাগে, মনে হয় প্রধানমন্ত্রিত্ব দরকার নাই। আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। মানুষের শান্তি ও উন্নয়ন চাই। মানুষের এত কষ্ট সহ্য হয় না।’ - হা হা হা হা হা হা হা হা হা ... সহস্রাব্দের সেরা কৌতুক। প্রধনমন্ত্রী কি হাসমতের ভূমিকায় নামলেন?

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla