Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

ঘোলা পানিতে পদ্মাসেতু

Hasin'a visit to New York
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ৮০ জন ক্যাডার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখন আমেরিকায়। নিউইয়র্কস্থ জেএফকে এয়ারপোর্টে একজন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে কিভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয় তা দেখতে এবং বাকি বিশ্বের সরকার অথবা রাষ্ট্রপ্রধানদের আগমনের সাথে তুলনা করতে চাইলে একজন সুস্থ সবল বাংলাদেশির হাতে বোরখা থাকাটা জরুরি। এ এক অবিশ্বাস্য লজ্জাজনক অধ্যায় যা কেবল মধ্যযুগীয় জংলিপনার সাথে তুলনা চলে। ঐ মুহূর্তে ঘটনাস্থলে নিজকে বাংলাদেশি হিসাবে পরিচয় দিতে গায়ের ও চোখের চামড়া গণ্ডারের চামড়া হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। স্থানীয় প্রশাসনের জানা আছে এসব কলঙ্কিত অধ্যায়। তাই অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এড়ানোর জন্যে প্রধানমন্ত্রীকে চোরাই পথে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেন ব্লুমবার্গ বাহিনী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি বলবেন আমাদের তা জানা আছে। দেশ নয়, বরং আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি মঞ্চে দাঁড়াবেন এবং গর গর করে বলে যাবেন দলীয় সাফল্যের রূপকথা। এমন এক মুহূর্তে তিনি এসব বলবেন যখন বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক ফোরামে একই সরকারকে নেংটা করে বিশ্বকে দেখানো হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রীয় চোরদের কদর্য চেহারা। পদ্মার পানি কিছুটা হলেও স্বচ্ছ হওয়ার পথে পা বাড়িয়ে ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে পা রেখেই তা আবার ঘোলা করলেন এবং বললেন বিশ্বব্যাংক দুর্নীতি খুজে পায়নি বলেই ফিরে এসেছে, এবং জটিলতার জন্যে নতুন করে অঙ্গুলি হেলন করলেন ডক্টর মোহম্মদ ইউনূসের দিকে। অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত বলতে গেলে হাতে পায়ে ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এই ব্যাংককে সেতু প্রকল্পে ফিরিয়ে আনার কাজটা ফয়সালা করে ফেলেছিলেন। আবুল হোসেন আর মসিউরদের কপালে চুরির কালিমা লেপন করে সেতুর পথ পবিত্র করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই কেবল বিশ্বব্যাংক চোখ ফিরিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখে ভুলে গেলেন এটা গোপালগঞ্জ নয়, আর বিশ্বব্যাংকও মোহম্মদ হানিফের ব্যাংক নয় যা নিয়ে মিথ্যাচার করে পার পাওয়া যাবে। দলীয় ক্যাডারদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালাময়ী ভাষণের একদিন পরেই বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিল আবুল-মসিউরদের দুর্নীতির গ্রহনযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার পরই কেবল তারা সরে দাঁড়িয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারের গালে থাপ্পর মেরে বলে দিল পদ্মা সেতুর অর্থায়নে দুর্নীতি দূরে রাখার সরকারী আশ্বাস যথেষ্ট নয়, বরং ব্যাংক নিজে মনিটর করবে দুর্নীতি প্রবাহ।

পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর পানি ঘোলা করা বক্তব্যঃ

* দুর্নীতির প্রমাণ দেখতে চাই
* চক্রান্তকারীদের খুঁজতে তদন্ত চলছে

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে ফেরায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ প্রকল্পে তারা দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ দেখার অপেক্ষায় তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি অস্বীকার করে প্র্র্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো এক ব্যক্তির কারণে পদ্মা সেতু ঋণ নিয়ে এত কিছু হয়েছে। একটি ব্যাংকের এমডি তাকে (ড. ইউনূস) রাখতেই হবে, এমন শর্ত আমরা মানিনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতির কথা বলে তারা ঋণ বাতিল করেছিল। শেখ হাসিনা বলেন, কার চক্রান্তে এই ঋণ বাতিলের ঘটনা ঘটল, তার তদন্ত চলছে। বিশ্বব্যাংক প্রধানকে বলেছি, প্রমাণ থাকলে সেটা দেখান। কিন্তু তারা সেটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত করে আমার কিছুই পাইনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছি এবং বলেছি, কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা দেখতে চাই। স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সম্মেলন উপলক্ষে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমরা দুর্নীতি করেছি বলে বিশ্বব্যাংকের কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে তারা কখনোই ওই প্রকল্পে ফিরত না।

Comments

ব্যাংক পরিচালক হয়ে পাল্টে গেছে হেনরীর জীবন যাপন

ডেস্ক রিপোর্ট : জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, পেশা জেলা শহরের একটি মধ্যমানের হাইস্কুলে শিক্ষকতা। বছর চারেক আগেও তার জীবন যাপন ছিল খুবই সাদামাটা। চলাফেরা করতেন রিকশায়। মধ্যবিত্ত আর ১০ জনের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিল তার। কিন্তু মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরই রাতারাতি পাল্টে যেতে থাকে তার অবস্থান। বাংলানিউজ

সিরাজগঞ্জ শহরের সবুজ কানন হাইস্কুলের শিক্ষক হেনরী ২০০৯ সালে সোনালী ব্যাংকের অন্যতম পরিচালক নিযুক্ত হন। মালিক হন বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের। গাড়ি-বাড়ি আর সামাজিক অবস্থানেরও রাতারাতি পরিবর্তন। হেনরীর এ উত্থান সিরাজগঞ্জবাসীকে ফেলে দেয় এক ঘোরের মধ্যে। হেনরী বর্তমানে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা। জেলা আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা প্রয়াত মোতাহার হোসেন তালুকদারের পুত্রবধূ হিসেবে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে খুব সহজে মনোনয়ন পান হেনরী। কিন্তু পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী রুমানা মাহমুদের কাছে।

বলা হয়, এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের যথাযথ সমর্থন না পাওয়াতেই তাকে পরাজিত হতে হয়।

সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়। আর এ পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার নতুন পথচলা।

গত সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হলফনামায় স্কুল শিক্ষিকা জান্নাত আরা হেনরী তার মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছিলেন। হলফনামা অনুযায়ী তাদের স্বামী-স্ত্রীর কাছে মোট নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিল। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ৪ বিঘার কিছু কম। যার মূল্য ৬ লাখ টাকারও কম। বর্তমানে বাড়ি-গাড়ি আর বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হেনরী। চার বছরের ব্যবধানে পাল্টে গেছে হেনরীর অবস্থান।

অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ঋণপ্রদান, চাকরি বাণিজ্য, কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি, ঋণ মওকুফ, শাখা খোলাসহ বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য করেন হেনরী। গত সাড়ে তিন বছরে হেনরী প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এসব কাজের লিয়াজো করার জন্য একজন প্রতিনিধিও তার নিয়োগ করা ছিল।

সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ পেতে হেনরীর দ্বারস্থ হয়েছেন অনেকে। তার সুপারিশে সোনালী ব্যাংক থেকে অনেকেই মোটা অঙ্কের ঋণ পেয়েছেন। বিনিময়ে একটা পার্সেন্টেজও তিনি পেতেন।

সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকার পর বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, জান্নাত আরা হেনরী রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় ‘রজনীগন্ধা’ নামের বাড়িতে ফ্ল্যাট কিনেছেন। ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠার প্লট কিনেছেন। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে প্রায় কোটি টাকা মূল্যে একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার (ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-১৭৫৫) জিপ ও একটি সাদা রঙয়ের প্রাইভেটকার (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-২৭-৩৬০০) কিনেছেন। দুটি গাড়ি তিনি নিজে ব্যবহার করলেও একটি নিজ নামে মালিকানা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গজারিয়া নামক স্থানে ৭ বিঘা জমি (প্রতি শতক ২০ হাজার টাকা মূল্যে) শ্বশুর-শাশুড়ির নামে সখিনা-মোতাহার ফ্লাওয়ার মিলের কাজ শুরু করেছেন। সদানন্দপুর এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়িতে পিতা আব্দুল হামিদের মালিকানায় হেনরীর সহযোগিতায় একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। এরইমধ্যে মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়িতে থাকার জন্য সবকিছু অত্যাধুনিকভাবে সুসজ্জিত করেছেন। একটি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে ২টি অত্যাধুনিক বাস রয়েছে তার। ডেসটিনিতে প্রায় ১ কোটি টাকার শেয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে হেনরীর।

জান্নাত আরা তালুকদারের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড়ে। তার বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। শামীম তালুকদার লাবুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জানা গেছে, হেনরীর স্বামী লাবুর ঠিকাদারির লাইসেন্স থাকলেও তিনি বর্তমানে ঠিকাদারি ব্যবসা করছেন না। বিভিন্ন তদবিরের কাজ করছেন বলে জানা গেছে। হেনরীর স্বামী এবং মেয়ে মুনতাহা হƒদয়ীর অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ টাকা থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হেনরীর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ১৪ ফেব্র“য়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক মো. আবদুল করিম সিরাজগঞ্জের সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান শাখার ম্যানেজারদের বরাবর একটি পত্র পাঠান (স্মারক নং-দুদক/সজেক/পাবনা/২০৪)। পত্রে জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, স্বামী শামীম তালুকদার লাবু ও মেয়ে মুনতাহা হƒদয়ীর নামে এই ৬টি ব্যাংক শাখায় কোনো প্রকার হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনা বরাবর পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

দুদক প্রধান কার্যালয় ২৩ জানুয়ারি এক নোটিসে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে রেকর্ডপত্রসহ তা গত ২৩ ফেব্র“য়ারি ২০১২-এর মধ্যে পাঠনোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। রেকর্ড পত্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক মো. আব্দুল করিম বাংলানিউজকে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় সব নথিপত্র তলব করায় গত ৩০ জুলাই প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি বিষয়টি এখন প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান করবে।

এদিকে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, হেনরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলমান। নির্বাচন কমিশনের হলফনামার তথ্যানুযায়ী হেনরী সংসদ নির্বাচনের আগে যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া বর্তমান সম্পদের বিশাল ব্যবধান দেখছে দুদক। চার বছর সময়ের মধ্যে কীভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন হেনরী, তা এখন খতিয়ে দেখছে।

হেনরীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমি একজন স্কুল শিক্ষক। অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। কোনো অভিযোগও নেই।

তাহলে দুদক তদন্ত করছে কেন? দুদক তো অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত করেÑএর উত্তরে তিনি বলেন, তাহলে দুদক থেকে শুনে নিন। আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন? দুদক করছে, এখনও তো কোনো রিপোর্ট দেয়নি। যে বিষয়টি তদন্তাধীন, সে বিষয়ে কোনো কথা বলব না।

বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকলেও সবুজ কানন স্কুলের শিক্ষকের পদ কীভাবে ধরে রাখছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে হেনরী কিছুক্ষণ নিরব থেকে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মফস্বলের একজন স্কুল শিক্ষিকাকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করায় বিতর্কের মুখে পড়ে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, রাজনৈতিক তদবিরের কারণে সিরাজগঞ্জের সবুজ কানন স্কুলের শিক্ষক হেনরীকে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য করা হয়। আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হেনরী মহাজোট সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। চলতি মাসে তার মেয়াদ শেষ হয়। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে দুদক সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অন্য পরিচালকদের সঙ্গে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সব দোষ চাপান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর।

http://www.amadershomoy2.com/content/2012/09/30/news0016.htm

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংস্কার চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘেরও সংস্কার চেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় ৬৭তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। খবর বাসস, ইউএনবি ও তথ্য বিবরণীর।

প্রধানমন্ত্রী বাংলায় তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সভা পরিচালনা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কয়েকটি শক্তিশালী দেশের পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘ, ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউশনস ও অন্যান্য বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করছি।’ তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ৬০ বছর আগের ক্ষমতার সমীকরণের প্রতিফলন রয়েছে। এতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কতিপয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়।

কিছু সুবিধাভোগীর স্বার্থ সংরক্ষক ও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতি উদাসীন জাতিসংঘ ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে নতুন সহস্রাব্দে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। নতুন বিশ্বব্যবস্থা অবশ্যই ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে হতে হবে, যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে শান্তিময় বিশ্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেটিই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে কথা বলছি।’ তিনি বলেন, ‘এসবই হচ্ছে আমাদের সময়ের অগ্রাধিকার। অতীতের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা ভুলে সবাইকে এখন সে লক্ষ্যে কাজ করা প্রয়োজন।’

গণজাগরণ, আন্তদেশীয় বিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসবাদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের মাধ্যমে এসব বিরোধ ও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বিশেষ অবদান এবং জাতিসংঘ পিস বিল্ডিং কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অবদানের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য সমস্যারও জরুরি সমাধানের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়’, এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই নীতি দেশে-বিদেশে মূলত ন্যায়বিচার ও শান্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা তাঁকে (প্রধানমন্ত্রী) ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদনে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্ডার গার্ড বিদ্রোহ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছি এবং দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অসমতা দূর করা এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, লাগসই প্রবৃদ্ধি, মানবাধিকার উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস দমনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছি।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীর, লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিনই বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালাত। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল, দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতা-কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা।
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য এমডিজি-৩, এমডিজি-৪ ও এমডিজি-৫ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান অধিবেশনে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গ্রহণে সমর্থন প্রদানের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরেরও আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশ: আমাদের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরসংলগ্ন ৪৭ স্ট্রিটের মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বিকেল পাঁচটা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশে জড়ো হতে থাকেন। ‘ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দাও’, ‘শেখ হাসিনা নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’—এসব স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করে বিশ্বে শান্তির ডাক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আবদুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, বেলাল মাহমুদ, সরাফত হোসেন প্রমুখ।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

শেখ হাসিনা...খেলা রাম খেলে যায়!

বিশ্বব্যাংক এক আকস্মিক বিবৃতি দেওয়ায় পদ্মা সেতু নিয়ে আবার কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দাতা সংস্থাটি ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশ সময় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিবৃতিটি প্রচার করে। বিবৃতিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিটি জরুরি ভিত্তিতে দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। বিশ্বব্যাংকের এই বিবৃতি সরকারকেও খানিকটা চিন্তায় ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে গতকালই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শর্ত বাস্তবায়নে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। সন্দেহ নিরসনে বলা হচ্ছে যে, বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক। মূলত রাজনৈতিকভাবে কিছুটা ফায়দা নিতে কিছু কথা বলা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে চার শর্ত মেনে নেওয়ার পর ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণায় বিশ্বব্যাংক তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এবং পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা-ও তুলে ধরে। অথচ ছয় দিনের মাথায় গতকাল কড়া ভাষায় বিবৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাংক মূলত পদ্মা সেতুর অর্থায়নে অগ্রসর হতে শর্ত বাস্তবায়নের শর্তই দিল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য গতকাল বুধবার সিলেটে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এদিকে, পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাসায় গতকাল বুধবার একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ইআরডির জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ, সেতু বিভাগের সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরী, বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য এ এম এম সফিউল্লাহ ও আইনুন নিশাত এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক সফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ১ বা ২ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের দুটি প্রতিনিধিদল আসবে। ওই প্রতিনিধিদলটির সঙ্গে বৈঠকে কীভাবে কম সময়ের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ চান অর্থমন্ত্রী। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যেখানে দরপত্র বন্ধ ছিল, সেখান থেকেই যাতে শুরু করা যায় সে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা। সেতু বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এতে আগামী বছরের জুলাই বা আগস্ট মাসে ঠিকাদার নিয়োগ করা যাবে। তখন অর্থমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল আসার পর এক মাসের মধ্যে আলোচনা শেষ করা যাবে। আর দুদকের সঙ্গে যে আলোচনা ও তদন্ত হবে, সেটা চলতে থাকবে। তদন্ত কার্যক্রম চলার সময় সেতুর কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। গওহর রিজভীও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তাঁর আলোচনার সারমর্ম তুলে ধরেন। গওহর রিজভী জানিয়েছেন, তাঁরও মনে হয়েছে এক মাসের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ক্রয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা ঠিক করা যাবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠক চলাকালীন বিশ্বব্যাংক মঙ্গলবার রাতে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটি অর্থমন্ত্রীর নজরে আনে ইআরডি। ইআরডির কর্মকর্তারা এডিবি ও জাইকার অবস্থান কী হতে পারে, সেটা তুলে ধরেন বৈঠকে। ইআরডির কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি টাস্কফোর্সের অধীনে এডিবি ও জাইকা কাজ করতে চায়। বৈঠকের পর জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী ও গওহর রিজভী কোনো কথা বলেননি। দুজনেই কথা বলার দায়িত্ব দেন ইকবাল মাহমুদকে। ইকবাল মাহমুদ বলেন, এটি ছিল অনির্ধারিত বৈঠক। বলা যেতে পারে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক।
কিছু সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তার বিভ্রান্তিকর কথার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কিছু কর্মকর্তা বলতে বিশ্বব্যাংক কী বুঝিয়েছে, তা বিশ্বব্যাংককেই জিজ্ঞাসা করুন। এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ তবে ওয়াশিংটন এবং দেশের মধ্যে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মূলত বিশ্বব্যাংক বিবৃতিটি দিয়েছে। এ ছাড়া, বিবৃতি দেওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের সক্রিয় উপস্থিতি।

সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, মসিউর রহমান প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার এক দিন পরে সেখানে যান। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর নাম নেই। কিন্তু নিউইয়র্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকছেন। এতে মসিউর রহমানের ছুটিতে যাওয়া নিয়ে ভুল সংকেত পেয়েছে বিশ্বব্যাংক। সন্দেহ তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। আবার প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দুর্নীতি হলে বিশ্বব্যাংক ফিরত না। দুর্নীতি হয়নি বলেই তারা ফিরেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে দুর্নীতির প্রমাণ চাওয়া হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। বিশ্বব্যাংক মূলত এসব বক্তব্যেরই জবাব দিয়েছে বিবৃতিতে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার কিছু পরে বিবৃতিটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক বলেছে, তারা সরকারকে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিয়েছে। এ ছাড়া, বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক পুনরায় চারটি শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেছে, ২০ সেপ্টেম্বর সরকার এই শর্তগুলো পালনে সম্মত হয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি আবারও বিবেচনা করার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানায়।

বিশ্বব্যাংক ২০ সেপ্টেম্বর যে বিবৃতি দিয়েছিল, সেটিতে বলেছিল, সরকার নতুনভাবে বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রয়োজনীয় তিনটি বিষয় বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। এই তিন শর্তের মধ্যে ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সব সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গকে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে ছুটি প্রদান’ শর্তটি ছিল না। কিন্তু গতকালের বিবৃতিতে এটি যুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, পদ্মা সেতুতে ফিরে আসতে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আরও পরে। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সন্তোষজনক বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের বহিরাগত প্যানেল থেকে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-27/news/293103

World Bank Statement on Padma Bridge - September 25, 2012

WASHINGTON, September 25, 2012—The World Bank today issued the following statement concerning the Padma bridge project in Bangladesh:

Media reports have quoted senior Bangladeshi government officials misrepresenting the World Bank’s position concerning the Padma Multipurpose Bridge Project. We feel obliged to issue the following clarifications:

The Bank has shared repeatedly with the Government of Bangladesh credible evidence of corruption involving senior public officials related to the financing of the Padma bridge. This led the World Bank to cancel the US$1.2 billion credit in the absence of a credible response by the government.

On September 20, 2012 the government agreed:

  • to place all public officials suspected of involvement in the corruption scheme on leave from government employment until an investigation is complete;
  • to appoint a special inquiry and prosecution team within the ACC to handle the investigation; and
  • to grant access to all investigative information to an external panel of internationally recognized experts who will advise the Bank and co-financiers on the credibility of the government’s investigations.

The government requested the World Bank to consider again the financing of the Padma bridge.

The Bank remains concerned about corruption in Bangladesh in general and in the Padma bridge project in particular. It is for this reason that we have also made it clear that to engage anew in the project will require new implementation arrangements that give much greater oversight of project procurement processes to the Bank and co-financiers.

It is only after satisfactory implementation of all these measures as well as a positive report from the external panel of internationally recognized experts that the World Bank will go ahead with the financing of the project.

The people of Bangladesh deserve a clean bridge. If we are to move ahead, we are insisting that a credible investigation is undertaken and any project implementation be done in a manner that ensures transparency and enhanced oversight.

Source: World Bank

ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার : বিশ্বব্যাংক

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিটি নিচে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক নিচের বিবৃতিটি দিচ্ছে:
সংবাদমাধ্যমে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, এতে এসব কর্মকর্তা ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করতে নিচের ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি:
পদ্মা সেতুর অর্থায়নের বিষয়টির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিসংক্রান্ত বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ একাধিকবার সরকারের কাছে তুলে ধরেছে ব্যাংকটি। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার নিচের বিষয়গুলোতে সম্মত হয়:
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের ছুটিতে রাখা। তদন্ত পরিচালনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত ও আইনি দল নিয়োগ দেওয়া। তদন্তের সব তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈদেশিক প্যানেলকে দেওয়া, যাঁরা প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগের স্বচ্ছতার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক ও সহ-অর্থায়নকারীদের পরামর্শ দেবেন। এরপর বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানায়।

বাংলাদেশে, বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের উদ্বেগ এখনো আছে। এ কারণে আমরা এটি স্পষ্ট করেছি যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে নতুন করে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবকিছু ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে প্রকল্পের ক্রয়-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক ও সহ-অর্থায়নকারীরা আরও ভালোভাবে জানতে পারে।

কেবলমাত্র এসব বিষয়ের সন্তোষজনক বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ইতিবাচক প্রতিবেদনের পরই বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে অগ্রসর হবে।
বাংলাদেশের মানুষ একটি নির্ভেজাল সেতু চায়। আমাদের যদি সামনে এগোতে হয়, তাহলে বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের ওপর আমরা জোর দেব। যেকোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন এমনভাবে করতে হবে, যেখানে স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক নিচের বিবৃতি দেয়
বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালের ২৯ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। বিশ্বব্যাংকের তদন্ত শাখা এর আগে এই প্রকল্পে আমাদের অর্থায়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্যাদির কথা বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছিল। এই প্রকল্পের সঙ্গে বিশ্বব্যাংককে যুক্ত রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়, এগুলো পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়। এসব শর্তের মধ্যে ছিল—দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সরকারি কর্মকর্তাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো, তদন্ত পরিচালনা করতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ প্যানেলকে তদন্তের যাবতীয় বিষয়ে জানানোর ব্যাপারে সম্মত হওয়া এবং বিশ্বব্যাংক ও সহযোগী বিনিয়োগকারীদের প্রকল্পের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে সম্মত হওয়া।

আমাদের ঋণচুক্তি বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এই চার শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক যেসব দুর্নীতি চিহ্নিত করে তথ্যাদি দিয়েছে, সরকার এখন সেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করতে পারছে যে এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনার একটি পরিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্তকাজ চলছে।

এসব শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশ সরকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানায়। নতুন করে ঋণচুক্তির ব্যাপারে সরকার পূর্বশর্ত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সেতু নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন করে ক্রয় নীতিমালা করা, যার মধ্যে জোরালো নজরদারি থাকবে; সেতুর নির্মাণকাজ হবে নির্ভেজাল এবং এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে; সেতুর বিষয়ে তদন্তের বিষয় হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ, সরকারের তদন্তকাজ পর্যালোচনা করতে একটি স্বাধীন বৈদেশিক প্যানেলকে অনুমতি দিতে হবে, যারা বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের কাছে তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন দেবে।
বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সম্মত হওয়া শর্তগুলোর সন্তোষজনক বাস্তবায়নের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতুতে পুনরায় অর্থায়নের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতির আলামত দেখা যায় কি না, বিশ্বব্যাংক তার তদারকি অব্যাহত রাখবে এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আমরা দৃঢ় সংকল্প। বাংলাদেশের জনগণ যারা সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন ও উন্নত মানের সেতু দেখতে চায়, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে তারা বিশেষভাবে লাভবান হবে।

সূত্র: প্রথম আলো
তারিখ: ২৬-০৯-২০১২

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla