Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বিদ্যুতের নৌকা পাহাড় বাইয়্যা যায়

 photo 2_zps8b5047d4.jpg

বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। এমনটা হতেই পারে। ২০০৩ সালের ১৪ই আগস্ট নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় সবটাই ২৪ ঘন্টার জন্য অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। গরমের প্রচণ্ড দাপটে জনজীবন অতিষ্ঠ। গোটা রাত ঘরের বাইরে কাটাতে বাধ্য হই। বাসার বিদ্যুৎ একদিন পর ফিরে আসলেও অনেক জায়গায় তা দু তিন দিন সময় নেয়। এ সময় নিউ ইয়র্ক শহরের বিদ্যুৎ দায়িত্বে নিয়োজিত কন এডিসন কোম্পানি বিভিন্ন মোড়ে লঙ্গরখানা খুলে তিন বেলা আহারের ব্যবস্থা করে দেয়। শহর ঝামেলা মুক্ত হওয়ার পর ফ্রিজে খাবার নষ্ট হওয়ার কারণে যারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে। আমি নিজেও ১৭৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পাই। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে বের করা হয় কানাডার সাথে সঞ্চালন লাইনের যে সংযোগ রয়েছে তার কোথাও হয়ত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। অবশ্য ধারণাটা ছিল প্রাথমিক। মুল কারণ এবং এর প্রতিকার নিয়ে কন এডিসনের কর্মপরিধি উপর আগ্রহ না থাকায় আর জানা হয়নি। সঞ্চালন নেটওয়ার্ক ও তার বিন্যাসের উপর যাদের সম্যক ধারণা আছে তাদের জানা থাকার কথা প্রতিবেশী দেশ অথবা প্রাইভেট কোম্পানি হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে যোগ হওয়ার কেন্দ্রস্থলে থাকতে হয় একটা মিট পয়েন্ট। এই পয়েন্টে থাকে এইচটি/এলটি মিটারিং, থাকে হরেক রকম ব্রেকার। তা ছাড়া সঞ্চালন নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকতে হয় দুর্ঘটনা নিরোধক সরঞ্জামাদি। এয়ার সুইচ ব্রেকার, ওয়েল সার্কিট রিক্লোজার যার অন্যতম। দুর্ঘটনায় সৃষ্ট অতিরিক্ত কারেন্ট এসব পয়েন্টে আঘাত করার সাথে সাথে সিকিউরিটি ডিভাইস গুলো কাজ করে এবং দুর্ঘটনা যাতে এসব পয়েন্টের বাইরে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করে থাকে।

জননী জন্মভূমির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আসল চিত্র তার বলয় হতে সহজে বাইরে আসেনা। কারণ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কাজ যে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ নয়, তার আসল কাজ পয়সা উৎপাদন ও তার নিরাপদ বিতরণ। ভেড়ামারা কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তার মাঠ পর্যায়ের লুটেরাদের পকেট ঘুরে চলে যায় উঁচুতলার অনেক রংমহলে।,এসব পয়সা রেলের কালো বিড়ালদের বড় ভাই শ্বেত হস্তীদের রঙ তামাশার উপাদান যোগাতে সাহায্য করে। যার ট্রেইল ধরে হাঁটলে সুদূর আমেরিকা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। রাজনীতি ও তার সহযোগী প্রশাসনের কাজে পরাজিত ও পর্যুদস্ত একটা জাতির জন্য ২৪/৭ নীরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ আশ করা হবে চরম অন্যায়। আমাদের সমস্যা বিদ্যুতে নয়, সমস্যা অন্য জায়গায়, যার শিকড় অনেক গভীরে...

Comments

২৫ হাজার কোটি টাকা ইকুইটি চেয়েছে পিডিবি

মীর মনিরুজ্জামান | ২০১৫-০১-১৫ ইং
রেন্টাল-কুইক রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে বড় অঙ্কের দায় সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ দায় পরিশোধের সক্ষমতা না থাকায় তা ইকুইটিতে রূপান্তরের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয়জনিত কারণে পিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি এ সময় ঋণ নিয়েছে ২৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। এ ঋণের ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা সুদসহ পিডিবির মোট দায় দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।

সূত্রমতে, পিডিবির এ দায় তাদের মোট সম্পদকেও ছাড়িয়ে গেছে। ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ইকুইটি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, পিডিবির ৪০ টাকা দায়ের বিপরীতে ৬০ টাকা ইকুইটি বা নিট সম্পদ রাখার বিধান রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১১০ টাকা দায়ের বিপরীতে ইকুইটি ঋণাত্মক ১৪ টাকা। ব্যালান্সশিটে ইকুইটি ঋণাত্মক হওয়ায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে পিডিবিকে। বিষয়টি সুরাহা করতে পিডিবির সচিব মো. জহুরুল হক সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতেই পিডিবির দায় সরকারের ইকুইটিতে রূপান্তরের আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে চিঠিটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব।

মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে দাঁড়ায় নিট সম্পদ। আর এ নিট সম্পদই মূলত প্রতিষ্ঠানের ইকুইটি। যদি মোট সম্পদের চেয়ে দায় বেশি হয়, তবে তা ঋণাত্মক ইকুইটি বা নিট দায়ে পরিণত হয়। এ অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান তার সব সম্পদ বিক্রি করেও দায় পরিশোধ করতে পারে না। ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ডিজেল অথবা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা হয়। এ কারণে এটি খুবই ব্যয়বহুল। তাছাড়া বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে চুক্তি-সংক্রান্ত দুর্বলতার কারণে ইউনিটপ্রতি ২০, ৩০, ৫০ অথবা ৭০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে।

পিডিবি চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, পিডিবির উৎপাদন খরচ অনেক কম। এ কারণে নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুতে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বেসরকারি খাত থেকে তাদের বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে হয়। এ কারণে পিডিবি লোকসানে পড়েছে। বেড়েছে দায়ের পরিমাণও।

সূত্রমতে, পিডিবির লোকসানের সিংহভাগই হয়েছে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। ২০০৬-০৭ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত পিডিবির তেমন কোনো লোকসান ছিল না। ২০১০ সালের পর ব্যাপক ভিত্তিতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে বিদ্যুৎ কেনায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে পিডিবি লোকসান করছে। একইভাবে গত চার বছর বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করেও সরকারের লোকসান হয়েছে। চার বছরে এ লোকসানের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা। বেশি দামে বিদ্যুৎ ক্রয় ও কম দামে জ্বালানি সরবরাহের কারণে এ লোকসান ৩৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সরকার রেন্টালের বদলে যদি গ্যাস উৎপাদনে বেশি মনোযোগ দিত, তাহলে ছয় মাসে ১০০ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বাড়ানো যেত, যা দিয়ে সরকারের প্রচলিত গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, যত দিন রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থাকবে, পিডিবিকে তত দিন ভর্তুকি দিতে হবে। একটি শ্রেণী এতে লাভবান হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার পিডিবিকে ঋণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের কারণে সরকারকে ভর্তুকির পরিবর্তে ঋণ দিতে হয়েছে। কিন্তু ভর্তুকি দিলেই ভালো হতো। ভর্তুকির অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে জবাবদিহিতা থাকত। জনগণের অর্থ যাতে অপচয় না হয়, সে ব্যাপারেও একটি চাপ থাকত।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, সরকারের নীতির কারণে পিডিবি দায়ের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতি। এ কারণেই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে সরকারকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা ২০১০ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
http://www.bonikbarta.com/2015-01-15/news/details/25461.html

দিনে ৬০ কেজি সোনায় ঘুষ ১৫ লাখ টাকা

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর, ২০১৪
মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তর্কে জড়ালেন দেশের সোনা চোরাচালানের মূল হোতা মাহমুদুল হক পলাশ ও বিমানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এমদাদ হোসেন। শনিবার সকালে এ দুজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দা পুলিশের সামনেই একে অপরের দিকে তেড়ে যান। পলাশ সোনা চোরাচালানের পুরোটাই জানে, ডিজিএম এমদাদ গোয়েন্দা পুলিশকে এমন তথ্য দেয়ার পরপরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি। এসময় পলাশ ডিজিএমকে লক্ষ্য করে গোয়েন্দাদের বলেন, তিনি যখন শর (টাকা) খেতেন তখন ভালো লাগত। এখন সব দোষ আমার। আপনারা সহায়তা না করলে বিমানবন্দর দিয়ে সুতাও বের করা সম্ভব নয়। এরই একপর্যায়ে তথ্যবোমা ফাটান মাহমুদুল হক পলাশ। তিনি বলেন, তিন জিএম দিনে ৬০ কেজি সোনা বিমানবন্দর থেকে বের করে দেয়ার জন্য তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। এজন্য তারা প্রতিদিন ৫ লাখ করে তিন জন ১৫ লাখ টাকা নিতেন। প্রায় টানা তিন বছর ধরে তারা একাজ করেছেন। দেশের সবচেয়ে বড় সোনা চোরাচালান মামলার তদন্তে জড়িত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, এ তিন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হচ্ছেন মোমিনুল ইসলাম (সিকিউরিটি), আতিক সোবহান (এয়ারপোর্ট সার্ভিস ও সাবেক জিএম বিএফসিসি) এবং ডেপুটি চিফ অব (ট্রেনিং) শামীম নজরুল। বাংলাদেশে সোনা চোরাচালানের গডফাদার এমদাদুল হক পলাশের হয়ে বিমানবন্দরে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন পরিচালক (প্রশাসন) রাজপতি সরকার।
এদের মাধ্যমে প্রতিদিন ৬০ কেজি হিসাবে প্রতি মাসে শুধু শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হতো প্রায় দুই মেট্রিক টন (১৮০০ কেজি) সোনা। বছরের হিসাবে এ পাচারের পরিমাণ সাড়ে ২১ মেট্রিক টনের বেশি। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় তিন বছর ধরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে সোনার চালানগুলো বের করে দিয়েছেন বিমানের তিন মহাব্যবস্থাপক। সে হিসাবে গত তিন বছর শুধু শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়েই এ চক্রের মাধ্যমে চোরাচালান হয়েছে প্রায় ৬৫ মেট্রিক টন সোনা। এজন্য তিন মহাব্যস্থাপক (জিএম) চোরাচালানিদের কাছ থেকে নিয়েছেন ১৬৫ কোটি টাকা। তবে এ টাকা ভাগ হয়েছে বিমান, সিভিল এভিয়েশন এবং নিরাপত্তার সঙ্গে নিয়োজিত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে বলেন, যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। আমাদের হাতে এখনও সময় আছে। যেহেতু এটি বড় মামলা তাই ভেবেচিন্তে ও সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, দুবাই থেকে যেমন স্বর্ণ চোরাচালান হয়ে এদেশে আসে, তেমনই বিপুল পরিমাণ ডলার পাচার হয়ে যায় দুবাইতে। একই প্রক্রিয়ায় এ ডলারগুলো বিমান ক্রুদের মাধ্যমে দুবাইতে পাঠানো হতো। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১২ থেকে ১৫ জন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী। এসব মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীরাও গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, পলাশের মোবাইলের কললিস্ট ও মেসেজ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের নাম পাওয়া গেছে। সোনা চোরাচালানে এরা সবাই পলাশের সহযোগী।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) কর্মীরা উচ্ছিষ্ট খাবারের মধ্যে এবং ক্লিনাররা টয়লেটের বর্জ্যরে ভেতর সোনা নিয়ে এয়ারক্রাফট থেকে নেমে আসে। এছাড়া ফ্লাইং ক্লাবের গেট ও রানওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘাস ও পুকুরের মধ্যে স্বর্ণের চালান লুকিয়ে রাখা হতো। রাতে সিভিল এভিয়েশনের পাশধারী কর্মীরা তা বাইরে পাচার করত। প্রকৌশল শাখার কর্মীরা উড়োজাহাজের বিভিন্ন পার্টস ও টয়লেটের ভেতরে গোপন স্থানে নাট-বল্টু খুলে সোনা রাখা ও বের করার ব্যবস্থা করছে। অন্যদিকে শিডিউল বিভাগ মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোতে কে ডিউটি করবে তা নিয়ন্ত্রণ করত। সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশল বিভাগ, বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিয়ন্ত্রণকারী এবং শিডিউল বিভাগই মূলত সোনা পাচারের ছক তৈরি করত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিমান ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুপাইপার থেকে শুরু করে ট্রলিম্যান, পাইলট, কেবিন ক্রু, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাসহ শতাধিক ব্যক্তি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। ওই কর্মকর্তা বলেন, যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে পুরো মাত্রায় গ্রেফতার অভিযান শুরু হলে ফ্লাইট শিডিউল ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। এ বিষয়টি ইতিমধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদুল হক পলাশ গোয়েন্দাদের বলেন, তার সঙ্গে চুক্তির বাইরেও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সোনা বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হয়েছে। তার ভাষায়, এগুলো ছিল লোকাল। ছোটখাটো চুক্তিতে বাইরে বের করার সময় কিছু স্বর্ণ ধরা পড়েছে, যা একেবারেই হাতেগোনা। জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ বলেছেন, পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এমনকি কথিত সাংবাদিকদেরও তিনি নিয়মিত টাকা দিতেন। মাসিক এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তার লোকজন এ টাকা পৌঁছে দিত।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই চক্রটির সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের চোরাচালানিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাফিয়া হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাহমুদুল হক পলাশ। দুবাইতে বসে বাংলাদেশে স্বর্ণ পাচার করছেন আব্বাস এবং শাহীন। পলাশের আপন দুই ভাই সেখান থেকে সোনা চোরাচালান মনিটর করেন। আর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন জসিম নামে এক ব্যক্তি। এরা সবাই বাংলাদেশী বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, পলাশের মোবাইলের কললিস্ট ও মেসেজ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের নাম পাওয়া গেছে। সোনা চোরাচালানে এরা সবাই পলাশের সহযোগী। চালান বের হওয়ার আগেই পলাশের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করত। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এসব নামের তালিকা রয়েছে। এদের মধ্যে যশোর এলাকার একজন সংসদ সদস্য এবং একজন নেতার নামও রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, পলাশ একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করতেন। তার মোবাইলে থাকা ভাইবারেও আদান-প্রদান হতো এসএমএস। এর মধ্যে পলাশের স্ত্রী বিমানবালা নূরজাহানের সঙ্গেও চালান আসার বিষয়ে কথা হতো। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন চোরাচালানির সঙ্গে তার স্ত্রীর সখ্য ছিল। সেই সূত্র ধরে পলাশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হয়। পলাশ স্বীকার করেছেন তিনি গডফাদার থেকে একেবারে মাঠপর্যায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
চলতি মাসে চোরাচালানি মিন্টু, নিজাম, হাসান, আবু মিয়া, রিয়াজের সঙ্গে দুই দফা চালান নিয়ে কয়েকটি এসএমএস দেয় পলাশ। এ মাসেই এহসান, সানা বাবু, রোমান, আব্বাস, হাসান, নাজির, রফিক, ফারুক, আবু সালেহ, মিয়া জাহাঙ্গীর, সুমন আলী, এমরান আলী, মকিদ মিয়া, আবদুস শহীদ ও মিরন আলীর সঙ্গে কথা হয়। এরা বিমানবন্দর থেকে সোনার চালান নিয়ে বাইরে বের হয়। আর তাদের নিরাপদে বের করতে পলাশ সব ধরনের সহায়তা করে।
অনিক মানি এক্সচেঞ্জের জাকির, ভাই-ভাই মানি এক্সচেঞ্জের টিপু, ঢাকা মানি এক্সচেঞ্জের আলী নেওয়াজ, প্যারামাউন্ট মানি এক্সচেঞ্জের জাহাঙ্গীর মিয়া এবং জাকির মানি এক্সচেঞ্জের বাকাউল হক ও বাইতুল মিয়ার সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক রয়েছে। তার মোবাইল ফোনে এদের সবার মোবাইল নম্বর আছে। তাদের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগ হতো পলাশের।
ভাই ভাই মানি এক্সচেঞ্জের হয়ে গোপনে কাজ করেন খোকন, পঙ্কজ, বাবু, ফরহাদ, উজ্জ্বল, শিব নামের কয়েকজন। আর জাকির মানি একচেঞ্জের হয়ে রাকিব, বিশ্বজিৎ, বিপ্লব কাজ করে।
মামুন, মাসুম, জয়, কালু মিয়া, রাসেল বজলু মিয়া, হক দুলু, কামাল হোসেন, মোবারক পলাশের পরিচিত। তারা সরাসরি বিমানবন্দর থেকে সোনার চালান নিয়ে সংসদ সদস্য লেখা একটি গাড়িতে চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় যেতেন। সেখান থেকে তারা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় লোকদের হাতে সোনার চালান তুলে দিতেন।
সাতক্ষীরা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের এপারে আসতেন গওহর, লালু, গোবিন্দ, বিজন হালদার, লক্ষণ, গোপাল, রূপ সাহা। তাদের হাতে সোনার চালান তুলে দিতেন কামাল, দুলু এবং রাসেল। এই রাসেল হচ্ছে পলাশের স্ত্রীর নূরজাহানের ঘনিষ্ঠজন। একসময় রাসেল লাগেজপার্টির সদস্য ছিল। নিরাপদে সোনা গন্তব্যে পৌঁছানোর কাজ নেয়। পলাশ নিয়মিত দুবাই যেতেন। তার স্ত্রী নূরজাহানের সঙ্গে দুবাইয়ের ইমরান মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসায়ী ইমরান আলী ও আসিফ হোসেনের পুরনো বন্ধুত্ব। সেই সূত্র ধরে তারা সেখানে যেতেন। পলাশ স্বীকার করেন সাবেক কাস্টম কর্মকর্তা ওয়াজেদ ও সিভিল এভিয়েশনের রেখা পারভীন. বিমানের কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ, এমরান আলী, আবদুল মতিন, আনিসুল ইসলামও সোনার চোরাচালানে জড়িত।
পলাশের মোবাইলে পাওয়া গেছে স্ত্রী নূরজাহানের এসএমএস। যেখানে বলা হয়েছে, দুলু জিনিস নিয়ে বের হচ্ছে। তুমি সামলাও। এভাবে বিভিন্ন সময় অসংখ্য এসএমএস রয়েছে পলাশের মোবাইলে। পলাশ ক্যাপ্টেন শামীম নজরুলের মোবাইলেও এসএমএস দিতেন। পাওয়া গেছে এরকম তথ্য স্যার সব খালাস। তারপর অন্য আরও দুজন কর্মকর্তার মোবাইলে এসএমএস গেছে। সেখানে লেখা আছে, সব হাতে নিয়েছি। আসেন ভাগ করে চলে যাব। তবে এসব মেসেজ ভাইবারে প্রদান করত গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত পলাশ।
গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ বলেছেন, আইনশৃংখলা বাহিনী, বিভিন্ন সংস্থা ও বিমানের বিভিন্ন পর্যায় ছাড়াও বিমানবন্দরে বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর লোকদের হাতে সপ্তাহে ২ লাখ টাকা পেমেন্ট দেয়া হতো। এর মধ্যে কথিত কিছু নামধারী সংবাদকর্মী প্রতি বৃহস্পতিবার ৫ হাজার টাকা করে নিতেন বলে তিনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন।

মোনাজাতে ‘জাতির জনক’ না বলায় শিক্ষক বরখাস্ত

মোনাজাত করার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে ‘জাতির জনক’ বিশেষণ যুক্ত না করায় বরখাস্ত হয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এক কলেজশিক্ষক।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মো. রুহুল আমিন। তিনি বাউফল উপজেলার ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক। গতকাল শনিবার থেকে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কলেজের পরিচালনা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কলেজে দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মো. রুহুল আমিন। এ সময় তিনি ‘জাতির জনক’ বিশেষণ ছাড়াই শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। ‘জাতির জনক’ না বলায় ক্ষিপ্ত হন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক কয়েকজন শিক্ষক। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই সময় রুহুল আমিন উপস্থিত সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান এবং পুনরায় মোনাজাত করেন। পরের মোনাজাতে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’ উল্লেখ করেন।

গত ৮ অক্টোবর কলেজের পরিচালনা কমিটির এক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় ওই শিক্ষককে ১ নভেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, তাঁদের জানা মতে, মো. রুহুল আমিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আর তাঁর অনিচ্ছাকৃত ওই ভুলের জন্য সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে পুনরায় মোনাজাত করেছেন। এর পরও তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা অমানবিক।
এ ব্যাপারে জানতে আজ রোববার মোবাইলে কলেজশিক্ষক মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দিন (১৫ আগস্ট) আমি রোজা রেখেছিলাম। মোনাজাত করার জন্য আমার কোনো প্রস্তুতি ছিল না। আর ওই ভুলটা ছিল অনিচ্ছাকৃত। বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় মোনাজাত করেছি। এরপর আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

কলেজের অধ্যক্ষ মো. হুমায়ন কবির প্রথম আলোকে বলেন, পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো. রুহুল আমিনকে ১ নভেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/361120/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla