Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

দাসত্বের ১৫ কোটি ও একজন আদুর

Logi Boitha Awami League

কিবোর্ডে হাত দিয়ে ঠায় হয়ে বসে থাকি। ভাবি কোথা হতে শুরু করা যায়। পত্রিকায় আসা ছবি ও লেখা গুলো বার বার পড়ি। হিমাগারে সংরক্ষিত ইলিশের মত শক্ত হয়ে আসে হাত-পা। চোয়ালের পুরানো ব্যথাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। কাম চেতনার মত আঙ্গুল গুলাও উত্তেজিত হয় এবং এক সময় নিস্তেজ হয়ে আসে। শেষমেশ ক্রোধ এসে জড়ো হয়। চেপে বসে শরীর ও মগজে। এভাবেই কেটে যায় সময়। অথচ লেখার পাতায় একটা লাইনও জমে হয়না। কিছু একটা না লিখলে মহাজগত্ অশুদ্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। হতে পারে এ এক ধরনের দায়বদ্ধতা। তাও নিজের কাছে। এত বড় অন্যায় নিয়ে কিছু একটা না লিখলে ভেতরের জানোয়ারটা বশ মানানো কঠিন হয়ে যায়। পা হতে মাথা পর্যন্ত অদ্ভুত সব পোকাদের কিলবিলানি শুরু হয়। মনে হয় উত্তর মেরুর হীমশীতল বাতাস গ্রাস করে নিচ্ছে আমার বেচে থাকা। প্রথম যেদিন আদুরির ঘটনাটা জানতে পারি রাগের চাইতে অনুশোচনায় ভুগেছি বেশি। জীবন নদীতে উলটো সাতার কেটে ফিরে গেছি নিজ ঘরে। আদুরীদের নিয়েই আমরা বড় হয়েছি। একজন নয়, একাধিক আদুরী ছিল আমাদের। জীবন যুদ্ধে পরাজিত মা-বাবা আপন সন্তানকে অনেকটা ফেরি করার মত বিকিয়ে দেয় ক্রেতাদের কাছে। বিনিময় মূল্য বলতে দাবি করা হয় একমুঠো ভাত, মাথার উপর যেনতেন ছাদ ও বেড়ে উঠার নিশ্চয়তা। এভাবেই শুরু হয় আদুরীদের দাসত্ব, যা অনেক সময় গোয়াল ঘরে খুটি দেয়া বোবা গরুদেরে হার মানায়। না, আমাদের সাথে বেড়ে উঠা আদুরীদের জীবন এভাবে বয়ে যায়নি। দুধের নদীতে সাঁতার কেটে ওদের জীবন কেটেছে বললে নিশ্চয় মিথ্যা বলা হবে।

আসলে জীবনটাই বোধহয় এরকম। কোথাও কোন ঘটনা ঘটে, সে ঘটনার রেশ আমাদের শয়নকক্ষ পর্যন্ত চলে আসে। আমরা উদ্বেলিত হই, উৎকণ্ঠায় থাকি, রাগ করি, ক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পরি। এক ফাঁকে নতুন কোন ঘটনা ঘটে। ধীরে ধীরে ভুলে যাই আগের ঘটনা। রাগ, ক্ষোভ অথবা প্রতিবাদ থিতিয়ে আসে এবং দুহাত বাড়িয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাই সামনের দিকে। মনুষ্যত্বের দাঁড়িপাল্লায় দাঁড় করিয়ে বিচার করলে সবই স্বাভাবিক মনে হবে। চাইলে এ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। সভ্য সমাজের সবকটা উপাদান আমাদের রক্তে। আদুরী কাহিনীও এর বাইরে নয়। এগার বছর বয়স্ক একটা শিশুর জীবন বাংলাদেশে স্বাভাবিক জীবন নয়। বিশেষ করে আমরা যারা পশ্চিমা দুনিয়ায় শিশু জীবনকে কাছ হতে দেখেছি তাদের কাছে এ শুধু অস্বাভাবিক নয়, অগ্রহণযোগ্য অন্যায় ও অপরাধ। এসব অগ্রহণযোগ্যতা প্রকৃতি প্রদত্ত কোন অভিশাপ নয়, বরং অর্থনৈতিক বেড়াজালে সৃষ্টি মনুষ্য পাপ। এ পাপ হতে বেরিয়ে আসার জন্যই মানুষ যুগ যুগ ধরে লড়াই করছে, সৃষ্টি করছে, ধ্বংস করছে। কেন্দ্রীভূত ভারত, বৃটিশ শাসিত ভারত ও পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এ প্রক্রিয়ারই অংশ। এ দৌড়ে দেশ ও জাতি হিসাবে আমরা কতটা এগুতে পেরেছি হয়ত সেটাই হবে সভ্যতা যাচাইয়ের মাপকাঠি। আদুরীকে নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে। অনেকে সাহায্যের হাত নিয়েও এগিয়ে এসেছেন। সময় আসবে যেদিন ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া আদুরী মাটির পৃথিবীতে স্বাভাবিক ভাবে পা ফেলতে সক্ষম হবে। এ কিশোরীকে নিয়ে হৃদয় ছুয়ে যাওয়া এমন সব লেখা এসেছে যার উপর আমার কাঁচা লেখা নতুন কোন আবেদন সৃষ্টি করবে বলে মনে হয়না। এর কোন প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয়না। তবে আদুরী পর্বটা মাথায় এল আজ অন্য প্রসঙ্গে।

২৫শে অক্টোবর নিয়ে দেশে টান টান উত্তেজনা। যেন নতুন কোন অক্টোবর বিপ্লবের পদধ্বনি। লগি-বৈঠার জবাব দিতে কুড়াল-খুন্তি নিয়ে তৈরী হচ্ছে প্রতিপক্ষ। সহজ ভাষায়, রক্তের নোনা স্বাদ নিতে নিমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে আমাদের। যারা রাজনীতি নামক পেশায় ফুলটাইম জীবন কাটান তাদের অনেকের কাছে ২৫শে অক্টোবর নতুন শুরুর সন্ধিক্ষণ। এ পেশা ঠিক রাখতে চাইলে চাকরিতে আসা বাধ্যতামূলক। এসব পেশাজীবীদের অনেকেই ভাড়ায় লোক নামাবে, হাতে ধরিয়ে দেবে কুড়াল খুন্তি। অন্যপক্ষের আছে জনগণের ম্যান্ডেট। তাই তাদের হাতে থাকবে বন্দুক, কামান, ট্যাংক। অর্থাৎ মানুষ মারার প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী হবে। গর্জে উঠবে পুলিশের বন্দুক, কুড়ালের আঘাতে থেতলে যাবে কারও মস্তক। আমরা যারা লগি-বৈঠার পশুত্বকে দলীয় চশমায় ’উপভোগ’ করিনি তাদের হয়ত তৈরী থাকতে হবে নতুন সব পৈশাচিকতার স্বাক্ষী হতে। এখানেই আসে আদুরী প্রসঙ্গ। দুই পরিবারের দুই মহিলার কাছে ১৫ কোটি মানুষের প্রায় সবাইকে কেন জানি আদুরী মনে হয়। জাতিকে লগি-বৈঠা দিয়ে পেটাবে, খুন্তি-কুড়াল দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করবে এবং ছুড়ে ফেলবে জীবন নামক ডাস্টবিনে, খুব কি পার্থক্য আছে আদুরীর ভাগ্যের সাথে? নদী নামের যে মহিলা আদুরীর গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা দি্ত, ছুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ উন্মুক্ত করে জৈবিক আনন্দ পেত, তার সাথে একজন শেখ হাসিনা অথবা খালেদা জিয়ার খুব কি পার্থক্য আছে? জাতি হিসাবে আমরা যা করছি তা-ও কি একবিংশ শতাব্দীর দাসত্ব নয়? আদুরীকে কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়ে হয়ত পায়ের উপর দাঁড় করানো যাবে, কিন্তু তাতে নতুন একজন আদুরীর জন্ম কি ঠেকানো যাবে? গোটা রাষ্ট্রকে দাসপ্রথার আষ্টেপৃষ্টে আটকে দুটি পরিবার নিজেদের প্রভুত্ব কায়েমের যে মধ্যযুগীয় লড়াই করছে তার নাম আর যাই হোক রাজনীতি হতে পারেনা। আর এ অপরাজনীতিও আজীবন চলতে পারেনা। তাহলে আমাদের কি একজন আব্রাহাম লিংকনের অপেক্ষায় থাকতে হবে, যার হাত ধরে জাতি মুক্তি পাবে হাসিনা-খালেদা দাসপ্রথা হতে? সে সময় হতে আমারা আজ কতদূরে?

Comments

অভিযোগের তীর বিএসএফের দিকে :

অভিযোগের তীর বিএসএফের দিকে : যশোর সীমান্তে বাংলাদেশী বৃদ্ধের লাশ ঝুলছে গাছে

যশোরের বেনাপোলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ সদস্যরা মো. কামরুজ্জামান নামে বাংলাদেশী এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড ও পোর্ট থানা পুলিশ এলাকাবাসীর এই ধারণা সঠিক নয় বলে মনে করছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহত কামরুজ্জামান বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের মৃত আজিজ সরকারের ছেলে।
বাংলাদেশের যে স্থান থেকে মো. কামরুজ্জামানের লাশটি উদ্ধার করা হয় সেটি বেনাপোল বিজিবি চেকপোস্টের মাত্র দশ গজ পেছনে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখার (নো-ম্যান্সল্যান্ডের) দক্ষিণে ভারতীয় রফতানি গেট থেকে তিন গজ দূরে, ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া থেকে মাত্র দুই গজ দূরে। একটি মেহেগনি গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল লাশটি। গত দু’দিনে কামরুজ্জামান নামে ওই বৃদ্ধকে কয়েকবার ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখেছে এলাকাবাসী। এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে কয়েকবার পুশব্যাক করেছে এবং বিজিবি সদস্যরা প্রতিবারই তাকে ভারতের দিকে ঠেলে পাঠিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বৃদ্ধের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। তার গলায় যে নাইলনের দড়ি ছিল তা ভারতীয় এবং বাংলাদেশীরা এই দড়ি ব্যবহার করে না। ফলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বাংলাদেশ অংশে এভাবে রেখে যায় বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার জানান, নিহতের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরে এসে বিএসএফ এ কাজ করার সাহস পাবে না। নিহত ব্যক্তি নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
২৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের বেনাপোল চেকপোস্ট ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া থেকে মাত্র দুই গজ দূরে বাংলাদেশের চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের দশ গজ পেছনে একটি মেহগনি গাছের ডালে বৃদ্ধকে কে বা কারা হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে, তা রহস্যময়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের বিপরীতে সব সময় বিএসএফ প্রহরায় থাকে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর এত কাছে কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটল সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মতিউর রহমান জানান, এ হত্যাকাণ্ডে বিএসএফের জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য নয়, বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/10/25/222005#.UmntcvmTiSE

খালেদা জিয়ার জন্মদিন সম্পর্কে

খালেদা জিয়ার জন্মদিন সম্পর্কে শেখ হাসিনা : উনি যখন কেক কাটেন মনে হয় আমার বুকে ছুরি চালাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়া ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন করেন। ওইদিন তিনি যখন কেক কাটেন, তখন কেক কাটার সেই ছুরি তার (প্রধানমন্ত্রীর) বুকে বিঁধে।
প্রধানমন্ত্রী ছোট ভাই শেখ রাসেলের ৪৯তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল তিনি এ কথা বলেন বলে জানায় বাসস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন নয়। তা সত্ত্বেও উনি কেক কেটে ভুয়া জন্মদিন পালন করে থাকেন। ওইদিন তিনি যখন কেকে ছুরি চালান, তখন মনে হয় আমার বুকে সেই ছুরি চালাচ্ছেন। এ সময় আমার ছোট ভাই শেখ রাসেলের মুখটা সামনে ভেসে ওঠে। রাসেলকে হত্যার দিনে উনি (খালেদা জিয়া) কীভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন!’
প্রধানমন্ত্রী ১৫ আগস্টে ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন থেকে বিরত থাকার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান। এর পরিবর্তে খালেদা জিয়াকে স্কুলের নিবন্ধনে দেয়া জন্মতারিখেই জন্মদিন পালনের আহ্বান জানান তিনি।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/10/24/221824#.UmjCvPmTiSE

খালেদার ক্ষমা ঘোষণার

খালেদার ক্ষমা ঘোষণার নেপথ্যে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৩

সাজেদুল হক: বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষমা ঘোষণার প্রথম নজিরটি খুব সম্ভবত স্থাপন করলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বহু। তবে বেশির ভাগ আলোচনাই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রস্তাবনাকে ঘিরে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কমই। ওই অংশে তিনি বিরোধীপক্ষের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এ ক্ষমা ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জনগুঞ্জন রয়েছে, ঢাকার একটি বিদেশী দূতাবাসকে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। যদিও ওই দূতাবাস প্রস্তাবটি গ্রহণ করেনি। অন্তত ৪টি ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রতিহিংসার আশঙ্কা করছেন। ১. বিরোধী নেত্রীকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় তিনি ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধ নিতে পারেন। ২. ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মতো পিলখানায় সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলার ফাইলও নতুন করে খোলার আশঙ্কা। ৩. বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তির দুর্নীতির অনুসন্ধান। ৪. শীর্ষ নেতাদের বিচারের কারণে জামায়াত-শিবিরের প্রতিশোধপরায়ণ তৎপরতা। সমপ্রতি এক বিদেশী কূটনীতিক খালেদা জিয়ার কাছে জানতেও চেয়েছিলেন- ক্ষমতায় গেলে হাসিনাকে জেলে নেবেন? এ কথা শুনে বেগম খালেদা জিয়া হাসেন। বলেন, এ প্রশ্ন কেন? প্রথমত, আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। আগে কখনও করিনি। ভবিষ্যতেও করবো না। কূটনীতিক বলেন, আওয়ামী শিবিরে শুনি, ক্ষমতায় গেলে নাকি বিএনপি এই কাজটি করবে। কারণ আপনাকে বাড়ি থেকে বের করায় আপনি নাকি ভীষণ ক্ষুব্ধ। ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহিংসা শুরু হয়ে যাবে। খালেদা বলেন, ওদের বলে দেবেন আমরা এই রাজনীতি করি না। আমাদের প্রতি যে অবিচার তারা করেছে, জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে তা ছিল নজিরবিহীন। আমাকে যে ভাষায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন গালমন্দ করেন তাতে আমার রাগ হওয়ারই কথা। কিন্তু আমি তা অন্যভাবে গ্রহণ করি। বিষয়টি ছেড়ে দেই জনগণের ওপর।
প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সরকারি দলের অনেক নেতাই তাদের বিশ্বাসের কথা বলেন যে, মহাজোট সরকার ক্ষমতা ত্যাগ করলেই মন্ত্রী-এমপিরা বাড়িতে থাকতে পারবেন না। এ কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে বার বার তাদের পক্ষ থেকে বোঝানো হচ্ছে, ক্ষমতা হস্তান্তর না করার জন্য। যেসব কূটনীতিক পর্দার অন্তরালে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদেরকেও প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের বিষয়টি বারবার বলা হয়েছে। জয়ীদের সব কিছু নিয়ে নেয়ার সর্বগ্রাসী রাজনীতির কথাও উত্থাপন করেছেন তারা। প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা থেকে সরে আসতে খালেদা জিয়ার প্রতিও আহ্বান জানান কূটনীতিকরা। এ কারণেই মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার কণ্ঠ একেবারেই স্পষ্ট- পরিবর্তনের কথা কেবল মুখে বলাই যথেষ্ট নয়। কেননা, এ দেশের মানুষ অতীতেও পরিবর্তনের অঙ্গীকার রাজনীতিকদের কণ্ঠে শুনেছে। সে জন্য আজ আমি আপনাদের মাধ্যমে স্পষ্ট করে একটি কথা বলে এই পরিবর্তনের সূত্রপাত করতে চাই। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি যে, যারা আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে নানা রকম অন্যায় অবিচার করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন আমি তাদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করছি।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NzYzNDA=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==

ওরা পালাচ্ছে...

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পিএ বিমানবন্দরে আটক

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আনিসুজ্জামান দোলনকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাঁকে আটক করে। সূত্রে জানা যায়, দোলন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে না জানিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী নিজেই পুলিশ দিয়ে তাঁকে আটক করান। এরপর তাঁকে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সকালে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দোলন বিমানবন্দরে যান। এরপর প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবারসহ তাঁকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চষ্টো করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। পরে সন্ধ্যায় আবার তাঁর ফোনে কল করা হয়। কিন্তু রিং হলেও তিনি তা ধরেননি। এদিকে দোলনের বিদেশে পালানোর খবর দ্রুত তাঁর এলাকা পাবনা জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হলে গতকাল তাঁর এলাকা থেকে অনেকেই কালের কণ্ঠ অফিসে ফোন করে জানতে চায়। আজ সন্ধ্যায় দোলনের মোবাইল ফোনে রিং করা হলে তাঁর স্ত্রী ফোন ধরেন, কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। দোলনের ভাই পরিচয়ে এক ব্যক্তি বলেন, দোলন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আজ বিমানবন্দরে যাননি। সকালে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নীলফামারী গিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, আজ সন্ধ্যায় দোলন বাসাতেই ছিলেন। তখন এ প্রতিবেদক দোলনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রেখে দেন।

কালের কণ্ঠের নীলফামারী প্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম আজমের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী টুকু আজ দুপুরে কিশোরগঞ্জ থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের জন্য নীলফামারী গিয়েছিলেন হেলিকপ্টারে করে। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পিএ দোলন ছিলেন না। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও একই তথ্য জানিয়েছে।
পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. গোলজার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) দোলনের আটকের একটা খবর আমরা শুনতে পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।' গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দোলনকে আটকের পরই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর মন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, মন্ত্রীকে না জানিয়ে বিদেশ যাওয়ার কারণ। এ সময় তিনি বলেন, 'বেড়াতে যাচ্ছিলাম।'

http://www.kalerkantho.com/national/2013/10/23/14232

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla