Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

বেগম জিয়ার ক্ষমা তত্ত্ব ও কিছু প্রশ্ন

Awami League and BNP

যা হওয়ার কথা তাই হচ্ছে। রক্ত ঝরছে। অলিগলি রাজপথে এখন রক্তের হোলিখেলা। এ দেশে রক্তই যেন সব সমস্যার একমাত্র সমাধান। আইয়ুব খানকে বিদায় করতে রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল। তেমনি হয়েছিল ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খানদের বিদায় করতে। স্বদেশি এরশাদও কম যাননি। তিনিও তৃষ্ণার্ত ছিলেন এবং রক্ত দিয়ে মেটাতে হয়েছিল সে তৃষ্ণা। সময় এখন ভিন্ন। ইয়াহিয়া, টিক্কা ও এরশাদের জুতায় পা রেখে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে রক্ত চাইছেন গণতন্ত্রের কথিত রক্ষক জনাবা শেখ হাসিনা। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার বাঁকা পথ খুঁজছেন তিনি। সুপ্রিমকোর্টের বিচারক লীগের মোজাম্মেল বিচারককে দিয়ে শাসনতন্ত্র সংশোধন করিয়েছেন। এখন বলছেন তিনি শাসনতন্ত্রের রক্ষক, সেবক এবং পুজারী মাত্র। এই মহাপবিত্র কাগজে হাত দেয়ার ক্ষমতা নাকি খোদ ঈশ্বর বৈ অন্য কেহ রাখেন না। আইরনি হচ্ছে, এ ধরনের অন্ধ সেবকদের ক্ষমতার মসনদ হতে কোন পথে তাড়ানো যায় তার নীলনক্সাও এই হাসিনাই দেখিয়ে গেছেন। এবং এখানেই আসে জ্বালাও, পোড়াও, হরতাল, রক্তের উন্মাদনা এবং বিদায় পর্ব। অপর পক্ষ শেখ হাসিনার তৈরী রোডম্যাপে খোদ হাসিনাকেই ধাওয়া করছে। এবং আইয়ুব, ইয়াহিয়া, টিক্কা এবং এরশাদের মত শেখ হাসিনাকেও বিদায় নিতে হচ্ছে। উনি নিজে তা বুঝেন নি ব্যাপারটা এমন নয়। নিশ্চয় বুঝে থাকবেন। মন্ত্রি, এমপিদের ব্যক্তিগত সহকারিরা বুঝে থাকলে, শেখ হাসিনার না বুঝার কোন কারণ নেই। সচিবালয় ছেড়ে ওরা দলে দলে পালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারীকে মন্ত্রি নিজে আটক দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর সহাকারী পাঁচ বছরের ছুটি চেয়ে দরখাস্ত করেছেন। ঠিকানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সময় সিলেকশনের ব্যাপারে ভদ্রলোক মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। মনে মনে হিসাব কষে দেখেছেন আগামী পাঁচ বছর প্রতিপক্ষ দল ক্ষমতায় থাকবে এবং উনাদের মত একই কায়দায় দেশকে লুটতে থাকবে। সময়ের শেষপ্রান্তে ওদেরও পালাতে হবে। মন্ত্রি পাড়ায় এসব একান্ত ব্যক্তিগত সহকারীদের চাকরি দেয়া হয় বিশেষ একটা উদ্দেশ্য। মন্ত্রনালয়ের লুটের বখরা জড় করে মন্ত্রীর বাসায় পৌছে দেয়া। সেজন্যই যুদ্ধের দামামা বাজার রাতেই তাদের পালানোটা বিশেষ জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। কারণ প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় বসে চ্যাং দোলা পর্বটা তার মাধ্যমে শুরু করলে মন্ত্রি, এমপি নামের এসব আলীবাবা চল্লিশ চোরদের অনেক লোমহর্ষক কাহিনী বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থেকে যায়। বলার অপেক্ষা রাখেনা তারা কেবল নিজেদের অপরাধ হতে পালায় না, পালায় বসদের জন্যও। যাদের নিমক খেয়ে সম্পদের পাহাড় বানায় তাদের বিপদে ফেলে পালানোর মত আদম নয় এরা। ক্ষমতার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বিমানবন্দরকে নিরাপদ বানিয়ে পাচার করে নেয় মন্ত্রীর সম্পদ। এবং বিদেশে গিয়ে মন্ত্রীর সম্পদ পাহারা দেয়ার পবিত্র কাজে নিয়োজিত হয়। এবং একদিন এদেরই দেখা যায় জাতিসংঘের সামনে প্লাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ করতে। উদ্দেশ্য, প্রতিপক্ষের চুরি হতে প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করা।

শেখ হাসিনার লেফটেন্যান্টরা পালাচ্ছে। আগের পর্বে একই কাজ খালেদা জিয়ার সৈনিকরাও করেছিল। সমসাময়িক রাজনীতির জটিল সমীকরণ মেলাতে চাইলে আমার মত ম্যাঙ্গোদের হিসাব খুব সোজা, ক্ষমতার মসনদ হতে চেলা চামুণ্ডা সহ শেখ হাসিনাকে এ যাত্রায় বিদায় নিতে হবে। এবং বঙ্গভবন ও গণভবনের লাল কার্পেট মাড়িয়ে মসনদের দিকে রওয়ানা দিবেন জনাবা খালেদা জিয়া। আমার এ লেখার মূল উদ্দেশ্য বেগম জিয়ার ক্ষমতায়ন নিয়েই। তিনি নিজেও অনুভব করছেন ক্ষমতার নিঃশ্বাস। তাই কথা ও কাজে প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন ভবিষৎ প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশের রুগ্ণ ও পঙ্গু রাজনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার মত কোন ইঙ্গিত নেই দিগন্ত রেখায়। আশা করলে সে আশা ভাঙ্গতে সময় লাগে না। এই যেমন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার গন্ধ পেয়েই কথা নিয়েছিলেন নতুন ধারার শাসন সৃষ্টি করার। যার মধ্যে অন্যতম ছিল, বিরোধী দলীয় ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সততা, স্বচ্ছতা সহ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন। এসব প্রতিশ্রুতির কয়টা বাস্তবায়িত হয়েছে তার ফলাফল পাওয়া যাবে আগামী নির্বাচনী রায়ে। দশ টাকা সের চাল আর বিনামূল্যে সারের কথা না-ই আনলাম। একই কায়দায় খালেদা জিয়াও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। রাজনীতির এসব গতবাঁধা ভাওতাবাজি আমলে নেয়ার কোন কারণ নেই। তারপরও জনাবা জিয়ার দুটো প্রতিশ্রুতির দিকে নজর না ফেরালেই নয়। প্রথমত, নতুন ধরণের শাসনের কথা বলছেন তিনি। অবশ্য বিস্তারিত কিছু বলছেন না এর উপর। নতুন শাসন যদি সন্তানের হাতে ক্ষমতা সঁপে রাজনীতি হতে বিদায় নেয়া হয় আমার মত ম্যাঙ্গোদের জন্য তা নতুন কিছু নয়। বরং নতুন বোতলে পুরানো মদ ঢালা। সত্যিকার অর্থে যদি নতুন কিছু নিয়ে মসনদে যেতে চান তার কিছু রূপরেখা এখনই প্রকাশ করা উচিৎ। রেকর্ড হিসাবে তুলে রাখলে ভবিষতে কাজে আসবে। দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়া ঘোষনা দিচ্ছেন তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না। এবং হাসিনা সহ সবাইকে মাফ করে দেবেন। খটকার শুরু এখানটায়।

মাফ করে দেবন? জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে কোন অপরাধ গুলো মাফ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। বিডিআর হত্যাকাণ্ড¨? পদ্মাসেতু লুট? সোনালী ব্যাংক লুট? শেয়ার মার্কেট লুট? ডেসটিনি হরিলুট? ছাত্রলীগের মহামারী? ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের উপর ব্যক্তিগত আক্রোশ? কোন অপরাধ হতে রেহাই দেবেন শেখ হাসিনা গংদের? ইসলাম ধর্মে একটা কথা আছে, যে অন্যায় করে এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় তারা সমান অপরাধী। খালেদা জিয়া যদি আওয়ামী লীগের এসব অপরাধ পর্ব ক্ষমা যোগ্য মনে করেন আমরা ধরে নেব তিনিও ছিলেন এ অপরাধ চক্রের অংশীদার। ক্ষমতার চূড়ান্ত ঠিকানায় বসে যে নেত্রী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গুম করানোর মত অপরাধ করতে পারেন, কেবল ব্যক্তিগত খায়েশ অপূর্ণ থাকার কারণে ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসকে চরম অপদস্থ করতে পারেন তাকে ক্ষমা করার জন্য জনগণ রায় দেবেনা। মহানুভবতা ভাল জিনিস, কিন্তু তার জন্য চাই যোগ্য স্থান, কাল ও পাত্র। ৫৭ জন সেনা অফিসারকে বাঁচানোর জন্য একটা বুলেট খরচ করতে যিনি বাধ সেধেছিলেন সেই তিনি হেফাজতিদের নিরস্ত্র মিছিলে পাগলা কুকুরের মত লেলিয়ে দিয়েছিলেন সরকারের সবকটা বাহিনী। আমরা দেখতে চাই এ জন্যে কেউ না কেউ আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে, কেউ ফাঁসিতে ঝুলছে। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথের ভিখিরি বানিয়ে সম্পদের পাহাড়ের উপর যারা ঘোড়া দাবাচ্ছে তাদের ক্ষমা করার জন্য জনগণ বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে না। ক্ষমা নয়, রাষ্ট্রীয় লুটেরাদের কোমরে আমরা দেখতে চাই দড়ি, গলায় ফাঁসি। আবুল হোসেন চক্রকে মাফ করা হলে তা হবে রাষ্ট্রীয় অপরাধ, এবং সে অপরাধের দায় দায়িত্ব নিতে হবে নতুন সরকারকেই।

বেগম খালেদা জিয়া, পরিষ্কার করুন আপনার ’ক্ষমা’ তত্ত্ব। এবং তা নির্বাচনের আগে। ক্ষমা করা নয়, বরং চাওয়া দিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার প্রতিশ্রুত নতুন ধরণের শাসন। পুরানো শাসন ঘেটে দেখুন, ক্ষমা চাওয়ার ঝাঁপিটা আপনাদেরও ছোট নয়।

Comments

এক হত্যা মামলা তিনবার প্রত্যাহার!

সাত বছর আগে খুন হয়েছিলেন পুলিশ টেলিকমের সহকারী হিসাবরক্ষক গোলাম শামসুল হায়দার। তাঁকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান আসামি ছিলেন একই সংস্থার হিসাবরক্ষক আবদুল লতিফ। ওই হত্যা মামলাটি তৃতীয়বারের মতো রাজনৈতিক বিবেচনায় আবদুল লতিফকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে সরকার। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সর্বশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কমিটির ১১তম সভায় প্রথমবার এবং ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর ২১তম সভায় শামসুল হায়দার হত্যা মামলায় ১ নম্বর আসামি আবদুল লতিফকে বিচারকার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিবারই প্রতিবাদের মুখে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। আর সিদ্ধান্ত আইন প্রতিমন্ত্রী আগের দুইবারই বলেছিলেন, ভুল করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এবারও যোগাযোগ করা হলে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম একই কথা বলেন। তিনি প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘ভুল করে আবদুল লতিফকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে।’ তবে কবে বাতিল করা হবে, এ ব্যাপারে আইন প্রতিমন্ত্রী কিছু জানাননি।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কমিটি শামসুল আলম হত্যা মামলা থেকে এমন সময় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, যখন এ মামলায় আদালতে ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আর শামসুল আলমের পরিবার এখন আর তিনজনের সাক্ষ্য শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।

শামসুল হায়দারের স্ত্রী লায়লা নূর আরজুমান বানু প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আইন প্রতিমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছিলাম। এর পর আবদুল লতিফকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এবার লতিফ অব্যাহতি পেলে হয়তো রাস্তায় আমার লাশ পড়ে থাকবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ মামলার এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আবদুল লতিফ একবার নয়, বেশ কয়েকবার ভুয়া বিল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন। দুদকেও লতিফের দুর্নীতির জন্য মামলা হয়েছিল। শত ভাগ প্রমাণ করার পরও এভাবে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।’

ওই তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, আবদুল লতিফের ঢাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে। তাঁর গাড়িও আছে।

লায়লা নূর আরজুমান বানু জানান, লতিফের বেতন সে সময় সর্বসাকল্যে আট থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি ছিল না। কিন্তু তিনি নিজের দামি গাড়িতে চড়ে বেড়াতেন। এখনো আদালতের শুনানির সময় দামি গাড়িতে করেই আসেন।

তবে আবদুল লতিফকে নির্দোষ দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী বোরহান উদ্দিন। প্রথম আলো ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত আর্থিক দুর্নীতি করা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া লতিফের বিরুদ্ধে তাঁর কর্মস্থলের কেউ সাক্ষ্য দেননি।’

বোরহান উদ্দিন আরও জানান, শামসুল হায়দার হত্যার সঙ্গেও জড়িত নন লতিফ। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় লতিফকে রিমান্ডে নিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এজিবি কলোনির সামনে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নৃশংসভাবে খুন হন শামসুল হায়দার। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ মতিঝিল থানায় আবদুল লতিফসহ সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

এ ঘটনার এক বছর পর ২০০৭ সালের ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আবদুল লতিফ। জবাববন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, হাফিজুল হোসেনের জায়গায় স্টেশন শাখা থেকে বদলি হয়ে ২০০৫ সালের শেষের দিকে বিল শাখায় যোগ দেন গোলাম শামসুল হায়দার। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন হাফিজুল হোসেন। পরে হাফিজুলকে দিয়ে মেসার্স হারুন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক কোটি ৪৫ হাজার টাকার ভুয়া বিল তৈরি করেন তিনি। বিলটি পাস করানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের এসএএস সুপারেনটেনডেন্ট আনোয়ার হোসেনকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজি করান তিনি। আনোয়ার হোসেন ৪ শতাংশ হারে আয়কর বাদ দিয়ে লতিফকে ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ২০০ টাকার চেক দেন। হারুন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে উত্তরা ব্যাংকের রাজমণি শাখা থেকে এই টাকা তোলা হয়। এর মধ্যে ৩৯ লাখ টাকা লতিফ নিজের কাছে রাখেন। বাকি ২০ লাখ হাফিজুল হোসেনকে এবং প্রায় আট লাখ টাকা হারুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হারুন-অর-রশিদকে দেন তিনি।

এসব তথ্য জানতে পারায় লতিফের সঙ্গে শামসুল হায়দারের বাগবিতণ্ডা হয়। শামসুল হায়দারকে হত্যার জন্য হাফিজুল হোসেন ও আবদুল লতিফ পরামর্শ করে বাবুল ওরফে তপন চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দুই লাখ টাকার চুক্তি করেন। বাবুল পেশাদার চার খুনি ওয়াসিম, রানা মিয়া, সামছুল আলম ও রাজনকে দিয়ে শামসুল হায়দারকে হত্যা করান। শামসুলের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর চুক্তি অনুয়ায়ী দুই লাখ টাকা বাবুলকে দেন আবদুল লতিফ। এই একমাত্র ওয়াসিম ছাড়া বাকি সব আসামি জামিনে রয়েছেন। তবে এখনো বাবুল ও রাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এ ছাড়া ভুয়া বিল করে পুলিশ টেলিকমের আট কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে লতিফসহ নয়জনকে আসামি করে পল্টন থানায় ২০০৭ সালের ২৩ মার্চ তারিখে একটি (মামলা নম্বর ৪৮) এবং ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর সাতটি (মামলা নম্বর ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮) মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/60892/%E0%A6%8F%E0%A6%95_%...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla