Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

Ami Bangladeshi

নোবেলের সন্ধানে হীরক রাজ্য ও শেখ হাসিনার শান্তির মডেল

sheikh hasinaআগের টার্মেও চেষ্টা হয়েছিল। রীতিমত জোড়ালো চেষ্টা। নীরবে, নিভৃতে ও রাষ্ট্রের স্পনসরে দেশে বিদেশে ধর্ণা দিয়েছিল সরকারের থিংকট্যাংক প্রতিনিধি দল। শোনা যায় কাজটার সফল সমাপ্তির প্রত্যাশায় উচ্চ পর্যায়ে লবিস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। জাতির কপালে তখন দুর্নীতির হ্যাটট্রিক শিরোপা। চারদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাটের মহোৎসব। পকেটে অনন্ত ক্ষুধা আর হায়েনার হিংস্রতা নিয়ে শকুনের মত ঝাপিয়ে রাষ্ট্রকে ভাগার বানিয়ে আহার করছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে দেশের আমলা বাহিনী। ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় ব্যক্তির সন্তুষ্টিই পৌঁছে দেয় অভীষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যে এবং পাশাপাশি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার হরিলুটের অবাধ স্বাধীনতা। দেশীয় রাজনীতির স্বরলিপি লিখতে গেলে এই অধ্যায়টা নিয়ে লেখা যাবে বিশাল এক মহাভারত, যা ইচ্ছা করলে ঠাঁই দেয়া যাবে কার্ল মার্ক্সের ডাচ ক্যাপিটাল ও মাও সে তুং’এর লাল বইয়ের কাতারে। কার্ল মার্ক্স, ভ্লাদিমির উলিয়ানভ আর মাও এর মত শ্রমজীবি ও সর্বহারাদের ভাগ্য পরিবর্তনের পথপ্রদর্শকদের একই কাতারে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও আমলাদের ঠাঁই দেয়া অন্যায় হবেনা অভিন্ন কারণে, এরাও ভাগ্য পরিবর্তনের নিপুণ কারিগর। একজন আমানুল্লাহ আমানের বিস্ময়কর উত্থান পর্ব হতে পারে এর নয়নাভিরাম উদাহরণ। যাই হোক, এসব পুরানো কাহিনী। এ নিয়ে অনেক ত্যানা পেঁচানো হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। অনেকের কাছেই আজ তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবেনা। তত্ত্ব বিশ্লেষণের দলীয় ফ্যাক্টরিতে এসবের রেডিমেড উত্তরও হয়ত তৈরী আছে। সময়ের চাহিদা মেটাতে এসবের বাজারজাত এখন আকর্ষনীয় ও লাভজনক ব্যবসা।

কথিত জনতার মঞ্চের নায়ক মহিউদ্দিন আলমগীর সচিব থাকাবস্থায়ই তৈরী করে নিয়েছিলেন আর্ন্তজাতিক কানেকশন। হতে পারে তা সরকারী পদের কারণে। হীরক রাজ্যের রাজা-রানীর তৈলমর্দন, নর্তন, কুর্দন আর ভাঁড়ামি দিয়ে মন জয় করারও একটা লিমিট থাকে, যা আবিস্কার ও এর ব্যবহারের ধান্ধায় ব্যাপক সময় ব্যায় করতে হয় রাজ্যের মন্ত্রী, উজির, নাজির, কোতওয়াল আর ডাজ্ঞাদের। তৈল মর্দনের বৈচিত্র্যতা একটা আর্ট, যা হীরক রাজ্যে ব্যাপক সমাদৃত ও কাঙ্খিত। এই আর্টের মূল্যায়ন করা হয় এর গভীরতা ও রাজা-রানী সন্তুষ্টির কিলোগ্রামের উপর । মহিউদ্দিন খান আলমগীর জানতেন এই বাস্তবতা এবং এই আবিষ্কারে অনেকটাই এগিয়ে যান নিজের যোগাযোগ ও যোগ্যতার দিয়ে। হীরক রাজ্যের রাজাকে খুশি করা মানে ক্ষমতার মাঠে মোহম্মদী বেগের দায়িত্ব পাওয়া। এমনি একটা লাইসেন্স পাওয়ার অভিনব পন্থা আবিস্কার করেন জনাব খান আলমগীর। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রী জোগাড়ের মাধ্যমে রাজার মনোরঞ্জন ইতিপূর্বে কারও তৈলমর্দন ফ্যাক্টরিতে জন্ম না নেয়ায় এর একক কৃতিত্ব চলে যায় এই চতুর আমলার ক্রেডেনশিয়ালে। প্রতিমাসে একটা করে পিএইচডি, এমনটাই নাকি ছিল আমলার টার্গেট। রাষ্ট্রের কোষাগার অনেকটা আলী বাবা ৪০ চোরের সিসিম ফাঁক কায়দায় খুলে দেওয়া হয়েছিল এই ’মহৎ’ কাজের অর্থায়নে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার ফোকর গলে একটা খবর বেশ আলোড়ন তুলেছিল ১৯৭৩-৭৪ সালে। নেতা শেখ মুজিবকে খুশি করার নতুন ও অভিনব পন্থা আবিস্কার করতে গিয়ে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এক ছাত্রীকে ডিগ্রী উপহার দেয় অনেকটা জন্মদিনের উপহারের মত। খবরটা বাতাসে জন্ম নেয়া, তাই সত্যতা যাচাইয়ের কোন উপায় নেই। তবে হীরক মন্ত্রীসভার বর্তমান উজির জনাবা মতিয়া চৌধুরীকে রিমান্ডে আনলে হয়ত এর আসল রহস্য বের করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে একই কায়দায় এই ছাত্রীর ভান্ডারে যোগ হয় আরও অনেক ডিগ্রী। মহিউদ্দিন আলমগীর কর্তৃক যোগাড় করা পিএইচডি তার মধ্যে অন্যতম। একটা দুইটা করে একে একে সাত-আটটা পিএইচডি ডিগ্রী এক সময় মনোরঞ্জনের কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলে। রাজার সন্তুষ্টি লাভের প্রতিযোগীতায় বাধ্য হয়েই উজির নাজিরদের খুজতে হয় ভিন্ন পথ। এই ভিন্ন পথের বাঁকেই দেখা হয় নোবেল পুরস্কার নামক সুসম উপাদানের। জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেত্রীত্বে একদল তৈলমর্দনকারী সন্ধানে নামেন নোবেল শান্তি পুরস্কার নামক সান্ডার তেলের। উপলক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। কথিত আছে এ কাজে কামিয়াবের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয় দুর্নীতিতে হ্যাটট্রিক শিরোপা লাভের তাবৎ টেকনিক। নোবেল শান্তি পুরস্কার সিলেকশন কমিটির বেশ কজন সদস্যকে গেলানোর চেষ্টা হয় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নগদ নারায়ণ টনিক। খবর নোবেল কমিটির পালের গোদাদের কানে পৌছাতে সময় লাগেনি। ভেস্তে যায় খান আলমগীরের নোবেল নবুয়ত নেটওয়ার্ক। অসলো ও স্টকহোম হতে উচ্চারিত হয় কড়া হুঁশিয়ারী।

৮০ সালের চাটুকারিতা, তোষামোদী আর চোষামোদী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোন উপাখ্যান হিসাবে সংযোজিত হয়নি। স্বাধীনতার উষা লগ্নে পাইওনিয়র হিসাবে এ কাজে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন শেখ পরিবারের অন্যতম রাজনীতিবিদ জনাব শেখ ফজলুল হক মনি। কথিত মুজিববাদ নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দেয়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন তিনি। ‘শেখ মুজিবের চিন্তাধারা বিশ্বকে দিচ্ছে নাড়া’ এমন সব উদ্দীপক শ্লোগান সহ অনেকটা চেয়ারম্যান মাও কায়দায় ব্যবহার বান্ধব ছোট ছোট চটি বই বাজারজাত করার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি আলোচনা ও গবেষনার মাধ্যমে নতুন এই বাদকে জাতির খাদ্য তালিকায় বাধ্যতামূলক আইটেম করার চেষ্টা করেছিলেন রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে।

আর্ন্তজাতিক ’সুদখোর’ ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তিকে বলতে গেলে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করে থাকবেন হীরক রাজ্যের উজির নাজিরের দল। ’টু বি, অর নট টু বি’ কায়দায় পিতা এবং পারিবারিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগাদা হতেই হয়ত এ চ্যালেঞ্জের জন্ম। ইউনুস মাস্টার নিয়ে পুঁজিবাদী বিশ্বের উচ্ছাস বেশ কিছুটা আতংকের সৃষ্টি করেছিল হীরক রাজ্যে। তাই মাস্টারের মগজ ধোলাই ছিল সময়ের ব্যাপার। রাজ্যের গোপাল ভাড় ও নিবেদিত কোতোয়াল জনাব হানিফের মুখ হতে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল দাবিটা, ইউনুস মাস্টারের নোবেল কেড়ে অন্য কাউকে দিতে হবে। এই অন্যটা অবশ্য কে হবেন তার রূপরেখা উন্মোচিত না করলেও আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি। ৮০ দশকের ভুল হতে ইতিমধ্যে শিক্ষা নিয়েছে হীরক রাষ্ট্র। পকেটে নগদ ধরিয়ে নোবেলে আদায় যে সম্ভব নয় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের চেষ্টা হতেই তা প্রমানিত হয়েছিল। রাজ্যের নতুন কোতোয়ালের দল তাই এ পথে না গিয়ে আবিস্কার করল নতুন এক পথ, হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল। এই মডেলের সার সংক্ষেপ দেশীয় বাজারে উন্মুক্ত না করে বরং তা সরাসরি এক্সপোর্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজ্যের অবলা প্রজাদের জানারও সুযোগ হয়নি তাদের রাজার জন্যে বিশ্ব বাজারে মার্কেটিং চলছে। শাটল ডিপ্লোম্যাসির অংশ হিসাবে কথিত শান্তির মডেল ইতিমধ্যে তুলে দেয়া হয়েছে বিশ্বের অনেক রাজা বাদশাদের দরবারে। অবশ্য এবার আর খান আলমগীর নন, এ কাজে নিয়োগ করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুন শক্তি। জাহাঙ্গীর কবির নানক আর মির্জা আযম (প্রাক্তন গোলাম আযম) নামক দুই কোতোয়ালের সৌভাগ্য হয়েছিল হীরক রাজ্যে শান্তির মডেল বাস্তবায়নের চাক্ষুস স্বাক্ষী হতে। বিডিআর নামক সরকারী প্রতিষ্ঠানে চলছে অশান্তি। এই প্রতিষ্ঠানের ৩০৩ রাইফেলধারী সিপাইরা তাদের বসদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হুমকি দিচ্ছে দাবি আদায়ের। বিদ্রোহীদের নেতা ডিডি তৌহিদকে তলব করা হয় হীরক রাজ্যের মগজ ধোলাই কেন্দ্রে। রক্তের সমুদ্র এড়ানোর লক্ষ্যেই নাকি এই নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিডিআর প্রধান বানানোর ঘোষনা দেয়া হয় রাজ্য দপ্তর হতে। দেড় শতাধিক অফিসার ও তাদের পরিবারের অনেককে কচুকাটা করে ভাসিয়ে দেয়া হয় মলমূত্রের পাইপ লাইনে। এবার রক্তের মহাসমুদ্র এড়ানোর লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের খুন পর্ব সমাধা পূর্বক পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এমনটাই নাকি হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল। মির্জা আযম ও নানক গং খুব কাছ হতে অবলোকন করতে সক্ষম হয়েছিলেন মডেলের বাস্তবায়ন। কোতয়ালদ্বয় মডেলের এই অভাবিত সাফল্যে হতবাক হয়ে হীরক রাজার পদতলে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে দেয় ‘শান্তিকন্যা’ উপাধি। হয়ত ক্ষুদ্র উপাধির উপলদ্ধি হতেই জন্ম নিয়েছিল বৃহত্তর বিশ্ব প্রকল্পের।

’সফল’ এই মডেলকে বাংলাদেশের মত ক্ষুদ্র পরিসরে সীমিত রাখা এক অর্থে অন্যায়, পাপ। তাই নানক-আযম গং শেখ মনির মুজিববাদের কায়দায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল পূর্ব ইউরোপের চরিত্রহীন দেশগুলোতে নয়, হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল ইতিমধ্যে তুলে দেয়া হয়েছে জার্মানীর মত উন্নত দেশের হাতে। দুদিন আগে এ মডেল হস্তগত হয়েছে এক কালের পরাশক্তি রুশ সরকারের হাতে। স্থানীয় মিডিয়ার মতে জার্মানি ও রাশিয়া সহ আরও অনেক দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে স্ব স্ব দেশে এই মডেল বাস্তবায়নের। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মডেল নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ব শান্তিতে তা কিভাবে প্রয়োগ করা যার তার কৌশল নির্ধারণ করবে এবারের অধিবেশন। অসলোর নোবেল কমিটি চাইলেও এ যাত্রায় বাইন মাছের মত পিছলাতে পারবে বলে মনে হয়না। হীরক রাজ্যের অধিপতিকে যেদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হবে রাজ্যের টেকনাফ হতে তেতুলিয়া পর্যন্ত হাতি নাচবে, ঘোড়া নাচবে, বান্দর গান গাইবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মডেলের বিশ্লেষণ করতে হীরক রাজাকে আমন্ত্রন জানানো হবে। রাজা শত শত পাইক বরকন্দাজ নিয়ে সফরে যাবেন এবং স্বদেশে গণশৌচাগার পর্যন্ত নিজ পিতার নামে নামকরণের স্বার্থকতা বিশ্লেষণ করবেন।

জাতি হিসাবে আমাদের দৈন্যতা, ব্যর্থতা, চটুলতা আর মানসিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে বিশ্ব সমাজ খুব যে একটা উদ্বিগ্ন এমনটা ভাবার কারণ নেই। পৃথিবীর প্রতিটা জাতিরই নিজস্ব কিছু সমস্যা থাকে, যার চৌহদ্দিতেই বেড়ে উঠে সে জাতি। কিন্তু এই বিকলাঙ্গতা যদি ঘর হতে বের করে আর্ন্তজাতিকায়নের চেষ্টা করা হয় সময় আসবে যখন এ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করবে বিশ্ব সম্প্রদায়। হয়ত উপহাস করবে, বিদ্রুপ করবে। দেশ শাসনে শেখ হাসিনার শান্তির মডেল, এ ধরণের একটা সস্তা ধাপ্পাবাজি কেবল নাইজেরিয়ান স্ক্যামের সাথেই তুলনা করা চলে। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে এ ধরণের অনৈতিক কাজের উদাহরণ দ্বিতীয় একটা পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না।

একজন ব্লগারের সাম্প্রতিক লেখা হতে জেনেছি হংকংয়ে একটা যাদুঘর আছে যেখানে প্রদর্শিত হয় দেশটার দুর্নীতির অতীত ইতিহাস। কোন এক সহস্রাব্দে বাংলাদেশও যদি সক্ষম হয় তার অপশাসন, কুশাসন, দুর্নীতি আর ব্যক্তিপুজার কলংকিত অধ্যায় হতে বেরিয়ে আসতে সেদিন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার জন্যে হলেও প্রয়োজন হবে নতুন একটা জাদুঘরের, যেখানে কালো অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে হাসিনা, খালেদা, এরশাদ, নিজামী আর আমিনী নামের রাষ্ট্রীয় ভন্ডদের ভণ্ডামির কলংকিত ইতিহাস।

 

Comments

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন নারী

নোবেল পুরস্কার নিয়ে যত জল্পনা সব শান্তির পুরস্কারকে ঘিরেই। জোর গুঞ্জন ছিল এ বছর আরব গণজাগরণের কিছু নেপথ্য নায়ক আর অগ্রসৈনিক পাচ্ছেন মর্যাদাবান এ পুরস্কার। এবারের মতো সব জল্পনা শেষ। আরব গণজাগরণের এক নেত্রীসহ এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তিন মহীয়সী নারী। শান্তির যোদ্ধা এই তিন সৌভাগ্যবান নারীর মধ্যে দু'জন আফ্রিকার দরিদ্র দেশ লাইবেরিয়ার, অপরজন অনগ্রসর অর্থনীতির আরব দেশ ইয়েমেনের। তারা হচ্ছেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন সিরলিফ, তার স্বদেশি নারীনেত্রী লেমাহ গবোই এবং ইয়েমেনের আরব জাগরণ নেত্রী তাওয়াক্কুল কারমান। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এ তিনজনের নাম ঘোষণা করে নরওয়ের নোবেল কমিটির সভাপতি থরবজোয়ের্ন জ্যাগল্যান্ড বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও নারী অধিকারের অহিংস সংগ্রামে অবদানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে পুরোপুরি শামিল হওয়ার জন্য তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজের সব পর্যায়ের উন্নয়নকে প্রভাবিত করতে নারীরা পুরুষদের সমান অধিকার অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্র এবং স্থায়ী শান্তি অর্জন করতে পারব না।

২০০৫ সালেই ইতিহাস :আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশে প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সালেই ইতিহাস গড়েন ইলেন জনসন সিরলিফ (৭২)। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে লাইবেরিয়ার হাল ধরেন এ 'লৌহমানবী'। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছিল আড়াই লক্ষাধিক মানুষ। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন দেশটির অর্থনীতি ছিল পঙ্গু। বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, অবকাঠামো কিছুই ছিল না। মাত্র ৪ দিন পর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন সিরলিফ। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার সমালোচনা করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী উইনস্টন টুবম্যান। বার্তা সংস্থা এএফপিকে টেলিফোনে তিনি বলেন, ভোটের আগে নোবেল পুরস্কার প্রদান 'অগ্রহণযোগ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত।' উইনস্টনের মতে, ম্যাডাম সিরলিফ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত নন। কারণ তিনি নিজ দেশে সহিংসতা ছড়িয়েছেন। তবে নোবেল কমিটি ইলেন জনসন সিরলিফের প্রশংসা করে বলেছে, লাইবেরিয়ার শান্তি প্রতিষ্ঠা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মহিলাদের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট সিরলিফ এ পুরস্কারকে নিজ দেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছেন। এএফপিকে টেলিফোনে তিনি বলেন, এটা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দীর্ঘ বছরের লড়াইয়েরই স্বীকৃতি। এই পুরস্কার লাইবেরিয়ার নারী সমাজেরও বটে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীর সহায়তার জন্যই তিনি আজ এর স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সহযোদ্ধা লেমেহ
যার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া ইলেন জনসন সিরলিফ হয়ত লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠাও হয়ত যার প্রচেষ্টা ছাড়া সিরলিফের পক্ষে অসম্ভব হতো সেই সহযোদ্ধা লেমেহ গবোইকেও একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছে নরওয়ের নোবেল কমিটি। ভয়ঙ্কর যুদ্ধবাজ নেতাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নারী অধিকারের ঝান্ডা নিয়ে এগিয়ে যেতে নারী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ৩৯ বছরের এই নারীনেত্রী। পুরুষদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন শান্তির পক্ষে। ২০০২ সালে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সময় মুসলিম-খ্রিস্টান নারীদের নিয়ে একটি বিশাল সংগঠন গড়ে তুলে যুদ্ধ বন্ধ করতে 'যৌথ ধর্মঘট' পালনে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। তার প্রশংসা করে নোবেল কমিটি বলেছে, লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধের অবসানে জাত-পাত আর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী সমাজকে তিনি সংগঠিত করেন। নারীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকারও আদায় করেন তিনি। ২০০৩ সালে লেমেহ গবোইর নেতৃত্বে তার সংগঠনের নেত্রীরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চার্লস টেলরকে বৈঠকে বসতে বাধ্য করেন। এ সময় তারা ঘানায় শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে টেলরের প্রতিশ্রুতিও আদায় করেন। এরপর নির্বাচনের সময় তিনি নারী সমাজকে সিরলিফের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেন। তার প্রচেষ্টায় আফ্রিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হন সিরলিফ। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করে লেমেহ গবোই এ পুরস্কারকে সারা বিশ্বের বিশেষ করে আফ্রিকার নারী সমাজের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

আরব গণজাগরণের রূপকার
ইয়েমেনের ৩২ বছরের টগবগে তরুণী সাংবাদিক তাওয়াক্কুল কারমান। নারী অধিকার আন্দোলনেও তার রয়েছে অনন্য অবদান। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দেশে রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতেও সোচ্চার এ সাহসী আরব নারী। আরব নারীদের মধ্যে প্রথম নোবেল জয়ী তাওয়াক্কুল কারমানের প্রশংসা করে নোবেল কমিটি বলেছে, আরব গণজাগরণের আগে ও পরে ইয়েমেনে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার নেতৃত্ব অবিস্মরণীয়। পুরস্কার পাওয়ার খবরে আল অ্যারাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাওয়াক্কুল এ পুরস্কারকে আরব গণজাগরণের সব কর্মীর জন্য উৎসর্গ করেছেন। এ বিজয়কে তিনি অভিহিত করেন ইয়েমেন বিপ্লবের বিজয় হিসেবে।
বছরের গোড়ার দিকে তিউনিশিয়ায় শুরু, মিসরেও শান্তিপূর্ণ সফলতা। তারপর জর্দান, সৌদি আরব, মরক্কো, বাহরাইন, ওমান, ইয়েমেন, সিরিয়া ও লিবিয়ায় আছড়ে পড়ল যার উত্তাল ঢেউ। সেই আরব গণজাগরণ এখনও চলমান। অর্ধলক্ষাধিক লোক নিহত হওয়ার পরও শান্তি নেই লিবিয়ায়। সিরিয়ায় চলছে পাইকারি নিধনযজ্ঞ। রক্তাক্ত তাওয়াক্কুলের দেশ ইয়েমেনও। অজ্ঞাত স্থান থেকে ছোড়া রকেট হামলায় নিজ প্রাসাদে গুরুতর আহত হন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ। কয়েক মাস সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। এখনও ক্ষমতার হাল ছাড়ছেন না। গণআন্দোলনের এক পর্যায়ে রাজধানী সানার চেঞ্জ স্কয়ার চার মাস আঁকড়ে ছিলেন তিন সন্তানের জননী তাওয়াক্কুল কারমান। আশঙ্কা ছিল সেখান থেকে সরলেই প্রেসিডেন্ট সালেহর গুন্ডারা তাকে হত্যা করবে। ২০০৫ সালে তাওয়াক্কুল গড়ে তোলেন 'ওমেন জার্নালিস্টস উইদাউট চেইঞ্জ' নামের একটি সংগঠন। প্রেসিডেন্ট সালেহবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা তিনি। সালেহকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদে তার নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এখনও থামেনি। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গতকাল তার নোবেল প্রাপ্তির খবরটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

একসঙ্গে তিন নারীর একই বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিরল ঘটনাটি ঘটল এবারই। নোবেল কমিটির এ পছন্দের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টলটেনবার্গও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি এটাকে দেখছি সারা বিশ্বের নারী অধিকার আন্দোলনে জড়িত সকল নারীর অবদানের প্রতি একটা স্বীকৃতি হিসেবেই। পুরস্কার হিসেবে এই তিন মহীয়ষী নারী পাবেন একটি ডিপ্লোমা সনদ ও একটি স্বর্ণপদক। পুরস্কারের নগদ এক কোটি সুইডিশ ক্রোনের (১৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) সমানভাবে ভাগ করে নেবেন তারা। নোবেল পুরস্কারের জনক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন চীনের ভিন্নমতাবলম্বী নেতা লিউ জিয়াও বো, ২০০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

নারী অধিকার আন্দোলনের বিজয়
নারী নেত্রীকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার ব্যাপারে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এটা নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। অন্য মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এ সিদ্ধান্ত নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র আর স্থায়ী শান্তি যে অর্জিত হতে পারে না, তারই একটা স্বীকৃতি। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এটাকে তাক লাগানো খবর হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ পুরস্কারের জন্য এরচেয়ে আর কোনো ভালো পছন্দ হতে পারে না। এটা নারী নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রতি একটা স্বীকৃতি। আরব গণজাগরণে মিসর অভ্যুত্থানের অন্যতম পুরোধা ওয়ায়েল গনিম নোবেলপ্রাপ্তির জন্য তাওয়াক্কুল কারমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একজন আরব হিসেবে তিনি গর্ববোধ করছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের আসল পুরস্কার হচ্ছে আমাদের দেশগুলোতে আরও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু বলেন, লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন সিরলিফ তার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকবার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে পরিচিত জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল এ তিন নারীকে নোবেল পুরস্কার প্রদানকে শুভ সংকেত উল্লেখ করে বলেন, তাদের এ অর্জন আরও অনেক নারী-পুরুষকে গণতন্ত্র, মুক্তি ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করবে।
http://www.shamokal.com/

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দুই পুত্র মনি রনির নিয়ন্ত্রণে পটুয়াখালী

আকতার ফারুক শাহিন/ জাফর খান, পটুয়াখালী থেকে

জিএম দুলাল, পটুয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ধোঁয়া উঠা চা’র আড্ডায় তার কাছে পটুয়াখালীর উন্নয়নে বর্তমান এমপি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া এখন পর্যন্ত কি কি করেছেন জানতে চাইলে উল্টো তিনি বলেন, ‘জনগণ তথা এলাকার কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা ভালো বলতে পারব না, তবে মন্ত্রী তার স্ত্রী এবং পরিবারের ভাগ্য যে বদলেছে সেটা সবাই জানে। আও কেবল জানা কেন, চোখেও তো দেখছি। রাতারাতি রাজপথ থেকে রাজপ্রাসাদ। মন্ত্রী পদে থাকলে যে এত দ্রুত বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া যায় তা শাহজাহান সাহেবকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’ কেবল বিত্তবৈভবই নয়, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, দখল, ছিনতাইসহ আরও নানা অভিযোগের ছড়াছড়ি এখন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে। আর এক্ষেত্রে অভিযোগের অঙ্গুলি তার দুই পুত্র অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান মনি এবং হঠাৎ ইতালি থেকে ফিরে এসে জেঁকে বসা ছোট ছেলে আরিফুজ্জামান রনির দিকে। অনেকেই বলেন, দুই পুত্রের নানা অপকর্মের কারণেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের সুনামসহ সবকিছু খোয়াতে বসেছেন মন্ত্রী। আবার এক্ষেত্রে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। পটুয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি আহসান বলেন, ‘পিতার ক্ষমতাই পুত্রদের শক্তি। মন্ত্রীর সমর্থন না থাকলে তার পুত্ররা এভাবে এসব করতে পারত না। অন্যায় পথে অর্জিত বিত্তবৈভব এবং সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজির এসব অভিযোগ অবশ্য স্বীকার করেনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরিবার। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। তবে এসব কিছুই ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তার পুত্র অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান মনি। আগামী নির্বাচনের মনোনয়ন আর জেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে অপপ্রচারের এসব ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ত্যাগী এবং পরীক্ষিত হিসেবে পরিচিত ছিলেন শাহজাহান মিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পটুয়াখালী পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। তাকে নিয়ে কখনও কোন প্রশ্নও ওঠেনি। ওয়ান-ইলেভেনকালীন সংস্কারপন্থী আর মূলধারা প্রশ্নে সারাদেশে যখন বিভক্ত আওয়ামী লীগ, ঠিক তখনও মুজিব পরিবারের প্রতি আনুগত্যে অবিচল ছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। এমপি নির্বাচিত এবং প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর বেমালুম বদলে যান তিনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে হয়ে যান ভিন্ন মানুষ। আর সেই সঙ্গে তার পরিবারের বিরুদ্ধে উঠতে শুরু করে একের পর এক সন্ত্রাস, দখল, টেন্ডারবাজির অভিযোগ। মৃধা বংশের (ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বংশ পদবি) নামে যেন আতংকের জনপদে পরিণত হয় পটুয়াখালী। কেবল আর্থিক লাভের সেক্টরগুলোই নয়, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এবং পরিবহন সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যন্ত ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে প্রতিমন্ত্রীর ভাইদের বিরুদ্ধে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যে পটুয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিকাপুর এলাকায় গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি ও তার পরিবারকে উৎখাত করে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে নেয় মন্ত্রী পরিবার। ক্রয়সূত্রে মালিক গোলাম মোস্তফা প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করছিল। জমির আরেক অংশীদার আঃ হাইকেও বাধ্য করা হয় মন্ত্রী পরিবারের নামে জমি লিখে দিতে। বর্তমানে সেখানে কবলাকৃত জমি থেকে উৎখাতের চেষ্টা চলছে লায়েক নামে এক দরিদ্র দোকানিকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রীপুত্র অ্যাডভোকেট মনি বলেন, ‘ওটি ছিল ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি। মোতাওয়াল্লি ছিলেন তার চাচাতো ভাই। আদালতের রায়ে মালিকানা পাওয়ার পর পৌরসভা জমি বুঝিয়ে দেয়। লায়েককে আমাদের জমিতে থাকতে দেয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে সে মিথ্যা মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে তা বিচারাধীন রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রীর দুই চাচাতো ভাই রিয়াজ মৃধা এবং কালাম মৃধার বিরুদ্ধে রয়েছে সড়ক পরিবহন সেক্টর দখলের অভিযোগ। জোর করে এদের একজন বাস মালিক সমিতির এবং অন্যজন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছেন। টার্মিনাল এলাকা তথা পুরো পটুয়াখালীর পরিবহন সেক্টরে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এই দু’জনের বিরুদ্ধে। কিছু দিন আগে এক পরিবহন শ্রমিককে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। গুঞ্জন আছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল রিয়াজ এবং কামাল মৃধা। এছাড়া গত আড়াই বছরে শহরে সংঘটিত ৩টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী গ্র“পের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ছোট ছেলে আরিফুজ্জামান রনির বিরুদ্ধেও আছে সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ। শহরে ‘যুবরাজ’ নামে পরিচিত রনির রয়েছে একটি নিজস্ব বাহিনী। প্রায়ই এই বাহিনীর ক্যাডাররা মোটরসাইকেলবহর নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় শহর। যাকে-তাকে মারধর, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজি করে তারা। বিগত পৌর নির্বাচনের আগে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা ডা. শফিকুজ্জামানের ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এই বাহিনী। মারধর, হামলা, ভাংচুর করা হয় ডা. শফিকের সমর্থকদের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময় পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন মন্ত্রীর মেজপুত্র অ্যাডভোকেট মনি। এই মনোনয়ন নিয়েই বিরোধ চলছিল ডা. শফিকের সঙ্গে। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মনি।
জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর মেজ ছেলে অ্যাডভোকেট মনি দৈনিক পটুয়াখালী বার্তা নামে একটি পত্রিকাও বের করেছেন। বাবা অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া মন্ত্রী হওয়ার পর হঠাৎ ইতালি থেকে ফিরে আসেন ছোট ছেলে রনি। কয়েকশ’ মোটরসাইকেল আর গাড়িবহর নিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। শুরুর দিকে তার এই ফিরে আসা নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। ফেরার কারণ জানতে উš§ুখ ছিলেন সবাই। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে স্পষ্ট হয় সব। পটুয়াখালীর সব উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন মনি। এই নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কাছে সরাসরি নালিশ পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু তার দিক থেকে কোনরকম সমাধান আসেনি। ফলে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন সবাই। সেই সঙ্গে চলতে থাকে তার টেন্ডারবাজি। একাধিক ঠিকাদার এবং বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, কেবল রনিই নয় অ্যাডভোকেট মনিও শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন টেন্ডার। তবে তিনি সামনে না এসে পেছনে থেকে চালেন ঘুঁটি। আর নামে-বেনামে টেন্ডার আনা এবং কাজসহ পার্সেন্টিজ আদায়ে তাদের সহযোগিতা করে শহরের ৪-৫ জন ঠিকাদার। প্রায় সব দফতর নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে এদের নির্দেশে। গত আড়াই বছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ৮শ’ টিউবওয়েল বসানোর কাজ সমঝোতার মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মনি। এছাড়া দু’ভাই মিলে এলজিইডি বিভাগের কাজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ৩৫ কোটি, গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ৩৪০ কোটি এবং অন্য বিভাগ থেকে আরও প্রায় ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই বিভাগের বার্ষিক মেরামত সংক্রান্ত সব কাজের এস্টিমেট থাকে যুবরাজের (রনি) কাছে। শতকরা ৬ ভাগ হারে তাকে উৎকোচ দিয়ে নিতে হয় কাজের টোকেন।’ এলজিইডি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষমতার শুরু থেকেই টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের নামে এলজিইডির বারোটা বাজিয়েছেন রনি এবং মনি। কাজ না করে বিল নেয়া, সব টেন্ডারের ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছেমতো ঠিকাদারকে কাজ দিতে বাধ্য করা, কাজের মান চরম খারাপ হলেও সে ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া, মোট কথা পুরো এলজিইডিকেই তারা বানিয়ে রেখেছেন তাদের গোয়ালঘর। আর এক্ষেত্রে দুই মন্ত্রীপুত্রকে সহায়তা করেন এখানকার এলজিইডি’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সালাম। বিনিময়ে তিনিও কামিয়ে নেন শত কোটি টাকা। এক পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে দাতা সংস্থার। গোপন অনুসন্ধানে ধরা পড়ে দুর্নীতি। তাৎক্ষণিক অভিযোগে বদলি করা হয় সালামকে। তার পরিবর্তে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে আসেন মোঃ বাসেদ। যোগদানের পরপরই তার কাছে ধরা পড়ে দুর্নীতি, কাজ না করে বিল নেয়ার তথ্য। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গেলে তাকে বাধা দেন রনি। চাপ দেন তার ইচ্ছেমতো কাজ করতে। রাজি না হওয়ায় ২৫ মে অফিসকক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী বাসেদকে বেদম মারধর করে রনি ও তার বাহিনী। এ ব্যাপারে থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে মন্ত্রীপুত্র রনির নাম উল্লেখ করেন বাসেদ।’
এসবের বাইরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি, সড়ক ও জনপথ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর এবং লঞ্চঘাট ইজারা মিলিয়ে আরও প্রায় ৭০ কোটি টাকা সমঝোতার মাধ্যমে কামাইয়ের অভিযোগ রয়েছে মনি-রনির বিরুদ্ধে। পটুয়াখালী পৌরসভার এক কাউন্সিলর বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার আগে যিনি ঠিকমতো চলতে পর্যন্ত পারতেন না, তার ছেলেরা কি করে মাত্র আড়াই বছরে ৩টি ফ্ল্যাট, ১৮টি বাস এবং অর্ধশত অটোর মালিক হয়?’ পটুয়াখালী শহরের একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘মন্ত্রী পরিবারের এসব সন্ত্রাস-দুর্নীতি নিয়ে শহরে বহুবার নামে-বেনামে লিফলেট বেরিয়েছে। পত্র-পত্রিকায় খবর ছাপা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। সবচেয়ে বড় দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, এক সময়ে সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া এখন অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন। দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের প্রায় কেউই এখন আর তার চারপাশে নেই। তাদের জায়গা দখল করে থাকে সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদার।’
জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সুলতান আহম্মেদ মৃধা বলেন, ‘শাহজাহান এবং তার পরিবারের আগের ও বর্তমান অবস্থার তুলনা করলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে তেমনি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফিরিয়ে নিচ্ছে মুখ। তার স্ত্রী একসময় ছিলেন বিএনপি নেত্রী। আর তিনি এখন দলের লোকজন বাদ দিয়ে সুবিধা দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতকে। এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার।’ সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি এবং দুর্নীতির এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রীপুত্র এবং পটুয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মনি বলেন, ‘আমার মা’ আজীবন আওয়ামী লীগ করেছেন। নিজেদের যোগ্যতায় বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হয়েছেন রিয়াজ ও কালাম মৃধা। টেন্ডারবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগ সব মিথ্যা। যদি এসবের একটি প্রমাণও কেউ দিতে পারে তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। মাথা পেতে নেব যে কোন শাস্তি। আমাদের পরিবারের কোন অবৈধ সম্পত্তি নেই। প্রয়োজনে তদন্ত করে দেখুন। সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়া শাকিল ছিল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা সবাই ছাত্রদল, যুবদলের কর্মী। এখন এই হত্যার জন্যও যদি আমাদের ওপর দায় চাপানোর অপপ্রচার হয় তাহলে কি করার আছে বলুন? মূলত আমার বাবার কাছ থেকে মনোনয়ন ছিনতাই এবং আমাকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরানোর লক্ষ্যেই এসব অপপ্রচার চলছে। তাছাড়া একটি গ্র“প জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি দখল করতে চায়। এসবই তাদের ষড়যন্ত্র। বিগত পৌর নির্বাচন থেকে এ ষড়যন্ত্রের শুরু। আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। প্রয়োজনে দুদক এমনকি সরকারের যে কোন সংস্থা তদন্ত করুক, আমাদের কোন আপত্তি নেই।’

http://jugantor.us/enews/issue/2011/10/05/news0847.htm

‘রাজনীতি বিপাকে’

সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০১১
স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, দেশের রাজনীতি বিপাকে পড়েছে। আর এ বিপাকের মূল কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণ, স্থানীয় শাসন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ’ এবং ‘দিনবদল, গণতান্ত্রিক শাসন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বই দুটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘সংসদে সংসদ সদস্যদের নিজস্ব কোন সত্তা নেই। পার্টির সত্তা নেই। পার্টির সত্তা মানে পার্টি প্রধানের সত্তা। দেশে কার্যত রাজতন্ত্র চলছে। দুই রাজার মারামারিতে সমস্ত দেশ লণ্ডভণ্ড। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে আসছেন। এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হতে পারে না। তারা ব্যবসা করতেই আসছেন।’ তিনি বলেন, ‘সব রাজনীতিবিদ খারাপ বিশ্বাস করি না। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে মানুষ খারাপ হয়ে যায়।’ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘এরশাদের স্বৈরাচার পতনের পর অনেক কঠিন স্বৈরতন্ত্র এসেছে। এখন দুটি স্বৈরতন্ত্র আছে। নির্বাচনের মাধ্যমেই আসে। নির্বাচনে এলেও স্বৈরতন্ত্রের খাসলত এখনও রয়ে গেছে, তা হলো সব ক্ষমতা আমার চাই। বিরোধীদের পার্লামেন্ট, রাজপথ এমনকি বাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়।’ অনুষ্ঠানে কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘দীর্ঘকাল আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।’ সে সংগ্রামের ক্ষেত্রে বদিউল আলম মজুমদারের বই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এসএম শাহজাহান বলেন, এক দিনের গণতন্ত্র থেকে ইজারাতন্ত্র হচ্ছে পাঁচ বছরের।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=21064...

এমপি অধ্যক্ষ মতিউরের সপরিবারে দখলবাজি

এলাকাবাসী বলছে, এমপি ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যের অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার রহস্য হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি, দখল-চাঁদাবাজি এবং টিআর, কাবিখা ও কাবিটার অর্থ লুট শফিকুল ইসলাম জুয়েল, ময়মনসিংহ থেকে ফিরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছিলেন, তাঁর একটি গরুর খামার আছে। এটিই তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস, পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। ওই সাক্ষাৎকারে নিজেকে সৎ দাবি করে মতিউর রহমান বলেন, তিনি রিকশা-ভ্যানে চলাফেরায় অভ্যস্ত_এমপি নির্বাচিত হতে পারলে জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন। আর আওয়ামী লীগের এমপি হওয়ার পর আড়াই বছরে তিনি এখন বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক। এক কোটি ২২ লাখ টাকায় কিনেছেন একটি প্রাডো, ৩০ লাখ টাকায় একটি ভঙ্ িওয়াগন গাড়ি। বাড়ির প্রতিটি ঘরে লাগিয়েছেন এসি। ঘরে তুলেছেন এলসিডি টিভিসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক আসবাবপত্র।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে মতিউর রহমানের ভাই ও আফাজ উদ্দিনের সম্পদের বিবরণ জানতে চাওয়া হয়। আফাজ তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খোকনের মাধ্যমে দেওয়া হিসাবে বলেন, তাঁর দোচালা টিনের ছোট একটি বাড়ি, ১২টি মুরগি, আটটি হাঁস, ছয়টি ছাগল আছে। নগদ অর্থ নেই। ভাই এমপি হওয়ার পর আফাজ নামে-বেনামে কিনছেন লাখ লাখ টাকার জমি। ঢাকার উত্তরায় প্রায় ৮০ লাখ টাকায় কিনেছেন অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। তিনি প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার না করলেও প্রায় সময় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে চলাচল করেন।

একইভাবে এমপির ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর ছেলে মুহিতউর রহমান শান্ত এবং পিএস সাঈদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাঁরা ভোট দিয়ে মতিউর রহমানকে সংসদে পাঠিয়েছেন, অভিযোগ তুলছেন তাঁরাও। এলাকাবাসী বলছেন এমপি ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যের এই অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার রহস্য হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি, দখল-চাঁদাবাজি এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির অর্থ লুট।

কাজ না করেই অর্থ পকেটে : গত সপ্তাহে টানা চার দিন ময়মনসিংহ সদর এলাকায় অনুসন্ধান করে ক্ষমতাসীন দলের এমপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়। এলাকাবাসী বলছে, এমপি, তাঁর ছেলে শান্ত ও ভাই আকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন ক্ষমতার ত্রিমুখী অপব্যবহার করছেন। তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। রাস্তা ও ভবন নির্মাণের অধিকাংশ কাজই বাজার দরের দ্বিগুণেরও বেশি মূল্যে হাতিয়েছেন এবং কাজ না করেই অর্থ তুলে আত্মসাৎ করেছেন এমপির ভাই আফাজ উদ্দিন।

'দাপুনিয়া-বাড়েরারপাড় কাঁচা-পাকা রাস্তাটিতে গত আড়াই বছরে এক কোদাল মাটিও পড়েনি। মেরামত হয়নি ভেঙে পড়া ব্রিজগুলো। ফলে রাস্তায় এখন উঁচু-নিচু গর্ত, কোথাও কোথাও হাঁটুপানি আর পিচ্ছিল কাদার ছড়াছড়ি। ফলে গাড়ি দূরের কথা, রিকশা-ভ্যানে চলাচল করা দায়। রাস্তাটির কারণে বাড়েরারপাড় গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ হাসপাতাল, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সদরে যেতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়।' কালের কণ্ঠকে বলছিলেন দাপুনিয়া-বাড়েরারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সাবেক ডেপুটি প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কবীর আহমেদ। পরে খোঁজ নিয়ে ও এলজিইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দাপুনিয়ার এ রাস্তাটি সংস্কারের লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এলজিইডি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মইঅ্যান্ডএমইকে। নির্দেশনা ছিল, ২০০৯ সালে ৯ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২০১০ সালে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ১৫ শতাংশ কাজ করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছে। জানা যায়, ঠিকাদারি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন। তবে মতিনের ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নিয়েছিলেন এমপির ভাই আফাজ উদ্দিন।
ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও পরপর তিন বছর জেলার সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পাওয়া ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'সরকার ক্ষমতা নেওয়ার প্রথম দিকে কিছু দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও কাজ পায়নি আমার প্রতিষ্ঠান। প্রতিবাদ করায় এমপির ভাই ও ছেলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মামলা করতে পারিনি, এমনকি জিডিও নেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে ময়মনসিংহের কাজে অংশ নেওয়া ছেড়ে এখন কিশোরগঞ্জ-জামালপুরে প্রতিযোগিতায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ করছি।'
গত ২৩ আগস্টের এলজিইডির কাজের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস প্রাইম ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এইড আজামতপুর পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের কাজ পায়। কাজটি ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ করেই ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারিরা উজানপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের কাজ সমপরিমাণ অর্থে ও একই সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা ছিল, কাজ না করেই পুরো টাকা তোলা হয়। একই প্রতিষ্ঠান আকুয়া ফিরোজ লাইব্রেরি মোড় থেকে মাসকান্দা পাড়াইল রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৮ টাকা তুলে নিলেও কাজ করেছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। এ কাজটি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু করে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শেষ করার নির্দেশনা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি আকুয়া নাজির ব্যাপারীর রাস্তার কাজ পেলেও মাত্র ৩৫ শতাংশ শেষ করেই ৩১ লাখ ৯২ হাজার ২৩৩ টাকা তুলে নিয়েছে। এ কাজটি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু করে গত বছরের ৮ আগস্ট শেষ করার নির্দেশনা ছিল। এসব কাজ এমপির ভাগ্নে বুলবুলের প্রতিষ্ঠানের নামে হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এমপির ভাই আফাজ উদ্দিন।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনের মালিকানাধীন এমইঅ্যান্ডএমই প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলাধীন দাপুনিয়া বাড়েরারপাড় রাস্তা উন্নয়নের জন্য ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৫ টাকা তুলে নিলেও কাজ করেছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এ কাজটি ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর শুরু করে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর শেষ করার নির্দেশনা ছিল। একই প্রতিষ্ঠান চোরখাই ভাবখালী পুরাতন বাজার হয়ে ভাবখালী ইউপি সড়ক মেরামতের কাজ নিয়ে মাত্র ৬০ শতাংশ শেষ করেই পুরো বিলের ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিও নিয়ন্ত্রণ করেন আফাজ উদ্দিন।

আফাজ উদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সব্যসাচী এন্টারপ্রাইজ এলজিইডির আওতাধীন আইআরআইডিপি প্রজেক্টে ফুলবাড়িয়া রোড থেকে খলপা (আর্মি বাইপাস) পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের জন্য কাজ পেয়ে মাত্র ৪০ শতাংশ শেষ করেই ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ২১৭ টাকা তুলে নিয়েছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর দেওয়া কাজটি চলতি বছরের ২০ জুলাই শেষ করার নির্দেশনা ছিল। একই প্রতিষ্ঠান একই সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা নিয়ে মোড়লপাড়া থেকে চারপাড়া সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। কিন্তু মাত্র ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ করেই পুরো বিলের ২৪ লাখ ২৫৭ টাকা তুলে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এলজিইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব প্রকল্পের কাজ বাকি না থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সরকারি জমি দখল : ১ দশমিক ১৫ একর খাসজমির দখল নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমী (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এই নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমপি নিজের নামেই প্রতিষ্ঠানটি করেছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধিত) আইন, ২০১০ লঙ্ঘন করে জলাশয় ভরাটের পর ভবন নির্মাণ করা হয়। এরই মধ্যে জমি বরাদ্দ নেওয়ার প্রায় সাড়ে তিন মাস পার হলেও মূল্য বাবদ ১২ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার চার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি এমপি। অথচ এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে স্কুল-কলেজ। ২০০৬ সালে এই জমি শহীদ জিয়াউর রহমান টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের নামে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. তৌফিকুল আজিম ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় বরাদ্দ নেন। সেই জমি এখন বর্তমান এমপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসহ বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে নিজের নামের প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ নেন।

আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ১৫ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত বাড়িটিতে ১৯৬৯ সাল থেকেই বসবাস করে আসছেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অথচ ২০০২ সালের ৩০ জুন তিনি কলেজ থেকে অবসর নেন এবং শহরে এমপির নিজস্ব বাড়িও আছে। এদিকে কলেজ ক্যাম্পাসের বাড়ি বরাদ্দ না পেয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ এ কে এম আজহারুল ইসলাম এখন থাকেন অন্য স্থানে। এমপি মতিউর রহমান ও স্ত্রী নুরুন্নাহার শেফালীর নামে আকুয়া মৌজায় ৬৫ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে পানির দরে কিনে টিনের বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছে। এখন খারিজের চেষ্টা চলছে। কিন্তু অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি নামে খারিজ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা। ফলে বিষয়টি ঝুলে আছে। দাপুনিয়া জেলা পরিষদের মালিকানাধীন প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের তিন একর খাসজমি (দাপুনিয়া বাজারসংলগ্ন ফুলবাড়িয়া সড়কঘেঁষা) দখল করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে দখলে রেখেছেন এমপির ছোট ভাই আফাজ উদ্দিন।

এমপিপুত্র শান্ত নির্বাচনের আগে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এখন চলেন রাজকীয় ভঙ্গিতে। জানা যায়, ডেঙ্গু ব্যাপারী রোডের প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৭ শতাংশ অর্পিত সম্পতি দখলে নিয়ে নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন এমপিপুত্র শান্ত। রামকৃষ্ণ মিশন রোডে জাতীয় পার্টির নেতা এম এ হান্নানের মালিকানাধীন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৮ শতাংশ জমি বিজ্ঞান কলেজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করে নিয়েছেন শান্ত।

ময়মনসিংহ পৌরসভার কয়লাওয়ালাপাড়ার মোড়ে বাদল ভৌমিকের মালিকানাধীন প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতাংশ জমি দখলে নিয়েছেন এমপিপুত্র। ময়মনসিংহ সদরের ছোট বাজারের ৬৩ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তিও দখল করেছেন শান্ত। ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে শান্তর নামে রেজিস্ট্রি করা এ জমির দলিলে দুই কোটি টাকার সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা। এটি জেলা প্রশাসন এক বছর ধরে তদন্ত করে যাচ্ছে। গত বছরে বাসাবাড়ি এলাকায় হকার্স মার্কেটের ১৫ শতাংশ জমি দখল করে ১২টি ঘর নির্মাণের পর দোকান হিসেবে প্রতিটি পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করেন এমপিপুত্র শান্ত। পরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে সেসব দোকান ভেঙে দেওয়া হয়; যদিও দোকানের মালিকদের কেউই এখনো টাকা ফেরত পাননি, যাঁদের অনেকেই এখন নিঃস্ব।
অভিযোগ উঠেছে, শান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেও জমির দখল নিয়েছেন। এমপির আকুয়া এলাকার বাড়ি যাওয়ার পথে জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৫ শতাংশ জমি দখল করে তিনটি বড় ঘর নির্মাণসহ 'প্রতিশ্রুতি ক্রীড়াচক্র' ক্লাবের সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন তিনি। এর প্রায় ১০০ গজ দূরে দুই কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১০ শতাংশ জমি দখল করে ঝোলানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা একাডেমীর সাইনবোর্ড। মুক্তিযোদ্ধা একাডেমীর ওই অফিসে পর পর তিন দিন ঘুরেও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরকারি জমি দখলের চেষ্টায় দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাসাবাড়ি এলাকার ২৫ শতাংশ খাসজমি উত্তরণ বহুমুখী সমিতির নামে এবং আরো ২৫ শতাংশ খাসজমি ডিজিটাল বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

শান্তর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সারিন্দা রেস্টুরেন্টের মালিক সুরুজ্জামানের ছেলে মাকসুদ তাঁদের মালিকানাধীন ব্রিকফিল্ডের পাশের জেলা প্রশাসনের (আকুয়া মৌজা) প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ৬৬ শতাংশ খাসজমি দখল করে টিনের বাউন্ডারি দিয়ে এখন নিজ নামে রেজিস্ট্রির চেষ্টা করছেন।
দুস্থদের অর্থ লুট : ময়মনসিংহ সদর আসনের নামে গত আড়াই বছরে টিআর, কাবিখা, কাবিটার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের বেশির ভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কাবিটার ৯০ লাখ টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে 'ভুয়া প্রতিষ্ঠান' ও 'ম্যানেজড' ব্যক্তির নাম ব্যবহৃত হয়। শোনা যায়, বেশির ভাগ কাজে ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়ে ৪০ হাজার টাকা ফেরত নিয়েছেন এমপিপুত্র।

জানা যায়, এমপির নিজের নামে করা কলেজের মাটি ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ ও আসবাবপত্র_সবই করা হয়েছে সরকারি টাকায়। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন করা হয়েছে এডিপির বরাদ্দের ৪০ লাখ টাকা এবং এমপির নামে বরাদ্দের টিআরের ২৫ টন চাল ও কাবিখার ৩০ লাখ টাকা। দাপুনিয়া ইউনিয়নের ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়কে কাবিটার বরাদ্দ থেকে দুই দফায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দিলেও তা আত্মসাৎ করা হয়। টেলিফোনে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, 'প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা পেয়ে কিছু কাজ করেছি। পরের তিন লাখ টাকার খবর আমার জানা নেই।' কাওয়ালতী নামাপাড়া ফকিরবাড়ী হাফেজিয়া মাদ্রাসার নামে কাবিটার ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পান আওয়ামী লীগ নেতা হারুনূর রশিদ। এর ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হয় এমপিপুত্রের কাছে। বরাদ্দ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওয়ালতী নামাপাড়া ফকিরবাড়ী ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শিবলী টেলিফোনে বলেন, 'শুনেছি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তবে আমার মাদ্রাসা তা পায়নি। আর বাস্তবে এ গ্রামে কোনো হাফেজিয়া নয়, রয়েছে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা।'

এমপিপুত্র শান্তর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ঘাগরা ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মামুনের নামে আড়াই লাখ টাকার পাঁচটি প্রকল্প দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তবে কোনো প্রকল্প ও টাকা পাননি বলে দাবি করেন মামুন। একই ইউনিয়নের সুহিলা গ্রামের বেলালও পেয়েছেন ছয়টি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া তিন লাখ টাকার মধ্যে আড়াই লাখ টাকাই শান্তকে দিতে হয়েছে। বেলালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি একটি প্রকল্প পেয়েছেন এবং এর মাস্টাররোল সম্প্রতি জমা দিয়েছেন। শান্তকে টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি নিরুত্তর থাকেন। টিআর, কাবিটা, কাবিখা বাস্তবায়ন নীতিমালায় বলা আছে, অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট কমিটির সভাপতিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি/চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠানপ্রধান কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে হবে, যার কোনো কিছুই মানা হয়নি।

ক্ষমতার অপব্যবহার : স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে নিযোগপ্রক্রিয়ায় এমপির স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোর্ডের সদস্য নন, এমনকি আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। অথচ নিয়োগ বোর্ডে হারহামেশাই হাজির হন এমপি। পরে নিজস্ব প্রার্থীদের নিয়োগ করতে চাপ দেন। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন পদে নিয়োগে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে থাকেন এমপি ও তাঁর পুত্র। এ ছাড়া ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট, সিএমএমইউ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তসহ সব প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারে এমপিপুত্র শান্তকে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা না দিয়ে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারে না।
২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ঠিকাদার সেলিম অভিযোগ করেন, 'পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুনামগঞ্জ ভবন তৈরির এক কোটি ৬২ লাখ টাকার দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর দরপত্র ফেলতে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এমপিপুত্র শান্তর নির্দেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা শাহজাদ ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী হুমকি দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ পারমাণবিক কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের দরপত্রে পাঁচ কোটি টাকার কাজের প্রায় দুই কোটি টাকার কাজই নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে দিয়েছেন শান্ত।'
হাইকোর্টের নির্দেশনার কারণে ২০০১ সাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাট বালুমহালের ইজারা বন্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইজারা ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার টাকা আয় করছে এমপির পরিবারের লোকজন। এ বালুমহাল দখল নিয়ে খুনের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এমপির ভাই মমতাজ মোটর মালিক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে নেন। অথচ ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোটর মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফারুকীর নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ছিল। এমপির ভাগ্নে বুলবুল খাগদহর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হওয়ার পর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।

একইভাবে এমপির পিএস সাঈদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ময়মনসিংহের শহরতলি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে ও সানকিপাড়ায় জমি কিনে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ অস্বীকার : সার্বিক অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মতিউর রহমান এমপি টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার প্রতিপক্ষরা অসত্য অভিযোগ করে আসছে। আমরা দলকে ভালোবাসি। কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার করি না।' কলেজের নামে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ করা জমির টাকা পরিশোধ প্রসঙ্গে বলেন, দ্রুতই এর সমাধান হবে। নিজের কলেজে সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়া প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন, 'আমি শিক্ষক মানুষ। শিক্ষা সম্প্রসারণে সব সময়ই কাজ করেছি। সাম্প্রতিক বরাদ্দও এরই অংশ।' এমপিপুত্র মুহিতউর রহমান শান্তও অভিযোগ অস্বীকার করে টেলিফোনে বলেন, 'আমি সরকারি জমি দখল করিনি। আর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর, কাবিখা, কাবিটার অর্থ বরাদ্দ হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।' বিজ্ঞান কলেজের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখল প্রসঙ্গে বলেন, 'জমিটি কলেজের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।' টেন্ডারবাজি প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার অগোচরে ছাত্রলীগের ছেলেরা কিছু করলেও তা আমার জানা নেই।'

এমপির ভাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন সরকার বলেন, 'আমি উপজেলা পরিষদের জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়েছি।' লিজ নেওয়া জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানো প্রসঙ্গে কোনো উত্তর দেননি। আর পুরো কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি ঢাকা থেকে কাজের সময় বাড়িয়ে নিয়ে রানিং বিল তুলেছি।' এত অর্থ আয় প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি ব্যবসা করে টাকা কামাই।' অভিযোগ প্রসঙ্গে এমপির পিএস সাঈদ বলেন, 'আমার কোনো বাড়ি-সম্পদ নেই। আমি আগেও জিরো ছিলাম, এখনো জিরো।'

প্রশাসনের বক্তব্য : সরকারি জমিতে আফাজ উদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড প্রসঙ্গে দাপুনিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসানুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি সঠিকভাবে আমার জানা নেই। তবে ওই এলাকায় পৌরসভার বেশ কিছু জমি আছে, যার অধিকাংশই লিজ দেওয়া রয়েছে।'
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার টিআর, কাবিটা, কাবিখার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুল হুদার মোবাইলে বারবার রিং করলেও তিনি ধরেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের অন্য এক কর্মকর্তার দাবি, 'সরকারি অনুদানের ২০ ভাগ কাজও মাঠপর্যায়ে হয়নি। বরাদ্দ করা অর্থ শুধু লুটই হয়েছে।'

এলজিইডির ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজগুলোর বিল উপজেলা পরিষদ থেকে ইউএনওর তত্ত্বাবধানে হয়। তবে কাজ না করে টাকা তোলা হলে সেটা অবশ্যই অনিয়ম। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া টেলিফোনে বলেন, কলেজের জমির টাকা লিখিতভাবে চাওয়া হয়েছে। আর জেলা প্রশাসনের কিছু জমি অবৈধ দখলে থাকতে পারে। তবে তা দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার করা হবে।

"আমার দলে কোন দুর্নীতি নাই" - ?

A ruling party lawmaker is chairman of managing committee at seven educational institutions in Jhenidah, flouting government rules.

Abdul Mannan

The rules stipulate that a member of parliament cannot hold chairman's post at more than four institutions. But Abdul Mannan, Awami League legislator from Jhenidah-4 (Kaliganj upazila), heads managing committee at two colleges, one madrasa, three secondary schools and one junior school.

Besides, Mannan had his wife and three aides--who had studied till SSC or below--chair managing committees of four institutions.

Sources at local schools and colleges allege the lawmaker and his associates are abusing their posts to make a fast buck by appointing teachers. They have earned over Tk 6 crore by appointing some 150 teachers in the last two years.

Talking to The Daily Star, some newly recruited teachers admitted they each paid Mannan and his men Tk 3 to 4 lakh to land their job.

Not many teachers, however, would say much about the matter, as they fear getting the sack.

“In the last two years, no teacher was appointed on merit. Bribery is the name of the game in recruitment here,” observed a senior teacher at Naldanga Bhusan Pilot Secondary School.

In March, Kaliganj upazila councillor Mominur Rahman Montu sued the MP in a Jhenidah court, alleging that he took Tk 3 to 4 lakh in bribe from each of the three persons appointed teachers at Naldanga Bhusan Pilot Secondary School in January.

The same school has recently appointed a teacher without a Bachelor of Education degree, though it was a prerequisite for the post as per job advertisement, said Farid Mia, a member of the school's managing committee.

A newly appointed teacher at the school claimed to have paid Tk 3.5 lakh for the job.

Two other candidates gave Tk 4 lakh each, of which the MP got Tk 3 lakh and a middleman pocketed Tk 1 lakh, the teacher added, seeking anonymity.

Mannan did not bother considering qualifications and experience while having his associates appointed managing body chairmen.

Eman Ali, one of his three sidekicks made managing committee chiefs, was a night guard at a bank some years ago, said a college teacher.

Eman told The Daily Star that MP Mannan has made him the chief of Borobazar College governing body because he is the president of Borobazar union Awami League.

“It's true I didn't pursue my education beyond class eight. At first, I could not understand how to run the college. But with time, I have learned the ins and outs from some capable teachers,” he added.

Joynal Abedin, who looks after Mannan's local business interests and collects rent from tenants of the lawmaker's properties, is the head of Lautala College governing body.

He is also president of Kaliganj unit Sramik League.

Another close associate of the MP, Biswanath Bhattacharya, alias Joga Babu, is at the helm of Raigram Secondary School's managing committee.

He said, “The MP has appointed us chiefs of the managing committees to honour us as we have been serving him for years.”

Queried about their educational background, Biswanath said he had studied up to class 10 and Joynal passed SSC.

Anwarul Azim Anar, chairman of Kaliganj Upazila Parishad, said the lawmaker abused his power to appoint his wife Shamim Ara Mannan as head of Gazir Bazar Secondary School managing committee.

She has also been made an executive member of the governing body of Kabilpur College.

Mannan started his political career with Jatiya Party. Before joining AL, he was with BNP, said Anwarul, also secretary of upazila unit AL.

Contacted, the MP claimed he heads governing bodies at five institutions. He also denied taking any bribe from teachers.

Asked about his wife and three aides holding managing committee chief's posts, he said he did not know anything about the matter and told The Daily Star to talk with them.

However, he flew into a rage when his wife Shamim Ara was contacted.

“Don't you know that party people are picked for these posts?” he questioned taking away the phone set from his wife and claimed there had been no irregularities in selecting his wife.

Annoyed at more queries, the lawmaker said, “Who are you to ask me about these?”

A few minutes later, Shamim Ara called back and said she did not know about her being selected as managing committee chairman at Gazir Bazar School.

She claimed locals wanted her to see in the Kabilpur College governing body.

Meanwhile, officials speaking on condition of anonymity confirmed that Mannan is governing body chief at Mahtab Uddin Degree College, Alhaj Amzad Ali and Faizur Rahman Women's College, Shoieb Nagar Fazil Degree Madrasa, Naldanga Bhusan Pilot Secondary School, Salimunnesa Girls School, Kola United Secondary School and Ayesha Khatun Junior Secondary School.

It is totally illegal if an MP holds the managing committee chairman's posts at seven institutions, said Rashed Khan Menon, chief of the parliamentary body on the education ministry.

There should be a minimum requirement of qualification, education and experience for someone to lead a managing committee, added Menon, also president of Workers Party of Bangladesh.

জাতিসংঘ এজেন্ডায় শেখ হাসিনার শান্তির মডেল অন্তর্ভুক্ত

বার্ষিক অধিবেশন
এনা, জাতিসংঘ থেকে ॥ জাতিসংঘের ৬৬তম বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশের একটি প্রস্তাবকে সর্বসম্মতভাবে এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতিসংঘের নতুন প্রেসিডেন্ট নাসের আব্দুল আজিজ আল নাসেরের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী ভাষণে নাসের আব্দুল আজিজ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যার সমাধানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বিচক্ষণতা, অসীম সাহস, সীমাহীন ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে একযোগে কাজের আহ্বান জানানোর পরই বিশ্বশানত্মি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সদয় সম্মতির জন্য।

বাংলাদেশের প্রস্তাবটি ছিল 'পিপলস এম্পাওয়ারমেন্ট এ্যান্ড পিচ সেন্ট্রিক ডেভেলপমেন্ট মডেল' (জনগণের ক্ষমতায়ন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের আলোকে এ প্রস্তাব পেশ করা হয় সাধারণ অধিবেশনের মূল আলোচনায় তা এজেন্ডা হিসেবে পরিণত করতে। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের সমর্থনে ৬টি ডকু্যমেন্ট উপস্থাপন করেছিলেন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণের কাছে। সেগুলোর ওপর আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে সকলেই সম্মত হয়েছেন 'পিপলস এম্পাওয়ারমেন্ট এ্যান্ড পীচ সেন্ট্রিক ডেভেলপমেন্ট মডেল'কে চলতি অধিবেশনের এজেন্ডা হিসেবে অনত্মর্ভুক্তির ব্যাপারে। এটি প্রেরণ করা হয়েছে জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটিতে। উলেস্নখ্য, সেকেন্ড কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন। তাই সেকেন্ড কমিটির চূড়ানত্ম অনুমোদন পেতে খুব একটা কঠিন কাজ হবে বলে কূটনীতিকরা মনে করেন না। অর্থাৎ সেকেন্ড কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদিত হলেই সাধারণ অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ড. মোমেন বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, সেকেন্ড কমিটির মাধ্যমে যে এজেন্ডা সাধারণ অধিবেশনে সাবমিট হয় তা পাস হবেই। এটি এখন সময়ের ব্যাপার। ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার শানত্মির মডেলের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রসঙ্গত কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারম্নক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার দলীয় হুইপ মির্জা আজম এমপির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব ড. আশা রোজি মিগিরোর সঙ্গে একানত্ম বৈঠকে মিলিত হয়ে শেখ হাসিনার শানত্মির মডেল সম্পর্কে অবহিত করেন। সে সময় মিস আশা তাদের অত্যনত্ম উৎফুলস্নচিত্তে জানান যে, এ ধরনের একটি প্রক্রিয়াতেই আমরা বিশ্বশানত্মির পথ ত্বরান্বিত করতে পারব।
যুবলীগের ঐ প্রতিনিধি দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসসহ আনত্মর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী সকল মহলের সঙ্গে সাক্ষাত করে শেখ হাসিনার শানত্মির মডেলের কপি হসত্মানত্মর করেছেন। ঐ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত এবং সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর। তারা হার্ভার্ড, অঙ্ফোর্ডসহ বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ নিয়ে সেমিনার করেছেন।

জাতিসংঘের শানত্মিরক্ষা মিশনে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সৈন্য সরবরাহকারী রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বশানত্মি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের এ ভূমিকার পাশাপাশি অভ্যনত্মরীণ নিরাপত্তা ও শানত্মি, আঞ্চলিক সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে শানত্মির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে শেখ হাসিনার বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই আনত্মর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছে বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। বিশেষ করে পার্বত্য শানত্মি চুক্তি, গঙ্গার পানি বন্টন, আনত্মর্জাতিক সন্ত্রাস নির্মূলে শেখ হাসিনার ভূমিকা গুরম্নত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। সামনের সপ্তাহে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের এসব বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে সংশিস্নষ্টরা আশা করছেন।

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট নিতে নভেম্বরে আগরতলা যাচ্ছেন

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রী নিতে চলতি বছরের নভেম্বরে আগরতলা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসাবে তাকে এ সন্মান জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণোদয় সাহা বাংলা নিউজকে এই সংবাদ জানিয়ে বলেন, 'উনি আমন্ত্রন গ্রহন করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।' তিনি আরও বলেন, 'ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সবুজ সংকেত পেলেই আমরা আনুষ্ঠানিক ঘোষনা করব। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে তাকে (শেখ হাসিনা) আমন্ত্রন জানান'।

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=a572772b0aa1dfef269ea76...

Post new comment

  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code><b><p><h1><h2><h3><ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd><img><object><param><embed>
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options

Image CAPTCHA
Enter the characters shown in the image.
Write in Bangla